ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 36

হাইকোর্টে ২ মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

0

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের পৃথক দুই মামলায় তাকে এ জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি সাহেদ নুর উদদীনের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী আদালতে নালিশি মামলা করেন। দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।
২০১৪ সালে পুরান ঢাকায় দর্জিকর্মী বিশ্বজিত হত্যাকান্ড নিয়ে খালেদার জিয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করেছিলেন এ বি সিদ্দিকী।
আর ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা চান নাই। তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব। জেনারেল জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ায় এ দেশের জনগণ যুদ্ধে নেমেছিল।’ এ বক্তব্যের পর ২০১৭ সালে ২৫ জানুয়ারি এবি সিদ্দিকী আদালতে মামলা করেন।
হাইকোর্ট দুটি মামলাতেই খালেদা জিয়াকে জামিনসহ রুল দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার দুই মামলাতেই তাকে স্থায়ী জামিন দিলেন হাইকোর্ট। অসুস্থ খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন । তার হার্টে বøক ধরা পড়ায় রিং লাগানো হয়েছে।

নজিরবিহীন ঘটনা: হাইকোর্টে মা’কে নিয়ে হাজির হয়ে কিশোরী জানালেন তাকে ধর্ষণের কথা, চাইলেন বিচার

0

এক নজিরবিহীন ঘটনা। সুদূর নীলফামারী থেকে এক কিশোরী তার মাকে সঙ্গে নিয়ে হাইকোর্টে এসে ধর্ষণকারীর বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। বিচারকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘আমি ধর্ষণের শিকার। আমরা গরিব মানুষ, টাকা পয়সা নাই। আমি হাইকোর্টের কাছে বিচার চাই।’
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি সাহেদ নুর উদদীনের হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার (১৫ জুন) সকালে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে ওই কিশোরী তার মাকে নিয়ে ডায়াসের সামনে এসে দাঁড়ান। এ সময় আদালত তার কাছে জানতে চান কী হয়েছে? আপনি কে? আপনি কী বলতে চান? আপনার সঙ্গে উনি কে? তখন ওই কিশোরী হাইকোর্টকে নিজের পরিচয় দেন। বলেন, ‘আমার বয়স ১৫ বছর। উনি আমার মা। আমি ধর্ষণের শিকার। একজন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু নীলফামারীর আদালত তাকে খালাস দিয়ে দিয়েছেন। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের টাকা পয়সা নাই। আমরা আপনার কাছে বিচার চাই।’
এসময় আদালত ওই কিশোরীর কাছে জানতে চান যে তার কাছে কোনো কাগজপত্র আছে কি না? ওই কিশোরী মামলার কাগজ আছে বললে আদালত উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে লিগ্যাল এইডের কোনো আইনজীবী আছেন? তখন আদালতে উপস্থিত থাকা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বদরুন নাহার দাঁড়ালে তাকে ওই কিশোরীর মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিতে নির্দেশ দেন।
পরে আইনজীবী বদরুন নাহার জানান, লিগ্যাল এইড থেকে কিশোরীর পক্ষে আপিল করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আগামী রোববার আপিল দায়ের করা হবে। এ দিকে বিচারিক আদালতে ন্যায় বিচার না পেয়ে হাইকোর্টে এক ধর্ষিতা কিশোরী সশরীরে হাজির হয়ে বিচার চাওয়ার ঘটনায় আইনজীবীরাও বিষ্মিত। তারা বলছেন বিচারপ্রার্থী কতো অসহায় হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিরোধিতাকারিরা যাতে কোন রকম ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ড চালাতে না পারে সে জন্য সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মত এতো বড় একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ আমরা সম্পন্ন করেছি। কিন্তুু যারা সেতু নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল তাদের একটা উদ্দেশ্য রয়েছে। যার কিছু কিছু তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা জানতে পেরেছি, এমন একটা ঘটনা ঘটানো হবে যাতে ২৫ তারিখে আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে না পারি। বিরোধিতাকারীরা কী করবে তা কিন্তু আমরা জানি না।
শেখ হাসিনা বুধবার সকালে তাঁর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৩৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি’র প্রধানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের সবাইকে কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে। সমস্ত বিষয়টাই একটু রহস্যজনক। এ জন্য সবাইকে বলবো একটু সতর্ক থাকতে হবে এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকেও সবাইকে নজর দিতে হবে। সে গুলোর নিরাপত্তা দিতে হবে।
সরকার প্রধান বলেন, ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ দেশের ব্যক্তি বিশেষের প্ররোচনায় বিশ^ ব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলে তাঁর সরকার ঘোষণা দিয়েছিল নিজেদের অর্থায়নে করবে, না হলে করবে না। তাঁর সরকার সেই পদ্¥া সেতু নিজেদের অর্থে নির্মাণ করেছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন রেলে আগুন, লঞ্চে আগুন. ফেরীতে আগুন এমনকি সীতাকুন্ডে যে আগুনটা সেটা একটা জায়গা থেকে লাগতে পারে, কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটা জায়গায় আগুন লাগে কীভাবে। আর রেলের আগুনের বিষয়ে একটি ভিডিও পাওয়া গিয়েছে যেখানে দেখা গেছে রেলের চাকার নিকটে আগুন জ¦লছে, সেটা কী করে সম্ভব সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এসএসএফ’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মো. মজিবুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিকে মানুষের নাগালের মধ্যে এনে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এসবের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির অপপ্রয়াস সম্পর্কেও সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেমন একদিকে আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, অপরদিকে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সন্ত্রাসি এবং জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের তাদের নানা কর্মকান্ড পরিচালিত করে থাকে।
সে জন্য তাঁর সরকার আধুনিক বিশ্ব এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফসহ অন্যান্য বাহিনী গুলোকে প্রযুক্তি নির্ভর করে শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কারণ, আমাদের বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে এবং বিভিন্ন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকেও দমন করতে হবে। অতীতে বিভিন্ন বাহিনীগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারনেই তাঁর সরকার জোট সরকারের আমলে সৃষ্ট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের আরো সতর্ক থাকতে হবে এবং মনে রাখতে হবে আমরা যখন এগিয়ে যাই তখনই এ ধরনের ঘটনা কোন কোন মহল ঘটানোর চেষ্টা করে থাকে। এটাই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। সে জন্য সবাইকে আমি সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি। বাসস।

নতুন আইন আসছে: সাংবাদিক অন্যায় করলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

0

সাংবাদিকরা ভুল করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রেখে একটি আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক।
মঙ্গলবার রাজশাহী সার্কিট হাউসে ‘প্রেস কাউন্সিল আইন ও আচরণবিধি এবং তথ্য অধিকার আইন অবহিতকরণ’ শীর্ষক সাংবাদিকদের দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আইনের খসড়া এখন মন্ত্রিসভায় রয়েছে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হতে পারে।
দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেওয়া ৪৪ জন সাংবাদিকের হাতে সনদপত্র তুলে দেন বিপিসি চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. শাহ আলম।
প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মনে করতেন যে, সাংবাদিকরা এমন এক শ্রেণির মানুষ যাদের তিরস্কার করাই একটি বড় শাস্তি। প্রেস কাউন্সিল আইনে কোনো অন্যায়ের জন্য বেশিরভাগ সাংবাদিককে তিরস্কার করা হয়। তিরস্কার একজন মানুষের জন্য একটি বড় শাস্তি। এতে তাদের আত্মসম্মানে আঘাত লাগবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন আইন দরকার।’
নিজামুল হক বলেন, ‘এখন যে কেউ সাংবাদিক হচ্ছে। তারা মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করছে। সাংবাদিকতার নামে ‘সাংঘাতিকতা’ চলছে। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অপমানজনক। এ কারণে সাংবাদিক কারা তা নির্ধারণ যেমন জরুরি হয়ে পড়েছে, তেমনি প্রয়োজন নতুন আইনও। সাংবাদিকতা আদা ব্যবসায়ীদের জন্য নয়। সাংবাদিকতা প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য।’
নতুন আইন সম্পর্কে মো. নিজামুল হক বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক অন্যায় করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে নতুন আইনে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এক দিনের জেলের পক্ষপাতী। জেলে গেলে তাঁর মনে হবে যে আমার কাজটা অন্যায় হয়েছিল। আর করা যাবে না। এই আইনটা কেবিনেটে আছে। আশা করছি, আগামী সংসদেই পাস হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রেস কাউন্সিল পিআইবির সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করছে। মিডিয়া হাউস থেকে সাংবাদিকদের নাম সংগ্রহ করা হলেও তাদের তথ্য যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।
বিচারপতি নিজামুল হক আরও বলেন, ‘অনেক নামি-দামি পত্রিকার সম্পাদকদের আত্মীয়স্বজন সাংবাদিক পরিচয় দেন। তারা আসলে সাংবাদিক নয়, অন্য কাজ করেন। প্রেস কাউন্সিলে এসব ব্যক্তিদের সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।’
সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে স্নাতক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে কারও নিয়োগপত্রসহ ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তাকে তালিকাভুক্ত করা হবে। একবার তালিকাভুক্ত হয়ে গেলে আপনি যা খুশি তা করতে পারবেন না। প্রত্যেক ৬ মাস পর পর সব সাংবাদিকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার: সিইসি

0

নির্বাচনের সমে যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার বলে জানিয়েছেনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন সব দেশেই দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হচ্ছে। ভারতে, বিলেতে, আমেরিকাতেও হচ্ছে। সরকার কিন্তু সরকারই। দল ভিন্ন জিনিস। কেবিনেট যেটাকে বলা হয়- রাষ্ট্রপতি থেকে বা প্রধানমন্ত্রী থেকে ডেপুটি.., এটাই কিন্তু মূল সরকার। বাকি যারা আছে সেটা কিন্তু আমলাতন্ত্র। কাজেই যে সরকার যেটা আছে, তারা কিন্তু শপথ নিয়েছেন, সংবিধানিক অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবো, সমআচরণ করবো, পক্ষপাতিত্ব করবো না। উনারা বলেন নাই যে আমরা আমাদের দলকে আগামীতে আরো বেশি করে হেল্প করবো। আমার বিশ্বাস উনারা উনাদের শপথটা জানেন। সোমবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের সময় অন্তত একটা সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে উনারা নির্বাচনকালীন সরকারের থেকে সরকারের মতোই আচরণ করবেন। সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কোনো দলের মন্ত্রী হিসেবে নয়।
নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। অপজিশন থেকে যে দাবিগুলো করা হচ্ছে এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, এই সব বিভিন্ন ধরনের সরকার, সেটা কিন্তু আমাদের বিষয় নয়। এটা সাংবিধানিক বিষয়। পলিটিক্যাল লিডাররা যদি একমত হন তারা বিষয়গুলো দেখবেন। আমার কাছে মনে হয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বর্তমানে যে আইন আছে, সেটাই নির্বাচনকালীন সরকার। তার সঙ্গে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশন বেড়ে যাবে। একজন মন্ত্রী কিন্তু দলের নয়। আমরা চাই তারা আমাদের সহযোগিতা করুক।
সিইসি আরো বলেন, আইন-কানুন অনুযায়ী সরকার আমাদের সহযোগিতা করতে বাধ্য। সকল নির্বাচনে আমরা সরকারের কাছে সহায়তাগুলো চাইবো এবং অবশ্যই সরকার সে সহযোগিতাগুলো করবে বলে আশা করি।
তিনি বলেন, আমরা একই কথা বারবার বলেছি, নির্বাচনটা অংশগ্রহণমূলক হওয়া খুবই প্রয়োজন। যদি মূল বিরোধী দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে নির্বাচন স্বচ্ছ হোক, অস্বচ্ছ হোক, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে যাবে। কারণ ডেমোক্রেসির মূল কথাই হচ্ছে পজিশন এবং অপজিশন। বিরোধী দলে থাকেন তারা। তাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। এই সমালোচনার মাধ্যমেই কিন্তু এক ধরনের জবাবদিহিতা গড়ে ওঠে এবং সতর্কতা তৈরি হয়। এজন্য আমরা চাই নির্বাচনটা অংশহগ্রহণমূলক হোক।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, উনাদের বলেছি, আপনারাও যারা পলিটিকস করেন না, পলিটিকলসের ঊর্ধ্বে একটা অবস্থান আপনাদের আছে। প্রতিদিন যে আক্রমণাত্মক কমেন্টগুলো দিচ্ছে, সেখানে সরিয়ে নিয়ে এসে যদি টেবিলে মুখোমুখি করা যায়, তাহলে আলোচনা হবে গঠনমূলক। টেবিলের বাইরে গিয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে দেয়, তাহলে কিন্তু দূরত্ব কমবে না। কারণ আমরা চাচ্ছি নির্বাচনে সকল পার্টি অংশগ্রহণ করুক।
সিইসি আরো বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নির্বাচন যদি সহিংসতার কারণে বিঘ্নিত হয়ে যায় আমাদের ক্ষমতা আছে যে কোনো একটি সেন্টার বা নির্বাচনটা বাতিল করে দেবো। আমরা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবো। বিরূপ পরিবেশ যাতে না হয়, আমরা চাইবো নির্বাচনে যাতে ভোটাররা যেতে পারে এবং নির্বিঘেœ যেন ভোট দিতে পারে, সেই খবরটা আমরা রাখবো। নির্বাচনে প্রচন্ড রকম সহিংসতা হলে সেই সেন্টার বাতিল করে দিতে পারবো।
নির্বাচনে খরচের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে যে নমিনেশন নিয়ে কত খরচ হয়, যার ফলে একটা মনস্তাতিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যে জয়ী আমাকে হতেই হবে। যে পয়সা আমি খরচ করেছি, তা তুলে আনতেই হবে। এর ফলে কিন্তু একটা সহিংস চরিত্র গড়ে ওঠে। এই জায়গা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে জানি না। তবে দলগুলোর নেতৃত্ব উপলিব্ধ করা উচিত যে নির্বাচনটা যেন বাণিজ্য না হয়।
এমপিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো কি-না জানি না। কতগুলো বিষয় আছে উনাকে (কুমিল্ল- ৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার) চিঠি দিয়েছিলাম যেন উনি না থাকেন, এসব নির্বাচন যারা ভিভিআইপি তারা এলাকায় থাকতে পারেন না। কিন্তু সংসদ নির্বাচন যখন হবে, তখন তো তারা এলাকায় থাকবেন। উনারা সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। কিন্তু কিছু আচরণ ফলো করতে হবে। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো কি পারবো না এই বিষয়টা তো আপেক্ষিক । সুতরাং আমাদের চেষ্টা থাকবে এবং আমি আশাবাদী। সূত্র-মানবজমিন।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

প্রায় সাড়ে আট মাস তদন্তের পর রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। সেখানে মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, তাদের সবাই রোহিঙ্গা।
গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার ১-ইস্ট লম্বাশিয়া ক্যাম্পে ৪৮ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী।
তিনি ছিলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস’ নামের রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার স্কুলশিক্ষক মুহিবুল্লাহ পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে ‘রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানান, হত্যাকাণ্ডে মোট ৩৬ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেলেও সাতজনের ঠিকানা ও অবস্থান জানতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হল।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা ২৯ আসামির মধ্যে ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, বাকি ১৪ জন পলাতক।
গ্রেপ্তার ১৫ জনের মধ্যে ৪ জন তদন্ত চলাকালে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
বেশ কয়েকবছর আগে জীবন বাঁচাতে নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে সপরিবারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হন মুহিবুল্লাহ। সেখানেই গড়ে তোলেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)।
রোহিঙ্গাদের কাছে মুহিবুল্লাহ ছিলেন বাড়ি ফেরার স্বপ্নে বিভোর এক মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারে সবকিছু ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখো মানুষের মাঝে সেই স্বপ্ন তিনি বিলিয়ে আসছিলেন।
মুহিবুল্লাহর স্বজন ও অনুসারীদের দাবি ছিল, দেশে ফেরার এই স্বপ্নই তার কাল হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যেই একটা অংশ দেশে ফিরতে চায় না। সশস্ত্র দলটির সঙ্গে ‘মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর যোগাযোগ’ রয়েছে বলেও ক্যাম্পের অনেকের বিশ্বাস।
মুহিবুল্লাহ উখিয়ার ১-ইস্ট লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে থাকতেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় আসেন তিনি। জেনিভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থায়ও রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। সূত্র,বিডি নিউজ।

বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা: খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ফের পেছাল

0

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারো মুলতবি করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এএসএম রুহুল ইমরান এ আদেশ দেন।
এ নিয়ে ৪০ বারের মতো শুনানির তারিখ পেছাল বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, আজ বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির মুলতবি চেয়ে আবেদন করার পর এ আদেশ দেয়া হয়।
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন।
শুনানির সময় বিএনপি নেতা ড. খোন্দকার মোশাররফসহ ৪ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী পিটিশিন আবেদন জমা দেয়ার পর অনুপস্থিত ছিলেন।
আরেক আসামি মো. সিরাজুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেয়া বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি চুক্তিতে ১৫৯ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়া ও তার সাবেক মন্ত্রিসভার ১০ জনসহ ১৬ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেছিল।

যা বললেন সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ও ইসি মাহবুব তালুকদার……

0

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার দায়িত্বে থাকাকালে যে দায়িত্ব পালন করতে পারেন নি বলে অভিযোগ, বর্তমান কমিশনের সঙ্গে এক সংলাপে বসে তারাই দিয়েছেন একগুচ্ছ সুপারিশ। এর মধ্যে কে এম নুরুল হুদা নির্বাচনের সময় বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর মাহবুব তালুকদার নির্বাচনকালীন সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে নেয়ার সুপারিশ করেছেন।
আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা ভালো করতে পারব। আপনারা নির্বাচনের ভেতরের ও বাইরের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে পারবেন। নানাভাবে চেষ্টা করব সবগুলো নির্বাচন সফল করার।’

রোববার সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সংলাপে যোগ দেন সাবেক সিইসি বিচারপতি মো. আব্দুর রউফ, ড. এ টি এম শামসুল হুদা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ, সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, জেসমিন টুলি ও মো. আবদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন।
সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন করতে এতো আইনশৃংখলা বাহিনীর মোতায়েনের নজির পৃথিবীর আর কোথ্ওা নেই। আর সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, বিশ্বমানের নির্বাচন করতে হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত মার্চ মাস থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দফায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজ, সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দরকার নেই : নুরুল হুদা
নির্বাচনে সেনাবাহিনী কোনো কাজে আসে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। তাই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নুরুল হুদা বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন হয় এটা বিশ্বে বিরল। মনে হয়, পৃথিবীতে কোথাও নাই। শত-শত, হাজার-হাজার লোক বন্দুক হাতে যুদ্ধাবস্থার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আমি দায়িত্বে থাকতেও বলেছি, এখনো বলেছি যে এসবের প্রয়োজন নাই।’ তিনি বলেন, ‘৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে। আমার যখন স্কুলে ছিলাম তখন দেখতাম একজন চৌকিদার বাঁশি মুখে আর হাতে লাঠি নিয়ে একটা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করতো। এখন আর্মি, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ নামে। একটা কেন্দ্রে যে পরিমাণ সশস্ত্র সদস্য থাকে তা একটা থানার সমান। এখন তো আমাদের সেই পরিস্থিতি নেই যে, বাক্স আছে লোকজন ব্যালটে ভোট দেবে। এখন আছে ইভিএম। ইভিএম এমন একটা বিষয় যেখানে বাক্স ছিনতাই করা যায় না। একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে ইভিএম চালু করা যায় না। এর যথেষ্ট সুবিধা আছে।’

মাহবুব তালুকদার যা বললেন:
সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, বাংলাদেশে বিশ্বমানের নির্বাচন করতে হলে একটি নিরপেক্ষ সরকার দরকার। গ্রহণযোগ্য সরকারই কেবল গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমার মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটাই চ্যালেঞ্জ। তা হলো, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করা। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
তিনি বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনের প্রতিটি আসনে অধিষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের পদে বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারণা বাতুলতা মাত্র। নির্বাচনের পূর্বে সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ না করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
‘জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের তাদের নিজস্ব এলাকায় রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়ে থাকে। জেলা প্রশাসকের বদলে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তাদের স্থলাভিষিক্ত করা প্রয়োজন। যদি একান্তই জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করতে হয়, তাহলে জাতীয় নির্বাচনের আগে তাদের ভিন্ন জেলায় বদলি করা আবশ্যক।’
মাহবুব তালুকদার বলেন, বর্তমানে সংলাপের যে ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা আমার কাছে গতানুগতিক মনে হয়। বিগত কমিশনগুলোর সংলাপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমন্ত্রিত সুধীজন প্রায় একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। ইভিএম বা ভোটকেন্দ্রের পাহারা এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ নয়।
তিনি বলেন, আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বিশ্বমানের নির্বাচন করতে হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। পুলিশের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক।’
সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হলে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সংলাপ প্রয়োজন। আমি যে রূপরেখা উপস্থাপন করলাম, তার বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করা অপরিহার্য। সংবিধান সংশোধন না করা হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করা যাবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক এর মৃত্যু, আইনমন্ত্রীর শোক

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক আর নেই। শনিবার রাত ১টার দিকে তাঁর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
আইনমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন, মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও জনদরদি নেতা। তাঁর মৃতুতে কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারালো। কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
শোকবার্তায় আইনমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকার অধীন কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ।

দুদকের ১৩(৩) বিধির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৩(৩) বিধি অনুসারে তফসিলভুক্ত অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে অভিযোগ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সরাসরি আদালতে দায়ের করা যাবে না—এ বিধি প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন।
দুদক নিজেই মামলা করার ক্ষমতাসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭ সংশোধন করে ২০১৯ সালের ২০ জুন গেজেট জারি করে।
সংশোধনীর কয়েকটি বিধি চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস ও নওশীন নাওয়াল একটি রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে থানার পরিবর্তে দুদক কার্যালয়ে এজাহার গ্রহণ করার নিয়ম কেন বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
আগের রিটের ধারাবাহিকতায় দুদক বিধিমালার ১৩(৩) বিধি নিয়ে গত ৯ জুন সম্পূরক আবেদনটি করা হয় বলে জানান রিট আবেদনকারী সুবীর নন্দী দাস।
সুবীর নন্দী দাস বলেন, দুদক বিধিমালার ১৩(৩) বিধি কেন বাতিল ও সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, দুদক চেয়ারম্যান, সচিবসহ বিবাদীদের ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।