ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 47

সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : সুপ্রিমকোর্টের নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার গণতন্ত্রকে নিরাপদ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্রক সুরক্ষা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যাতে জনগণ ন্যায়বিচার পায়।’
প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নব-নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১২ তলা ভবন ‘বিজয় একাত্তর’ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
আজ সকালে নগরীর সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্যাতিত নারী, শিশু এবং এসিড হামলার শিকারসহ সকলে যাতে সুবিচার পায় আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।
সরকার প্রধান বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগকে আরো শক্তিশালী করতে এবং সংবিধানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়ার জন্য বিচারপতিদের সাধুবাদ জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, এই রায়ে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে।’
এর আগে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নব-নির্মিত ১২ তলা ভবনের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং এটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি, সুিপ্রম কোর্টের বিচারপতি এবং বিশিষ্ট আইনজীবীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জনগণকে দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে মুক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের সরকার দায়মুক্তির সংস্কৃতি চালু করে।
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দায়মুুক্তি দিয়ে পুরস্কার হিসেবে তাদের বিদেশী মিশনসমূহে নিয়োগ দেন এবং একইসঙ্গে জেল থেকে মুক্ত করে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সরকার প্রধান বলেন, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়াও স্বামীর পথ অনুসরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের রায় দেয়ায় নি¤œ ও উচ্চ আদালতের বিচারকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘বিচারকদের সাহসী ভূমিকার কারনে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি এবং রায় বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
শেখ হাসিনা তাঁর ছয় বছরের জোরপূর্বক নির্বাসিত জীবনের পর দেশে ফেরার কথা তুলে ধরে বলেন, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের কারণে তখন এমনকি তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের হত্যাকান্ডের জন্যে একটি মামলা দায়ের করতেও পারেননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পথ ধরে জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসেন। আর জিয়াউর রহমানের পথ ধরে ক্ষমতায় আসেন এরশাদ।
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়ার শাসনকালে প্রায় ১৯ থেকে ২০ বার অভ্যুত্থান ঘটে এবং এর শিকার হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জনগণ।
তিনি প্রয়োজনীয় আইন চালুসহ অবকাঠামো নির্মাণ, বিচারকদের বেতন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাক এবং জনগণ ন্যায় বিচার পাক।’
সরকার প্রধান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন সম্পূর্ণ করতে তাঁর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, দেশজুড়ে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা একটি ‘ল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইউনিভার্সিটির জন্যে একটি যথাযথ শিক্ষানীতি প্রণয়নে বিচারক ও আইনজীবীদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রীকে আদালত সংক্রান্ত নথি নিরাপদে রাখতে একটি রেকর্ড রুম তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ দিতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হার্ড কপি ও সফট কপি নথি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তাদের একটি আধুনিক মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সারাদেশের আইনজীবীদের জন্যে আরো ভালো ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে, যেরকম ৬৪টি জেলা আদালতের সবকটির আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার আইনজীবীদের জন্যে বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণ করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা বিচার চাইতে অপারগ তাদের আইনী সেবা দিতে সরকার ‘দ্যা লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যাক্ট- ২০০০’ প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, অনেক বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করে তাঁর সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার স্বপ্নের মতো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত- সমৃদ্ধ দেশগঠনে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।বাসস।

সুপ্রিমকোর্টের ভবন উদ্বোধনে যা বললেন আইনমন্ত্রী

0

স্বাধীনতার মাসের শেষ দিনে বক্তব্যের প্রথমেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শাহাদাতবরণকারিকে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যাকৃত জাতীয় চার নেতাকে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী ৩০ লাখ বীর শহিদকে। আরো স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতিত দুই লক্ষ মা-বোনকে। আমি সকলের আত্মার শান্তি কামনা করছি। বঙ্গবন্ধুর তথা বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য হতে মুক্তি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সোপান হিসেবে দেখতে চাইলে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের হলেও, বিচার বিভাগ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। সে কারণেই নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর কাল বিলম্ব না করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বাতিঘর স্বরূপ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ কোর্টকে তিনি সাংবিধানিকভাবে বিশেষ মর্যাদার আসনে স্থান দেন। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে অনন্য বাতিঘর প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সুহৃদ আন্তরিকতায় এবং সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি, প্রশাসন ও আইনজীবীগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিকশিত হয়ে আজ শক্তিশালী ও সুমহান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে ন্যায়বিচারের বাণী। অবদান রাখছে সামাজিক শান্তি, সমতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়। কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও সাফল্য নির্ভর করে মূলত সেই প্রতিষ্ঠানের সততা, কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা এবং সেবার মানের ওপর। এই বাস্তবতার নিরিখেই সরকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টসহ গোটা বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা এবং বিচার সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও করে যাচ্ছে। যার কিছু উদাহরণ তুলে না ধরলে আমার বক্তব্য অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। আমরা যদি সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার একেবারে গোড়ার দিকে ফিরে যাই তাহলে দেখতে পাই, ১৯৭২ সালে হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র ১০ জন এবং আপিল বিভাগে ৩ জন বিচারক নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট যাত্রা শুরু করেছিল। গর্বের সাথে বলতে হয় ১৯৭২ সালের ১৩ জন বিচারকের বিপরীতে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের ৯৪ জন বিচারক নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অবকাঠামোর ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই, ২০০১ সালে এনেক্স ভবন উদ্বোধন করার পূর্বে সুপ্রিম কোর্টে মাত্র ২৭টি এজলাস কক্ষের ব্যবস্থা ছিল এবং তা ছিল সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার সরকার গঠন করলে তাঁর পিতার হাতে গড়া এ প্রতিষ্ঠানে তিনি ৩৫টি এজলাসের সংস্থান সম্বলিত এনেক্স ভবন নির্মাণ করে দেন এবং ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে তা স্বয়ং উদ্বোধন করেন। আজ ‘বিজয় – ৭১’ নামে যে ভবন উদ্বোধন করা হচ্ছে সেখানেও অতিরিক্ত ৩২টি এজলাসের ব্যবস্থা সহ বিচারপতিগণের জন্য ৫৬টি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত চেম্বারের সংস্থান রাখা হয়েছে। এর বাইরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের আবাসন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ২০১৭ সালে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার কাইরাইলে ২০ তলা বিশিষ্ট বিচারপতি ভবন নির্মাণ করে দেয়, যেখানে রয়েছে ৩৫০০ বর্গফুটের ৭৬টি ফ্লাট। এভবন নির্মাণের ফলে বিচারপতিগণের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার নিরসন হয়। “আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট প্রবর্তনও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল। করোনার অতিমারির সেই মহাআতঙ্কের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ ও দিক নির্দেশনা, সুপ্রিম কোর্টের নিরলস পরিশ্রম, আইনজীবীগণের সহযোগিতা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আমরা খুবই তাড়াতাড়ি ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে পেরেছিলাম যা বিশ্বের অনেক বড়বড় ও উন্নত দেশ পারেনি। সেই লকডাউনের সময়ে ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন শুনানির ব্যবস্থা করার ফলেই কিন্তু জেলখানায় বন্দী আসামীদের অতিরিক্ত চাপ এবং করোনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আশার কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখন আদালত পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অনেক কাজই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তদুপরি গোটা বিচার বিভাগকে ডিজিটাইজড করার জন্য আমরা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। মানসম্পন্ন ন্যায়বিচার প্রদানের ক্ষেত্রে বিচারকগণের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও আর্থিক স্বচ্ছলতা একটি নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে। সেজন্য মাননীয় বিচারপতিগণের আর্থিক সুবিধাদি বৃদ্ধিসহ তাঁদের নিরাপত্তা ও বিচারিক কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফলে বিচারপতিগণ নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রদান করে যাচ্ছেন; বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা, ১৯৭১-এর মানবতা বিরোধী অপরাধ ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল মামলার বিচার করে দেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সক্ষম হয়েছেন; পঞ্চম ও সপ্তম সংবিধান সংশোধন আইন বাতিলের সাহস দেখিয়েছেন। বিজ্ঞ আইনজীবীগণ বিচার বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদেরকে বিচ্ছিন্ন রেখে বা পিছনে ফেলে বিচার বিভাগের পুরোপুরি উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। সেকারণে আইনজীবীগণের পেশাগত মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে। অধিকন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান সরকারই প্রথম আইনজীবীগণের জন্য ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে। এসব যুগান্তকারী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা ও সেবার মান অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেজন্য আমরা এখন আশাবাদী যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রার্থী জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন এবং এর মাধ্যমে সেখানে মামলা জট কমে আসবে। আমরা এটাও আশ্বস্ত করতে পারি যে, বঙ্গবন্ধুর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী এবং গণমানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও নির্ভরশীলতার আশ্রয়স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের যে ধারা চলমান রয়েছে তা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

মেয়াদ শেষ হলেই পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ, সংসদে বিল পাস

0

পৌরসভার নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২২ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ ওয়াকআউট করেন। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি সংসদ কক্ষে আবার ফিরে আসেন।
এর আগে, বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব গুলোর নিষ্পত্তি করা হয়।
সংশোধনীতে পল্লী এলাকাকে শহর ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্বের শর্ত পরিবর্তন করে তা বাড়ানোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৩ জানুয়ারি বিলটি সংসদে তোলা হয়। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিদ্যমান আইনে বলা আছে পৌরসভা ঘোষণা করতে হলে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে দেড় হাজার হতে হবে। এর কম হলে হবে না। সংশোধন করে তা বাড়িয়ে দুই হাজার করা হয়েছে।
বিলে পৌরসভার সচিবের পদের নাম বদলে ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা’ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে মেয়র ও কাউন্সিলদের অপসারণ সংক্রান্ত ধারনায় নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ধারা ‘ঝ’ যুক্ত করে বলা হয়েছে—মেয়র অথবা কাউন্সিলর তার নিজ পদ হইতে অপসারণযোগ্য হবেন, ‘সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হন।’
বিদ্যমান আইনের ৪২(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন শহর এলাকাকে পৌর এলাকা ঘোষণার পর পৌরসভার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করিবে এবং পৌরসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত উক্ত প্রশাসক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।’
বিলে এই ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে; বলা হয়েছে, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিষদ গঠনের আগ পর্যন্ত কাজ চালানোর জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিবে সরকার। সরকারি কোনও কর্মকর্তা বা সরকার উপযুক্ত মনে করে এমন কোনও ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ দিবে।
বিলে পৌরসভার পরিষদ বাতিল সংক্রান্ত ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক্রমে ১২ মাস বেতন বকেয়া থাকলে পরিষদ বাতিল হবে।
নতুন পৌরসভা গঠন হলে বা কোনও ইউনিয়নের অংশ বিশেষ পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলে বিলুপ্ত ইউনিয়ন বা বিলুপ্ত অংশে কর্মরতদের পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে বিলে।
বিলের উদ্দেশ ও কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত জীবন ও পর্যাপ্ত নাগরিক সেবার প্রত্যাশায় অধিক সংখ্যক মানুষ শহর মুখী হচ্ছে। একইসঙ্গে শহর এলাকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন অনেক পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর দেখা যায় যে, পৌরসভার নাগরিক সেবা প্রদান এবং নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনার সক্ষমতা থাকে না। সুশাসন নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে শহরগুলোকে বাসযোগ্য করতে শহর গঠনে জনসংখ্যার ঘনত্বের মান পরিবর্তন প্রয়োজন।
‘বিদ্যমান আইনে পৌরসভাসমূহের মেয়াদ ৫ বছর শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত, পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারে। অনেক সময় পৌরসভার মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে রিট মামলা বা অন্য কোনও মামলা করে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদ অনির্ধারিত সময়ের জন্য পৌর প্রশাসন পরিচালনা করে। ফলে আইনের এ শর্তটি সংশোধনক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার ক্ষেত্রে নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।’
বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্নজনের মতামত নিয়ে আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে। প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখার বিষয়টি যৌক্তিক। বিভিন্ন কারণে অনেক সময় নির্বাচন করা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়। অনেকে এর সুযোগ নিয়ে থাকেন।’
সচিব পদটিকে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নামকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে সচিব থাকেন। এই পদটি নিয়ে অনেক সময় সংশয় দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে এই পদের অপব্যবহারও দেখা গেছে।’
বিলটি পাস হওয়ার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পিকারের কাছ থেকে সময় নিয়ে বিএনপির সদস্য হারুনের বক্তব্যের জবাব দেন।বাসস।

জাতিসংঘে মানবতার জন্য ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ, কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে একক দেশ হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) প্রস্তাব উত্থাপন করায় বাংলাদেশ তাতে ভোট দেয়নি, তবে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ে হওয়ার কারণে ভোট দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যখন একটি দেশের (রাশিয়া) বিরুদ্ধে ভোট ছিল আমরা তার পক্ষে যাইনি, কিন্তু যখন ইউএনজিএ এর দ্বিতীয় প্রস্তাবে মানবাধিকারের বিষয়টি উঠে আসে, বাংলাদেশ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে।’
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর ‘রাশিয়া-ইউক্রেন ভোটের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কী’ এ সম্পর্কিত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে রাশিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উস্কানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ তো একা একা হয় না। উস্কানি তো কেউ না কেউ দিচ্ছে। দিয়ে তো বাধালো যুদ্ধটা। তাহলে একটা দেশকে কনডেম (নিন্দা) করা হবে কেন? সেই জন্য আমরা ভোটদানে বিরত থেকেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘে যখন প্রথম প্রস্তাবটি এলো আমরা দেখলাম সেই প্রস্তাবে কোনও মানবাধিকারের কথা নেই। যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা নেই। একটা কোনও বিষয় নেই। একটা দেশের বিরুদ্ধে ভোট। সেটা হলো রাশিয়া। তখন আমি বললাম, এখানে তো আমরা ভোট দেবো না। কারণ, যুদ্ধ তো একা একা বাধে না। উস্কানি তো কেউ না কেউ দিচ্ছে। দিয়ে তো বাধালো যুদ্ধটা। তাহলে একটা দেশকে কনডেম (নিন্দা) করা হবে কেন? সেজন্য আমরা ভোটদানে বিরত ছিলাম।’
তিনি বলেন, রাশিয়া আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেভেন ফ্লিট পাঠিয়ে যখন পাকিস্তানের পক্ষে; রাশিয়া তখন আমাদের পক্ষে দাঁড়ালো। কাজেই দুঃসময়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা নিশ্চয়ই তাদের পাশে থাকবো। কিন্তু তারা যদি কোনও অন্যায় করে নিশ্চয় সেটা আমরা মানবো না। আর আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু যুদ্ধটা বাধালো কারা,
সেটাও আমাদের দেখতে হবে। সেজন্য আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। যেহেতু একটি দেশের বিরুদ্ধে এজন্য সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা ভোট দেবো না।
দ্বিতীয় প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোট দেয়ার এখন যে প্রস্তাবটা এসেছে এই যুদ্ধের ফলে, ইউক্রেনের মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই কষ্ট পাচ্ছে, সেখানে মানবাধিকারের বিষয়টি ছিল। দ্বিতীয় প্রস্তাবে যেহেতু মানবাধিকার বিষয়টি রয়েছে সেজন্য আমরা ভোট দিয়েছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যখন একটি দেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাব, আমরা ভোট দেইনি। যখন মানবতার বিষয়টি সামনে এলো আমরা ভোট দিয়েছি। আমার মনে হয় এটা একেবারে স্পষ্ট। এটা নিয়ে আর কারও কোন দ্বিধা থাকা উচিত নয়।’বাসস।

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রসারে গণতন্ত্র সুসংহত হয় : স্পিকার

0

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীন গণমাধ্যম প্রসারে গণতন্ত্র সুসংহত হয়।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে নোয়াবের সদস্য সংবাদপত্রসমূহ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজকে অনুপ্রাণিত করতে নোয়াবের সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ অনন্য।
ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত ‘পঁচিশ পেরোনো নোয়াব-সদস্য সংবাদপত্র সম্মাননা ২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পঁচিশ বছর পেরোনো নোয়াব সদস্য সংবাদপত্রসমূহকে সম্মাননা প্রদান করেন স্পিকার।
স্পিকার বলেন, ২০২০ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী হওয়ায় এই দুইটি বছর জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। নোয়াবের সদস্যগণ স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। ২৫মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের খবর দেশ-বিদেশে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছিল সংবাদপত্র। দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদের অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই, বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে নোয়াবের পথচলার ইতিহাস সম্পর্কযুক্ত।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র জনগণের জন্য তথ্যভাণ্ডার। সুস্থ ও পরিশীলিত সমাজ বিনির্মাণে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে জনসেবা নোয়াবের মূল লক্ষ্য। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। বিশ্বায়নের যুগে সমগ্র বিশ্বের আনাচে-কানাচের খবর গণমাধ্যম আমাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে, দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন সাংবাদিকতা অপরিহার্য। কেননা, মিথ্যা সংবাদ, ভুল তথ্য ও অপসাংবাদিকতা মানুষ তথা সমাজকে ভুল পথে প্রবাহিত করে।
নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী এমপি ও মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দৈনিক ভোরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তারিক সুজাত এবং নোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহফুজ আনাম বক্তব্য রাখেন। বাসস।

মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে চিড়িয়াাখানা আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করা হচ্ছে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0

মহাপরিকল্পনা প্রণয়ণের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ সংক্রান্ত কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্যেই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান ও অত্যন্ত অভিজ্ঞ পরামর্শক গ্রুপ নিয়োগ দেয়াা হয়েছে। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রাণীর অঞ্চল নির্ধারণ, অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনাসহ অন্যান্য বিষয়াদি প্রয়োজনে পুনরায় পরিকল্পনা করা হবে।
প্রণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মো. আব্দুল লতীফ। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনার রূপরেখা এবং এ সংক্রান্ত ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন উপস্থাপন করেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বার্নার্ড হ্যারিসন এন্ড ফ্রেন্ডস লিমিটেডের টিম লিডার ও আন্তর্জাতিক চিড়িয়াাখানা বিশেষজ্ঞ বার্নার্ড হ্যারিসন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও এস এম ফেরদৌস আলম, আন্তর্জাতিক চিড়িয়াাখানা বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, চিড়িয়াখানা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস।

বিজ্ঞানলেখক অনন্ত হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

0

সিলেটের বিজ্ঞানলেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যা মামলার রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলায় খালাস পেয়েছেন একজন। বুধবার সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আবুল খায়ের রশিদ আহমদ, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন, ফয়সল আহমদ ও হারুন অর রশিদ। তাদের মধ্যে আবুল খায়ের রশিদ আহমদ ছাড়া বাকি তিন আসামি পালাতক রয়েছেন।
মামলায় আরেক আসামি শফিউর রহমান ফারাবিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি অপর আসামি মান্নান ইয়াহিয়া অরফে মান্নান রাহী কারাগারে মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
আলোচিত এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুমিনুর রহমান টিটু, বাদীপক্ষের আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সমর বিজয় সী শেখর, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, নিতু কান্ত দাশ ও নাদিম রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাব্বির আহমদ ও ইমরান আহমদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নুরানি আবাসিক এলাকার নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এতে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় ২৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে ১৪ মার্চ পলাতক তিন আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে এমন অবস্থা চাই না : আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা মামলজট কমিয়ে আনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। আমরা এমন অবস্থা চাই না। মানুষ যাতে ন্যায্য বিচার পায় এবং ন্যায্য বিচারটি যেন অতিদ্রুত পায়, সেই ব্যবস্থা চাই। বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দেশের বিভিন্ন জেলার বিচারকদের মাঝে গাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে একথা বলেন আইনমন্ত্রী। এসময় মন্ত্রী জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের ব্যবহারের জন্য ১৬টি মাইক্রোবাসের চাবি হস্তান্তর করেন। সাত কোটি তিন লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্রয়কৃত মাইক্রোবাস হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেন, অতীতে অনেক জেলা জজ রিক্সায় চড়ে আদালতে আসা-যাওয়া করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই অবস্থার পরিবর্তন এনেছে। বিচারকদের মর্যাদা রক্ষায় যেটা করা দরকার সেটা করে দিচ্ছে। গুনগত মানসম্পন্ন গাড়ী দিচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণের কাছাকাছি বিচারকদের আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রকল্প গ্রহণও করা হচ্ছে। মানুষ এখনো মনে করে আদালত হচ্ছে তার বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। মানুষের সেই আশ্রায়স্থল যেন নিশ্চিত থাকে তেমনভাবে বিচারকদের কাজ করার আহবান জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, “জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড” এ কথাটি যেমন সত্য, তেমনি “জাস্টিস হারিড ইজ জাস্টিস বারিড” এ কথাটিও সত্য। সে কারণে এর একটি ব্যালান্স বা ভারসাম্য আনা খুব প্রয়োজন। তিনি বলেন, আঠার বা উনিশ শতকে যে ফৌজদারী বা দেওয়ানী কার্যবিধি লেখা হয়েছিল সেখানে কিন্তু অনেক সংশোধন করা সম্ভব এবং সেখানে বিচারের জন্য যে সময় বেধে দেয়া হয়েছিল বিশেষ করে দেওয়ানী কার্যবিধিতে সেই সময় কিন্তু এখন কমিয়ে আনা যায়। দেওয়ানী কার্যবিধিতে সংশোধন করে সময় কমিয়ে এনে দেওয়ানী মামালা যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় সেই চিন্তা ভাবনা করছে সরকার এবং শিগগিরই এর একটি রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে। এটা করতে পারলে বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুমসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতিবাজদের আড়াল করতেই শরীফের চাকরিচ্যুতি, দুদকের কর্মকাণ্ড তদন্তে সংসদীয় কমিটি চান মেনন

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিধিবদ্ধ সংস্থার সার্বিক কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। সোমবার সংসদে তিনি বলেছেন, “দুদক দুর্নীতিবাজদের আড়াল করতেই উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করেছে।” তাদের কর্মকাণ্ডকে খতিয়ে দেখতে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ করেন তিনি।
অনির্ধারিত আলোচনায় মেনন বলেন, “বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। কিন্তু আমাদের দেশে দুর্নীতি চরম চ্যালেঞ্জ হিসাবে সামনে এসেছে। লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন, এটা সন্দেহ নাই।”
দুর্নীতি দমন ও অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন অধিদপ্তরকে ‘মর্যাদা দিয়ে’ দুর্নীতি দমন কমিশনে উন্নীত করার ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ খান মেনন বলেন, “সেই দুদক যখন সংবিধানবিরোধী কাজ করে, অথবা তার দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য অথবা তার কার্যক্রমের মধ্যে কোনো দুর্নীতিবাজকে আড়াল করার জন্য, যখন সংবিধানের বিধানের বিরুদ্ধে যায়; তখন আমাদের উৎকণ্ঠা হয়।”
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের আদেশ জারি হয়।
পরদিন ওই আদেশ প্রত্যাহার এবং ৫৪(২) বিধি বাতিলের দাবিতে দুদক সচিবকে স্মারকলিপি দেন কমিশনের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ সংস্থাটির অন্যান্য দপ্তরে মানববন্ধন হয়।
শরীফ দাবি করেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ‘প্রভাবশালীদের রোষে পড়ে’ তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে।
পরে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন ২০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, শরীফ উদ্দিনকে ‘শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে’ বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন চাকরি বিধিমালা-২০০৮ এর ৪৮ বিধির আওতায় অপসারণ আদেশ পুনঃনিরীক্ষণ করতে কমিশনে আবেদন করেন শরীফ। চাকরি ফেরত চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতেও আবেদন করেছেন।
শরীফকে ৫৪ এর (ক) ধারায় চাকরিচ্যুত করার প্রসঙ্গ টেনে মেনন বলেন, “কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ এই ধারাটি নিয়ে হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে সংবিধানবিরোধী। দুদক অবশ্য আপিল করেছে।
“কিন্তু যে বিষয়টি বিচারধীন, সেই বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে তাকে বরখাস্ত করা হল। এর পরিণামে দুদকের কর্মকর্তারা সারাদেশে মানববন্ধন ও অ্যাসোসিয়েশন করল। এতে দুদকের ভাবমূর্তি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুণ্ন হল। কিন্তু দুদক এই ব্যাপারে গা করলেন না।” মেনন বলেন, “শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে পুর্নবহালের জন্য দরখাস্ত করল, সেটাও মানলো না। সে এখন হাই কোর্টে গেল। বিচারধীন বিষয়ে কথা বলব না। কিন্তু কী কারণে একজন কর্মকর্তাকে, যাকে দুই দিন আগে অতি উত্তম কর্মচারী বলেছেন, তাকে এক কলমের খোঁচায় চাকরিচ্যুত করলেন। কারণ সে এমন কিছু বিষয়ে তদন্ত করছিল, যার ভিত্তিতে যে বিষয়গুলো এসেছিল, যা জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শরীফ উদ্দিনের করা তদন্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মেনন বলেন, “এসব কারণে যদি তাকে বরখাস্ত করা হয়, তাহলে নিশ্চয় বরখাস্ত করার পেছনে ‘শক্ত হাত’ রয়েছে। তাকে বরখাস্তের পরে বিষয়গুলোর পুনঃতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে দুদক।
আমি জানতে চাই, আসলে কেন এটার পুনঃতদন্ত হবে? যেখানে মামলা হয়ে গেছে, কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে; এটা কোন স্বার্থে? কোন জায়গা থেকে? আমার কথা হল- সংসদ জানতে চায়, যেখানে মামলা হয়ে গেছে, মামলায় কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন কেন এটা পুনঃতদন্ত হবে? কোন স্বার্থে হঠাৎ করে এই পুনঃতদন্ত?”
মেনন বলেন, “দুদক যখন এই ধরনের অসাংবিধানিক, অনৈতিক কার্যক্রম… বিষয়টি সংসদের খতিয়ে দেখা দরকার।”
এ বিষয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।
চট্টগ্রামের অনিয়ম দুর্নীতি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি দৃষ্টিনন্দন কাজে ভয়াবহ দুর্নীতি। চট্টগ্রামের রেলের দুর্নীতিসহ ৫০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। এজন্য যদি তাকে বরখাস্ত করা হয় তাহলে নিশ্চিই এর পেছনে কোনো সংস্থার হাত রয়েছে। তাকে বরখাস্ত করে এসব বিষয়গুলোকে পুনঃতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেটি পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রতিবেদনে প্রশাসন ক্যাডারের ২০ জন , পুলিশ ক্যাডারের ৪ জন, তসিলদার ৬ জন, সাব রেজিষ্ট্রার দুই জন, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ৬ জন, ব্যাংকের ৩ জন, রাজনৈতিক নেতা ৭ জন, চেয়ারম্যান ২ জন, ৮ জন দালাল, সাংবাদিক তিন জনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মচারীর নামে প্রতিবেদন রয়েছে। সংসদ জানতে চায় কেন পুনঃতদন্ত হবে? যেখানে মামলা হয়েছে, মামলায় তাদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের হঠাৎ পুনঃতদন্ত কোন স্বার্থে, কোন জায়গাতে? সংসদে অবহিত করা প্রয়োজন। দুদক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তারা যখন অসাংবিধানিক এবং অনৈতিক কার্যক্রম করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এই বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য অনুরোধ করছি। শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনঃবহলের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। এভাবে অন্যায় করলে দুদকের সাধারণ কর্মচারী, তারা কাজ করতে পারবেন না। সংসদকে এ ধরনের ঘটনায় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলা নিউজ/ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পিকে হালদারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

0

৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা লেনদেনের মামলায় প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলাটির ১৪ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতকদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ২৫ মে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
এ মামলায় কারাগারে আছেন অবন্তিকা বড়াল, শংখ বেপারী, সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধা। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর আসামিরা হলেন- পিকে হালদারের মা লিলাবতী হালদার, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রিতিশ কুমার হালদার, রাজিব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায় ও স্বপন কুমার মিস্ত্রি।
২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। পরে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় দুদক। চার্জশিটে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ কানাডিয়ান ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশটিতে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পিকে হালদার বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ নিজ দখলে রেখেছেন। যা দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, উৎস গোপন বা আড়াল করতে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন। সূত্র-দৈনিক আমাদের সময়।