দ্বিপক্ষীয় সব সমস্যা মিটিয়ে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার পথে হাঁটবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশের বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তি হলো। সে সম্পর্ক রক্ষার জন্য আগামীতে দুই দেশের মধ্যে এখন যেসব সমস্যা আছে, তা মিটিয়ে নতুন করে বন্ধুত্ব গাঢ় করার পথে হাঁটবে দুই দেশ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হ্যাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।এসময় নতুন রাষ্ট্রদূতকে তাঁর দেশে পালিয়ে থাকা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতার অনুরোধ জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বৈঠকের বিষয়ে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। এটি ছিল তাঁর সঙ্গে প্রথম বৈঠক। বৈঠকে দুটি নির্ধারিত এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী তাকে জানান, এই আইন কখনোই বাক-স্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য করা হয়নি। এটা সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হয়েছে। তিনি জানান, এর কিছু অপব্যবহার হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, অনেক দেশের সংবিধানের তুলনায় বাংলাদেশের সংবিধান আলাদা। বাংলাদেশের সংবিধানে সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতাকে আলাদাভাবে গ্যারান্টি প্রদান করা হয়েছে মৌলিক অধিকারের মাধ্যমে। আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা যে জতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই-কমিশনারের অফিসের সাথে বেস্ট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শক এসেছিলেন তার সঙ্গে যে আলাপ করেছি, সেগুলো উল্লেখ করেছি। এরপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাকে বললেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আমাদের সহায়তা করতে চায়। আমি বলেছি, এটা অবশ্যই বিবেচনাধীন থাকবে।’ প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আইনজীবীদের যদি এ ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করা যায়, তাহলে সেটা ভালো হবে। তারা যে জজ ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এসেছেন, সেটাও আমি উল্লেখ করেছি। সেখানে যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হচ্ছে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালের কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অত্যন্ত সন্তুষ্ট, সেটা তিনি বলেছেন।’যুক্তরাষ্ট্র মানব পাচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখবেন জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আর সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ দেবেন তারা।’ আনিসুল হক বলেন, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের দায়ের করা একটি মামলা নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যেটা আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে বলেছি, ‘আদালত স্বাধীন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। এ মামলায় প্রসিকিউশনের দায়িত্ব যাতে সঠিকভাবে পালন করে সেটা আমরা দেখবো।’আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রদূত) উল্লেখ করেছেন, দূতাবাস হয়তো তাদের একজন আইনজীবী সেখানে নিয়োগ করতে পারেন। সেই রকম একটা পারমিশন হয়তো চাইবেন। আমি বলেছি, সেখানে আমাদের কোন আপত্তি নেই।’ আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে । তিনি বলেন, রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে আরও আলোচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও চিঠি দেয়া হবে। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আইএলও’র সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু বিষয় আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সেক্ষেত্রে কী অগ্রগতি হয়েছে সেটাও আলোচনা করেছি।’ বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির এবং আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিতে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী
বিএনপি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির একজন সংসদ সদস্যের জয় বাংলা স্লোগান জাতীয়করণ নিয়ে সংসদে দেয়া বক্তব্য প্রমাণ করেছে তারা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করে না। তাদের অন্তরে এখনো পেয়ারে পাকিস্তান রয়ে গেছে এবং তারা পাকিস্তানের গোলামীটাই পছন্দ করে। তাদের হৃদয়ে যে পেয়ারে পাকিস্তান বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের বক্তব্যে এটাই প্রকাশিত হয়েছে।’
বুধবার সংসদে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিপরিষদকে এই বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে এই প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সময় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
শাজাহান খানের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণার যে প্রত্যাশ্যা দীর্ঘদিন এ জাতির ছিল তা পূরণ হওয়ায় বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিপরিষদকে এই বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হোক।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর ক্ষমতায় আসার পর, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে কাজগুলো করেছিল রহমানও একই কাজ করেছিলেন যখন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হত। তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। জিয়ার অনুসারীরা এখনো সেই পুরনো কাজই করছে।
ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারী গ্রেফতারের কারণে সাময়িক বরখাস্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর গ্রেফতার বা হাজতবাসের কারণে সাময়িক বরখাস্তের বিধান কেন অসাংবিধানিক হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি এ এ আহমেদ সোহেল সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক স্কুল শিক্ষকের আনা রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয় আদালত।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। আদালতে রিটটি দায়ের করেন ফরিদপুরের সদরপুর থানার চর চাঁদপুর নব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ আজিজ খান।
আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, ২০১০ সালের সদরপুর থানার একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় তিন মাস হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হন শিক্ষক এম এ আজিজ খান। এ মামলায় হাজতবাসের কারণে ২০১৩ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং নিয়মানুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা পেয়ে আসছিলেন। বাংলাদেশ সরকারি চাকরি বিধি ১৯৭৩ এর পার্ট ১,বিধি ৭৩ এর নোট ১ অনুযায়ী তাকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই ফৌজদারি মামলা চলমান থাকায় তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ চলমান রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরি বিধি ১৯৭৩, পার্ট ১, বিধি ৭৩ এর নোট ২, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আবেদনকারীর মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি দাবী করে রিটটি দাখিল করা হয়।
এই আইনজীবী বলেন, কোনো উপযুক্ত আদালতে অপরাধী প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা আইন বিজ্ঞানের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত চাকরির অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়াও বিভাগীয় কোনো কার্য ধারা গ্রহণ ব্যতীত অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবেদনকারীকে সাময়িক বরখাস্তের অধীন রাখা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ এবং ৩২ এর পরিপন্থি। একইসঙ্গে এই বিধানটি নিপীড়নমূলক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
পল্লব বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকারি চাকরি বিধি ১৯৭৩, পার্ট ১, বিধি ৭৩ এর নোট ২, কেন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং আবেদনকারীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি),ডেপুটি পরিচালক (ঢাকা বিভাগ),ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সদরপুর উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।বাসস।
মুক্তি পেলেন ইভ্যালি চেয়ারম্যান শামীমা
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার হালিমা খাতুন।
হালিমা খাতুন বলেন, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিনকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তার হাজতি নং-২৪১৬/২১। মঙ্গলবার মুক্তির আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। পরে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যায় তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলকে গেল বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতারণার অভিযোগে এর আগের দিন বুধবার রাতে শামীমা নাসরিন ও মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন মো. আরিফ বাকের নামে একজন গ্রাহক, যিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। সূত্র-আমাদের সময়।
এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিচার শুরু
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ চার্জগঠনের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত আগামী ১৭ মে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন। আদালত নাজমুল হুদার অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠনের এ আদেশ দেন।
শুনানিকালে নাজমুল হুদা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ন্যায়বিচার প্রার্থণা করেন। দুদকের আইনজীবী এম এ সালাউদ্দিন ইস্কান্দার চার্জগঠনের পক্ষে শুনানি করেন।
এর আগে গত বছর ২৪ নভেম্বর ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। চার্জশুনানির তারিখ ধার্য করে মামলাটি চার্জ গঠনকারী আদালতে বদলির আদেশ দেন। গত বছর অক্টোবরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক বেনজীর আহম্মেদ নাজমুল হুদাকে অভিযুক্ত করে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়-১-এ নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলা উচ্চ আদালতে ডিসমিস করার পরও প্ররোচিত হয়ে মামলাটির রায় পরিবর্তন করা হয়। মামলাটি ডিসমিস করতে দুই কোটি টাকা ও অন্য একটি ব্যাংক গ্যারান্টির আড়াই কোটি টাকার অর্ধেক ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ চান এসকে সিনহা। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে আসে।
দেড় বছর তদন্ত করে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলাটি মিথ্যা অভিযোগে করা মর্মে প্রমাণিত হয়েছে দুদকের। আর মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে উল্টো ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধেই মামলা করে দুদক।সূত্র-আমাদের সময়।
টিপ পরা নিয়ে শিক্ষিকাকে বাজে মন্তব্যকারী পুলিশ বরখাস্ত,তদন্ত কমিটি গঠন
তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে টিপ পরা নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য মো. নাজমুল তারেককে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল ২০২২) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ফারুক হোসেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর এক লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন যে, তিনি পুলিশের পোশাক পরিহিত একজন দ্বারা ইভটিজিং ও প্রাণনাশের চেষ্টার শিকার হয়েছেন, যার ঘটনাস্থল শেরেবাংলা নগর থানাধীন সেজান পয়েন্টের কাছাকাছি।
এ অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কাজ শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তেজগাঁও পুলিশ আজ (৪ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার) ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত পুলিশের নাম মো. নাজমুল তারেক, পদবী- কনস্টবল, বর্তমানে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত।
বর্ণিত কনস্টবল উক্ত অভিযোগকারিনীর সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করায় তাকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ২ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ অভিযোগ সংক্রান্তে কমিটির সদস্যদ্বয়কে ০৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। সূত্র -ডিএমপি নিউজ।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড: ১০ বছর আগের রুলের শুনানি হবে হাইকোর্টে
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার কারণ উদঘাটনে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে ১০ বছর আগে জারি করা রুলের ওপর শিগগির শুনানি হবে হাইকোর্টে। সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চ বিষয়টিকে শুনানির তালিকায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আইনজীবী মনজিল মোরসেদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান,’আগামীকাল বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হাইকোর্ট ওই রুলের ওপর শুনানি শুরু করতে পারেন।’ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করা এবং হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এ ছাড়াও, এই জোড়া খুনের চলমান তদন্তের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়া গণমাধ্যমে কোনো বিবৃতি না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনিকে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে তাদের ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়।
শেরেবাংলা নগর পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল র্যাবকে এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।
এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, ওই বাড়ির ২ নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনামুল হক এবং সাগর-রুনির ‘পারিবারিক বন্ধু’ তানভীর রহমান। তানভীর ও পলাশ জামিনে জেল থেকে বের হলেও, বাকিরা এখনো কারাগারে আছেন। সূত্র-দ্য ডেইলি স্টার।
হাইওয়ে ছাড়া সব রাস্তায় ৩ চাকার ইজিবাইক চলবে : সুপ্রিম কোর্টের রায়
দেশের মহাসড়ক ছাড়া বাকি সব রাস্তায় ৩ চাকার ইজিবাইক চালানোর অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা পরিবর্তন করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সারাদেশে চলা অবৈধ ইজিবাইকগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
অবৈধ ইজিবাইকের আমদানি ও দেশে সেগুলো উৎপাদন বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের করা লিভ টু আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৩ সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
বাংলাদেশ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমির।
সাংবিধানিক জটিলতায় পাকিস্তান, কে হচ্ছেন তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী?
অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল হওয়া এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার পর সাংবিধানিক জটিলতার দিকে এগুচ্ছে পাকিস্তান। নতুন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম আহ্বান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি।অবশ্য নতুন তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খানই দায়িত্ব পালন করে যাবেন । তবে তিন দিনের মধ্যে যদি তত্বাধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম না পৌঁছে প্রেসিডেন্টের কাছে সে ক্ষেত্রে বিদায়ী জাতীয় পরিষদের ৮ জন সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে । আর এই কমিটির সুপারিশে প্রেসিডেন্ট একজনকে তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করছে বিরোধীদলগুলো। বিশেষ করে বিরোধীদল নেতা শাহবাজ শরীফ ও পিপিপির চেয়ারম্যান বিলোয়াল ভূট্টো জারদারি। তারা একে সংবিধান লঙ্ঘন বলছেন।
প্রেসিডেন্ট ড.আরিফ আলভি পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ভেঙ্গে দেয়া পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা শাহবাজ শরীফের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চেয়ে চিঠি লিখেছেন। সংবিধানের ২২৪-এ(১) ধারার অধীনে এই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি অনাস্থা প্রস্তাব অসাংবিধানিক বলে তা খারিজ করে দেয়ার পর রোববার প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। এরপর সোমবার তিনি ইমরান খান ও শাহবাজ শরীফকে ওই চিঠি লিখেছেন। এতে তিনি বলেছেন- রোববার সংবিধানের ৫৮(১) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োজিত না হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ২২৪-এ(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন ইমরান খান। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে পরামর্শক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে থাকেন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি আরও বলেন, জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়ার তিন দিনের মধ্যে যদি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা প্রার্থী মনোনয়নে একমত না হন তাহলে তারা দুজন নমিনি দিতে পারবেন। বিদায়ী জাতীয় পরিষদের আটজন সদস্য অথবা সিনেট অথবা উভয়ের আটজন সদস্য নিয়ে স্পিকার একটি কমিটি গঠন করবেন। তাতে ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধীদের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটির সদস্যদেরকে মনোনীত করতে হবে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল থেকে। সংবিধানের ২২৪-এ(১) ধারার অধীনে সংবিধান প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে পরামর্শক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে প্রেসিডেন্টকে।
একে বেআইনি আখ্যায়িত করে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন শাহবাজ শরীফ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট মিলে আইন লঙ্ঘন করেছেন। তারা কিভাবে বিরোধীদের কাছে আসে? এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শাহবাজ শরীফকে পাশে রেখে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, কিভাবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করা হবে এবং কিভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে সংবিধানে তা বলা আছে। কিন্তু সেই পদক্ষেপগুলোকে ডিঙিয়ে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, যখন কোনো হাউজই (পার্লামেন্ট) নেই, তখন কিসের নেতা আর কিসের বিরোধী দল। ভোটে না দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা যায় না।
রাজধানী ইসলামাবাদে বিদায়ী তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বিরোধীদের এসব অভিযোগ আমলেই নিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, দেশ এখন আগামী নির্বাচনের আবহে আছে। বিরোধীরা সরকারের কর্মকাণ্ডকে অসাংবিধানিক বলে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
স্বাস্থ্যের ঠিকাদারদের গডফাদার মিঠু সিন্ডিকেটের দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ গোয়েন্দা সংস্থার
বাজারমূল্যের চেয়ে দুই থেকে ২৫ গুণ বেশি দামে মালামাল সরবরাহ; বিক্রীত মালের দামের চেয়ে ৫৮ গুণ ব্যয়ে মেরামত কিংবা একদিনের ব্যবধানে আট দেশ থেকে মালামাল সরবরাহের মতো বহু ‘রেকর্ড’ গড়েছে স্বাস্থ্যের ‘মিঠু সিন্ডিকেট’। দেশি যন্ত্রে বিদেশি স্টিকার লাগিয়ে গছিয়ে দেওয়া; নামে-বেনামে ৬১টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং মালামাল সরবরাহ না করেই শত শত কোটি টাকার বিল উত্তোলনের মতো কাজও হরহামেশাই করেছেন এ খাতের বিতর্কিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাত জিম্মি করে রেখেছে।
পানামা পেপার্স কেলেংকারিতে নাম উঠেছে মিঠুর। এমনকি ১৫০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিও এই মিঠু। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগও আছে। এমনকি তার সঙ্গে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে মিঠুর অজানা অনেক দুর্নীতি উঠে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন সৎ, দক্ষ দেশপ্রেমিক বিচারপতিকে প্রধান করে দুদকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দেওয়া তথ্য বলছে, স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদার মিঠুুর জন্ম ১৯৭০ সালে ১ জুন। বাবা মৃত কাওসার উদ্দিন আহমেদ, মা উম্মে কুলসুম ও স্ত্রী নিশাত ফারজানা চৌধুরী। মিঠুর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ২৬৯৪৮১১০১৮৬৪৬, পাসপোর্ট নম্বর বিএইচ-০৮০৯৮৩৪, ৮৮০৭৬৫০৫৭ এবং ইই-০৮১১০০৫। স্থায়ী ঠিকানা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের মহিপুর গ্রাম। রংপুর শহরের (বাসা নম্বর ৪৬, রোড-১০) বুড়িরহাট রোড চিকনি ভাটায়। অন্যদিকে বর্তমান ঠিকানা হিসাবে রয়েছে গুলশান, বনানী, এলিফেন্টরোড, মালিবাগ, ডিওএইচএস এবং চট্টগ্রামের আগ্রবাদের বিভিন্ন ঠিকানার ৭টি বাসার তথ্য।
মেরামত ব্যয় ৫৮ গুণ : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদারির ইতিহাসে মিঠুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির দামের চেয়ে বেশি দামে সেগুলোর মেরামত সেবা দিয়েছেন। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি ‘বেবি স্কেলার’ সরবরাহ করেন সাড়ে ৭ হাজার টাকায়। এটি মেরামত বাবদ বিল উত্তোলন করেছেন ৪ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ পণ্যের দামের তুলনায় মেরমাত খরচ প্রায় ৫৮ গুণ বেশি। একইভাবে ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় একটি কার্ডিয়াক মনিটর সরবরাহ করে মেরামত বাবদ বিল উত্তোলন করেছেন ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা। একটি ফটোথেরাপি মেশিন সরবরাহ করেছেনে ৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকায়, যার মেরামত ব্যয় উত্তোলন করেছেন ৬ লাখ ৪০০ টাকা।
২০১৩-১৪ অর্থবছরের একটি দরপত্রে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রংপুর সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে ৭টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ২০১৬ সালের ২৯ মে কার্যদেশ পান। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কিউ-সোর্স’, যার স্বত্বাধিকারী হিসাবে তার ভাই মোকসেদুলের নাম দেওয়া রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলোÑ ২৯ মে কার্যাদেশ পেয়ে পরের দিনই (৩০ মে) জার্মানি, ব্রাজিল, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, পোল্যান্ড, চীন ও জাপানে তৈরি হওয়া ২৪ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯০ টাকার মালামাল সরবরাহ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে আলোচিত ঠিকাদার মিঠু ৬১টি পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে সব ধরনের কেনাকাটার নিয়ন্ত্রণ করেন। এর মধ্যে স্বত্বাধিকারী হিসেবে মিঠুর নিজ নামে রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠান। তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ, টেকনো ট্রেড, লেক্সিকোন আইটি প্রাইভেট লিমিটেড, মেসার্স টেকনো ট্রেড, মেসার্স টেকনো ফিশিং, মেসার্স প্রি-আক্সও, সিআর মার্চেন্ডাইজ, লেক্সিকোন হাসপিটালাইট, নর্থ এগ লিমিটেড, নর্থবেঙ্গল পোল্ট্রি ফার্ম; অ্যাপল সিরামিক লিমিটেড, মেড ইকুইপ ইঞ্জিরিয়ারিং ইনভেনচার, টেকনোক্রেট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ সালে নিবন্ধনকৃত এম গেটওয়ে করপোরেশন। এ ছাড়া বড় ভাই মো. মোকসেদুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫টি। স্ত্রী নিশাত ফারজানার নামে ৩টি। এ ছাড়া অন্যান্য ভাই, ভাবি, ভাতিজা, ভাগিনা, বন্ধু ও তাদের স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠান খুলে বিশাল রাজত্ব তৈরি করেন মিঠু।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর অন্যতম সহযোগী তার ভাই মোকছেদুল ইসলাম ও ভাগ্নে বেনজীর আহমেদ। এ তিনজন এতটাই অপ্রতিরোধ্য যে, তার পরিধি দেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। এমনকি পানামা পেপার্স কেলেংকারিতেও নাম উঠেছে। স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালে মিঠুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় দুদক একটি মামলা (নন সাবমিশন) করে। একই সঙ্গে তার ভাই মোকছেদুল ইসলামের নামে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে একটি মামলা হয়।
সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মিঠুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ও অনুসন্ধান শুরু হয়। কিন্তু পুনঃতদন্তে মিঠুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে দুদক অভিযোগ সমাপ্তি করে বলে জানা যায়। ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ১৭টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে মালামাল সরবরাহ না করে এবং বাজার দরের চেয়ে বহুগুণ বেশি দরে বিদেশি মালামালের পরিবর্তে স্থানীয় নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে তিনি সরকারের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করেন। মিঠুর নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে ১০ থেকে ১২টি নথি খোলা হয়। সেগুলো অনুসন্ধানে একাধিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একটি নথির মাধ্যমে সব অভিযোগ সংযুক্ত করে সিরাজুল হক মাত্র একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমেই এসব নিষ্পত্তি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি শনিবার আমাদের সময়কে বলেন, স্বাস্থ্যের একটি তদন্ত তার অধীনে ছিল তবে সেটি মিঠুর কিনা তার মনে নেই। বিষয়টি অনেক আগের। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে কোনো খবর রাখেননি।
লুটপাটের কিছু চিত্র : প্রতিবেদনে মিঠু সিন্ডিকেটের ঠিকাদারির নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে সিটিস্ক্যান মেশিন সরবরাহ করা হয় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকায়, যার বাজারমূল্য ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ একটি সিটিস্ক্যান মেশিনে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এভাবে ৩১ লাখ ৬১ হাজার টাকার এক্সরে মেশিন সরবরাহ করেন ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকায়, এক কোটি ৩৭ লাখ টাকার ভিডিও এন্ডোসকপি সরবরাহ করে ৪ কোটি টাকায়, দেড় লাখ টাকার ওটি লাইট সরবরাহ করেন ৫১ লাখ টাকায়। এভাবে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, রংপুর সিভিল সার্জন অফিস, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৬ কোটি ৫২ লাখ ১৫ হাজার টাকার মালামাল সরবরাহ করে ১৭ কোটি ৫৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৭০ টাকা আত্মসাৎ করেন। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ২০১৪-১৭ অর্থবছরে মিঠুুর স্ত্রী নিশাত ফারজানার মালিকানাধীন ফিউচার ট্রেডকে ৮৬ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার ১৫৫ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যেখানে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। মিঠুর ভাগ্নে মো. ফাহাদ মাহমুদের মালিকানাধীন অরডেন্ট সিস্টেমকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেখানে আত্মসাৎ হয় ৪ কোটি টাকা। মিঠুর ভাবি সাবিহাতুল জান্নাতের মালিকানাধীন জিএসই অ্যান্ড ট্রেডিংকে ২০১৪-১৬ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৬১ লাখ ৫২ হাজার ১০০ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যেখান থেকে প্রায় ২০ কোটি আত্মসাৎ করা হয়। রংপুর সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে মিঠুর ভাই মো. মোকসেদুল ইসলামের মালিকানাধীন কিউ-সোর্সকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেওয়া হয় ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৯৫৪ টাকার কার্যাদেশ। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়। একই প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেখানেও আত্মসাৎ হয় ১২ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আত্মসাৎ হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। ২০১৪-১৯ অর্থবছরে এ সিন্ডিকেট কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে ৭৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকার কার্যাদেশ পায়, যার মধ্যে ৪২ কোটি ২২ লাখ ৮৯ হাজার টাকার আত্মসাৎ হয়েছে। এ ছাড়া এ সময়ে মিঠু সিন্ডকেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভুয়া বিল ভাউচার করে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং এজি অফিস সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে আরও ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।
ঋণ খোলাপি মিঠু : ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ঋণখোলাপিদের তালিকায় রয়েছে মিঠুর নাম। ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, থ্রি আই মার্চেন্ডাইস, লেক্সিকন মার্চেন্ডাইজার, অ্যাপল সিরামিক লিমিটেড, অর্ডেন্ট সিস্টেম, হেভ ইন্টারন্যাশনাল নর্থ বেঙ্গল পোল্ট্রিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং স্টারলিং ডায়াগনস্টিক লিমিটেড (নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র) অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৫ কোটি টাকাসহ আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকে তার খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা।
এসব বিষয়ে জানতে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর তিনটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে সব নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি তার অফিসের নম্বরে ফোন দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
দুর্নীতির বিষয়ে কথা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, এসব অনিয়ম-দুর্নীতি আগের। তিনি তখন অধিদপ্তরের কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। তবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে প্রয়োজনীয় চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ : রাষ্ট্রের দুটি সংস্থা এ ঠিকাদারের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে। তদন্ত শেষে তারা মিঠুর অবৈধ সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু সাপারিশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন সৎ, দক্ষ দেশপ্রেমিক বিচারপতিকে প্রধান করে দুদকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। সেই কমিটির মাধ্যমে মিঠু সিন্ডিকেটসহ অন্যদের বিরুদ্ধ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মিঠূু সিন্ডকেটের সব প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। পাশপাশি ওই সিন্ডিকেটের সহযোগী বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা/সচিব ও হিসাবরক্ষকদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুসন্ধানকালে মিঠুর নিজ নামে, স্ত্রী, ভাই ভাগ্নে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিপুল অঙ্কের টাকার স্থাবর সম্পত্তির তথ্য পায় এ গোয়েন্দা সংস্থা। এ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা হয়েছে, মিঠু ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের সঠিক তথ্য উদঘাটন করে অভিযোগটি পুনরুজ্জীবিত অথবা পুনরায় সম্পদের অনুসন্ধান করে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করে প্রাপ্ত অবৈধ স্থাবর/অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। মিঠু সিন্ডিকেটের প্রতিষ্ঠানগুলো গত ১০ বছরে যেসব হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তার তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে মিঠুর পৃষ্ঠপোষক এসব কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য খাতে মিঠু সিন্ডিকেটকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সহায়তায় রাষ্ট্রের স্বাধীন একটি সংস্থার কর্মকর্তাদের ইন্ধন রয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের কর ফাইল তলব করে পুনঃতদন্তের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রাক্তন সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করানোর সুযোগ সীমিত থাকায় দুদককেই বলতে হবে, তারা যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে দুদকের প্রাক্তন মহাপরিচালক (তদন্ত) মাইদুল ইসলাম বলেন, বিচার শেষ হোক বা না হোক পুনঃতদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে আদালত পুনঃতদন্ত চাইতে পারে। আবার দুদক চাইলেও পুনঃতদন্ত করা সম্ভব। দুদক আইনের ১৯-এর বিধিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, অনুসন্ধান নথিভুক্ত হলেও পুনঃতদন্ত করা সম্ভব।( সৌজন্যে -আমাদের সময়,প্রতিবেদক রাশেদ রাব্বি)।











