দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনে রাখবেন জাতির পিতার দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, যা আমাদেরকে এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আপনাদের পূর্বসূরীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সকল আঘাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২২’ উদ্বোধনকালে দেয়া প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহবান জানান।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজবারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস জনবান্ধব পুলিশিং এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। সর্বোপরি পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশকে শান্তির সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে নব উদ্যমে কাজ করতে প্রেরণা জোগাবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে পূর্বসূরীদের ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।
১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজারবাগে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠানের ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘এই রাজারবাগে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের কথা মনে রাখতে হবে। তারা আপনাদেরই ভাই, তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।
বিএনপি’র ধংসাত্মক কর্মকান্ড স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অগ্নিসন্ত্রাস, বৃক্ষ কর্তন, রাস্তা কেটে ফেলা- নানান ধরনের কাজ তারা করেছে, এমনকি পুলিশের উপর আক্রমণ করেছে। যেভাবে পুলিশের সদস্যদের তারা নির্মমভাবে মেরেছে সেটা সত্যিই ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এই ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে তারা দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল। কত মানুষকে তারা হত্যা করেছে তার কোন সীমা নেই।
তিনি সে সময় সহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকবেলায় পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, সেই সময় পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মানুষের জীবনে শান্তি নিরাপত্তা নিয়ে এসেছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা কাজ করেছেন।এ জন্য সবাইকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিবেশন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একটি খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃতি পুলিশ সদস্যদের মাঝে পুলিশ পদকও বিতরণ করেন তিনি।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ২০২০ সালে ১১৫ এবং ২০২১ সালে ১১৫ জনসহ মোট ২৩০ পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে মরণোত্তর পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও রয়েছেন।
পদকের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)।
পদক প্রাপ্তদের পদাংক অনুসরণ করে অন্যরাও ভাল কাজ করে যাবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
৭৫’র বিয়োগান্তক ঘটনা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলিতে আহত ছিলেন আমার ফুফু এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সাহেবের ছেলে, স্ত্রীসহ আমার ফুফাতো ভাই ও বোনেরা। যখন এই খুনীরা আক্রমণ করে চলে যায় তখন রমনা থানা থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আহত-নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। শুধুমাত্র পুলিশের এই সাহসি ভূমিকায় আমার ফুফু বেঁচে ছিলেন। তিনি পঙ্গু অবস্থায় বাকি জীবন কাটান। আমার দুই ফুফাতো বোন এবং ভাই বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলায় বাধা দিতে যেয়ে গুলিতে নিহত পুলিশের বিশেষ শাখার এএসপি সিদ্দিকুর রহমানকে তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
জাতির পিতাকে হত্যার পর ছয় বছর তাঁকে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ রিফিউজি জীবন কাটাতে বাধ্য হন। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাঁকে সভাপতি নির্বাচন করায় দেশে ফেরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, তখন জাতির পিতার খুনীরা ক্ষমতায়, তথাপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে একরকম জোর করেই তিনি দেশে ফিরে আসেন।
এরপর ’৯৬ সালের প্রথম মেয়াদেই তাঁর সরকার ৫ কোটি টাকা সিড মানি প্রদান করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে। বিভিন্ন স্থানে থানা, তদন্ত কেন্দ্র, হাইওয়ে ফাঁড়ি, পুলিশ ক্যাম্প এবং পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করে। পাশাপাশি ৮০৩ জন এসআই, ৫০৭ জন সার্জেন্ট এবং ১৪ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ করে ও আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে গত ১৩ বছরে পুলিশের উন্নয়নে নানাবিধ কর্মকাণ্ড গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে মোট ৮২ হাজার ৫৮৩টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের নতুন ইউনিট যেমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল-ট্যুরিস্ট-নৌ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এন্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, রংপুর ও ময়মনসিংহে রেঞ্জ, রংপুর এবং গাজীপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট, রংপুরে আরআরএফ এবং সিআইডি’তে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করা হয়েছে। ২টি সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্টে একটি ও কক্সবাজারে ২টি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং র্যাবের জন্য ৩টি ব্যাটালিয়ন, ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ৬২টি থানা, ৯৫টি তদন্ত কেন্দ্র এবং ১টি ফাঁড়ি এবং জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। জরাজীর্ণ থানাগুলো পুননির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আইজিপি’র র্যাংক ব্যাজ পুনঃপ্রবর্তন করেছি। গ্রেড-১ এর ২টি, গ্রেড-২ এর ১১টি, ডিআইজি এর ৫২টি, অতিরিক্ত ডিআইজির ১৫৯টি, পুলিশ সুপারের ৪০২টি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ৮০০টি পদ সৃজন করেছি। ২১৫টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে, ২৫৩টি সিনিয়র এএসপি পদকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে, এসআই/সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণী হতে ২য় শ্রেণীতে এবং ইন্সপেক্টর পদকে ২য় শ্রেণী হতে ১ম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে উন্নীত করেছি। সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালার আলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্প্রতি ৩ হাজারের অধিক কনস্টেবল নিয়োগ করেছি। আকাশ পথে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দুইটি হেলিকপ্টার ক্রয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অপরাধ তদন্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২২টি নতুন ব্যারাক, ১০টি একাডেমিক ভবন, বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ১০৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৬০টি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, রাজস্ব বাজেট থেকে ২৭টি থানা নির্মাণ, ২৮টি ফাঁড়ি, ১৫টি তদন্ত কেন্দ্র, ৩৩৭টি থানার হেল্প ডেস্ক, ৪৫টি হাইওয়ে আউটপোষ্ট ভবন সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২১১টি আধুনিক থানা ভবন নির্মাণ, ৯৫টি থানাকে মডেল থানায় উন্নীতকরণ, ২১টি ব্যারাক ভবন ও ৬০টি তদন্ত কেন্দ্র নির্মার্ণের তথ্যও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখন পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন পুলিশ বাহিনীতে উন্নীত হয়েছে। সকল র্যাঙ্কের পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি বছর ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন যুগোপযোগী ট্রেনিং মডিউল প্রণয়ন, ট্রেনিং মডিউলের মধ্যে মানবাধিকার সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৈদেশিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ চালু করার ফলে আজকে পুলিশ বাহিনী দ্রুত সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। যে করণে আজকে মানুষের মধ্যে একটা আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের আর্তমানবতার সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রশংসা করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুলিশ বাহিনীর অংশ গ্রহণ বিশেষ করে নারী সদস্যদের দায়িত্ব পালনেরও প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দার পর এসেছে করোনা, এত প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে, ব্যাপকভাবে যোগোযোগ ব্যবস্থা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক করে দিচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনে বিশেষ সুবিধার সৃষ্টি করে দিচ্ছে সরকার, বলেন তিনি।
তাঁর সরকার এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চায় উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। খবর বাসস।
গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন
সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল উত্থাপন
সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিধানের প্রস্তাব করে জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ উত্থাপন করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি উত্থাপন করেন।
বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে প্রস্তাবিত বিলের বিধি অনুযায়ি যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করার জন্য ৬ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি, প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষিক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দু’জন বিশিষ্ট নাগরিককে নিয়ে ৬ জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে কমিটি গঠনের পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবরে সুপারিশ প্রেরনের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অনুসন্ধান কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিকদল ও পেশাজীবি সংগঠনের কাছে এ বিষয়ে নামের সুপারিশ আহবান করতে পারবে বলে বিলে উল্লেখ হয়েছে।
বিলে অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতার বিধানের প্রস্তাব করা হয়। যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স ন্যুনতম ৫০ বছর হতে হবে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধাসরকারী বা বেসরকারি পদে অন্যুন ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারের অযোগ্যতার বিষয়গুলো নির্ধারনের বিধানের প্রস্তাব করা হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংসদে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
এদিকে বিএনপির হারুনুর রশীদ বিলটি উত্থাপনের পর্যায়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। এ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দীর্ঘ বক্তব্যের পর কন্ঠভোটে জনাব হারুনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বাসস।
অধস্তন আদালতে রোববার থেকে বিচার কার্যক্রম ভার্চুয়ালিও চলবে
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উচ্চ আদালতের পাশাপাশি রোববার (২৩ জানুয়ারী) থেকে দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারিরীক ও ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চলবে।
প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, করোনা সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারক দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শারীরিক উপস্থিতিতে অথবা ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এবং এই কোর্ট কর্তৃক জারীকৃত এতদ্ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সকল প্রকার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে সকল প্রকার মামলা দায়ের করা যাবে। বিচারক শারিরীক উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিগন অধস্তন ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল করতে পারবেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণ এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত জেলা ও দায়রা/মহানগর দায়রা জজ এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গাউন পরিধানের বাধ্যবাধকতা নেই। এই আদেশ প্রতিপালনে কোনরূপ সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া যাবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’
সিইসি ও ইসি নিয়োগ বিল সংসদে ওঠছে রোববার
বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন নিয়োগ বিল রোববার সংসদে ওঠছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন। বিলটি সংসদে তোলার জন্য ওই দিনের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য বিলটি আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বিলটি তুললে তা যাচাই বাছাইয়ের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির রিপোর্টের জন্য বিলটির সময় খুব কম দেয়া হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পাস করা হবে। এটি পাস হওয়ার পরেই নতুন নির্বাচন কমিশন এর আলোকে নিয়োগ করা হবে।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি এ আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়। সেদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। রাষ্ট্রপতি এই অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন।
ইসি ও সিইসি নিয়োগে যোগ্যতায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার হতে হলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বয়স কমপক্ষে ৫০ বছর হতে হবে। একইসঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে কমপক্ষে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য আইন করতে বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এ সরকারের আমলে আইন বাস্তাবে রূপলাভ করছে।
বাবার সম্পত্তিতে অগ্রাধিকার মেয়ের, ঐতিহাসিক রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের
বাবার সম্পত্তিতে অধিকার থাকবে মেয়েরও। বাবা যদি মৃত্যুর আগে উইল করে সম্পত্তির ভাগ মেয়েকে দিয়ে নাও যেতে পারেন, তা সত্ত্বেও বাবার সম্পত্তিতে অধিকার পাবেন মেয়েরাও। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই ঐতিহাসিক রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার হিন্দু মহিলা ও বিধবাদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মামলাটি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেই বিচারপতি আবদুল নাজির এবং কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চ রায় দেয়, “কোনও হিন্দু ব্যক্তির কন্যা সন্তানরাও, তার বাবার স্ব-অর্জিত বা অন্যান্য সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে বাবার মৃত্যুর পরে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় কন্যা সন্তানদের দাবি বরং বেশি।”
অর্থাৎ, যদি একজন হিন্দু পুরুষ কোনও উইল ছাড়াই মারা যান, তার সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারী কন্যা পাবেনই। সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির ভাইয়ের ছেলে বা মেয়ে থাকলেও, তারা সেই সম্পত্তির কোনও ভাগ পাবে না। বরং সবার আগে ওই সম্পত্তির ভাগ পাবেন ওই মৃত ব্যক্তির কন্যা।
১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের সমানাধিকার দেওয়া হয়নি। এর প্রায় ৫০ বছর পরে, ২০০৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সেই আইন সংশোধন করা হয় এবং ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকারের কথা বলা হয়।
পরে ২০২০ সালে আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় দেয়, ‘‘অবিভক্ত যৌথ পরিবারের সম্পত্তিতে মেয়েদের সারা জীবন সমান অধিকার রয়েছে।’’ ২০০৫ সালের আগেও কারও বাবা মারা গিয়ে থাকলে তার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার রয়েছে।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ছবিটা প্রায়ই অন্য হয়। সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে কেবল ছেলেরাই প্রাধান্য পায়, ব্রাত্য রয়ে যায় পরিবারের মেয়েরা। উইল করে সম্পত্তি ভাগ করা থাকলে আলাদা বিষয়, তা না হলে যেন অলিখিত নিয়মেই মেয়েদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয় বাবার সম্পত্তির ভাগ থেকে।
বিচারপতি মুরারি তার ৫১ পাতার রায়ে এও জানিয়েছেন, উইল না করে মারা গিয়েছেন এমন কোনও মৃত হিন্দু ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী বা কন্যা যে মৃতের স্ব-অর্জিত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী পাবেন। এই আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হিন্দু মহিলারা যাতে পৈতৃক সম্পত্তি স্বচ্ছ ভাবে দাবি করতে পারেন।
গাঁজার দুই উপাদান করোনা রোধ করে ! দাবি গবেষকদের
ওমিক্রন আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে হু হু করে। এই পরিস্থিতিতে নতুন এক কথা শোনালেন গবেষকরা। তাঁদের দাবি, গাঁজার মধ্যে রয়েছে এমন দু’টি অ্যাসিড যা করোনার যম! তবে তার মানে এই নয়, গাঁজা খেলে করোনাকে প্রতিরোধ করা যাবে। সেই ভুল পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছেন গবেষকরা।
সম্প্রতি ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এক গবেষণাপত্র। ওরেগনের হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক এক দল বিষয়টি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। গাঁজা খেলে করোনাকে রোখার কোনও রকম সম্ভাবনা না থাকলেও গাঁজার মধ্যে থাকা দুই উপাদানকে নিয়ে তাঁদের কৌতূহল প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। সেই দুই উপাদান হল ক্যানাবিগেরলিক অ্যাসিড (CBGA) ও ক্যানাবিডিওলিক অ্যাসিড (CBDA)।
কীভাবে এরা করোনার সংক্রমণকে বোকা বানাতে পারে? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সার্স-কোভ-২ ভাইরাস কাউকে সংক্রমিত করতে গেলে সেই প্রক্রিয়াকে আটকে দেয় এরা। মারণ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের সংক্রমিত হওয়ার পথ বন্ধ করে দিতে সক্ষম বলেই জৈবিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আটকে যায়। ফলে ‘দাঁতনখ’ বসাতে পারে না করোনা। ব্রিটেন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান মেলা করোনার নানা স্ট্রেনের উপরেই পরীক্ষা করে সদর্থক ফলাফলই মিলেছে।
তবে এই উপাদানগুলি THC-র মতো নিয়ন্ত্রিত পদার্থ নয় বলেও জানাচ্ছেন গবেষকরা। অ্যাসিডগুলি গাঁজা ও গাঁজার নানা ধরনের নির্যাসে মিশে রয়েছে। কোভিড টিকা ও অ্যান্টিবডি থেরাপির ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলিকে ব্যবহার করা যেতে পারেই বলে মত দিচ্ছেন গবেষকরা।
এদিকে করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন তত ভয়ের কিছু নয় বলেই বাজারে ধুয়ো উঠেছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে সতর্ক করেছে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, ওমিক্রন সংক্রামক হওয়ার পাশাপাশি বিপজ্জনকও। একে হালকাভাবে নিলে ভুল হবে। বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে।
চিত্রনায়িকা শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদের আদালতে জবানবন্দি
চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু (৩৫) হত্যা মামলায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদ।
ঢাকার চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৃহস্পতিবার এ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে তারা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন শুক্রবার জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রিমান্ড চলাকালীন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামীদের বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে হাজির করলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হন এবং জবানবন্দী রেকর্ড করার আবেদন করেন।
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে আসামি খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের এবং একই কোর্টের সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাত শুকরানার আদালতে আসামি আব্দুল্লাহ ফরহাদের জবানবন্দি গ্রহণপূর্বক রেকর্ড করা হয়। এরপর আদালত আসামীদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরআগে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চুন্নু মিয়া গত মঙ্গলবার মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদকে আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম আসামীদের প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য,নিহত চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়।
জানা গেছে, পুলিশ গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি-’২২) ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর (৩৫) লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করে । কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে বস্তাবন্দী মরদেহ পড়েছিল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় জানাতে পারেনি। পরে, ওইদিন রাতে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নাম-পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ ব্যূরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
জানা গেছে, চিত্রনায়িকা শিমুর মরদেহ রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) মর্গে রাখা হয়। শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদ সেখানে গেলে তাদের আটক করা হয়। র্যাবের একটি টহল দল তাদের আটক করে। খবর বাসস।
তিস্তার পানি সমস্যা সমাধানে প্রকৃতিভিত্তিক আলোচনার পথ অবলম্বনের পরামর্শ ভারতীয় বিশেষজ্ঞের
তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসায় প্রকৃতি-ভিত্তিক আলোচনার পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় পানিবিশেষজ্ঞ জয়ন্ত বসু ।
তিন দিনব্যাপী ভার্চ্যুয়াল ৭ম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন ২০২২-এর দ্বিতীয় দিনে ‘তিস্তা নদীর ভূরাজনীতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক আলোচনা পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী থাকলেও উভয় দেশের মধ্যে সামগ্রিক অববাহিকা ভিত্তিক কোনো উদ্যোগ নেই। সামগ্রিক অববাহিকা-ভিত্তিক পন্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
পরিবেশ ডকুমেন্টেশন বিশেষজ্ঞ এবং এনভায়রনমেন্ট গভর্নড ইন্টিগ্রেটেড অর্গানাইজেশনের পরিচালক জয়ন্ত বসু বলেন, তিস্তার মতো নদীর পানি সমস্যা নিরসনে সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি ভিত্তিক আলোচনামূলক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আন্তঃসীমান্ত নদী সমস্যাগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি যুক্ত। কেননা এ অঞ্চলের সব দেশই প্রধানত কৃষি, জলবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য কারণে নদীর উপর নির্ভরশীল।

ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞ ড. জয়ন্ত বলেন, এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতার অসম অবস্থান; আন্তর্জাতিক, জাতীয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব; নদী ও জলবায়ু পরিবর্তন আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়ন্ত বসু বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পানি বন্টনের ক্ষেত্রে উজান ও ভাটির দেশের দৃষ্টান্ত ধোপে টেকে না। তিনি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবহারে একটি সমন্বিত মডেলে পৌঁছতে আন্তঃদেশীয় অংশীদার পর্যায়ে সামগ্রিক আলোচনার প্রস্তাব করেন। খবর বাসস।
সপ্তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন শুরু হয় বৃহস্পতিবার। এবারের প্রতিপাদ্য ‘তিস্তা নদী অববাহিকা: সংকট উত্তরণ ও সম্ভাবনা’।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন আয়োজন করেছে একশনএইড বাংলাদেশ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে একশনএইড।
এতে বলা হয়েছে, এবারের সম্মেলনে তিস্তা নদী অববাহিকায় সংকট ও সম্ভাবনার ওপর আলোচনা হবে। এতে অংশ নেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, দাতা সংস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও জাপান, সুইডেন, ব্রুনাই, নেপাল ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা বক্তৃতা করবেন।
১৫দিন স্কুল কলেজ বন্ধ, করোনার বিস্তার রোধে ৫ নির্দেশনা
করোনার বিস্তার রোধকল্পে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পাঁচ দফা বিধি নিষেধসহ নির্দেশনা জারি করেছে।
শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জরুরি এই বিধি-নিষেধ জারি করে।
সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি নির্দেশনাগুলো হলো-
১.২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৩. সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যাঁরা যোগদান করবেন, তাঁদের অবশ্যই টিকা সনদ বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।
৪. সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবে।
৫. বাজার, শপিং মল, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সব ধরনের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।
বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মনিটর করতে বলা হয়েছে।
ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া আইন মন্ত্রণালয়েই থাকবে, প্রয়োজনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে: আইনমন্ত্রী
দরকার হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
আর ভূমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অনুশাসন দিয়েছেন এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে অনুশাসন দিয়েছেন সেখানে এ বিষয়ে আলোচনার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
আনিসুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে দু’বার আলোচনা করেছি। সেই অফিসকে অবহিত করা হয়েছে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তারা যেন শিগগির আমাদের তারিখ দেয়, সেই তারিখ অনুযায়ী আমরা আলোচনায় বসতে রাজি আছি। লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।’
এই কমিটির কাজ কী হবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইন প্রধানত সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হয়েছে। বাকস্বাধীনতা বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য করা হয়নি। সেটা যদি করা হতো এটা আইন হিসেবেই গণ্য হতো না। কারণ সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে রাখা হয়েছে। আমরা একটু আগে এই আইন করেছি, অনেক দেশেই করা হয়েছে এবং অনেক দেশ এই আইন করা আবশ্যক মনে করছে।’
তিনি বলেন, ‘এই আইন যখন বাস্তবায়ন করা হয় সেখানে কিছু মিসইউজ ও কিছু অ্যাবিউস হয়েছে। এগুলো যাতে না হয়, সারা পৃথিবীর যে বেস্ট প্র্যাকটিসেস, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো নির্ণয় করে আমাদের দেশের জন্য কতটুকু প্রয়োজন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা আমরা হয়তো বিধি দিয়ে গ্রহণ করবো। যদি প্রয়োজন হয় আইন কিছুটা সংশোধনও করা হবে।’
‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে তা যেন মামলা হিসেবে গ্রহণ করা না হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা বলে দিয়েছি, আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী যেন সেলে পাঠানো হয়। সংবাদমাধ্যমের কর্মী যারা, যারা সাংবাদিক তাদের যেন ইমিডিয়েটলি অ্যারেস্ট না করা হয়, সেটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা দেয়ার পরে কিন্তু এই আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করাটা অনেকাংশে কমে গেছে।’
দণ্ডবিধির ২২৮ ধারাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলে যুক্তের দাবি জানিয়েছেন ডিসিরা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবো।’
নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ আইন সংসদের চলমান অধিবেশনে পাস করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।











