ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 52

‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, ডিসিদের জানালেন ভূমিমন্ত্রী

0

‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১’র খসড়া সকল অংশীজনের মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২২’ এ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে একথা জানান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কার্য অধিবেশনে ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য সোলেমান খানসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও তার আওতাধীন দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অবৈধ ভূমি দখলকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১’র খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভূমি দস্যুতা রোধে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসের উদ্দেশ্যে করা ‘ভূমি ব্যবহার আইন ২০২১’র খসড়া তৈরিও প্রায় শেষের দিকে রয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী এ সময় জেলা প্রশাসকদের খাস জমি উদ্ধার এবং খাদ্য নিরাপত্তায় তিন ফসলী জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি এক স্থানে বিভিন্ন দপ্তরের জন্য ঊর্ধ্বমুখী সমন্বিত সরকারি অফিস করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় (এলএ কেস) আমোক্তারনামা (পাওয়ার অব এটর্নি) ব্যবস্থা বাতিল করার ব্যাপারটি বিবেচনাধীন আছে।
তিনি বলেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এটার মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তির দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত, সাধারণভাবে এলএ কেসে পাওয়ার অব এটর্নি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসবাসরত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়ার অব এটর্নি দিতে পারবেন। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেও পাওয়ার অব এটর্নি দেয়া যাবে।
সকলের মতামতের ভিত্তিতেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান ভূমিমন্ত্রী।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভূমিসেবা আরও সহজ করতে ই-রেজিস্ট্রেশন এবং ই-মিউটেশনের ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে জমির হাতবদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে। এছাড়াও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) দ্রুত শুরু করা হবে।
বিডিএস বাংলাদেশের সর্বশেষ ‘ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ’ হবে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিডিএস বাস্তবায়িত হলে জমি হাত বদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খতিয়ান ও ম্যাপ প্রস্তুত হয়ে যাবে। যুগ যুগ ধরে জরিপের হয়রানি থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে।
অধিবেশনে জেলা প্রশাসকরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। খাসজমি, নামজারি, হাট ও বাজার, ভূমি অফিস নির্মাণ, জলমহাল, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা, কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ভূমি সংশ্লিষ্ট জনবল ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটালাইজেশন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনসহ ভূমি সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে কার্য অধিবেশনের আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও ভূমি জরিপ ব্যতীত, ভূমি রাজস্ব ও ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সকল সেবা প্রদানে কালেক্টর হিসেবে জেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

প্রধান বিচারপতি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত

0

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী ডালিয়া ফিরোজ করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, কোভিড পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসায় গতকাল বুধবার ভর্তি হন প্রধান বিচারপতি। এর আগের দিন তার স্ত্রী ডালিয়া ফিরোজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
প্রধান বিচারপতি ও তার স্ত্রী সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতালের অপর একটি সূত্র জানায়। প্রথমে প্রধান বিচারপতির স্ত্রীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে প্রধান বিচারপতিরও রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
গত ৩১ ডিসেম্বর দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এর আগে করোনা সংক্রমণ জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ বিষয়ে মঙ্গলবার পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ অনুযায়ী এবং এ সংক্রান্ত ইতোপূর্বে জারি করা প্র্যাকটিশ ডাইরেকশন অনুসরণ করে আপিল বিভাগে এবং হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে ১৯ জানুয়ারি থেকে ভার্চ্যুয়ালি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা সংক্রমণ জনিত পরিস্থিতির কারণে এর আগেও সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি পরিচালিত হয়েছে। মাঝে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সুপ্রিমকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এখন করোনা সংক্রমণ পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্রিমকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি পরিচালনার জন্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।বাসস।

শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‍্যাবকে বাদ দিতে ১২ মানবাধিকার সংস্থার চিঠি

0

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‍্যাবকে বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মোট ১২টি মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে।
ডিসেম্বরে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব এবং এর সাবেক ও বর্তমান মোট ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে র‍্যাব কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
‘বিষয়টি সম্পর্কে এখনো জানেন না’ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এই চিঠিটি দুই মাস আগে ২০২১ সালের নভেম্বরের আট তারিখে পাঠানো হয়েছিল, যা আজ (বৃহস্পতিবার) প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মসূচি থেকে এখনো ওই চিঠির ব্যাপারে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সামনের সারিতে রয়েছে।
দু’হাজার বিশ সালে বিভিন্ন দেশে শান্তি মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, বিভিন্ন বাহিনী থেকে ৬,৭৩১জন সদস্য পাঠানো হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে, দেশের ভেতরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে কর্মকর্তাদের পুরষ্কার হিসেবে শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো হয়, বিশেষ করে র‍্যাব সদস্য যাদের অনেকের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং গুমের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়ের ল্যাকোঁয়ার কাছে দেয়া চিঠিতে আহ্বান জানানো বলা হয়েছে, র‍্যাবে কাজ করেছেন এমন সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শান্তিরক্ষা কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস রয়েছে এমন পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের শান্তিরক্ষী মিশনে নেয়া বন্ধ করার ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং যারা কাজ করছেন তাদের নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, র‌্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এর আগে র‍্যাব সদস্যদের নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের সভাপতি কেরি কেনেডি বলেছেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার ব্যাপারে যদি সেক্রেটারি জেনারেল গুতেরেসের সদিচ্ছা থাকে, তাহলে তিনি নিশ্চিত করবেন যে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মতো নির্যাতনের প্রমাণিত রেকর্ড রয়েছে এমন কোন সংস্থাকে কোন দেশে মোতায়েন করা থেকে বিরত থাকা হবে।”
চিঠিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর র‍্যাবের ভেতরে সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার বদলে, বাংলাদেশ সরকার ‘অভিযোগ অস্বীকার’ করছে এবং মানবাধিকার কর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়িতে হাজির হয়ে পুলিশ তাদের হুমকি দিচ্ছে।
সেই সাথে মিথ্যা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করছে যেখানে লেখা থাকছে তাদের পরিবারের সদস্য নিখোঁজ হয়নি এবং তারা (পরিবার) ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ হিসেবে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রয়োজনে সেখানে লবিস্ট নিয়োগেরও পরামর্শ দেয়ার খবর বেরিয়েছে।বিবিসি বাংলা।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে খনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ শুনানি পেছাল

0

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামি ৬ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জে ঢাকার দুই নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে এ তারিখ ঠিক করেন।
এদিন মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার। শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী এ তারিখ ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম ও ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম শাহবাগ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামির সংখ্যা ১৩ জন। বিভিন্ন সময় ছয় আসামি মারা যান। বর্তমানে আসামি সাত জন।

আমেরিকায় লবিস্টদের পেছনে বিএনপি ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে

0

বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম। বলেছেন,আমেরিকায় সরকার কোন লবিস্ট নিয়োগ করেনি বা করার কোন পরিকল্পনাও নেই। কিন্তু বিএনপি তাদের বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসাবে একটি মার্কিন লবিস্ট ফার্মের জন্য কমপক্ষে ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার লবিং করার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার জন্য একটি ফার্মের সাথে যুক্ত হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী পার্লামেন্টে দেয়া তার বক্তব্যের পুনরুল্লেখ করে বলেন, এ পর্যন্ত তারা আটটি নথি পেয়েছেন, যাতে দেখা গেছে যে, কিছু বাংলাদেশি নাগরিক কয়েকটি মার্কিন লবিস্ট ফার্ম ভাড়া করেছে।
তিনি বলেন, ‘ওই আটটি চুক্তির মধ্যে অন্তত তিনটিতে বিএনপির নয়া পল্টন কার্যালয়ের ঠিকানা মূল ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
আলম বলেন, তারা অন্তত আরও চারটি নথি পেয়েছেন যেগুলোতে বাংলাদেশের স্থানীয় ঠিকানার পরিবর্তে নিউইয়র্কের ঠিকানা ব্যবহার করে জামাতে ইসলামীর পক্ষে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা মনে করি যে, এই নথিগুলি জামাতের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এসব চুক্তিতে আইসিটি ট্রাইব্যুনাল (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) সহ তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে লবিংয়ের উল্লেখ করা হয়েছিল।”
বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের লবিস্ট ফার্ম আকিন কোম্পানি অ্যাসোসিয়েটস, ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস এবং রাস্কি পার্টনারসকে নিয়োগ দেয়। অন্যদিকে, জামাত ‘পিস অ্যান্ড জাস্টিস’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি চ্যানেলের অনুমোদন নিয়ে বিএনপি বৈধভাবে মার্কিন সংস্থাগুলোকে টাকা পাঠিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তারা নথিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে তারা টাকা পাঠালে আমরা আশা করি যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ি আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাবে।
নিয়ম অনুযায়ি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়।
আলম বলেন, জামাতে ইসলামীর ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার লক্ষ্যে অন্যান্য নথিগুলিই ইসির কাছে যথেষ্ট।
শাহরিয়ার আলম বলেন, পাবলিক ডোমেইনে বিদ্যমান এই আটটি নথি ছাড়াও তারা মনে করেন যে, বিদেশী লবিস্টদের সাথে বিএনপি এবং জামাতের স্বাক্ষরিত এরকম আরও অনেক চুক্তি রয়েছে, যা এখনও জনসাধারণের সামনে আসেনি।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ইসি গঠনে বিভিন্ন প্রস্তাব আওয়ামী লীগের

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে চলমান সংলাপের ১৭ তম দিনে সোমবার (১৭ জানুয়ারী) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন আইন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির আহবানে চলমান সংলাপের শেষ দিনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে বসেন।
আওয়ামী লীগের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করে। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল প্রস্তাব করেন – সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনের নিয়োগ দান করবেন। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি (রাষ্ট্রপতি) যাদেরকে উপযুক্ত বিবেচনা করবেন সেইভাবে তিনি তাদেরকেই নিয়োগ দান করবেন। প্রেস সচিব জানান, তারা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ইভিএম পদ্ধতিসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রতিনিধিদল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের আচরণ এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা ও ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এছাড়া বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ এবং আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত লোকজনের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

তারা বলেন, নির্বাচনে পেশিশক্তি বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা ও পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব করেন। লিখিত প্রস্তাবনায় তারা নির্বাচনের দিন, নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের আবশ্যকীয় সকল সংস্থা এবং নির্বাচন কর্মপরিধি অবশ্যই একটি রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করা যায় সে ব্যাপারে তার দল ও সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে, জনগণ যাতে ভোটাধিকার ইচ্ছামত প্রয়োগ করতে পারেন সে ব্যাপারে তার দল ও সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিবে। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন যে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রণয়নের জন্য আইনের একটি খসড়া আজ মন্ত্রিপরিষদের সভায় অনুমোদন দিয়েছে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে আইনটি প্রণীত হবে।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত আইনটিতে মন্ত্রীপরিষদের অনুমোদন দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি যত দ্রুত সম্ভব এ আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আইনেই জনমতের প্রতিফলন ঘটবে।
গত ২০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া রাজনৈতিক দলের সাথে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সংলাপের প্রথম দিনে বসে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। সর্বমোট ৩২ টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি হামিদ। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সহ সাতটি রাজনৈতিক দল আলোচনায় অংশ নেয়নি।

সার্চ কমিটির মাধ্যমে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ; আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন

0

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে।
খন্দকার আনোয়ার আরো বলেন, সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে উপযুক্ত প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করবে।
এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পর রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে সর্বশেষ দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নাম থেকে রাষ্ট্রপতি ২০১২ ও ২০১৭ সালে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনারকে বেছে নেন।
এ ছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরো তিনটি আইনের খসড়া অনুমোদিত হয়। এ গুলো হচ্ছে- ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এর খসড়া, ‘বাংলাদেশ তেল গ্যাস, ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন আইন-২০২২ এবং ‘বৈষম্য বিরোধী আইন-২০২২’। এ ছাড়াও ‘জাতীয় লবন নীতি-২০২২ এর খসড়ারও অনুমোদন দেয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮(১)-এ বিধান আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে। খুব বেশি বড় আইন না এটি। এ জাতীয় আইন আমরা হ্যান্ডেল করে আসছি। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন আছে। মোটামুটি সেই অনুযায়ী এটা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে একটা সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি গঠন করা হবে।
ছয় সদস্যের এই সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি।
এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, মহাহিসাবনিরীক্ষক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করবে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন।
এসব পদের নিয়োগে কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। ওই ব্যক্তিদের কমপক্ষে ৫০ বছর বয়স হতে হবে। এ ছাড়া সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে ওই ব্যক্তিদের কমপক্ষে ২০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘খসড়া আইনে অযোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,-‘আদালতের মাধ্যমে কেউ অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষিত হলে, দেউলিয়া ঘোষণার পর দেউলিয়া অবস্থা থেকে মুক্ত না হলে, অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করলে, নৈতিক স্খলন এবং সেক্ষেত্রে যদি ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দু-বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত হলে, রাষ্ট্রীয় পদে থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার হতে পারবেন না।’
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আইনটি চূড়ান্ত করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ছোট আইন।’
এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারে বৈষম্যবিরোধী আইন, ২০২২-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেকগুলো আন্তর্জাতিক কনভেনশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে সব রকমের বৈষম্য নিরসন করা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। এরই আলোকে এ আইন নিয়ে আসা হয়েছে।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আইনের আলোকে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন- জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা বা যে পর্যায় পর্যন্ত হিউম্যান রাইটসের কোনো ভায়েলেশন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করবে।
তিনি জানান, এখানে একজন সভাপতি থাকবেন। আইনমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং লেজিসলেটিং বিভাগের একজন যুগ্মসচিব সেটার সদস্য সচিব হবেন।
বৈষম্যবিরোধী একটা সেল গঠন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে সেল বৈষম্যবিরোধী কার্যাবলী প্রতিরোধ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিকার প্রদানের জন্য বৈষম্যবিরোধী জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা কমিটিসহ অন্যান্য কমিটি গঠন করবে।
‘জাতীয় লবণ নীতিমালা-২০২২’ এর খসড়ার অনুমোদন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এখন লবণ চাষের ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোর অনেকগুলোয় ট্রাডিশনাল সিস্টেমে হচ্ছে, সেটার একটা মডিফিকেশন দরকার। মাতারবাড়ি, কক্সবাজার, পায়রায় বেশকিছু জায়গা ডেভেলপমেন্ট করার কাজ হাতে নিয়েছি। সেজন্য নতুন নতুন জায়গা গ্রহন করা এবং নতুন টেকনোলজির মাধ্যমে আরও প্রোডাক্টটিভিটি ইফেকক্টিভ করা এবং বড় করার জন্য নীতিমালা নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে, ২০২০-২৫ মেয়াদি এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে আমরা লবণ উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করবো এবং আমাদের লবণের ঘাটতি হবে না।’ বাসস।

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি আবার ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে

0

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদিপক্ষ গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল দাওদা জালৌ। ১৪ জানুয়ারি রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের একজন মুখপাত্রের কাছে শুনানির তারিখ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাননি।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রতিনিধিরা শুনানিতে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারিক এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জালৌ বলেন, “২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই হাইব্রিড শুনানি শুরু হবে।” হাইব্রিড শুনানি হলো, মামলার দুই পক্ষের এক পক্ষ সরাসরি আদালতে হাজির থাকেন এবং আরেক পক্ষ করোনা মহামারির কারণে অনলাইনে অংশ নেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে অং সান সু চি এই মামলার গণশুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে প্রথম নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যেহেতু সামরিক বাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে তাই সামরিক জান্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলায় সু চির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করবে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিধন অভিযানে দেশটির রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের তদন্ত দল তাদের প্রতিবেদনে জানায়, “গণহত্যার উদ্দেশ্যেই” এই হামলা চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি নিজে দ্য হেগে আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানিতে হাজির হয়ে মামলা খারিজের আবেদন করেন।
২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই নেত্রীকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির বর্তমান সামরিক জান্তা। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।
জোর করে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এবং জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে নিজেদের মিয়ানমারের বৈধ শাসক হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সামরিক জান্তা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে প্রতি ছয় মাস পর পর রোহিঙ্গা বিষয়ক আদালত নির্দেশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে আসছে। যদিও এই প্রতিবেদনগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়।
২১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। এই বিষয়টি নিস্পত্তি হলে গণহত্যার ব্যাপারে শুনানি হবে।

চট্টগ্রামে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ হবে : আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, এ বছর চট্টগ্রামে হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘আইনজীবী মিলন মেলা-২০২১’ এর অনুষ্ঠানে শনিবার ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল), আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান, চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলম, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়াউদ্দিন বক্তৃতা করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামে একটা হাইকোর্ট বেঞ্চের দাবী আপনাদের। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি এ বছর শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামে হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শুধু বদ্ধ পরিকরই নয়, এজন্য যা যা করার তাই করা হবে।’
আনিসুল হক বলেন, দেশে যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে সেখানে আইনজীবীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। জাতি এটা কখনোই ভুলবে না।
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, ‘আদালত পাড়ায় অনেক মানুষের সমাগম হয়। তাই এই সময়টায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, চট্রগ্রাম আইনজীবী সমিতি অনেক বিশিষ্ট আইনজীবীর জন্ম দিয়েছেন, যারা আইন অঙ্গনের দিকপাল। তাদের ধারাবাহিকতায় এখানকার পরবর্তী প্রজন্মও এই পেশায় সফল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এটর্নি জেনারেল।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আইন পেশাটা চ্যালেঞ্জিং একটা পেশা। নবীন আইনজীবীদের এই পেশায় টিকে থাকতে হবে। বাসস।

টাকা লুটতেই রাজমিস্ত্রী শ্বাসরোধে হত্যা করে ঢাবি অধ্যাপককে

0

টাকা লুট করতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা গাফফারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার কন্ট্রাক্টর আনারুল ইসলাম (২৫) হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ পাইনশাইল এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসন প্রকল্পের ভেতরে একটি ঝোপ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনারুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই অধ্যাপকের নির্মাণাধীন বাড়ির কন্ট্রাক্টর ও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন নিহত অধ্যাপকের ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির। অধ্যাপক সাইদা গাফফার ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে তার মালিকানাধীন প্লটে বাড়ি করার জন্য প্রকল্প সংলগ্ন দক্ষিণ পানিশাইল মোশারফ মৃধার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। সেখানে থেকেই বাড়ি নির্মাণ কার্যক্রম দেখাশোনা করতেন। সেখান থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে মরদেহ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বুধবার সাইদা গাফফারের নিখোঁজের ঘটনায় তার মেয়ে সাদিয়া আফরিন কাশিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আনারুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি অধ্যাপক সাইদার হাতে টাকা দেখে তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তিনি চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান আনারুল।
নিহত সাইদা গাফফারের স্বামী মৃত জহিরুল হক। তার ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির ঢাকার উত্তরার পশ্চিম থানার ১২ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়িতে বসবাস করেন। তার তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এবং একজন দেশে থাকেন।