ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 55

কক্সবাজারে সংবদ্ধ ধর্ষণের বিচারিক অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট

0

কক্সবাজারে শিশু ও স্বামীকে আটকে রেখে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় বিচারিক অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া এ রিট করেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
আবেদনে ওই ঘটনায় কক্সবাজার জেলা জজ বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিচারিক অনুসন্ধান করার এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত ২২ ডিসেম্বর শহরের কবিতা চত্বর রোড সংলগ্ন এক ঝুপড়ি চায়ের দোকানে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে সেখান থেকে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামের আবাসিক হোটেলে। দ্বিতীয় দফায় সেখানেও তিনি ধর্ষণের শিকার হন।
এ ঘটনায় ২৩ ডিসেম্বর চার জনের নাম উল্লেখ করে ও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রধান আসামি আশিকুর রহমানসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভয়েস অফ আমেরিকা।

হামলার মুখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী রেহাম খান

0

বড়সড় হামলার মুখে পড়লেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী রেহাম খান। রবিবার রাতে অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফেরার সময় তাঁর গাড়িতে গুলি চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। এমনকী তাঁকে গানপয়েন্টে রেখেই গাড়িতে হামলা চলে বলে অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন সঞ্চালিকা। যদিও তাঁর কোনও ক্ষতি হয়নি। কোনওমতে অন্য একটি গাড়িতে চড়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এহেন হামলার জন্য রেহাম দায়ী করেছেন প্রাক্তন স্বামী তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা নিয়ে। সরকারকে ‘কাপুরুষ’ বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন রেহাম খান।
ঘটনা রবিবার রাতের। নিজের আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত সঞ্চালিকা রেহাম খান। অভিযোগ, সেখান থেকে রাতে ফেরার সময় আচমকাই জনা দুই দুষ্কৃতী মোটরবাইকে এসে তাঁর গাড়ি থামায়। শুরু হয় ঝাঁকে ঝাঁকে গুলিবৃষ্টি। রেহাম নিজেই টুইট করে গোটা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর টুইট, ”আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও চালক ছিল গাড়িতে। বিপদ টের পেতেই ওরা আমায় অন্য একটি গাড়িতে নিয়ে যায়। তাই প্রাণে বেঁচে ফিরেছি।” এরপর তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ”এটাই কি ইমরানের নতুন পাকিস্তান? এই দেশ কাপুরুষ, ঠগ, লোভীদের!”
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানে। কে বা কারা রেহাম খানের গাড়িতে হামলা চালাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে খবর। তাতেই আরও ক্ষিপ্ত রেহাম। ইমরানকেই তিনি এর জন্য দায়ী করেছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, এটাই কি নতুন পাকিস্তান?
২০১৪ সালে ইমরান খানের সঙ্গে বিয়ে হয় ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত সাংবাদিক ও টেলিভিশন সঞ্চালিকা রেহাম খানের। ২০১৫ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পাকিস্তানের নাম উঠে আসার পর রেহাম খান ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন, ইমরান খান নিজের আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের সেনাবাহিনীর ‘হাতের পুতুল’ হয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন। ইমরান-রেহামের এই মতান্তরের মাঝেই হামলার মুখে পড়লেন বছর আটচল্লিশের রেহাম খান। আর তাতেই পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছড়ে পড়ল তাঁর।

মামলাজট কমাতে ৮ বিভাগে বিচারপতির নেতৃত্বে মনিটরিং সেল হবে, দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ : প্রধান বিচারপতি

0

মামলাজট নিরসন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা আনতে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। দেশের আট বিভাগে হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতির নেতৃত্বে পৃথক আটটি সেল গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যলয় কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচার কক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রতিমাসে মনিটরিং সেল থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করবো। পুরাতন মামলা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিষ্পত্তির বিষয়ে সুপারভাইস এবং মনিটরিং করা হবে।
সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারিক সময় ও দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রত্যেক বিচারককে মামলা নিষ্পত্তির অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় অগ্রসেনানী হওয়ার ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিচার বিভাগের জন্য মামলাজট সুখকর নয় উল্লেখ করে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি মামলাজট থেকে মুক্ত হওয়ার যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীর প্রতি সমবেদনা ও ভালোবাসা দিয়ে অধিক পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই। এটি হবে বিচার বিভাগের জন্য মামলাজট থেকে মুক্তির যুদ্ধ।
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ন্যায়বিচার জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া জনগণের প্রতি দয়া নয় বরং এটি জনগণের সহজাত অধিকার। এই অধিকারকে কেবল সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে সাব্যস্ত করতে আমি রাজি নই। ন্যাবিচারের সৌকর্য এবং আইনের রাজকীয়তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন বটে। সে কারণে নিরপেক্ষতার সাথে, নির্মোহ হয়ে, নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সহজাত অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেশের সকল বিচারকের।
নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, “প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে মাত্র ১ হাজার ৯০০ জন বিচারকের কাঁধে যে বিপুল পরিমাণ মামলা অনিষ্পন্ন অবস্হায় রয়েছে, তা বিচার বিভাগের জন্য কোনোভাবেই সুখকর নয়।”
সেই মামলা জট নিরসনের উপর জোর দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমার দায়িত্বভার গ্রহণের সূচনালগ্নে সকল স্তরের বিজ্ঞ বিচারকদের আহ্বান জানাব, আসুন কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে বিচার প্রার্থীর প্রতি সমবেদনা ও ভালোবাসা দিয়ে অধিক পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই।”
“এটি হবে বিচার বিভাগের জন্য মামলার জট থেকে মুক্তির যুদ্ধ,” ঘোষণা দিয়ে মামলা জট নিরসনে নিজের কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি ।
তিনি বলেন, অধস্তন আদালতে মামলা জট নিরসনে আটটি বিভাগের জন্য হাই কোর্ট বিচাগের একজন করে বিচারপতিকে প্রধান করে আটটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। তিনি প্রতি মাসে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেবেন। পুরনো মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিষ্পত্তির বিষয়ে তদারক করবেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “যে জাতি তার ৩০ লক্ষ সন্তানের রক্তের বিনিময়ে এবং কোটি কোটি মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে এবং অসীম সাহসিকতার সাথে জীবনকে বাজি রেখে পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করতে পারে, সে জাতি বিচার বিভাগের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, এটা আমার কখনই বিশ্বাস হয় না। আমি বরাবর আশাবাদী একজন মানুষ।”
বিচার বিভাগের ‘গঠনমূলক’ সমালোচনাকে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ বলেন, “সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার কোনো অশুভ ব্যক্তি বা গোষ্ঠির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা কখনই মেনে নেয়া হবে না।
“আমি উদার চিত্তে বিচার বিভাগকে নিয়ে আইনের কাঠামোর মধ্যে যে কোনো গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। কবিগুরুর ভাষায় বলতে চাই, ‘নিন্দা করতে গেলে বাইরে থেকে করা যায়, কিন্তু বিচার করতে গেলে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়’। আপনারা যারা বিচার বিভাগের আলোচক ও সমালোচক বন্ধু রয়েছেন, তারা বিচার বিভাগের সমস্যা উপলব্ধি করবেন, নিঃসংকোচে আলোচনা বা সমালোচনা করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণকামিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে।”
রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ আইন সভা, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমন্বিত কাজের উপরও জোর দেন প্রধান বিচারপতি।
“রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের একটি অঙ্গ যদি দুর্বল বা সমস্যাগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হতে পারে না। সে কারণে আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের অপর দুটি বিভাগ তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে বিচার বিভাগের সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রের সকল বিভাগ ও ব্যক্তিকে অবশ্যই বারবার স্মরণ করতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক সভ্যতা পরাজিত হবে।”
আপিল বিভাগের ১ নম্বর বিচার কক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। রীতি অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতিকে আইন প্রণয়নের দাবি গণফোরামের, বিকল্পধারার তিন প্রস্তাবনা

0

একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে চলমান সংলাপের সপ্তম দিনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি গণফোরামের এবং সার্চ কমিটিতে তিনজনের নামের প্রস্তাবনা দিয়েছে বিকল্প ধারা বাংলাদেশ।
রোববার সন্ধ্যায় গণফোরামের কার্যকারী সভাপতি মুকাব্বির খান এমপি নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল মান্নান, এমপি, এর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পৃথক পৃথকভাবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনের দরবার হলে আলোচনায় অংশ নেন।
সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, গণফোরাম নেতৃবৃন্দ সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আইন প্রনয়ণসহ কয়েক দফা প্রস্তাবনা দেন।
গণফোরাম নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য দরকার স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন। তারা আশা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন ফলপ্রসূ হবে ।
ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন এখন একটি গণদাবি উল্লেখ করে গণফোরামের প্রতিনিধি দল বলেন, তারা বিশ্বাস করেন যে, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকার নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন করবে। তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেন।
পরে সন্ধ্যা সাতটার সংলাপে বিকল্পধারার প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে আইন প্রণয়নসহ তিন দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রেরিত “অনুসন্ধান কমিটি”র কাছে দেয়া নামগুলো থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের নাম প্রস্তাবের সুপারিশ করেন ।

অনুসন্ধান কমিটিতে বিকল্পধারা দেশের তিন জন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম সুপারিশ করেন। সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সংলাপে অংশ নেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মুখপাত্র মাহি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এমপি।
রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন যাতে গঠন করা যায় সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য পরামর্শ গ্রহণের যথার্থতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতিবিদদের অনুকরণীয় কিছু করে যেতে হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জন্য কিছু করে যেতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ ডিসেম্বর প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে সংলাপে বসে রাষ্ট্রপতি হামিদ।
এখন পর্যন্ত মোট ১০ টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
৩ জানুয়ারি সংলাপে যোগ দিবে গণতন্ত্রী পার্টি সন্ধ্যা ছয়টায়, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি সন্ধ্যা সাতটায় এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। তবে কমিউনিস্ট পার্টি সংলাপে যাবে না বলে জানিয়েছে।
৪ জানুয়ারি সংলাপ হবে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সন্ধ্যা সাতটায়।
৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় হবে জাতীয় পার্টি (জেপি) এর সাথে সংলাপ এবং সন্ধ্যা সাতটায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সাথে।
৬ জানুয়ারি গণফ্রন্টের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাথে সন্ধ্যা সাতটায় সংলাপের কথা রয়েছে।
এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাথে আলোচনা হবে ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) এর সঙ্গে ওই দিন সন্ধ্যা সাতটায়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

সংলাপ ব্যর্থ না সফল রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপের পর বুঝা যাবে: আইনমন্ত্রী

0

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপ ব্যর্থ নাকি সফল হবে তা দেখতে সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক । রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আইন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের সাথে খ্রীষ্টিয় নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির সংলাপ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খানের এক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাপারে দুটো কথা বলবো। একটা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা আছে। বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক তার অভিমত ব্যক্ত করতে পারেন। আমরা মনে হয় তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি এটা করতেই পারেন। মন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের বলবো এই সংলাপ ব্যর্থ হচ্ছে নাকি সফল হচ্ছে, তা সংলাপ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি কী পদক্ষেপ নেন সেটা দেখার পর আপনারা বুঝবেন। সেই পর্যন্ত আপনাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপি সংলাপে যাচ্ছে না-এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বিএনপির উদ্দেশ্যে একথাই বলতে চাই, দেখেন দেশ হচ্ছে সবার ঊর্ধ্বে। দেশের স্বার্থে আপনারা যদি এই সংলাপে আসেন, সেটা আপনাদের জন্য ভালো হবে, সবার জন্য ভালো হবে। তিনি বলেন,বিএনপি নেতারা যদি সেটা না করেন, তবে তা ওনাদের সিদ্ধান্ত। অনেকে বলেন টক্সিক সিচুয়েশন। ওনারা (বিএনপি) যদি মনে করেন, এটা “টক্সিক সিচুয়েশন”, তাহলে আমার মনে হয় “টক্সিক সিচুয়েশন” থেকে বেরোনোর জন্য ওনাদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। সংলাপে গেলে আমর মনে হয় সেটা পজিটিভ হবে, যোগ করেন আনিসুল হক। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন হলে কী এই প্রশ্নগুলো আসতো? এখনও আইন করার সুযোগ আছে কিনা- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সময়ের মধ্যে আইন করার সুযোগ নেই। আইন হবে না এই কথা তো আমি বলিনি। আমি বলেছি, এই আইনটা হবে। এই আইনটা এমন একটা আইন হওয়া উচিত, যেটা গ্রহণযোগ্য হবে সবার কাছে। শুধু এক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে তো এটা সর্বজনীন আইন হলো না। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, আইন হবে। কিন্তু এই যে কমিশন তা সংলাপের উপর নির্ভর করবে। দেখা যাক কী হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের সেবা করা। এটাই এত বছর ধরে করে আসছে সরকার। এই সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হলে জনগণ মূল্যায়ন করবে যে, কারা তাদেরকে সেবা করেছে আর কারা নিজেদেরকে সেবা করার জন্য বক্তব্য দিয়েছে। জনগণ সেখানে ভুল করবে না বলে মনে করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন,সরকারের অগ্রাধিকার হলো জনগণের প্রাপ্য সেবা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কাকে বিদেশে পাঠানো হবে আর কাকে বিদেশে পাঠানো হবেনা সেটা অগ্রাধিকার নয়। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী

0

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বাংলাদেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শুক্রবার বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতির স্ত্রী বেগম রাশিদা খানম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সাবেক প্রধান বিচারপতিগণ, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীগণ অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে এ নিয়োগ দেন।
বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক গেজেট প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন প্রধান বিচারপতি শপথ নেওয়ার দিন থেকেই এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যা যা বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

সবই পুরোনো প্রশ্ন, কিন্তু সরকারের মন্ত্রীসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যিনি সামলাচ্ছেন, সেই আইনমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে একই প্রশ্নই ঘুরপাক খায় সাংবাদিকদের ঠোঁটে। প্রশ্নবানে অনেকটা জর্জরিত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, প্রধানবিচারপতি নিয়োগ, নির্বাচন কমিশন গঠন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত বাদ যায়নি কোনো প্রশ্নই। আর সব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন কনফিডেন্টলি। এক প্রশ্নের জবাবে মি. আনিসুল হক সাফ জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড হয় না, যেসব অভিযোগ ওঠে, সেগুলো ঠিক নয়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ওকাব আয়োজিত মিট দ্যা ওকাব অনুষ্ঠানে নানা প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী।
শুরুতেই আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের কাজ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এরপর তিনি ওকাব সদস্য সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
গুম ও ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি নিয়ে এক প্রশ্ন এলে আনিসুল হক বলেন, “আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, আপনারা এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং কোথায় পেলেন? এটা আমার উল্টো প্রশ্ন।
“আমার দেখা মতে, বাংলাদেশে কোনো এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং হয় নাই। আর সেইজন্যই এরকম দাবি আমলে নেয়ার প্রয়োজন মনে করি না।”
আনিসুল হক বলেন, “আমি যখন প্রথম আইনমন্ত্রী হই, আমাকে বলা হল ২৪১টি এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং ও গুমের অভিযোগ। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ডেকে বললাম এই যে ২৪১টি, এগুলোর ব্যাপারে আপনারা আমাকে হিসাব দেন।
“কিন্তু পরে দেখা গেল, এর মধ্যে দুটো সত্য। বাকি ২৩৯টি মিথ্যা। সত্য দুটোর মধ্যে একটা হচ্ছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা একজনকে গুলি করে মেরেছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্ডার কেস হয়েছে। এরকম ঘটনা ঘটলে সরকার আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা সেটাই নেয়।”
টেকনাফের একরামুল হত্যার পর কোনো মামলা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে, কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সরকারকে- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “কক্সবাজারে যে আরেকটি ঘটনা হয়েছে সিনহা হত্যা মামলা… তার তো বিচার হয়েছে। যিনি এটা করেছেন, তাকে তো ছাড় দেয়া হয়নি। কেউ যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করে তাহলে পরে আমি অবশ্যই এটা বলতে পারি, সরকার এটার পদেক্ষেপ নেবে। কারও জন্য আদালতে যাওয়া বারিত নয়।”
র‌্যাবের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপারটাকে নিষ্পত্তি করতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিচ্ছে।”
ডিজিটাল আইনে সাংবাদিকদের ‘সরাসরি গ্রেপ্তার নয়’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “এর কিছুটা অপব্যবহার হয়েছে, এটা ঠিক। এর কারণে কিন্তু একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই আইনটা আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সঙ্কুচিত করছে। কিন্তু আসলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কোনোটাকেই সঙ্কুচিত করার জন্য করা হয়নি।”
ওই মামলায় সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়, তাহলে প্রথমে সেটির তদন্ত করবে আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় গঠিত তথ্যানুসন্ধান সেল। সেই সেল মতামত দিবে যে মামলাটা ওই আইনে নেওয়া হবে কি না?
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেছি যে এই রকম মামলা করলে একজন সাংবাদিককে ইমিডিয়েটলি গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাকে হয় সমন দিতে হবে, না হলে মামলা নেওয়ার পরে সুযোগ দিতে হবে যাতে তিনি আদালতে এসে জামিন চাইতে পারেন। আর সেলের এনকোয়ারি সম্পন্ন না হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিককে অ্যারেস্ট করা যাবে না।”
এ বিষয়ে লিখিত কোনো আদেশ জারি করা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “এই ডাইরেকশনটা তো আমরা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে দিতে পারি না। কিন্তু যেহেতু পুলিশ অ্যারেস্ট করার এখতিয়ার রাখে। ইন্টার্নালি প্রত্যেক থানাতে এরকম জানানো হয়েছে বলে আমার কাছে খবর আছে।”
বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার ‘নিয়মই নেই’
জ্যেষ্ঠতমকে বাদ দিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে আনিসুল হক বলছেন, “প্রধান বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার, এখানে জ্যেষ্ঠ্যতার কোনো নিয়ম নেই। তাই জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলাও সমীচীন নয়।
“প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে সংবিধানে বলা আছে। সেটা মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিরবচ্ছিন্ন এখতিয়ার। সেখানে কাকে তিনি প্রধান বিচারপতি বানাবেন সেটা তার প্রজ্ঞার বিষয়। সেজন্য এখানে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়টা আসে না। লঙ্ঘনের বিষয়টা তখনই আসে যখন সেখানে একটা নিয়ম থাকে। এখানে কিন্তু এমন কোনো নিয়ম নেই যে যিনি জ্যেষ্ঠ তাকেই করতে হবে।”
আইনমন্ত্রী দাবি করেন, বিচারিক ব্যবস্থার জন্য যে অবকাঠামোর ঘাটতি ছিল, গত কয়েক বছরে তা ব্যাপক আকারে উন্নতি হয়েছে।
“জেলা শহরগুলোতে গিয়ে এখন যে সবচেয়ে লম্বা ভবনটি দেখবেন, সেটি হচ্ছে আদালত ভবন। জেলা শহরে আটতলা, দশতলা করে ভবন হয়েছে। সরকার দুই হাজার দুইশ কোটি টাকার ই-জুডিশিয়ারি প্রজেক্ট নিয়েছে। সেটি হলে দ্রুত মামলার নিস্পত্তি হবে। ই-জুডিসিয়ারির মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট করা যাবে।”
“আমাদের বিশ্বাস এসব উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে ৩৯ লাখ মামলার জট আমরা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারব,” বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে:
প্রশ্ন আসে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ নিয়ে। আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন। সেখান থেকে যেসব নাম আসবে সার্চ কমিটি তার মধ্যে থেকে ১০ জনের নামের সুপারিশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। এর মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আর চারজন কমিশনার নিয়োগ করবেন। মন্ত্রী জানান, সময় সময় স্বল্পতার কারণেই এখন আইন প্রণয়নের সময় নেই । ফলে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবে। তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন, “যদিও সার্চ কমিটির গেজেটটা আইন নয়, কিন্তু এটা যেহেতু সবার কনসেন্সের মাধ্যমে হয়েছিল। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেটা গেজেট করেছিলেন। সেটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি।’তবে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করা দরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন এটা রাষ্ট্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ আইন হবে। ফলে সংসদে সর্বসম্মত আলোচনার মাধ্যমে এ আইন হতে হবে।

‘২০১৮ এর নির্বাচন প্রসঙ্গ:

২০১৮ সালের নির্বাচনকে আপনি কত নম্বর দেবেন- এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে আইনমন্ত্রী বলেন, “দ্যাখেন, আমি পরীক্ষার খাতা দেখতে বসি নাই।”
নিজের আসনে সুষ্ঠু ভোট হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, “আমার আসনে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কসবা-আখাউড়া) বিএনপি চারজনকে প্রার্থী দিয়ে রেখেছিল। অনেকটা অকশনের মতো, যে বেশি পয়সা দেবে…। তাদের সেই দোষ যদি আমাদের উপর চাপাতে চান, তাহলে আমি সেটার দায় নিতে রাজি না।”
এই প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, “১৯৯৬ সালের নির্বাচনও দেখেছি। আগে আরও অনেক ভোটও দেখেছি। নির্বাচনে যদি কেউ না আসে… তো তাকে মানুষ কি ভোট দেওয়ার জন্য গিয়ে বসে থাকবে?”
ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, “১৯৭৫ পরবর্তী নির্বাচনগুলো হয়েছিল, তার যে ইমপ্যাক্ট সেটা এখনও মানুষের মনে রয়ে গেছে। সেই ভীতিটা এখনও সম্পূর্ণভাবে দূর হয়নি। ডিজিটালি এখন আমরা অনেকটাই অগ্রসর হয়েছি। কানেক্টিভিটি নেটওয়ার্ক অনেক বেড়ে গেছে। আমার ধারণা, আগামী নির্বাচনে মানুষ অনেক বেশি ভোট দিতে আসবে।”
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ:
বিএনপির চেয়ারপারস খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে হলে আগে কারাগারে ফিরতে হবে বলে এর আগে বলেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এ নিয়ে এক প্রশ্নে বৃহস্পতিবারের সভায়ও তিনি একই কথা বলেন।
কারাগারে গেলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন? হাইপোথিটিক্যালি বিষয়টা কী দাঁড়ায়- এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে আনিসুল বলেন, “হাইপোথিটিক্যাল কোনো প্রশ্নের জবাব আমি দেব না।”
খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে পরিবারের দরখাস্তের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তার আত্মীয়-স্বজন একটা দরখাস্ত করেছিলেন। সেখানে কোনো আইনের ধারার কথা উল্লেখ ছিল না। তারপরও সেই দরখাস্তকে গণ্য করে ফৌজদারি আইনের ৪০১ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে শর্তযুক্ত মুক্তি দিয়েছে। শর্ত হলো তিনি বাসায় চিকিৎসা নেবেন, কিন্তু বিদেশ যেতে পারবেন না। আনিসুল হক বলেন, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন না হলেও সেদিন আনন্দ করে তার জন্মদিন পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনি লে. কর্নেল আবদুর রশিদকে ১৯৯৬ সালে ভোটার বিহীন নির্বাচনে বিরোধী দলীয় নেতা বানিয়ে ছিলেন খালেদা জিয়া। তার ছোট ছেলে মারা গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমবেদনা জানাতে বাসায় গেলে তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) মুখের সামনে গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এতকিছুর পরও তাকে শর্তযুক্ত মুক্তি দেয়া হয়েছে। তারপরও কেন মানবিকতার প্রশ্ন ওঠে, প্রশ্ন রাখেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওকাবের সমন্বয়ক বিবিসির সংবাদদাতা কাদির কল্লোল। ওকাবের সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ হোসেন ও ওকাবের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম মিঠুও সভায় বক্তব্য রাখেন।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নতুন প্রধান বিচারপতি

0

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন । বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইনমন্ত্রণালয়। এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়াবেন।
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি। তিনি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হলেন এবং আগামী ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন। আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ক্রমধারায় হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম অবস্থানে রয়েছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।
২০০১ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বর্তমান আপিল বিভাগের এ বিচারপতি। ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৭২ সালে খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৪ সালে সাতক্ষীরার সরকারি পিসি কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমএ পাস করেন।
ধানমন্ডি ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবদুল গফুর মোল্লা ও মাতা মরহুমা নূরজাহান বেগম।
তিনি ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ী প্রধান বিচারপতি

0

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকার্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে গতিশীলতা আনার জন্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে বলেন, ‘এটি ছিল রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ী প্রধান বিচারপতির একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ।’
দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বিচারপ্রার্থী জনগণের মহান আশ্রয়স্থল হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ দেশের বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে তার উদ্যোগের ও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এদিকে, প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না বিএনপি

0

নির্বাচন কমিশন গঠনে (ইসি) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয় গত সোমবার। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালী যোগ দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার এ ব্যাপারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিএনপি মনে করে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সময়ের নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যতীত নির্বাচন কমিশনের গঠন নিয়ে সংলাপ শুধু সময়ের অপচয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকার বহাল রেখে নির্বাচন কমিশন কখনই স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে না।’
এতে আরও বলা হয়, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ব্যতিরেখে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনো কমিশনই করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন, তার কোনো ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কোনো ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারবে না। বিএনপি অর্থহীন কোনো সংলাপে অংশগ্রহণ করবে না।’
বিএনপি জানায়, বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করেছিল। কিন্তু সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচনকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনি ব্যবহার, নির্বাচন কমিশনের চরম ব্যর্থতা, অযোগ্যতার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের দলীয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পর পর দুটো নির্বাচন কমিশনই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ২০ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন।