ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 56

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিতর্ক করার অবকাশ নেই: আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন হোক- তা তিনিও চান। কিন্তু এবার সে সময় নেই, আর সংসদকে পাশ কাটিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা সঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি তাঁর সংলাপ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি যেই সিদ্ধান্ত দেবেন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। এটা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নামের প্রস্তাব নেবেন। সেটা যাবে সার্চ কমিটিতে। সেই সার্চ কমিটি যেসব নাম প্রস্তাব করবে, তাদের মধ্যে থেকে রাষ্ট্রপতি নতুন ইসি গঠন করে দেবেন। এই এই সার্চ কমিটির সদস্য হবেন, আপিল বিভাগের একজন সিনিয়র বিচারপতি, হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অডিটর অ্যান্ড কম্পট্রোলার জেনারেল। এরা সবাই সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত। আর দুজন হবেন সিভিল সোসাইটির সদস্য। তিনি বলেন, সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই। সরকারি দলের কেউ নেই। সার্চ কমিটি দশজনকে নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম পাঠাবেন। সকলের নাম দেয়ার অধিকার আছে, ক্ষমতা আছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো বিতর্ক করার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না।
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু এও জানি এর কিছু অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহার হয়েছে। এটা যাতে বন্ধ হয় সেজন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন কোনো সাংবাদিককে মামলা হবার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় না। আগে যাচাই-বাছাই হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য করা হয়নি, বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে আমি খবরের কাগজ পড়ি। তখন আমার বয়স আট। তখন ক্রাইম রিপোর্টিং আলাদাভাবে ছিল না। কিন্তু এখন আলাদা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছেন সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, অপরাধের তথ্য এখন অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানার আগেই দিচ্ছেন সাংবাদিকরা। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সবার। সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যে সুসম্পর্ক, তা খুবই গভীর হয়েছে। আমাদের দেশে যত টকশো হয়, এত টকশো অন্য দেশের গণমাধ্যমে হয় না। বাক-স্বাধীনতা নাই তা বলা যাবে না। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাও হচ্ছে।
ক্র্যাব সভাপতি মিজান মালিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের স্মারকগ্রন্থ : সকলের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান

0

সকলের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায় বিচার মানুষের প্রাপ্য। সেটা যেন সব সময় পায় সেটা আমরা চাই। কারণ আমরা ভুক্তভোগী। তাই আমরা জানি বিচার না পাওয়ার কষ্টটা কি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ১৫ই আগস্টে সব হারিয়েছিলাম, আমার মতো বাবা মা হারিয়ে যেন কাউকে বিচারের জন্য চোখের পানি ফেলতে না হয়। সেটাই আমরা চাই। সেটা আপনারা নিশ্চিত করে দেবেন। আর আমি যতক্ষণ সরকারে আছি এর জন্য যা যা দরকার আমরা করবো।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বিচার বিভাগ ও ‘বঙ্গবন্ধু এন্ড জুডিসিয়ারি’ শীর্ষক বাংলা ও ইংরেজীতে মুজিব স্মারক গ্রস্থ এবং ‘ন্যায়কন্ঠ’ শীর্ষক মুজিববর্ষের স্মরণিকা’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনের মূল অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের সাহয্যে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশপাশি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের বিয়োগান্তক অধ্যায় তুলে ধরে দীর্ঘদিন বিচার না পাবার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন জাতির পিতার কন্যা।
সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান জাতির পিতার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল- তারা তাদের দেশে ফিরতেও বাঁধা সৃষ্টি করে এবং খুনীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষায় ইনডেমনিটি অ্যাক্টও জারি করে।
ছয় বছর প্রবাসে জীবন কাটাতে বাধ্য হবার পর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা এবং ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’ বাতিল করে জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে বহু বছর বিচার না পেয়ে মনে অনেক দুঃখ ছিল। যা হোক, এই হত্যার বিচার পেয়েছি। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার রায় কার্যকর হওয়ায় বিচার বিভাগ, দল ও দেশবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, তবে এখন আরেকটা দায়িত্ব রয়ে গেছে। চক্রান্তটা খুঁজে বের করা। এটা একদিন বের হবে। এতে কোন সন্দেহ নেই।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং স্মারক গ্রন্থ এবং স্মরণিকার সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান স্বাগত বক্তৃতা করেন।
মুজিব স্মারক গ্রন্থ এবং স্মরণিকার ওপর অনুষ্ঠানে ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রচারিত হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতাসহ ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের সকল শহিদ এবং বিজয়ের এই মাসে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে তিনি প্রথম সরকার গঠনের পরই কেবল এদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সেনাছাউনি থেকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার কাজটা তিনি করতে পেরেছেন।
পাশাপাশি বিচার বিভাগের অধিকারের জন্য বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য এবং দেশের মানুষের উন্নয়নে জন্য অনেক কাজ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর সরকার ক্ষমতায় না এলে বা তিনি বেঁচে না থাকলে এদেশে কোনদিন জাতির পিতা হত্যাকান্ডের বিচার হতো কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তখন গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার বা মানবাধিকারটা কোথায় ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে দেশে সেই ইনডেমনিটি বা সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই থেকে যেত।
‘বাবার হত্যাকান্ডের বিচার চাইতে মামলা করার জন্য তাঁকে, তাঁর মতন আপনজন হারাদের ক্ষমতায় আসতে হয়েছে’, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার বিচার পাওয়ার অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং আমরা সরকারে আসার পরই এই বিচার সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এই বিচারের রায় দিতে গিয়ে বা বিচার করতে যেয়ে উচ্চ আদালতে অনেকেই সেই সাহসটা পাননি, একটা পর্যায়ে সরে গেছেন।’
জাতির পিতার খুনীদের বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকা প্রসংগে তিনি বলেন, এখনও কয়েকজন খুনী পালিয়ে আছেন, তাদেরকেও খোঁজা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা হচ্ছে যে, আমেরিকার মত দেশ সবসময় ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের কথা বলে, ভোটাধিকারের কথা বলে, মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু আমাদের যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছিল, আমরা যে ন্যায় বিচার পাইনি- তারপরে যখন বিচার হলো, সেই খুনীদের আশ্রয় দিয়ে বসে আছে।’

তিনি সরকারে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে যে কজন রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতায় এসেছেন তাঁদের কাছে খুনীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কথা বলেছেন, অনুরোধ করেছেন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি বার বার বলেছি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আপনারা কিভাবে আশ্রয় দেন। আপনাদের জুডিসিয়ারি কিভাবে একজন খুনীতে আশ্রয় দেয়?’
আমেরিকায় খুনী রাশেদ এবং কানাডায় মেজয় নূর আশ্রয় নিয়ে আছেন বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের অধিকারের জন্য, বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য বা দেশের মানুষের জন্য কি করেছি, সেটা আর আমি এত বেশি বলতে চাই না। তবে আমি এইটুকু বলবো যেহেতু আমার বাবা চাইতেন স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, সরকারে এসে সেই স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করেছি।
করোনাভাইরাসের মধ্যে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য তাঁর সরকারের ভার্চুয়াল কোর্ট করে দেয়ার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এরফলে বিচার কার্য স্থবির হতে পারেনি অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
অন্য সরকারগুলোর মতো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বিচার বিভাগে কখনো হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনো বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করিনি, এর আগে অনেক ঘটনা আছে আপনারা জানেন। দেখা গেছে ফলস সার্টিফিকেট এর ব্যবহার বা ছাত্রদলের কাঁধে হাত রেখে কাকে কি রায় দেয়া হবে সেটা নিয়ে আলোচনা, এ রকম বহু ন্যাক্কারজনক ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটেছে। ‘
‘অন্তত আমি এটুকু বলতে পারি আমরা সরকারে আসার পর, অন্তত এই পরপর তিনবার এখন আমরা ক্ষমতায় বা এর আগে একবার ছিলাম, আমরা কিন্তু সেটা করার সুযোগ দেইনি। সব সময় একটা ন্যায়ের পথে যেন সবাই চলতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি,’ বলেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা দেখবেন, একের পর এক আমরা কাজ করে গেছি। দ্বিতীয়বার যখন ক্ষমতায় এসেছি তখন আমরা দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৯ পাশ করে বিচার বিভাগ পৃথিকীকরণের কাজটি স্থায়ী রূপ দেই। এমনকি অর্থনৈতিক ভাবেও যেন বিচার বিভাগ স্বাধীনতা অর্জন করে সেই ব্যবস্থাটাও কিন্তু আমি ‘৯৬ সালে এসে করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে এসে সব রকম সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এর মাঝে আপনারা জানেন, বিভিন্ন জেলায় বোমা মেরে বিচারকগণকেও হত্যা করা হয়েছে। সেখানে আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সব সময় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হবে। আমাদের দেশটাও যেমন বিশ্বে একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সাথে সাথে একটি দেশের সমস্ত অঙ্গগুলোও যেন সেইভাবে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে, আমরা সেটাই করতে চাই। সেভাবেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
বিচারকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের থাকার ব্যবস্থা, তাদের চলার ব্যবস্থা, সব ধরনের ব্যবস্থা, সুযোগ সুবিধা আমরা আমাদের সাধ্যমত করে দিয়েছি।
বিচারকদের দক্ষতা বাড়াতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আইন কমিশন গঠন করি। বিচারকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আমি প্রতিষ্ঠা করে দেই। এখনতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ট্রেনিং নেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অন্য দেশে কিভাবে হয় সেটা আমাদের দেশের মানুষের জানা উচিত, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করে দিয়েছি।
গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ যাতে বিচার পায় সেজন্য লিগ্যাল এইড কমিটি করে তাদের জন্য বিচার প্রাপ্তির ব্যবস্থাটা করে দিয়েছি। জনসাধারণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের বিষয়েও তাঁর সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এনেক্স ভবন করে দিয়েছি। পাশাপাশি প্রত্যেকটা জেলা কোর্ট নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছে তাঁর সরকার।
উচ্চ আদালতে নারী বিচারক নিয়োগে নিজের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান আমলে আইন ছিল, বিচার প্রক্রিয়ায় মহিলারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না। জাতির পিতা সেই আইন পরিবর্তন করে সুযোগ দিলেন। কিন্তু আমি এসে দেখলাম আমাদের উচ্চ আদালতে কোন মহিলা নেই। আমি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানালাম যে, সেখানে মহিলাদের সুযোগ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় জনসাধারণের জন্য বিচারের রায় বাংলায় লেখার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইংরেজীতে লেখা বিচারের রায় আসামীরা কি কতটুকু বোঝে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ইংরেজীতে রায় লেখার সাথে সাথে এটার বাংলায় অনুবাদটা যাতে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহবান জানান।
এজন্য আলাদাভাবে ট্রান্সলেটর নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আইন কমিশনের বের করা শব্দকোষ এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি অভিমত দেন।
জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির শুরু হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। ২০০৮ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে এবং আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হবো। আজকে আমাদের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।
২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ধারাটা দীর্ঘদিন ধরে সেই ২০০৮ এর নির্বাচনের পর ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেই আজকে বাংলাদেশ এই উন্নতি করতে পেরেছে।
দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপ্টা মোকাবেলা করতে হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বিএনপি-জামাতের দু:সময়ের খন্ডচিত্র তুলে ধরে বলেন, কখনো সেই হেফাজতকে নিয়ে এসে তাদেরকে নিয়ে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, জ্বালাও পোড়াও করা, কখনো অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করা, কখনো নানাভাবে ব্যতিব্যস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
কিন্তু দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন করা, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করা, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সেটাও সফলভাবে আমরা করে আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। বাসস।

ইসি গঠনে সংলাপ: রাষ্ট্রপতিকে ৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি

0

রাজনীতিতে গুণগত মান নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন
“রাজনীতি হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক জনমত গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন ওয়ার্কার্স পার্টির সাথে সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বাসসকে জানান, নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বঙ্গভবনে চলমান সংলাপের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে তারা একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ছয়টি প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনের ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রেস সচিব জানান, প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশন যাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা বছরের শুরুতেই জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তাব করেন।
এছাড়া নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনী আইনসমূহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তারা মতামত দেন।
ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশন গঠনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণেরও প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ গত ২০ ডিসেম্বর সংলাপের প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনা করেন।
এ পর্যন্ত মোট সাতটি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ সাথে এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে আলোচনা হবে ২৯ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায়, ২ জানুয়ারি বৈঠক হবে গণফোরামের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর সাথে সন্ধ্যা সাতটায়, আগামী ৩ জানুয়ারি সংলাপ হবে গণতন্ত্রী পার্টির সাথে সন্ধ্যা ৭ টায় এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সন্ধ্যা সাতটায়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

ইসি গঠনে সংলাপ: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান রাষ্ট্রপতির

0

রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ । তিনি বলেন, এক্ষেত্রে শুধু সদিচ্ছা ব্যক্ত করাই যথেষ্ট নয়; ঘরে বসে না থেকে মাঠে নেমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের চলমান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের চতুর্থ দিনে খেলাফত মজলিস এবং তরিকত ফেডারেশনের সাথে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপ্রধান এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন, সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান। আবেদীন বলেন, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সংলাপের চতুর্থ দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (বিটিএফ) এবং খেলাফত মজলিসের সাথে আলোচনায় বসেন রাষ্ট্রপতি।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে এ আলোচনায় অংশ নেন।
খেলাফত মজলিস নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও শক্তিশালীকরণ এবং নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রস্তবনা দেন আবদুল হামিদের কাছে।
এর আগে বিকেল চারটায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসেন সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এমপির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল।

তরিকত ফেডারেশন রাষ্ট্রপতির কাছে চার দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে। প্রস্তাবনাগুলো হলো: বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা, অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন যেখানে গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইসিতে যাতে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী বা তাদের পরিবারবর্গের কাউকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া না হয়।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনই সংলাপের আলোচনার মূল লক্ষ্য।
রাষ্ট্রপতি হামিদ আশা প্রকাশ করেন পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি দক্ষ, শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে। তিনি দেশের ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন।
গত ২০ ডিসেম্বর প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে সংলাপে বসেন রাষ্ট্রপতি হামিদ।
এ পর্যন্ত মোট ছয়টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল চারটায় বৈঠক হবে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাথে, ২৯ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ সাথে এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে আলোচনা হবে ২৯ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায়, ২ জানুয়ারি বৈঠক হবে গণফোরামের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর সাথে সন্ধ্যা সাতটায়, আগামী ৩ জানুয়ারি সংলাপ হবে গণতন্ত্রী পার্টির সাথে সন্ধ্যা ৭ টায় এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সন্ধ্যা সাতটায়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সংলাপের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল গ্রেফতার

0

ঝালকাঠিতে অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ডজন মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় লঞ্চ মালিক হামজালাল শেখকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‍্যাব।
সোমবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান।
র‌্যাব বলছে, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর এক আত্মীয়র বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন হামজালাল।
ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠির গাবখানের কাছাকাছি সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ৩টার পর আগুনে পুড়ে যায় অভিযান-১০। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। আহত হয়ে ৮০ জনের বেশি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রাত ৩টার দিকে যখন চলন্ত লঞ্চে আগুনের সূত্রপাত হয়, যাত্রীদের বেশিরভাগই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। না থামিয়ে ওই অবস্থায় চালিয়ে নেয়া হয় অনেকটা পথ। এক পর্যায়ে নদীর মধ্যে পুরো লঞ্চ দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।
ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন শনিবার ঝালকাঠি সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন।
এরপর বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম নাসির রোববার ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন বরগুনার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে। সেখানে লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখকেও আসামি করা হয়েছে।
আর সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শফিকুর রহমান বাদী হয়ে রোববার তৃতীয় মামলাটি দায়ের করেন মতিঝিলের নৌ আদালতে। সেখানে লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানা এলাকা অতিক্রম করার পর ইঞ্জিন রুম থেকে আগুযনের সূত্রপাত হয়। পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুরো নৌযানটি আগুনে পুড়ে যায়। সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রও ছিল না। পর্যপ্ত বালির ব্রাক্স ও বালতি ছিল না। ইঞ্জিন রুমের বাইরে অননুমোদিত অনেকগুলো ডিজেল বোঝাই ড্রাম এবং রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা ছিল, যা নিয়মের পরিপন্থি।
অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল আইনের ৫৬, ৬৬, ৬৯ ও ৭০ ধারায় করা এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। 
অগ্নিকাণ্ডের পর হামজালাল শেখ দাবি করেছিলেন, তার লঞ্চের ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা ছিল না, অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রও ছিল। তবে ইঞ্জিন রুমের পাশে ব্যারেলে ভর্তি ছয় হাজার লিটার তেল থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ সদরের আবুল ওহাব আলী শেখের ছেলে হামজালাল শেখ (৫২) থাকেন ঢাকার ওয়ারীতে। গত শতকের ৯০ এর দশকের শুরু থেকে তিনি লঞ্চ ব্যবসায় জড়িত।
অভিযান-৩, ৫ ও ১০ লঞ্চে মালিকানা রয়েছে হামজালালের। এছাড়া পুরান ঢাকার ইসলামপুরে পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসা এবং কয়েকটি দোকান রয়েছে।
২০০৪ সালের দিকে খেয়াঘাট নিয়ে বিরোধের জের ধরে কেরানীগঞ্জের তেলঘাট এলাকায় অভিযান-৩ ও রিয়াজ-৪ নামে দুটি লঞ্চে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
হামজালাল বিভিন্ন সময়ে লঞ্চ মালিক সমিতির পরিচালক ও নির্বাহী সদস্যের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং মালিকদের নিয়ে গঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য তিনি।  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্রে

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের আবেদনের বিষয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এই আইনি মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
তবে কী মতামত দিয়েছেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি আইনমন্ত্রী। এটি যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যায় পর্যন্ত যাবে, তাই এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাননি তিনি।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন,‘সেই মতামত জানানো সমীচীন হবে না। কারণ সেটা গোপন বিষয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত যাবে। তারপর বলা সম্ভব হবে।’

ইসি গঠন: আরও ৪ রাজনৈতিক দলকে সংলাপে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ

0

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে সংলাপে বসতে আরও ৪টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বঙ্গভবনের প্রেস উইং জানায়, গণফোরামকে ২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় বিকল্পধারা বাংলাদেশকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় গণতন্ত্রী পার্টি এবং একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ২০ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত সংসদের প্রধান বিরোধী দল – জাতীয় পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাথে সংলাপ করেছেন।
আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সংলাপে যোগ দিতে ১৩টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
ইসির ওয়েবসাইট অনুযায়ী এখন ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু সংসদে মাত্র নয়টি দলের প্রতিনিধিত্ব আছে।
এদিকে রোববার(২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসার কথা রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।

কক্সবাজারে পর্যটক নারী ধর্ষণ, সাতজনকে আসামী করে মামলা, একজন গ্রেফতার

0

কক্সবাজারে নারী পর্যটককে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের হয়। এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ এবং তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন জনকে আসামি করে এই মামলা করেছেন।
নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন আশিকুল ইসলাম আশিক, ইসরাফিল হুদা জয়, রিয়াজ উদ্দিন ছোটন ও বাবু।
এদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল আবাসিক হোটেল জিয়া গেস্ট ইন-এর ম্যানেজার।
মামলার অন্য আসামি কক্সবাজার শহরসহ জেলার অন্যান্য স্থানের বাসিন্দা। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলেও র‌্যাব জানিয়েছে।
ঢাকার যাত্রবাড়ী থেকে স্বামী ও আট মাসের সন্তনসহ ২৫ বছর বয়সী এই নারী বুধবার কক্সবাজার এসেছিলেন।
মামলাটি তদন্তের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বুধবার বিকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে এক মার্কেটে ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে সন্ধ্যার দিকে পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার শিশু সন্তান ও স্বামীকে অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক।
আর তিন যুবক আরেকটি অটোরিকশায় করে ওই নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গলফ মাঠের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ওই নারী বলছেন, ওই তিন যুবক তাকে পরে নিয়ে যায় জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে। তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে আরেক দফা ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে ‘হত্যা করা হবে’ বলে হুমকি দিয়ে বাইরে থেকে রুম আটকে চলে যায় ওই তিন যুবক।
মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতারের তথ্য নানা মাধ্যমে শোনা গেলেও এখনও থানায় হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানান পুলিশ সুপার।
র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে আবাসিক হোটেল কক্ষ থেকে উদ্ধার করে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয়।
“ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে হোটেলটির ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
আবাসিক হোটেলটির সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে তিন জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আইনী বাধায় মানবাধিকার কমিশন অনেক কিছু করতে পারছে না,জানালেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান

0

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। তিনি বলেছেন, আইনের কারণে কমিশন সরাসরি কিছু করতে পারছে না। আইন সংশোধন হলে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করতে পারবেন এবং কমিশনও শক্তিশালী হবে।
বৃহস্পতিবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) উদ্যোগে অনলাইনে আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও মানবাধিকারকর্মীদের সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নাছিমা বেগম বলেন, ‘কমিশন কখনোই চায় না মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটুক। কমিশন কখনো বলেনি যে সে হাত–পা বাঁধা। যতটুকু আইনি সক্ষমতা আছে, ততটুকু নিয়ে সাধ্যমতো কাজ করছে কমিশন।’
তিনি বলেন, কমিশনের আইনে বড় দুর্বল জায়গা রয়েছে। আইনে কমিশন সরকারি অন্য যেকোনো সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারলেও কিন্তু ১৮(২) ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটলে সে ক্ষেত্রে কমিশন শুধু প্রতিবেদন চাইতে পারবে। নিজেদের তদন্ত করার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে নাছিমা বেগম বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা একটা জিনিসই মনে করেন, গুম–খুনের বাইরে কমিশনের আর কোনো কাজ নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কমিশন কাজ করতে পারে। কিন্তু সবার চোখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়গুলো এবং যেখানে কমিশনের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা সেই সংশোধন চাইছি।’
তিনি আরও বলেন, কমিশন নানা কিছু নিয়ে কাজ করে কিন্তু সেগুলো নিয়ে সেভাবে কেউ চিন্তা করে না। কমিশনের ভালো কাজগুলোর প্রচার হয় না।
আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফজলুল কবির এই বছরে দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১০টি পত্রিকা থেকে জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা এ প্রতিবেদন করেছেন। সেখানে বলা হয়, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৬৭ জন ও কারা হেফাজতে ৭৮ জন মারা যান, গুমের শিকার ৬ জন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হত্যা ১৪ জনকে, গণপিটুনিতে ২৮ জনের মৃত্যু, ১৯৮ জন সাংবাদিককে হয়রানি, রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩০ জন নিহত, ১৪৪ ধারা জারি হয় ১৮ বার, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতায় আহত ৩০১ জন, শিশু নির্যাতন ১ হাজার ৩৪৮ জন ও নিহত ৫৪৭ জন শিশু, পারিবারিক সহিংসতা ২১৩ জন নারীর মৃত্যু এবং ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২৪৭ জন, অ্যাসিড–সন্ত্রাসের ঘটনা ২২টি, গৃহকর্মীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ৪১টি।
আসকের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল বলেন, মানবাধিকার কমিশনের কাছে কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনেক বেশি। কমিশন তার কাজের বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শেয়ার করলে ভালো হয়। কমিশনের প্রতিবেদনগুলো শেয়ার করলেও সবাই তা জানতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন অনেক কিছু করে। কিন্তু রচনা প্রতিযোগিতা, সচেতনতা তৈরি করা এগুলো সহজ কাজ। এগুলো অন্যান্য সংস্থা যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে, তারা করে দিতে পারবে। এগুলো অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে কমিশন যদি একা না পারে, সবাই মিলে একসঙ্গে যাবে এবং সোচ্চার হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, সিঙ্গাপুরের আদালতে বাংলাদেশি অভিযুক্ত

0

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে সিঙ্গাপুরের আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে আহমেদ ফয়সাল নামে এক বাংলাদেশিকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সিরিয়াভিত্তিক হায়াত তাহরির আল-শাম নামে জঙ্গি সংগঠনকে ৮৯১ ডলার অর্থায়ন করেছেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ফয়সাল উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি সিরিয়ায় ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জিহাদি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি ফয়সাল হায়াত তাহরির আল-শাম নামে জিহাদি সংগঠনের প্রতি অনুগত হয়ে ওঠেন। তারাও সিরিয়ায় ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গত বছর ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (আইএসএ) অধীনে গ্রেফতার করে সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি সিঙ্গাপুরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে তিনি সিঙ্গাপুরে কাজ শুরু করেন।
স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়নের জন্য ফয়সাল জাস্টগিভিং, হিরোয়িক হার্টস অর্গানাইজেশন এবং গিভ ব্রাইট নামের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তিনি জানতেন, এই অর্থ সিরিয়ার জিহাদি সংগঠনগুলোর স্বার্থে ব্যয় করা হবে। এখন এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদে কোনোভাবে অর্থায়ন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার জরিমানা করা হতে পারে।