চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির কর্তৃপক্ষ গণহত্যা সংঘটিত করেছে- এমন রুল দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি অনানুষ্ঠানিক স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার এই রুল জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের প্যানেলটি আইনজীবী ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে গঠিত। ওই ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার জিওফ্রে নাইস। তিনিই ট্রাইব্যুনালের রুল পড়ে শোনান।
ট্রাইব্যুনালের রুলে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রাথমিক কারণ হিসেবে উইঘুরদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত জন্মনিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ্যাকরণ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জিওফ্রে নাইস বলেন, উইঘুর ও অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দীর্ঘ মেয়াদে কমানোর জন্য চীন একটি ইচ্ছাকৃত, পদ্ধতিগত ও সমন্বিত নীতির প্রয়োগ করেছে বলে তার প্যানেলের কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জিওফ্রে নাইস বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্যানেল বিশ্বাস করে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিনজিয়াং অঞ্চলে মুসলিম সংখ্যালঘুদের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রাথমিকভাবে দায়ভার বহন করেন।
জিওফ্রে নাইস আরও জানান, জিনজিয়াংয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। কিন্তু সেখানে জন্মরোধের যে কথিত রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা, তা গণহত্যার শামিল।
ট্রাইব্যুনালের প্যানেল বলছে, তারা উইঘুর জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা সংগঠনের প্রমাণ পেয়েছেন। তবে ট্রাইব্যুনালের এ রুলের কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।
এই ট্রাইব্যুনালের রুলিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় চীনের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, এটি একটি মেকি ট্রাইব্যুনাল। এ ট্রাইব্যুনাল জনগণকে প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু চীনবিরোধী গোষ্ঠীর ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। প্রথম থেকেই চীন সরকার জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালের রুলিংয়ের পর বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক নেতা ও চীনবিষয়ক ইন্টার-পার্লামেন্টারি অ্যালায়েন্সের কো-চেয়ার স্যার ইয়ান ডানকান স্মিথ। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের চীনকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করার সময় এসেছে।
চীনে উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে : যুক্তরাজ্যের স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল
হারুণের ৫ বছরের কারাদণ্ড হাইকোর্টে বহাল,তবে জেলে যেতে হবে না: সংসদ সদস্য পদ থাকা নিয়ে বিভ্রান্তি
পাঁচ বছর কারাদণ্ড বহাল থাকায় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুণ অর রশিদ সংসদ সদস্য পদ হারাচ্ছেন কী না তা স্পষ্ট নয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদে থাকার যেসব অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে সেটা মি. হারুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে কোন আদালতের রায়ের পর তা কার্যকর হবে তা অস্পষ্ট। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি সদস্যপদ হারাবেন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে সংসদ সদস্যপদে নির্বাচন করতে পারবেন না।‘
মি. হারুণ যেহেতু পাঁচবছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি অযোগ্য হয়ে গিয়েছেন। তবে সেটা কি বিচারিক আদালতের রায়, হাইকোর্টের রায় না আপিল বিভাগের চূড়ান্ত নিস্পত্তির পর কার্যকর হবে তা সুস্পষ্ট করে সংবিধানে বলা হয়নি। যদি বিচারিক আদালতের রায় গ্রহণ করা হতো তা হলে ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে সেটা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কারণ ওই দিন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মি. হারুণকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে এমপি হারুণ হাইকোর্টে আপিল করায় তার সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মি. হারুণের আপিলের রায় হাইকোর্ট ঘোষণা করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন এমপি হারুণের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ফলে এবারও যুক্তি থাকবে আপিল বিভাগে আপিল নিস্পত্তি না হলে সংবিধানের বিধান কার্যকর হবে না। যদিও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান মনে করেন সংবিধান অনুযায়ি মি .হারুণ সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
উল্লেখ্য শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে তাকে নতুন করে আর জেলে যেতে হবে না। তিনি যে ১৬ মাস হাজতবাস করেছেন সেই সময়কালটাই সাজা হিসেবে গণ্য হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ এমপি হারুনের আপিল আবেদনটি খারিজ করে আদেশ দেন। এ মামলায় তিন আসামির কারাভোগের সময়কালকে (১৬ মাস) সাজা হিসেবে গণ্য করে তাদের আপিল খারিজ করেন হাইকোর্ট। ফলে সাজা বহাল থাকলেও এমপি হারুনকে নতুন করে কারাভোগ করতে হবে না।
এদিন আদালতে এমপি হারুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন সৈয়দ মিজানুর রহমান ও এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো.খুরশীদ আলম খান।
২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় এমপি হারুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ওই রায়ে তাকে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।
বিচারিক আদালতের ওই রায়ে এমপি হারুন ছাড়াও চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসামি এনায়েতুর রহমান বাপ্পীকে (এমডি, চ্যানেল ৯) ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আসামি ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল।
বিচারিক আদালতের দেওয়া পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর হাইকোর্টে আপিল করেন বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ। পরে উচ্চ আদালত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং আসামিদের জামিন আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, হারুন চার দলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৫ সালে ব্রিটেন থেকে একটি হ্যামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্তভাবে ক্রয় করে। গাড়িটি তিনি পরে আরেক আসামি ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন।
নিয়ম অনুযায়ী শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়, কিন্তু আসামি হারুন শুল্ক না দিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেন। এ অভিযোগে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক ইউনুছ আলী এমপি হারুনসহ তিনজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। ওই বছরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। হারুন অর রশীদ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন।
বলাৎকারের চেষ্টা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমামকে গণপিটুনি
এক কিশোরকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বন ও পরিবেশ বিদ্যা ইনস্টিটিউট (ফরেস্ট্রি) মসজিদের ইমাম শহিদুল ইসলামকে গণপিটুনি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
গত বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলের ইমামের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে।
জানা যায়, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ক্যান্টিন থেকে এক কিশোরকে বলৎকারের উদ্দেশে বাগানে ডেকে নিয়ে যায় শহিদুল। কিছুক্ষণ পর কিশোরটি চিৎকার করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র হাতেনাতে শহিদুলকে আটক করে। পরে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র শহিদুলকে মারধর করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলৎকারের চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিয়েছে। পরে আমাদের সহকারী প্রক্টররা ও পুলিশ মিলে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আনে। তার গায়ে কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্বের ৪৩তম ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা
মার্কিন অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের ২০২১ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৩ তম স্থানে রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে রাজনীতি, মানবসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণমাধ্যম খাতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসা প্রভাবশালী নারীদের মাঝ থেকে ১০০ জনকে বেছে নিয়ে মঙ্গলবার এই তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ই–কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও সমাজসেবক ও লেখক ম্যাকেঞ্জি স্কট এবং দ্বতীয় স্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ- ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের এই তালিকায় ৪৩তম স্থানে আছেন। এর আগে ২০২০ সালে ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় ৩৯তম স্থানে ছিলেন তিনি।
শেখ হাসিনা সম্পর্কে ফোর্বস লিখেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হয়েছেন তিনি; যা তার মেয়াদেই টানা তৃতীয়বার। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জিতে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
ফোর্বস বলছে, এবারের মেয়াদই নিজের জন্য শেষ হিসেবে মনে করেন শেখ হাসিনা। এই মেয়াদে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
মার্কিন এই সাময়িকী লিখেছে, ‘শেখ হাসিনার চলমান লড়াই বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে। বাংলাদেশি নির্বাচনে ভোটারদের দমনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখ হাসিনা ও তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’
২০০৪ সাল থেকে প্রত্যেক বছর বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে ফোর্বস। এবারের ১৮তম সংস্করণে মার্কিন এই সাময়িকী বিশ্বের ৪০ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ১৯ বিশ্ব নেতা, একজন ইমিউনোলজিস্ট রয়েছেন। এক দশকের বেশি সময় পর এবারই প্রথম নতুন প্রভাবশালী নারী বেছে নিয়েছে ফোর্বস।
ই–কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও সমাজসেবক ও লেখক ম্যাকেঞ্জি স্কট ফোর্বসের শীর্ষ ক্ষমতাধর নারী নির্বাচিত হয়েছেন। ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের পর ২০১৯ সালে আমাজনের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন ম্যাকেঞ্জি স্কট। বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় ধনী নারী তিনি। কিন্তু সেই সম্পদে তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার—এবং অর্থবহ ও বৈপ্লবিক উপায়ে দান করার দৃঢ় সংকল্প তাকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছে।
ফোর্বসের শত প্রভাবশালী নারীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ-এশীয় নারী হিসেবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস। ফোর্বস বলছে, অনেক প্রথমের জন্ম দেওয়া কমলা হ্যারিস ২০১৬ সালে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন। তারও আগে ২০১০ সালে প্রথম আফ্রো-আমেরিকান এবং প্রথম নারী হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ফোর্বসের এই তালিকায় গত বছর ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিন লাগার্দ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও এবার ৩ নম্বরে নেমে গেছেন তিনি। গত মে মাসে স্বামী বিল গেটসের সঙ্গে ডিভোর্সের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারীতে পরিণত হওয়া মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ফোর্বসের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন।
মানবাধিকার ও নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছেন তিনি। বিচ্ছেদ হলেও দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেলিন্ডা গেটসের সম্পদের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ফোর্বসের ক্ষমতাধর নারীদের এই তালিকায় ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আছেন ৩৭তম স্থানে। গত বছর এই তালিকায় ৪১তম স্থানে ছিলেন ২০১৯ সালে ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সীতা। তিনিই ভারতের প্রথম পূর্ণ নারী অর্থমন্ত্রী। খবর বিবিসি/রয়টার্স।
বাংলাদেশ-ভারতের অমিমাংসিত বিষয় যৌথ প্রচেষ্টায় সমাধান হবে,বললেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম
বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের অমিমাংসিত বিষয়গুলো অচিরেই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বুধবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, খুলনায় বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশন, খুলনার ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিববর্ষ , মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশতজন্মবর্ষ ও ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে দুই দেশের সরকারের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম নিয়ে এ প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের কিছু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। অভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আদর্শের ক্ষেত্রে দুদেশের অনেক ভালো অবস্থান রয়েছে। আমাদের এক কোটি জনগণকে আশ্রয় দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জনগণ অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয় আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন রক্ষার্থে ভারতের তৎকালীন সরকার প্রধান ইন্দিরা গান্ধী বিশ্ব পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যতদিন থাকবে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব কোনভাবেই বিনষ্ট হবে না।
মন্ত্রী আরো বলেন, বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আমি দুদেশের কিছু অমিমাংসিত বিষয় উল্লেখ করতে চাই। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ দুদেশের মধ্যে অন্যান্য অমিমাংসিত বিষয় আমরা অবশ্যই সমাধান করতে পারবো। ইতিমধ্যে আমরা দুদেশের স্থলসীমান্ত সমস্যা, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত সমস্যা সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে পেরেছি।
বাংলাদেশের উন্নয়নসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ভারতের চমৎকার ভূমিকার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা পরস্পরের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করবো। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসহ অভিন্ন সীমান্ত, অভিন্ন পানি আমরা সম্মিলিতভাবে ব্যবহার করছি। এই ধারা অব্যাহত রেখে ভারত ও বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে হবে। শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয় বরং সমগ্র বিশ্বে যৌথভাবে নেতৃত্বের আসনে উভয় দেশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে”।
পরে মন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমি খুলনায় বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী.সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এমন জগলুল হায়দার, খুলনায় নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার রাজেশ কুমার রাইনা, জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, খুলনা বিএল কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আতিকুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনায় আবাসিক হোটেলে ঢুকে মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ, এসআই গ্রেফতার
খুলনায় আবাসিক হোটেলে ঢুকে মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের এক এসআইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার সকালে ধর্ষণের শিকার এই নারী মামলা করার পর বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা শাখার ওই এসআইয়ের নাম জাহাঙ্গীর আলম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা থেকে ১১ বছর বয়সী মেয়ে ও এক ভাগ্নেকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় আসেন ওই নারী। ডাক্তারের সিরিয়াল না পাওয়ায় রাতে থাকার জন্য সুন্দরবন আবাসিক হোটেলে ওঠেন মেয়ে ও ভাগ্নেকে নিয়ে। মা-মেয়ে এক রুমে ছিলেন, ভাগ্নে ছিলেন আরেক রুমে। রাত সোয়া ২ টার দিকে হোটেল বয়কে নিয়ে পুলিশ পরিচয়ে তার রুমে ঢোকেন এসআই জাহাঙ্গীর। এ সময় তিনি জানতে চান নারীর সঙ্গে থাকা মেয়েটি কার। তিনি নিজের মেয়ে পরিচয় দিলে জাহাঙ্গীর তা বিশ্বাস করতে চাননি। এরপর হুমকি-ধমকি দিয়ে হোটেল বয়কে রুম থেকে তাড়িয়ে ওই নারীকে তার মেয়ের সামনেই ধর্ষণ করেন।
পরে গৃহবধূর ভাগ্নে বিষয়টি হোটেল মালিককে জানালে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার পর আসামি এসআই জাহাঙ্গীর আলমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আল মামুন জানান, হোটেলকক্ষে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আবরার হত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে: আইনমন্ত্রী
বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলার রায়ে প্রকৃত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আবরার হত্যা মামলা রায়ে এটা প্রমাণ হয় যে দেশে আইনের শাসন আছে। বুধবার বিকালে গুলশানে নিজ আবাসিক কার্যালয়ে আবরার হত্যা মামলার রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। আনিসুল হক বলেন, আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে যে, এই মামলায় প্রকৃত ও ন্যায়বিচার করা হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে যে, দেশে আইনের শাসন আছে। এখন কেউ এরকম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বা কোন রকম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে কোন অপরাধী ঘুরে বেড়াতে পারবে না। তারা রাজনীতি করতে পারবে না। বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার ‘অডারসিটি’ দেখাতে পারবে না। তিনি বলেন, এই রায়ের নথিপত্র আগামী সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে চলে যাবে। সেখানে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার ব্যাপারে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। মন্ত্রী বলেন, সমাজে কিছু কিছু হত্যাকাণ্ড আছে যা সমাজকে নাড়া দেয়, সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। এই সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা না হলে সমাজে হতাশা দেখা দেয়। সরকারের দায়িত্ব এই মামলাগুলো তড়িৎ বিচার করে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে সমাজকে আশ্বস্ত করা যে, দেশে আইনের শাসন বিরাজ করছে। তিনি বলেন,এই দায়িত্ব পালনে শেখ হাসিনার সরকার এখন পর্যন্ত সক্ষম হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় যে দরখাস্ত একবার নিষ্পত্তিকৃত হয়ে থাকে, সেই দরখাস্তকে আবার পুনরুজ্জীবিত করার কোন ‘স্কোপ’ নাই। তার এই আইনি ব্যাখ্যাই সঠিক। বিএনপি’র ১৫ জন আইনজীবী তাঁর সাথে দেখা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বিষয়ে এই উপমহাদেশের কোন আদালতের কোন নজির আছে কী না তিনি সেটা খতিয়ে দেখছেন। কিছুদিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। পদত্যাগকারী তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তার কর্মকাণ্ডে আমি গভীরভাবে ক্ষুদ্ধ। শুধু সাংসদ নয়, কোনো বিবেকবান মানুষ এটা করতে পারে ন।
1
বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা: ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৫ জনের
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত; পাঁচজনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
এ মামলায় অভিযুক্ত ২৫ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামিদের সবাই বুয়েটের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের কর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জনের উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন; বাকি তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক। খবর বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
আবরারের বাবা, এ মামলার বাদী বরকত উল্লাহ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, “এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। মাস্টারমাইন্ড ও বড় ভাইদের নাম জাজমেন্টে আসা উচিত ছিল।” বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। ওই শিক্ষায়তনে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি।
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলা বিচারে এসেছিল। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ রেখেছিলেন। কিন্তু আরও কিছু ‘সময় দরকার’ জানিয়ে সেদিন রায় পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ রাখেন বিচারক।
সে অনুযায়ী বুধবার সকালেই কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের অনেককে এজলাসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহও উপস্থিত ছিলেন এজলাস কক্ষে।
জনাকীর্ণ আদালতে ২০ আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করে বিচারক বলেন, “মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ প্রদান করা হল।”
বাকি পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। ওই অর্থ দিতে না পারলে তাদের আরও এক বছর সাজা ভোগ করতে হবে।
রায়ে আদালত বলেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের সবার সংশ্লিষ্টতা মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে ‘সন্দেহাতীতভাবে’ প্রমাণিত হয়েছে।
“আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একে অপরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদ রাব্বির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেছে… যা বাংলাদেশের সকল মানুষকে ব্যথিত করেছে।
বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর কখনো না ঘটে তা রোধকল্পে এ ট্রাইবুনালে সকল আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামি:
বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।
যাবজ্জীবন দণ্ডিত ৫ আসামি:
বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।
পলাতক ৩ জন:
এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)।
মামলা বৃত্তান্ত:
আবরারকে যে রাতে হত্যা করা হয়, তার পরদিন ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ওইবছর ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫ জনকে।
অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ স্থানান্তর করে আদেশ জারি হয়। বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
গত বছরের ৫ অক্টোবর এ মামলার বাদী ও আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। কারাগারে থাকা ২২ আসামি গত ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তিন আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।
এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও দেন। এ মামলার চার্জ গঠনের সময় শব্দগত ত্রুটি থাকায় ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ তা সংশোধনের আবেদন করে। পরদিন ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করে আদালত।
আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর দুইপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
সন্দেহ থেকে পিটিয়ে হত্যা
আবরার ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।
মামলার আসামিদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে আটজন আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আবরারকে কীভাবে ক্রিকেট স্টাম্প আর স্কিপিং রোপ দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক পেটানো হয়েছিল, সেই ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে আসে তাদের জবানবন্দিতে।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আবরারকে ওই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মাঝামাঝি জায়গায় তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে যায় কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। ভোরে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবরার ফেইসবুকে তার শেষ পোস্টে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন। বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই যে ফেইসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে ‘শিবির সন্দেহে’ আবরারকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা সংগঠনটির তদন্তে উঠে এলে ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়।
গতবছর ১৩ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে হত্যার ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে তৈরি করা একটি ভিডিও সাংবাদিকদের দেখানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
আবরারকে কেবল শিবির সন্দেহে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল- সেই প্রশ্ন সেদিন পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে করেছিলেন একজন সাংবাদিক।
উত্তরে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘শিবির হিসেবে সন্দেহের’ বিষয়টি ছিল আবরারের ওপর নির্যাতনের ‘একটি কারণ’। আসলে বুয়েট ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত’ হয়ে গিয়েছিল।
“ছোটখাটে বিষয়ে কেউ একটু দ্বিমত পোষণ করলে, কিংবা কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বললে, কিংবা সালাম না দেওয়ার কারণেও এই র্যাগিংয়ের নামে, মানে অন্যদেরকে, নতুন যারা আসবে, তাদের আতঙ্কিত করে রাখার জন্যই তারা এই কাজগুলো করে অভ্যস্ত।”
এসব বিষয় হল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেখার কথা। কিন্তু তদন্তে পুলিশ হল কর্তৃপক্ষের ‘এক ধরনের ব্যর্থতা’ দেখতে পেয়েছে বলে সেদিন জানান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল।
“যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা রাজনৈতিক পরিচয়কে শেল্টার হিসাবে ব্যবহার করেছে। তারা অছাত্রসুলভ আচরণ করেছে।”
মনিরুল সেদিন বলেন, “তদন্তে উঠে এসেছে, রাত ১০টার পরে আবরারকে নির্যাতন করা শুরু হয় এবং রাত ২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর আগে যদি তাকে হাসপাতালে নেওয়া হত তাহলে হয়তো এমন পরিণতি হত না।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দুই বছর পূর্তিতে দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
শেরেবাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে নির্যাতন করা হয়, সেই কক্ষের আবাসিক ছাত্র বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহাকেও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে, যদিও এজাহারে তার নাম ছিল না।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে মনিরুল সেদিন বলেন, “অমিত সাহা এর আগেও একজনকে পিটিয়েছে। আবরারকে মারপিটের সময় সে উপস্থিত না থাকলেও তাকে ডেকে আনাসহ তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এ কারণে তাকে আসামির তালিকায় প্রথম দিকে রাখা হয়েছে।”
আবরারকে কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালানোর আগে দুই দিন শেরে বাংলা হলের ক্যান্টিন এবং ওই হলের অতিথি কক্ষে বৈঠক হয়েছিল বলে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সে সময় বলেছিলেন, ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় ক্যান্টিনের বৈঠকে আটজন ছিলেন। পরদিন রাত ১০টায় অতিথি কক্ষের বৈঠকে আবরারকে মেরে হল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই দুই বৈঠকে মোট ১২ জন ছিলেন। তারা হলেন- মনিরুজ্জামান মনির, ইফতি মোশাররফ সকাল, আকাশ হোসেন, মুজতবা রাফিদ, অমিত সাহা, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, সামছুল আরেফিন রাফাত, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মন্ডল জিসান, মুনতাসির আল জেমি, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম এবং এ এস এম নাজমুস সাদাত।
ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকলেও মেহেদী হাসান রাসেল এবং মুনতাসির ফুয়াদ বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাসেল শেরে বাংলা হলের দোতলায় নামিয়ে রাখা আবরারের মৃতদেহ তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলার জন্য বুয়েটের চিকিৎসককে চাপ দিয়েছিলেন।
আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার পর আন্দোলনে নেমে ১০ দফা দাবি তোলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও সমর্থন প্রকাশ করেন।
তাদের দাবির মুখে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরার হত্যার আসামিদের সাময়িক বহিষ্কার এবং হলগুলোতে নির্যাতন বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আলালের কটূক্তি অপসারণ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অপসারণ করতে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার মৌখিকভাবে এ আদেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আলালের কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। পরে সৈয়দ সায়েদুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিষয়টি আদালতে উল্লেখ করে এই ভিডিও অপসারণের জন্য আরজি জানিয়েছি। কেননা, এই ভিডিওটি সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে আদালত আলালের ওই ভিডিও অপসারণে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে বলেছেন।’
মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য করায় মেয়র বরখাস্ত
মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য করায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. আমিনুল ইসলাম রাবেলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সোমবার উপ সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। মেয়র রাবেল সম্প্রতি লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, কমিশন দেয়া ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ফান্ড আনা যায় না। তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয় মন্ত্রণালয়।
তার বিরুদ্ধে ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের বিরুদ্ধে জনহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ আনে মন্ত্রণালয়।
জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ধরনের জনহানিকর বক্তব্য স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী মেয়র পদ থেকে অপসারণযোগ্য অপরাধ।
এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে এবং তা দ্রুত কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
গোলাপগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা আমিনুল ইসলাম রাবেল যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশে এসে গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছিলেন তিনি।
দলের মনোনয়ন না পেয়েও পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন তিনি। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
লন্ডনে ওই আলোচনা অনুষ্ঠান আমিনুল ইসলাম রাবেল বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেছিলেন, “কোনো প্রকল্পের বরাদ্দ আনতে হলে আগেই ঘুষ দিতে হয়। দেশে এখন প্রচুর পরিমাণ দুর্নীতি চলে।
“আমরা জনপ্রতিনিধিরা ফান্ডিং আনি। মন্ত্রণালয়ে যাই, সচিবদের সঙ্গে মিটিং করি, এলজিআরডি মিনিস্টারের সঙ্গে মিটিং করি। তাদের কাছ থেকেই আমাদের ফান্ড আনতে হয়। ওখানে বিরাট একটা পার্সেন্টেজ দিয়ে ফান্ড আনা লাগে। আপনি ১০০ কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে আসলেন। সেখানে ৫ পার্সেন্ট আগেই দিয়ে আসতে হয়।”
এদিকে বিডি নিউজ জানিয়েছে আমিনুল ইসলাম রাবেল বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় সাময়িক বরখাস্তের আদেশের বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।











