ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 59

নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা: দেলোয়ারসহ ১৩ আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

0

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার ১৩ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা জজ) জয়নাল আবদিন এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিন সকাল ১১টার দিকে পুলিশ আসামিদের আদালত নিয়ে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে ঘরে ঢুকে ওই নারীর স্বামীকে অন্য কক্ষে বেঁধে রেখে আসামিরা তাকে নির্যাতন করেন। তারা নির্যাতন করার ভিডিওচিত্রও ধারণ করেন। এরপর ১ মাস ধরে গৃহবধূকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন—অনৈতিক প্রস্তাবের রাজি না হলে ভিডিওচিত্রটি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন। ৩২ দিন পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪ অক্টোবর নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। ওই রাতেই গৃহবধূ বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় দেলোয়ার বাহিনীর ৯ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুসহ ১৪ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। তাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ৮ জন এবং এজাহারের বাইরের আসামি ৬ জন। গত ২৪ মার্চ মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
আসামিদের মধ্যে নুর হোসেন বাদল, আবদুর রহিম, আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন মিয়া, মাঈন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন সুমন কনট্রাকটর, নুর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও দেলোয়ার হোসেন দেলুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আবদুর রব চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, জামাল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান পলাতক আছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কাজ চলে।
এই মামলায় বাদীসহ ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ারের ৫ বছর কারাদণ্ড

0

চাকরি দেয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নেয়ার মামলায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশানসিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বখতিয়ারের ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে কারাদণ্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এ সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করেছেন আদালত। এদিকে, রায়ে মামলার অপর আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
২০১৬ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-সহপরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন দুদকের একই কর্মকর্তা।
মামলায় বলা হয়, আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলমের নিকট হতে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে চাকরি প্রদানের আশ্বাস দিয়ে ২০১৩ সালের ১৬ সেপেটম্বর ৫ লাখ এবং পরবর্তী সময়ে ২ লাখ টাকা মোট ৭ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু পরে তিনি চাকরি দিতে পারেন নি এবং টাকাও ফেরত দেননি।

আমরা তোমাদের ভুলবো না

0

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বিনয় এবং শ্রদ্ধায় জাতি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করবে। একই সাথে এবারও জাতির প্রত্যাশা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা হত্যা করেছে তাদের মধ্যে যারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে আছে অথবা পলাতক আছে তাদের বিচারের রায় কার্যকর করে দেশকে কলংকমুক্ত করা হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দিনব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ইত্যাদি। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আল-বদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দু’টি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিনসহ আরো অনেকে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, একাত্তরে ত্রিশ লাখ শহীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।
তারা স্পষ্ট দেখে- চরম বিপর্যয় আসন্ন, পরাজয় একেবারেই সন্নিকটে- তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল।
যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২১ পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৭ টা ৫ মিনিটে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহিদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবকবক অর্পণ করবেন। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে থেকে সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ৯ টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।
একাত্তরে ত্রিশ লাখ শহীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সহধর্মিনী বাসন্তী গুহঠাকুরতা তার একটি গ্রন্থে লিখেছেন, ‘নীল নকশার রেখা অংকন শুরু হয়েছিল একাত্তরের পয়লা মার্চের আগেই সত্তরের ১৭ ডিসেম্বর গণভোট বা তারো অনেক আগে উনসত্তরের গণ আন্দোলনের সময় থেকেই , কিংবা বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পরে। একাত্তরে তারা প্ল্যান করে যুদ্ধে নামে। যুদ্ধতো নয় , কেবল নিরস্ত্র মানুষ নিধন। প্রথমে ওদের এলোপাতাড়ি মারা , তারপর শহরে , গ্রামে গঞ্জে বেছে বেছে ধনী , ব্যাবসায়ী , বুদ্ধিজীবি নিধণ করে নদীতে খালে ফেলে দেয়া।
অনেকে মনে করেন, চরম বিপর্যয় আসন্ন, পরাজয় একেবারেই সন্নিকটে- তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল। ’
একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে।এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় দণ্ডিত জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। জামাতের অপর নেতা মো. কামারুজ্জামান এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে ।
২০১৬ সালের ১১ মে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের নীলনকশা বাস্তবায়নকারী গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দন্ড কার্যকর হয়। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যায় সরাসরি জড়িত চৌধুরী মইনুউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক থাকায় তাদের বিচার এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি । চৌধুরী মইনুদ্দীন যুক্তরাজ্য এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছে। তাদেরকে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মুরাদের সংসদ সদস্য পদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্পিকারের : হাইকোর্ট

0

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত স্পিকারের বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। তার সংসদ সদস্য থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট পিটিশনের বিষয়ে কোনো আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাইকোর্ট এ কথা জানান।
সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ বলেন, সংক্ষুব্ধ যে কোনো ব্যক্তি মুরাদ হাসানের সদস্যপদ চ্যালেঞ্জ করে সংসদের স্পিকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। রিট আবেদনটি এই পর্যায়ে অপরিপক্ক। বেঞ্চ আবেদনটি ‘স্ট্যান্ড ওভার’ (শুনানির জন্য অপেক্ষমান) রাখেন।
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার একদিন পর গত ৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে আবেদনটি জমা দেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ অশ্লীল মন্তব্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ লঙ্ঘন করেছেন বলে আবেদনে বলা হয়।

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দুই মন জিলাপি বিতরণ

0

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এলাকায় দুই মন জিলাপি বিতরণ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ভবানীপুর বাসুদেবপুর গ্রামে স্থানীয় শাহ্‌ আলম কাজীর উপস্থিতিতে এ তালাক সম্পন্ন হয়। গোলাম মোস্তফা বাসুদেবপুর গ্রামের ডা. নজির হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, ১২ বছর আগে বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের বিউটি বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় গোলাম মোস্তফার। বিয়ের পর কয়েকবছর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এক সময় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। পরে তা ব্যাপক দাম্পত্য কলহে রূপ নেয়।
স্থানীয়ভাবে অনেকবার সালিশ করা হলেও তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। অবশেষে দু’জনের সম্মতিতেই রোববার রাতে তাদের মধ্যে তালাক সম্পন্ন হয়। এ ব্যাপারে গোলাম মোস্তফা জানান, আমার স্ত্রী কিছুদিন থেকে আমার একেবারেই অবাধ্য ছিল। জীবনটা অতিষ্ঠ করেছিল। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমাদের তালাক হয়েছে। আমি মুক্ত হয়েছি। তাই আজকে খুশি হয়ে গ্রামে দুই মন জিলাপি বিতরণ করেছি। গ্রামের সকল লোককে খাওয়াতে আরও জিলাপির দরকার হলে তাও বিতরণ করবো। সূত্র -মানবজমিন।

মানুষ বিচারের জন্য হাহাকার করছে, মামলা জট না কমালে রাস্তায় নামবে, বিচারকদের প্রতি আইনমন্ত্রী

0

আদালতে মামলাজট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন , মানুষ বিচারের জন্য হাহাকার করছে। যখন তারা আদালতে বিচার পাবেন না, তখন কিন্তু বিচারের জন্য রাস্তায় নামবেন। আমরা কেউই এমন অবস্থা চাই না।
রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজদের ২৬তম জুডিসিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, তাদের একটা কর্তব্য থাকে, সেটা হচ্ছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং যাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়, তাদের আত্মপক্ষ বক্তব্য শোনার। মন্ত্রী বলেন, এটা দুঃখজনক যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়েই এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আমি এটাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, যে সব দোষে র‌্যাব বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দোষী করা হয়েছে তা ঠিক নয় এবং এটা কল্পনাপ্রসূত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট কর্তৃক বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশে কোন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়নি। ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামী যুক্তরাজ্যে পালিয়ে আছে, তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত দুদিন আগে তাঁর সাথে বৃটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ হয়। সেখানে তিনি ওই দুজনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবী জানালে বৃটিশ হাইকমিশনার তাদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক দাবী করতে বলেছেন। আইনমন্ত্রী জানান, ওই দুজনকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক দাবী জানানো হবে। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন, দেখবেন। বিচারকদের মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে দুপুরে একঘন্টা বিরতি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়কে যথাযথ কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।

বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগগুলোই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল প্রেরণা : আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল বিপ্লবে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর গৃহীত ও বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল প্রেরণা। রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে আয়োজিত “ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্জন, উপকৃত সকল জনগণ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলার। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে এ স্বপ্নের বাস্তবায়নে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, সমুদ্রসহ প্রায় সকল খাতে নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করেন । তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতটি ছিল তম্মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিপ্লবে শামিল হওয়ার দূরদর্শী চিন্তা থেকে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আইটিইউ’র সদস্যপদ লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় তিনি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার বিগত ১২ বছরে দেশে একটি শক্তিশালী আইসিটির ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা গ্রাম এলাকা পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। দেশের ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায়। সারাদেশে ৫ হাজার ২শ’ ৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং ৬শ’রও বেশি সেবা ডিজিটালাইজ করা হয়েছে । ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হতে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত নাগরিকদের ১০৬ ধরনের সরকারি ও বেসরকারি ই-সেবা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ এখন মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায়। মোবাইল ফোন গ্রাহকসংখ্যা ১৮ কোটি ১৩ লাখ ০২ হাজারে উন্নীত হয় একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৯১ লাখ ৮ হাজার- এই তথ্য তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগে শুরু হয়েছে অনলাইনে বিচার কার্যক্রম। ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম (MyCourt) প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ২২৫টি আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে বিচারিক কার্যক্রমে ই-গর্ভনেন্সের সুফল ইতিমধ্যে জাতি পেতে শুরু করেছে। যা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কম্পিউটারাইজড প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং গতিশীল হবে। সবগুলো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে নিয়মিত আদালতের পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতেও বাদী-বিবাদীর সম্মতিতে বিচার কাজ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, কনফিগ ভিআর এন্ড কনফিগ আরবট এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রুদমিলা নওশীন, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা বক্তৃতা করেন।

বেনজির ও র‍্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যা জানা গেলো

0

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ছয়জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাবেন না। এরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য অযোগ্য বলেও বিবেচিত হবেন। একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত বেনজির আহমেদ ও র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ র‍্যাবের আরও চারজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিদেশে সম্পদ থাকলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
শুক্রবার মার্কিন অর্থ দপ্তরের ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস (ওএফএসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে- যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হঠাৎ করে বাংলাদেশের পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধান ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ছয় কর্মকর্তার ওপর এমন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী
ঢাকায় র‍্যাব সদর দপ্তরে ১১টি উইংয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে র‍্যাব এবং দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ১৫টি ব্যাটালিয়ান আছে সশস্ত্র বাহিনৗ ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে। এর আগে গুম খুনের মতো ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তখনকার সেনা কর্মকর্তাকেও আটকের উদাহরণ আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলছেন দীর্ঘদিন যাবৎ র‍্যাবের বিরুদ্ধে এমন ধরণের অভিযোগের কথা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছিলেন।
তার চেয়ে বড় কথা হলো গত বছর অক্টোবর মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে সিনেটের আটজন সদস্য চিঠি দিয়ে র‍্যাবের বিরুদ্ধে কিছু সুস্পষ্ট অভিযোগ করেছিলেন। তারই ভিত্তিতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে আমরা ধরে নিতে পারি।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে একত্রে কাজ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বলা হচ্ছে অর্থ বা ট্রেজারি বিভাগের বক্তব্য থেকে।
এ নিষেধাজ্ঞার ফল কেমন হবে
বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে র‍্যাব নামে এলিট ফোর্সটি যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে। শুরু থেকেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর কাজের ধরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে আসছে। কিন্তু এতদিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন গুম খুন নিয়ে নানা ধরণের বিবৃতি দিলেও সুনির্দিষ্টভাবে এই প্রথম কোনো ব্যবস্থা নিল। সে কারণেই এর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।
বিশ্লেষক আলী রীয়াজ বলছেন, এর একটা হলো প্রশাসনিক। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব যেসব সহায়তা পাচ্ছিল বা বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিল বা বিদেশ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছিল নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো বাতিল হতে পারে।
তার মতে সেটাই স্বাভাবিক, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা এ নিষেধাজ্ঞার পর তাদের আর সহযোগিতা করবে না। সাধারণত এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু বার্তা দেওয়া হয়। সেটা হলো প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা।
তাদের যদি সম্পদ থাকে যুক্তরাষ্ট্রে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বেনজির আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না। সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে, বলছিলেন রীয়াজ।
তবে তিনি মনে করেন যে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কূটনৈতিক চাপ। নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন বাংলাদেশ সরকারের ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ তৈরি হল।
এখন কেন এমন পদক্ষেপ
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুম-খুনসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরছিলো র‍্যাবের বিরুদ্ধে। কক্সবাজারে কাউন্সিলর একরাম হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল আন্তর্জাতিক মহলে।
তারও আগে নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র‍্যাবের ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত যা এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। যদিও বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উত্থান যখন হয়েছিল, তখন শায়খ আব্দুর রহমান এবং বাংলা ভাই নামে পরিচিত সিদ্দিকুল ইসলামসহ মূল জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের বিষয়কে র‍্যাবের সাফল্য হিসেবে দেখা হতো।
কিন্তু র‍্যাব প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরে বিভিন্ন সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের অনেক ঘটনা বাহিনীটিকে বিতর্কে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ বলছে অন্তত ছয়শ মানুষকে গুমের অভিযোগ আছে বাংলাদেশে পুলিশের এ এলিট ফোর্সের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার ট্রেজারি বিভাগে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ- আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, ও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হেয় করার মাধ্যমে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আলী রীয়াজ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাইডেন প্রশাসন বারবার মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলছেন এবং এ মুহূর্তে ওয়াশিংটনে গণতন্ত্র নিয়ে ভার্চুয়াল সম্মেলন হচ্ছে। যেখানে একটা বিষয় মানবাধিকার। আবার যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিলো সেনেট থেকে। সেখানে আটজন সদস্য চাপ দিয়েছিলেন।
ফলে কংগ্রেসের পর থেকে চাপ ছিল ও আছে। আর দ্বিতীয় নতুন প্রশাসন শুরু থেকেই বলার চেষ্টা করেছিলেন যে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার সঙ্গে সঙ্গতি নিয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, অনেক দেশ নিয়েই নেওয়া হচ্ছে। এখনকার কারণ সম্পর্কে রীয়াজ মনে করেন যে নতুন প্রশাসন আসলে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাচ্ছেন যে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বিবিসি বাংলা।

ইভ্যালির প্রতারণা; নজরদারিতে অভিনয়শিল্পী তাহসান-মিথিলা-ফারিয়া

0

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে অভিনয়শিল্পী তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে করা প্রতারণার মামলায় তাদের নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।
মামলার তদন্তের স্বার্থে যে কোনো সময় আসামিদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান।
শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি থানায় ইভ্যালির একজন গ্রাহকের করা মামলায় তারা নজরদারিতে রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।’
উল্লেখ্য, ইভ্যালির শুভেচ্ছাদূত ছিলেন তাহসান। মিথিলা ছিলেন ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইলের শুভেচ্ছাদূত। এছাড়া শবনম ফারিয়া ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা। এই অভিনয়শিল্পীদের চটকদার কথায় সাধারণ মানুষ ই ভ্যালির পণ্য কিনতে উদ্বুদ্ধ হন বলে মামলায় বলা হয়েছে।

ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘চটকদার বিজ্ঞাপন ও বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজারো গ্রাহককে পথে বসিয়েছে ইভ্যালি- এমন অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।’
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার শুরু থেকে সংযুক্ত করা হয়েছিল নামি-দামি তারকাদের। অনেকের অভিযোগ জনপ্রিয় এসব তারকাদের দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা। এবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সাদ স্যাম রহমান নামে একজন ভুক্তভোগী। তদন্তের স্বার্থে যে কোনো সময় তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ অন্য আসামিরা গ্রেফতার হতে পারে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়া ইভ্যালির বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এবং তাদের বিভিন্ন প্রমোশনাল কথাবার্তার কারণে আস্থা রেখে বিনিয়োগ করেন সাদ স্যাম রহমান। এসব তারকার কারণে মামলার বাদী প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আন্দোলনের মাধ্যমে মানবিকতা হয় না, আইন আইনের গতিতে চলবে, বিএনপির প্রতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

‘আইন আইনের গতিতে চলবে, জিয়াউর রহমানের গতিতে চলবে না, বিএনপির গতিতে চলবে না। আইনের বইয়ে আইন যেভাবে চলে, সেভাবে চলবে।’ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমন প্রসঙ্গে বলেছেন এসব কতঅ বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শুক্রবার সকালে আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে আখাউড়া পৌরশহরের সড়ক বাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সিরাজুল হক পৌর মুক্তমঞ্চে অসহায়, দুস্থ, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মানবিক কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এখন বলছে বিদেশে যেতে দিতে হবে, না হলে আন্দোলন। একটা কথা আছে না, দাঁড়াতে দিলে বসতে চায়, বসতে দিলে শুতে চায় আর শুতে দিলে ঘুমাইতে চায়। বিএনপির হয়েছে সেই অবস্থা। মনে রাখবেন, মানবিকতা আন্দোলনের মাধ্যমে কামাই করা যায় না।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশের অসংবাদিত নেতা,বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে তার পরিবারের ১৭ জনসহ নৃশংভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এ সত্য কথাটা জানার পরও খালেদা জিয়া মিথ্যা জন্মদিন সাজিয়ে কেক কাটে। তারপরও জননেত্রী শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ায় দুটি শর্তে সাজা স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেন। একটি হচ্ছে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না এবং বাসায় থেকে চিকিৎসা করবেন। কিন্তু আমরা বলি নাই তিনি হাসপাতালে যেতে পারবেন না। তিনি তিন বার হাসপাতালে গেছেন। এখন বলছে বিদেশ যেতে দিতে হবে।’
আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শেখ হাসিনার সেবার সরকার বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যৎ পাল্টে দেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে ঘোষণা দিয়েছেন, যার ঘর নাই, তাকে ঘর বানিয়ে দিবেন। যাদের ঘর নাই, তাদের জমিও লাগবে না। খাস জমি লিখে দিয়ে তাদেরকে ঘর বানিয়ে দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এটা করে দেয়া হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ১ লক্ষ ৮৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন যাতে কেউ চাকরিচ্যুত না হয়, কারও কর্মস্থল যাতে বন্ধ না হয়ে যায়। যত দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণকে সেবা দিবেন, ততদিন বাংলাদেশের মানুষের কোনো চিন্তা নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাস পার করেছি, আমরা আবার এদেশের উন্নয়নের চাকা ঘুরাতে শুরু করে দেব। করোনা ভাইরাসের জন্য যে উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল করোনাভাইরাস কমে যাওয়ায় এখন সে কাজগুলি শুরু হবে। করোনাভাইরাস এখনো যায় নাই মন্তব্য করে তিনি সকলকে করোনা ভাইরাসের টিকা নেয়া এবং মাস্ক পরিধান করার পরামর্শ দেন।’
পৌর আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ ভূইয়া বাদল, সাধারণ সম্পাদক কাজী লিটন খাদেম, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন বেগ শাপলু।