ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 7

মেঘনা নদী গিলে খাচ্ছে মেঘনা গ্রুপ,তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

0

 

dav

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
প্রায় দুই বছর ধরে সরেজমিন তদন্ত শেষে ১২ সদস্যের কমিটি একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেঘনা গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান নদীর প্রায় ২৪১ দশমিক ২৭ একর জমি দখল করেছে। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৭৭ একর জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা ও মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৫ দশমিক ৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দখল করা নদীর জমি দ্রুত উদ্ধার করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসন নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবে।
তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের অক্টোবরে কাজ শুরু করে। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তদন্ত কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর আবার তদন্ত শুরু করা হয়। কমিটির সদস্যরা সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার, হোসেনপুর ও পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চর রমজান, সোনাউল্লাহ, পূর্ব দামোদরদী, পশ্চিম দামোদরদী, দুধঘাটা, টেঙ্গরচর, ছয়হিস্যা, নরসুলদী, আষাঢ়িয়ারচর ও ঝাউচর এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়।
কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস, সুগার রিফাইনারি, ফ্রেশ সুগার, কেমিক্যাল কারখানা, ফ্রেশ সিমেন্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। এসব স্থাপনার কয়েকটি নদীর মূল ভূমি, তীরবর্তী এলাকা ও প্লাবনভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা নদীর শাখা মারাখালী নদীর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের তীর থেকে নদীর ভেতরে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দখলের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর, স্থাপনা ও জেটি নির্মাণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নদীর জমি ভরাটের কারণে মেঘনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নদী ও আশপাশের জলাভূমির পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নিম্নাঞ্চলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তদন্ত প্রতিবেদনে ভূমি রেকর্ডের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ভূমি অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ডে মেঘনা গ্রুপের দখলে থাকা অনেক জমিকে নদীর জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আরএস রেকর্ডে কিছু জমি খাস হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার পর তা অন্যের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের নির্ধারিত অংশের অর্থ পরিশোধের বিধান রয়েছে। কিছু জমির ক্ষেত্রে এ বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি।
মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জেটি রয়েছে এবং এসবের জন্য বিআইডব্লিউটিএর অনুমতির বিষয়ও তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে। তবে নদীর জমিতে স্থাপিত দুটি জেটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। নদীর জমি বা প্লাবনভূমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সেখান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে পড়লে তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।
নদীর জমি উদ্ধার ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি ১২টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে দ্রুত নদীর জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয় রয়েছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মেঘনা নদী দখল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে নদীর দখলমুক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন তাঁদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি। তবে এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে সভা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইতিমধ্যে মদিনা গ্রুপের দখলে থাকা নদী ও নদীতীরবর্তী সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলের বিষয়ও তালিকাভুক্ত করে নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

৩১ অবৈধ অ্যাপ চিহ্নিত,লেনদেন না করতে সতর্ক করেছে বিএফআইইউ

0

 

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম থেকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে অ্যাপস বা ঋণদাতা প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিএফআইইউ-এর পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তথ্য, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।
পরবর্তী সময়ে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিএফআইইউ বলেছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।
এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইলের যোগাযোগ তালিকা কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ। ঋণ দেয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১ অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অননুমোদিত এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হলে কিংবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউ-এর কাছে অভিযোগ করা যাবে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় এ ধরনের কার্যক্রম থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।

পর্দা নামলো বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতার

0

 


বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে বিশ্বের ১৪৪ নম্বর র‍্যাঙ্কিং মিশরের জিয়াদ ইব্রাহিম এবং বিশ্বের ১৬৪ নম্বর র‍্যাঙ্কিং শ্রীলঙ্কার রভিন্দ্র লক্ষীশ্রী মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
এর মাধ্যমেই পর্দা নামলো উপমহাদেশেরঅন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুনামেন্ট “বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ২০২৬”-এর।
গত ২৪ আগস্ট শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এই মেগা টুর্নামেন্টেবিশ্বের ১১টি দেশের শীর্ষস্থানীয় পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াররা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল। ২৮ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের চরম উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে চমৎকার পারফর্ম করে জিয়াদ ইব্রাহিম রভিন্দ্র লক্ষীশ্রী কে  ৩-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
মেজর জেনারেল মু হাসান-উজ-জামান, এনডিইউ, এএফডব্লউসি, পিএসসি, এম ফিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইনচীফ প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট প্রমোটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিপি (অবসর প্রাপ্ত) ও নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পরিচালক কর্নেল মহাসিনুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
শুরুতে ” স্কোয়াশ ও শিক্ষা বৃত্তি” প্রদান করা হয়। তারপর এ বছরমাধ্যমিকে কৃতি স্কোয়াশ খেলোয়াড় সন্মাননা এবং ক্ষুদে স্কোয়াশখেলোয়াড়দের ক্রীড়া সামগ্রী দেয়া হয়।


পুরস্কার বিতরনীর মূল পর্বে পুরস্কার ও প্রাইজ মানি দেয়া হয়। প্রথমে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় তরুন প্রতিভা পারভেজকরিম। তারপর যথাক্রমে দ্বিতীয় রানার্সআপ মিশরের মোহাম্মদ গহর (বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ৯৫), প্রথম রানার্সআপ ইরানের সেফেরএতেমাদপুর (বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ৫৬৬), রানার্সআপ রভিন্দ্র লক্ষীশ্রী এবং চ্যাম্পিয়ন জিয়াদ ইব্রাহিমকে পুরস্কৃত করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ক্লাসরুম স্কোয়াশ’, খেলাধুলা ও নেতৃত্বের বিকাশ, ‘স্কোয়াশ ও শিক্ষা বৃত্তি’ ইত্যাদিরমতো বৈপ্লবিক চিন্তা-চেতনা আর ধারাবাহিক কর্মসূচির সুফলআজ দৃশ্যমান। এই আন্তর্জাতিক ইভেন্ট শুধু দেশেরখেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্কিং ও অভিজ্ঞতা বাড়ায়নি, বরং বিশ্ব অঙ্গনেবাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় ‘স্কোয়াশ ডেস্টিনেশন’ হিসেবেসুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
গত পাঁচ বছরে মৃতপ্রায় স্কোয়াশ অনেক উন্নতি করেছে এবং ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে পদক লাভ করা শুরু করেছে। স্কোয়াশ ২০৩২ সালের অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে চায়। তাই আগামীতে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সবার যৌথ প্রয়াসে স্কোয়াশকে আরও সামনে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসরের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

দুর্নীতির মামলায় মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ খালাস

0

 

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি করে  ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় খালাস পেয়েছেন  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন – মইনুদ্দিন সরকারের সময় মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫ টি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রত্যেক মামলায় আসামি করা হয়। অপর আসামিরা হলেন- এস এম জাফর উল্লাহ, এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, শহীদ আলম।
এর বাইরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ১ মামলায়, আহমেদ আকবর সোবহানকে ২ মামলায়, মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ, আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়। তারা প্রত্যেকেই এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন।
২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এসব মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়, পরিত্যক্ত বাড়ি নম্বর এনডব্লিউ (আই)-৬, রোড নম্বর-৫৩, গুলশান, ঢাকার নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাড়ি নম্বর কে-৬, সড়ক নম্বর-৮৯, গুলশান, বাড়ি নম্বর সিএনজি-১৬,সড়ক-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর বি-৫, সড়ক নম্বর-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর-১২০, সড়ক-২, পুরাতন ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-১৩৯, সড়ক নম্বর-২, ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২, ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/বি (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১৪ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/বি, সড়ক নম্বর-১৪ ধানমণ্ডি, ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর ও ১৮ নম্বর কলেজ স্ট্রিট, বাড়ি নম্বর-৭/১, নওরতন কলোনি, শান্তিনগরসহ সর্বমোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি রাজউক কর্তৃক সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের বাড়িগুলো পাইয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে নিজে লাভবান হয়ে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার অর্থের ক্ষতি সাধন করেন।
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা না করে লাভবান ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের লাভবান করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দর বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে রাজউক কর্তৃক সাজানো কম মূল্যের দরপত্রের মাধমে মূল্যায়ন না করে বিক্রির অনুমোদন করেন। আসামি মির্জা আব্বাসসহ অপর আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সূত্র-ঢাকা পোস্ট।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই আমলার বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ

0

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম ও সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। 
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় জাহাংগীর আলম ও ধনঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি হয়। শুনানিতে এ মামলায় আনা অভিযোগ তুলে ধরে প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় আমলে নেওয়ার আর্জি জানানো হয়। পরে তা আমলে নিয়ে ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় জাহাংগীর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তৎকালীন এই দুই কর্মকতার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিসহ জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে হত্যাযজ্ঞে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।সূত্র- ঢাকা পোস্ট।

জমি না কিনে বালু ভরাটের অভিযোগ, জলসিঁড়ি প্রকল্প নিয়ে রূপগঞ্জবাসীর ক্ষোভ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

0

রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, জমি ক্রয় না করেই জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাট, রাস্তা নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে উচ্ছেদের প্রস্তুতি চলছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আহ্বায়ক/সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ। এ সময় আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম ও প্রভাষক নুর সালাম বক্তব্য দেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, তাঁদের আন্দোলন দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। জলসিঁড়ি প্রকল্পের নামে জমি দখল, বালু ভরাট ও স্থানীয় মানুষের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কার প্রতিবাদেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে বালু ভরাটের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমির একটি অংশ দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় জলসিঁড়ি প্রকল্প-১-এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জলসিঁড়ি প্রকল্প-২-এর জন্য কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সীমানা নির্দেশক নকশা তৈরি করা হয়েছে। ওই নকশার ভিত্তিতে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় দুই শতাধিক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনও করেছেন তাঁরা। সহকারী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে রূপগঞ্জ থানায় জমির আরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে বারবার আবেদন করার পরও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জের ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নৌচলাচল, কৃষিজমিতে সেচ এবং মাছ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা দ্রুত খাল থেকে বালু অপসারণ, পুনঃখনন এবং নৌচলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ, বসতবাড়ির বাইরে প্রকল্প স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

অনিশ্চয়তায় গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তির নবায়ন, নতুন দাবি বিহার রাজ্য সরকারের

0


ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। ৩০ বছর মেয়াদি এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ সমাপ্তির দোরগোড়ায় এসে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নতুন সমীকরণ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। ফারাক্কার পানির হিসাব নিয়ে সম্প্রতি ভারতের বিহার রাজ্য সরকারের নতুন দাবি এবং নয়াদিল্লির ইতিবাচক আশ্বাস চুক্তিটি পুনর্নবীকরণের পথকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে বসেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী এবং জেডি(ইউ) সংসদ সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। সেখানে বিহারের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ তোলেন, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার সিংহভাগ পানি বিহারের অববাহিকা থেকে গেলেও গত তিন দশক ধরে সেচ, পানীয় জল ও শিল্পের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত রয়েছে রাজ্যটি।
বৈঠকের পর বিহারের পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সরকার চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের এসব অভিযোগ ও উদ্বেগ বিবেচনা করার স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছে।
ডুবে যাচ্ছে ভারত, এবার ফারাক্কার সব গেইট খুলে দিতে চান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী
গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন বিহারের ক্ষমতাসীন জেডি(ইউ) নেতা সঞ্জয় ঝা। তার দাবি, ১৯৯৬ সালে চুক্তি সইয়ের সময় তৎকালী সরকারের উদাসীনতায় বিহারের স্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে পানি দিতে গিয়ে বিহারের অভ্যন্তরীণ নদীগুলো থেকে অতিরিক্ত পানি টেনে নেওয়া হচ্ছে, যা রাজ্যে খাদ্য ও খাবার পানির সংকট তৈরি করছে। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজের ফলে উজান এলাকায় পলি জমে বন্যা পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি। আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক এই চুক্তির শর্ত ও পানির বণ্টন সূত্র পরিবর্তনের দাবি তুলেছে তারা।
বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন ৫৪টি নদীর মধ্যে একমাত্র গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বিদ্যমান। তিস্তা চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এখন আবার গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বিহার রাজ্য সরকারের এই অনড় অবস্থান ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল। বিহারের দাবির মুখে নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির পরিমাণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঢাকার নীতিনির্ধারকেরা উদ্ভূত পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
কী আছে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে :

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়। এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০ বছর। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কায় গঙ্গার পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়।
চুক্তির প্রথম সংযোজনী অনুযায়ী, ফারাক্কায় পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে ভারত ও বাংলাদেশ সমান ভাগে পানি পায়। প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পায় ৩৫ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পায় ভারত।
আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি পায় এবং অবশিষ্ট পানি বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ থাকে।
এ ছাড়া মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের প্রথম ভাগ পর্যন্ত পালাক্রমে দুই দেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি দেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।

বাঘাবাড়ির ঘি’সহ ১০ টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

0


ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘি’সহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
পাশাপাশি এসকল পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই প্রদত্ত লাইসেন্স কেনো বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসকল পণ্য ক্রয় হতে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।
<span;>সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিকমানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে।
এ পরীক্ষায় বেশকিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় তা অকৃতকার্য হয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়: বাঘাবাড়ির ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন, বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়: বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং- ১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং- ১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং- ২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট এ্যাস এবং লবণের মাত্রা অতিরিক্ত থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।
বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ০১.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০.০৭.২০২৮ খ্রি.), কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১৭.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ: ২৪.১২.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ: ১৫.০৪.২০২৫ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১৪.০৪.২০২৭ খ্রি.), মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি (ব্যাচ নং- উৎপাদন তারিখ ১০.০১.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১০.১২.২০২৮ খ্রি.) এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ “এলডার্স” ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ নং-০২২০২৬)। বাংলাদেশ মান অনুযায়ী এসকল ঘি বিভিন্ন প্যারামিটারে অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষায় এসকল পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে।
পণ্য ক্রয়ের আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআই’র মহাপরিচালক। একই সাথে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআই’র মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআই’কে হটলাইন: ১৬১১৯ এ কল করে অথবা dg@bsti.gov.bd  তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।

নাকচের তথ্য গোপন করে ফের আবেদন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিরুদ্ধে তদন্ত

0


সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি পরিচালনার অনুমতি চেয়ে করা আগের আবেদন নাকচ হওয়ার তথ্য গোপন রেখে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে আবেদন করেছে—এমন অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে কমিটি গঠনের জন্য বিপিসির পর্ষদে উপস্থাপিত নোটেও আগের আবেদন নাকচের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বরং ওই নোট প্রস্তুতকারী কর্মকর্তাকেই করা হয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিপিসির সচিব ও সরকারের উপসচিব শাহিনা সুলতানার সই করা এক অফিস আদেশে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটির প্রসেসিং সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, ‘অপারেশন বিভাগ থেকে নোট অনুমোদন হয়েছে। তারাই কমিটির সদস্য নির্ধারণ করে নোট উপস্থাপন করেছে। নোট অনুমোদন হওয়ার পর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কয়েকটি মিডিয়ার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’
পর্ষদে উপস্থাপিত নোটে তথ্য গোপনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। অনুমোদন হওয়ার পর আমি নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠনের অফিস আদেশ করেছি।’
বিপিসির আদেশ অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব করা হয়েছে বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন শাখার উপ-ব্যবস্থাপক তানজিন হোসেনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মাসুদুল আলম।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কমিটি সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। এরপর প্ল্যান্টের প্রসেসিং ক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রতিবেদন বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেবে।
কমিটি গঠনের আদেশের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারি বানাচ্ছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল’ শিরোনামের প্রতিবেদনের পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে বিপিসির পর্ষদে কমিটি গঠনের জন্য উপস্থাপিত নোট পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেখানে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আগের আবেদন নাকচ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি উল্লেখ করা হয়নি। অথচ নোটে প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের আবেদন, পরবর্তী সময়ে বিপিসির তদন্ত কমিটি গঠন এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সেই কমিটির প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানোর বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে।
নোটে বলা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’-এর আলোকে বিদ্যমান রিফাইনারি হিসেবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনায় বিপিসি একটি কমিটি গঠন করে। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয়। পরে ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন কর্মকর্তাকে কমিটিতে কো-অপ্ট করা হয়।
২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটির সদস্যরা কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের জুলধা ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সিআরইউ প্ল্যান্ট ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন ও আবেদন পর্যালোচনার পর সাত সদস্যের কমিটি ৮ এপ্রিল বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ২০ এপ্রিল ওই প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের আবেদন নাকচের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আবেদনটি নাকচ হওয়ার আড়াই মাস পর, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বরাবর নতুন করে আবেদন করেন সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার।
নতুন আবেদনে বলা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল ইউরো-৫ মানের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের জন্য বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি স্থাপন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮১ মেট্রিক টন। রিফাইনারিতে ক্রুড ডিস্টিলিয়েশন ইউনিটের পাশাপাশি ডিজেল হাইড্রোট্রিয়েটার, রিসিডিউ ডিসালফারাইজেশন এবং আইসোমারাইজেশন ইউনিট স্থাপনের কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে এই দ্বিতীয় আবেদনে আগের আবেদন নাকচ হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। এমনকি ২০২৪ সালের আবেদনের সূত্রও এতে দেওয়া হয়নি।
নতুন আবেদনের পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিপিসির কাছে মতামত চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভার কার্যবিবরণীতে আগের আবেদন নাকচ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ইউনিট-২ প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আগে বাস্তবায়িত এসপিএম প্রকল্পের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তিন গুণ বাড়বে।
এ কারণে নতুন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যালকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে বোর্ড মত দেয়।
কার্যবিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ২০২৪ সালের আবেদন নাকচ করেছিল। ওই সিদ্ধান্তের পেছনে কনডেনসেট নীতিমালা, ২০১৪-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের জন্য সংগৃহীত বা আমদানি করা কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন বা এলপিজি সরাসরি অভ্যন্তরীণ বাজারে বাজারজাত করা যাবে না। অন্যদিকে, বিপিসির ২৩ আগস্টের নোট শিট এবং সুপার পেট্রোকেমিক্যালের দ্বিতীয় আবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগের আবেদন নাকচের তথ্য উভয় ক্ষেত্রেই অনুল্লেখিত রয়েছে। বিশেষ করে কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তুত করা নোটে ২০২৪ সালের আবেদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার কথা থাকলেও আবেদন নাকচের বিষয়টি তুলে ধরা হয়নি।
নোটটি প্রস্তুত করেন বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক তানজিন হোসেন। পরে একই বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. ইসতিয়াক হোসেন ও বিভাগীয় প্রধান মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন নোটে স্বাক্ষর করেন। এরপর পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানের স্বাক্ষরের পর বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মনজুর আলম প্রধান নোটটি অনুমোদন করেন।
পর্ষদে উপস্থাপিত নোটে তথ্য গোপনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব তানজিন হোসেন বলেন, ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি করার প্রথম আবেদন নাকচ হওয়ার বিষয়টি অন্য একটি গোপনীয় চিঠিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জ্ঞাত করা হয়েছে। তাই কমিটি গঠনের নোট শিটে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটি নিশ্চয়ই পুরো বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মনজুর আলম প্রধানের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এখন গঠিত ছয় সদস্যের কমিটি সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, প্রসেসিং সক্ষমতা এবং রিফাইনারি স্থাপনের কার্যক্রম যাচাই করবে। সাত দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

দুদকের মহাপরিচালক ও পরিচালক পদে রদবদল

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মহাপরিচালক এবং একজন পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুদকের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের সই করা এক কার্যালয় আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। জনস্বার্থে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, মহাপরিচালক মো. মোজাম্মেল হককে মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) পদ থেকে সরিয়ে প্রতিরোধ বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মানিলন্ডারিং বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালক দাউদ হোসেন চৌধুরীকে পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদ থেকে পরিবর্তন করে পরিচালক (দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেল) পদে বদলি করা হয়েছে।
দুদকের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের ওই আদেশেই তিন কর্মকর্তার দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।