সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, ইয়াহু, ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়াসহ সব রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসব অর্থ আদায় করে তা হলফনামা আকারে হাইকোর্টকে জানাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৪৫ পৃষ্ঠার এ সংক্রান্ত রায় প্রকাশ করেন।
রায়ে আদালত বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য পাওনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশ প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে।এর আগে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর গুগল-ফেসবুক ও অন্যান্য ইন্টারনেট কোম্পানির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার বিষয় এবং বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে জনস্বার্থে দায়ের করা রিট পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানি করে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিবাদীদের প্রতি পাঁচটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
পাঁচটি নির্দেশনা হলো-
এক. অনতিবিলম্বে সব ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানি যেমন গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজন মতো কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব প্রকার ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।
দুই. ইন্টারনেট ভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে বিগত পাঁচ বছরে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে আনুপাতিক হারে বকেয়া রাজস্ব আদায় করতে হবে।
তিন. ওই রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর হলফনামা আকারে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে।
চার. এ রায়টি একটি চলমান আদেশ বা কন্টিনিউয়াস ম্যানডেমাস হিসেবে বলবৎ থাকবে।
পাঁচ. এ রায়ের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় আদালতে আবেদন দাখিল করে প্রতিকার চাইতে পারবেন।
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল রিট দায়ের করেন হাইকোর্টের ছয় আইনজীবী। রিটকারী ছয় আইনজীবী হচ্ছেন- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো. সালেহ, অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অ্যাডভোকেট শামীম খালেদ আহমেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ারেস আল হারুনী।
ওই রিটের শুনানি শেষে ২০২০ সালে ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা হয়।
গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজনের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের
মাওলানা আজহারীকে ব্রিটেনে ঢুকতে দেয়া হয় নি
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশের আলোচিত, সমালোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ব্রিটেন যাবার পথে বাধার মুখে পড়লেন কাতারে। তাকে আটকে দেয়া হয়েছে দোহাতে। তবে কি কারণে আটকে দেয়া হলো তা স্পষ্ট করা হয়নি।
জানা গেছে, আজহারী মঙ্গলবার ভোরে মালয়েশিয়া থেকে কাতার বিমানবন্দরে পৌঁছান। বুধবার সকালে লণ্ডনের ফ্লাইটে উঠার জন্য সংশ্লিষ্ট গেটে গেলে তাকে আটকে দেয়া হয়। ব্রিটেনের ফ্লাইটে উঠতে দেয়া হয়নি। মিজানুর রহমান আজহারীকে বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যর কারণে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন থেকে মালয়েশিয়াতে বসবাস করছেন।
মিজানুর রহমান আজহারী মালয়েশিয়া থেকে ব্রিটেন যাচ্ছিলেন আইওন টিভির আমন্ত্রণে। বৃটেনে এই টিভিটি ইসলামিক টিভি হিসেবে পরিচিত। ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠানের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও এই টিভিটির একটি অবস্থান রয়েছে। জানা গেছে, লন্ডন যেতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি তাকে আমন্ত্রণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দোহা বিমানবন্দর বসে তিনি ১২ ঘণ্টা চেষ্টা করেন সমস্যা সমাধানের। কিন্তু ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়াতে কাতার এয়ারওয়েজ তাকে ফ্লাইটে উঠার অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে তাকে আমন্ত্রণকারী আইওন টিভিও চেষ্টা করছে সংকট নিরসনের। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীকে ৯৬ ঘণ্টার একটি ট্রানজিট ভিসা দেয়া হয়েছে। তিনি কাতারে অবস্থান নিয়ে আবার চেষ্টা করবেন ব্রিটেনে প্রবেশের।
৩১ অক্টোবর রবিবার থেকে লণ্ডনসহ ব্রিটেনের ৫টি শহরে ইসলামী বক্তব্যের আয়োজন করা হয় ব্রিটেনের আইওন টিভির পক্ষ থেকে। এ উপলক্ষে ১৫ পাউণ্ড থেকে শুরু করে ১০০ পাউণ্ড মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। আজহারীর সফরকে ঘিরে কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আয়োজক টিভির ব্যানারে আজহারীর আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি থেকে শুরু করে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের অনেক মানুষ আজহারীর সফরের বিরোধিতা করছেন।
কমিউনিটির পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এমপি থেকে শুরু করে হোমসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে মিজানুর রহমান আজহারীর বিভিন্ন বক্তব্য যেখানে অন্য ধর্মকে আঘাত করা হয়েছে, যেসব বক্তব্য ঘৃণা ছড়ায় এমন সব ভিডিও পাঠানো হয়েছে।
সফর বাতিল হওয়ার বিষয়ে আয়োজক আইওন টিভির সিইও আতাউল্লাহ ফারুক এই বিষয়ে মিডিয়ার কাছে অফিশিয়াল কোন মন্তব্য করতে সম্মত হননি। সূত্র-ভয়েস অব আমেরিকা।
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির, পূজা মণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুর জেলার মুখ্য মহানগর বা বিচারিক হাকিমকে তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।
শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, রিট আবেদনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। আমরা আবেদন থেকে এই শব্দগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানাই। কারণ হামলার ঘটনায় রাষ্ট্র বসে নেই। কুমিল্লা, রংপুরে অনেক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এ সময় বেঞ্চের কনিষ্ট বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে, মামলা হয়েছে, অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এ অবস্থায় আমরা কি রাষ্ট্রকে দায়ী করতে পারি?
পরে আদালত রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াকে আবেদন সংশোধন করতে বলেন এবং আদেশের জন্য দুপুর ২টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেন। পরে হাইকোর্ট আদেশ দেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, বসতি, জীবন ও সম্পত্তির ওপর হামলা ঠেকাতে সরকারের স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দশ দেয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

গত ১৩ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পূজার মণ্ডপ, মন্দির, বসতি, জীবন ও সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ধর্ম সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি বিভাগ) সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ২১ বিবাদিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, ২১ অক্টোবর এফিডেভিট করার পর ২৪ অক্টোবর এ আবেদনটি শুনানির তালিকায় ছিল, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল বিদেশে থাকায় সময় নেয়া হয়। ২৬ অক্টোবর কার্যতালিকায় এলে সেদিনও সময় নেয়া হয়।
“গতকাল (বুধবার) শুনানির জন্য ধার্য ছিল, কিন্তু সিনিয়র আইনজীবী জনাব আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুর কারণে আদালত তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকেন। আজ শুনানি হয়।”
দুর্গা পূজার সময় কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কুমিল্লা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয় হিন্দু সম্প্রদায়।
এসব ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাস হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন।
ফোনে অন্যায়ভাবে আড়ি পাতা মৌলিক অধিকার খর্বের শামিল: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
পেগাসাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনে অবৈধভাবে আড়ি পাতার তদন্তে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ে দিলেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো ওজর আপত্তি আমল দেয়া হলো না। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা বুধবার এ জনস্বার্থ মামলার রায় দিয়ে বলেন, অন্যায়ভাবে আড়ি পাতার অভিযোগ সত্য হলে তা মৌলিক অধিকার খর্বের শামিল, যার প্রতিক্রিয়া মারাত্মক।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর ভি রবীন্দ্রন ওই বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান। তাঁকে সহায়তা করবেন একজন আইপিএস কর্মকর্তা ও চার ফরেনসিক, কম্পিউটার, প্রযুক্তিবিদ বিশেষজ্ঞ। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি দুই মাস পর।
ইসরায়েলের এনএসওর তৈরি পেগাসাস প্রযুক্তির সাহায্যে ভারত সরকার সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতাসহ বহু সাধারণ মানুষের ফোনে আড়ি পেতেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুই বছর আগে, ২০১৯ সালে এই অভিযোগ প্রথমবার ওঠার পর সরকার সংসদে জানিয়েছিল, আইনবহির্ভূত কিছু করা হয়নি।
সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম সারির ১৬টি দেশের সাংবাদিকদের এক সংগঠন তদন্ত শেষে জানায়, কীভাবে বিভিন্ন দেশের সরকার এই প্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে ভারতের অনেক বিচারপতি, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সমাজসেবী, রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করা হয়, যাঁদের ফোনে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে। এই প্রতিবেদন জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, এডিটরস গিল্ডের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বলা হয়, সর্বোচ্চ আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন। তদন্তের নির্দেশ দিন।
সেই আবেদনে সাড়া দেয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকারকে অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার বারবার বলেছে, আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা হয়নি। সরকার যে পেগাসাস প্রযুক্তি কিনেছে, তা–ও স্পষ্ট করে বলেনি। শুনানির সময় শুধু বলেছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তা বলা যাবে না। কেননা, তাতে সন্ত্রাসীদের সাহায্য করা হবে। অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে দেখতে সরকার নিজে থেকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ার প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টকে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত তা–ও মানেননি। আজ সেই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারকে অনেক সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা ভাসা ভাসা অস্বীকার ছাড়া কিছুই বলতে পারেনি। বারবার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পার পাওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করতে চান না। কিন্তু তাই বলে নীরব দর্শক সেজেও থাকতে পারেন না। প্রধান বিচারপতি এ কথাও বলেন, সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের অনুমতি দিলে তা ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী হতো।
প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা, বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চ এই প্রসঙ্গে নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার রক্ষার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেন, শুধু রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিক নন, গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকের। সেই অধিকার রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। গোপনীয়তার অধিকারে কোনো কোনো সময় রাশ টানা হতে পারে। কিন্তু সরকারের সেই অধিকার সাংবিধানিক বৈধতার ঊর্ধ্বে নয়। এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার সংবাদমাধ্যমের অধিকারের ক্ষেত্রে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরযেওয়ালা টুইট করে বলেন, ‘সর্বত্রই ছদ্ম জাতীয়তাবাদ স্বৈরতন্ত্রীদের শেষ আশ্রয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানাই। যদিও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মোদি সরকার দৃষ্টি ঘোরানোর বৃথা চেষ্টা করেছে। সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।’
প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ,বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী অ্যাডভোকেট সিরাজুল হকের ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৮ অক্টোবর।
এ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এবং আখাউড়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হক ১৯২৫ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার পানিয়ারূপ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর পরলোক গমন করেন।
সিরাজুল হক ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কসবা-বুড়িচং নিয়ে গঠিত তৎকালীন কুমিল্লা-৪ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কসবা-আখাউড়া নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর সিরাজুল হক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে খুনী মোশতাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। খুনী মোশতাক যে বৈঠক আহবান করেছিলেন সেখানে অন্যান্যদের সঙ্গে যোগ দেন সিরাজুল হকও। তবে তিনি সেখানে হাজির হন ভিন্ন রূপে। মঞ্চে যখন সিরাজুল হককে ডাকা হয়, তখন তিনি ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন “সরি মি. মোশতাক,আমি আপনাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করতে পারলামনা। আপনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবৈধ।“ মোশতাকও ঔদ্ধত্য দেখালে সিরাজুল হকের হুংকারে খুনী মোশতাকের সেদিনের বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইনেডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ভেদ করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে হাল ধরেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। দীর্ঘ আইনী লড়াই করে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করেছিলেন। ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়েছেন খুনীদের।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাশাপাশি জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলারও রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি ছিলেন সিরাজুল হক। তাঁর মৃত্যুর পর এই মামলার হাল ধরেন তাঁর পুত্র বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিরাজুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা।
ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে
ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আলী আকবরের (২৩) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার আলী আকবর সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শৌলডুবী গ্রামের হোসেন ঢালীর ছেলে।
সদরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার জানান, সোমবার (২৫ অক্টোবর) জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১০ বছরের এক ছাত্র প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাদ্রাসার শিক্ষক আলী আকবর তাকে বলাৎকার করেন। শিশুটি ব্যথায় কান্নাকাটি করলে খবর পেয়ে পরদিন মঙ্গলবার তার মা সেখানে যান। মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে শিশুটি।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে এ ব্যাপারে সদরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান। সূত্র- _ঢাকা পোস্ট।
সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ২১ কোটি টাকা, মামলা করেছে দুদক
‘অবৈধভাবে’ ২১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের সমন্বিত বরিশাল জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক এদীপ বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। দুদকের উপ পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ খবর জানিয়েছেন।
মামলায় নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন ও নজরুল ইসলামের ভাই মো. তরিকুল ইসলামকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে হিসাব খুলে টাকা জমা রাখা এবং বরিশাল সদরে এই প্রকৌশলীর নিজের নামে একটি বাড়ি এবং স্ত্রীর নামে বরিশাল সদরে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ জমির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, আসামি নজরুল ইসলাম ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন। ২০২০ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরে এ হিসাবে চার কোটি ৯৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জমা হয়। এর মধ্যে তিনি চার কোটি ৯৪ লাখ নয় হাজার টাকা উত্তোলনও করেন।
অন্যদিকে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলামের ভাই তরিকুল ইসলামের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় আরও একটি হিসাব খোলা হয়।
এ হিসাবেও ২০২০ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত ছয় কোটি এক লাখ টাকা লেনদেন হয়। এছাড়া একই ব্যাংকের বরিশাল শাখায় নজরুল ইসলামের এফডিআর হিসাবে জমা করা ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে এজাহারে বলা হয়।
অন্যদিকে তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের নামে ২০১৯ সালের ৩০ মে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় এক বছর মেয়াদি ৭৫ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া যায় উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, এ অর্থ ২০২০ সালের মে মাসে উত্তোলন করা হয়।
এছাড়া ওই ব্যাংকে শাহনাজ পারভীনের নামে এফডিআরসহ পাঁচটি হিসাব পাওয়া গেছে।
অপরদিকে বরিশালের পূবালী ব্যাংক শাখায় ২০১৮ সালে উপ সহকারী প্রকৌশলী নজরুল আরও একটি হিসাব খোলেন। এতে ১০ লাখ টাকা জমা করে তার ভাইয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করান।
পাশাপাশি আইডিএলসি ফাইন্যান্সে নজরুল ইসলামের নামে ছয়টি এফডিআর এবং ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৫ বছর মেয়াদি ৮৬ লাখ টাকা ঋণ নেয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা তিনি পরিশোধ করে দেন।
এভাবে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে মোট ২১ কোটি এক লাখ টাকা জমা ও উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০১২ এর ৪ (২) ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রবীণ আইনজীবী বাসেত মজুমদারকে কুমিল্লার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন
হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আর তিনদফা জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লালমাইতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে দেশের প্রবীণ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারকে । বুধবার বাদ মাগরিব সর্বশেষ জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় কুমিল্লার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে পুরাতন বিমান বন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ কুমিল্লা আইনজীবী সমিতিতে নেয়া হয়। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।
সর্বজন শ্রদ্ধেয় এডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার বুধবার সকাল ৮টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লিাহি…রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। মৃত্যুকালে দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে শোক জানান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, স্পিকার, আইন মন্ত্রী, রেল মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী, নৌ পরিবহনমন্ত্রী, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং বিভিন্ন ব্যাক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এক শোক বার্তায় বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার প্রার্থীদের আইনি সহায়তা দিতে আব্দুল বাসেত মজুমদারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যু দেশের আইন অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার মৃত্যুতে দেশ একজন দক্ষ আইনজীবীকে হারালো। রাষ্ট্রপতি প্রয়াত বাসেত মজুমদারের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রবীণ এই আইনজীবীর প্রথম জানাজা বেলা ১১টায় বনানী কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। বাদ জোহর সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় জাতীয় ঈদগা ময়দানে জানাজার ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর ২টায় সুপ্রিম কোর্টের পাশে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রাঙ্গণে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ বিদায় জানান হাজারো আইনজীবী। কফিনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, স্পিকার, আইন মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি, ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
আইনজীবীদের প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এজন্য দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশ নেন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের জানাজায়। আর কোনোদিন তার দেখা মিলবে না সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেল যোগাযোগমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
দু’দফায় ১৫০ জন ইউপি চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত, নজিরবিহীন বলছেন বিশেষজ্ঞরা
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের কাঠামো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক পড়েছে। প্রথম দফায় ভোটের আগেই ৬৯ জন চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার দ্বিতীয় ধাপে ৮শ ৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮১ জন চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দু’দফায় ১শ ৫০ জন ইউপি চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন। নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সকলেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে এতো বিপুল সংখ্যক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াকে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অনীহার কারণেই এসব নজিরবিহীন ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জবাবদিহিতা কমে যাবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার শেষ দিনে বাকি প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় এসব জনপ্রতিনিধি একক প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে তিন হাজার ৩১০ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে নয় হাজার ১৬১ জন এবং সদস্য পদে ২৮ হাজার ৭৪৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ৮শ ৪৬ ইউপিতে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষে মাঠ পর্যায়ের একীভূত তথ্য জানায় ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা। এতে জানানো হয়. বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে ৮১জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২০৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ এসব পদে আর ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না।
এর আগে প্রথম ধাপে ৬৯ চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এছাড়া সাধারণ সদস্য ৬৩ জন এবং সংরক্ষিত ৬ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদিন থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম। আগামী ১১ নভেম্বর এসব ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ৮শ ৪৬ ইউনিয়ন পরিষদে চার হাজার ৭৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই ৩১টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থী হন। তারা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।
মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৫শ ৭২ জন নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৩টি উপজেলার ৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২১টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৮১টি বাদে বাকি ৭৬৫ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন হাজার ৩১০ প্রার্থী।
ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৯৩ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ভোটের মাঠে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন নয় হাজার ১৬১জন প্রার্থী। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ৭৬ জন। একইভাবে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ২৮ হাজার ৭৪৭ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এক হাজার ৬৬৪জন। এ পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৩০ হাজার ৮৮৩জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ২০৩ জন। বাকিদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইইউ’র উদ্বেগ
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা চলমান কয়েকটি মামলা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার ব্রাসেলসে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইগ্যান্ড গুনার এ বিষয়ে জানতে চান। বৈঠকের পর যৌথ এক বিবৃতিতে বলা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউ জানায় ওই আইনের কয়েকটি ধারা ডিজিটাল অপরাধ দমনের থেকে অন্য কাজে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। গত ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউতে বাংলাদেশ যেসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছিল সেগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ইইউ উৎসাহ প্রদান করেছে। এ ছাড়া কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক সুশাসন শক্তিশালীর বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।
সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও যেকোনও ধরনের বৈষম্যের প্রতি নিন্দা জানায়।











