ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 72

সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

0

কুমিল্লা,চাঁদপুর,রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাশ এ রিট দায়ের করেন।
রিটে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ দোষী সরকারি কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে এমন সব ধরনের পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব, পুলিশের আইজি, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ফেনীর ডিসি-এসপিসহ ১৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে সাম্প্রদায়িক হামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।

সাক্ষ্য অইনের বিতর্কিত ১৫৫(৪) ধারা বাতিল হচ্ছে; নারীর মর্যাদাহানি রোধ করবে, জানালেন আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিদ্যমান সাক্ষ্য অইনের ধারা ১৫৫(৪) এর বিধান নারীর মানবাধিকারের বিরুদ্ধে বিধায় এটি বাতিলকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে যা নারীর মর্যাদাহানি রোধ করবে। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন সংশোধন ও অধিকতর যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত গ্রহণের জন্য এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। বিদ্যমান সাক্ষ্য আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নতুন ধারা সন্নিবেশ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৪৯ বছর পূর্বে প্রণীত সাক্ষ্য আইনটি এখনো কার্যকরভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে, ডিজিটাইজেশন একটি নতুন বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্য আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এরূপ সংশোধনী আনয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হয়েছি। আইন-আদালতও এর বাইরে নয়। তাই বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সাক্ষ্য আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, এই সংশোধনী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ফ্যাসিলেটেড করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সকল আইনকে ফ্যাসিলেটেড করে বিশ্বায়নের বাস্তবতায় সঠিক সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে বিচারকার্য নিষ্পত্তি করা। বিগত লকডাউন এর সম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল প্লাাটফরম ব্যবহার করে অন্যান্য সকল কাজের মতো বিচারিক কার্যক্রমকেও চলমান রাখা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিধান রয়েছে। বাস্তবতা ও সময়ের চাহিদার কারণে উক্ত আইনে কিছু নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে আইন মন্ত্রী বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধি বাংলা ভাষায় করা হলেও সাক্ষ্য আইন ইংরেজিতেই করা হবে। যুক্তিতে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় ইতিপূর্বে কতিপয় আইন ইংরেজিতে থাকা প্রয়োজন মর্মে আলোচনা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়নের পর এটি আদালত কর্তৃক বিভিন্ন সময় প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যাত হয়ে নজির আকারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ইংরেজিতে প্রণীত রাষ্ট্রপতির আদেশসমূহ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনসহ এসব আইন বাংলায় নতুন করে প্রণয়ন করা হলে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে ব্যবহৃত শব্দসমূহ পুনরায় ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে। সে কারণে, সাক্ষ্য আইন ইংরেজিতে থাকা সমীচীন হবে। বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপো বলেন, সাক্ষ্য আইন সংশোধনের বিষয়টি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি প্রশংশনীয় উদ্যোগ। উক্ত সংশোধনী মানবাধিকার উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫ (৪) সংশোধনের মাধ্যমে নারীর মর্যাদাহানির পুনরাবৃত্তি হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ায় এ সংশোধনী যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতিসংঘ সর্বাত্মক সহায়তা করবে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (সিআইডি) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল্লাহ আবু প্রমুখ আইনটির বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের সংশোধন ও পরিমার্জনে উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

0

বৃটিশ আমলে প্রণিত ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের সংশোধন ও পরিমার্জন এবং বাংলাভাষায় প্রণয়ন করে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটি ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure, 1898) আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণাপূর্বক যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও বাংলা ভাষায় প্রণয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরকে চেয়ারপার্সন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে কো-চেয়ারপার্সন করে নয় সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, যুগ্মসচিব বিকাশ কুমার সাহা ও কাজী আরিফুজ্জামান, উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব, যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর, উপসচিব গাজী কালিমুল্লাহ ও যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) মোঃ মুনিরুজ্জামান।
আইনমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড.মো.রেজাউল করিম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়,গত ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণাপূর্বক, যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও বাংলা ভাষায় প্রণয়নের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হককে নির্দেশনা প্রদান করেন। এই নির্দেশনার আলোকেই ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধি হবে: (ক) ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্- সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণা এবং উহা যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রদান (খ) ফৌজদারী কার্যবিধির বাংলা ভাষায় প্রণয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান (গ) ফৌজদারী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বর্তমানে ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে, তদ্‌বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রদান (ঘ) ফৌজদারী কার্যবিধির এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের আইন পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রদান। কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্যকে কমিটিতে কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটি যতদ্রুত সম্ভব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের নিকট উপর্যুক্ত বিষয়ে পর্যালোচনা সংক্রান্ত সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করবে। কমিটি গঠনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত উপর্যুক্ত ফৌজদারী কার্যবিধি দ্বারা বর্তমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিন প্রকৌশল ও ন্যানোপ্রযুক্তির এই যুগে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা পরিচালনা করা দুরূহ ও সময় সাপেক্ষ। এ কারণে ফৌজদারী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জনগণের আইনি অভিগম্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফৌজদারী কার্যবিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণাপূর্বক যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও বাংলা ভাষায় প্রণয়ন করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রযোজ্য সকল আইনকে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে জারীকৃত Laws Continuance Enforcement Order দ্বারা একই তারিখে জারীকৃত Proclamation of Independence এর বিধান সাপেক্ষে অব্যাহত রাখা হয়। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদ দ্বারা অব্যাহত থাকা উক্ত আইনগুলোকে হেফাজত করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে প্রচলিত ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলে প্রণীত অনেক আইন অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রণীত Bangladesh Laws (Revision and Declaration) Act, 1973 (Act No VIII of 1973) প্রণয়নের মাধ্যমে স্বাধীনতাপূর্ব আইনগুলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও অভিযোজনপূর্বক বহাল রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) অন্যতম।

নোয়াখালীতে মন্দির-মণ্ডপে হামলা: ৩ আসামির ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি

0

নোয়াখালীতে মন্দির-মণ্ডপে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনিতা গুহ শনিবার রাতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরা হলেন- রিপন  আহাম্মেদ মাহীর, আরাফাত হোসেন রাজিব ও ইব্রাহিম খলিল রাজিব।
এর আগে বৃহস্পতিবার  আবদুর রহিম নামের আরেক আসামি আদালতে জবানবন্দি দেয়।
চৌমুহনীতে মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে বুধবার রাতে উপজেলার করিমপুর এলাকা থেকে আবদুর রহিম ওরফে সুজনকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  তার বাড়ি করিমপুর এলাকায়।
পুলিশ সুপার বলেন, ওই হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও তিনজনকে শনাক্ত করে শনিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা।
গত ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে কয়েকটি পূজামণ্ডপ এবং হিন্দুদের বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলা-ভাংচুরের সময় একজনের মৃত্যুর পরদিন পুকুর থেকে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা ১০ মামলায় ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে ৬৩ জন এজাহারভুক্ত এবং ৫৯ জন সন্দেহভাজন আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

৩৭ লাখ মামলার জটঃ ২০২২ সালে ৬ লাখ মামলা নিষ্পত্তির পরিকল্পনা আইনমন্ত্রীর

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দেশে প্রায় ৩৭ লাখ মামলার জট তৈরি হয়েছে। এটা নতুন করে তৈরি হয়েছে তা নয়, অতীতের পুঞ্জীভূত সমস্যা। এ জট নিরসন করতে হবে। ২০২২ সালে ৬ লাখ মামলা কমানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিচারকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
রোববার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজ ও সমপর্যায়ের বিচারকদের জন্য আয়োজিত ৪২তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিচারকরা হলেন বিচার বিভাগের প্রাণ। বিচার বিভাগের প্রধান চালিকা শক্তি। তাই তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিচারকদের দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে আজ প্রথমবারের মতো এ ইনষ্টিটিউটে একইসাথে দুটি ব্যাচের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা সম্ভব হলো। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে।
তিনি যোগ করেন, মামলাজট কমানোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিগত কয়েক বছরে ১১৫২ জন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও বিচারক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এখন কোন পদ শূন্য হওয়ার সাথে সাথে তা পূরণ করা হচ্ছে।
কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্ব বদলে গেছে এবং এখন প্রতি নিয়ত বিশ্ব বদলে যাবে। তার সাথে তাল মিলাতে বাংলাদেশকেও বদলাতে হবে। বাংলাদেশ বদলে গেলে বিচারকদেরকেও বিচারিক কার্যক্রম চালানোর জন্য বদলাতে হবে।
আনিসুল হক বলেন, আজকে বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পুরনো বাংলাদেশ কিন্তু আর নেই। যেখানে ২১ বছর বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল। অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে কি-না সে বিষয়ে মানুষের যথেষ্ঠ সন্দেহ ছিল। সেই সংস্কৃতি বদলে গেছে। এখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে বিচারপ্রাপ্তির সংস্কৃতিতে এসেছি। সেজন্য বিচারকদের প্রয়োজনীয়তা এবং মর্যাদা দুটোই বেড়েছে। এই প্রয়োজনীয়তা এবং মর্যাদা ধরে রাখার অবিচ্ছেদ্য অংশীদার হলেন বিচারকরা। বিচারকরা সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করলে আদালতের প্রতি জনগণের আশা ও আস্থা বাড়বে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সাওয়ার, ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।

শুধু ছাত্রলীগ নয়, অপরাধী যেই হোক ব্যবস্থা নেয়া হবে – আইনমন্ত্রী

0

শুধু ছাত্রলীগ নয়, অপরাধী যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি জানান এসব অপরাধীদের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। রংপুরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় এক ছাত্রলীগ নেতার জড়িত থাকার ঘটনায় আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা জজদের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন শরীফ রাখার ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়। এর মধ্যে রংপুরের পীরগঞ্জে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার সৈকত মণ্ডল ছাত্রলীগ নেতা বলে পরিচয় মিলেছে।
বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে,তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর দেশে অস্থিতিশীলতার জন্য পীরগঞ্জসহ ২৪ জেলায় সহিংসতা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম উঠে আসবে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আনিসুল হক বলেন, যারা অপরাধ করবে তাদের বিচার হবে। সে যে দলেরই হোক, যে গোষ্ঠীরই হোক, যে জাতিরই হোক। অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবে।
আওয়ামী লীগ অসম্প্রাদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষকেও সে দীক্ষায়ই দীক্ষিত করেছেন বলে জনগণ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দিকে ঝুঁকে না। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে অন্যায় করে সেটিও অন্যায় এবং তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
এছাড়া সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করার বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা আগেও বলেছি, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের বিষয়টি সামনে আসলে তড়িৎগতিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে, চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন, জানালেন আইনমন্ত্রী

0
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক-ফাইল ছবি।

প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগছে দেশের ভূমি রেজিস্ট্রেশন সেক্টরেও। শত বছরের সনাতনি পদ্ধতি কাটিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো এবার ডিজিটালাইজড হতে যাচ্ছে রেজিষ্ট্রেশন অধিদপ্তর। চলতি বছরই দেশের ১৭টি জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশনের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই এই প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। আর এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আগামী বছর সারা দেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমন নিশ্চয়তাই দিয়েছেন। রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিসের কর্মকর্তাদের এক অনুষ্টানে তিনি এ তথ্য জানান।

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন (বিআরএসএ) আয়োজিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা ও মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশ প্রযুক্তিতে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এই অবস্থায় রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে ডিজিটাইজেশন বা ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালুর বিকল্প নেই। এই প্রক্রিয়া চালু হলে জনগণকে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সেবা দেয়া সম্ভব হবে। তিনি যোগ করেন, ই-রেজিস্ট্রেশনের পাশাপাশি প্রচলিত ব্যবস্থাও বহাল থাকবে। তাই ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু হলেও কোন নকলনবীশ বা দলিল লেখক কাজ হারাবেন না। মন্ত্রী বলেন, ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় ফাইল হ্যাক বা ড্রপ কিংবা ক্রাশ হতে পারে। তাই প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করা সঠিক হবে না। সাব-রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, জনগণকে সঠিকভাবে সেবা না দিলে ধরে নেওয়া হবে যে, আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছেন না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সেজন্য জনগণকে সেবা দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, যারা দুর্নীতি করবে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া হবে। এ বিষয়ে কেউ তাদের পক্ষে অবস্থান নিবেন না। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবী অনুযায়ী নিবন্ধন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে। ৪৯১টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার এর অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মন্ত্রী যোগ করেন, এক সময় বালাম বইর অভাবে জনগণকে মূল দলিল ফেরত পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো। বালাম বইর সংকট সম্পূর্ণ দূর করা হয়েছে। নকল নবীশদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে নকল নবীশদের পারিশ্রমিক বছরের পর বছর বকেয়া থাকত। এখন তাদের পারিশ্রমিক নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে জনগণকে রেজিস্ট্রেশন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চলতি ২০২১ সালেও পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশকৃত ৬৯ জনকে সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিআরএসএ- এর সভাপতি মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরির্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, বিআরএসএ-এর মহাসচিব মো. জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া শাহীরুলের শেষ রক্ষা হলো না…

0

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডসহ চারটি ভূয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক । পরিচয় দেন মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবেও। গুলশানের শুটিং ক্লাবের আজীবন সদস্য বলেও দাবি তাঁর। ব্যবহার করেন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি। নিজের নিরাপত্তার জন্য কোমরে সব সময় একটি বিদেশি পিস্তল রাখেন। ঘরে সাজিয়ে রেখেছেন তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান, একটি এয়ারগান ও একটি রাইফেল। প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতেই শাহীরুল ইসলাম সিকদার (৪৮) নামের এই ব্যক্তির এত আয়োজন। নিজেকে এভাবে জাহির করে তিনি চাকরির প্রলোভন, প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অথচ তিনি একসময় বাসচালকের সহকারী ছিলেন। পরে তিনি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ করে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দালালি করেন। এই দালালি করতে গিয়েই তিনি প্রতারণার কৌশল শেখেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনি বড় প্রতারক হয়ে ওঠেন। শাহীরুল হককে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার প্রতারক শাহীরুল।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, শাহীরুল প্রতারণাকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন। তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেগুলোর কোনোটিরই অস্তিত্ব নেই। তবে তাঁর বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান, একটি এয়ারগান ও একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সবই আসল। তিনি বলেছেন, এগুলো তাঁর বৈধ অস্ত্র। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। শাহীরুল ইসলামের প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে র‌্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল বলেন, তিনি কখনো কখনো সরকারি কর্মকর্তা হিসেবেও নিজের পরিচয় দিতেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা নিতেন। টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি অস্ত্র দেখিয়েও ভয় দেখানো হতো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে চটকদার বিজ্ঞাপন দিতেন তিনি। এই ফাঁদে পা দিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১৫-২৫ হাজার টাকা করে জামানত নিতেন। এরপর তিনি আর চাকরি দিতেন না। নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেওয়া শুরু করেন শাহীরুল ইসলাম। ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো প্রদর্শন করতেন। এমনকি বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করতেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার বেকারদের নিরাপত্তাকর্মী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। শাহীরুল ইসলামের উত্থান সম্পর্কে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, শাহীরুল উচ্চমাধ্যমিক পাস। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি শৌখিন পরিবহনে চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৩ সালে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের কাজ শুরু করেন। তারপর ধীরে ধীরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে শুরু করেন প্রতারণা। তিনি হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পরে সরকারি চাকরি দেয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেন। ঢাকায় তাঁর দুটি বাড়ি, দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। দুটি বিলাসবহুল গাড়িও ব্যবহার করেন তিনি। সূত্র- প্রথম আলো/বিডি নিউজ।

দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো.সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে এবার যৌতুক দাবি এবং নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন তার স্ত্রী। গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর খিলগাঁও থানায় এ মামলা (নং-৫২) দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ১১(গ)/৩০সহ দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী, জান্নাতুল কৌশরী। মামলায় সালাহউদ্দিনের ছোট বোন শামিমা সুলতানাকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে কৌশরী উল্লেখ করেন,২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক সালাউদ্দিন ইমনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আমার পরিবার বিবাদীর ঘর সাজানোর জন্য ২ লাখ টাকা দেয়। বিয়ের পর আমাদের সাংসারিক জীবন কিছুদিন ভালো চলে। কিছুদিন পর থেকে তার ছোট বোন শামিমা সুলতানার প্ররোচনায় সালাহউদ্দিন ফ্ল্যাট কেনার জন্য ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি আমার পরিবার থেকে ২০ লাখ টাকা এনে দেই। কিছুদিন পর যৌতুক হিসেবে আরও ১ কোটি টাকা দাবি করেন। কিন্তু পরিবার থেকে ওই টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে সালাহউদ্দিন আমার ওপর শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় খিলগাঁওস্থ বর্তমান ঠিকানায় আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কিলঘুষি লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আমার বড় মামা আবু হান্নান মো: মনোয়ার হোসেন এবং হুমায়রা ইসলাম এর সাক্ষী রয়েছেন। খিলগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো.নাজমুল হুদা মামলাটি তদন্ত করছেন। টেলিফোনে তিনি জানান, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, আমি প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়েছি। সামাজিকভাবে বিয়ে হলেও কিছুদিন পর জানতে পারি কৌশরীর সঙ্গে বহু পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এসব সম্পর্ক ত্যাগ করার জন্য তাকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আমি ব্যর্থ হই। তার অবৈধ সম্পর্কের বহু তথ্য-প্রমাণ আমার হাতে রয়েছে। এসব নিয়ে কথা বলতেই সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর তার মামা আমার ওপর চড়াও হয়। আমাকে আহত করে। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিলে ওরাই আমার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা দায়ের করে।
এদিকে মামলার বাদী জান্নাতুল কৌশরী বলেন, কোনো নারী সংসার ভাঙতে চায় না। তার মানসিক ও শারীরীক নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। আমার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তিনি বলেন, আমার আগেও ইমন একাধিক বিয়ে করেছে। আমি তার চতুর্থ স্ত্রী-এ কথা কারও কাছে বলতেও পারি না। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দিনাজপুরের সহজ-সরল একজন মেয়ে।
প্রসঙ্গত: উপ-পরিচালক মো.সালাহউদ্দিন দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান-তদন্ত শাখায় কর্মরত। পিকে হালদার, জিকে শামীম,শহিদ ইসলাম পাপুল এবং ক্যাসিনোকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তা। সূত্র – দৈনিক ইনকিলাব।

 

সাম্প্রদায়িক হামলার মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে – আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় করা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করা হবে।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে নবাগত সাব-রেজিস্ট্রারদের বরণ এবং রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। ভিডিও এভিডেন্স গ্রহণ করার একটা ধারা আছে। সে ধারায় কোনো অসুবিধা হবে না। মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবে।
রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক,এসোসিয়েশনের মহাসচিব জাহিদ হোসেন প্রমুখ।