ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করতে হলে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে—সরকারি চাকরি আইনের এমন বিধান কেন অ-সাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার এই রুল জারি করেন।
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪১ (১) ও ৩ ধারার বৈধতা নিয়ে কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিটটি করেন। ৩ ধারায় আইনের প্রাধান্য বিষয়ে এবং ৪১ ধারায় ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাদি সম্পর্কে বলা আছে।
আইনের ৪১ (১) ধারা বলছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান দুলু, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
আরিফুল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি। গত বছরের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। তখন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৪৫০ গ্রাম দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়ায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে আরিফুল জামিনে মুক্তি পেয়ে কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা, এস এম রাহাতুল ইসলামসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আইনজীবী মো. আজিজুর রহমান জানান, ফৌজদারি মামলাটি তদন্তাধীন। তবে সুলতানা পারভীনসহ অন্যরা জামিন নেননি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এসব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি লাগবে। এমনকি এস এম রাহাতুল ইসলামকে ইতিমধ্যে বরিশালে পদায়ন করা হয়। এ অবস্থায় আইনের ৩ ও ৪১ (১) ধারা চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদায়ন ও অন্যদের পদায়ন না করতে ওই রিটটি করা হয়।
রুলে ফৌজদারি মামলা থাকা কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পদায়ন না করতে যথাযথ নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এস এম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতারে পূর্বানুমতির বিধান কেনো অসাংবিধানিক নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
১৭ বছরেও ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়ায় হাইকোর্টের বিরক্তি
জমি নিয়ে বিরোধের এক রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ২০০৪ সালে আইন হয়েছে। আছে আদালতের রায় ও নির্দেশ। তা সত্ত্বেও ১৭ বছরেও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন হলো না, যা আদালতের জন্য বিরক্তিকর।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে আজ রোববার হাইকোর্ট এসব কথা বলেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারের উদ্দেশে আদালত আরও বলেন, ‘১৭ বছরেও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারেননি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, জানান। ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকলে প্রয়োজনে সচিবকে ডেকে আনা হবে।’
এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার বলেন, ২০১৩ সালে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
তখন আদালত বলেন, ‘গ্রামারের কথা এই আদালতে বলবেন না।’
ডেমরার ডগার মৌজায় অবস্থিত সাড়ে চার কাটা জমি নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের দুটি রায় ও সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মো. আশরারুল আজিম ওই রিট করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নসীব কায়সার।
আইনজীবী নসীব কায়সার জানান, ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ২০০৪ সালে সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা রয়েছে। সংশোধনীর পর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও আপিল ট্রাইব্যুনাল এখনো গঠন করা হয়নি।
আইনজীবীরা বলছেন, ২০০৪ সালের সংশোধিত রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২ ধারায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও ল্যান্ড সার্ভে আপিলের ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দেশে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।ট্রাইব্যুনালগুলোর নেতৃত্বে আছেন যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের বিচারক। ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল না থাকায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি ও আদেশে সংক্ষুব্ধ বিচারপ্রার্থী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
২০১৯ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট এক রায়ে অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আদালতকে অবহিত করতে ভূমিসচিবকে নির্দেশ দেন।
রায়ে বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, তথা দীর্ঘ ১৫ বছরে ভূমি মন্ত্রণালয় আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় লাখ লাখ মানুষ চরম ও সীমাহীন দুর্ভোগে নিমজ্জিত হয়েছে। সাধারণ জনগণ যাদের কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর এই ভোগান্তি ভোগ করল, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। দাঁড়াতে হবে জনগণের কাঠগড়ায়। খবরের সূত্র – প্রথম আলো।
ট্রাংকগুলো’ কোথায় গেল, সেই খোঁজটাও তারা দিক: শেখ হাসিনা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে অপপ্রচারের জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “আমি শুনলাম, কেউ কেউ বলেছে, আমি নাকি কত বস্তা, না কত ট্রাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে না কি বিমানে এসেছি। যারা এই কথাগুলো বলেছে, তারা যখন এই বিষয়টা জানে, তো সেই ট্রাঙ্কগুলো গেল কোথায়, রাখলাম কোথায়, কী হল? সেই খোঁজটা তারা একটু দিক।”
শুক্রবার নিউ ইয়র্কের ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন।
সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে দেড়শ সুটকেস নিয়ে সৌদি আরব চলে গিয়েছিল এবং সেখানে লকার ভাড়া করে নাকি অনেক জিনিস রেখে এসেছিল শোনা যায়। তখন সেটা প্রচার হয়েছিল।
“আর খালেদা জিয়ার মন্ত্রী বাবর (লুৎফুজ্জামান বাবর) যখন এখানে আসে, এয়াপোর্টে ধরা পড়েছিল কয়েক লক্ষ ডলার নিয়ে। পরে অ্যাম্বাসি থেকে লোক গিয়ে কোনোমতে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়েছিল।”
সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “যাদের এই সমস্ত বদ অভ্যাস তারা সবাইকে, মানে নিজে চোর, সবাইকে ওই রকমই মনে করে। এটা হল তাদের চরিত্র। এই ধরনের কথা তারা ছড়ায়, মনে করে যে এটা বোধহয় খুব প্রচার করতে পারবে।
“সমালোচনাকারীরা একটা কথা ভুলে যায় যে আমি জাতির পিতার মেয়ে। আমরা দেশের জন্য কাজ করি, আর ক্ষমতাটা আমাদের কাছে দেশসেবা করা, মানুষের সেবা করা। আমরা অর্থ সম্পদের জন্য লালায়িত না।”
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তাদের সন্তানরা ক্ষমতাটাকে ভোগের জায়গা বানিয়েছে। ক্ষমতাটাকে তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ার জায়গা বানিয়েছে।
“আর আমাদের কাছে ক্ষমতা হচ্ছে মানুষের ভাগ্য গড়া, বাঙালির ভাগ্য গড়া, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়া। দেশের মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।”
জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে দুদিন যাত্রা বিরতি শেষে রোববার নিউ ইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। ফিরতি যাত্রায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন।
করোনাভাইরাস মহামারীকালে এই সফরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের ড্রিমলাইনার, সেটা নিয়েই আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। কেন এসেছি? দুটো কারণ। একটা হচ্ছে যে আমি যদি এই করোনার সময় অন্য এয়ারলাইন্সের টিকেট করি, তাহলে তাদেরকে টাকা দিতে হয়। আর আপনারা জানেন আন্তর্জাতিক রুটগুলো করোনার কারণে বন্ধ ছিল। আমাদের বিমানগুলো বসেই ছিল। আর একটা বিমান বসে থাকলে তার রক্ষণাবেক্ষণে একটা বিরাট টাকা খরচ হয়।
“সেজন্যই আমি বললাম, আমরা অন্য এয়ারলাইন্সকে টাকা না দিয়ে আমাদের বিমান নিয়ে আসব। কারণ ওরা তো দেশে বসে আছে। কাজেই আমাদের সাথে আসলো আর ঘরের টাকা ঘরেই থাকল, বিমানই পেল।”
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে নিউ ইয়র্কে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালুর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
“আমাদের লক্ষ্য যে নিউ ইয়র্কে অন্তত আমাদের নিজেদের বিমান আসবে। সেটাও আমরা আনতে চাই।
জেএফকে (জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) তে ল্যান্ডিং করার প্র্যাকটিসটাও হয়ে গেল। ভবিষ্যতে তো আসব। কাজেই তার প্র্যাকটিসটা এখানে থেকেই করে গেলাম।”
বিমানের অবস্থা এক সময়ে ‘ঝরঝরে’ ছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপির আমলে বিমানের সীমাহীন দুর্নীতি ছিল। এই পর্যন্ত প্রায় ১১টা বিমান আমরা ক্রয় করেছি, আজকে আমাদের ২১টা বিমান।”
‘উন্নয়নবিরোধীরাই ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে বাংলাদেশ নিয়ে যারা বিদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়, এরা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। এরা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না। এরা বাংলাদেশের সর্বনাশে বিশ্বাস করে।
“কেউ কেউ দেখি সমালোচনা করে দূর দেশে বসেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার। আমরা যখন কাজ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, আর এদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে কিভাবে খাটো করবে।”
যারা আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অবৈধ সরকার’ বলছেন, তারা বিএনপির থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তা করছেন বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
“আওয়ামী লীগ সরকারকে আমি দেখি কেউ কেউ অবৈধ সরকার বলে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে তারা এই যে কথাগুলো বলার সুযোগটা পাচ্ছে, এই সুযোগটা কোত্থেকে পাচ্ছে? আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি বলেই তো সেই সুযোগটা পাচ্ছে। এতই যদি তাদের নীতি-আদর্শ থাকে, তাহলে আমাদের করা এই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কেন?
“আর যাদের পয়সা খেয়ে তারা করে ..আমি বিএনপির কথাই বললাম। বিএনপি, জামাত বা ৭৫ এর খুনি, এদের অর্থ দিয়েই তো এরা চলে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “উচ্চ আদালতের রায়ে আছে জিয়াউর রহমানের সরকার অবৈধ, এরশাদের সরকার অবৈধ। কারণ মার্শাল ল দিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে। আর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এতিমের টাকা মেরে খেয়ে সাজাপ্রাপ্ত, আর তার ছেলে দশ ট্রাক অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে সেই মামলায় ধরা পড়েছে, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় ধরা পড়েছে, এমনকি বিদেশে শুধু আমাদের দেশে না আমেরিকার আফবিআইয়ের হাতেই তাদের দুর্নীতি ধরা।”
তিনি বলেন, “তাদের এত টাকা! বাংলাদেশের মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে তারা এত অর্থ বানিয়েছে যে এফবিআইয়ের লোক তারা হায়ার করে ফেলেছিল। যেটা এফবিআইয়ের কাছেই ধরা পড়ে। আর সেই মামলা করতে গিয়ে সেখানে ধরা পড়ে যে এই বিএনপি অর্থ দিয়েছে জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) আমেরিকায় বসে তাকে কিডন্যাপ করার,তাকে হত্যা করার। এটা আমরা জানতাম না। এই মামলা চলার পরেই সে রায়ে বেরিয়েছে তাদের নাম।
“যারা জনগণের অর্থ সম্পদ লুট করে, খুন করে অথবা অস্ত্র পাচার করার অথবা গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি, সেই আসামিদের হাতের টাকা খেয়েই তো তারা এই বড় বড় কথা বলে আর তারাই বলে আওয়ামী লীগ অবৈধ।”
জিয়াউর রহমানে র ক্ষমতা দখলকে আদালত অবৈধ বলে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তো অবৈধ সরকারের তাঁবেদারি করে আওয়ামী লীগকে বা আওয়ামী লীগ সরকারকে অবৈধ বলায় অধিকারটা তাদেরকে কে দিল?
“জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে এবং বিএনপির যদি শক্তি থাকত তাহলে তারা নির্বাচন করত।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে ‘আইন প্রণয়নের’ জন্য ৫৩ নাগরিকের আহবান
নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে ‘আইন প্রণয়নের’ আহবান জানিয়ে এবং এ বিষয়ে মতামত দিয়ে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ৫৩ জন নাগরিক।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এমন আহবান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হবে একটি আইন প্রণয়ন করা।
“আমরা আশা করি যে, সঠিক ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করবে।
“নাগরিক হিসেবে মতামত প্রদানের মাধ্যমে আমরা এ ব্যাপার প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে পারি।” গত দুটি নির্বাচন কমিশন নিয়োগে রাষ্ট্রপতি দুটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। বিবৃতিতে ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এবং ২০১৭ সালে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে গড়া ওই দুটি কমিশনের সমালোচনা করা হয়।
সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে ‘আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে’ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও গত ৫০ বছরে কোনো সরকারই এমন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে।
“উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।” এ জন্য প্রস্তাবিত আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধান রাখার পরামর্শ দেয়া হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, আকবর আলি খান ও রাশেদা কে চৌধূরী, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি আব্দুল মতিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন পেশার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি রয়েছেন।
এছাড়াও রয়েছেন, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মহিউদ্দিন আহমদ, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর পারভীন হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও শাহদীন মালিক, ফেমার সাবেক সভাপতি মুনিরা খান, নারীপক্ষের সদস্য শিরিন হক, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আলোকচিত্র শিল্পী শহিদুল আলম, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সি আর আবরার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, লেখক অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের গবেষক অধ্যাপক স্বপন আদনান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও শাহনাজ হুদা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মোনোয়ার কামাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল নিউরোসায়েন্স সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক নায়লা জামান খান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আর্টিকেল ১৯-এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সাল, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর আবদুল আলিম ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।
বার কাউন্সিলের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৫৯৭২ জন
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৫ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশিত হয়।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। এর আগে ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৮ হাজার ৭৬৪ জন। পরে দুই ধাপে লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরীক্ষায় অংশ নেন।
৩০ মে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ৫ হাজার ৩৩৫ শিক্ষার্থী। পরে তৃতীয় পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নের পর আরও ১৩৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাদের মৌখিক পরীক্ষাও নেয়া হয়।
ছাত্রীদের ‘প্রেমের ফাঁদে’ ফেলে ধর্ষক সাগর গ্রেফতার
কক্সবাজারে ‘আমারী রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে এক তরুণীকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. সাগর মিজিকে (২৪) আটক করেছে র্যাব-১০। শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানা এলাকার সায়েদাবাদ থেকে তাকে আটক করা হয়।
এ সময় সাগরের কাছে থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। শনিবার কাওরানবাজার বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) মো. মাহফুজুর রহমান।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, সাগর গত ১৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় ‘আমারী রিসোর্টে’ একটি কক্ষ ভাড়া করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষকে তিনি জানান, তার স্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে যাবেন, তখন তার ডাবল কক্ষ লাগবে। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর সাগর ওই তরুণীকে স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে নিয়ে যান।
পরদিন সকাল থেকে ৪০৮ নম্বর কক্ষে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে মিস্ত্রির সাহায্যে কক্ষটি খুলে ওই তরুণীর লাশ দেখতে পান হোটেল কর্তৃপক্ষ। এরপর পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়।
সাগরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই ওই নারীকে স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে নিয়ে যান সাগর। এরপর তাকে ধর্ষণ করার সময় ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাগর ওই তরুণীকে ধাক্কা দিলে মেঝেতে পরে যায়। তখন সাগর তার গলাচেপে ধরে পাশে থাকা গ্লাস দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যান।
র্যাব আরও জানায়, সাগর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নারীকে মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করেছে। এ ছাড়া তিনি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে নিয়ে কৌশলে ধর্ষণ করতেন।
অপহরণকারীদের মরদেহ ক্রেনে ঝুলিয়ে রাখল তালেবান
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার অপহরণকারী নিহত হওয়ার পর তাদের লাশ ক্রেনে ঝুলিয়ে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়েছে তালেবান। শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান। হেরাতের ডেপুটি গভর্নর মাওলাউই শির আহমেদ মুহাজির বলেন, তাদের মৃতদেহ বিভিন্ন জনসমাগম স্থলে প্রদর্শন করা হয়। অপহরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এই শিক্ষা দিতেই এমনটা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রাফিক ইমেজে দেখা গেছে, একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে লাশগুলো রাখা। সেখানে ক্রেন দিয়ে একজনের লাশ ঝুলিয়ে রাখা। ট্রাকটির চারপাশে ছিল তালেবানের সশস্ত্র যোদ্ধারা। আর তা দেখতে ভিড় করে সাধারণ মানুষ। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্রেনে ঝোলানো একজনের বুকে ‘অপহরণকারীদের এমন শাস্তিই হবে’ এমন বার্তা সাঁটিয়ে দেওয়া ছিল।
গত মাসে তালেবানে দেশটির দখল নেয়ার পর এই প্রথম এমন কঠোরতম শাস্তির ঘটনা ঘটল। আর এর মধ্য দিয়ে মনে করা হচ্ছে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাহিনীটি ক্ষমতায় থাকার সময় যে কট্টরপন্থা অবলম্বন করেছিল, তা এখনো তারা বহাল রাখবে।
মুহাজির বলেন, ‘আজ শনিবার একজন ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অপহরণ করা হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে খবর আসে। এরপরই পুলিশ শহর থেকে বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয় এবং তালেবান একটি তল্লাশিচৌকিতে কয়েকজনকে আটকালে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়।’
মুহাজির এএফপির কাছে পাঠানো এক রেকর্ড বার্তায় বলেন, কয়েক মিনিটের ওই বন্দুকযুদ্ধে আমাদের একজন মুজাহিদীন আহত হন এবং চার অপহরণকারী নিহত হয়। এক ভিডিও ক্লিপে তিনি বলেন, ‘আমরা (আফগানিস্তান) ইসলামি আমিরাত। আমাদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। কাউকে অপহরণ করা যাবে না।’
আফগানিস্তানে ফের ফিরছে মৃত্যুদণ্ড, অঙ্গচ্ছেদের চরম শাস্তি
তালেবানের সাবেক ধর্মীয় পুলিশ প্রধান ও বর্তমান কারাপ্রধান মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি বলেছেন, আফগানিস্তানে মৃত্যুদণ্ড এবং অঙ্গচ্ছেদের মতো চরম শাস্তির বিধান আবার চালু করা হবে।
বার্তা সংস্থা এপি’কে তুরাবি বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য’ হাত কাটার মতো শাস্তি দেয়া জরুরি। তবে এবারে সেই আগেরবারের তালেবান শাসনামলের মতো প্রকাশ্যে এই শাস্তি দেয়া নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।
১৯৯০-এর দশকের শাসনামলে তালেবান অপরাধীদের শাস্তি দিত স্টেডিয়ামে শত শত মানুষের সামনে। অতীতে এমন প্রকাশ্যে মত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন তুরাবি।
তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই আমাদের স্টেডিয়ামে শাস্তি দেয়া নিয়ে সমালোচনা করেছে। কিন্তু আমরা তো কখনও তাদের আইন আর শাস্তি দেয়ার পন্থা নিয়ে কিছু বলিনি। আমাদের আইন কেমন হবে, তা কাউকে বলে দিতে হবে না। আমরা ইসলাম অনুসরণ করব এবং কোরআনের ওপর ভিত্তি করে আমাদের আইন তৈরি করব।”
আফগানিস্তানে আগেরবারের তালেবান শাসনামলে খুনিদের মাথায় গুলি করে মত্যুদণ্ড কার্যকর করা হত। আর চুরি করার শাস্তি ছিল হাত কেটে ফেলা। মহাসড়কে ডাকাতি করার শাস্তি হিসাবে ডাকাতিতে জড়িতদের এক হাত ও পা কেটে ফেলা হত।
এবছর তালেবান গত ১৫ অগাস্টে রাজধানী কাবুলের দখল নেয়ার পর থেকেই দেশে আগেরবারের চেয়ে নমনীয় শাসনব্যবস্থা চালুর কথা বলে আসছে। গোটা বিশ্বই তালেবানের কথা নয় বরং কাজ দেখার অপেক্ষায় আছে।
কিন্তু তালেবান যত নরম কথাই বলুক দেশজুড়ে মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন চিত্র নজরে আসছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসি জানায়, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হেরাত-এ তালেবান নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছে না এবং বাধ্যতামূলক ড্রেস কোড আরোপ করেছে।
অগাস্ট মাসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, হাজারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৯ সদস্যকে হত্যার নেপথ্যে ছিল তালেবান যোদ্ধারা। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ঠান্ডা মাথার নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ড তালেবানের অতীত রেকর্ডের কথাই মনে করিয়ে দেয় এবং তালেবান শাসনে কী হতে চলেছে তার এক ভয়াবহ আলামত পাওয়া যায়।
তালেবান এবার কাবুল দখলের দিন কয়েক আগেও বালখ প্রদেশের এক তালেবান বিচারক হাজি বদরুদ্দীন বিবিসি-কে বলেছিলেন, তিনি গোষ্ঠীটির কঠোর সাজার পদ্ধতি এবং ইসলামিক ধর্মীয় আইনের ব্যাখ্যা সমর্থন করেন। আর এখন মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবিরও তালেবানের সেই কঠোর পথে ফেরারই স্পষ্ট আলামত দিলেন।
তুরাবি তালেবানের প্রভাবশালী একজন নেতা এবং গোষ্ঠীটির এক অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতাও। মানুষকে কঠোর সাজা দেয়ার কারণে তার কুখ্যাতি আছে। ১৯৯০ এর দশকের তালেবান আমলে তুরাবি ছিলেন আইন ও ধর্মীয় পুলিশ মন্ত্রী। অনৈসলামিক সঙ্গীত শোনা কিংবা দাড়ি ছাঁটার জন্য তিনি লোকজনকে ধরে কঠোর সাজা দিতেন।
এবার এপি বার্তা সংস্থাকে তুরাবি বলেছেন, কঠোর সেইসব সাজা চালু থাকবে। তবে এখন মানুষকে টিভি দেখা, মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, ছবি এবং ভিডিও তুলতে দেয়া হবে।
অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য তুরাবি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন। তিনি জানান, তালেবান মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা এখন সাজা প্রকাশ্যে কার্যকর করা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ ব্যাপারে তারা একটি নীতি নির্ধারণ করবেন।
শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্রকে ভয় পায় না: আখাউড়ায় আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দুটি দুর্নীতি মামলার একটিতে ৭ বছর, আরেকটিতে ১০ বছর সাজা হয়েছে। মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি বাসায় চলে এসেছেন, এখন বিলাসবহুল বাসায় থাকেন। কোভিড হওয়ায় তিনি হাসপাতালে গেছেন। যেদিন থেকে হাসপাতালে গেছেন সেদিন থেকে বলা শুরু করেছেন- বিদেশে যেতে দেন, বিদেশে যেতে দেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির কারণে তখন বিমান চলে না, ট্রেন চলে না, গাড়ি চলে না, জাহাজ চলে না। কিন্ত উনাদেরকে বিদেশ যেতে দিতে হবে। আমরা বললাম চিকিৎসা হচ্ছে, তিনি সুস্থ হয়েছেন। তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন। এখনও বলে বিদেশ যেতে দেন। আমরা যদি বাংলাদেশে থেকে মানুষকে সুস্থ করতে পারি, তাহলে বিদেশ যাওয়ার দরকার আছে?’ প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
এ সময় আনিসুল হক উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারাই বলুন বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না? আপনারা বললে আমি তাকে বিদেশ যেতে দেবো।
বিএনপির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা ঢাকা শহরে চিকিৎসা নিতে চায় না। চিকিৎসকেরা ওনাকে ভালো করে দিয়েছেন। এখনো ওনারা বলছে আমরা নাকি ভয় পাই ওনাকে বিদেশ যেতে দিতে। যে লোক, যে দল দেশে থেকে অশ্বডিম্ব পাড়ে, সে বিদেশে গিয়ে কী করতে পারে আপনারা বলেন।
তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে পরিস্কার বলে দিতে চাই, শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্রে ভয় পায় না। ষড়যন্ত্রে একবার জাতির পিতাকে হারিয়েছি। আর ষড়যন্ত্র করতে দেব না। আমরা সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি, নির্বাচন ও গণতন্ত্র একই সূত্রে গাঁথা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কারণ এদেশে গণতন্ত্র আছে। আপনাদেরকে প্রমাণ করে দিতে হবে যে আমাদের মানুষ ভোট দিতে পারে। এ জন্যে তিনি জনগণকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
জনগণ চাইলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তারসহ স্থানীয় নেতারা। পরে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন আইনমন্ত্রী।
শুধু ঢাকাতেই সাড়ে ৩ হাজার মাদক ব্যবসায়ী
শুধু ঢাকা বিভাগেই সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারি রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। দুই মাস আগে সংস্থাটির করা এক হালনাগাদ তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, তালিকা ধরে তারা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

শুক্রবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আগেও মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করেছিল। সম্প্রতি এ তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এখন ঢাকা বিভাগের মাদক কারবারিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য লোকবল ও সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে অভিযানের সংখ্যা বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমান জানান, ২১ আগস্ট বনানী ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম আইসসহ ১০ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গুলশান, ভাটারা, কুড়িল ও রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৫৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ১ হাজার ২০০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার গ্রেফতার পাঁচ ব্যক্তি হলেন: জাকারিয়া আহমেদ (৩২), তারেক আহম্মেদ (৫৫), সাদ্দাম হোসেন (৩১), শহিদুল ইসলাম খান (৪৮) ও জসিম উদ্দিন (৫০)।
তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা, গুলশান ও রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।










