ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 81

প্রতারণার মামলায় ধামাকার সিওও সিরাজুলসহ ৩ জন গ্রেফতার

0

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা শপিং’-এর সিওও (চিফ অপারেটিং অফিসার) সিরাজুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক (এএসপি) আ ন ম ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র‍্যাব সূত্র জানায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার উত্তর আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. শামীম খান ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম ডি জসিমউদ্দিন চিশতীসহ (৫৭) কয়েকজনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন। তিনি পোশাক কারখানার পার্টস ব্যবসায়ী।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম আলী ওরফে মোজতবা আলী (৬০), সিওও সিরাজুল ইসলাম (রানা), প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা দেবকর দে শুভ (৩২), হেড অব অ্যাকাউন্টস সাফোয়ান আহমেদ (৪১), উপব্যবস্থাপক আমিরুল হোসাইন (৪৬), সিস্টেম ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান (৩৫), ভাইস প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম স্বপন (৩৫), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নীরদ বরণ রায় (৪৫), প্রতিষ্ঠানের কর্মী নাজিম উদ্দিন আসিফ (২৮) ও আসিফ চিশতী (২৬)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ মার্চ অনলাইনে ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ধামাকা শপিং ডটকমের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভার্চ্যুয়াল সিগনেচার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কেনার অফার দেওয়া হয়। শামীম খান অনলাইনে অফারটি দেখে প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন। যোগাযোগ করার পর তাঁকে জানানো হয়, অর্ডার করলে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। সে অনুযায়ী ৮৪টি ইনভয়েসের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে অপেক্ষা করতে বলে। এক মাস অপেক্ষা করার পর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের (অপারেশন) স্বাক্ষর করা একটি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। গত ৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সিওও সিরাজুল ইসলামের কাছে যাওয়ার পর তিনি টাকা না দিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখেন অফিস তালাবন্ধ।
মামলায় বলা হয়েছে, এ সময় শামীম খান বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই টাকা পরিশোধের ইনভয়েজ, ব্যাংকের চেকের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে মামলা করেন।

বাইরের আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনায় দুদকের খরচ হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা, হারছে মামলাতেও ; ফাঁস হয়ে যায় গোপন তথ্য

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট না থাকায়, ভাড়া করা আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনার পেছনেই বছরে খরচ হয়ে যাচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। আর এসব আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনা করে দুদক আশানুরূপ সফলতা পাচ্ছে না। অনেকক্ষেত্রে মামলার গোপন তথ্য আগেভাগে চলে যায় আসামীপক্ষের হাতে। ফলে বেশিরভাগ মামলাতেই হেরে যাচ্ছে দুদক। যদিও দুদক আইনে নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো গত ১৭ বছরেও এই আইন বাস্তবায়ন হয় নি। বেশিরভাগ মামলাতে হেরে যাওয়ায় দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ের কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিচারিক আদালতে ৫৩ ভাগ এবং উচ্চ আদালতে ৯৫ ভাগ মামলাতেই হেরে যাচ্ছে দুদক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪’র ৩৩ ধারায় দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইনের ৩৩ (১) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন কমিশন কর্তৃক তদন্তকৃত এবং স্পেশাল জজ কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলাগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে কমিশনের অধীন উহার নিজস্ব একটি স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট থাকিবে।’ অর্থাৎ এই আইনের আওতায় দুদকের নিয়োগকৃত স্থায়ী আইনজীবী বা আইনকর্মকর্তা থাকবে। যারা দুদকের মামলা পরিচালনা করবেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে ৫টি কমিশন গঠিত হলেও কোনো কমিশনই আইনের এ অংশটি কার্যকর করেনি। নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালালেও রহস্যজনক কারণে তা বেশিদূর এগুতে পারেনি। বর্তমানে দুদকের মামলা পরিচালনায় আইনের ৩৩ (৩) ধারা প্রয়োগ হচ্ছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘কমিশনের নিজস্ব প্রসিকিউটর নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কমিশন কর্তৃক অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত বা অনুমোদিত আইনজীবীগণ এই আইনের অধীন মামলাসমূহ পরিচালনা করিবে।“
আইনের এই ক্ষমতাবলেই দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবীদের একটি প্যানেল তৈরী করা হয়েছে । তারাই আদালতে মামলা পরিচালনা করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, বেশিরভাগ আইনজীবী পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন না হওয়ায় এবং ক্ষমতাবান আসামীরা তাদের পক্ষে বড় বড় আইনজীবী নিয়োগ করায় আইনী লড়াইয়ে পারছেন না দুদকের আইনজীবীরা। ফলে অধিকাংশ মামলায় হেরে যেতে হয়। আর হারলেও এসব প্যানেল আইনজীবীদের কোনো দায় থাকে না। দুদকও তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে না।
দুদকের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, বিচারিক এবং উচ্চ আদালতে কোথায় কতজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হবে- তাদের মানদণ্ড কী হবে- এমন একটি নীতিমালা থাকলেও সেটা অনুসৃত হয় না।
দুদক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কমিশন প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ১০ বছরে দুদক ৩ হাজার ৬শ’ ৬২টি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে বিচারের জন্য আদালতে উঠেছে ৩ হাজার ১২টি মামলা। এসব মামলায় বিভিন্ন আদালতে দুদকের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য যেসব প্যানেল আইনজীবী রয়েছেন, এর মধ্যে ঢাকার বিশেষ আদালতে ১৩ জন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে ৩৯ জন এবং অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসেবে রয়েছেন ৭ জন। ঢাকার বাইরেও দুদকের নিয়োগকৃত আইনজীবী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে দুদকের রয়েছে মামলাভিত্তিক (কেস টু কেস) চুক্তি। অর্থাৎ মামলা অনুসারে তাদের ফি বা অর্থ পরিশোধ করা হয়। সূত্র মতে, ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে প্যানেল আইনজীবীদের ফি বাবদ দিতে হয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৩৯০ টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে আইনজীবীদের দেয়া হয় ৪ কোটি ৬২ লাখ ৯৭ হাজার ৭২১ টাকা। অর্থাৎ বছরে গড়ে সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা শুধু আইনজীবীদের মামলা খরচ দিতে হয়।

এতো অর্থ খরচ করেও দুদক আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না। বিচারিক আদালতে ৫৩ শতাংশ মামলায় হেরে যাচ্ছে। আর যে গুলোতে জিতলেও অর্থাৎ আসামীর সাজা হলেও উচ্চ আদালতে এসব সাজা টিকছে না। উচ্চ আদালতে দুদকের মামলায় হারের সংখ্যা বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী যা ৯৫ শতাংশ। বিচারিক আদালত বা উচ্চতর আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে দুদক হেরে গেলেও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেনা দুদক। খুব বেশী হলে ওই আইনজীবীকে প্যানেল থেকে বাদ দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, যোগ্যতার চেয়েও রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তি সম্পর্ক, তদবির ও অনুরোধের ভিত্তিতে দুদকে আইনজীবী নিয়োগ পেয়ে যান। সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনায় আসছে না। দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া অনেক আইনজীবী প্রকাশ্যে দুদকের পক্ষে আর নেপথ্যে আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে। অনেকের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের সুবিধা অনুযায়ী শুনানিতে বার বার তারিখ চাওয়া, আদালতে দুদকের সাক্ষীকে অনুপস্থিত দেখানো, জামিনে যথাযথ বিরোধিতা না করা, রেকর্ডপত্র উপস্থাপন না করার মতো নানা কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ ওঠে। এই আনৈতিক ভূমিকার কারণে দুদকের অনেক গোপন তথ্য এবং মামলার আইনী ফাঁকফোকর আসামীপক্ষ জেনে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, যদি দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট থাকতো তা হলে এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো না।
এসব বিষয় নিয়ে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে কথা বললে ,তিনি জানান এ সমস্যাটি নিয়ে তারাও ভাবছেন। তিনি বলেন, দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট অবশ্যই থাকা দরকার। এটা কি ভাবে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে কমিশনের সভায় আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

টাকার উপর লেখা ও স্ট্যাপলিং করতে নিষেধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

0

টাকার বাণ্ডিলে স্ট্যাপলিং, টাকায় ঠিকানা লেখা নাম লেখা এমন কী প্রেমপত্র লেখার ঘটনাও আছে । এটা বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও নেই। স্ট্যাপলিংএর ফলে টাকা ছিড়ে যায়, নষ্ট হয়। কিন্তু টনক নড়েনা কারও। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে নতুন ও পুনঃপ্রচলনযোগ্য ব্যাংক নোটের উপর যেকোনো ধরনের লেখা, সিল মারা এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, প্রতিটি প্যাকেটে নোটের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্যাকেট ব্র্যান্ডিং করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার নাম, সিল, নোট গণনাকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ সম্বলিত লেবেল/ফ্ল্যাইলিফ লাগানোর বিধান থাকলেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, উক্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সরাসরি টাকার ওপর সংখ্যা ও তারিখ লেখা, শাখার সিল, স্বাক্ষর ও অনুস্বাক্ষর প্রদান, স্ট্যাপলিং ইত্যাদি করা হচ্ছে। ফলে, নোটগুলো অপেক্ষাকৃত কম সময়ে অপ্রচলনযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় অর্থেরও অপচয় হচ্ছে।
নোটের ওপর লেখা, সিল মারা এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিন নোট পলিসি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়, যা মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনায় বলা হয়, গণনাকালে নোটের ওপর লেখা, স্বাক্ষর, সিল প্রদান এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং (১ হাজার টাকা মূল্যমান নোট ব্যতীত) থেকে বিরত থাকা এবং প্যাকেটে নোটের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্যাকেট ব্যান্ডিং করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার নাম, সিল, নোট গণনাকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ সম্বলিত লেবেল/ফ্ল্যাইলিফ লাগানোর বিষয়টি কঠোরভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকে কারেন্সি নোট/ব্যাংক নোট জমা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব বিধি-বিধান ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য আপনাদের পুনরায় নির্দেশনা দেয়া গেল।

হাইকোর্টের আদেশে শেষ পর্যন্ত মুক্তি মিলেছে ঝুমন দাশের

0

দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তিনি সুনামগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।
মুক্তির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঝুমন দাশ প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন। তার পাশে দাঁড়ানোয় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আর কারা ফটকে ঝুমন দাশের মা নিভারানী দাশ বলেন, ‘৬ মাস ধরে ছেলের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই আশা পূরণ হলো। খুব কষ্টে দিন গেছে, বলে বোঝাতে পারব না। ঝুমন মুক্তি পাওয়ায় আমি খুশি। তবে নিঃশর্ত মুক্তি পেলে আরও বেশি খুশি হতাম।’
সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশের আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ বলেন, ‘ঝুমন দাশের কারামুক্তিতে তার পরিবারের সঙ্গে আমরাও খুশি। তবে আরও আগেই তার জামিন হওয়া উচিত ছিল। এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঝুমন ন্যায়বিচার পাবেন।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঝুমন দাশ গত ১৭ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জ কারাগারে ছিলেন। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে।
হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। মামুনুল হকের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে পরদিন ১৬ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁওয়ে আশপাশের তিনটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ ঘটনায় ঝুমন দাশকে ১৬ মার্চ রাতেই আটক করে পুলিশ। পরদিন তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২২ মার্চ শাল্লা থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে পুলিশ।
পরে তার মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ তার মুক্তির দাবি জানান। সুনামগঞ্জে ঝুমন দাশ একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তার জামিন হয়নি। পরে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।
এ দিকে নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় থানা ও আদালতে আরও তিনটি মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় আসামি প্রায় দুই হাজার। এর মধ্যে ঝুমন দাশের মা নিভারানী দাশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ১১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বর্তমানে সবাই জামিনে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝুমন দাশ একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রেতার কাজ করতেন। পরে নিজেই প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। তার স্ত্রী সুইটি রানী দাশ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়েন। তাদের এক বছর বয়সী এক ছেলে আছে। এ ছাড়া পরিবারে তার মা, এক ভাই ও দুই বোন আছেন। ঝুমনের আয়েই সংসার চলে।

পাঁচ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছে হাইকোর্ট

0

বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা এবং মানহানির পাঁচ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে হাই কোর্ট।
খালেদা জিয়ার আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকা ও নড়াইলের মানহানির চার মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে আদেশ দেয় বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
আর কুমিল্লায় বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশটি হয় সোমবার। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো.ইজারুল হক আকন্দের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেয়।
আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কায়সার কামাল ও এ এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শামীমা সুলতানা দীপ্তি, মো. রোকনুজ্জামান সুজা ও মো. মাকসুদ।
কুমিল্লার মামলায় হাই কোর্ট ২০১৯ সালের ৬ মার্চ খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিল। পরে ওই বছরের ২০ অগাস্ট জামিনের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। সোমবার তা আরও এক বছর বাড়ানো হল।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকায় তিনটি ও নড়াইলে একটি মানহানির মামলা হয়। এসব মামলায় ২০১৮ ও ২০১৯ সালে হাই কোর্ট থেকে খালেদা জিয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরে কয়েক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। 
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গতবছর ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। পরে আরও তিন দফা মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে প্রায় তিন ডজন মামলা বিচারাধীন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বিএফইউজের নির্বাচন দুমাসের জন্য স্থগিত করল হাই কোর্ট

0

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। বিচারপতি মো. মুজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
বিএফইউজের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং নির্বাচন স্থগিত চেয়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌসের করা এক আবেদনে এ আদেশ দিয়েছে আদালত। 
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তীর্থ সলিল পাল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. নুরুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।
বিএফইউজের ভোটার তালিকায় হাসান ফেরদৌসের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
শ্রম সচিব, শ্রম অধিদপ্তরের মহারিচালক, ট্রেড অর্গানাইজেশনের পরিচালক, রেজিস্ট্রার ও বিএফইউজের সভাপতিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী তীর্থ সলিল পাল জানান, “হাসান ফেরদৌস সিইউজের নিয়মিত সদস্য এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সিইউজের ভোটার লিস্টে তার নাম থাকলেও বিএফইউজের ভোটার তালিকায় তার নাম নাই।
“বিষয়টি তিনি বারবার বিএফইউজেকে জানিয়েছেন। বিএফইউজে শ্রম অধিদপ্তরের নিবন্ধিত একটি সংগঠন। শ্রম অধিদপ্তরেও উনি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি হাই কোর্টে রিট করেছিলেন।”
আগামি ২৩ অক্টোবর সংগঠনটি নির্বাচনের তারিখ ছিল। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

অবৈধ সম্পদ: এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী’র বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক এম বদিউজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ মামলা দুটি দায়ের করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান “এক মামলায় বদিউজ্জামানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। অপর মামলায় তার স্ত্রী নাসরিন জামানকে প্রধান করে দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।”

নতুন প্রজন্মের এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক এম বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে এক কোটি তিন লাখ ১০ হাজার ৭২২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তা দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপর মালায় নাসরিন জামানের বিরুদ্ধে এক কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার ৯২২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলায় বদিউজ্জামানকে আসামি করার বিষয়ে এজাহারে বলা হয়, “বদিউজ্জামানের অপরাধলব্ধ অর্থ দ্বারা তার স্ত্রী নাসরিন জামান সম্পদ গড়েছেন।“
মামলা দুটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন- ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির পরিচালক এম বদিউজ্জামান এবং তার পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলমকে প্রধান করে সহকারী পরিচালক শহিদুর রহমান ও সহকারী মিরাজ হোসেন সমন্বয়ে ৩ সদস্যের টিম গঠন করে ।
সূত্র জানায়, এম বদিউজ্জামানের দেশে ছাড়াও বিদেশেও ব্যবসা রয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরে দুটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। দুদক থেকে তাদেরকে সম্পদবিবরণী দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হলে তারা প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব জমা দেন।
বদিউজ্জামানের স্ত্রী নাসরিন জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিসহ অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অ্যাডভান্স হোম প্রাইভেট লিমিটেড ও ফিনিক্স লিমিটেডের বিপুল অঙ্কের শেয়ার কেনা, মানি লন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ছিল।
বদিউজ্জামানের যত সম্পদ:
বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্প :এনআরবি ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামান দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় নামে-বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বারিধারার বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের এফ ব্লকের ১৮নং রোডে বড় আকারের একটি প্লটে নির্মিত বাড়ি, যার মূল্য কমবেশি দশ কোটি টাকা। বসুন্ধরা প্রকল্পের এ ব্লকে মেইন রোডে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ১৫নং প্লটে রয়েছে সাততলা বাণিজ্যিক ভবন। ভবনটির মালিকানায় রয়েছেন বদিউজ্জামানসহ তার পরিবারের সদস্যরা। এ ভবনের আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি টাকা। বসুন্ধরা প্রকল্পের এ ব্লকের ৮নং প্লটে পাঁচ কাঠা জমিতে রয়েছে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। বদিউজ্জামান এ ভবনটি তিন কোটি টাকায় নির্মাণ করার পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১৬ কোটি টাকায় বিক্রি করেন।
গুলশান :রাজধানীর গুলশান ১নং রেইন্স ওয়াটার ফ্রন্ট আবাসিক ভবনে রয়েছে প্রায় তিন হাজার একশ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এর দাম প্রায় সাত কোটি টাকা।
বনানী : বনানীর এ ব্লকের ৭৭/এ নং প্লটে রয়েছে অ্যাডভান্স রাইটস নামে বহুতল আবাসিক ভবন। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৬৫ কোটি টাকা।
জোয়ারসাহারা : রাজধানীর জোয়ারসাহারা মৌজায় জগন্নাথপুরে ১১ কাঠা জমিতে নির্মিত অ্যাডভান্স রেইনবো নামে ৯ তলা আবাসিক ভবন। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকা। জোয়ারসাহারায় ভাটারা থানায় ১৪ কাঠা জমিতে নির্মিত অ্যাডভান্স প্যারাডাইস নামে ৯ তলা আবাসিক ভবনে রয়েছে এক হাজার ৪৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
উত্তরা : রাজধানীর উত্তরার ১৩নং সেক্টরের ৩নং রোডের ৬নং প্লটে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য দশ কোটি টাকা।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানায় রয়েছে ১৪৮ বিঘা জমির ওপর অ্যাডভান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। এই জমি ও এর ওপর গড়ে ওঠা সব স্থাপনার আনুমানিক মূল্য দশ কোটি টাকা। এটি বদিউজ্জামানসহ তার ছেলের নামে কেনার পর ২০১৩ সালে লাবিব গ্রুপের কাছে ৬০ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ জেলা সদরে প্রায় ৩৫০ বিঘা জমিতে রয়েছে দুটি আবাসিক প্রকল্প- অ্যাডভান্স নিরালা ও অ্যাডভান্স সুগন্ধা। এগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। গোপালগঞ্জ সদরে সার্কিট হাউস রোডে রয়েছে নিজের নামে বিলাসবহুল আবাসিক বাড়ি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দশ কোটি টাকা।
অস্থাবর সম্পদ :বদিউজ্জামানের নামে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। এনআরসি ব্যাংক থেকে কেনা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার শেয়ার। বিভিন্ন ব্যাংকেও বদিউজ্জমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিরাট অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে।

চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যা: জামাতের শাহজাহানসহ ৯৩ জনের বিচার শুরু

0

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আট বছর আগের পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় জামাতে ইসলামীর নেতা শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরীসহ ৯৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেল বিচারক একেএম মোজাম্মেল হক চৌধুরী সোমবার তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেন ।
আদালতের পিপি মো. আইয়ুব খান জানান, হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় মোট ৯৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হওয়ায় ৯৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রাণদণ্ডের রায় ঘোষণা হলে সেদিন জামাত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরে কর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নাশকতা চালায় তারা। পুলিশ এই প্রতিবন্ধকতা সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে জামাত শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
পরে লোহাগাড়া উপজেলার জমির কমপ্লেক্স নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে থেকে পুলিশ কনস্টেবল তারেকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামাতের সাবেক আমির শাহজাহান চৌধুরী যিনি বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের এমপি ছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর জামাতের সাবেক আমির শামসুল ইসলাম ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাতকানিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জামাতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় গত ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র ঋণ: আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ হাই কোর্টের

0

দেশে যেসব সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই ক্ষুদ্র ঋণের কারবার করছে, সেসব বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের ভার্চুয়াল বেঞ্চে সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
আদেশে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন ক্ষুদ্র ঋণের কারবার নিয়ে তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে এ কিমিটিকে প্রতিবেদন দিতে হবে।
তদন্তের সময় যদি অননুমোদিত বা লাইসেন্স ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ কারবারী সমবায়, বা কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বন্ধের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সুদ কারবারীদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রিট মামলার বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৩০ নভেম্বর তারিখ রাখা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।
সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
গত ২৮ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে তিনি রিট আবেদনটি করেন।
এতে মহাজনদের উচ্চহারে অনানুষ্ঠানিক ঋণ প্রথা নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রুল চাওয়া হয়। কিন্তু আদালত সোমবার আবেদনে সংশোধন এনে রুলসহ আদেশ দেয়।
লাইসেন্স এবং অনুমোদন ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণকারবারী বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে বিবাদীদের নীরবতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। 
অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান, ও সমাজসেবা অদিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন সম্পূরক আবেদনের মাধ্যমে দেশে কারা চড়া সুদের ব্যবসা করছে, কীভাবে ব্যবসা করছে, সে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনকে ক্ষদ্রঋণের সনদ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৩৪টি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের সনদ বাতিল করা হয়েছে।
শুনানিতে সুমন বক্তব্য ছিল, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষদ্রঋণের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ছাড়া আর করো সুদের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কিন্তু সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দেদারসে উচ্চহারে সুদের ব্যবসা চলছে। আর এর শিকার হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এমনকি মধ্যবিত্তও।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক জানতে চেয়েছিলেন, সনদ বাতিল করার পরও কেন বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা চ্যলেঞ্জ করা হয়েছে?
আইনজীবী সুমনের জবাব ছিল, সনদ বাতিল হলেও তাদের ব্যবসা থেমে নেই।
বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান তখন সনদ বাতিল করা ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র ঋণের কারবার করছে জানতে চান।
আবেদনকারী আইনজীবী তা দেখাতে ব্যর্থ হলেও তিনি বলেন, মাইক্রোক্রেডিট অথরিটি চাইলে সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এ অথরিটির কাছে অন্য কেউ অভিযোগ করতে পারবে না। অভিযোগ করতে হবে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের কর্তৃক্ষকে।
“এইসব কারণেই কিন্তু প্রতারক চক্র গড়ে উঠছে। মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তদারককারী হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা আছে। কিন্তু তারা তো তদারক করছে না। এই জন্যে তাদের নিষ্ক্রীয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে,” বলেন সুমন।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক তখন বলেন, “এই যে এত দুর্বল দেশ, এই দর্বল দিক দিয়ে আমরা সরকারকে কী দেব, কী বলব? রাগীব (এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব এহসান) নামের এক হুজুর আগে শিক্ষক ছিল। শিক্ষকতার টাকা দিয়ে হচ্ছে না। তখন ইসলামের দোহাই দিয়ে সুদমুক্ত হালাল টাকা, গুনাহ-পাপ এই সমস্ত কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গেছে।”
আইনজীবী সুমন বিচারকের কথায় সায় দিয়ে বলেছিলেন, এগুলো চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন। এরা মানুষকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মানুষ পথে বসে যাচ্ছে।
বিচারক তখন বলেন, “এই ইস্যুটা আমাদের আরও গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। আমরা শুনেছি, বিষয়টা আমরা দেখব। একটা-দুইটা পত্রিকার রিপোর্ট দিয়ে হবে না। আরও অনেক কিছু দেখতে হবে। এটা খুবই জটিল বিষয়। এর সাথে কোন অথটিরিট জড়িত, কী কী আইন আছে, সব দেখতে হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

অবৈধ সম্পদ : সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু

0

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগমের বিচার শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় রোববার ঢাকার ৩ নং জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। একইসঙ্গে আগামী ২৭ অক্টোবর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মামলার শুনানির সময় আব্দুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিনে রয়েছেন।
২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলা দায়েরের তিন দিন পর ওই বছর ২৪ আগস্ট মান্নান খান ঢাকা সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
অন্যদিকে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। ওই বছর ২৩ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন হাসিনা সুলতানা।
২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাতে দেখা যায়, তার আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার।
অন্যদিকে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামার তথ্যানুযায়ী পাঁচ বছর আগে আবদুল মান্নান খানের সম্পত্তি ছিল ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। কিন্তু এমপি হওয়ার পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেটা ফুলে-ফেঁপে হয় ১১ কোটি তিন লাখ টাকা। আগে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় বছরে তিন কোটি ২৮ লাখ টাকায়। পাঁচ বছরের প্রতিমন্ত্রিত্বকালে তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে ১০৭ গুণ। দুদকের তদন্তে বের হয়ে আসে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।
মান্নান খান তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় এক কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার ২২৭ টাকার উৎস দেখিয়েছিলেন মৎস্য চাষ থেকে; কিন্তু দুদকের তদন্তে, দোহার জয়পাড়া এলাকায় মান্নান খান বা তাঁর স্ত্রীর কোনো মৎস্য খামারের সত্যতা পায় নি।