ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 84

বিচারপতির প্রশংসা করায়, ডা. জাফরুল্লাহর রিটের শুনানিতে অপারগতা

0

মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দায়ের করা এক রিট মামলা শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ অপারগতা প্রকাশ করেন।
আদালতে এদিন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম শুনানি করেন। পরে তিনি বলেন, ‘আগে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজে ১১০ শিক্ষার্থীর ভর্তির অনুমতি ছিল। ২০২১ সালে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ৫০ শিক্ষার্থীর বেশি ভর্তি করা যাবে না। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছিলাম। তখন মাত্র ১০ জন বাড়ানো হয়। অর্থাৎ ১১০ জনের জায়গায় ৬০ জনকে ভর্তির অনুমতি দেয়া হয়।’
ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আমরা হাইকোর্টে রিট করি। যা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রিট মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। তখন আদালত বলেন, “যেহেতু জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেব আমাদের বেঞ্চের প্রশংসা করেছেন। তাই এ রিট মামলা অন্য বেঞ্চে হওয়াই ভালো। যদি আমাদের বেঞ্চ থেকে একটি অর্ডার হয়, তাহলে অন্য কেউ বিরূপ মন্তব্য করতে পারেন। তাই আপনারা রিটটি অন্য বেঞ্চে শুনানি করেন’।”
গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের প্রশংসা করেন। জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সম্প্রতি একটি খুনের মামলায় দুই বিচারপতি বাংলাতে রায় দিয়েছেন। তাদের অভিনন্দন। একইভাবে যখন পরীমনিকে হয়রানি করা হচ্ছিল, তারা (দুই বিচারপতি) প্রতিকারের চেষ্টা করেছেন। আমাদের যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুণী ও সজ্জন বিচারপতি হলেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম। সবচেয়ে খারাপ হচ্ছেন এ বি এম খায়রুল হক।’
এ বি এম খায়রুল হকের উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি আরও বলেন, ‘এ বি এম খায়রুল হক এক রায় লিখলেন তিন মাস পর, আবার বদলালেন। আপনারা, বিচারপতিরা সুয়োমটো করে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এনে তাকে দাঁড় করান। গণতন্ত্র হত্যার মূল নায়ক এ বি এম খায়রুল হক।’
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি তো জানেন, খুনের আসামিরও জামিন হয়। আপনি যেখানে বসে আছেন, সেখানে রায় হয়। এক রিকশাওয়ালা তার স্ত্রীকে হত্যা করেছিল, নিম্ন আদালতে তার ফাঁসির রায় হয়। যা সব আদালতেই বহাল থাকে। তবে মৃত্যুদণ্ডের আগ পর্যন্ত তিনি জামিনে ছিলেন। এ উদাহরণ তো আপনারাই তৈরি করেছিলেন। তাহলে খালেদা জিয়ার কেন জামিন হবে না?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক মালেকের ৩০ বছর কারাদণ্ড

0

দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল টাকার মালিক হওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে অস্ত্র আইনের মামলার দুটি ধারায় ১৫ বছর কনে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক রবিউল আলম সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
দুটি ধারায় মালেককে ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে বলে তাকে ১৫ বছরই কারাগারে কাটাতে হবে। 
বিচারক তার রায় পড়া শেষ করেন মাত্র পাঁচ মিনিটে।

প্রতিক্রিয়া

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর  সালাহউদ্দিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।”
অন্যদিকে মালেকের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এই রায়ের মধ্যে দিয়ে ন্যায় থেকে বঞ্চিত হয়েছি।…  এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”
বিচারক সাজা ঘোষণার পর মালেক বলতে থাকেন, “আমাকে মিথ্যাভাবে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে ধরা হয়েছে। আমি নির্দোষ, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। র‌্যাব যখন বাসায় এল, তখন কিছুই পায় নাই। পরে এসব অস্ত্র-গুলি কোথা থেকে এলো?”

“মালেকের স্ত্রী এজলাসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। মালেকের বোন চিৎকার করে বলতে থাকেন, “মিথ্যা মামলায় আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে, আমি আমার ভাইকে না নিয়ে বাসায় যাব না।”

মালেকের ছেলে বলেন, “আমার বাবার নাকি এত টাকা, কোথায় গেলো এসব টাকা? একশ দুইশ কোটি টাকা নাকি আমার বাপের, কোথায় গেল?”

মালেকের স্বজনরা এজলাসের বাইরে এভাবে চিৎকার করে বিলাপ করতে থাকলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এক পর্যায়ে তাদের মহানগর আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে যান।
মামলা বৃত্তান্তঃ

অবৈধ অস্ত্র, জাল নোটের কারবার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতবছর ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকার বাসা থেকে গাড়িচালক মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সে সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি টাকার জাল নোট উদ্ধারের কথা জানানো হয়।

সে ঘটনায় র‌্যাব-১ এর পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। এরপর মালেককে ১৪ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় গত ১১ জানুয়ারি মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব -১ এর এসআই মেহেদী হাসান চৌধুরী। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আদালত গত ১১ মার্চ এ মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ি চালক আব্দুল মালেক ওরফে বাদল ‘খুবই প্রভাবশালী’। তিনি বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

কর্মস্থলে সাংগঠনিক পদবি কাজে লাগিয়ে তিনি ‘বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের’ মালিক হয়েছেন এবং তিনি ‘জাল টাকার কারবারও’ করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৩ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেন।

এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার অবশিষ্ট অংশ বিচারের জন্য ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালে পাঠানো হয়। সেখানে ৯ সেপ্টেম্বরে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন আসামি মালেক।

১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
মালেকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের আরেকটি মামলা রয়েছে বলে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি জানিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ঢাকার রাজারবাগ পীরের সম্পদ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

0

ঢাকার রাজারবাগ দরবার শরিফ ও এর পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে দরবার শরিফ বা পীরের অনুসারীদের কোনো অংশ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে। দুটি তদন্তই ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারীদের করা মানবপাচারসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় নাকাল আট ভুক্তভোগীর রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।
এর আগে, রাজারবাগ দরবার শরিফ ও পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত বৃহস্পতিবার রিট আবেদনটি করেছিলেন আট ব্যক্তি। তারা হলেন- মো. আব্দুল কাদের, মাহবুবুর রহমান খোকন, ফজলুল করিম, জয়নাল আবেদিন, মো. আলাউদ্দিন, জিন্নাত আলী, আইয়ুবুর হাসান শামীম, নাজমা আক্তার ও নারগিস আক্তার।
তাদের অভিযোগ, পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ ফৌজদারি মামলা করে হয়রানি করছে। এসব মামলা কারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনটিও ৬০ দিনের মধ্যে দিতে বলেছেন আদালত। এ ছাড়া হয়রানি, অপদস্ত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফৌজদারি মামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বিশেষ শাখা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরাধ তদন্ত বিভাগ), ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ মহাপরিদর্শক, গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমান ও মামলাগুলোর বাদীসহ ২০ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্দেশনা ও রুল জারির পাশাপাশি আদলত রিট আবেদনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বলেছেন।’
পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারী চক্রের অস্তিত্বহীন বাদীর মামলা চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ জুন হাই কোর্টে রিট করেছিলেন ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট এসব ‘অস্তিত্বহীন’ মামলার বাদীকে খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ অনুযয়ী সিআইডি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিলে গত ৬ সেপ্টেম্বর সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
সে প্রতিবেদনে শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, মানবপাচারের মতো নানা অভিযোগ উঠে আসে। ওই প্রতিবেদন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম সেদিন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন! জায়গা জমি দখলের জন্য পীর সাহেব কী করেছেন দেখেন! সম্পত্তির জন্য তথাকথিত মুরিদ দিয়ে মামলা করিয়েছেন। পীর সাহেবের কেরামতি দেখেন!’

গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার ও স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিস

0

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুজিস্তা আক্তার বানুর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক জানিয়েছেন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েক কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়ে তাদেরকে সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ছকে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে ‘অঢেল সম্পদ’ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় এই নোটিস দেয়া হয় বলে দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্রটি জানিয়েছে , জেলা রেজিষ্ট্রার অহিদুল ইসলামের ঢাকা শহরে কয়েকটি ফ্ল্যাট, জায়গা জমি, নামে বেনামে ব্যবসা, ব্যাংকে বুপুল পরিমান অর্থের সন্ধান পেয়েছে দুদক।
অহিদুল ইসলামকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়, “প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাই নোটিস পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে হবে।” দুদক সূত্র জানিয়েছে ঢাকার জেলা রেজিষ্ট্রারসহ আরও কয়েকজন সাব রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। তাদেরও সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য নোটিস দেয়া হবে।

কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি বাতিলের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

0

সমুদ্র সৈকতের পাশে কক্সবাজারের দরিয়া নগরে ৭০০ একরের বেশি সংরক্ষিত বনভূমি উজার করে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি।
রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংসদীয় কমিটি বলেছে, কক্সবাজারের সরক্ষিত বিপুল বনভূমি কীভাবে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলো তা খতিয়ে দেখা হবে।
বন অধিদপ্তরও বলছে, বনভূমির মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমরা যেখানে বেদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করছি, সেখানে সরকারের আরেকটি সংস্থা জমি যদি নিয়ে নেয়, এটা তো ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে আমরা সমর্থন করি। তবে ওই জায়গায় এটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমাদের বিধি-নিয়ম এমনকি এটা সংবিধান পরিপন্থি। এটা অন্য জায়গায় হোক।”
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে সংরক্ষিত কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ঝিলংজা বনভূমির ৭০০ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। এলাকাটি প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন।
২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়; সংস্থাটি ওই বছরই বিভিন্ন শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়।
ওই এলাকাকে ১৯৩৫ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৮০ সালে এটাকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা হয়। ২০০১ সালে দেশের বনভূমির যে তালিকা করা হয়, তাতেও ঝিলংজা মৌজা বনভূমি হিসেবে আছে।
সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই জমিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ১০০ একর সৃজিত বাগান রয়েছে; ২০-২০০ ফুট পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চতার পাহাড় রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো, গর্জন, চাপালিশ, তেলসুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ওই এলাকা হাতি, বানর, বন্য শুকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির আবাসস্থল।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই এলাকায় প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এ বনভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা নিষেধ। তারপরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই জমি বরাদ্দ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমরা বোঝার চেষ্টা করছি এটা কীভাবে হলো। যদি কেবল জমির দাগ ও খতিয়ান দেয়া হয় এবং ভূমির আকার ও প্রকৃত বর্ণনা না করেন, সেটা হতে পারে কী না। আমরা মনে করি সেটাই হয়েছে। এটা আমরা দেখবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যে অনুমতি এসেছে, সেই দপ্তরও হয়তো এই বিষয়টি পুরোপুরি জানে না।”
তিনি বলেন, “এই জমির বিষয় আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সংরক্ষিত বন হিসেবে এই জমির মালিক জেলা প্রশাসন। আর এ জমি কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্তযোগ্য নয় বলে রিমার্ক থাকে। অর্থাৎ এই জমি কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্ত দেয়া যাবে না। কাজেই এই জমি বন্দোবস্ত দেয়ার সুযোগ নেই।”
ওই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি এসেছে জানিয়ে সভাপতি বলেন, “আমরা সেই চূড়ান্ত অনুমতি না দিতে বলেছি। পাশাপাশি সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলেছি। আমরা চাই বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়।”
বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে বলে তিনি জানান।
বনভূমির ওই জমি বরাদ্দ দেয়া ‘বিধিসম্মত’ হয়নি উল্লেখ করে সাবের হোসেন বলেন, “যেহেতু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন তারা প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র চেয়েছে। আমরা এটা না দিতে বলেছি। পরিবেশমন্ত্রীও আমাদের সাথে একমত।”
বনবিভাগ থেকে আগেই আপত্তি দেয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটা ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিল। তবে তারা জানতো না জমির ধরন কী। তাদের কাছে হয়তো দাগ ও খতিয়ান নম্বর দেয়া হয়েছে।”
পরে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজারে ওই বনাঞ্চলের ৭০০ একর জায়গায় জনপ্রশাসন একাডেমি নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পর্যালোচনা করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া কমিটি ২০২১-২০২২ অর্থ-বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার সুপারিশ করে।
সাবের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং মো. শাহীন চাকলাদার বৈঠকে অংশ নেন। বিডি নিউজ।

শেয়ার বাজারে নুতন আইন, আইপিওতে ১০ হাজার টাকার বেশি আবেদন করা যাবে না, ওটিসি বাতিল

0

শেয়ারবাজারে আইপিওতে আবেদনে ফের নিয়ম পাল্টানো হয়েছে। এখন থেকে নতুন আসা আইপিওতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ হাজার টাকার বেশি শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। চাঁদা গ্রহণের অপেক্ষায় থাকা সেনাকল্যাণ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির আইপিওর মধ্য দিয়ে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। কোম্পানিটির আইপিওর সম্মতিপত্রে (কনসেন্ট লেটার) বিষয়টি উল্লেখ করে দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বর্তমানে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী আইপিও সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে আইপিও শেয়ারপ্রাপ্তিতে কমবেশি হয়। শেয়ারপ্রাপ্তির এ ব্যবধান কমিয়ে আনতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিওতে আবেদন ১০ হাজার টাকায় নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। ফলে আবেদনকারী সব বিনিয়োগকারী আইপিওতে সমানসংখ্যক শেয়ার পাবেন।

জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে আইপিওতে বেশি শেয়ার পান, সে জন্য এ বিধান করা হয়েছে। ফলে কেউ চাইলে বেশি টাকার আবেদন করতে পারবেন না, বেশি শেয়ারও পাবেন না। নতুন এ শর্ত কোম্পানিগুলোর আইপিওর সম্মতিপত্রে উল্লেখ করে দেয়া হবে। এরই মধ্যে সেনাকল্যাণ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির আইপিওর সম্মতিপত্রে এ শর্ত যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, সেনাকল্যাণ ইনস্যুরেন্সের আইপিওর চাঁদা গ্রহণ শুরু হবে আগামী ৩ অক্টোবর। আইপিওতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুতে বিক্রি হবে। কোম্পানিটি ১ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

এদিকে গত এপ্রিল থেকে শেয়ারবাজারে আইপিওর ক্ষেত্রে লটারি প্রথা তুলে দিয়েছে বিএসইসি। লটারি পদ্ধতির বদলে আবেদনকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এত দিন একজন বিনিয়োগকারী ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বা তার গুণিতক পরিমাণ হিসাবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এখন গুণিতকের বদলে ১০ হাজার টাকা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে
আইপিও আবেদনের নতুন বিধান অনুযায়ী, আইপিওতে আবেদনের আগে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর বা আবেদনকারীর বাজারমূল্যে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা সেকেন্ডারি বাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থাকতে হবে।
ওটিসি বাতিল:
শেয়ারবাজার থেকে ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) প্ল্যাটফর্মকে অকার্যকর করা হয়েছে। ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪১টিকে এসএমই প্ল্যাটফর্ম ও বিকল্প লেনদেন (অলটারনেটিভ ট্রেডিং) বোর্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর বাকি ২৯টিকে বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আগামী রোববার থেকে ওটিসি বাজারে কোনো কোম্পানির লেনদেন হবে না। এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। আদেশে বলা হয়েছে, ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৩টিকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ২৩ কোম্পানির মধ্যে ৭টি উৎপাদনে রয়েছে, বাকি ১৬টির উৎপাদন বন্ধ। এ ছাড়া ওটিসিতে তালিকাভুক্ত ১৮টি কোম্পানিকে অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বা বিকল্প লেনদেন বোর্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ২৯টিকে নিয়ম অনুযায়ী তালিকাচ্যুত করা হবে। এর ফলে ওটিসি বাজারে লেনদেনযোগ্য আর কোনো কোম্পানি থাকবে না। ফলে ওটিসি বাজারটি অকার্যকরই হয়ে পড়বে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের রক্ষার্থে পুঁজিবাজার থেকে ওটিসি মার্কেট আউট করে দিচ্ছি। এ মার্কেটটিতে খারাপ খারাপ কোম্পানিগুলো অবস্থান করছে। যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেবে না, উৎপাদনে যাবে না এগুলোকে একেবারে মার্কেট থেকে আউট করে দেব। বিনিয়োগকারীদের পাওনা মিটিয়ে দিয়ে কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করে দেব। যেসব কোম্পানি উৎপাদনে যাবে, তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে এটিবি ও এসএমই বোর্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সহিংসতায় জড়িত হেফাজত নেতা গ্রেফতার

0

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে হেফাজত নেতা মুফতি রেজওয়ান রফিকীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় তাঁর উসকানি ছিল। সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা তথ্য প্রচার ও উসকানি দিচ্ছিলেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর কেন্দ্র করে ঢাকায় যে সহিংসতা হয়েছিল, ওই ঘটনায় মুফতি রেজওয়ান রফিকীর সম্পৃক্ততা ছিল। এ ঘটনায় গত ৮ এপ্রিল করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। ওই সহিংসতায় তিনি উসকানি দেয়ার পাশাপাশি সরাসরি অংশ নেন।

মিয়ানমারের সু কি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, হতে পারে ২০ বছরের জেল

0

মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামীদের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে সেনাবাহিনী। এবার নেত্রী আং সান সু কি’র বিরুদ্ধে আরও এক দুর্নীতির মামলা রুজু করল দেশটির সামরিক প্রশাসন। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন সু কি-র আইনজীবী।
সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, সু কি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চলছে। এবার ফের একটি নতুন মামলা শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমরের সরকারি সংবাদমাধ্যম। গত জুন মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, রাজধানী নিপোডোর একটি থানায় সু কি’র বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’র আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে। অভিযোগ, একটি দাতব্য সংস্থার জমি নয়ছয় করেছেন সু কি ও তাঁর সঙ্গীরা। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বলে রাখা ভাল, ২০১২ সালে নিজের মায়ের নামে এই সংস্থাটি তৈরি করেছিলেন দেশটিতে গণতন্ত্রের প্রধান মুখ আং সান সু কি।
উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি আচমকাই মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনা। পতন হয় নির্বাচিত সরকারের। তারপর থেকেই সেনার নির্দেশে গৃহবন্দি মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সু কি । তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর্থিক দুর্নীতি, ভোটে কারচুপি এমনকী ভোটপ্রচারে করোনাবিধি ভাঙারও অভিযোগ রয়েছে নোবেলজয়ী এই নেত্রীর বিরুদ্ধে।
ক্যু-এর প্রায় চার মাস পর গত মে মাসে প্রথমবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। সেখান থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। গত বছর বিরোধীদের পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে সু কি’র দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’। মিয়ানমার সংসদের নিম্নকক্ষের ৪২৫টি আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয়ী হয় তারা। কিন্তু, রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে বিগত দিনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় সু কি সরকারের। তারপর অভ্যুত্থান পালটে দেয় গোটা চিত্র।

ইভ্যালির রাসেল ও শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে

0

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত শুক্রবার এ আদেশ দেন। এমডির পাশাপাশি রাসেল ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদেও আছেন। আর তাঁর স্ত্রী শামীমা ইভ্যালির চেয়ারম্যান।
বেলা দুইটার দিকে রাসেল ও শামীমাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেল ও শামীমাকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ।
আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে রাসেল ও শামীমাকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।
র‍্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন শেষে শুক্রবার রাসেল ও শামীমাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গত বুধবার গভীর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন।
র‍্যাব জানায়, ইভ্যালির কারসাজির মূল হোতা রাসেল। স্ত্রী শামীমা তাঁর অন্যতম সহযোগী। গ্রেপ্তারের পর কোম্পানির দায় ও দেনা সম্পর্কে তাঁদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানিয়েছেন, গ্রাহক ও পণ্য সরবরাহকারীদের কাছে ইভ্যালির দেনা বেড়ে এক হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।
র‍্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, গত ফেব্রুয়ারিতেও এই দেনার পরিমাণ ছিল ৪০৩ কোটি টাকা। গ্রাহকের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি রাসেল। সর্বশেষ দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে ইভ্যালিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

ঢাকায় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার অপতৎপরতা, দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত

0

আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশ গুলোতে তাদের অপতৎপরতা বাড়িয়েছে। তালেবানকে ক্ষমতায় আনার পেছনে সাহায্য সহযোগিতা করেছে আইএসআই। এখন তারা টার্গেট নিচ্ছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গীসংগঠনগুলোকে মাঠে নামানোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানী মানসিকতার লোকজনকে নিয়ে গ্রুপ করে তারা মতবিনিময় ও বার্তা আদান প্রদান করছে। এসব গ্রুপে বর্তমান সরকার বিরোধী লোকজন সংযুক্ত রয়েছেন। বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করা হচ্ছে এর পেছনে,যার যোগান দিচ্ছে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার দেশের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’তে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, মাঝখানে কয়েক বছর বিরতির পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকায় আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে সরকারি সংস্থাগুলো মনে করছে। বিশেষ করে জঙ্গি–সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০১৫ সালে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে দ্বিতীয় সচিব ফারিনা আরশাদ এবং ২০১৬ সালেজঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে লেনদেনের সময় আটক ভিসা কর্মকর্তা মাযহার খানকে প্রত্যাহারের পর আইএসআই নিজেদের লাগাম টেনে ধরেছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় সারা বিশ্ব যখন ভুল তথ্য ও ভুল খবরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আছে, ঠিক এমন একটা সময়ে আইএসআই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগাতে তৎপর হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মতো আইএসআই এবার ঢাকায় বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে।
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরফান রাজাই একমাত্র কূটনীতিক, যাঁকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে ২০০০ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের তখনকার উপহাইকমিশনার ইরফান রাজা ঢাকায় বসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্হিত মন্তব্য করেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরিবর্তে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপান। একাত্তরের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিরোধিতা করে ইরফান রাজা সে সময় বলেছিলেন, ‘১৯৭১–এ পাকিস্তানের অর্ধেকটা হারানোর জন্য কি আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত?’ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিষ্টাচারবর্জিত ওই মন্তব্যের জের ধরে ইরফান রাজাকে বাংলাদেশ অবাঞ্ছিত (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করে। সাধারণত কোনো কূটনীতিককে তাঁর কর্মস্থলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলে তাঁর আর সে দেশে থাকার সুযোগ থাকে না। ফলে বাংলাদেশ ইরফান রাজাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দ্রুত ঢাকা ছাড়ার নির্দেশ দিলে ২০০০ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি পাকিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য হন। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরফান রাজাই একমাত্র কূটনীতিক, যাঁকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের মতো মহামারি মোকাবিলা এবং আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এ অপতৎপরতা উদ্বেগের বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কারণ, কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তালেবানের উত্থান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আর ঐতিহাসিকভাবে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তান সরকার এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) যোগসাজশের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত।
পররাষ্ট্রবিষয়ক মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) গত মাসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাধারণত পাকিস্তানের সরকার এবং সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয়কে সমর্থন করে। তবে তালেবানের প্রতি পাকিস্তানের অব্যাহত এ সমর্থন ঝুঁকিপূর্ণ।
পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নিয়ে কাবুলে আইএসআই প্রধান ফাইজ হামিদ। তাঁর এই ছবি টুইট করে আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ
নিউইয়র্কভিত্তিক সিএফআরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তালেবানের আর্থিক এবং রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় উৎস হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তালেবানকে অর্থ, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রের জোগান দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই)। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আবার এ হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে তালেবান। পাকিস্তানে তালেবানের মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে তালেবান বিপুল অঙ্কের চাঁদা নিয়ে থাকে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেছে। মূলত আইএসআই নেপথ্যে থেকে ওই গ্রুপের মাধ্যমে ধর্মকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাটি কিছু স্বার্থ পূরণের উদ্দেশ্যে ভুল তথ্যের পাশাপাশি বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে।
আইএসআইয়ের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নতুন নয়। সম্প্রতি কানাডায় আইএসআই বেলুচিস্তানের মানবাধিকারকর্মীদের নিয়ে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়েছে। নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আইএসআই এ ধরনের তৎপরতা চালিয়ে থাকে, সেটা বাংলাদেশের অজানা নয়। অতীতেও আইএসআই বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে প্রতিবেশী একটি দেশের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর অপচেষ্টা করেছিল। তবে ২০১৫ সালে ফারিনা আরশাদ এবং ২০১৬ সালে মাযহার খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের পর তাদের তৎপরতা কিছুটা কমেছিল।
গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় ইসলামপন্থী বিক্ষোভে মদদ ও সংগঠিত করার সঙ্গে পাকিস্তানের নাম জড়িয়ে পড়ার কথা শোনা যায়। সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্যবাদীদের যোগসাজশে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালানো হয়। ওই নাশকতায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রচার রয়েছে। নাশকতার ওই ঘটনার তদন্তে হেফাজতে ইসলামের একাধিক নেতার সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগসাজশের অভিযোগ এসেছে।
ঢাকার বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইএসআই তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্যের ওপর বিশেষভাবে পুঁজি করছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নানা ধরনের ভুল তথ্য, খবর এবং অপপ্রচার সঠিক তথ্যের চেয়ে অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইয়ের এ ধরনের প্রোপাগান্ডা চালানোর বিষয়টির তথ্য জানা যায়। এরপরই টুইটারের একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দেখা গেছে, ভারতের বিরুদ্ধে আইএসআইয়ের হয়ে টুইটারের অ্যাকাউন্টটি চালানো হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মতো নতুন এক মহামারি মোকাবিলায় সারা বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, এমন এক পর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইএসআইয়ের এ ধরনের তৎপরতা উদ্বেগের। সম্মিলিতভাবে মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় যেকোনো ধরনের ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্যের প্রচার বন্ধুদেশগুলো মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজন তৈরি করতে পারে, যা চূড়ান্তভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মঙ্গলজনক নয়।