ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 85

পদত্যাগে বাধ্য ব্যাংকারদের চাকরিতে ফেরাতে নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

0

ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে, তাদের বিধিমোতাবেক চাকরিতে বহালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। পাশাপাশি করোনাকালীন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণে চাকরিচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না বলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়।
সম্প্রতি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর ফজল কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কর্তৃক ইচ্ছামাফিক ঢালাওভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাই বন্ধ করতে বেশ আগে নির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকতর উজ্জীবিত হয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
কিন্তু সম্প্রতি কিছুসংখ্যক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ পাওয়া গেছে, সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও করেনাকালীন শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করা বা অদক্ষতার অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং চাকরি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদত্যাগ করার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না, যা নির্দেশনার পরিপন্থী।
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে কর্মস্পৃহা অটুট রাখার স্বার্থে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নির্দেশনা তিনটি হলো-
১. সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত না করা।
২. করোনাকালীন শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণ প্রদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত অথবা পদত্যাগ করতে বাধ্য না করা।
৩. পয়লা এপ্রিল ২০২০ তারিখ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত হয়েছেন কিংবা চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের (আবেদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে) বিধিমোতাবেক চাকরিতে বহাল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা গ্রেফতার

0

ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিন ইভ্যালির চেয়ারম্যান।
র‍্যাবের একটি দল বিকেল থেকে রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান শুরু করে । গ্রেফতারের পর রাসেল ও তাঁর স্ত্রীকে র‌্যাবের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতারণার অভিযোগে বুধবার গভীর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারের বরাত দিয়ে গুলশান থানার পুলিশ জানায়, গ্রাহক আরিফ বাকের ও তাঁর বন্ধুরা ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে কিছু পণ্যের অর্ডার দেন। গত ২৯ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত আরেফ বাকের বিভিন্ন সময় পণ্যের মূল্য বাবদ ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা অনলাইন ব্যাংকিং ও একটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। পণ্য ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে দিতে ব্যর্থ হলে সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের অঙ্গীকার করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সবশেষ ৫ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির গ্রাহকসেবা শাখায় (কাস্টমার কেয়ার সেন্টার) যোগাযোগ করে পণ্য পেতে ব্যর্থ হন। এর আগে যতবার যোগাযোগ করা হয়, ততবারই তারা দেব-দিচ্ছি বলে টালবাহানা করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর বাকেরসহ তিনজন ধানমন্ডির ১৪ নম্বর রোডে ইভ্যালির অফিসে যান ও প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁরা বাধার শিকার হন। পরে বাকের বন্ধুদের নিয়ে ইভ্যালির অফিসে প্রতিনিধিদের সঙ্গে পণ্যের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁরা চিৎকার-চেঁচামেচি করেন।
একপর্যায়ে অফিসের ভেতর থেকে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল তাঁকে ভয়ভীতি দেখান ও তাঁদের টাকা দিতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। তখন ইভ্যালির চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত হয়ে পণ্য অথবা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। তিনিও তাঁদের ভয়ভীতি, হুমকি দেওয়াসহ চরম দুর্ব্যবহার করেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ইভ্যালি পণ্য বিক্রির নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁর মতো অসংখ্য গ্রাহকের ৭০০-৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সাড়ে ১২ কোটি টাকার পাচারের সময় শাহজালালে একজন গ্রেফতার

0

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে গার্মেন্টস পণ্য ঘোষিত একটি বাক্স থেকে প্রায় ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার সৌদি রিয়াল ও ২০ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার উদ্ধার করা হয়েছে যা বাংলাদেশি টাকায় ১২ কোটি ৫১ লাখের বেশি।
সোমবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে রপ্তানি কার্গো ভিলেজে সিকিউরিটি স্ক্যানিংয়ের সময় সিঙ্গাপুরগামী একটি কার্টন থেকে এই রিয়েল ও ডলার জব্দ করা হয়।
এভিয়েশন সিকিউরিটর (এভসেক) সদস্য গাজী কাইয়ুম রাতে রপ্তানি কার্গো ভিলেজে সিকিউরিটি স্ক্যানিংয়ের সময় সিঙ্গাপুরগামী এ কার্টন শনাক্ত করেন।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (এসকিউ-৪৪৭) এসব মুদ্রা বিদেশে পাচারের চেষ্টা চলছিল। কার্টনের ভেতরে রিয়ালগুলো কার্বন পেপারে মোড়ানো ছিল।’
তিনি জানান, ফ্রেইটার প্রতিষ্ঠান স্টার এক্সপ্রেস লাইনের চালান থেকে মুদ্রা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মো. হাসান আলী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে, তিনি স্টার এক্সপ্রেসের কর্মী।
প্রায় ৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মঙ্গলবার ভোরে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান, সেখানে ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার সৌদি রিয়াল ও ২০ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুরের ডলার ছিল। যা বাংলাদেশি ১২ কোটি ৫১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯১ টাকার সমান।
ধারণা করা হচ্ছে পাচারের উদ্দেশ্যে বিদেশি মুদ্রাগুলো সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছিল, তিনি যোগ করেন।

রাজধানীর কমলাপুরে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

0

রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুরে ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে দক্ষিণ কমলাপুর বাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান জানান, দক্ষিণ কমলাপুর বাজার রোড এলাকার রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই যুবক। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নিহত যুবক ওই এলাকায় ভাসমান অবস্থায় থাকত। তার সঙ্গে থাকা আরেক যুবক তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। নিহতের পেটে, পিঠে ও হাতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে।
এসআই জানান, বিস্তারিত জানতে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

রাজধানীতে ৩০০০ পিস ইয়াবা ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

0

রাজধানীর রমনা,মোহাম্মদপুর ও লালবাগ এলাকা থেকে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩০০০ পিস ইয়াবা ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানিয়েছে শিল্পকলা একাডেমির মূল গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০০০ পিস ইয়াবাসহ রাকিব ও আরিফ নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা রাজধানীতে ইয়াবা ব্যবসা করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি’র গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। গ্রেফতারকৃতের নাম মামুন খান। মোহাম্মদপুর থানার বছিলা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রাইভেট গাড়িতে গাঁজা নিয়ে এরা ঢাকা হয়ে দিনাজপুর যাওয়ার কথা ছিল। গোপন তথ্যে বছিলা তিন রাস্তার মোড় এলাকার জালাল টেলিকমের সামনে গাঁজা বহনকারী প্রাইভেটকারটি পৌঁছালে ব্যারিকেডের মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে মামুনকে প্রাইভেটকারসহ গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গাড়িতে তল্লাশি করে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া লালবাগ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবাসয়ীকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিভিন্ন সময় এসব অভিযান চালায় পুলিশ।

বিদেশে যেতে খালেদা জিয়াকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে: আইনমন্ত্রী

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে চাইলে তাকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
রবিবার আইন কমিশনের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ আছে কি না- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যে আবেদন করেছেন তা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার একটি আবেদন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত রেখে তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল। এ অবস্থায় একে পরিবর্তন করার আইন নেই। যদি এটা করতে হয়, তাহলে তাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে গিয়ে এই (বর্তমান) আবেদন বাতিল করতে হবে। এরপর আবার নতুন আবেদন করতে হবে। এ আবেদনের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর পক্ষে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে মতামত দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এর আগে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ আরো বক্তব্য রাখেন বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটের মহাপরিচালক সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব গোলাম সারওয়ার প্রমুখ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে ছিলেন খালেদা জিয়া। এ মামলায় হাইকোর্টে তার সাজা বেড়ে ১০ বছর কারাদণ্ড হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতে সাত বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। ২৫ মাস কারাভোগের পর গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার খালেদা জিয়ার সাজা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্থগিত করলে কারামুক্ত হন খালেদা জিয়া। দ্বিতীয় দফায় তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়। চলতি মাসে সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এই আবেদনটির ওপর মতামত দিয়ে পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরো ৬ মাস বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসম্মতি জানাতে পারবে না কোনো ক্লিনিক হাসপাতাল: হাইকোর্ট

0

দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সংশ্লিষ্ট রোগীকে পাঠাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সব বেসরকারি-সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা, জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগ রয়েছে- এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পৃথক তালিকা এবং স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক চিত্রও তিনমাসের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে যখনই হাসপাতাল বা ক্লিনিক অথবা চিকিৎসকদের কাছে আনা হবে, তাৎক্ষণিক তাকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসম্মতি জানাতে পারবে না। যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে সেক্ষেত্রে জরুরি সেবা রয়েছে, এমন নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে পাঠাতে হবে।
রুলে দেশে বিদ্যমান সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর প্রয়োজন বিশেষে যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসম্মতি জ্ঞাপন কেন বেআইনি হবে না এবং যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকে, সেক্ষেত্রে জরুরি সেবা রয়েছে, নিকটস্থ এমন কোনো হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে কেন পাঠানো হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া রুলে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার সময় এবং বিদ্যমান রেজিস্টার্ড হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করার সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আবশ্যিকভাবে বিদ্যমান থাকতে হবে- শর্ত যুক্ত করে দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতেও পৃথক রুল জারি করা হয়েছে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশের ফলে হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য থাকবে।

অস্ট্রেলিয়া যেতে নারীর ফাঁদে পড়ে ৫৫ লাখ টাকা খোয়ালেন আইনজীবী

0

পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর কাছ থেকে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। আইনজীবী এমএবিএম খায়রুল ইসলামের (৪৭) সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তারা হলেন- মো.সাইমুন ইসলাম (২৬) ও মো. আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, জাল ভিসা ও জাল টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। এ চক্রের মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা প্রস্তুত করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবেন বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ, সে হিসেবে চুক্তি করতেন তিনি। রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন।
সিআইডি জানায়, রোজী দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এমএবিএম খায়রুল ইসলামের। তখন রোজী অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হন ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীকে দেখান। এতে করে ভুক্তভোগী বিশ্বাস করতে থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান রোজী। এরপর ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতে থাকেন। ওই আইনজীবীও রোজীর ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য রোজীর দেওয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা দেন এ আইনজীবী। টাকা দেওয়ার পর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান সবগুলোই ভুয়া এবং জাল।
অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ১ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার বনশ্রী ও শাজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

জামাতের ৫ নেতা ফের রিমান্ডে

0

জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো দুই দিনের রিমান্ডের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
রাজধানীর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এর আগে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে গ্রেপ্তার জামাতের এই পাঁচজন ছাড়া রোববার বাকি চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মাসুদ-উর-রহমান।
নতুন করে রিমান্ডে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন জামাতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত ও রফিকুল ইসলাম খান।
রোববার আদালতে মনিরুল ইসলাম ও আবুল কালাম নামে দুই জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। তাদেরসহ দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ও আব্দুর রবকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিন হাকিম শহিদুল ইসলাম আসামি মনিরুল ইসলাম এবং হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া আরেক আসামি আবুল কালামের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতে পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রনপ কুমার ভক্ত এসব তথ্য জানান।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ মিয়া রিমান্ডে থাকা ৯ আসামিকে আদালতে হাজির করেন।
তিনি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৫ জনকে ফের ১০ দিনের রিমান্ড, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্য দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
গত ৬ সেপ্টম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে থেকে জামাতের সেক্রেটারি জেনারেলসহ তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখানে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।
রোববার নতুন করে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, “তদন্তে জানা গেছে ৫ আসামিসহ তাদের সহযোগীরা ঘটনার দিন ও সময়ে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে বর্তমান সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত, প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসত্ত্বা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
“তারা বিভিন্ন উস্কানিমূলক লিফলেট তৈরি করে তা বিলি করে সাধারণ মানুষকে ধ্বংসাত্মক কাজে উদ্বুদ্ধ করে।“
এতে আরও বলা হয়, তারা সরকারকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তাড়ায় আর কি কি পরিকল্পনা করেছিল, পরিকল্পনার নেপথ্যে আর কে কে জড়িত, দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার কাজে তারা কী ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল এবং এ ধরনের কাজে তাদের কোথা থেকে, কিভাবে অর্থ সংস্থান হয় তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।“
এ জন্য তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ডের পক্ষে ও জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। বিডি নিউজ ।

নাটোরের এমপি শিমুলের কানাডায় বাড়ি কেনার তথ্য চেয়েছে হাই কোর্ট

0

নাটোরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ও কানাডায় বাড়ি কেনার তথ্য জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে তা নাটোর সদরের বনবেল ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজাউল চৌধুরীকে হলফনামা করে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অর্থ পাচারে জড়িত দ্বৈত নাগরিক ও দ্বৈত পাসপোর্টধারী সংক্রান্ত হাই কোর্টের স্বঃপ্রণোদিত মামলায় পক্ষ হতে আবেদন করেছিলেন রেজাউল চৌধুরী।
রোববার তার আবেদনটি নিষ্পত্তি করে শিমুলের তথ্য নিয়ে আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
আদালত আদেশে বলেছে, “আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হল। আবেদনকারীর কাছে এ সংক্রান্ত (সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতীর বিষয়ে) বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে তা হলফনামা করে আদালত, রষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন –দুদকে সরবরাহ করতে বলা হল।”
পাশাপাশি রষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতেও বলা হয়েছে আবেদনকারী রেজাউল চৌধুরীকে।
আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক ও মো. বেলাল হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
পক্ষভুক্তির আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা ছিল জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, “আজকে একজন এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন পক্ষভুক্ত হতে, কাল আরেকজন আসবেন কোনো একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে। এভাবে চলতে থাকলে মামলাটি নিষ্পত্তি হবে না।”
তিনি বলেন, “১৩ হাজার ৯৩১ জন দ্বৈত নাগরিকের তালিকা আমরা আদালতে দাখিল করেছি। সেটির এখনও শুনানি হয়নি। আবেদনকারী বলছেন, এই তালিকা থেকে সংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতীর নাম বাদ পড়েছে। যদি বাদ পড়ে থাকলে তা যুক্ত করে নিতে পারি আমরা। এর জন্য পক্ষভুক্ত হওয়ার কোনো দরকার নেই।”
এ আইন কর্মকর্তা বলেন, রেজাউল চৌধুরীর আবেদনটি আদালত নিষ্পতি করে আদেশ দিলেও তাকে মামলায় পক্ষভুক্ত করতে বলা হয়নি।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান।
প্রাথমিকভাবে অর্থপাচারে জড়িত যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি বলে জানান তিনি।
এছাড়া রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীও রয়েছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেলেন। তবে সেদিন কারও নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
সে বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাঙালি অধ্যুষিত কানাডার ‘বেগম পাড়া’র প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সেসব প্রতিবেদন নজরে আসার পর গত বছর ২২ নভেম্বর হাই কোর্ট অর্থপাচারকারী, দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চায়।
স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।
এছাড়া প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে অর্থপাচারকারী সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল দেয়।
নির্দেশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এসব প্রতিবেদনের উপর শুনানির পর বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট আছে এবং যারা দেশের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে দেশে-বিদেশে নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়া করছেন, তাদের তালিকা চায় হাই কোর্ট।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপারকে (ইমিগ্রেশন) সে তালিকা দিতে বলা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে সে তালিকা দাখিল করা হয় আদালতে; যেটি উপস্থাপনের অপেক্ষায় আছে।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন নাটোরের রেজাউল চৌধুরী।
সংসদ সদস্য শিমুল ও তার স্ত্রী জান্নাতীর অর্থ পাচার ও কানাডায় বাড়ি কেনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আবেদনটি করেন তিনি। সেই আবেদনটিই নিষ্পত্তি করে আদেশ দিল উচ্চ আদালত। বিডি নিউজ।