ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 89

দুদকও আইনের ঊর্ধে নয়, তদন্তে ধীরগতিতে হতাশ হাইকোর্ট

0

অনুসন্ধান বা তদন্ত আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘ইতিবাচক’ কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন হাইকোর্ট। বিশেষ বিধান থাকার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান, তদন্ত শেষ না করায় সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে উচ্চ আদালতের এক রায়ে।
হাইকোর্ট বলেছেন, দুদক আইনের ৩২ ধারা ও বিধি ১৫ অনুযায়ী কমিশনের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা। দক্ষতার সঙ্গে বিচার কাজ শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
গত ২৪ জানুয়ারি দুদকের মামলায় এক আসামির অব্যাহতির আদেশ বাতিল করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে রায় দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানেই এসেছে এসব পর্যবেক্ষণ। ৭২ পৃষ্ঠার রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন বিচারক মহি উদ্দিন শামীম।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, কমিশনের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা এবং দক্ষতার সঙ্গে বিচার কাজ শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাহলেই দুর্নীতি এবং দুর্নীতি চর্চা নির্মূল হবে। যদি কমিশনের কোনো কাজ, আদেশ, কার্যপ্রণালী এবং নিষ্ক্রিয়তা সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে এবং দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন যদি যথাযথ ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে নীরবতা অবলম্বন করে, তবে সব প্রচেষ্টাই ব্যাহত হবে।
২০১১ সালের ২৬ জুলাই কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মমিনুর রহমান ও সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের রংপুরের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ওই দিনই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ৬ মে মো. জহিরুল ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির পর ওই বছর ১২ জুন রংপুরের বিশেষ জজ আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে তাকে অব্যাহতি দেয়। বিশেষ জজ আদালতের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন হাইকোর্টে একটি রিভিশন পিটিশন দায়ের করে।
প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। জহিরুল ইসলামকে দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় সেই রুলে। চূড়ান্ত শুনানির পর রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিশেষ আদালতে বিচারাধীন মামলাটির বিচার কাজ এক বছরের মধ্যে অথবা দ্রুত সময়ে শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয় হাইকোর্টের রায়ে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, আজকাল আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি, বড় বড় দুর্নীতির মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া তরান্বিত করার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আত্মসাতের টাকা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত। এর ফলে অভিযুক্তরা নিজেদের রক্ষায় সুবিধা পাচ্ছে বা সুবিধা নিচ্ছে। হাইকোর্ট বলেছেন, টাকা উদ্ধার দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ না, আইনেও সে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। টাকা পুনরুদ্ধারে শুধু এটুকু প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত বা ব্যক্তি অর্থ আত্মসাত বা পাচার করেছেন। তার মানে এটা বলা যাবে না যে, টাকা উদ্ধার হলেই অভিযুক্ত বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মামলা দায়েরের পর অনেক সময় পার হলেও বহু মামলার ক্ষেত্রে দুদক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র বা অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিতে পারেনি, যা স্পষ্টত আইনের বিধিবদ্ধ বিধানের লঙ্ঘন। তাছাড়া বিশেষ বিধান থাকা সত্ত্বেও এমন অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দুর্নীতি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অনেক সরকারি দপ্তরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু সে মামলাগুলোর অনুসন্ধান, তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ দুদক নেয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে কমিশনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন ওঠে, কমিশন কি আইনের ঊর্ধ্বে? নিশ্চিতভাবে এর উত্তর হচ্ছে ‘না’। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধি, ২০০৭ – এ কমিশনের কার্যক্রম বিশদভাবে বর্ণনা করা আছে। ফলে দেশের দুর্নীতি চর্চা বন্ধ করতে আইনগত অবস্থান থেকে কমিশনের উচিত আরও কঠোর হওয়া। তবে আইন এবং কর্যপ্রণালীর (বিধি) বাইরে গিয়ে অন্য কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা কমিশনকে দেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, কমিশন আইনের ২০ (ক) ১ ও ২ উপধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে নতুন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারে দুদক।
আর ২০০৭ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালার ৭ বিধিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে না পারলে যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লে¬খ করে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আরও ৩০ দিন সময় নিতে পারবেন। আর ২০ (খ) অনুযায়ী, তদন্তে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগে কমিশন আইন বা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন। ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে দুদককে বিশেষ ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে।

পরীমনি, পিয়াসা, হেলেনাদের ১৫ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, জানিয়েছে সিআইডি

0

চিত্রনায়িকা পরীমনি, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ,  মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্নজনের নামে থাকা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ১৫টি মামলার তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সরকারের এ তদন্ত সংস্থার প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেছেন, আগামী ‘এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে’ এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চিত্রনায়িকা পরীমনি, রাজ, পিয়াসা, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা সিআইডির তদন্তে আছে। মামলাগুলো এখনও তদন্তাধীন। তবে আমরা মামলার তদন্ত কাজ অনেকাংশে গুছিয়ে এনেছি। কিছু ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনও বাকি আছে। সব হাতে এলে আমরা এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া শুরু করতে পারব।”
তিনি বলেন, এসব মামলার আসামিরা ছাড়াও তদন্তের প্রয়োজনে অনেককে ডেকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আপাতত আর কাউকে ডাকার পরিকল্পনা তাদের নেই।
এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের এই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বলেন, “আসামিদের আর্থিক অপরাধ রয়েছে কি না, তার তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আমরা তথ্য চেয়েছি। তবে তদন্তের প্রয়োজনে আমরা এখনই সব বলতে চাচ্ছি না।”
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে এক মামলায় তিন দফা রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, তারও জবাব দেন সিআইডি প্রধান।
তিনি বলেন, “প্রথমবার আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। দিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। পরে কিন্তু তাকে আর রিমান্ড চাওয়া হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া কিছু তথ্য মেলানোর প্রয়োজন ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে আবারো রিমান্ডে চাই। সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে ভুলের ঊর্ধ্বে থাকতে চায়। তাই তদন্তের প্রয়োজনেই সব করা হচ্ছে।”
পরীমনি বা পিয়াসাদের বাসায় মদ বা মাদক রাখার বিষয়ে সিআইডি কী ধরনের তথ্য পেয়েছে প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুবুর রহমান বলেন, “মাদক মামলার আলামত তো পজেশনেই পাওয়া গেছে। সেগুলো আদৌ মাদক কিনা তা জানতে কেমিকেল ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।”
জব্দ মাদকের উৎস জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকেই অনেক রকম তথ্য দিয়েছেন। কেউ বলেছেন বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন, কেউ বলেছেন বিমানবন্দর থেকে কিনেছেন, কেউ নানা উপায়ে সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু যেখান থেকেই সংগ্রহ করা হোক না কেন, এইসব মাদক অনুনোমোদিত উপায়ে সংগ্রহে রাখা বা মজুদ রাখা আইনত অন্যায়।”
১৫ মামলার আসামিদের আর্থিক অপরাধের কী ধরনের তথ্য উপাত্ত মিলেছে প্রশ্ন করলে সিআইডি প্রধান বলেন, “তদন্তের এই পর্যায়ে আমরা মানি লন্ডারিং এর তথ্য উপাত্ত ইনকোয়ারি পর্যায়ে আছি। মানি লন্ডারিং মামলার ক্ষেত্রে দুটি পর্যায়। একটি যাচাই বাছাই, আরেকটি ইনকোয়ারি। আমরা ইনকোয়ারি পর্যায়ে আছি। প্রায় ২২টি জায়গা থেকে রিপোর্ট পেতে হয়। সব রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর যদি মনে হয় মানি লন্ডারিং হয়েছে, তাহলে আমরা তদন্ত করব।”
আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গত ২৯ জুলাই তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার পর তার বাসা থেকে বিদেশি মদ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল র‌্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মামলা হয়।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ১ আগস্ট বারিধারা ও মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে ফ্যাশন মডেল হিসেবে পরিচয় দেওয়া ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের বাড়ি থেকেও মদ ও মাদক উদ্ধারের কথা বলা হয়, দুজনের বিরুদ্ধে আলাদা মামলাও দায়ের করা হয়। 
‘ডিজে পার্টি’ আয়োজনের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ অগাস্ট ঢাকায় শরিফুল হাসান (মিশু হাসান) ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরদিন র‌্যাব যায় পরীমনির বনানীর বাসায়।
কয়েক ঘণ্টা অভিযান শেষে পরীমনি এবং তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করে নিয়ে যায় র‌্যাব। এরপর অভিযান চলে বনানীতে চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাড়িতে। সেখান থেকে রাজ এবং তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকে র‌্যাব আটক করে।
৫ অগাস্ট উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পরীমনি ও রাজের বাড়িতে ‘মদ ও মাদকদ্রব্য’ পেয়েছেন তারা। পরীমনির একটি মদের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও তার মেয়াদ ছিল না। এছাড়া রাজকে গ্রেপ্তারের সময় কম্পিউটারে ‘পার্ন কনটেন্ট’ পাওয়া গেছে।
মিশু ও জিসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরীমনি ও রাজের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে কমান্ডার আল মঈন সেদিন জানান।
এরপর চারজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়, বনানী থানায় দায়ের করা হয় মাদক আইনে দুটি মামলা। এছাড়া রাজ ও সজুজের বিরুদ্ধে পর্নগ্রাফি আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।
র‌্যাব করা জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘বিপুল পরিমাণ মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়। আর রাজের ফ্ল্যাট থেকে মদ ও ইয়াবার সঙ্গে ‘সেক্স টয়’ এবং একটি সাউন্ড বক্স জব্দ করার কথা বলা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর

0

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১১টি মামলার শুনানির তারিখ পড়েছে আগামী ২০ অক্টোবর। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ তারিখ ধার্য করেছেন।
মঙ্গলবার মামলার তারিখের বিষয়টি জানা গেছে।
গতবছর ১০ অগাস্ট এসব মামলার শুনানির তারিখ ছিল। তবে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। সব মামলার কার্যক্রম খালেদা জিয়ার পক্ষে স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।
১১ মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। অপর ১০ মামলায় অভিযোগ শুনানির দিন ধার্য ছিল।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয়।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রল বোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক যাত্রী।
ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপ-পরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান। ওই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।
২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।
২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বিচারপতি আমির হোসেন আর নেই

0

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মারা গেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান।
“তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। এর আগে দেশের বাইরেও তার চিকিৎসা হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসাপাতালে উনার চিকিৎসা চলছিল। আজ  সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান।”
বিচারপতি আমির হোসেনের বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। দুপুর পৌনে ২টায় সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনসংলগ্ন প্রাঙ্গণে তার জানাজা হবে।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এদিকে এ বিচারকের মৃত্যুতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, “আমরা সকলে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজকের জন্য আমাদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আজকে আর কোর্ট হবে না।”
বিচারপতি আমির হোসেন ১৯৫৭ সালের ৩০ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের নিকলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল বি ও এল এল এম ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগে মুন্সেফ (সহকারী জজ) হিসেবে তিনি নিয়োগ পান।
২০০৯ সালের ৬ মে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান আমির হোসেন। গাজীপুরের জেলা জজ থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে তিনি হাই কোর্টে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর বিচারপতি আমির হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন এ বিচারক।

সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো মেজর(অব.) সিনহা হত্যার বিচার

0

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল পৌণে ১০ টায় কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে দিয়ে আলোচিত এই মামলার বিচার শুরু হয়।
মামলার বাদী সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়েছে বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম।
এছাড়া মামলার ১৫ জন আসামিকে সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
এর আগে গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারীতে লকডাউন শুরু হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে গত ১৬ অগাস্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৩, ২৪ ও ২৫ অগাস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। খবর বিডি নিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম।

সিনহা হত্যার বিচার শুরু

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় গত ২৭ জুন, ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল আদালত।
আসামিরা হলেন: পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএন এর তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা এবং সাবেক এএসআই সাগর দেব।
তাদের মধ্যে প্রদীপসহ ছয় আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে বিচারক তা নাকচ করেছেন।
সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের সবাইকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে নেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ তে দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম গতবছর ১৩ ডিসেম্বর আলোচিত এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
গতবছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ।
তিন বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন।
ওই কাজে তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথ।
কক্সবাজারের পুলিশ সে সময় বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে।
পুলিশ সেদিন ঘটনাস্থল থেকেই সিফাতকে গ্রেপ্তার করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শিপ্রাকে।
সিনহা নিহতের ঘটনায় এবং গাড়ি থেকে মাদক উদ্ধারের অভিযোগে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ, যাতে সিনহা এবং তার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আসামি করা হয়।
আর নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে গ্রেপ্তার করার সময় মাদক পাওয়া যায় অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা করা হয়।
কিন্তু পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতবছর ২ অগাস্ট উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যার’ অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় আসতে শুরু থাকে।

সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৫ অগাস্ট ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ নয় জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করলে র‌্যাবকে তদন্তভার দেন বিচারক।
তাদের মধ্যে সাতজন পরদিন কক্সবাজারের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন জন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তাদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল ছাড়া ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ওই ১৪ জনের বাইরে টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেবকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার পর কক্সবাজারের পুলিশকে নতুন করে সাজানো হয়। এসপি থেকে কনস্টেবল- প্রায় সব পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয় অন্য জেলায়।
সিনহার সঙ্গী সিফাত ও শিপ্রার বিরুদ্ধে পুলিশ মাদক আইনে যে দুটি মামলা করেছিল, অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’ জানিয়ে সেসব মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
কী ঘটেছিল
সিনহার বোনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, সিনহা ও সিফাত ৩১ জুলাই(২০২০) বিকালে ডকুমেন্টারির জন্য ভিডিও ধারণ করতে নীলিমা রিসোর্ট থেকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার পাশের পাহাড়ে যান। ‘ডকুমেন্টারির প্রয়োজনেই’ সিনহার পরনে তখন কমব্যাট গেঞ্জি, কমব্যাট ট্রাউজার ও ডেজার্ট বুট ছিল।
রাত ৮টা পর্যন্ত পাহাড়ে ভিডিও ধারণ করে তারা ফিরতি পথে রওনা হন এবং রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে সিনহার প্রাইভেট কার শামলাপুর চেক পোস্টে পৌঁছায়। পরিদর্শক লিয়াকতসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে গাড়ির ‘গতিরোধ’ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।
এজাহারে বলা হয়, সিনহা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হিসেবে পরিচয় দিলে পুলিশ সদস্যরা গাড়ির সামনের বাঁ দিকের দরজা খুলে ‘টেনেহিঁচড়ে’ সিফাতকে বের করে নিয়ে যান। সিফাত তখন দুই হাত তুলে নিজের এবং গাড়িতে বসা সিনহার পরিচয় দেন।
“আসামিরা ওই সময় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।”
মামলায় বলা হয়, এ সময় সিনহা গাড়ি থেকে নেমে দুই হাত উপরে তুলে বারবার নিজের পরিচয় দেন। কিন্তু পরিদর্শক লিয়াকত তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
“বলতে থাকেন, ‘তোর মত বহুত মেজরকে আমি দেখছি। এইবার খেলা দেখামু’। এরপর লিয়াকত টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ফোন করে নিচুস্বরে সলাপরামর্শ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে লিয়াকত ফোনে প্রদীপকে বলতে থাকেন, ‘ঠিক আছে, শালারে শেষ কইরা দিতাছি’।
“ওই সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরিদর্শক লিয়াকত সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের শরীরের উর্ধ্বাংশে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। গুলির আঘাতে সিনহা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান এবং নিজের জীবন রক্ষার জন্য ঘটনাস্থল থেকে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন অন্য আসামিরা তাকে চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। লিয়াকত আলি তখন সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরও এক রাউন্ড গুলি করেন।”
এজাহারে বলা হয়, “এর পরপর ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ওসি প্রদীপ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা সিনহার শরীর ও মুখে কয়েকবার লাথি মেরে তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং নিজের বুট জুতা দিয়ে ঘষা দিয়ে নিহতের মুখমণ্ডল বিকৃত করার চেষ্টা করতে থাকেন।”
পুলিশ সদস্যরা এ সময় মামলার সাক্ষী এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিত লোকজনকে ‘অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে’ সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে সিনহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।

নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের নেতা গুনবি ফের রিমান্ডে

0

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের কথিত ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ মাহমুদ হাসান গুনবীকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া একটি মামলায় আদালত রোববার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গুনবীকে গ্রেপ্তার করে। গুনবীকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানায়, কথিত এই আধ্যাত্মিক নেতা ওয়াজের আড়ালে জঙ্গিবাদী মতাদর্শ প্রচার করে সাধারণ জঙ্গিদের ‘আত্মঘাতী’ হতে উদ্বুদ্ধ করতেন। পরে তাঁকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া মামলায় কাউন্টার টেররিজম তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর কয়েক দিন পর তাঁর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় থাকা আরেকটি মামলায় কাউন্টার টেররিজম তাঁকে আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। রোববার শুনানি শেষে আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগের উপকমিশনার আবদুল মান্নান জানান, গুনবীকে সোমবার কাশিমপুর কারাগার থেকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনে তলোয়ার নিয়ে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে গত মে মাসে আবু সাকিব ওরফে আল আমিন নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে যে মামলা হয়েছিল, সেখানে মাহমুদ হাসান গুনবীর নামও ছিল। ওই মামলায় গত ২৪ মে কুষ্টিয়া থেকে আরেক বিতর্কিত বক্তা আমির হামজাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগ।

জাল টাকার মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিচার শুরু

0

জাল টাকা উদ্ধারের মামলায় নরসিংদী যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া, তাঁর স্বামী মফিজুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ দেন। আগামী ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত উল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়িবা নূর।

গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বুকিং দেওয়া বিলাসবহুল প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট রুম এবং ইন্দিরা রোডের ফ্ল্যাট থেকে র‍্যাব ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, পিস্তলের ২০টি গুলি, ৫ বোতল দামি বিদেশি মদ ও ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, কিছু বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পাপিয়া, তাঁর স্বামীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ।

অস্ত্র মামলায় বিচার শেষে ঢাকার একটি আদালত পাপিয়া ও তাঁর স্বামীকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া মাদক মামলায় পাপিয়া ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ঢাকার আরেকটি আদালতে বিচার চলমান রয়েছে।
২০০৬ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজে পড়ার সময় পাপিয়ার সঙ্গে মফিজুরের সম্পর্ক হয়। ২০০৯ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাঁরা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১০ সালে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক করা হয় পাপিয়াকে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাঁকে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার কারা কর্মকর্তাকে জামিন দেয়ায়, হাইকোর্টে ক্ষমা চাইলেন বিশেষ জজ ইকবাল হোসেন

0

৮০ লাখ টাকাসহ হাতে নাতে গ্রেফতারের পর বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি (প্রিজন্স) পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিক ভাবে জামিন দেয়ায় বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন। একইসঙ্গে এ অভিযোগ থেকে অব্যাহতিও চেয়েছেন তিনি।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত ব্যাখ্যা দেন বিচারক ইকবাল হোসেন। এ বিষয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পার্থ গোপালকে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেয়ার ঘটনায় গত ২৮ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। একইসঙ্গে পার্থ গোপাল বণিকের জামিন দেয়ার বিষয় নিয়ে চ্যানেল ২৪ এ প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও ক্লিপ আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে আদালত। গত ১৭ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের ভার্চুয়াল আদালত পার্থ গোপাল বণিককে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তিনি কারামুক্ত হন। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই জামিন নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

লিখিত ব্যাখ্যায় বিচারক ইকবাল হোসেন বলেন, ফৌজদারি আপিল নং (১০৫৩৪/১৯) মামলায় গত বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে পার্থ গোপাল বণিকের মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্নের জন্য জজ ইকবাল হোসেনকে নির্দেশ দেন। এই আদেশ যথাসময়ে না পৌঁছায় ছয় মাসের সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে বলে আসামির আইনজীবী বিশেষ আদালতকে জানান।
এছাড়া ফৌজদারি রিভিশন (১৪৫/২১) মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি অপর এক আদেশে মামলাটির বিচার এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়। গত ১০ মার্চ এই আদেশের অনুলিপি পান। এই আদেশে উল্লিখিত সময়সীমার মেয়াদ এখনো রয়েছে। বিশেষ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন ব্যাখ্যায় বলেছেন, তিনি হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনে সদাসচেষ্ট রয়েছেন।
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানান, গত বছরের ৪ নভেম্বর পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই বছরের ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ডিআইজি পার্থের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এতে মোট ১৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। রাজধানীর নর্থ রোডের ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পার্থ গোপাল বণিকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। অর্থাৎ তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৮০ লাখ টাকা উপার্জন করে বাসায় লুকিয়ে রেখেছেন বলে প্রমাণিত হয়।
এতে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে তিনি ৩১ হাজার ২৫০ টাকা বেতন স্কেলে কারা উপ-মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তার এই বেতন স্কেলের সঙ্গে এত টাকা উপার্জন অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তা উত্তোলন করেননি বা তিনি কখনো এই অর্থ আয়কর বিবরণীতেও প্রদর্শন করেননি, যা দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেপ্তারের দিন থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং রোধে হাইকোর্টের রুল

0

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে বুলিং রোধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বুলিং রোধে কেন একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সী কিশোর আজওয়াদ আহনাফ করিম বডি শেমিংয়ের শিকার হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসারকে ওই ঘটনা তদন্ত করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রবিবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. তানভীর আহমেদ।
এর আগে গত ৮ জুলাই ‘মোটা বলে সহপাঠী ও শিক্ষকের লাঞ্ছনার শিকার মৃত কিশোরের পরিবার যা বলছে’ শিরোনামে বিবিসি বাংলায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর পর তার পরিবার অভিযোগ করেছে, স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট কয়েক হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন, যাদের প্রায় সবাই বডিশেমিং, বুলিংয়ের মতো ইস্যুতে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কিশোরের বাবা মো. ফজলুল করিম বলেছেন, তার ছেলের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশি হওয়ার কারণে, স্কুলে তাকে প্রায় নিয়মিতই বুলিং ও উপহাসের শিকার হতে হতো। কিন্তু স্কুলে কখনো এ নিয়ে অভিযোগ জানাননি তারা। এখনো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ জানাতে চান না তারা। তবে পরিবার চায় স্কুলে বুলিং বন্ধ করার জন্য যেন সরকার ব্যবস্থা নেয়।
পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে সে নোটিশের কোনো জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ।

জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় মারাত্মক অপরাধ: হাইকোর্ট

0

জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তার ভুল নয়, এটি মারাত্মক অপরাধ বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। বগুড়ায় এক শিশুর কাছ থেকে জোর করে ছোট ভাই হত্যার স্বীকারোক্তি আদায় করার ঘটনা পর্যালোচনায় বিষয়টি উল্লেখ করেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রোববার নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেও তদন্ত কর্মকর্তার এমন কাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। জোর করে ১২ বছর বয়সী শিশুর স্বীকারোক্তি নেয়ার বিষয়ে গত ১১ জুন একটি ইংরেজি দৈনিকে এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন ছাপা হয়।
এটি যুক্ত করে বগুড়ার আদালতে থাকা ওই হত্যা মামলার যথার্থতা ও আইনি পর্যালোচনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী গত ২০ জুন আবেদন করেন।
২৯ জুন আবেদনটির ওপর শুনানির পর হাইকোর্ট ‘জোর করে’ স্বীকারোক্তি আদায়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত (সিআইডি) বিভাগের পরিদর্শক (নাটোর) নয়ন কুমারকে তলব করে।
নয়ন সারিয়াকান্দি থানায় সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
সেই সঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তাধীন মামলাটির কেস ডকেট (সিডি) নিয়ে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীকেও (উপপরিদর্শক, পিবিআই, বগুড়া) আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়।
আদালতের নির্দেশে রোববার সকালে মনসুর আলী ও নয়ন কুমার আদালতে হাজির হন এবং ১২ বছর বয়সী শিশুর কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন।
ক্রম অনুসারে বিষয়টি শুনানির জন্য উঠলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী আদালতে বলেন, সাবেক ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হয়েছেন। সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার লিখিত জবাব দিয়েছেন।
তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উনি (নয়ন কুমার) সরাসরি বিচারপতিদের অ্যাড্রেস করেছেন। উনি কি এটি পারেন, জিজ্ঞেস করেন। উনি কীভাবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি নিয়েছেন জিজ্ঞেস করেন। উনি ১২ বছর বয়সী শিশুর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি কীভাবে নিয়েছেন, বলতে বলেন।
মামলার বৃত্তান্ত তুলে ধরে আইন কর্মকর্তা মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী তখন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে নারী ও শিশু আদালত পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত করার সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা নিজেদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ পর্যায়ে বলেন, আদালত উনাকে (নয়ন কুমার) আসতে বলেছেন, উনি এসেছেন। নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন দিয়েছেন। আর পিবিআইয়ের যিনি এখন মামলাটি তদন্ত করছেন, তিনি মামলাটির চতুর্থ তদন্ত কর্মকর্তা। উনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, আদালত সন্তুষ্ট হলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কেননা, উনি (নয়ন কুমার) প্রসিকিউসনের অংশ।
তখন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উনি ভুল করলে আমরা কি ছেড়ে দেব?
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সেটা আপনাদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আমি বলতে চাচ্ছি হি (নয়ন কুমার) অলসো পার্ট অব দ্য প্রসিকিউশন। তিনি যে ভুল করেছেন সে ভুলের জন্য তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এটা ভুল নয়, এটা মারাত্মক অপরাধ, যেটা তিনি করেছেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অপরাধ বলবেন, নাকি অবহেলা।
বিচারক বলেন, ‘না, তিনি এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন। ১২ বছরের একটি শিশুর স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছে ‘আমি আমার ভাইকে মেরে ফেলেছি। এটা কি সম্ভব! ১২ বছরের একটি ছেলে ৮ বছরের একটি ছেলেকে মেরে ফেলবে?’
‘তাহলে আপনি কীভাবে ১৬৪ ধারা আবেদন দিলেন ও নিলেন? রাষ্ট্রপক্ষ ইতিমধ্যে অধিকতর তদন্ত চেয়েছে, পিবিআই তদন্ত করছে। এতে দুজন স্বীকার করেছে, তারা আট বছর বয়সী শিশুটিকে মেরেছে। তাহলে ১২ বছর বয়সীর শিশুটির জবানবন্দি কীভাবে নিলেন এই তদন্ত কর্মকর্তা (নয়ন)! এটি তো মারাত্মক ধরনের অভিযোগ। অবহেলা মনের অজান্তে হয়। এটি অবহেলা না।”
এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওই কর্মকর্তার (নয়ন) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা সম্পর্কিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। এর মধ্যে মামলার বর্তমান ও সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
তবে নয়ন কুমারের লিখিত ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। যে কারণে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে। সেদিনও নয়ন কুমারকে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আর ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে আপাতত অব্যাহতি দিলেও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীকে সেদিন ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।