ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 88

জামিন ও অন্তর্বর্তী আদেশের মেয়াদ ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ল

0

জামিন ও আদালতের সব ধরনের অন্তর্বর্তী আদেশের কার্যকারিতার মেয়াদ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবার বাড়ানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর শনিবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “যে সকল মামলায় আসামীকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন প্রদান করা হয়েছে বা যে সকল মামলায় উচ্চ আদালত হতে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন প্রদান করা হয়েছে বা যে সকল মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সে সকল মামলার জামিন এবং সকল প্রকার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসমূহের কার্যকারিতা গত ২৬ জুলায়ের বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।
এরপর জামিন বা অন্তর্বর্তী আদেশের কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট আদালতে অবেদন করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল, ১৮ এপ্রিল, ২ মে, ৩০ মে, ২৭ জুন ও ২৬ জুলাই জামিন ও অন্তবর্তী সব আদেশের মেয়াদ মোট ৬ বার বাড়ানো হয়েছিল।

বিদেশ যেতে চাইলে খালেদা জিয়াকে আগে জেলে ফিরতে হবে: আইনমন্ত্রী

0

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারেপার্সন খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে চাইলে তাকে কারাগারে ফিরে গিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। প্রচলিত আইনে এর বাইরে কোনো সুযোগ নেই, বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে আইন সাংবাদিকতার এক কর্মশালায় আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে একথা বলেন তিনি।
দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যাওয়ার পর গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলে পরিবারের আবেদনে সরকার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চাইছে তার পরিবার ও দল। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন হলেও দুই মাস আগে তা নাকচ করে দেয় সরকার।
শনিবারের কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা নিয়ে আলোচনার সময় খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, সাজা মওকুফের ক্ষমতা সরকারের আছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় এ সংক্রান্ত ছয়টি উপধারা আছে। একজনের সাজা শর্ত ছাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করতে পারে অথবা শর্ত ছাড়া কিছুটা মওকুফ করতে পারে। আবার শর্ত সাপেক্ষে পুরোটা মওকুফ করতে পারে কিংবা কিছুটা মওকুফ করতে পারে বা বাতিল করতে পারে।
“এখানে (৪০১ ধারা) কিন্তু কোথাও বলা নাই, একটা আবেদন যখন নিষ্পত্তি করে ফেলা হয়, সেই আবেদনটিকে আবার রিকনসিডার করতে পারবে। তার মানে হচ্ছে আবেদনটি রিকনসিডার করার কোনো সুযোগ নাই।”
আইনমন্ত্রী বলেন, ৪০১ ধারায় সরকারের ক্ষমতার কথা বলা আছে। এই ধারা সংস্কারের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা ব্যবহার করে থাকে। সেক্ষত্রে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী থেকে অনুমতি নিতে হয়। আর মতামত নিতে হয় আইন মন্ত্রণালয়ের।
“খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে আমাদের মতামত দিতে হয়েছে। উনার আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে যখন আবেদন করা হল, তখন তার সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিলাম। তার মানে, খালেদা জিয়ার পক্ষে যে আবেদনটা করা হয়েছিল, সেটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”
এরপরই আইনমন্ত্রী অলোচনা করেন, বিদেশ যেতে হলে খালেদা জিয়ার এখন কী করতে হবে, তা নিয়ে।
তিনি বলেন, “এখন তারা বিদেশ যেতে অনুমতি চায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সেটি পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা আইনে আমাদের দেওয়া হয়নি। তাহলে উনাদের কী করতে হবে? তাদেরকে আবার আবেদন করতে হবে। আর আবেদন করতে হলে আগের আবেদনটি বাতিল করতে হবে এবং উনাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে যেতে হবে।”
সংবিধান, আইন ও বিচার বিভাগে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ও ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় আনিসুল হক ছাড়াও প্রশিক্ষক ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাশহুদুল হক এতে সভাপতিত্ব করেন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিন ছিলেন সঞ্চালনায়। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন

0

বাংলাদেশ সরকার আটকে পড়া পাকিস্তানিদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অফ আমেরিকা,ভিওএ । সংবাদ মাধ্যমটির বাংলা বিভাগের ২৬ আগস্ট প্রচারিত সংবাদে বলা হয়, উচ্চ আদালতে একটি রায় অনুযায়ী আটকে পড়া পাকিস্তানিদের নাগরিকত্ব দেয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালত এই রায়ে বলেছে যে বাংলাদেশে বসবাসরত আগ্রহী পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারবেন। আদালত বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের শরনার্থীর মর্যাদা বাতিল করেছে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ের পরও অনেকেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেননি। আবার অনেকে নিয়েছেন। ভোটার তালিকায়ও তাদের নাম উঠেছে। ২০০৩ সনে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়, যে সব পাকিস্তানি বা বিহারী নাগরিক এদেশে রয়েছেন তারা ইচ্ছে করলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিতে পারেন।জিনিভা ক্যাম্পে বসবাসকারী ১০ জন অবাঙালি ভোটার হওয়ার অধিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেন। এই মামলার রায়ে তাদেরকে ভোটার হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। এর পর থেকে আইনগতভাবে তাদেরকে আর শরণার্থীও বলা যাচ্ছে না।

সৌদি ভিত্তিক রাবেতা আল ইসলামের জরিপ অনুযায়ী, ৬৬টি ক্যাম্পে দুই লাখ ৭৫ হাজার অবাঙালি রয়েছেন। পাকিস্তানে যাদের জন্ম তাদের মধ্যে নাগরিকত্ব নেয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ বেশি। তারা ক্যাম্পে কথা বলে উর্দূতে। আর যাদের জন্ম বাংলাদেশে তারা নাগরিকত্ব নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। তারা উর্দূ নয়, বাংলায় কথা বলে। ঢাকার জিনিভা ক্যাম্পে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে ভোটার হয়েছেন ১১ হাজার। স্বাধীনতার পর থেকে এই অবাঙালিদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়ার একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়। ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৩ জন পাকিস্তানি নাগরিককে ফিরিয়ে নেয়ার পর থেমে যায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।জেনারেল জিয়াউল হক যখন ক্ষমতায়, তখন একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান এগিয়ে আসেনি।
আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৮৮ সনে রাবেতা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে বিহার থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য ৪০ হাজার ঘর তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ৬৩টি পরিবারকে নেয়ার পর হঠাৎ করেই এটা বন্ধ হয়ে যায়। এর জন্য অনেকেই পাকিস্তানের ঘন ঘন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে দায়ী করেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পর থেকে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে যাদের চাকরি-বাকরি নেই, কোনো কাজ নেই, তারা খুব দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ক্যাম্পে পানীয় জলের অভাব, নোংরা পরিবেশ, কাজের সুযোগও সীমিত।এর মধ্যেই বেঁচে থাকার লড়াই।ক্যাম্পের ভেতর গাদাগাদি করে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছেলে-মেয়েরা বেড়ে উঠছে। এদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্য সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত।
স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকাত আলী বলেছেন, নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগ এসেছে ঠিকই।কিন্তু আমরা সব ধরণের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্বাধীনতার পর থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ বিরতণ করা হতো। পুণর্বাসনের দাবি তখন থেকেই ছিল জোরালো।
নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণার পর ২০১৬ সনে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় একটি তালিকা তৈরি করে। তখন বলা হয়েছিল, ঢাকার মোহাম্মদপুরেই ১৪ হাজার ২১২ টি পরিবার রয়েছে। যেখানে বসবাস করেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯ জন। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ তালিকার ভিত্তিতে পরিবার প্রতি ৩ শতাংশ হারে পুনর্বাসনের জন্য ৫২৬ একর জমি বরাদ্দের কথা বলা হয়। কিন্তু ‘পরিকল্পনার মধ্যেই’ আটকে যায় সে উদ্যোগ। এর পর বিহারী বাংলাদেশি পরিবারের তরফে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর একাধিক চিঠি দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ২০১৯ সনে পরিকল্পনা কমিশন ৬ হাজার ১০১ কোটি ২৩ লাখ টাকার একটি পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি করে। এরই অংশ হিসেবে পাঁচটি ২০ তলা ভবন নির্মাণ করার কথা বলা হয়। সে সময় ১৫২টি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে মাসিক কিস্তিতে ফ্ল্যাট দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়।

টাঙ্গাইলে বিচারককে হত্যার হুমকি দিয়ে ‘জঙ্গি সংগঠনের’ নামে চিঠি

0

টাঙ্গাইল থেকে বদলি হয়ে না গেলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিনকে। তাঁকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে আউটসোর্সিং হিসেবে প্রসেস সার্ভার পদে কর্মরত ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে এ হুমকি দেয়া হয় বলে আজ শুক্রবার খালেদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন। চিঠিতে ইতি—‘জঙ্গি সংগঠন’ লেখা। আর খাকি রঙের খামে প্রেরকের স্থানে লেখা—জুবায়ের রহমান।
চিঠির শুরুতেই প্রেরক ‘জঙ্গি সংগঠনের লোক’ বলে দাবি করা হয়েছে।
হত্যা করতে চাওয়ার কারণের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, খালেদা ইয়াসমিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত বড় ধরনের মামলার রায় দিয়েছেন। এতে সংগঠনের লোকজনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই খালেদা ইয়াসমিনকে টাঙ্গাইল থেকে বদলি হয়ে যেতে বলা হয়েছে। তা না করলে হত্যার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চিঠির প্রেরকদের যাঁরা সহযোগিতা করেন, তাঁদের কয়েকজন আইনজীবী এবং জজকোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের স্টাফ। চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খালেদা ইয়াসমিন জানান, চিঠিটি পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, চিঠির বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিচারক খালেদা ইয়াসমিন ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

৫৮ কেজি গাঁজাসহ রাজধানীতে ৪জন গ্রেফতার

0

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকা থেকে ৫৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন এবং মতিঝিল এলাকা থেকে ৮ কেজি গাঁজাসহ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে ২৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ছয়টায় যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ এনামুল ও আশিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হবিগঞ্জ জেলা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই দিন বিকেলে মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর বিপরীত পাশে অভিভাবক ছাউনির সামনে থেকে আট কেজি গাঁজাসহ রিনা বেগম ও সুরাইয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা এসব গাঁজা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করার জন্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রোহিঙ্গা গণহত্যা : আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের একটি নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করেনি মিয়ানমার

0

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াসহ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যে রায় ঘোষণা করেছিল, গত ২০ মাসে রায়ের একটি নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করে নি মিয়ানমার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোর করে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নেয়ার সব উদ্যোগই থেমে গেছে। এ নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনাও যেমন ঝিমিয়ে গেছে তেমনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গত বছর (২০২০) ২৩ জানুয়ারী বাস্ত্যুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য যে নির্দেশ ও রায় দিয়েছিল তার কোনো নির্দেশনাই বাস্তবায়ন করেনি মিয়ানমার। বরং দেশটির শাসন ক্ষমতাই এখন পাল্টে গেছে। রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে যিনি সমর্থন জানিয়েছিলেন সেই গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উচ্ছেদ করে দেশটির শাসন ক্ষমতায় এখন সামরিক বাহিনী। দেশজুড়ে চলছে সামরিক বাহিনীর গণহত্যা। চলতি বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থান করার পর থেকেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির বেসামরিক নেত্রী এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের প্রধান অং সান সু চিকে আটক করে রেখেছে সামরিক জান্তা। এই গোলমালে পড়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি এখন ভুলতেই বসেছে মিয়ানমার। এ নিয়ে তারা আর আলোচনাই করছে না। নিজেদের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র করেছে ভাসানচরে। সেখানে কয়েকশ রোহিঙ্গা পরিবারকে নেয়া হয়েছে। এই রোহিঙ্গারা কবে ফিরে যাবে নিজ দেশে তা এখন অনিশ্চিত। রাখাইন প্রদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে সেখানে তাদের জায়গাজমিতে ইপিজেড, সেনানিবাসসহ নানা স্থাপনা গড়ে তুলছে মিয়ানমার। চীনের আর্থিক সহায়তায় গড়ে তোলা হচ্ছে এসব স্থাপনা। ফলে নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গারা আদৌ ফিরে যেতে পারবে কী না এ নিয়ে সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে। মিয়ানমার যেমন আন্তর্জাতিক আইন আদালতের তোয়াক্কা করছে না তেমনি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ও তারা মানছে না। গতবছরের (২০২০) ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) তাদের রায়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা এবং রাখাইন থেকে বাস্ত্যুচুত ও নিহতদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফের নেতৃত্বে ১৭ জন বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতক্রমে রায় ঘোষণা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ে যা বলা হয়েছিল:
১. রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অধিকারের সুরক্ষায় এখনও কোনও ধরনের প্রস্তাব দেয়নি মিয়ানমার।
২. জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেয়ার দরকার হলেও মিয়ানমার তা করেনি।
৩.দেশটিকে অবশ্যই গণহত্যার সনদ মানতে হবে।
৪. আর কোনও ধরনের হত্যাকাণ্ড যাতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. দেশটির সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য সামরিক শাখা গণহত্যা সংঘটিত করবে না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব ধরনের অপরাধের আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ।
৭. আইসিজে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে আগামী চার মাসের মধ্যে মিয়ানমারকে অবশ্যই প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
৮.প্রথম প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রতি ছয় মাস পরপর একই ধরনের প্রতিবেদন আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।
আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফ তার মন্তব্যে বলেছিলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা অত্যন্ত ঝুঁকিতে আছেন। এছাড়া বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমার সরকার যে ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বলেও আদালতের রায়ে উঠে আসে।
রায়ে বলা হয়, রাখাইনে জাতিগত সংহতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি মিয়ানমার। এই আদেশের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া গণহত্যা সনদের ২ নং ধারা অনুযায়ী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে একটি বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে বলা হয় রায়ে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে ২০২০ সালের নভেম্বরে মামলা করেছিল গাম্বিয়া। ২০২০ সালের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গাম্বিয়ার পক্ষে মামলার শুনানিতে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদু। অন্যদিকে মিয়ানমারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। সেসময় শুনানিতে মামলাকারী গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যাতে আর কোনও ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ৫টি আদেশ চেয়েছিল।
রায়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এই আদালত বলেছেন, গণহত্যা সনদের ৪১ ধারার আওতায় তিনটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশের শর্ত বিরাজ করছে। গাম্বিয়া সংখ্যালঘু এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী যেসব ব্যবস্থার আদেশ চেয়েছে; সেগুলোর প্রথম তিনটির লক্ষ্য হচ্ছে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

আইসিজেতে যে ভাবে মামলা:
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নভেম্বরে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে গাম্বিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক এ আদালতে গণহত্যার দায়ে তৃতীয় মামলা ছিল এটি।
গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুই দেশেই ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী হিসেবে শুধু গণহত্যা থেকে বিরত থাকা নয় বরং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধের জন্য দেশগুলো বিচারের মুখোমুখি হতে বাধ্য।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে প্রথম জেনোসাইড কনভেনশন মামলা হয়েছিল সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে। এ মামলায় সার্বিয়া বসনিয়া হার্জেগোভিনিয়ায় গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিল বলে প্রমাণ হয়।
কানাডা, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, তুরস্ক এবং ফ্রান্স জোর দিয়ে বলেছে যে, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে। ইসলামী দেশসমূহের সংগঠন ওআইসি তার ৫৭টি সদস্য দেশকে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে তোলার কাজে সহায়তা করে।
যেভাবে মামলার তদন্ত :
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আছে বলে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর রোহিঙ্গাদের ওপর যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসির অনুমতি চান প্রসিকিউটর ফাতো বেনসুদা। জুলাই মাসে (২০১৯) তার তদন্ত দল বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করে।
এরপর প্রাথমিক তদন্ত শেষে পূর্ণ তদন্তের জন্য আবেদন করেন ফাতো বেনসুদা, যাতে সায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকরা। ফলে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিপীড়নের ঘটনায় কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে তদন্ত শুরু হয়।
তবে শুরুর দিকে অনেকে এ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কারণ মিয়ানমার আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়। একইভাবে আইসিসির প্রতিনিধি দলকেও রাখাইনে পরিদর্শনে যাওয়ার অনুমতিও দেয়নি।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর জ্বালাও-পোড়াও, খুন, ধর্ষণের মুখে অন্তত ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এই অভিযান গণহত্যার অভিপ্রায়ে পরিচালনা করেছে বলে মন্তব্য করেছে।
রায়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার দায়েরকৃত মামলার পক্ষে রোহিঙ্গা নিপীড়ন ও গণহত্যার যেসব আলামত আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেসব বিরোধের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সেটাই ছিল আন্তর্জাতিক কোনও আদালতের প্রথম আদেশ। এই আদেশ মিয়ানমারকে মানতে বাধ্য করার মতো ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আদালতের না থাকলেও জাতিসংঘের যে কোনও সদস্য দেশ এ আদেশের ভিত্তিতে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অনুরোধ জানাতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্য রোহিঙ্গাদের পক্ষে কেউ এগিয়ে আসছে না। জাতিসংঘে এ ইস্যুটি তোলার জন্য চেষ্টা হলেও চীন বরাবরাই এটা বাধা দিয়ে আসছে। বলা যায় চীনের সমর্থনের কারণেই মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না। আর এখন সেখানে যে সামরিক শাসন চলছে তাও চীনের সমর্থনপুষ্ট। ফলে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ারমারে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়েই গেলো।

নঈম নিজামের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে সম্পাদক পরিষদ

0

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে নঈম নিজামের পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিষদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভায় সংগঠনটির সহ-সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বুধবার ডেইলি স্টার সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় সম্পাদক পরিষদ ও পরিষদের সভাপতির বিরুদ্ধে নঈম নিজামের করা বিভিন্ন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা হয় বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
পরিষদের সিনিয়র সদস্য রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, পরিষদের সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নঈম নিজামকে সভায় আনতে যে দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়েছিল, সেটি সম্ভব হয়নি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফাইনান্সিয়াল হেরাল্ডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শাহ হোসেন ইমাম, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক অমিত হাবিব, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, দৈনিক করোতোয়ার সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, দ্য ইনডিপেনডেন্টের সম্পাদক এম শামসুর রহমান, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, বণিকবার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান এবং সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।

কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা দুদকের নেই: হাইকোর্ট

0

আদালতের অনুমতি ছাড়া কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ কিংবা সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ইতিপূর্বে দেয়া রায় স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করা হয়েছে।

হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক বা ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করতে চাইলে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সিনিয়র স্পেশাল জজ বা বিচারিক আদালতে আবেদন করতে হবে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আদেশ দিলে তখন ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা সম্পত্তি ক্রোক করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি সেই সম্পত্তি যদি অপরাধলব্ধও হয়ে থাকে।
উচ্চ আদালত রায়ে আরও বলেছেন, দুদকের কোনো তদন্ত কর্মকর্তা কারও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ দিতে পারেন না। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতের আদেশে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার সুযোগ রয়েছে। দুদকের আইন ও বিধিতে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত কর্মকর্তা এমনকি অন্য কোনো কর্মকর্তাকে এ ধরনের অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
কক্সবাজারে বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি পাঠায় দুদক। সেই চিঠির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট তার রায়ে সেই চিঠির কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
২০০৭ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালার ১৮ বিধি তুলে ধরে রায়ে বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বেআইনি পন্থায় অর্জিত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধকরণ বা সম্পত্তি অ্যাটাচমেন্ট করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিধিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। ২০০৭ সালে বিধিতে ‘অপরাধলব্ধ সম্পত্তি’ জব্দ বা ক্রোক বা অন্য কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করার ক্ষমতা অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কোনো কর্মকর্তা বা দুদকের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে দেয়া হয়নি।
দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপককে বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফার্মেসি ব্যবসায়ী বেলায়েত কক্সবাজারের বাসিন্দা।
ব্যাংক হিসাব জব্দের ওই নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেলায়েত হাইকোর্টে রিট করেন। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রুলে বেলায়েতের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে দুদকের ওই উপসহকারী পরিচালকের দেয়া ৬ জানুয়ারির নির্দেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২৭ জুন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এই মামলায় দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যাংক হিসাব জব্দে যে চিঠি দিয়েছেন- তা শুধু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এখতিয়ারবহির্ভূত ও বেআইনিই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহারও বটে।

অপহরণ করে মুক্তিপণের অভিযোগ: সিআইডির এএসপিসহ ৫ জন কারাগারে

0

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রাম থেকে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে করা মামলায় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপারসহ ৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দিনাজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শিশির কুমার বসু এ আদেশ দেন। এ ছাড়া আদালত অপহরণের শিকার জহুরা বেগম ও তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছেন। বিচারক তাদের ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেন।
এই পাঁচজন হলেন: রংপুর সিআইডির এএসপি মো. সারোয়ার কবির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক, গাড়িচালক হাবিব মিয়া এবং যার অভিযোগের ভিত্তিতে মা-ছেলেকে তুলে নেওয়া হয় সেই দিনাজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা ফসিহ উল আলম পলাশ।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়া মাত্র পাঁচজনকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে সিআইডির তিনজন নান্দেরাই গ্রামের লুৎফর রহমানকে ধরতে যান। তাঁকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নেন। পরে মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার সকালে লুৎফর রহমানের ভাই খলিলুর রহমান চিরিরবন্দর থানায় ৬ থেকে ৭ জনের নামে অভিযোগ করেন। লুৎফর রহমানের স্বজনেরা মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় অপহরণকারীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে বুধবার অভিযোগটি মামলা আকারে গ্রহণ করে চিরিরবন্দর থানা।
চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার মামলায় পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ: বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাকের ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

0

পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার কুমিল্লার ৩নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
জালিয়াতি করে পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি বিক্রিসহ নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়। বুধবার বিকালে মোশতাক পুত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী খন্দকার জাবির আহম্মেদ সারোয়ার। এ সময় আদালত ইশতিয়াককে গ্রেফতার করতে দাউদকান্দি থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। তবে অভিযুক্ত ওই আসামি দীর্ঘদিন কানাডায় পালিয়ে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুনি মোশতাকের পিতা হযরত খন্দকার কবির উদ্দিন আহামেদ ছিলেন একজন পীর। রয়েছে তার ভক্তবৃন্দ। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ ছেলে এবং পাঁচ মেয়েসহ রেখে গেছেন বিশাল সম্পত্তি। এরমধ্যে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কিছু সম্পত্তি কল্যাণমূলক কাজের জন্য ট্রাস্টের নামে লিখে দেওয়া হয়।
এছাড়া ওয়ারিশ সূত্রে বংশের সব সদস্যরা বাকি সম্পত্তির মালিক হলেও কবির উদ্দিনের সপ্তম সন্তান খুনি মোশতাকের একমাত্র ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবু বংশের সব সদস্যদের সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয় খন্দকার কবির উদ্দিনের নামে ট্রাস্টের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান হয়ে বাবু ওই স্টেটের কার্যালয়ে নিজের এবং স্ত্রী সন্তানদের ছবি টানিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কবির উদ্দিনের অন্যসব ওয়ারিশগণকে ওই সম্পত্তি এবং বাড়িসহ মাজারে প্রবেশ করতে দেয় না বাবু।
ট্রাস্ট এবং দাদার সম্পত্তি দখলে রাখতে মোশতাক পুত্র এলাকায় একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কানাডায় বসে ওই বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। এরই মাঝে বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল এবং ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রয় করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা এবং স্টেটের উত্তরাধিকারীর অংশিদারিত্ব পেতে কবির উদ্দিনের ওয়ারিশ খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার গত বছরের শেষের দিকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মোশতাকপুত্র ইশতিয়াক, নাতি ইফতেখার আহমেদ শাদসহ অভিযুক্ত কেয়ার টেকার নিজামুদ্দিনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় মঙ্গলবার মোশতাক পুত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

মামলার বাদী খন্দকার জাবির আহাম্মেদ সারোয়ার অভিযোগ করে বলেন, খুনি মোশতাকের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আমাদেরকে ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছেন। তিনি কানাডায় বসে এলাকার একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে স্টেটসহ অন্য সব সম্পত্তির ভোগ দখল ও সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আমাদের ওয়ারিশদের স্বাক্ষর জাল করে বেশ কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।
এছাড়া আরো কিছু সম্পত্তি বিক্রির পায়তারা করছে। তার নির্দেশে এসব জালিয়াতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মোশতাকের বাড়ির কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিন। তিনি বলেন, কেয়ার টেকার নিজামুদ্দিনই মোশতাক পুত্রের সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে থাকেন। কানাডায় বসে ওই কেয়ারটেকারের মাধ্যমেই বাহিনী নিয়ন্ত্রণসহ এলাকার আধিপত্য ধরে রেখেছেন মোশতাক পুত্র ইশতিয়াক।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালত থেকে ওয়ারেন্টের কপি হাতে পেলে আসামি যদি দেশে না থাকে তাহলে সেটার বিষয়েও সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শ নেয়া হবে।