চিত্রনায়িকা পরীমনি ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত মামলার পথেই হাটলো সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সিটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভাষায় ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে সিটি ব্যাংক।
রাজধানীর গুলশান থানায় শনিবার রাতে মামলাটি করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত শুরু করেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মামলার বাদী সিটি ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট (হেড অব কোর্ট) গাজী এম শওকত হাসান। মামলা নম্বর ১২ তারিখ ১৪-৮-২০২১।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ইস্যুতে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের চরিত্র হনন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট) মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে ব্যাংক, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্য কর্মকর্তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে অজ্ঞাতনামা আসামিরা সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়াই বানোয়াট তথ্য ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য ওয়েবসাইটে মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য প্রচার করছে।
সিটি ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সমাজের চোখে হেয়প্রতিপন্ন করাসহ ব্যাংক থেকে অসাধু উপায়ে অর্থ আদায়ের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মিথ্যা, মানহানিকর তথ্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জড়িয়ে প্রচার করা কয়েকটি ভিডিওর লিংকও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
পরীমনি ইস্যুতে সিটি ব্যাংককে জড়িয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে চাঁদাবাজির আশঙ্কায় গত ১১ আগস্ট একই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
যেসব গণমাধ্যমে ব্যাংকটিকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে ওইদিন জানিয়েছিলেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন।
সিটি ব্যাংকের করা মামলায় ১৫ পৃষ্ঠার সংযুক্তি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ১২টি লিংক উল্লেখ করা হয়েছে এজহারে। সেগুলো হলো-
১. ফেসবুক পেজ: ভাইরাল প্রতিদিন (facebook.com/bdviralpratidin) পোস্ট। জানা গেল পরীর ৩ কোটি টাকার গাড়ির উপহারদাতার নাম সিটি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসরুর আরেফিন (facebook.com/104460278012031/posts/355369012921155)
(facebook.com/bdviralpratidin/videos/3544963729613950)
২. ফেসবুক পেজ: Nayeem Korea (facebook.com/NayeemElli/)
পোস্ট: পরীমনির দামি গাড়িদাতার পরিচয় (facebook.com/NayeemElli/videos/1618784535135680)
৩. ফেসবুক পেজ: Md Elias Hossain ইলিয়াস হোসাইন (facebook.com/jounalisteliashossain/)
পোস্ট: ব্যাংকের এমডি ও পরীর নষ্টামি ফাঁস। সেই গাড়ি গিফটদাতা কে এই আরেফিন। পরীমনি।
(facebook.com/jounalisteliashossain/videos/824712884853804)
৪. ফেসবুক পেজ: CarHubBD (facebook.com/mycarhub) পোস্ট City bank এর কার্ড দিয়েই কেনা যাবে মাসেরাতি!
(facebook.com/2451522388207639/posts/5174655199227664)
৫. ইউটিউব চ্যানেল Khobor BD (youtube.com/channel/UCma6twZQc20VuhWrde3nJzw)
পোস্ট: পরীমনির ৩ কোটি টাকার গাড়ি উপহারদাতার নাম সিটি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসরুর KhoborBD (youtube.com/watch?v=Ie684GG-JTM)
৬. ইউটিউব চ্যানেল MTIS BD VOICE
(youtube.com/channel/UCfFkzrmK4_61N62 HjSnntw)
পোস্ট: পরীমনির নষ্টামি ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে। কে এই লোক। Poriz (youtube.com/watch?v=zLs-pue8ts)
৭. ইউটিউব চ্যানেল: TALK WITH SHAWON (youtube.com/channel/UCBRgWUEXQXoPeb_vHmISa8Q)
পোস্ট: পরীমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন? Who is Mashrur Arefin Pori Moni Update News (youtube.com/watch?v=2qjpa-zGcw8)
৮. ইউটিউব চ্যানেল: STAR NEWS BANGLA (youtube.com/channel/UCbnmjRkVy0zrE7fpR9Gvmww)
পোস্ট: ৩ কোটি টাকার গাড়ির উপহারদাতার নাম সিটি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসরুর আরেফিন (youtube.com/watch?v-tTX3b0tM15k)
৯. ইউটিউব চ্যানেল: London Bangla-লন্ডনবাংলা (youtube.com/channel/UCgSFvxyxhHA806lhAGcjzuQ)
পোস্ট: পরীমনিকে তিন কোটি টাকার গাড়ি কিনে দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন। (youtube.com/watch?v-5DzobsXddz8)
১০. ইউটিউব চ্যানেল: AROUND NEWS24 (youtube.com/channel/UCxEqNxVngVtlo4 Mqva X2Q)
পোস্ট: পরীমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন? Who is Mashrur Arefin/Pori Moni Maserati levanta Car (youtube.com/watch?v-MnzplqS9Mpo)
১১. ইউটিউব চ্যানেল Probashi360 (youtube.com/channel/UCOoos37kBL5_00B0k52yBQ)
পোস্ট: পরীমনিকে গাড়ি উপহার দেয়া কে এই মাসরুর আরেফিন youtube.com/watch?v=ykQR-Fn pXE)
১২. ইউটিউব চ্যানেল: Monira Sultana Popy youtube.com/user/Sultanapopy).
পোস্ট: সিটি ব্যাংকের এমডি লম্পট, চরিত্রহীন মাদক সেবন করে-জোর করে মেয়েদের রেপ করে। (youtube.com/watch?v=i4n0r]JojNg&feature=share)
পরীমনি ইস্যুতে কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে সিটি ব্যাংকের মামলা
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন হবে, জানালেন আইনমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে যে কমিশন গঠন করা হবে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।তিনি জানান, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এই কমিশন গঠন করা হবে। কমিশনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলব ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা হবে। জিয়াউর রহমানসহ সকলের পরিচয়, তাদের ন্যাক্কারজনক কাজ সাক্ষ্যপ্রমাণসহ জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে।
রোববার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ‘বঙ্গবন্ধু গ্যালারি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ইনডেমনিটি নামক কালো আইন দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা এই কালো আইন বাতিলের মাধ্যমে তাঁর পিতা-মাতাসহ আপনজনদের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদের ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, পলাতক পাঁচ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণ ক্ষ্যান্ত হবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন নিরহংকার, সাদামাটা মানুষ। তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ জীবনযাপন করতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মতো আমাদেরকে চলতে হবে। তাঁর আদর্শ ধারণ করতে হবে।ব্যক্তি শেখ মুজিব কি জিনিস ছিলেন সেটাও ধারণ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শদীদুল আলম ঝিনুক, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম-সচিব বিকাশ কুমার সাহা, সলিসিটর রুনা নাহিদসহ নিবন্ধন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতাদানের আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপন করেন।
বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত
বিনম্র শ্রদ্ধায় শোক ও ভালোবাসায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে রোববার পালিত হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকে এ দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়।
শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের মাঝে জোরালো দাবী ছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রকারী ও কুশীলবদের ধরে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য গণতদন্ত কমিশন গঠন করার।

দেশজুড়ে নানা কর্মসূচিতে ছিল শোকের আবহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ছিল মানুষের কণ্ঠে। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রেতাত্মা এবং স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার শপথ উচ্চারণ করা হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত তাঁর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ত্যাগ করার পরপরই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন ও এডভোকেট আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বডুয়া প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মোহাম্মদ নাসিম ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ বেতার, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সর্বস্তরের হাজারো মানুষ।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এদিকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সামরিক সচিব এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের কুটনৈতিক মিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শোক দিবস পালন করে।
শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর সমাধী ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
ভোরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।
সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরীব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো।
এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
এছাড়াও আওয়ামী যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করে। বাসস।
জাতীয় শোক দিবস আজ
আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালন করবে। তবে, এবারও বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা , বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ও জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও, দিবসটি উপলক্ষে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকী বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।
মূলত, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশে এক বিপরীত ধারার যাত্রা শুরু করে। বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক শাসনের অনাচারি ইতিহাস রচিত হতে থাকে ।
সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।
দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’
শেখ মুজিবের সুচিন্তা থেকে আজকের বাঙালিরও শেখার আছে উল্লেখ করে ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি বলেছেন, তাঁকে ‘বাংলাদেশের জনক’ বা বঙ্গবন্ধু বলাটা নিতান্তই কম বলা। তিনি এর চেয়ে বড় কোনও অভিধা এবং নাম কিনতে চাননি। মানুষ তাঁকে অন্তর থেকে ভালবাসতেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোস্তাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনীদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামী বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়।
একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারি (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।

১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর খুনীদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে পার্লামেন্টে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামীর উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।
১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামীর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ ছয় বছর পর আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় আসলে ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামীকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।
২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর-২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় । ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামীর দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়। এরপর আমেরিকায় পলাতক মহিউদ্দিনকে দেশে এনে ফাঁসী কার্যকর করা হয়। আর
গতবছরের (২০২০) ১২ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরো একজন খুনি আবদুল মাজেদকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বিএমডিসি’র নিবন্ধনভুক্ত ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না: হাইকোর্ট
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধনভুক্ত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইন্সটিটিউট থেকে এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার (Dr.) পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না।
এ সংক্রান্ত এক রিট পিটিশনে কতিপয় পরামর্শ প্রদান পূর্বক ইতোপূর্বে জারি করা রুল খারিজ করে দেন আদালত। ন্যাশনাল মেডিক্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও অন্যান্যের আনা রিট পিটিশন নং- ৫৩৫/২০১৯ এর ওপর বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ শনিবার ৭১ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন। এই রায়ে বলা হয়, বিকল্প ধারার কিংবা প্রচলিত চিকিৎসক হওয়ার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় আইনী কাঠামো প্রস্তুত করে দেয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শাখায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগনকে তাদের নামের পূর্বে পদবী হিসেবে ডাক্তার ব্যবহারের অনুমতি প্রদান বেআইনি।
রায়ে বলা হয়েছে, ‘দুঃখজনকভাবে এটি লক্ষ্যণীয় যে, এখানে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী বিএমডিসি (BMDC) এর নিবন্ধনভুক্ত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার (Dr.) পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিগত ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারিখের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে Alternative Medical Care শীর্ষক অপারেশনাল প্লানের বিভিন্ন পদে কর্মরত হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব নামের পূর্বে ডাক্তার (ডাঃ) পদবি সংযোজনের অনুমতি প্রদান করেছে, যা এক কথায় আইনের কর্তৃত্ব ব্যতিত তথা বেআইনি।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন শাখায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগনকে তাদের নামের পূর্বে পদবী হিসেবে ডাক্তার (Dr.) ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করাও বেআইনি।
রায়ে আরো বলা হয়, বিকল্পধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের পূর্বে ১. ইন্ট্রিগ্রেটেড ফিজিশিয়ান (Integrated Physician), ২. কমপ্লিমেন্টারি ফিজিশিয়ান (Complementary Physician) ৩. ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Integrated Medicine Practitioner) এবং ৪. কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন প্র্যাকটিশনার (Complementary Medicine Practitioner) পদবী ব্যবহার করতে পারেন। পাশের দেশ ভারতেও বিকল্প ধারার চিকিৎসকরা (Dr.) লিখতে পারে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে বলা হয়, বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন। পাঁচ হাজার বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীতে চলে আসা প্রাচীন বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির যথাযথ এবং সঠিক ভাবে পঠন এবং প্রশিক্ষণ জনমানুষের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে। রায়ে বলা হয়, ‘প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি তথা পশ্চিমা চিকিৎসা পদ্ধতি আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়া শুরু হয় আজ থেকে মাত্র ১৬২ বছর আগে। পৃথিবীর প্রথম প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আইনটির নাম ‘The Medical Act, 1858’ যা ইংল্যান্ডের সংসদ পাস করেছিল। অর্থাৎ ১৮৫৮ সালের পূর্বে চিকিৎসা ব্যবস্থা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল না। অপরদিকে পাঁচ হাজার বৎসর পূর্ব হতে মানুষ বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে আসছে।’
রায়ে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে। অর্থাৎ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। প্রত্যেক নাগরিক তার বিবেকের মাধ্যমে এবং চিন্তার মাধ্যমে কোন পদ্ধতির চিকিৎসা তথা প্রচলিত/পশ্চিমা/অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন নাকি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করবেন এটি সম্পূর্ণ তার মৌলিক অধিকার।
অপরদিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুযায়ী আইনের দ্বারা অরোপিত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো পেশা (Profession) গ্রহণের অধিকার তার মৌলিক অধিকার। একজন নাগরিক প্রচলিত চিকিৎসক হবেন না বিকল্প ধারার চিকিৎসক হবেন এটি তার মৌলিক অধিকার।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ মোতাবেক চিকিৎসা পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে আদালত চার দফা পরামর্শ প্রদান করেন। এতে বলা হয়-১) ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ‘কাজাখাস্তান ঘোষণা’ থেকে ‘আলমাআটা ঘোষণা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা, নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় আইন দ্রুত প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ প্রদান করা হয়।
২) সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তথা প্রচলিত এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ‘রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা সেবা’ নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
৩) প্রয়োজনে বিকল্প ধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পৃথক মন্ত্রণালয় তথা ‘মিনিস্ট্রি অব আয়ুশ গভর্নম্যান্ট অব ইন্ডিয়া’ এর আদলে বাংলাদেশের একটি পৃথক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করার পরামর্শ দেয়া হয়।
৪) বিকল্প ধারার চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সেবার মান নির্ধারণ ও উন্নয়ন এবং বিকল্প ধারার চিকিৎসা শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তৎপ্রদত্ত ডিগ্রিসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান করার পদ্ধতি নির্ধারণ করার পরামর্শ প্রদান করা হয়।
রায়ে বিকল্প ধারার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ রায় ও আদেশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়। বাসস।
তালেবানে যোগ দিতে কিছু লোক আফগানিস্তান চলে গেছে, ডিএমপি কমিশনারের তথ্য: উদ্বিগ্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা
তালেবানের সাথে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে কিছু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাবার পর সেখানে ধরা পড়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। আফগানিস্তানে তালেবানের সাথে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে কিছু ব্যক্তি সে দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এই ধারণার কথা জানান।
শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, সাইবার ওয়ার্ল্ড ডিএমপিসহ সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে তৎপর।
এদিকে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান যেরকম দ্রুত গতিতে একের পর এক জায়গা দখল করে নিচ্ছে, তার আঁচ কিছুটা হলেও পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে।
ঢাকার পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যায়।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, তালেবানের হাতে রাজধানী কাবুলের পতন এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার ।
আফগানিস্তানের উগ্রপন্থীদের সাথে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর যোগাযোগ অনেক পুরনো বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, “আফগানিস্তানে যুদ্ধে যাবার জন্য একটি আহবান জানানো হয়েছে তালেবানদের পক্ষ থেকে। এবং বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ অলরেডি তালেবানদের সাথে যুদ্ধে যোগদান করার জন্য হিজরত করেছে। কিছু মানুষ আমরা ধারণা করছি যে ইন্ডিয়ায় ধরা পরেছে। আর কিছু পায়ে হেঁটে বিভিন্নভাবে আফগানিস্তানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।”
আফগানিস্তানে যাবার পথে কোন বাংলাদেশি ভারতে ধরা পড়েছে কিনা – সেটি ভারতের দিক থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উগ্রপন্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এমন গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, আফগানিস্তানের পট-পরিবর্তন বাংলাদেশকে প্রাভাবিত করবেই – তাতে কোন সন্দেহ নেই
।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারপার্সন মেজর জেনারেল (অব.) মুনিরুজ্জামান ব্যাখ্যা বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হবার কারণ আছে।
“বাংলাদেশে ১৯৯০’র দশকের শুরুর দিকে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়, সে লগ্ন থেকে আফগান জিহাদের সাথে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সরাসরি একটি যোগসূত্র আমরা দেখতে পেয়েছি।”
১৯৯০’র দশকে আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাংলাদেশ থেকে অনেকে আফগানিস্তান গিয়েছিল।
“যারা তখন আফগানিস্তানে গিয়েছিল, তারা সেখান থেকে ফিরে এসে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের গোড়াপত্তন করে,” বলেন জেনারেল মুনিরুজ্জামান।
আফগানিস্তান এই অঞ্চলের দেশ হলেও বাংলাদেশের সাথে তাদের কোন সীমান্ত নেই। বাংলাদেশ থেকে কেউ অবৈধ পথে আফগানিস্তানে যেতে চাইলে তাকে ভারত ও পাকিস্তান পাড়ি দিতে হবে।

গত ১২ বছর যাবত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে যে জোরালো সহযোগিতা আছে – তাতে করে বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তান পর্যন্ত যাওয়া উগ্রপন্থীদের জন্য কতটা সহজ হবে?
জবাবে মি. মুনিরুজ্জামান বলেন, ” ব্যাপারটা আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও যারা এ ধরণের কর্মকাণ্ডের সাথে লিপ্ত – তাদের জন্য এটা বেশ সহজ। সিরিয়াতে যখন আইএস যুদ্ধ করছিল, তখনও বাংলাদেশ থেকে যোদ্ধাদের যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। কাজেই বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে যাওয়াটা অপেক্ষাকৃত সহজ।”
পুলিশ বলছে, বাংলাদেশের ভেতরে উগ্রপন্থীদের একটি অংশ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু তাদের এরই মধ্যে নানা অভিযানে আটক করা হয়েছে এবং কোন ধরণের হামলার ক্ষমতা তাদের সেই বলে পুলিশ দাবি করছে।
পরীমনির মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ, মানববন্ধন
চলচ্চিত্র অভিনেত্রী চিত্রনায়িকা পরীমণির মুক্তির দাবিতে ‘জাস্টিস ফর পরীমনি’ ব্যানারে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা অচিরেই পরীমণিকে মুক্তি দেয়া না হলে আরো কঠোর এবং বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রবীণ সাংবাদিক ও কলাম লেখক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ সমাবেশের সঙ্গে আন্তরিক সমর্থন জ্ঞাপন করছি। পরীমনিকে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।
সমাবেশের সমন্বয়ক ও শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবিন আহসান বলেন, আমরা শুধু পরীমনির জন্য এখানে দাঁড়াইনি। আমরা দাঁড়িয়েছি সমস্ত নারীদের জন্য। পরীমণির বাসায় শুধুমাত্র ৫ বোতল মদ পাওয়ার ঘটনায় তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনারা আমাদের নারী সমাজকে বলতে চেয়েছেন পরীমণি কতটা খারাপ। তার বিরুদ্ধেতো কেউ মামলা করেনি। তারপরেও তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো। কিন্তু আপনারা তার বিচার করছেন। বনানী, গুলশান, উত্তরা সব স্থানে মদের বোতল পাওয়া যায়। কই তাদেরতো কোনো বিচার হয় না। অচিরেই পরীমণিকে মুক্তি দেয়া না হলে আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত পরিচালক রাশিদ পলাশ বলেন, পরীমনি একজন শিল্পী, তাকে নিয়ে এ হেনস্তা মেনে নেয়া যায় না। আমরা বলতে চাই পরীমনি আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার মুশফিকা লাইজু, মানবাধিকার কর্মী বেগম জোনাকি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুজ্জামান শরিফ, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শ্বাশতী বিপ্লব, জাসদ-এর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কাজী সালমা সুলতানা, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খান আসুদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র লীগের সদস্য ও রূপসজ্জাকার হাফিজউদ্দিন মাহবুব, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনউদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়নের সহ সভাপতি আণিক রায়।
পরীমনি কেলেঙ্কারী: মাদক মামলায় ব্যবসায়ি নাসির ও অমির বিরুদ্ধে চার্জশিট
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এই মামলাটি প্রায় দ্রুততার সঙ্গেই তদন্ত শেষে করে ৪২ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
তবে তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া তিন নারীকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে চার্জশিটে।
বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলাটির চার্জশিট গত ২৭ জুলাই মহানগর হাকিম আদালতের ডেসপ্যাচ শাখায় জমা হয় বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তিনি বলেন, “গত ৮ অগাস্ট মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। কিন্তু সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে নিয়মিত আদালত না থাকায় চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।”
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ন কমিশনার হারুণ অর রশিদ জানান “নাসির এবং অমির বিরুদ্ধে মাদকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা বেশকিছুদিন আগে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি।”
গুলশান গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান রহমান জানান, নাসির এবং অমির কাছ থেকেই মাদক পাওয়া গেছে। তাই অভিযোগপত্র থেকে তাদের বাদ দেয়ার সুযোগ নেই।
“সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করেছি, (মাদক) রিকভারও করেছি। যেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।”
চার্জশিটে তিন নারীকে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা সেখানে প্রলোভনের কারণে ছিলেন। একটা ঘোরের মধ্যে ওই কাজে তারা তাদের নিয়ে গেছে। কেউ কর্মচারী ছিলেন, কাউকে ভরণপোষণ দিয়ে থাকেন। সে কারণে এগুলো স্বেচ্ছাকৃত না, জবরদস্তিমূলক বিষয়।”
ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত বোট ক্লাবে ধর্ষণ এবং হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে গত জুনে চিত্রনায়িকা পরীমনি অভিযোগ করেন। পরে সাভার থানায় ১৫ জুন এই ঘটনায় একটি মামলা হয়।
এই মামলার সূত্রে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরার একটি বাসা থেকে নাসির, অমি এবং তিন নারীকে গ্রেপ্তার করে।
সে সময় ওই বাসা থেকে মদ ও ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানানো হয়।
পরে বিমানবন্দর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের এসআই মানিক কুমার শিকদার। এই মামলায় নাসির ও অমিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
পরীমনির করা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলায়ও নাসিরের সঙ্গে আসামি অমি।
এই দুই মামলাতেই জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি) নাসির উদ্দিন।
তবে মানবপাচার ও পাসপোর্ট আইনের মামলায় জামিন না হওয়ায় অমি এখনও কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী এএইচ ইমরুল কাওছার।
পরীমনির দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার।
স্বর্ণবার ডাকাতি: গোয়েন্দা পুলিশের ৫ কর্মকর্তা ফের রিমান্ডে
ফেনীতে ২০টি স্বর্ণবার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে আদালত।
শনিবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুরের পর আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিনালী জানান।
তিনি জানান, তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার দুপুর মামলার পাঁচ আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোতোহের হোসেন, উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক নুরুল হক, সহকারী উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ বড়ুয়া এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানাকে আদালতে আনা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনির হোসেন প্রত্যেক আসামির জন্য ৭ দিন করে ফের রিমান্ড আবেদন করে।
শনিবার দুপুরে ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন জানান, মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পিবিআই বা সিআইডিতে স্থানান্তরের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “তদন্তের প্রয়োজনে মামলার বাদীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বাদী কোথা থেকে স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করেছে, কবে করেছে, কীভাবে করেছে, কার কাছে বারগুলো বিক্রি করতে যাচ্ছিল, কেন ডিবি পুলিশ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বারগুলো লুট করেছে, এ বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন।”
পুলিশ নতুন কিছু তথ্য পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সে-ই তথ্যগুলোও যাচাই-বাছাই করছে।”
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ গত ৮ অগাস্ট চট্টগ্রাম থেকে ২০টি স্বর্ণের বার নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথে ফেনীর ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে তার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির সময় আসামি পুলিশ সদস্যরা স্বর্ণবারগুলো ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় গত ১০ অগাস্ট চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় ২০টি স্বর্ণের বার ডাকাতির মামলা করেন। ওই দিন রাতেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ডিবির অভিযুক্ত ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে জেলা পুলিশ।
পরে পুলিশ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বাসা থেকে ১৫টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। ‘বাকি পাঁচটি স্বর্ণবার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে’। বিডি নিউজ।
দেশে বিদেশে ১৮ দিন নারী ইন্সপেক্টরকে ধর্ষণ করেছেন এসপি মোক্তার হোসেন, আদালতের নির্দেশে মামলা নিলো থানা
বিয়ের আশ্বাস দিয়ে, ছল-চাতুরির আশ্রয় নিয়ে নিজের সহকর্মী ইন্সেপেক্টর পদমর্যাদার নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেন। জাতিসংঘ মিশনে গিয়ে তিনি এই নারী সহকর্মীর সহায়তা চাওয়ার নামে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে ফাঁদে ফেলে দেশে ও বিদেশে অন্তত ১৮দিন ধর্ষণ করেন। প্রতিবার ধর্ষণের আগে এসপি মোক্তার বিয়ের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি বিয়ে না করে এই নারী সহকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে এই নারী ইন্সপেক্টর মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন। আদালতে দাখিল করা জবানবন্দিতে এসব উল্লেখ করেছেন এই নারী ইন্সপেক্টর।
আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতেই এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করেছে ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানা। থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আলমগীর গাজী জানান, আদালতের নির্দেশের ডকেট হাতে পেয়ে সেটির এফআইআর গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। যথাযথ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গত বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে মামলা করেন ওই নারী ইন্সপেক্টর। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবেদনটি উত্তরা পূর্ব থানাকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে পিবিআইতে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মিশনে গিয়ে তারই সহকর্মী নারী ইন্সপেক্টরকে ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে উর্ধতন একজন কর্মকর্তার হাতে অধস্তন নারী কর্মকর্তার ওপরে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তী এবং নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে আদালতে দাখিল করা আবেদনে ধর্ষণের শিকার নারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে তাকে ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দিন ধর্ষণ করেছেন এসপি মোক্তার।
আদালতের দাখিল করা আবেদনে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা এসপি’ মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উল্লেখ করেন সেগুলো হলো:
দারফুর ক্যাম্পে:
ওই নারী ইন্সপেক্টরের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্বরত অবস্থায় সুদানের দারফুর ক্যাম্পে ভিন্ন তারিখে ৩ দিন ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী- সুদানের নর্থ দারফুরে এসসিসি-৫, সুপার ক্যাম্পে তার বাসায় ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর ৩ টায় এবং এর দুই দিনের মাথায় ২২ ডিসেম্বর দুপুর ১ টায় তাকে ধর্ষণের ঘটনা। এর কিছুদিন পর ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি মৌখিকভাবে বিয়ে করে পরবর্তীতে নিকাহ রেজিস্ট্রি করার প্রলোভন দিয়ে আবারও ধর্ষণ করা হয়।
সুদানের খার্তুম হোটেলে:
অভিযোগ অনুযায়ী- সুদানের খার্তুম হোটেলে টানা ৫ দিন তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন- ২০২০ সালের ২৬ থেকে ৩০ জুন টানা ৫ দিন সুদানের খার্তুম হোটেল শামলোতে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানে:
নারী কর্মকর্তার অভিযোগ অনুযায়ী- উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানে বিভিন্ন তারিখে ৫ দিন ধর্ষণের শিকার হন তিনি। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন-
২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টা থেকে পরদিন ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫ টা পর্যন্ত হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিমিটেডের ২০৬ নম্বর কক্ষে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই বছরেরই ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত একই হোটেলের ৩০৬ নং কক্ষে আবারও ধর্ষণের শিকার হন।
মিরপুরের গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেলে:
অভিযোগ অনুযায়ী মিরপুরের গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেলে নিয়েও তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর মিরপুর-১ এর গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেল লিমিটেডের ৭০৫ নম্বর কক্ষে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
শান্তিনগরের হোটেল হোয়াইট হাউজে:
রাজধানীর শান্তিনগরের হোটেল হোয়াইট হাউজেও ওই নারী কর্মকর্তাকে টানা ৪ দিন ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী- ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শান্তিনগরের হোটেল হোয়াইট হাউজের ২০৯ নম্বর কক্ষে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
কাবিনের দাবিতে গেলে মধুমতি অফিসার্স কোয়ার্টার্সে হুমকি:
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ এপ্রিল আসামীর বাসা এইচ-০৯, রাজারবাগ মধুমতি অফিসার্স কোয়ার্টার্সে বাদিনীকে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
আদালতে দাখিল করা ওই নারী কর্মকর্তার বিস্তারিত অভিযোগে বলা হয়-
আসামী মোক্তার হোসেন বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সুপার জাতিসংঘের শান্তিমিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্ট এর কমান্ডার হিসাবে ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানে নিযুক্ত হন। বাদিনী সুদানে উক্ত মিশনের পূর্ববর্তী সদস্য হিসাবে কর্মরত থাকা মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় আসামী বিভিন্ন অজুহাতে বাদিনীর সহযোগিতা নেয়ার নাম করে যোগাযোগ করতেন।
বাদিনী সরল বিশ্বাসে নিজের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সার্বিক দাপ্তরিক সহযোগিতা প্রদান করতেন। আসামী বাদিনীকে তার জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে বললে বাদিনী লজিস্টিক অফিসার হিসেবে আসামীকে একটি বাসার ব্যবস্থা করে দেন।
খাবার খাওয়ার সুযোগ:
একপর্যায়ে আসামী নিজে রান্না করে খেতে পারেন না, তার খাওয়া-দাওয়ার খুবই কষ্ট হয় এবং রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলেন এমন কথা বাদিনীকে জানিয়ে বাদিনীর সাথেই খাবার খাওয়ার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন। বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের একজন মানুষ এবং নিজের একজন বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে আসামীকে নিজ বাসাতেই খাওয়াতে রাজি হন বাদিনী।
এভাবেই আসামী নিয়মিত বাদিনীর বাসায় খাওয়া দাওয়া করতেন। এভাবে কিছুদিন যেতে না যেতেই আসামী বাদিনীকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত তার নিজ স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহের বিষয়ে প্রয়োজনাতিরিক্ত কথোপকথন করতে উদ্যত হন। বাদিনী আসামীকে বারবার বুঝাইতে চাইতেন যে- বাদিনী আসামীর কাছ থেকে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা আশা করেন না। এবং বাদিনী আসামীকে বিভিন্ন ইংগিতে এটিও বুঝাতে চান যে- বাদিনীর স্বামী আসামীর বাদিনীর বাসায় আসা-যাওয়া, খাওয়া ও অপ্রয়োজনীয় কথা পছন্দ করেন না। তবুও আসামী বাদিনীর সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা চালাতে থাকতেন।
সেদিন ক্যাম্পে যা ঘটেছিলো:
এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সেরে আসামী বাদিনীর বাসা হতে বেরিয়ে গেলে বাদিনী বিশ্রাম নিতে থাকেন। এর ১ ঘণ্টা পর আসামী বাদিনীর দরজা নক করিলে ঘুমের ঘোরে বাদিনী দরজা খুললে আসামী বাদিনীর বাসায় প্রবেশ করে সোফায় বসে বাদিনীকে বাদিনীর ব্যবহৃত গাড়ির চাবিটি দিতে বলেন।
ওই সময়ে বাদিনী ইউনিফরমের প্যান্টের পকেট থেকে চাবি বের করতে গেলে আসামী বাদিনীকে পেছন দিক দিয়ে জাপটে ধরেন। এই সময় বাদিনী আত্মরক্ষার্থে ঘরময় ছুটে বেড়ানোর এক পর্যায়ে আলমারির চিপায় আশ্রয় নিলে আসামী বাদিনীকে জোর করে টেনেহিচড়ে বের করে এনে আলমারির পার্শ্ববর্তী টেবিলের উপর শোয়াইয়ে বাদিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ক্ষমা চাইতে গিয়ে আবারও ধর্ষণ:
এরপর এই ঘটনা কাউকে না জানাতে বাদিনীকে ভয়ভীতি দেখান ওই এসপি। পরবর্তীতে বাদিনীর সাথে দেখা করে আসামী বাদিনীর কাছে ক্ষমা চাইতে বারবার অনুরোধ জানিয়ে ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর বাদিনীর বাসায় গিয়ে আগের ঘটনার জন্য বাদিনীর কাছে ক্ষমা চান। এবং পরক্ষণেই আসামী আগের মতো আচরণ করে ওইদিনই দুপুর ১ টায় বাদিনীর বাসায় বাদিনীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন। এই ঘটনার পর বাদিনী আসামীকে আর বাদিনীর বাসায় ঢুকতে দিতেন না। কিন্তু আসামী সবসময় বাদিনীর বাসার দরজা উচ্চশব্দে ধাক্কাধাক্কি করতেন এবং টেলিফোন করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাদিনীর সাথে দেখা করতে চাইতেন।
দরজা ধাক্কাধাক্কির বিষয়টি টের পেয়েছিলেন অন্যরা:
বাদিনীকে জরুরি কথা বলার নাম করে ফোনে জোর করে বাদিনীর বাসায় আসামী প্রবেশ করতে চাইলে বাদিনী আসামীকে বাদিনীর বাসায় প্রবেশ করতে দিতে চাইতেন না। বাদিনী আসামীকে বারবার বলেন “…আপনি আমার দরজা ধাক্কাচ্ছেন কেন? আমি আপনাকে আমার বাসায় ঢুকতে দিব না। আপনি আমার বাসায় ঢুকে আমাকে জোর করে ধর্ষণ করেছেন।. .আমি আপনাকে নিষেধ করার পরও আপনি আমার বাসায় জোর করে ঢুকতে চাচ্ছেন কেন? দয়া করে আপনি চলে যান।” ওই সময়ে দরজা ধাক্কাধাক্কির কারণ জানতে পাশের অন্যান্য বসবাসকারীরা বাদিনীকে জিজ্ঞাসা করতে বাদিনী মানসম্মানের ভয়ে কাউকে কিছুই জানাতে পারেননি।
ডিপার্টমেন্টাল হয়রানীর ভয়ভীতি:
আসামী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে, বাদিনীকে অসহায় ও ভীতসন্ত্রস্ত করে এবং ডিপার্টমেন্টাল হয়রানীর ভয়ভীতি দেখিয়ে বাদিনীর বাসায় প্রবেশ করে বাদিনীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। এবং ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি আসামী বাদিনীকে ফুসলিয়ে, ভুল বুঝিয়ে, প্রতারণা করার উদ্দেশ্য মুখে কালেমা পড়ে বাদিনীকে মৌখিকভাবে বিয়ের প্রতারণা করেন এবং বাদিনীকে আশ্বস্ত করেন- বাংলাদেশে ফিরে এই মৌখিক বিয়েকে রেজিস্ট্রি কাবিন করে গ্রহণ করবেন বলে আবারও বাদিনীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
একসঙ্গে দেশে ফিরে উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানে:
পরবর্তীতে বাদিনীকে সঙ্গে করে ছুটি নিয়ে দেশে এনে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ১১ টা থেকে পরদিন ভোর ৫ টা পর্যন্ত উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ানের ২০৬ নম্বর কক্ষে বাদিনীকে আসামী বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর ছুটি শেষে সুদানে গিয়ে ওই বছরেরই ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেদেশের খার্তূম হোটেল শামলোতে বাদিনীকে আসামী বিবাহের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন।
আবারও ছুটিতে ওই নারী ইন্সপেক্টরকে সঙ্গে করে দেশে ফেরেন এসপি। তিনি আগের মতোই ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরার হোটেল ডি মেরিডিয়ান লিমিটেডের ৩০৬ নম্বর কক্ষে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেন।
আসামীর দেয়া পূর্ব আশ্বাসের ভিত্তিতে বাদিনী আসামীকে মৌখিক নিকাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিলে আসামী বাদিনীর সাথে অশোভন আচরণ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে কৌশলে বাদিনীকে এড়িয়ে যেতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বাদিনী চলতি বছরের ১২ এপ্রিল আসামীর রাজারবাগের মধুমতি এইচ-০৯ বাসায় উপস্থিত হয়। তিনি ওই এসপির দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী বিয়ের কাবিন সম্পন্ন করতে পুনরায় তাগিদ দেন। এক পর্যায়ে আসামী কাবিন সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানায়। এবং আসামী, আসামীর স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে বাদিনীকে মারধর করেন এবং আসামী বাদিনীকে বিভিন্ন রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমন পরিস্থিতিতে বাদিনী অসহায় হয়ে পড়ে এবং বুঝতে পারে যে- আসামী বাদিনীর সরলতার সুযোগ নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় প্রথমে বাদিনীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে বাদিনীর সাথে প্রতারণা করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাদিনীকে ধর্ষণ করেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এই বিষয়ে বাদিনী গত ১০ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেয়।











