রাজধানীর বংশাল থানা এলাকা থেকে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেফতারকৃতদের নাম মোঃ আবু হানিফ ও মোছাঃ নাসরিন সুলতানা। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বংশাল থানার ফুলবাড়ীয়া কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারী হাসপাতাল এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী গাঁজা বিক্রির জন্য মাইক্রোবাসসহ অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের কোতয়ালী জোনাল টিম। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইক্রোবাস রেখে পালানোর সময় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মাইক্রোবাস তল্লাশী করে ১২০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা শহরে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল।
বংশালে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার
আফগানিস্তানে ফিরছে তালিবানি নিষ্ঠুর শাসন : মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ, গান বাজনা নিষিদ্ধ, চালু হচ্ছে শরিয়া আইন
সেই নৃশংস শাসনের পথেই ফিরে আসছে তালেবানরা। আফগানিস্তানের একের পর এক জায়গা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রেখে যাচ্ছে নৃশংসতার চিহ্ন। নির্বিচারে হত্যা, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা, নারীদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ,গানবাজনা নিষিদ্ধ করে শরিয়ত আইন চালু করছে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে এসে সেখানকার সর্বশেষ অবস্থা এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার দখলের দাবি করেছে তালেবান, যা তাদের জন্য একটি বড় ধরণের বিজয় হতে পারে।

শহরটি এক সময় তালেবানের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে এটি কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার দেশটির কয়েকটি শহরের নাটকীয় পতন ঘটেছে যদিও তালেবান এখনো বিজয় ঘোষণা করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তারা আফগানিস্তানের মার্কিন দূতাবাস থেকে আটকেপড়া কর্মীদের উদ্ধারে তিন হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে।
বিশেষ বিমানে করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীকে নিয়ে আসতে কাবুল বিমানবন্দরে যাবে তারা।
অন্যদিকে ব্রিটিশ নাগরিকদের আফগানিস্তান ছাড়তে সহায়তা করতে অন্তত ছয়শ সৈন্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
বিবিসির সাংবাদিক সেকেন্দার কেরমানি লিখেছেন,সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে তালেবান যোদ্ধারা এগিয়ে চলেছে কাবুলের দিকে, দুই দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা ফিরে পাওয়াই তাদের লক্ষ্য।
ইতোমধ্যে দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা তালেবান নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র দেড়শ কিলোমিটার দূরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর গজনিও তারা দখল করে নিয়েছে বৃহস্পতিবার।
দুই দশকের রক্তাক্ত যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাদের সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই তালেবানের এই অগ্রযাত্রা।

যুদ্ধের মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। কয়েকশ মানুষ নিহত কিংবা আহত হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহে।
যে পথ ধরে বিজয়ী বেশে তালেবানরা অগ্রসর হচ্ছে, সেই পথেই ফিরে আসছে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবান শাসনামলের আতঙ্ক জাগানো স্মৃতি, তখনকার মতই বেশ কিছু নিষ্ঠুর নিয়ম তারা এরই মধ্যে ফিরিয়ে এনেছে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পাওয়া এলাকগুলোতে।
তার সঙ্গে যখন তালেবান যোদ্ধাদের দেখা হয়, তারা সে সময় আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর মাজার-ই-শরিফ থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থান করছিল। যুদ্ধে পাওয়া ‘গনিমতের মাল’ তারা দেখাচ্ছিল, যার মধ্যে একটি হামভি, দুটি পিকআপ ভ
ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়া একদল যোদ্ধার মাঝে পাথরের মত কঠিন চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক মাদ্রাসা ছাত্র আইনুদ্দিন। তিনি এখন একজন তালেবান কমান্ডার।
বিবিসির প্রতিবেদক আইনুদ্দিনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, যে সাধারণ মানুষের জন্য তারা লড়াই করছেন বলে দাবি করেন, তাদের দুর্ভোগে ফেলে এই সহিংসতাকে তিনি কীভাবে যৌক্তিক মনে করেন।
ঠাণ্ডা স্বরে আইনুদ্দিন তাকে বলেন, “লড়াই চলছে, তাই মানুষ মারা যাচ্ছে।” তারা ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করছেন, যাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি না হয়।
কিন্তু তালেবানরাই যে এ যুদ্ধের সূচনা করেছে, সে কথা তুলতেই আইনুদ্দিনের জবাব- “না, আমাদের নিজেদের একটা সরকার ছিল, যাকে উৎখাত করা হয়েছে। তারাই (আমেরিকানরা) এই যুদ্ধ শুরু করেছে।”
আইনুদ্দিনসহ বাকি তালেবানরা মনে করেন, পরিস্থিত এখন তাদের অনুকূলে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তাদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। এখন আবারও তারা আধিপত্য ফিরে পাচ্ছেন।
কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘পুতুল’ সরকার ক্ষমতায় আছে মন্তব্য করে আইনুদ্দিন বলেন, “তারা পশ্চিমা সংস্কৃতি ছাড়ছে না … তাই তাদেরকে হত্যা করতে হবে।”
বিবিসির সাংবাদিক সেকান্দার কেরমানি লিখেছেন, “আমাদের কথোপকথন শেষ হওয়ামাত্র হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা গেল। হামভি নিয়ে তালেবান যোদ্ধারা মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল। এ ঘটনা মনে করিয়ে দিলে আফগান বিমান বাহিনী এখনও তালেবানদের জন্য বড় বাধা, আর এ যুদ্ধ শিগগির শেষ হওয়ার নয়।”
কিছুদিন আগে প্রাচীন বাল্খ নগরীতে ঘুরে আসার কথাও লিখেছেন বিবিসির প্রতিবেদক। ধারণা করা হয়, ওই শহরেই জন্মেছিলেন ইসলামের খ্যাতনামা মরমী কবি জালাউদ্দিন রুমি।
সেকান্দার কেরমানি যখন বাল্খে গিয়েছিলেন, তখনও ওই এলাকা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে চারপাশের গ্রামগুলো তালেবান যেদ্ধারা দখল করে নিয়েছিল।
এখন প্রায় ২০০ জেলা শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চারপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সংহত করছে তালেবান। বাল্খও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
তালেবান বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সেকান্দার কেরমানিকে বলেছেন, তারা যে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, তার বেশি কিছু কারণ আছে। একটি হল, ঐতিহাসিকভাবেই ওই এলাকায় তালেবানবিরোধী মনোভাব প্রবল। আবার ওই এলাকর জাতিগত বৈচিত্র্যও একটি কারণ।
তালেবানের মূল নেতৃত্বে থাকা পশতুরা সংখ্যায় বেশি হলেও তারা এখন আফগানিস্তানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। সে কারণেই উত্তরাঞ্চল বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাল্খ এর স্থানীয় তালেবান নেতা হাজি হেকমতের অতিথি হয়েছিলেন বিবিসি প্রতিবেদক। তিনি তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, যুদ্ধের মধ্যেও মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে ‘স্বাভাবিক’ দেখাতে হাজি হেকমত ছিলেন উদগ্রীব।
বাল্খের বাজারে নারী এবং পুরুষ উভয়েরই ভিড় দেখেছেন বিবিসির সাংবাদিক। রাস্তায় মেয়েদের স্কুলে যেতেও দেখেছেন। কিন্তু অন্যান্য এলাকায় তালেবান কমান্ডাররা নারীদের চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করছেন বলেও তিনি খবর পেয়েছেন। কোথাও কোথাও মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করারও খবর এসেছে।
ওই এলাকায় যে নারীদের সেকান্দার কেরমানি দেখেছেন, তাদের সবাই পুরো দেহ ঢাকা বোরখা পরা ছিলেন, তাদের মুখ আর চুলও ছিল ঢাকা।
হাজি হেকমত তাকে বলার চেষ্টা করেছেন তালেবান কাউকে বোরখা পরতে বাধ্য করছে না, শুধু এই ‘নসিহত’ করছে যে নারীদের এরকম পোশাকেই বাইরে আসা উচিত।
তবে সেকান্দার কেরমানি শুনেছেন, শহরের ট্যাক্সি চালকদের এই হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, পুরোপুরি বোরখা না পরা থাকলে কোনো নারীকে যেন তারা গাড়িতে না তোলে।
বিবিসির সাংবাদিক যেদিন বাল্খ শহর ত্যাগ করেন, তার পরদিনই তিনি খবর পান, বোরখা না পরায় সেখানে এক তরুণীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হেকমত তার কাছে দাবি করেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তালেবানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সেকান্দার কেরমানি তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, বাজারে অনেকেই তালেবানের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা বলেছেন। তালেবান আসায় নাকি তাদের ‘নিরাপত্তা জোরদার’ হয়েছে।
“কিন্তু আমি যেখানেই গেছি, যার সঙ্গে কথা বলেছি, তালেবান যোদ্ধারা সব সময় আমার সঙ্গে ছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা সত্যিকারে তালেবানের বিষয়ে কী ভাবছে, সেটা বোঝার উপায় আমার ছিল না।”
নীল টালির ওপর কারুকাজ করা মাজার-ই-শরিফ মসজিদের আশেপাশে গত সপ্তাহেও আফগান নারী আর পুরুষদের অনেক বেশি সামাজিক এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল।
এই নগরী এখনও আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিবিসি প্রতিবেদক যাদের সঙ্গেই কথা বলেছেন তাদের প্রত্যেকেই তালেবানের পুনরুত্থান নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা বেড়ে উঠেছে তুলনামূলক একটি ‘স্বাধীন’ পরিবেশে।
কিন্তু বাল্খ জেলায় রকারি বিভিন্ন স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের ‘সরকার ব্যবস্থা’ গড়ে তুলছে তালেবান। ইতোমধ্যে শহরের সব সরকারি ভবনের দখল নিয়েছে তারা। এর মধ্যে পরিত্যক্ত একটি পুলিশ ভবনও রয়েছে।
ওই ভবনটি স্থানীয় পুলিশ প্রধানের সদর দপ্তর ছিল, ওই এলাকার দখল নিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ভবনটির একটি অংশ ধ্বংস করেছে তালেবানরা।

বিবিসি প্রতিবেদক লিখেছেন, ওই অভিযানের বিষয়ে তিনি যখন কথা বলতে গেলেন, হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল তালেবান ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর আব্দুল্লহ মনজুরের মুখ। তার সহযোগীদেরও মুখেও ছিল হাসি।
আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকায় এসব যুদ্ধের পেছনে আদর্শিক কারণ যতটা রয়েছে, ঠিক ততটাই রয়েছে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ।
তালেবানরা এসব এলাকার দখল নিলেও বেশ কিছু বিষয় বদলায়নি। সেখানে কমলা রঙের পোশাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আগের মতই কাজে যেতে দেখা গেছে। নিয়ম করে অফিস করছেন কিছু সরকারি আমলাও।
এরা সবাই নতুন তালেবান মেয়রের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন। তার কার্যালয়ে বড় একটি কাঠের টেবিলের কোনায় বসানো পতাকার মধ্যে লেখা রয়েছে ‘ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তান’।
বাল্খের বর্তমান মেয়র একসময় তালেবান বাহিনীকে গোলাবারুদ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন, এখন তিনি ‘কর’ আদায়ের দায়িত্বে। বিবিসির প্রতিবেদককে তিনি গর্বের সঙ্গে বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর তারা আফগান সরকারের চেয়ে কম কর ধার্য করছেন।
বিবিসি প্রতিবেদক লিখেছেন, অনেক জায়গাতেই এখন তালেবানদের কট্টর ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো আরও বেশি প্রকট। স্থানীয় রেডিও স্টেশনে এক সময় ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় গানও বাজানো হতে। এখন সেখানে কেবল ধর্মীয় বয়ান শোনা যায়।
হাজী হেকমত তাকে বলেছেন, গান ‘অশ্লীলতা’ উসকে দেয়, তাই প্রকাশ্যে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাইলে তো শুনতেই পারেন।
বিবিসির প্রতিবেদক অবশ্য স্থানীয়দের কাছে শুনেছেন, এক লোক বাজারে গান শোনায় তালেবান যোদ্ধারা তাকে আটক করে। তারপর শাস্তি হিসেবে তাকে তপ্ত রোদের মধ্যে খালি পায়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়, যতক্ষণ না তিনি চেতনা হারাচ্ছেন।
হাজী হেকমত দাবি করেছেন, তেমন কিছু বাস্তবে ‘ঘটেনি’। রেডিও স্টেশন থেকে বের হওয়ার পর দাড়ি ছাড়া কিছু তরুণকে দেখিয়ে শুকনো হেসে তিনি সেকান্দার কেরমানিকে বলেছেন, “দেখুন! আমরা কাউকে জবরদস্তি করছি না।”
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা স্পষ্ট যে তালেবান বিশ্বের কাছে নিজেদের নমনীয় একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তানের অন্যান্য স্থান থেকে যেসব খবর আসছে, তাতে তাদের কঠোর ভূমিকার কথাই শোনা যাচ্ছে। অবশ্য সেটা স্থানীয় কমান্ডারদের আচরণগত পার্থক্যের কারণেও হতে পারে।
তালেবানের দখল চলে যাওয়া কিছু এলাকা থেকে প্রতিশোধমূলক এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর আসার পর পশ্চিমা দেশগুলো হুঁশিয়ার করে বলেছে, জোর করে দখলের চেষ্টা করলে আফগানিস্তানকে একঘরে করা হবে।
আগের তালেবান শাসনামলে ‘শরিয়া আইনে’ শাস্তির নামে নিষ্ঠুরতার বহু ঘটনা দেখা গেছে। এ বাহিনীর নতুন অগ্রযাত্রা শুরুর পর গত মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে তালেবান যোদ্ধারা শিশু অপহরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলায়। বলা হয়, অপহরণের দায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
বিবিসি প্রতিবেদক বাল্খ অঞ্চল পরিদর্শনের সময় একটি আদালতের কার্যক্রমও দেখতে যান। যেখানে সব মামলাই ছিল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে।
অনেকেই যখন তালেবানের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আতঙ্কিত, এমনও অনেকে আছেন, যারা আফগান সরকারের দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থার চেয়ে তালেবানি বিচারে দ্রত সমাধান পাওয়াকেই শ্রেয় বলে মনে করছেন।
একটি মামলার বাদী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিবিসিকে বলেছেন, “আমাকে এ পর্যন্ত অনেক ঘুষ দিতে হয়েছে।”
তালেবান বিচারক হাজী বদরউদ্দিন বলেছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেননি। আর গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে তাদের ব্যবস্থায় আপিল আদালতও রয়েছে।
তবে কঠোর সাজার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে এই বিচারক বলেন, “আমাদের শরিয়া আইনে এটা স্পষ্ট, অবিবাহিত কেউ যদি যৌনকর্মে লিপ্ত হয়, সে নারী হোক বা পুরুষ, জনসম্মুখে ১০০ দোররাই তার শাস্তি।
“কিন্তু বিবাহিত কেউ যদি ব্যাভিচার করে, তাহলে সে যেই হোক না কেন, পাথর ছুড়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে হবে… আর চুরির ক্ষেত্রে, যদি প্রমাণ হয়, তার হাত কেটে ফেলতে হবে।”
এমন শাস্তি যে আধুনিক সভ্য সমাজের সঙ্গে যায় না, সেই সমালোচনার জবাবে হাজী বদরউদ্দিন বলেন, “কারও সন্তানকে অপহরণ করা হল, এটা কি ভালো? নাকি একজনের হাত কেটে দিয়ে সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ভালো?”
তালেবান বাহিনী দ্রুত বিভিন্ন এলাকার দখল নিলেও আফগান সরকার এখনও বড় নগরীগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সামনের মাসগুলোতে আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
বিবিসি প্রতিবেদক হাজী হেকমতকে প্রশ্ন করেছিলেন, তালেবান বাহিনী যে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে জিতবে, সে বিষয়ে তিনি কতটা নিশ্চিত।
জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, যদি শান্তি আলোচনা সফল না হয় তবে আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা জয়ী হব।”
সেই শান্তি আলোচনা এখন কার্যত থমকে আছে। তালেবান বাহিনীর তরফ থেকে বার বার একটি ‘ইসলামি সরকার’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হচ্ছে, প্রতিপক্ষের কাছে যা আত্মসমর্পণেরই নামান্তর।
তালেবান কমান্ডার হেকমত বলেন, “আমরা দুই বিদেশি শক্তিকে পরাজিত করেছি। এখন সামনে ভেতরের শত্রু।”
রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার ষড়যন্ত্র বিশ্বব্যাংকের, ধানাইপানাই না করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা দেশে অন্তর্ভুক্ত করাসহ বিশ্বব্যাংকের সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবনাকে ‘রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়ার অভিপ্রায়’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত এক সভায় কমিটি বলেছে, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য বাড়ি তৈরি বা শিক্ষার সুযোগের নামে বিশ্বব্যাংক যেন ধানাইপানাই না করতে পারে।’

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা কমিটিকে বলেছি যে বিশ্বব্যাংক এ ধরনের ধানাইপানাই করে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করতে চায়। রোহিঙ্গাদের সেটেলমেন্টের জন্য এই সব প্রস্তাবনা মানা যাবে না। আমরা স্পষ্টতই এর বিরোধিতা করেছি।’
‘আমরা খুব কঠোরভাবে বলেছি, বিশ্বব্যাংকের ঘাপলার চক্করে যেন আমরা না পড়ি,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হবে, আমরা তাদের সাময়িক জায়গা দিয়েছি। আপনারা তাদের মিয়ানমারে ফেরতের যাবতীয় ব্যবস্থা করুন। আমাদের এখানে থাকার জন্য তাদেরকে ভবন তৈরি করে দেবেন। তাদের চাকরির সুযোগ করে দেবেন। জমি কেনার সুযোগ দেবেন এসব ধানাইপানাই নয়।’
তিনি জানান, সংসদীয় কমিটির অবস্থান হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে কোন ধরনের আলোচনায় মন্ত্রণালয় যেন বলে যে ‘তারা শরণার্থী নয় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী।’
‘কাজেই আলোচনার প্রথম এজেন্ডা হবে তাদের কীভাবে ফেরত পাঠানো যাবে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটিকে জানিয়েছেন আমাদের এখানে ৯-১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনশ জনেরও কম আছে যারা গ্রাজুয়েট। তাদের তো সেই দেশেই পড়াশোনা করার অধিকার নেই। বিশ্বব্যাংক চাইলে মিয়ানমারকে টাকা দিক সে দেশে রোহিঙ্গাদের পড়াতে।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা ভাসানচর পরিদর্শনে গিয়ে খুশি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ এ রকম করার কথা বলেছে। কিন্তু, আমরা সেটা কেন করবো। এখানকার জায়গা সংকটের কারণেই আমরা ভাসানচরে তাদের নিচ্ছি। তাছাড়া এটা আমাদের বনের জমি। তাদের কারণে আমাদের বন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা দেশে অন্তর্ভুক্ত করাসহ একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাবসহ ‘রিফিউজি পলিসি রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে ১৬টি দেশের শরণার্থী ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক।
ফ্রেমওয়ার্কের বিষয়ে মতামত চেয়ে জুনের ৩০ তারিখ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে সেটি অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।
পরে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, সরকার ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করেছে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কাজ, চলাফেরা, জমি কেনা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হওয়াসহ সব ধরনের আইনি অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জীবনমান সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত:
এদিকে, রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়ন এদেশে তাদের স্থায়ী বসবাসে উৎসাহিত করবে বলে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়-রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্যাম্পগুলোকে জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধাসমূহ বৃদ্ধি, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নানাবিধ বহুবার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরণের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ক্যাম্পের জীবনমানের ক্রমাগত উন্নয়ন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসে উৎসাহিত করতে পারে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাবাসনের স্বার্থে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধাসমূহ যৌক্তিক ও সীমিত পর্যায়ে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী তার অনুমোদন দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান, হাবিবে মিল্লাত প্রমুখ অংশ নেন। খবরের সূত্র-ডেইলি স্টার,ছবি -বিবিসি বাংলা।
হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন রন হক ও দিপু হক সিকদার
এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত ডিএমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলার দায় থেকে দুজনকে অব্যাহতি দেন।
মামলার দায় থেকে দুজনকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে গত ২৬ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন উদ্দিন। যেখানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কিছু তথ্যগত ভুল বা ভুল বোঝাবুঝির ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করেন বাদী। তাদের (বাদী-বিবাদী) মধ্যে একটি আপসনামা হয়েছে।
এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) দুজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত বছরের ১৯ মে গুলশান থানায় রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। মামলার বাদী ছিলেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) সিরাজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঋণের জন্য বন্ধকী সম্পত্তির মূল্য বেশি দেখাতে রাজি না হওয়ায় ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন সিকদার গ্রুপের ওই দুই পরিচালক।
বিবরণে উল্লেখ করা হয়, পুরো ঘটনাটি ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব নিয়ে। এই ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পত্তি পরিদর্শনের নামে এক্সিম ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তাকে গুলশানের একটি বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়।
এ সময় জামানত হিসেবে ওই সম্পত্তির বন্ধকী মূল্য কম উল্লেখ করেন ব্যাংকটির এমডি ও অতিরিক্ত এমডি। এরপরই গুলি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার ব্যাংকটির এমডির কাছে একটি সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেন।
নারী সহকর্মীকে ধর্ষণ, এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার নির্দেশ আদালতের
নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার জন্য ডিএমপির উত্তরা-পূর্ব থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মোক্তার হোসেন বাগেরহাটে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) কর্মরত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭–এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার এ আদেশ দেন। ওই ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফরোজা আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিপি আফরোজা বলেন, ‘বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার আবেদন করেন পুলিশ ইন্সপেক্টের পদমর্যাদার এই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। আদালত বাদীর জবানবন্দি, অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ওই নারীর অভিযোগে এজাহার হিসেবে নেয়ার জন্য উত্তরা-পূর্ব মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
এর আগে নারী পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা নেয়ার আবেদন করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। বাদী আগে থেকেই সেখানে কর্মরত থাকায় মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় বিভিন্ন অজুহাতে সহযোগিতার নামে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আসামি বাদীর বাসায় গিয়ে তার ব্যবহৃত গাড়ির চাবি চান। বাদী চাবি ইউনিফর্মের পকেট থেকে আনতে গেলে আসামি পেছন থেকে তাকে জাপ্টে ধরে ধর্ষণ করেন। এরপর এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি হুমকি-ধামকি দেন। ২২ ডিসেম্বর ক্ষমা চেয়ে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি মৌখিকভাবে বিয়ে করে বাদীকে আবারও ধর্ষণ করেন। এরপরও আরও কয়েকদফা ধর্ষণ করেন মোক্তার হোসেন। নিকাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে বাদীকে গ্রহণ করার তাগিদ দিলে মোক্তার হোসেন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বাদীকে এড়িয়ে যেতে থাকেন। এর অবস্থায় গত ২১ এপ্রিল বাদী মোক্তার হোসেনের রাজারবাগ বাসায় গিয়ে আশ্বাস অনুযায়ী বিয়ের কাবিননামা সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। এতে মোক্তার হোসেন অস্বীকৃতি জানান।
মোক্তার হোসেন, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে বাদীকে মারধর করেন এবং হুমকি ধামকি দেন। করোনার কারণে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী। গত ১০ আগস্ট বাদী উত্তরাপূর্ব থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলার করার জন্য বলেন। এজন্য আদালতে এসে মামলা দায়ের করলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী।
নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশন হচ্ছে; জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত,বললেন আইনমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠনের কাজ এগুচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এই কাজ পিছিয়ে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কমিশন গঠন করে কার্যক্রম শুরু হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এটা দিনের আলোর মত সত্য যে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তার সাক্ষ্য-প্রমাণ কমিশনের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে ইনশাল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) গুলশানে নিজ বাস ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, যখন এ মামলার তদন্ত হয় তখন জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়নি। কারণ তখন তিনি মৃত। মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার সুযোগ আইনে নেই। বাংলাদেশের আইনে মরণোত্তর সাজা দেয়ার কোনো বিধান নেই। আইনের বাইরে গিয়ে শুধু তামাশা করার জন্য একজনকে সাজা দেয়া যায় না। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডে যে জিয়াউর রহমান জড়িত সেটার সাক্ষ্য প্রমাণ, ইনশাআল্লাহ এই কমিশনের (বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের খুঁজতে কমিশন গঠিত হবে) মাধ্যমে জন সম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার ব্যাপারে শেখ হাসিনার সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানান আইনমন্ত্রী । তিনি বলেন, শুধু তার সরকার নয় আওয়ামী লীগ যতদিন বাংলাদেশে থাকবে, বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের একজন বেঁচে থাকলেও হত্যাকারীদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। খুনিদেরকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ চলমান প্রক্রিয়ার ব্যাপারে বিশদ কিছু বলতে গেলে এ প্রক্রিয়ার কিছু ব্যাঘাত হবে। তবে এই ব্যাপারে সরকারের কোনো শিথিলতা নেই। খুনিদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সরকার চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও আলাপ আলোচনায় এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন শুধু তারাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। এর পিছনে একটা ষড়যন্ত্র আছে এবং সেই ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদেরকে অন্ততপক্ষে চিহ্নিত করে দেশের মানুষের কাছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার। মন্ত্রী বলেন, এই ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া কি হবে তা নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলাপ আলোচনা করে একটি কমিশন গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে করোনার মহামারী শুরু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই কমিশনের রূপরেখা কি হবে, কমিশনের কার্যাবলি কি হবে, কমিশন কাদের দ্বারা গঠিত হবে তা দেশবাসী জানতে পাবেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পলাতক খুনি মুসলেম উদ্দিন ভারতে পলাতক রয়েছে এমন প্রশ্নের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা তা যাচাই বাচাই করে দেখেছি। এখন পর্য ন্ত তার কোন সত্যতা আমরা পাইনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার পর যে আদলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, আমরা চলমান আইনগুলোতে সেই আদর্শ এবং ভিত্তি অনুসরণ করেই কাজ করছি।’
এসপির বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা
একজন পুলিশ সুপারের (এসপি) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে মামলার আর্জি জানিয়েছেন তারই এক নারী সহকর্মী, যিনি পুলিশের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
এই নারী কর্মকর্তার অভিযোগ, ২০১৯ সালে সুদানের দারফুরে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে থাকাকালে এবং পরে দেশে ফেরার পর ঢাকার উত্তরার একটি হোটেলে তাকে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার বৃহস্পতিবার প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাদীর জবানবন্দি শোনেন। পরে তিনি বিষয়টি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মো. জাফর হোসেন বলেন, “মামলার আর্জি হয়েছে। আদালত আদেশ পরে দেবেন।”
এ ট্রাইবুনালের রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আফরোজা ফারহানা অরেঞ্জ জানান, অভিযোগকারী নারী পুলিশের ওই সদস্য বর্তমানে পরিদর্শক পদে আছেন। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন এখন বাগেরহাটে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) কর্মরত।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোক্তার হোসেনকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) মো. সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি জেনে পরে আপনাকে জানাচ্ছি।” কিন্তু পরে তিনি আর কোনো সাড়া দেননি।
পিপিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন মামলা হয়েছে, সে অনুযায়ী তদন্ত হবে। তদন্তেই সব জানা যাবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যিনি মামলা করেছেন তিনি মামলা করার আগে পিবিআইতে কোনো অভিযোগ করেননি।”
বাদী তার আর্জিতে লিখেছেন, ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানের দারফুরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যান পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন। তার আগে থেকেই বাদী ওই মিশনে ছিলেন।
যেহেতু মিশনের বিভিন্ন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা হয়ে গিয়েছিল, সেজন্য মোক্তার হোসেন ‘সহযোগিতা নেওয়ার নাম করে’ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং এক পর্যায়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন বলে বাদীর ভাষ্য।
আর্জিতে তিনি বলেছেন, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে তার বাসায় তাকে ‘ধর্ষণ করেন’ তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন। সেই ঘটনার একটি বিবরণও মামলার আবেদনে তুলে ধরেছেন বাদী।
তিনি বলেছেন, ওই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ‘হুমকি দিয়ে’ সেদিন চলে যান মোক্তার হোসেন। পরে ২২ ডিসেম্বর আবারও ওই বাসায় গিয়ে প্রথমে ‘ভুল হয়েছে; বলে ক্ষমা চান এবং তারপরই আবারও ‘ধর্ষণ’ করেন।
আর্জিতে বলা হয়েছে, বাদীকে ‘মুখে মুখে কলেমা পড়ে বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়েছিলেন আসামি। পরে ছুটিতে দেশে ফিরে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ ঢাকার উত্তরার একটি হোটেলে নিয়ে তাকে আবারও ‘ধর্ষণ’ করেন।
পরে ওই বছরের ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন সুদানের খার্তুমের একটি হোটেলে এবং ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর ঢাকার উত্তরার ওই হোটেলে ৩০৬ নম্বর কক্ষে আবারো তাকে ‘ধর্ষণ’ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
তিনি আর্জিতে লিখেছেন, দেশে ফেরার পর তিনি বিয়ে নিবন্ধনের তাগিদ দিলে আসামি ‘তালবাহানা’ শুরু করেন। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে বাদী রাজারবাগে আসামির বাসায় উপস্থিত হয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি ও কাবিন নামা সম্পন্ন করতে বলেলে আসামি তাতে ‘অস্বীকৃতি’ জানান।
আসামির বাসায় তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তজিত হয়ে সেদিন বাদিকে ‘মারধর করেন’ বলেও আর্জিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
মহামারীতে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে আর্জিতে উল্লেখ করেছেন বাদী।
বিজিবি’র ১৯৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ সুবিধা বহাল রাখতে আপিল বিভাগে রায়
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৯৬ জনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে বিজিবি সদস্যদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ূম লিটন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।
এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক হাজার ১৩৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করে জারি করা প্রজ্ঞাপন ১৯৬ জনের ক্ষেত্রে স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সব সুযোগ সুবিধা দিতে নির্দেশ দেন। বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্টে বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বছরের ৭ জুন ১১৩৪ জন বিজিবি সদস্যের গেজেট বাতিল করে সরকার। ওই গেজেটে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০০২ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর শিডিউল-১ এর তালিকা ৪১-এর ৫ নম্বর ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জামুকার ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাধীনতা যুদ্ধের পর (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এ যোগ দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১১৩৪ জনের নামে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা হলো। পরে এই প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে বাগেরহাটের সদর উপজেলার বেগুরগাতি গ্রামের মোল্লা মোশাররফ হোসেন, টাঙ্গাইলের সদর উপজেলারে বেথবাড়ীর ফজলুল হকসহ ১৯৬ জন পৃথক ৪টি রিট করেন।
পরীমনি,হেলেনা জাহাঙ্গীরের ব্যাংক হিসাব তলব, আরও ৬ মামলা সিআইডিতে
চিত্রনায়িকা পরীমনি, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ ৮ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এরা হলেন- পরীমনি, হেলেনা জাহাঙ্গীর, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ এবং প্রযোজক নজরুল ইসলাম। এদের ছাড়াও আরও তিন জনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন- রোজিনা আক্তার, যার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের নেয়ামত উল্লাহর দুই ছেলে সালেহ চৌধুরী ওরফে কার্লোস ও মিশু হাসান।
বুধবার বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে এদের অ্যাকাউন্টের লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে পরীমনির পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানা দেয়া হয়েছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া।
জানা গেছে, একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধে এসব ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, শুরু থেকে লেনদেন বিবরণী, কোনও ধরনের সঞ্চয় বা ঋণ হিসাব থাকলে তার স্থিতিসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।।
আরও ৬ মামলা সিআইডিতে:
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেফতার প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, হেলেনা জাহাঙ্গীর, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও ৬ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি। এ নিয়ে সিআইডি এ বিষয়ক ১৪টি মামলা তদন্ত করার দায়িত্ব পেল। সিআইডির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও ডিএমপির থানা থেকে রাতে ছয়টি মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে পাওয়া আটটি মামলা সিআইডি এখন তদন্ত করছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় মাদক, পর্নোগ্রাফি, বিশেষ ক্ষমতা আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট ১৫টি মামলা করা হয়।
পিয়াসা ,জিমি কারাগারে:
মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, চিত্রনায়িকা পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমি ও কবির হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন।
এদের পৃথক ভাবে হাজির করে আরও রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গাড়ি চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার; ৩ বছরে শতাধিক গাড়ি চুরি
আন্ত:জেলা গাড়ি চোর চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এই চক্রটি মুহূর্তেই যেকোনো গাড়ির লক ভাঙা কিংবা বিকল্প চাবি ব্যবহার করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চুরি করে সটকে পড়ে। এরা এতোই দক্ষ যে গাড়ি শনাক্তের জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইসও বিকল করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর গাড়ির মালিককে ফোন করে অর্থ আদায় কিংবা গাড়ি বিক্রি করে দেয় চক্রটি।
চক্রের সদস্যরা এতটাই ধূর্ত যে, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা অ্যানড্রয়েড মোবাইলের পরিবর্তে ব্যবহার করে ফিচার বাটন মোবাইল ফোন। একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মোবাইলগুলো রেখে আসে নিজেদের থেকে এক কিলোমিটার দূরে। এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন কারাগারে বসেই গাড়ি চুরির ছক কষে; এরপর কারাগার থেকে বেরিয়ে তারা শুরু করে একের পর চুরি।

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।
তিনি জানান, একটি দুটি নয়, জিপিএস বিকল করে গত তিন বছরে শতাধিক গাড়ি চুরি করেছে সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর দারুস সালামের বেরিবাধ এলাকা থেকে গাড়ি চুরি চক্রের ওই পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-৪।
আটককৃতরা হলেন—মো. সোহেল, সাগর, সাকিব হোসেন, হাসানও মো. কামরুজ্জামান। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি পিকআপ, সাতটি টায়ার রিং, দুটি টায়ার, একটি টুলস বক্স, একটি চাবির ছড়া ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মোজাম্মেল হক জানান, আটক সংঘবদ্ধ চক্রটি পরস্পরের যোগসাজশে গত তিন বছর ধরে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিনি পিকআপ চুরি করে আসছিল। আটক সোহেল ও সাগর সম্পর্কে আপন ভাই। তারা ঢাকার একটি হাইস্কুল ও নারায়ণগঞ্জের একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। তারা উভয়ই মাদকাসক্ত। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই গাড়ি চুরি শুরু করেন তারা। বিশেষ করে সোহেলের গাড়ি চালানোর দক্ষতা থাকায় পিকআপ গাড়ির লক ভাঙা ও যেকোনো চাবি দিয়ে গাড়ি স্টার্ট করার বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞ। এছাড়াও গাড়িতে থাকা ট্র্যাকিং ডিভাইস দ্রুত শনাক্ত করে অকেজো করে দিতে সক্ষম সাগর।
ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সোহেল ও সাগর গত বছর গাড়ি চুরি মামলায় কুমিল্লায় কারাগারে ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে মাদক মামলায় গ্রেফতার সাকিবের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তারা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে হাসান ও কামরুজ্জামানকে নিয়ে গাড়ি চুরির চক্র গড়ে তোলে। পার্কিংয়ে থাকা পিকআপই তারা বেশি চুরি করত। ড্রাইভার বা মালিকের অনুপস্থিতিতে সুবিধামতো সময়ে বিশেষ কৌশলে গাড়ির লক ভেঙে ও বিশেষ ধরনের মাস্টার চাবি দিয়ে স্টার্ট করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেত তারা। এছাড়াও মাদকসেবী ড্রাইভারের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে পিকআপ ভ্যান চুরি করতে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করতো। এজন্য গাড়ি চুরি করে মালিকের কাছ থেকে আদায় করা টাকার একটি অংশ ড্রাইভারকে দিত তারা। এর বাইরে চালকদেরকে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে পিকআপ নিয়ে পালিয়ে যেত তারা। এছাড়াও চোরাই গাড়ির মালিককে ফোন দিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে চোরাই গাড়ির রঙ পরিবর্তন করে ভুয়া নম্বর-প্লেট লাগিয়ে কম দামে সেগুলো বিক্রি করে দিত। এই দুই প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হলে গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করত তারা।’ তাদের অন্য সহযোগীদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও র্যাব-৪-এর অধিনায়ক জানান।











