ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 96

সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা বারে টিকা কেন্দ্র হচ্ছে, অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

0
Office of the Attorney General at the Idaho State Capitol Building in Boise, Idaho.

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে করোনার টিকা গ্রহণের জন্য বিশেষ দুটি কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দুই বারে টিকাকেন্দ্র স্থাপনের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সারাদেশের আইনজীবীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তেরর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি টিম সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন পরিদর্শন করেন। তারা টিকাকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা চান অন্তত ১৫ দিনের জন্য যেনো টিকাকেন্দ্র হয় যাতে সব আইনজীবী টিকা নিতে পারেন।
রোববার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর এমএনসিএন্ডএএইচ এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিবের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে টিকাকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের পরিচালককে (এমআইএস ও লাইন ডাইরেক্টর, এইচআইএস এন্ড ই-হেলথ) কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সুপারিশ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল গত ৫ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি পত্র প্রেরণ করেন। পরে তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) সুপ্রিম কোর্টের ১০ হাজারের বেশি আইনজীবী এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২৫ হাজার ৩৩২ জন আইনজীবীর জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশনের (টিকাদান) লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে অস্থায়ীভাবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল, ভ্যাকসিন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রী প্রদান করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম অতিদ্রুত চালু করার জন্য অনুরোধ করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন। একইসঙ্গে ওই কেন্দ্রসমূহকে সুরক্ষা ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

0

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০২১ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (৯ আগস্ট) ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জানান, আগের অধ্যাদেশকে বদলে নতুন এই আইন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এককালীন চাঁদা দিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষকদের এই ট্রাস্টের সদস্য হতে হয়। এরপর শিক্ষকদের পাশাপাশি তাদের পোষ্যরা এখান থেকে সুবিধা পান। কোনো শিক্ষক মারা গেলে তার নাবালক, প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তানেরা এই ট্রাস্ট থেকে সহায়তা পাবেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি অনুদান হিসেবে কিছু দিলে ট্রাস্ট তা গ্রহণ করতে পারবেন। বিধি দিয়ে বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এর ভাইস চেয়ারম্যান হবেন। ট্রাস্টি বোর্ডে আটজন তিন বছরের জন্য দায়িত্বে থাকবেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হবেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান।

খুলনায় হিন্দুদের মন্দির বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি, আরও একজন গ্রেফতার

0

খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালি গ্রামে মন্দির, হিন্দু মালিকানাধীন দোকানপাট ও বসতভিটায় হামলার ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকা জুড়ে পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার রাতে আরও একজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরদার মোশাররফ হোসেন।
এ নিয়ে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতার হওয়া সবাই পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর গ্রামের বাাসিন্দা বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে উত্তেজিত জনতা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানায়।
পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ মহানগর, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন।
রূপসা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাসনিম জানিয়েছেন, যারা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
ভাংচুর করা মন্দির ও শ্মশানের সংস্কার করা হবে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিগগিরই মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
এছাড়া পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে হৃদ্যতা বজায় রাখতে তারা কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিকদের পাঠানো কিছু ছবিতে দেখা গেছে, সেখানকার অন্তত ৪টি মন্দিরের প্রতিমা, শ্মশানের নানা উপকরণ, ছোট দোকান, এবং একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা তার বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে।
ওই ঘটনায় রূপসা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
রূপসারে উপজেলা ও পৃলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মসজিদে নামাজ চলার সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ‘গান-বাজনা’ করছিলেন – এমন এক অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। তবে রূপসার ইউএনও বলেন, ওই দ্বন্দ্বের সমাধান সেদিনই হয়ে গিয়েছিল এবং ওই ঘটনার সাথে শনিবারের হামলার সম্পর্ক নেই। বিবিসি বাংলা।

মুনিয়ার মৃত্যু: বসুন্ধরার এমডিকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের ফাইনাল রিপোর্টের শুনানি ১৭ আগস্ট

0

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতির সুপারিশ করে দেয়া পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হবে আগামী ১৭ আগস্ট।
মুনিয়ার বোন মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়া সেদিনই ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর তার না-রাজি (অনাস্থা) আবেদন আদালতে দাখিল করতে পারবেন।
পুলিশের দেয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না-রাজি আবেদন জমা দেয়ার একটি আবেদন করেছিলেন তানিয়ার আইনজীবীরা। রোববার সেই আবেদনের শুনানি করেই আদালত এ তারিখ ঠিক করে দেয়।
বাদীর অন্যতম আইনজীবী ব্যরিস্টার এম সরোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, কোভিড আর লকডাউনের কারণে মুনিয়ার বোন আদালতে আসতে পারেননি। তাছাড়া মামলার সত্যায়তি কপিও এখনো সরবরাহ করা হয়নি।
“সে কারণে আমরা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে না-রাজি আবেদনটি জমার জন্য যেন সময় দেয়া হয়, সেই দরখাস্ত করি। শেষ পর্যন্ত আমরা সেই দরখাস্তের শুনানি করতে পেরেছি। শুনানি করেছেন আমাদের আইনজীবী দলের সদস্য মাসুদ সালাউদ্দিন।”
পরে আদালত পুলিশের নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ১৭ অগাস্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের শুনানির জন্য দিন রাখা হয়েছে। সেদিন বাদী ইচ্ছা করলে না-রাজি আবেদন দাখিল করতে পারবেন।”
আইনজীবী সরোয়ার হোসেন জানান, গত ২৯ জুলাই মামলার ধার্য তারিখেই মামলার বাদি না-রাজি আবেদন জমা দিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা জমা নেয়া হয়নি। আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৯ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ’ দাখিল করেন।
গত ১৯ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান তানিয়া।
সেখানে বলা হয়, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে সায়েম সোবহান আনভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মুনিয়ার সঙ্গে। ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মুনিয়াকে।
অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। এপ্রিলের শেষ দিকে তার আগাম জামিনের জন্য হাই কোর্টে একটি আবেদন করা হলেও মহামারীর মধ্যে লকডাউনে সে আবেদনের শুনানি তখন আর হয়নি।
ওই প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তির কারণ ব্যাখ্যা করে বাদীর আইনজীবী বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের শুধুমাত্র ৯(১) ধারার ধর্ষণ নয়, ধর্ষণের ফলে উদ্ভূত বিষয় ৯(২) ধারায় সঙ্গে আসবে। আসবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারাও। ধর্ষণজনিত কারণে আত্মহত্যা এখানে আসে।”
মুনিয়া ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে; পরিবার সেখানেই থাকেন। মৃত্যুর মাস দুয়েক আগে এক লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন তিনি।
মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ, যার মধ্যে ছয়টি ডায়েরি ছিল। সিসিটিভির ভিডিও পরীক্ষা করে মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথাও সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।
আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, “তদন্ত কতৃপর্ক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তার বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। অটোপসি রিপোর্ট দেখেননি অথবা গুরুত্ব দেননি। তদন্তে কী পাওয়া গেল তা নিয়ে বাদীর সঙ্গে আলাপ আলোচনাও করেননি।
“আমরা ২৯ জুলাই দুটো আবেদন নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত সেগুলো গ্রহণ না করে আমাদের ফিরিয়ে দিয়ে বলেছে, আদালত খুললে তা নেয়া হবে।”

প্রধানবিচারপতিকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট; আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার শুনানি ২ সেপ্টেম্বর

0

প্রধানবিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে আদালত অবমাননার মুখে পড়া সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আশরাফুল ইসলামকে তলব ও তার ব্যাখ্যার বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ।
রোববার আবেদনটি শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ ছিল। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সমন্বয়ে চার বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির জন্য আবেদনটি উত্থাপন করা হয়। আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করেন আশরাফুল ইসলাম। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন তাদের প্রস্তুতির জন্য শুনানি দুই সপ্তাহ মুলতবি রাখার আবেদন জানান। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে আগামি ২ সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানিতে আইনজীবী আশরাফুল ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শেখ আওসাফুর রহমান ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

শুনানি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনও আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম।
এদিকে আদালতের আদেশ অনুসারে আইনজীবী আশরাফুল ইসলামের ৫টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে এবং যেটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছিল সেটি মুছে ফেলা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে বিটিআরসি।
করোনাকালে ঘরে বসে আদালত পরিচালনার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম ১৪ জুলাই ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ওই আইনজীবীর ফেসবুক পোস্ট আপিল বিভাগের নজরে আনার পর ১৫ জুলাই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আইনজীবির বিরুদ্ধে কেনো আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তার ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য তলব করেন। এ সময় পর্যন্ত তাকে আইনপেশা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

বুধবার থেকেই হাইকোর্টের সব বেঞ্চে বিচারকাজ চলবে

0

আগামী ১১ আগস্ট বুধবার থেকেই হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ পরিচালিত হবে। এবিষয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী ১১ আগস্ট হতে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০’ এবং এতদসংক্রান্তে জারি করা প্রাকটিস নির্দেশনা অনুসরণ করতঃ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে ৮ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে ১২টি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে অনুসারে রোববার থেকে এই ১২টি বেঞ্চে বিচার কাজ পরিচালিত হয়। কিন্তু রোববার বিকেলে প্রধানবিচারপতি আগামি বুধবার থেকেই হাইকোর্টের সব বেঞ্চে বিচারকাজ চালানোর সিদ্ধান্ত দেন।
প্রসঙ্গত বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি রয়েছেন ৯২ জন আর আপিল বিভাগে বিচারপতি রয়েছেন ৫ জন। হাইকোর্ট বিভাগে যদি সবগুলো দ্বৈত বেঞ্চে বিচারকার্যক্রম শুরু হয় তা হলে ৪৬টি বেঞ্চে বিচারকার্যক্রম চলবে। এতে অধিকসংখ্যক মামলার শুনানি সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা এবং তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। লকডাউনে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম খুবই সীমিত পরিসরে চলে। মাত্র ৩টি বেঞ্চ রাখা হয় । আইনজীবীরা বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রধানবিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।
এর আগে গত ৫ আগস্টের ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধস্তন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া সব বিচারিক কাজ চালানোর কথা জানানো হয়।
অধস্তন আদালতে কিছু বিচারকাজ চলবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে। আর কিছু বিচারকাজ চালানো হবে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।

আইডিয়াল স্কুলের আতিকুরের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

0

দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাম উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৮ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন।
জানা যায়, আতিকুর রহমান কনকর্ড নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। স্কুলে যোগদানের পর তিনি ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আয়কৃত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এর মাঝে বনশ্রী এলাকায় খান ফিলিং অ্যান্ড এলপিজি, বনশ্রী মসজিদ মার্কেটে বিশ্বাস লাইব্রেরি, আফতাবনগরে বি ব্লকে বিশ্বাস বাজার, বনশ্রী ৫ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর প্লটে ভিশন-৭১ নামে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, আফতাবনগরে চারটি বাড়ি এবং বনশ্রীতে আরেকটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া দেশের ১৫টি ব্যাংকে আতিকুর রহমান খানের ৯৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক হিসাবগুলোতে ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১১০ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা লেনদেন হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আতিকুর রহমান খানের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ফ্রায়েড চিকেনের নামে সাউথইস্ট ব্যাংকে ২০১৫ সালে একটি হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু সরেজমিন আফতাবনগরে সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া আতিকুর রহমান খানের মালিকানাধীন এইচ কে খান এন্টারপ্রাইজের নামে প্রাইম ব্যাংকের একটি হিসাবে ৮ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় বনশ্রীর মসজিদ মার্কেটের বিশ্বাস লাইব্রেরি দেখা গেছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুব রহমান আতিকুরকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

খুলনায় হিন্দুদের মন্দির-বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা; ১০ জন গ্রেপ্তার

0

খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে মন্দির, হিন্দুসম্প্রদায়ের বেশ কিছু দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বিকেলে হামলার ঘটনাটি ঘটে। খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ওই হামলার ঘটনায় করা মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকায় আছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও সম্রাট মোল্লা, শিয়ালী গ্রামের মঞ্জুরুল আলম, বামনডাঙ্গা গ্রামের শরিফুল ইসলাম শেখ, রানা শেখ, মোমিনুল ইসলাম, মোল্লাহাট উপজেলার বুড়িগাংনী গ্রামের আকরাম ফকির, সোহেল শেখ, শামীম শেখ ও জামিল বিশ্বাস। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শতাধিক যুবক রামদা, চাপাতি, কুড়াল নিয়ে শিয়ালী গ্রামে হামলা চালান। তাঁরা অতর্কিতভাবে বাজারের বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর করেন। এ সময় শিবপদ ধরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হয়। তাঁরা সেখানকার কয়েকটি মন্দিরেও ভাঙচুর করেন। কয়েকজন বাধা দিতে এলে তাঁদের পিটিয়ে আহত করা হয়। এলাকাবাসী প্রতিরোধ তৈরি করার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় রূপসা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু বাদী হয়ে শনিবার রাতে রূপসা থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী শক্তিপদ বসু বলেন, দুর্বৃত্তরা শনিবার ব্যক্তিগত ও সর্বজনীন মিলিয়ে পাঁচটি মন্দির, একটি সমাধি মন্দির ও সেখানকার মূর্তি ভাঙচুর করেছে। এ ছাড়া তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা নারীদের নানাভাবে অপদস্থ করেছে। তেরখাদা উপজেলার শেখপুরা গ্রামের এবং রূপসা উপজেলার চাঁদপুর, বামনডাঙ্গা, শিয়ালী গ্রামের দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে।
রূপসা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবাইয়া তাছনিম বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মসজিদে নামাজ চলার সময় হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজন কীর্তন করছিলেন, এমন অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। ঘটনার পরপরই প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের নিয়ে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি মিটমাট করা হয়। ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে শনিবারের হামলার সম্পর্ক নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আছেন। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাব-৬–এর একটি দল সেখানে টহল দিচ্ছে।
এদিকে রোববার সকালে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ, রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগ, খুলনা মহানগর ও জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। এলাকার মানুষ এ সময় নেতাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবরের সূত্র -প্রথম আলো , ছবি-বিবিসি বাংলা ও বিডি নিউজ ।

রোববার থেকে হাই কোর্টে ১২টি ভার্চুয়াল বেঞ্চ, নিম্ন আদালতে শারীরিক ও ভার্চুয়ালি দুভাবেই বিচারকাজ চলবে

0

কঠোর লকডাউনের মধ্যেও বিচার কাজ আরও সচল রাখতে হাইকোর্টে ভার্চুয়াল কোর্টের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামি রোববার থেকে ১২ টি ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারকাজ চলবে। এর মধ্যে ৯ টি থাকবে দ্বৈত বেঞ্চ আর ৩ টি থাকবে একক বেঞ্চ। চলমান লকডাউনে এতোদিন হাইকোর্টে মাত্র ৩ টি বেঞ্চে বিচারকাজ চলে আসছে, যা বাড়ানোর জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন আইনজীবীরা।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারকদের নিয়ে ফুল কোর্ট সভা করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বেলা সাড়ে ১০টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত এসব বেঞ্চে বিচার কাজ চলবে। এ ছাড়া রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধস্তন আদালতেও সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়া সব ধরণের বিচার কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, “দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া আগামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বেঞ্চ গঠন করা হল।”
দ্বৈত বেঞ্চগুলো মধ্যে রয়েছে- বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর (ফৌজদারি) সমন্বিত বেঞ্চ, বিচারপতি মো. রইস উদ্দিন ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দির (ফৌজদারী) বেঞ্চ, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের (ফৌজদারি) বেঞ্চ, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের (রিট) বেঞ্চ, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের (রিট ও ফৌজদারি-দুদক) বেঞ্চ, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের (দেওয়ানি) বেঞ্চ, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের (রিট) বেঞ্চ এবং বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের (ফৌজদারি) বেঞ্চ। 
একক বেঞ্চ চালাবেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার (কোম্পানি ও অ্যাডমিরালিটি সংক্রান্ত), বিচারপতি মাহমুদুল হক (দেওয়ানি) ও বিচরপতি মো. সেলিম (ফৌজদারি)।

অধস্তন আদালতে দুভাবে চলবে বিচারকাজঃ

ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আগামী রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধস্তন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া সব বিচারিক কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে কিছু বিচারকাজ চলবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে। আর কিছু বিচারকাজ চালানো হবে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।
৮ থেকে ১২ অগাস্ট শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি দরখাস্ত/আপিল/বিবিধ মামলাসহ সব ধরনের শুনানি গ্রহণ (সাক্ষ্য ব্যতীত) ও নিষ্পত্তি হবে।
আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানি আদালতে সাকসেশন ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণ বিষয়ক মামলা দায়ের, শুনানি ও নিষ্পত্তি করা যাবে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোতে নালিশি মামলা দায়ের করা যাবে।
ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অধস্তন ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণের আবেদন দাখিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে হবে, যাতে আদালত প্রাঙ্গণে ও আদালত ভবনে কোনো জনসমাগম না ঘটে।
আত্মসমর্পণের আবেদন শুনানির সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি এবং তার আইনজীবী ছাড়া অন্য কোনো আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করবেন না। একটি আবেদনের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস কক্ষ ত্যাগ করার পর বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।
তবে অধস্ত আদালত, ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানির সময় বা আমলি আদালতের হাজিরার জন্য হাজতি আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর রিমান্ড শুনানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ভার্চুয়ালি শুনানি করতে বলা হয়েছে। 
এছাড়া প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেটকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করে যেতে বলা হয়েছে এ বিজ্ঞপ্তিতে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে ১৬ আগস্ট থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সবগুলো বেঞ্চেই ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চালানো হতে পারে। সে সময় ৩৮ টি কোর্ট খোলা রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। আর আদালতের স্টাফ ও আইনজীবীদের টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতেও দেশের সব আদালতে বিচারকাজ চালু করা হবে।

পারমিট ছাড়া মদ পানের সুযোগ নেই আইনে ; হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, ঢিলেঢালা নজরদারি

0
Poznan, Poland - July 27, 2016: Worldwide some 2 billion people use alcohol, one of the most widely used recreational drugs on earth, with yearly consumption of over 6 liters of pure alcohol per person

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অ্যালকোহল বা মদ পান করতে পারেন না। আর এই মদ পানের পারমিট পেতে হলে দেশের একজন মুসলিম নাগরিককে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিতে হবে। অমুসলিম নাগরিক হলে চিকিৎসকের পরামর্শের দরকার না হলেও পারমিট ছাড়া মাদ পান করতে পারবেন না। অর্থাৎ দেশের প্রচলিত আইনে মদ পানের কোনো বিধান নেই। শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে এবং মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পারমিট নিয়েই একজন মদ পান করতে পারেন। একজন লোক কতটুকু মদ খাবেন তা পারমিটে উল্লেখ থাকে এবং সে অনুযায়ী মদ তিনি রাখতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ ও র‍্যাবের অভিযানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠছে , এসব মদ রাখার ও খাওয়ার কোনো লাইসেন্স আছে কী না। যদিও আইন অনুযায়ী কোনো ব্যাক্তির বাসায় বা হেফাজতে এতো পরিমাণ মদ রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এতো মদ তারা কোথা থেকে কি ভাবে সংগ্রহ করেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। রাজধানীসহ সারাদেশেই হাত বাড়ালেই মিলছে মদ।

আইন অনুযায়ী দেশে উৎপাদিত মদ ও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মদের সব হালনাগাদ তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে থাকার কথা। এই মদ আনা ও সংরক্ষণ কঠোর ভাবে মনিটর করার কথা আইনে বলা হয়েছে। নির্ধারিত বার বা পানশালা ছাড়া মদ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ফলে যাদের বাসা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়, সেগুলো অবৈধতো বটেই কোথা থেকে কারা আনে এ নিয়ে রহস্যে সৃষ্টি হয়েছে। আইন শৃংখলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ এড়িয়ে বিদেশী মদ কি ভাবে অবাধে বিক্রি হয় এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২০, পর্যালোচনা করে এ সব বিষয় জানা যায়। এই আইনের তৃতীয় অধ্যায়ে যেখানে মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধকরণ ও নিয়ন্ত্রণ (লাইসেন্স ,পারমিট বা পাস ) এর কথা বলা হয়েছে তাতে রয়েছে বেশ কিছু বিধি নিষেধ।
অ্যালকোহল পান, ইত্যাদি সম্পর্কে বিধি-নিষেধগুলো হলো:
(১) পারমিট ব্যতীত কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অথবা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অন্যূন কোনো সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পান করার জন্য পারমিট প্রদান করা যাবে না।

(২) মুচি, মেথর, ডোম, চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক তাড়ি ও পচুঁই পান করার ক্ষেত্রে এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহ এবং অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কর্তৃক ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত অথবা প্রস্তুতকৃত মদ পান করার ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন-

(ক) লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার-এ বসে বিদেশি ও পারমিটধারী দেশিয় নাগরিকগণ অ্যালকোহল পান করতে পারিবেন; এবং

(খ) কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী বিদেশি নাগরিকরা শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত পাস বইধারী অথবা প্রচলিত ব্যাগেজ রুলসের দ্বারা স্বীকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে, অ্যালকোহল আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়, বহন, সংরক্ষণ অথবা পানের ব্যাপারে কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।

(৪) অ্যালকোহল সংক্রান্ত সকল শুল্কমুক্ত কার্যক্রম (Duty Free Operations) এই আইনের অধীন প্রদত্ত লাইসেন্সবলে সম্পাদিত হবে। এই আইনের ১২ ধারার ১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে :
মাদকদ্রব্যের ব্যবস্থাপত্র প্রদান সম্পর্কে বিধি-নিষেধ
(১) চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসাবে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করতে পারবেন না।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে একবারের অধিক মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাবে না।
প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে যেসব মদ বা অ্যালকোহল উদ্ধার করা হচ্ছে এর সবই অবৈধ। এসব মদ যারা বাসাবাড়িতে বসে পান করছেন তারাও আইনবহির্ভূত ভাবে পান করছেন।