মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা চক্রের দুই সদস্য শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান (৩১) ও তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের (৩৯) ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। এ সময় ৪ মামলায় তাদের ১০ দিন করে মোট ৪০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে তাদের ১৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে জাল টাকা, অস্ত্র, মাদক ও অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করে । পরে আলাদা চারটি মামলা করা হয় র্যাবের পক্ষ থেকে।
র্যাব জানায়, মিশু ও তার সহযোগী জিসান একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য ১০ থেকে ১২ জন। তারা রাজধানীর গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে থাকেন। পার্টিতে সব উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেয়।
জানা গেছে, বিশেষ ক্ষমতা আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে মিশু-জিসানের বিরুদ্ধে। মিশু একসময় রাজধানীতে পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে পুলিশের তালিকাভুক্ত ছিলেন। একটি গরুর ফার্মের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্রের কারবার করে আসছিলেন।
এদিকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের সঙ্গে আর কারা জড়িত খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই দুই মডেলকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়টিও তদন্ত করছেন তারা। বিশ্লেষণ করা হচ্ছে পিয়াসা ও মৌয়ের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত।
বারিধারার ৯ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাড়ির ৫ম তলার অভিজাত ভবনটির ২য় তলার ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রতি মাসে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এম আর গ্রুপের পরিচালক পরিচয়ে ২ বছরের চুক্তিতে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। অগ্রিম পরিশোধ করেছিলেন আরও কয়েক লাখ টাকা।
রোববার (১ আগস্ট) রাতে ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ইয়াবা, বিদেশি মদ, সিসা তৈরির কাঁচামাল জব্দ করে। ভবন মালিকের অভিযোগ, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পিয়াসা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন।
পিয়াসার দেওয়া তথ্য থেকে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার আরেক মডেল মৌ আক্তারের রয়েছে মোহাম্মদপুরে ৫ তলা আলিশান বাড়ি। নেক্সাস, পাজেরো ও টয়োটা ব্র্যান্ডের ৩টি দামি গাড়ি চালাতেন মৌ।
৪ মামলায় মিশু-জিসান ১৫ দিনের রিমান্ডে
টিকা কেন্দ্র বসছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে,সম্ভাব্যতা দেখে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সব সদস্যকে দ্রুত করোনার টিকা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি টিম বুধবার এ জন্য সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন পরিদর্শন করে সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালকের নেতৃত্বে আইনজীবী সমিতি ভবন পরিদর্শন করে টিকাদান কেন্দ্র খোলার বিষয়টি দেখে এসেছেন। আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে সমিতি ভবনে টিকাদান কেন্দ্র খোলার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে গেছেন। তিনি জানান, সমিতির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, আইনজীবী সমিতি ভবনে অন্তত ১৫ দিনের জন্য যেনো টিকাদান কেন্দ্র খোলা হয়। যাতে বারের প্রত্যেক সদস্য টিকা নিতে পারেন। তিনি জানান সুপ্রিমকোর্ট বারে প্রায় ৮ হাজার সদস্য রয়েছেন। যারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিকা নিয়েছেন তারা ছাড়া যারা এখনো নিতে পারেন নি তারা সবাই যেনো টিকা নিতে পারেন তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে ১৬ জুলাই প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেলের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ জুলাইর মধ্যে দেশের সব আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গি টিকা কার্ডসহ টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ১২ আগস্টের মধ্যে রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়, ‘প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ/মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অধীনস্থ বিচারক এবং কর্মকর্তা/কর্মচারিদের এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারক তার এবং তার অধীনস্থ কর্মকর্তা/কর্মচারিদের কোভিড-১৯ এর টিকাদান কার্ড-এর কপি সংগ্রহপূর্বক ভ্যাকসিন গ্রহণসংক্রান্ত তথ্যাবলী সংযুক্ত ছক অনুযায়ী আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে সফটকপি scinfocovid19@gmail.com-এ এবং হার্ডকপি অত্র কোর্টের রেজিস্ট্রার, হাইকোর্ট বিভাগ-এর নিকট প্রেরণ করবেন। তবে বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সবাই টিকা নিতে পারেন নি বলে জানা গেছে। কারণ নিবন্ধন করে প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার বিধান রয়েছে। ফলে এক মাসের মধ্যে দুইডোজ টিকা নেয়ার সুযোগ নেই।
একই অবস্থা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসেও । এ অফিসের ১৮০ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর মধ্যে সবাই এখনো টিকা নেননি্ । গত সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে এক নোটিশ জারি করে বলা হয়েছে ৩১ আগষ্টের মধ্যে প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারী টিকা না নিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন কি বেতন বন্ধ করে দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে একমাসের মধ্যে দুই ডোজ টিকা কিভাবে নেবেন সে বিষয়ে কিছু বলা হয় নি।
আইনজীবীরা বলছেন, সমিতি ভবনে এক বা একাধিক টিকা কেন্দ্র স্থাপন করে প্রত্যেক আইনজীবীকে টিকা প্রদান নিশ্চিত করে আদালত পুরোপুরি খুলে দেয়া হোক। এ ছাড়া শুধু আইনজীবীই নন তাদের সহকারীদেরও টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
কুয়াকাটায় রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ আদালতের
কুয়াকাটায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে প্রভাবশালীদের স্থাপনা নির্মাণ করার বিষয়টির সত্যতা জানতে চেয়েছে আদালত। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শোভন শাহরিয়ার স্বত:প্রণোদিত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেয়া এক আদেশে, আগামী ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন বিচারক।
আদালত বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় আবাসন ব্যবসায়ীর লোকজন জাল কাগজ তৈরি করে দখল করে সেমিপাকা ভবন নির্মাণ করছেন। এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

(দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চলছে)।
এ বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিন দফা নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে—গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই জমি রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তির অংশ কি না, ওই জমিতে সেমিপাকা ভবন নির্মাণাধীন কি না এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির বিষয়ে রাখাইনদের মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এমং তালুকদারের অভিযোগ সত্য কি না, তার সবিস্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি বেহাত:
সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়,পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রাখাইনদের দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। পুরোনো বৌদ্ধমন্দির, মন্দিরের মঠ ও ঠাকুরবাড়ির দেবোত্তর সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় এক আবাসন ব্যবসায়ীর লোকজন এই দখলদারির সঙ্গে জড়িত। ইতিমধ্যে দখলদাররা দেবোত্তর সম্পত্তিতে প্রাচীর ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে।
রাখাইনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুয়াকাটায় ৯৯ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো এই সম্পত্তিতে একসময় কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার ছিল। এখানে ২০ ফুট লম্বা শায়িত বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। পাশেই রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের মহাশ্মশান। মন্দিরটির চারদিকের জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। মাঝখানে মন্দিরের মঠগুলো কালের সাক্ষী হয়ে এখনো কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে। কুয়াকাটায় নবনির্মিত পৌর ভবনের পাশেই সেখানকার রাখাইন সম্প্রদায়ের এই দেবোত্তর সম্পত্তি। ২০ জুলাই গিয়ে দেখা যায়, বালু ফেলে এর মধ্যে ২০ শতাংশ জায়গা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। সেখানে সেমি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান এই জমি স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার জন্য বায়না দলিল করেছে। এই বায়না দলিলের কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে স্থাপনা তুলছে। এ সম্পর্কে ওই আবাসন প্রতিষ্ঠানের কুয়াকাটা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর মৃধা বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান রাখাইনদের সম্পত্তি দখল করেনি। রাখাইনদের সম্পত্তির খতিয়ান এবং তাঁদের জমির খতিয়ান ভিন্ন। রাখাইনদের দেবালয় দখলের প্রশ্নই ওঠে না।

জাহাঙ্গীর মৃধা আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে জমি কিনে এবং বায়না করে স্থাপনা তুলছে। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই সম্পত্তির কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে জমি কিনে বায়না দলিল করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ইলিয়াস হোসেন বলেন, তাঁরা রাখাইনদের কাছ থেকে এই সম্পত্তি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়েছেন। তাঁদের নামে বিএস জরিপ হয়েছে।
এ সম্পর্কে রাখাইন অধিকার আন্দোলনের নেত্রী কুয়াকাটা কেরানিপাড়ার বাসিন্দা লুমা মগনী বলেন, যাঁরা ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন, কাগজে তাঁদের জমির মালিকানা দাবির ভিত্তি নেই। জালিয়াতির মাধ্যমে বিএস জরিপে তাঁরা এই জমির মালিক বনে গেছেন।
রাখাইনদের মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এমং তালুকদার অভিযোগ করেন, পুরোনো বৌদ্ধমন্দির ও ঠাকুরবাড়ির দেবোত্তর সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে পেশিশক্তির জোরে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এতে সহায়তা করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
কুয়াকাটার সঙ্গে রাখাইনদের ইতিহাস-ঐতিহ্য জড়িত এবং তাঁদের জীবনধারা, সংস্কৃতি কুয়াকাটাকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন স্থানীয় পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার। তিনি বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, রাখাইনদের দেবালয়ের জমি চিহ্নিত হওয়ার আগপর্যন্ত সেখানে সব কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে সম্পত্তির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। কাগজ পরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শাহজালাল সার কারখানার ৩৯ কোটি টাকা আত্মসাত; ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ে উপ-পরিচালক নূর ই আলম এসব মামলা করেন। বুধবার দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ তথ্য জানান।
আসামিরা হলেন- শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাবেক সহকারী প্রধান হিসাব রক্ষক ও হিসাব বিভাগীয় প্রধান (বরখাস্ত) খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল এবং প্রকল্পের সাবেক রসায়নবিদ (বরখাস্ত) নেছার উদ্দিন আহমদ। অন্য আসামিরা হলেন মেসার্স টিআই ইন্টারন্যাশনালের মালিক হালিমা আক্তার (আসামি খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের স্ত্রী), মেসার্স রাফী এন্টারপ্রাইজের মালিক নূরুল হোসেন, ফালগুনী ট্রেডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম ইসমাইল খান, মেসার্স আয়মান এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল হক, মেসার্স এন আহমদ অ্যান্ড সন্সের মালিক নাজির আহমদ, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মালিক হেলাল উদ্দিন, মেসার্স ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনালের মালিক জামশেদুর রহমান খন্দকার এবং মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সের মালিক আহসান উল্লাহ চৌধুরী।
মামলাগুলোর এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এসব মামলা করা হয়েছে।
সেই দর্জি মনির ৪ দিনের রিমান্ডে
‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’ নামের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির খান ওরফে দর্জি মনিরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
দর্জি মনিরের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট দর্জি মনিরের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ঈসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি ছোট দর্জির দোকানের চাকরি করতেন মনির। হঠাৎ করে নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বন্ধু হন। একেক সময় একেক রাজনৈতিক পদবি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে নিজের ছবি এডিট করে বসিয়ে নিজেকে বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দাবি করেন।
তিনি ও তার সহযোগীরা ঢাকা মহানগরী এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কমিটি দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেন।
ঈসমাইল হোসেন বলেন, ‘গত ৩০ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার মাদবর বাজার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে মনির তার সংগঠনের পদ প্রদান ও বড় বড় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করিয়ে দেওয়ার নাম করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ছবি এডিট করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের ছবি বসিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি প্রচার করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছেন। এভাবে নিজেকে বড় মাপের নেতা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার করে এলাকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করেন। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।’
প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রায় সবার সাথেই আছে তার ছবি। কিন্তু, বেশিরভাগ ছবিই ভূয়া। এসব ছবি সুপার এডিট করে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে চলা এই ব্যক্তি মনির খান ওরফে দর্জি মনিরকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রোববার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি সব সময় থাকেন তিনি। এমনকি এসএসএফ ঘিরে থাকা অবস্থাতেও যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা থাকেন না, সেখানেও দেখা যায় মনির খান নামের এক ব্যক্তির অবস্থান।
আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী তার কাছ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা নিচ্ছেন। এমনকি সজিব ওয়াজেদ জয়ের অনুষ্ঠানে তিনি তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন জাতীয় নেতাদের মতো করেই।
এসব ছবিগুলো দেখলে তাই মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সবগুলোই ফটোশপের কারসাজি। তবে মনির খানের দাবি ছবিগুলোতে তিনি সত্যি সত্যি প্রধানমন্ত্রী এবং সজিব ওয়াজেদের পাশে ছিলেন।
মনির খানের মুখে নিয়মিত গল্প- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা। নিজেকে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীও পরিচয় দেন তিনি। মূলত এক সময় দর্জির কাজ করা মনির খান কামারাঙ্গিরচরে দর্জি মনির হিসেবে বেশি পরিচিত।
শেখ হাসিনা পরিষদ নামের একটি নাম সর্বস্ব সংগঠনের প্রধান তিনি। সেই সংগঠন চালাতে এবং পদ দিতে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে মনিরের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসাবেও পরিচয় দিতেন। অথচ যে উপকমিটির সদস্য পরিচয় দিতেন, সেই উপকমিটি এখনো গঠিতই হয়নি। তাকে চেনেনও না কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট সম্পাদকও।
হেলেনা জাহাঙ্গীরের সহযোগী হাজেরা ও সানাউল্লাহ ৩ দিনের রিমান্ডে
বিতর্কিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের দুই সহযোগী হাজেরা খাতুন এবং সানাউল্লাহ নূরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
পল্লবী থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
হাজেরা খাতুন জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম ও কথিত জয়যাত্রা টিভির জিএম (অ্যাডমিন) ছিলেন। আর সানাউল্লাহ নূরী জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পুলিশের এসআই মোঃ আল হেলাল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
হাজেরা খাতুনের পক্ষে আইনজীবী ফিরোজুর রহমান মন্টু এবং সানাউল্লাহ নূরীর পক্ষে আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষে তাপস কুমার পাল এর বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
সোমবার রাতে গাবতলী থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যতম সহযোগী হাজেরা খাতুন ও সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বার কাউন্সিল পরিচালনায় এডহক কমিটি করেছে আইন মন্ত্রণালয়
করোনাভাইরাসের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না করতে পারায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেছে আইনমন্ত্রণালয়।
পদাধিকার বলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এডহক বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
অন্য সদস্যরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আব্দুল বাসেত মজুমদার, সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোখলেছুর রহমান বাদল, এইচ এ এম জহিরুল ইসলাম খান (জেড আই খান পান্ন),শাহ মো. খাসরুজ্জামান, মো. কামরুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির কাজী নজীবুল্লাহ হিরু, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির মুজিবুল হক, সিলেট আইনজীবী সমিতির এ এফ মো. রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির কবির উদ্দিন ভূঞা, খুলনা আইনজীবী সমিতির পারভেজ ইসলাম খান, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির মো. ইয়াহিয়া ও সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির মো. আব্দুর রহমান।
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।”
আইন সচিব মো. গোলাম সারোয়ারের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ (৮) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১৫ সদস্যের সমন্বয়ে এই এডহক বার কাউন্সিল গঠন করে।
“করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর কারণে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই এডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।”
এই এডহক বার কাউন্সিলের মেয়াদ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এই কমিটি আগামী বছরের ৩১ মে বা তার আগে ‘বার কাউন্সিলের নির্বাচন’ সম্পন্ন করবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বার কাউন্সিলের ১ জুলাই থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করার নির্দেশনা রয়েছে প্রকাশিত গেজেটে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি সভা করে গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
এর আগে গত ১৮ মার্চ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
তফসিল অনুযায়ী গত ২৮ মার্চ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল শুরু হয়, ৪ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল। আর ১৫ এপ্রিল ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ।
পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অর্থাৎ বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। তাকে নিয়ে ১৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি বার কাউন্সিলের।
ভোটের মাধ্যমে দেশের প্রায় অর্ধলক্ষ সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী তিন বছরের জন্য ১৪ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। তার মধ্যে সাধারণ আসনে সাতজন ও দেশের সাতটি অঞ্চল থেকে বাকি সাতজনকে নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচিত সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করেন।
২০১৮ সালের বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে সরকার সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রার্থীরা ১২টি পদে এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা দুটি পদে বিজয়ী হন।
পরে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন।
বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয় জুন মাসে।
ডিজিটাল প্লাটফর্মে সাংবাদিকতার নামে এসব কী হচ্ছে ? প্রশ্ন হাইকোর্টের
ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোসহ বিভিন্ন কারণে বিতর্কের মুখে ফেলছে সুস্থ সাংবাদিকতাকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টও। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ‘ইদানীং সাংবাদিকতার নামে এসব কী হচ্ছে? কী এক জাহাঙ্গীর বের হয়েছে। আইপি টিভির নামে কত চ্যানেল বের হয়েছে।’
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় আদালতের আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানিকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন।
একইসঙ্গে চট্টগ্রামের যে সব পত্রিকা আদালতের আদেশ নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করেছে, সব পত্রিকাকে সংশোধনী দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন আদালত। আগামীকাল বুধবার এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।
এর আগে খুরশীদ আলম খান আদালতকে জানান, চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকা ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংশোধনী দিয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের বদলি সংক্রান্ত কোনো আদেশ স্থগিত করেনি হাইকোর্ট। এরপরও ‘দুদকের সেই কর্মকর্তার বদলির আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট’ শিরোনামে দৈনিক পূর্বকোণসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করে।
‘সেই দুদক কর্মকর্তার বদলি আদেশ স্থগিত’ শিরোনামে গত ২৯ জুলাই সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক পূর্বকোণ। এ সংবাদটি গতকাল আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তখন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘না, আমরা এমন কোনো আদেশ দেইনি।’
এ সময় আইনজীবী ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আদালতকে দেখান। তখন আদালত দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে ডেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাজহরুল হকের স্বাক্ষরিত হাইকোর্টের একটি আদেশের অনুলিপির বরাত দিয়ে দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়, হাইকোর্টের আদেশ বলা হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহে জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন স্বপদে বহাল রাখার আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি করতে ওই আদেশ বলা হয়েছে।
কিন্তু লিখিত অনুলিপিতে দেখা যায়, আইনজীবী তাঁর সার্টিফায়েড কপিতে দুই সপ্তাহের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) লিখেছেন। কোথাও স্টে (স্থগিত) লেখা হয়নি।
এ কর্মকর্তাকে সম্প্রতি পটুয়াখালীতে বদলি করে দুদক। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। হাইকোর্ট এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি খারিজ করে দেন।
৩১ আগস্টের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টিকা গ্রহণের নির্দেশ
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে করোনার টিকা নিতে ও টিকা গ্রহণ–সম্পর্কিত কার্ড বা টিকা সনদ প্রশাসনিক শাখায় জমা দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া টিকা না নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ’ বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
মো. নাসির উদ্দিন জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৮০। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের যেসব কর্মকর্তা–কর্মচারী এখনো কোডিড-১৯–এর টিকা গ্রহণ করেননি, তাঁদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে ১৬ আগস্টের মধ্যে কোভিড-১৯–এর টিকা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী টিকা গ্রহণ–সম্পর্কিত টিকা কার্ড বা টিকা সনদ ২২ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রশাসনিক শাখায় জমা দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া টিকা গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা জাহাঙ্গীর,আরও দুই সহযোগী গ্রেফতার
আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের পৃথক ৪ মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাজধানীর মিরপুর থানার প্রতারণা মামলা ও পল্লবী থানার টেলিযোগাযোগ আইনের দুই মামলায় ৪ দিন করে মোট ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান।
এছাড়া গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি। এতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মোট ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলো।
এর আগে দুপুরে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে হেলেনাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ শাহানুর রহমান।
এদিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যতম সহযোগী হাজেরা খাতুন এবং সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাদের নিয়েই হেলেনা গড়ে তোলেন তার অবৈধ ‘জয়যাত্রা’ টেলিভিশন।

গত ৩০ জুলাই রাত সোয়া ১২ টার দিকে র্যাব গুলশান ২ নম্বরের ৩৬ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার ৫/বি ফ্ল্যাট থেকে হেলেনাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব জানিয়েছে, তার ফ্ল্যাট থেকে ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মাদক, ১ টি হরিণের চামড়া, ১ টি বন্য পশুর চামড়া, অন্তত ১০ ধরনের বিদেশী ধারালো চাকু, বিপুল সংখ্যক বিদেশী মুদ্রা, ২ টি ওয়াকিটকি, ১ টি লাল রঙের লাগেজ ভর্তি অবৈধ জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অবৈধ দ্রব্য সামগ্রীর সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না-এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও দুই সহযোগী গেফতার:
হেলেনা জাহাঙ্গীরের অন্যতম সহযোগী হাজেরা খাতুন এবং সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উয়িং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

(হেলেনা জাহাঙ্গীরের আরও দুই সহযোগী)।
কমান্ডার মঈন জানান, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে হেলেনা জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে দুজন হাজেরা খাতুন (৪০) ও সানাউল্ল্যাহ নূরী (৪৭)। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৪-এর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ এবং দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুন ২০০৯ সালে কুমিল্লার একটি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেন। এরপর তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন মিরপুরে একটি গার্মেন্টস অ্যাডমিন (এইচআর) পদে চাকরি শুরু করেন। তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের কাছের আত্মীয় এবং নিজের কর্মদক্ষতায় তার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
২০১৬ সালে তিনি ‘জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন’র ডিজিএম হিসেবে নিযুক্তি পান। এরপর তিনি ‘জয়যাত্রা টিভি’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জিএম (অ্যাডমিন) পদে নিযুক্ত হন। তিনি মূলত দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ হেলেনা জাহাঙ্গীরের আর্থিক বিষয় দেখভাল করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
জয়যাত্রা টিভি সম্পর্কে গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, জয়যাত্রা টিভি ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউন লিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছে। এর ফ্রিকুয়েন্সি হংকং থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই ফ্রিকুয়েন্সির জন্য হংকংকে প্রতি মাসে প্রায় ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। হংকং থেকে বরাদ্দ ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে সম্প্রচারের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই বলে জানান হাজেরা।
সম্প্রচারের জন্য ক্যাবল রিসিভার জয়যাত্রা টিভি বা তার প্রতিনিধির দ্বারা ক্যাবল ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতিনিধিরা ক্যাবল ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সম্প্রচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে চাকরিচ্যুত হয়ে থাকেন।
র্যাব আরও জানায়, এই টিভি বাংলাদেশের প্রায় ৫০টি জেলায় সম্প্রচারিত হয়ে থাকে। টিভি চ্যানেলটি রাজধানী ও জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অধিকসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা যায়। গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রতিনিধিকে ৩০ থেকে ৫০০ হাজার টাকা, উপজেলা প্রতিনিধিকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা এককালীন প্রদান করতে হয়। এ ছাড়া প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
ওই টিভি বিশ্বের প্রায় ৩৪টি দেশে সম্প্রচারিত হয়। যেখানে দেশের গুরুত্ব বিবেচনায় এক থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রতিনিধিরা নিয়োগ পেয়ে থাকেন। যারা প্রতি মাসে বিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করে থাকেন। নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ সংগ্রহ ও যাবতীয় হিসাবপত্র গ্রেপ্তার হাজেরা খাতুনের ওপর ন্যাস্ত বলে তিনি জানান।
হাজেরা খাতুনের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিরা নিয়োগ পেয়েছেন। হেলেনা জাহাঙ্গীরের পরিকল্পনা, উৎসাহে বা চাপে, নির্দেশনায় জয়যাত্রা টিভির কোনো কোনো প্রতিনিধি নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যক্তি প্রচার, প্রার্থিতা প্রচার, সাক্ষাৎকার ইত্যাদির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ গ্রেপ্তারকৃতদের মাধ্যমে হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রহণ করে থাকতেন বলে তারা জানান।
যে সমস্ত বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে প্রচারিত হতো না সেগুলো জয়যাত্রা টিভিতে প্রচার করা হতো। যেমন : তাবিজ-কবোজ, টুটকা-ফাটকা, ভাগ্য বলে দিতে পারে, জ্বীনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ফাঁড়া কেটে যাওয়া এবং গোপন সমস্যার সমাধান ইত্যাদি।
জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন সম্পর্কে হাজেরা খাতুন আরও জানান, ফাউন্ডেশনে ডোনার, জেনারেল মেম্বার, লাইফ টাইম মেম্বার ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এই সংগঠনের প্রায় ২০০ জন সদস্য রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সদস্য পদ বাবদ ২০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এর কিছু অংশ মানবিক কাজে ব্যবহার করে জয়যাত্রা টিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হতো। অবশিষ্ট অর্থ তার সন্তানদের নামে সঞ্চয় করা হতো।
গ্রেপ্তারকৃত সানাউল্ল্যা নূরী সম্পর্কে র্যাব জানায়, তিনি জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি সমন্বয়ক ছিলেন। তিনি হেলেনা জাহাঙ্গীরের নির্দেশনায় প্রতিনিধিদের সমন্বয় সাধন করতেন। প্রতিনিধিদের কেউ মাসিক টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বা গড়িমসি করলে তিনি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতেন। এলাকায় তার নামে চাঁদাবাজি অভিযোগ রয়েছে। তিনি গাজীপুর গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে তার একটি অংশও জয়যাত্রা টিভিতে প্রদান করতেন বলে জানান। এ ছাড়া তিনি গাজীপুর ও তদসংলগ্ন এলাকার অনুমোদনহীন জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচার নিশ্চিত করতেন।










