ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 99

ঈশিতা, মৌ ও পিয়াসা রিমান্ডে

0

ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী পরিচয় দিয়ে গ্রেফতার ইশরাত রফিক ঈশিতা ও তার সহযোগী শহিদুল ইসলাকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আর বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সিসাসহ গ্রেফতার মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার (২ আগস্ট) পৃথক পৃথক শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের ও আশেক ইমামের আদালত এদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

(ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঈশিতা)

আদালতে হাজির করে পুলিশ গুলশান থানার মাদক মামলায় পিয়াসাকে দশ দিন ও মোহাম্মদপুর থানায় মাদক আইনের মামলায় মৌকে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত এদের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
গত রোববার রাতে প্রথমে রাজধানীর বারিধারায় মডেল পিয়াসার বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করে। পরে পিয়াসার দেয়া তথ্যে আরেক মডেল মরিয়ম আক্তার মৌয়ের মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসায় অভিযান চালায়। তার বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মডেল পিয়াসা ও মৌ সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা পার্টির নামে উচ্চবিত্তদের বাসায় ডেকে মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখতেন। পরে সেই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে নাম ছিল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসার। প্রথমে মামলা করতে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করেছিলেন পিয়াসা। কিন্তু সেই পিয়াসার বিরুদ্ধেই আবার মামলা তুলে নেয়ার হুমকির অভিযোগে জিডি করেছিলেন ভুক্তভোগী। এদিকে ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক, বিশিষ্ট আলোচক এবং কূটনীতিক পরিচয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেফতার ইশরাত রফিক ঈশিতা ও তার সহযোগী শহিদুল ইসলাম দিদারের বিরুদ্ধে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
দুই আসামিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রাজধানীর শাহআলী থানার প্রতারণা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমাম প্রতারণার মামলায় ৩ দিন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রোববার সকালে মিরপুর থেকে ঈশিতা ও তার সহযোগী দিদারকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৪। এ সময় তার বাসা থেকে ভুয়া আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, সিল, সনদ, প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, ইয়াবা, বিদেশি মদ ও ভুয়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের দুটি ইউনিফর্ম এবং র‌্যাঙ্ক ব্যাজ উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে তাদের বিরুদ্ধে মিরপুরের শাহআলী থানায় তিনটি মামলা করা হয়।

ভার্চুয়াল কোর্ট চালু রাখতে অসুবিধা কোথায়? প্রশ্ন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের,বাড়ছে মামলা জট

2

লকডাউনে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু রাখতে অসুবিধা কোথায়? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীরা। তারা বলছেন, ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারক ও আইনজীবীরা নিজ নিজ বাসা বা চেম্বার থেকে বিচার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে দু’একজন স্টাফও রাখতে পারেন। কিন্তু তারপরও লকডাউনে ভার্চুয়াল কোর্টে বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে কেনো? লকডাউনে হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র তিন প্রকৃতির তিনটি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি খোলা রাখা হয়েছে। আর নিম্ন আদালতে একটি করে আদালত খোলা রাখা হয়েছে। এগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও প্রবেশ করতে পারছেন না এমন অভিযোগ বেশিরভাগ আইনজীবীর।
সরকারের দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার জন্য আইন প্রণয়ন করা। এর ফলে বিচার ব্যবস্থা মামলা জটের কারণে যে স্থবির হয়ে পড়ার আশংকা ছিলো তার কিছুটা্ হলেও উত্তোরণের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু কোর্ট প্রশাসন এই উদ্যোগটি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে নি বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সরকার ঘোষিত লকডাউনে আদালতের ভার্চুয়াল বিচার কার্যক্রমও বন্ধ থাকছে। এ নিয়ে নানামুখি আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে মামলার ভারে স্থবির হয়ে পড়া বিচার ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের জরুরী সেবার আওতায় আনা দরকার।
করোনা মহামারীতে দেড় বছরেরও বেশীসময় আদালতের স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলার ভয়াবহ জট তৈরি হচ্ছে। বিচার প্রার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। আইনজীবীরা পেশাগত আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিচারাঙ্গনে এই ত্রিমুখি সংকট দেশের আর সব অঙ্গনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বলাবলি হচ্ছে, করোনা মহামারী শুরুর পর থেকে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একবারে বন্ধ হয়ে আছে, আর দ্বিতীয় বন্ধের তালিকায় আছে বিচারাঙ্গন। করোনাকালিন সময়ে হাসপাতাল, পুলিশ, ব্যাংক, সিভিল প্রশাসন, মিডিয়া থেকে শুরু করে বেসরকারি খাতের কার্যক্রমও কমবেশী চললেও স্থবির হয়ে গেছে বিচারালয়।

অথচ করোনা শুরু হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরকারের আইনমন্ত্রণালয় সশরীরের বিচারকাজের বিকল্প ভার্চুয়াল বিচার কাজ করার জন্য অধ্যাদেশ জারি করে এক যুগান্তকারী নজির সৃষ্টি করে। এর ফলে আদালতে উপস্থিত না হয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ করার সুযোগ সৃস্টি হয়। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিচারাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা এই ভার্চুয়াল বিচার পদ্ধতি যথাযথভাবে কাজ লাগাতে পারছেন না। সব আদালত ভার্চুয়ালি চালাতে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে সরকার ঘোষিত লকডা্উনে বিচরকার্যক্রমও বন্ধ থাকছে। অথচ ভার্চুয়াল বিচারকার্যক্রম চলতে লকডাউন কোনো বাধা ছিলনা বলে মনে করেন আইন ও বিচারাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত গতবছরের মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারাদেশে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশনা জারি করে। ফলে দেশের অফিস আদালত করকারখানা ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। চরম সংকটকালীন সময়ে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মামলা জট। কারণ দেশের আদালতগুলোতে এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৪০ লাখ মামলা বিচারাধিন। এর মধ্যে হাইকোর্টেই বিচারাধিন সাড়ে চার লাখ মামলা। আপিল বিভাগে আছে ২০ হাজারের বেশি। বাদবাকি নিম্ন আদালতে। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্যেই এতো বিপুল সংখ্যক মামলা নিস্পত্তি কেমনে হবে এনিয়ে চিন্তায় চোখে সরষে ফুল দেখেন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা। এর মধ্যে দিনের পর দিন আদালত বন্ধ থাকায় তা আরো বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই দুশ্চিন্তার আপাতত সমাধান হয়ে আসে ভার্চুয়াল কোর্ট। বিশ্বজুড়ে এই মহামারির মধ্যে পাশের ভারতসহ অনেক দেশের আদালতেই এই পদ্ধতি চালু করে ফেলে। বাংলাদেশ সরকারও বিশেষ করে, আইন মন্ত্রণালয় ত্বরিৎ উদ্যোগ নেয়। ২০২০ সালের ৯ মে আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। (অধ্যাদেশটি ৯ জুলাই আইনে পরিণত হয়)। ফলে অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল কোর্টের জন্য পৃথক প্রাকটিস ডাইরেকশন, আইনজীবীদের জন্য ভার্চুয়াল কোর্টরুম ব্যবহার ম্যানুয়াল, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানি করতে বিশেষ প্রাকটিস নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। প্রাকটিস ডাইরেকশনসহ ম্যানুয়ালে ব্যবহারিক দিক-নির্দেশনা রয়েছে।
১১ মে (২০২০) থেকে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে হাইকোর্টের পৃথক ১৩টি বেঞ্চে এবং আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম চালু হয়। পরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রমও পরিচালনা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে নিম্ন আদালতেও জামিন ও অতি জরুরী ফৌজদারি মামলার শুনানি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে হতে থাকে। আইনজীবী ও বিচারপার্থীরা কিছুটা হলেও স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে লকডাউনের ক্ষেত্রে। করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে গেলে তা ঠেকাতে সরকার দফায় দফায় লকডাউ্ন দিচ্ছে। লকডাউনে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়। খোলা থাকে শুধু জরুরী সেবাসমুহ। হাসপাতাল ,আইনশৃংখলা বাহিনী, ব্যাংক,শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ,গ্যাস ,পানি, মিডিয়া এমন কী গার্মেন্টস শিল্পও খোলা রাখা হয়। কিন্তু বিচার ব্যবস্থা যেহেতু জরুরী সেবার আওতার মধ্যে পড়ে না ফলে বিচরালয় বন্ধ থাকে।
এ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীরা। তারা বলছেন, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যদি ঘরে বসেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় তা হলে লকডাউনে তা বন্ধ থাকবে কেনো?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিমকোর্টের বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, লকডাউন না থাকলেও ভার্চুয়াল পদ্ধতিকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং দেখা যাচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের ৩৫ থেকে ৩৮টি বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম চলেছে। যদিও জরুরী মামলাই শুনানি হয় তারপরও আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা কিছুটা হলেও রিলিফ পাচ্ছেন। কিন্তু সরকার লকডাউন ঘোষণা করলেই ভার্চুয়াল কোর্টের সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়। যেমন জুলাই মাসের প্রায় পুরোটাই লকডাউনে কাটলো এবং ৫ আগষ্ট পর্যন্ত লকডাউন। আর এই লকডাউনে হাইকোর্টে মাত্র ৩টি বেঞ্চে ভার্চুয়াল বিচার কার্যক্রমের জন্য রাখা হয়েছে। এটার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না আইনজীবীরা। তারা বলছেন ভার্চুয়ালিই যদি হয় তা হলে সবগুলো বেঞ্চ চালু রাখতে সমস্যা কোথায়? একজন আইনজীবী জানান, হাইকোর্টে ৩ টি ভার্চুয়াল কোর্ট চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু ৩ টা বেঞ্চ ৩ ধরণের মামলা শুনছে। সারাদিন অপেক্ষা করেও সিরিয়াল পাওয়া যায় না, মামলা শুনানি করা যায় না। একই অবস্থা নিম্ন আদালতের ক্ষেত্রেও। হাইকোর্টের ৩৮টি বেঞ্চ ভার্চুয়ালি পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও লকডাউনের সময় কেনো আগের মতো বেঞ্চ গঠন করা হলো না তার কোনো জবাব পাচ্ছেন না। একই ভাবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে, চিফ জুডিশিয়াল ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট একটি করে চালু রাখারও কোনো যুক্তি আইনজীবীরা খুঁজে পাচ্ছেন না।
আইনজীবীরা বলছেন, ৪০ লাখ মামলা নিস্পত্তি আর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিচারবিভাগকে জরুরী সেবার আওতায় আনতে হবে। এজন্য দ্রুত দেশের সব আদালত সশরীরে না হলেও ভার্চুয়ালি বিচার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। না হলে বিচার বিভাগ ভেঙে পড়বে, ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়বে। বিচারের প্রতি যদি মানুষের অনীহা আসে তাহলে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
উদ্বুত পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিশন গঠনেরও কথা বলছেন কোনো কোনো আইনজীবী। এই কমিশন মতামত দেবেন কীভাবে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়।
আইনজীবীদের কথা, কোর্ট ম্যানেজমেন্ট যদি চায় তাহলে সশরীরেও কোর্ট চালানো সম্ভব। নিম্ন আদালতে এতো মানুষের ভিড় করার দরকার নেই। নির্দিষ্ট মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে যারা কেবল মামলার আসামি,তারাই হাজিরা দেবেন,এমন বিধান করা যেতে পারে।
সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন,আদালত বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীরাও পড়েছেন দুর্ভোগে। একজন আইনজীবী জানান, তাঁর এক মক্কেল কারাগারে আছেন। জামিনযোগ্য মামলা। আরও ৩ মাস আগেই তার জামিন হয়ে যেতো। কিন্তু আদালতে তিনি আবেদনই করতে পারছেন না। বলেন যদি সবগুলো কোর্ট ভার্চুয়ালি চলতো তা হলে তিনি হয়তো আবেদন করতে পাতেন,শুনানি করতে পারতেন।
একজন আইনজীবী বললেন আরও কঠিন কথা। যদি লকডাউনে পুলিশ আসামী ধরতে পারে, তা হলে আসামির জামিন চাওয়ার জন্য আদালতও খুলে রাখতে হবে।
আইনজীবীরা গণমাধ্যমের লোকদের কাছে তাদের মনের কথা বলতে চান নাম প্রকাশ না করার শর্তে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে মতামত প্রকাশ করছেন তারা। তাদের মধ্যে ভয়, কোনো কিছু বলে যদি আবার বিচারালয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। ইতিমধ্যে ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দেয়ায় হাইকোর্টের একজন আইনজীবী আদালত অবমাননার মুখে পড়েছেন। ফলে ভয় ও পেশার আতঙ্কে আইনজীবীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা গুমরে মরছেন। সাধারণ আইনজীবীরা এ জন্য দেশের বিচারাঙ্গন ও সংবিধানের রক্ষক প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তারা বলছেন, বাস্তবতা বিবেচনায় প্রধানবিচারপতি চাইলেই দেশের সব আদালত ভার্চুয়ালি চালু করার নির্দেশনা দিতে পারেন। তারা এ জন্য আইনমন্ত্রীরও সহায়তা চেয়েছেন।

শুল্কমুক্ত কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি, ডিবির অভিযানে গ্রেফতার ১১

0

শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও তেজগাঁও এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে ৫০৮ রোল পর্দা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, উদ্ধার করা এসব পর্দার মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। গ্রেফতার ওই ১১ জন হলেন শাহাদাত হোসেন, সাইফুল ইসলাম, রুবেল আকন, মনির হোসেন, রবিন, শাহিন হাওলাদার, মাসুম, আরিফ হোসেন, সোহাগ ফরাজী, নাজিম ও কামাল হোসেন। রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, আসামিরা বন্ড সুবিধায় বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত কাপড় আমদানি করে থাকেন। পরে এসব কাপড় অতিরিক্ত লাভের আশায় সুবিধামতো চোরাই পথে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিলেন। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কাপড় চীন থেকে চট্টগ্রামে আসে। পরে কাপড়গুলো নেওয়া হয় ময়মনসিংহের ভালুকায়। কাপড়গুলো ঢাকায় আনার পর তা জব্দ করা হয়।

ডিবির এই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী, বন্ডের পণ্য রপ্তানি ছাড়া দেশের অন্য কোথাও বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। প্রাথমিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। দেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা যে পণ্য উৎপাদন করছে, তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, বন্ডের সুবিধায় বাংলাদেশের আড়াই থেকে তিন হাজার গার্মেন্টস এসব কাপড় নিয়ে আসে। তবে বন্ড সুবিধায় আনা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কাপড়গুলো চোরাই বাজারে বিক্রি করে। এতে আমাদের বস্ত্র খাত হুমকির মধ্যে পড়ছে।’
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রাজীব আল মাসুদের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হাসান আরাফাত ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মধুসূদন দাসের নেতৃত্বে অপরাধী চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও গণসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন, এডিসি ইফতেখারুল ইসলাম প্রমুখ।

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে চিত্রনায়িকা একা আটক

0

রাজধানীতে হাজেরা নামের এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে চিত্রনায়িকা একাকে আটক করেছে হাতিরঝিল থানার পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আর ভুক্তভোগী গৃহকর্মী হাজেরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ গোলাম আজম। জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যায় একা নামের এক নারীর বাসা থেকে গৃহকর্মী হাজেরাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর আটক করে থানায় আনা হয় ঢাকাই সিনেমার একসময়ের এই নায়িকাকে।
সুচিকিৎসার জন্য হাজেরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, গৃহকর্মী হাজেরাকে মারধর করায় চিত্রনায়িকা একার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হারিছ চৌধুরী কোথায় ?

0

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী কোথায় আছেন কেউ জানেনা। ১৪ বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। তার সন্ধানে গোয়েন্দারা দেশে বিদেশে নানা অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো হদিস পাচ্ছে না। সিলেটে তার পরিবারের লোকজন এবং আত্মীয় স্বজনরাও হারিছ চৌধুরী সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না বা দেননা। ফলে খালেদা জিয়ার প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক সচিব লাপাত্তা হয়ে কোথায় গেলেন তা নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের ক্ষমতাকালীন প্রধানমন্ত্রীর দাপুটে রাজনৈতিক সচিব ছিলেন হারিছ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসলেও তার মূল ক্ষমতার উৎস ছিল হাওয়া ভবন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ফখরুদ্দীন -মঈনুদ্দিন সরকার গঠনের পর থেকে হারিছ চৌধুরী হাওয়ায় মিলিয়ে যান। তার কোনো সন্ধান পায়নি ওয়ান-ইলেভেন সরকার। এ সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে হারিছ চৌধুরীকে খুঁজতে থাকে গোয়েন্দারা । কিন্তু তার সন্ধান আর মেলেনি। গত ১৪ বছর ধরে তিনি কোথায় আছেন তা স্পষ্ট করে কেউ জানে না।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আলোচিত হাওয়া ভবনের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন হারিছ চৌধুরী। এ ক্ষমতা বলে তিনি দাবড়ে বেড়াতেন সবখানে।

হারিছ চৌধুরীর পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর কেউ বলছেন, তিনি এখন ভারতের করিমগঞ্জেই রয়েছেন। সেখানে তার মামা বাড়ি। সেখানে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা। সেখানকার একজন আত্মীয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আবার অন্য সূত্রগুলো বলছেন হারিছ চৌধুরী লন্ডন রয়েছেন। তিনি সেখানে নির্ভৃতে জীবন যাপন করছেন। মাঝেমধ্যে তাকে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। তবে কোনো সূত্রই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না তিনি কোথায় আছেন।

হারিছ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। তার নানাবাড়ি ভারতের করিমগঞ্জে। নানাবাড়িতে যাওয়া-আসার সুবাদে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে আগে থেকেই জানাশোনা রয়েছে তার।
চারদলীয় জোট সরকারের বিদায়ের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে পতন ঘটে হাওয়া ভবন সাম্রাজ্যের। একের পর এক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হতে থাকেন হারিছ চৌধুরী। এরপর নিজেকে রক্ষা করতে ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারি জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে ভারতে পালিয়ে যান বিএনপি সরকারের দাপুটে এই নীতিনির্ধারক। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আর দেশমুখী হননি তিনি। গুজব রয়েছে, ২০১৫ সালে গোপনে দেশে এসেছিলেন হারিছ চৌধুরী। কিছুদিন সিলেটে অবস্থান করে নিজের সহায়-সম্পত্তি বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে ফের চলে যান ভারতে। সিলেটে হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, ২০১৫ সালের পর থেকে প্রায় দুই বছর দেশে কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ করেননি হারিছ চৌধুরী। তখন তিনি মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে গত বছর থেকে দেশে নিজের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে ফের যোগাযোগ রাখছেন। দেশের রাজনীতি ও রেখে যাওয়া সম্পত্তির খবরও রাখছেন তিনি। হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সিলেট বিএনপির এক নেতা জানান, বিভিন্ন দেশ ঘুরে বর্তমানে লন্ডনেই থিতু হয়েছেন হারিছ চৌধুরী।

তবে আরেক সূত্রের খবর, ভারতের করিমগঞ্জে তার মামাবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পুরনো ব্যবসা রয়েছে। হারিছ চৌধুরীও জড়িয়ে পড়েছেন ব্যবসায়। তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবসার সঙ্গে হারিছ চৌধুরী জড়িত, তা খোলাসা করতে চাননি তিনি। সেখানে প্রকাশ্যেই চলাফেরা করেন হারিছ চৌধুরী। সেখানে বাংলাদেশি কিছু ব্যবসায়ী থাকলেও হারিছ চৌধুরীর চেহারা ও বেশভূষায় খানিকটা পরিবর্তন আসায় তাকে সবাই চিনতে পারেন না। সেখানকার ব্যবসায়ীরা তাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই জানেন। সূত্র জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে নিজের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ সিলেট বিএনপির এক নেতার সঙ্গে ইন্টারনেট কলিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন হারিছ চৌধুরী। প্রায় আধা ঘণ্টার সেই আলাপে রাজনীতি, দেশে ফেরা-না ফেরা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলাপ করেন তিনি। ওই সময় বিএনপি নেতাকে তিনি জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান। দেশে ক্ষমতার বদল ঘটলে এবং খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে থাকলে তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানান। হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী ও সন্তানরাও রয়েছেন দেশের বাইরে। তার স্ত্রী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে আছেন। সেখানে ব্যারিস্টারি করছেন মেয়ে। হারিছ চৌধুরীর ছেলে নরওয়েতে একটি তেল কোম্পানিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, সন্তানদের সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন নিজের নানাবাড়ি আসামের করিমগঞ্জে আত্মগোপন করে ছিলেন হারিছ চৌধুরী। তিনি ভারতে যাওয়ার কয়েকদিন পর তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা বস্তায় ভরে সীমান্ত দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়। করিমগঞ্জ থেকে মেঘালয়ে গিয়ে কিছুদিন থাকেন তিনি। পরে ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে যান। সেখান থেকে ইরানে ভাই আবদুল মুকিত চৌধুরীর কাছে যান হারিছ চৌধুরী। কয়েক বছর সেখানেই ছিলেন। মুকিত চৌধুরী ইরানে একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। তবে মুকিত চৌধুরী মারা যাওয়ার পর আর ইরানমুখী হননি হারিছ। হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি হওয়ার আগে দেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এজন্য বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন হারিছ চৌধুরী। কিন্তু ওই সময় দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে দেশে ফিরতে নিষেধ করেন।

সূত্রটি জানিয়েছে হারিছ চৌধুরী এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। এ প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের যুক্তরাষ্ট্র শাখার একজন দায়িত্বশীল নেতা লন্ডনে বসবাসরত হারিছ চৌধুরীর এক নিকটাত্মীয়ের বরাত দিয়ে জানান, ‘হারিছ চৌধুরী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। নিয়মিত রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে দুইবার তিনি আমেরিকাতে চিকিৎসা করালেও আরোগ্য লাভ হয়নি।
জৌলুস নেই চৌধুরী বাড়ির:
হারিছ চৌধুরী’ ঢাকা থেকে সিলেটের কানাইঘাটে গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন হেলিকপ্টারে। রাজকীয় বাড়ি বানিয়েছিলেন। নাম দিয়েছিলেন চৌধুরী বাড়ি। তিনি গ্রামে অবস্থানকালে এক মুহূর্তের জন্যও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটত না। প্রভাব খাটিয়ে বাড়ির ভেতরেই পোস্ট অফিস, কৃষি ব্যাংক, মডেল স্কুল, তফশিল অফিস, দাতব্য চিকিৎসালয়, এমনকি পুলিশ ফাঁড়িও স্থাপন করিয়েছিলেন। আশপাশের সব রাস্তা কাঁচা হলেও তাঁর বাড়িতে যাওয়ার আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পিচঢালা। বাড়ির ভেতর নির্মাণ করা হয়েছিল নজরকাড়া বাংলো, ছিল চিড়িয়াখানাও। চৌধুরীবাড়ির সেই জৌলুস এখন আর নেই। কারণ বাড়ির ‘প্রাণপুরুষ’ সেই চৌধুরী ১৪ বছর ধরে ‘নিখোঁজ’।
যে সব মামলায় দণ্ডিত হারিছ চৌধুরী:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন সাজা হয় হারিছ চৌধুরীর।
একইবছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটাবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হারিছ চৌধুরীর সাতবছরের জেল ও দশ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও সাজা হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার এক মামলায় হারিছ চৌধুরীসহ ২৮ জনের জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।মামলাটি বিচারাধিন রয়েছে। এ ছাড়া গুশলানে সরকারি বাড়ি দখল করায় দুদকের আমলার আসামিও হারিছ চৌধুরী।

নি‌র্দোষ প্রমা‌ণিত হলেন বাংলা‌দেশি বং‌শোদ্ভূত ব্রিটিশ এম‌পি আফসানা

0

প্রতারণার মামলা থেকে খালাস পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি আফসানা । ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির এমপি আফসানা বেগমকে ‘প্রতারণা করে ফ্ল্যাট পাওয়ার’ মামলা থেকে খালাস দিয়েছে আদালত।
শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্ট এ মামলার তিনটি অভিযোগ থেকেই আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দিয়েছে।
পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনের এই এমপির বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য ‘গোপন করে’ এবং ‘প্রভাব খাটিয়ে’ লন্ডন কাউন্সিলের তিন লাখ ডলার দামের একটি ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল এ মামলায়।
আদালতে আফসানা বলেন, তার ‘কর্তৃত্ববাদী’ সাবেক স্বামীই তার আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করতেন। ফ্ল্যাটের জন্য তিনি নিজে ওই আবেদন করেননি। ফ্ল্যাটের জন্য কাগজপত্রে নিজের নাম দেখে তিনি ‘মর্মাহত’ হয়েছেন।
‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ এসব অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও শুনানিতে দাবি করেছিলেন আফসানা। আদালতের রায়ে সব অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
লেবার পার্টির এই এমপি এক বিবৃতিতে বলেন, “এ মামলার ফলে আমাকে দুর্দশায় পড়তে হয়েছে এবং সামাজিকভাবে আমার ভাবমূর্তি ধ্বংস করেছে।”
২০১৯ সালের ব্রিটিশ নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটস বারার পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসন প্রথমবার নির্বাচন করেই জিতে যান ৩০ বছর বয়সী আফসানা। পরের বছর তার বিরুদ্ধে এই মামলা করে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।
মামলায় বলা হয়, টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় বাবার পরিবারের সঙ্গে থাকার সময় ২০১১ সালে ফ্ল্যাটের জন্য লন্ডন কাউন্সিলে আফসানার নামে আবেদন জমা পড়ে। পরে তিনি ২০১৩ সালে স্বামীর বাড়িতে ওঠেন।
আফসানার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, স্বামীর বাড়িতে চলে যাওয়ায় তার আর ফ্ল্যাটের দরকার ছিল না। কিন্তু সে কথা তিনি কাউন্সিলকে অবহিত করেননি।
তাছাড়া আফসানার নামে জমা পড়া আবেদনে বলা হয়েছিল, তিন কক্ষের একটি বাসায় গাদাগাদি করে তাকে থাকতে হয়। সে অবস্থা বিবেচনা করেই তাকে ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়। অথচ ২০০৯ সালে তার খালার করা আবেদনপত্রে দেখা যায় ওই বাড়িতে চারটি বেডরুম আছে।
আফসানা বেগম বরাবরই আদালতে বলেছেন, ওই বাড়িতে তিনটি বেডরুমই ছিল এবং সেখানে তার নিজের কোনো আলাদা বেডরুম ছিল না। তার খালা কেন চারটি বেডরুমের কথা বলে আবেদন করেছেন, সেটা তার জানা নেই।
শুনানিতে তিনি বলেন, এহতেশামুল এক ‘কর্তৃত্ববাদী’ পুরুষ, সব সময় ‘জবরদস্তি’ করতেন। তার আর্থিক বিষয়াদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন সাবেক স্বামী। ওই সময়টাতেই তার নামে ফ্ল্যাটের জন্য আবেদন করা হয়, তিনি নিজে সেই আবেদন করেননি।
শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া রায়ে খালাস পান ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই সদস্য।
আফসানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাওয়ার হ্যামলেটসে হলেও বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এক সময় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে চাকরি করতেন তিনি।
কুইনমেরী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতিতে লেখাপড়া করা আফসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীর ৩ দিনের রিমান্ডে

0

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম শুক্রবার রাতে জানান, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো একত্রিত রেখে দ্বিতীয় মামলা করা হয় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।”
এই মামলাতেও রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া রাতেই মিরপুরের পল্লবী থানায় আরো কয়েকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসা থেকে দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‍্যাব। তখন তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখায়। আজ শুক্রবার র‍্যাব সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন শেষে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের নীতিবহির্ভূত হওয়ায় কদিন আগে আতাকে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নামের সঙ্গে লীগ যুক্ত করে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের অনুমোদনহীন একটি সংগঠনের সভাপতি পদে নাম আসার পর তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দলটির মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটি।
জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন। সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নাম আসে। সব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফ আর নেই

0

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আওয়ামী লীগ দলীয় প্রবীণ সাংসদ ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ আর নেই। শুক্রবার বিকেল তিনটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। সাংসদের ছেলে ও চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ তাঁর বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুকালে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি সবার কাছে ‘আশরাফ ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি চান্দিনা থেকে পাঁচবার সাংসদ নির্বাচিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংসদ মো. আলী আশরাফ ২০০০ সালে কিছুদিন ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও পালন করেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি সরকারি প্রতিশ্রুতিসংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।
গত ৩ জুলাই প্রথমে গলব্লাডারে পাথর অপারেশনের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখানে তাঁর নিউমোনিয়া হয়। শেষে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিনি লাইফ সাপোর্টেও ছিলেন। সেখানেই তিনি মারা যান।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শোক : এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুতে পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবর্গ মরহুমের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক; কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ; আইনমন্ত্রী আনিসুল হক; অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল; শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন; পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বীরপ্রতীক; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি; সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ; পরিবেশ মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন; ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী; রেলপথ মন্ত্রী মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন; বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
এছাড়া শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল; বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ; সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু; নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন; আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য; পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক; তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ; সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী; মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা; ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

ভুমি রেকর্ডের ছোটখাটো ত্রুটি এসি ল্যান্ডরাই সংশোধন করতে পারবেন, পরিপত্র জারি

0

ভূমি জরিপের পর চূড়ান্তভাবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল মাঠপর্যায়েই সংশোধন বা রেকর্ড সংশোধন করতে পারবেন সহকারী কমিশনাররা (ভূমি)। তাঁদের এ নির্দেশ দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসি ল্যান্ডদের (সহকারী কমিশনার ভূমি) মাধ্যমে এ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে খতিয়ানের ছোটখাটো ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ভূমির মালিককে দেওয়ানি আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার দরকার হবে না। এতে ভূমিসংক্রান্ত জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। এ ছাড়া পরিপত্রটি পড়ে জমির মালিকেরাও সহজে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পেতে পারেন।

২০১৫ সালে খতিয়ানের ভুল সংশোধনবিষয়ক একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। নানা জটিলতার কারণে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সহজ ছিল না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এই পরিপত্র জারি করতে নির্দেশ দেন, যাতে পরিপত্রটিই উদাহরণ হিসেবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারেন।

পরিপত্রে বিভিন্ন আইনের সূত্র উল্লেখ করে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভূমি জরিপের পর চূড়ান্তভাবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল, প্রতারণামূলক লিখন এবং যথার্থ ভুলের বিভিন্ন সম্ভাব্য ধরন বর্ণনা করা হয়েছে পরিপত্রে। এসব ভুল সংশোধনের পদ্ধতিও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সহজেই সাত পৃষ্ঠার পরিপত্রটি থেকে রেফারেন্স গ্রহণ করতে পারেন।
পরিপত্রে রেকর্ড সংশোধের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আবেদনকারীকে আবেদনের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ কোর্ট ফি সংযুক্ত করতে হবে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করার সিস্টেম চালু হলে তা নির্ধারিত সরকারি হিসাবে সরাসরি দেওয়া যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মিসকেসে রেকর্ড সংশোধনের আদেশ হওয়ার পর আবেদনকারীর কাছ থেকে নামজারি মামলার জন্য নির্ধারিত হারে নোটিশ জারি ফি, রেকর্ড সংশোধন বা হালকরণ ফি এবং খতিয়ান সরবরাহ ফি একত্রে ডিসিআরের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। আর তা যথারীতি সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। তবে জেলা প্রশাসক বা তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদনে কোর্ট ফি কিংবা অন্যান্য ফি আদায় প্রযোজ্য হবে না।

হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক; বাসা থেকে মদ হরিণের চামড়া ক্যাসিনো বোর্ড উদ্ধার

0

আওয়ামী লীগে পদ হারানো ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থানের পর তাকে আটকের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।
“তার বাসায় মদ, হরিণের চামড়া, ক্যাসিনো বোর্ড, ওয়াকিটকিসহ বেশ কিছু অবৈধ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।” জানিয়েছে র‍্যাব।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে বাড়ি থেকে আটকের পর র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, “তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সম্প্রতি আলোচনায় উঠে আসা হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাড়িতে রাত ৮টার দিকে এই অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ঘণ্টা দুয়েক পর র‌্যাবের নারী সদস্যদের সেখানে ঢুকতে দেখা যায়।
এরপর রাত সোয়া ১২টার দিকে র‌্যাবের সদস্যদের সঙ্গে বেরিয়ে আসেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তার মুখে ছিল মাস্ক। পরনে ছিল চেক জামা ও হলুদ ওড়না।
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার। তিনি নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন।
হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটিতে সদস্য ছিলেন। কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তিনি।
‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি ‘ভূইফোঁড়’ সংগঠনের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ হলে তাকে দুই কমিটি থেকেই বাদ দেয় আওয়ামী লীগ।