রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় আরব আলীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ সাহজামান ওরফে সাবু, মোঃ দুলাল প্যাদা ও মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন।
বুধবার চাঁদপুর ও রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।
প্রেস ব্রিফিংএ জানানো হয়, ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় বসবাসকারী পানি ও সুয়ারেজ লাইন ঠিকাদার আরব আলীকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা রুজু হয়। এ ঘটনায় চাদঁপুর জেলার হাইমচর থানার মিয়া বাজার ও রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ কন্ট্রাক্ট শুটার দলের সদস্য সাবু, দুলাল ও সুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।
অভিযুক্তদের গ্রেফতার সংক্রান্তে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত, সিসি ক্যামেরার ভিডিও চিত্র ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ২৮ জুলাই,(বুধবার) চাঁদপুর হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবুকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতে পল্লবী থানার কালশী বাউনিয়াবাধস্থ তার বাসা হতে ৬ চেম্বার বিশিষ্ট ১টি রিভলবার ও ১০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কালশী এলাকা হতে ঘটনায় জড়িত দুলাল ও সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ১টি পিস্তল ও ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী ইব্রাহীম এবং যুবরাজের তত্ত্বাবধানে থেকে ঢাকা মহানগরীর ভাষানটেক, ক্যান্টনমেন্ট ও পল্লবী থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাট, বিতর্কিত জায়গায় জমির দখল-বেদখল এবং গ্যাস, পানি ও সুয়ারেজ লাইন তৈরির কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করতো। এছাড়াও তারা অত্র এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়, ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতো।
তিনি আরো বলেন, এ সকল সন্ত্রাসীরা ঘটনা ঘটানোর পর চাঁদার টাকা, ইয়াবা বিক্রির টাকা নিয়ে পদ্মা-মেঘনার দুর্গম চর এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করতো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকার হাজারীবাগ ও পল্লবী এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে জমি দখল-বেদখল ও কন্ট্রাক্ট শুটারসহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।
চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও কন্ট্রাক্ট শুটিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য প্রদানের জন্যে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ করেন পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে পৃথক ৩ টি মামলা রুজু হয়েছে।
রাজধানীতে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ কন্ট্রাক্ট শুটার দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার
বিচার বিভাগে করোনা আক্রান্ত ৯৬৫, চিকিৎসাধীন ৫৯ বিচারক
দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অধস্তন আদালতের মোট ৩২৫ জন বিচারক এবং ৬৪০ জন সহায়ক কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ মুহূর্তে সারা দেশের অধস্তন আদালতের ৫৯ বিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মুহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের অধস্তন আদালতের মোট ৩২৫ বিচারক এবং ৬৪০ সহায়ক কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত বিচারকদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২৬৪ জন। দুইজন বিচারক কর্মরত অবস্থায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনা আক্রান্ত সহায়ক কর্মচারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪৮৯ জন এবং ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
সাইফুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে অধস্তন আদালতের ৫৯ জন বিচারক এবং ১৪৩ জন সহায়ক কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: পুলিশ রিপোর্টের শুনানি হবে আদালত নিয়মিত চালু হলে
নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে গুলশান থানা পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) এর ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) সাধারণ নিবন্ধন শাখার নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে শুনানি না হওয়ার বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, নিয়মিত আদালত চালু হওয়ার পরে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারিত হবে এবং পুলিশের জমা দেওয়া প্রতিবেদন গৃহীত হবে কি না সে বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।
মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আমি নারাজি আবেদন করবো এবং বিচারের জন্য সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত লড়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে তারা আমার সঙ্গে যোগযোগ করেননি।’
গত ১৯ জুলাই গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
উল্লেখ্য কোনো মামলায় পুলিশ রিপোর্ট বাদির পছন্দ না হলে তিনি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ি নারাজি আবেদন দাখিল করতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিষ্ট্রেট মামলাটি পুন:তদন্ত এবং তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন। আর নারাজি খারিজ হলে এর বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে পারেন বাদি। হাইকোর্টে রিভিশন করার সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে আইনগত ভাবে আসামির নারাজি আবেদনের সুযোগ নেই।
গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
সেই কুলসুমী গ্রেপ্তার
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অন্য নারীকে দিয়ে খাটানো চট্টগ্রামের সেই কুলসুমা আক্তার কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত ৩টার দিকে পতেঙ্গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি নেজাম উদ্দিন।
কুলসুমীর পরিবর্তে তার হয়ে জেল খাটা মিনু আক্তার হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার ১৩ দিনের মাথায় গত ২৮ জুন মধ্যরাতে নগরীর বায়েজিদ লিংক রোডে রহস্যজনক ট্রাকচাপায় মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
মুঠোফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তার ওরফে বেবিকে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করে। ৩১ অক্টোবর রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমী জামিনে বের হয়ে আসেন। তার জামিন পাওয়ার প্রায় আট বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় দেয়।
রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের দিন অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

(জেল খাটা মিনু আক্তার,ট্রাক চাপায় যার রহস্যজনক মৃত্যু হয়)।
এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী ‘সেজে’ মিনু আক্তার ‘স্বেচ্ছায়’ সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার বাসিন্দা মিনুর স্বামী ঠেলাগাড়ি চালক বাবুল বছর পাঁচেক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর মিনু আক্তার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আসেন।
সন্তানদের ভরণ-পোষণের ‘মিথ্যা আশ্বাসে’ মিনু যখন অন্যের হয়ে সাজা ভোগ করছিলেন তখন তার দুই ছেলে ইয়াছিন (১০) ও গোলাপ (৭) সীতাকুণ্ডের একটি এতিমখানায় থাকত এবং মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৫) স্থানীয় এক ব্যক্তি লালন পালন করছিল। কিন্তু আশ্বাস মতো কোনো টাকা বা সন্তানদের জন্য খাবার কিছুই মিনু আক্তার পাননি।
এরমধ্যেই ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল কুলসুমী রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। ৩০ এপ্রিল হাই কোর্ট আপিল গ্রহণ করে। পরবর্তীতে দণ্ডিত কুলসুমী জামিন আবেদন করলে চলতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট তা বাতিল করে দেয়।
এদিকে গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর চতুর্থ দায়রা জজ আদালতকে চিঠি দিয়ে জানায়, কারাগারে থাকা নারী দণ্ডিত কুলসুমী নন।
পরদিন কারাগারে থাকা মিনু আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।
ওই সময় আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, জবানবন্দিতে মিনু আক্তার বলেছিলেন, মর্জিনা নামের এক নারী তাকে চাল, ডাল দেবে বলে জেলে ঢোকায়। তিনি প্রকৃত আসামি কুলসুম আক্তারকে চেনেন না।
একই সঙ্গে আদালত কারাগারের নিবন্ধন দেখে হাজতি আসামি কুলসুমী ও সাজাভোগকারীর মধ্যে অমিল খুঁজে পান। তখন আদালত কারাগারের নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কিছু নথি হাই কোর্টে কুলসুমীর করা আপিলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য পাঠায়।
এই ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে আইনজীবী মো. শিশির মনির তা আপিল সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। শুনানি শেষে ৭ জুন মিনুর মুক্তির আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
চট্টগ্রামে এসে উচ্চ আদালতের সেই আদেশ পৌঁছালে ১৬ জুন মুক্তি পান মিনু আক্তার। কিন্তু গত এপ্রিলে রোজার মধ্যে মিনুর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্ঘটনায় মারা যায়। জেল থেকে বের হওয়ার পর মেয়ের মৃত্যুর খবর পান মিনু।
মুক্তির ১৩ দিনের মাথায় ২৮ জুন গভীর রাতে বায়েজিদ লিংক রোডে ‘ট্রাকচাপায়’ মিনু মারা যান বলে জানায় পুলিশ। পরদিন বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশ দাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।
মিনুর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ ও ভাই রুবেল হোসেন। বিডি নিউজ।
পাকিস্তানে ছাগলকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা
পাকিস্তানের ওকারা শহরে একটি ছাগলকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পাঁচ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, শহরের সাতঘরা এলাকায় অভিযুক্তরা ছাগলটিকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পালিয়ে যায়।
আজহার হোসেন নামে একজন ব্যাক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, তার পোষা ছাগলটিকে একদল ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন করে। নির্যাতনের কারণে ছাগলটির মৃত্যু হয়।
সাতঘরা পুলিশ স্টেশনের একজন কর্মকর্তা মুহাম্মদ উসমান বিবিসিকে বলেন, ছাগলটির মৃতদেহ উদ্ধার করে একটি পশু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানে ময়নাতদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, “ছাগলটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে।” খবর বিবিসি বাংলা।
পুলিশ বলছে, হাসপাতালের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তারা একটি মামলা লিপিবদ্ধ করেছেন।
আজহার হোসেন পুলিশকে বলেছেন, তার ছাগলটির মূল্য ছিল ৬০ হাজার পাকিস্তানি রুপি।
ছাগলটি তার ঘরের সামনে বাঁধা ছিল। অভিযুক্তরা বাঁধন খুলে একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ছাগলটিকে ধর্ষণ করে তারা। তারা ছাগলটিকে নির্যাতনও করে।
মি. হোসেন পুলিশের কাছে তিনজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করেন। বাকী অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা।
মি. হোসেন পুলিশকে বলেন, ঘরের সামনে ছাগলটিকে বাঁধা না দেখতে পেয়ে তিনি ক’জন বন্ধুকে নিয়ে খুঁজতে বের হন। এক পর্যায়ে তারা দেখতে পান অভিযুক্তরা ছাগলটিকে নির্যাতন করছে। দূর থেকে তাদের দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
মি. হোসেন যখন ছাগলটির কাছে পৌঁছান, ততক্ষণে সেটি মরে গেছে।
হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্টভাবে যৌন ক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের ধরার পর তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
পুলিশের কর্মকর্তা মুহাম্মদ উসমান বিবিসিকে বলেছেন, একজন মানুষের সাথে এ ধরণের অপরাধ ঘটলে যতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হতো, এই ক্ষেত্রেও সেই একই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের দণ্ডবিধির ৪২৯ ও ৩৭৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
৪২৯ ধারা অনুযায়ী কোন প্রাণীকে হত্যা, আহত কিংবা বিকলাঙ্গ করা হলে দশ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুই বছরের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
পুলিশ বলছে, মানুষের সাথে ‘অস্বাভাবিক যৌন অপরাধের’ যে শাস্তি, কোন প্রাণীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের শাস্তিও সেই একই।
পাকিস্তানি দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী, প্রকৃতির নিয়মকে অগ্রাহ্য করে কেউ যদি কোন পুরুষ, মহিলা কিংবা কোন প্রাণীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
আমু’কে নিয়ে কটুক্তি; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় হাইকোর্টে জামিন হয়নি ছাত্রলীগ কর্মীর
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের কর্মী মো. তরিকুল ইসলাম অপুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে আরও সাতটি মামলা থাকায় বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
আওয়ামী লীগে বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু ও সুমাইয়া হোসেন নামের এক নারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘মানহানিকর মন্তব্যের’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তরিকুলকে।
জামিন আবেদনের শুনানিতে তরিকুলের আইনজীবী ইউসুফুর রহমান হাইকোর্ট বেঞ্চকে বলেন, ‘মামলার এফআইআরে তরিকুলের নাম উল্লেখ ছিল না। তবে, পুলিশ সন্দেহভাজন অভিযুক্ত হিসেবে তরিকুলকে আটক করে।’
‘এছাড়া এফআইআরে বলা হয়েছে আমির হোসেন আমু ও সুমাইয়া হোসেনের নামে মানহানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তবে, ঠিক কী মন্তব্য করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই।’
আইনজীবী ইউসুফুর রহমান আরও বলেন, ‘একই মামলার প্রধান আসামি ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মো. রাব্বী আগেই হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন।’
তিনি জানান, তরিকুল প্রায় চার মাস ধরে কারাগারে থাকলেও, ঝালকাঠির কোনো আইনজীবী তার পক্ষে নিম্ন আদালতে দাঁড়াননি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় তরিকুলের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও ছবি আপলোড করে মানহানিকর মন্তব্য করা গুরুতর অপরাধমূলক কাজ। দেশ-বিদেশের মানুষ সেটা দেখতে পায়। এতে ওই ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। তাই এই মামলায় অভিযুক্ত আসামি জামিন পেতে পারে না।’
তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘আরও সাতটি মামলায় অভিযুক্ত থাকায় হাইকোর্ট তরিকুলের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন।’
ঝালকাঠি বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঝালকাঠি থানায় ওই মামলা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমির হোসেন আমু ও সুমাইয়ার বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ঝালকাঠির স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মো. রাব্বীসহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত ৯ এপ্রিল তরিকুলকে গ্রেপ্তার করে। সূত্র – দ্য ডেইলি স্টার।
সাঈদ খোকনের কতো টাকা আছে জানতে সব ব্যাংকে চিঠি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসেবে কতো টাকা আছে তা জানতে সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আগামী তিনদিনের মধ্যে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানাতে সব ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর আগে গত মাসে সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করতে দুদককে আদেশ দিয়েছিল আদালত।
মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসাবের সমস্ত তথ্য তিন কর্ম দিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। চিঠিতে সাঈদ খোকনের জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম তারিখ, পিতামাতার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসের আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন সাঈদ খোকনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছিল। সে সময় সাঈদ খোকন অভিযোগ করেছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের এহেন কর্মকাণ্ড ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের প্ররোচনায় সংগঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মলেন করে তিনি বলেছিলেন, তাপস নগর পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে প্রায়ই আমার প্রতি বিভিন্ন হয়রানি ও বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছেন।
অবৈধ সম্পদের মামলায় টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন সোমবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন।
সেখানে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার ‘জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ’ অর্জন ও অন্যকে হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক জানান “সোমবার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। মোট ২৯ জনকে এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।”
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার অভিযোগে প্রদীপ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বছরের ২৩ অগাস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয় মামলার এজাহারে।
আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, “তদন্তের পর টাকার অংকে কিছু পরিবর্তন হয়েছে। ওসি প্রদীপ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে যে সম্পদ অর্জন করেছেন তা স্ত্রী ও শ্বশুরের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও ভোগ দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।”
অভিযোগপত্রে যেসব সম্পদের উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হল- নগরীর পাথরঘাটায় একটি ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে সেমিপাকা ঘর, ৪৫ ভরি সোনার গয়না, একটি করে কার ও মাইক্রোবাস এবং কক্সবাজারে ফ্ল্যাট।মামলায় বলা হয়েছে, প্রদীপ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন করার জন্য চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকায় ওই ছয়তলা বাড়ি করেন তার শ্বশুরের নামে। পরে তার শ্বশুর ওই বাড়ি তার মেয়ে চুমকিকে দান করেছেন বলে দেখানো হয়।
আয়কর রির্টানে চুমকি কারণের কমিশন ব্যবসা এবং বোয়ালখালী উপজেলায় ১০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া পাঁচটি পুকুরে মাছের ব্যবসার যে আয় দেখানো হয়েছে, তাও স্বামী প্রদীপ দাশের ‘জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল বলেন, “মাছ চাষের ব্যবসার যে হিসেব দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।”
এর আগে গত ২৯ জুন দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের জব্দ করা সম্পত্তি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ডিসির জিম্মায় থাকবে বলে আদেশ দেয় আদালত।
কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
ওই ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গতবছরের ৫ অগাস্ট কক্সবাজারের হাকিম আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলিকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলা হওয়ার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ অগাস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর প্রদীপকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হত্যা মামলায় ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব। গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রদীপসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।সূত্র -বিডি নিউজ।
বিমানবন্দরে ৯ হাজার ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী যাত্রী আটক
প্রায় নয় হাজার ইয়াবাসহ সৌদি আরবগামী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
বুধবার (২৮ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরবগামী যাত্রী সাদ্দামকে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিয়াউল হক জানান, আটক সাদ্দাম সালাম এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে প্রথমে ওমানের মাস্কাট এবং কানেন্টিং ফ্লাইটে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার ফ্লাইট ছিল। তবে তিনি ভোর ৬টার দিকে বিমানবন্দরে আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম ইয়াবা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৮ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘সাদ্দামের ব্যাগ খুলে উপরে অনেক কাপড় দেখা যায়, তার নিচে সেলাই করা ব্যাগের একটি কাভার ছিল। ওই কাভারের ভেতরে কার্বন পেপার ও স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় এসব ইয়াবা পাওয়া যায়। সাদ্দাম জানিয়েছেন, তারা এই ইয়াবাগুলো দু থেকে তিনশ টাকা পিস হিসেবে কিনে থাকেন । এগুলো যদি তিনি সৌদি আরবে নিয়ে যেতে পারতেন, তবে প্রতি পিস এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। সাদ্দামের বাড়ি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায়। সেখানে ইয়াবা পাচারের একটি চক্র রয়েছে। ওই চক্রটি তাকে সৌদি আরবে যাওয়ার টিকিট, ভিসা করে দিয়েছে। জানা গেছে, এই ইয়াবাগুলো বিক্রির পর সাদ্দামও একটি লভ্যাংশ পেতেন। ইয়াবাগুলো নিয়ে তিনি সৌদি আরবের দাম্মামের এক প্রবাসীর কাছে হস্তান্তর করতেন।’
ইয়াবা পাচার তার এটাই প্রথম নয় উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক জানান, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। ২০২০ সালে সাদ্দাম ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এরই মধ্যে ইয়াবার বড় এই চালান তিনি সৌদি আরবে পাচার করতে যাচ্ছিলেন। তিনি এই পথে নতুন নয়।’
‘সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা ইয়াবাসেবী রয়েছেন তারা এবং কিছু সৌদি নাগরিকও ইয়াবা সেবন করছেন। তারা এসব ইয়াবার গ্রাহক বলে জানিয়েছে পুলিশ।’
করোনায় ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া আক্তারের মৃত্যু
ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানিয়া আক্তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ১৪ জুলাই তার করোনা পরীক্ষার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এর পর অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সানিয়া আক্তারের বয়স হয়েছিল মাত্র ২৯ বছর। হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন। ১৯৯২ সালের ১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার উপজেলার হোগলাকান্দা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। দশম বিজেএস (বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১ মার্চ চাকরিতে যোগদান করেন। সানিয়া আক্তারের স্বামী এএইচএম ইমরানুর রহমান ঝালকাঠিতেই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছেন।
সানিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী পৃথক শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সানিয়া আক্তারের মৃত্যুতে পৃথক শোক জানিয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো: গোলাম সারওয়ার ।










