ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় অবস্থিত কুল্লাপাথর শহিদ স্মৃতিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
তাঁর মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় আইনমন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে কুল্লাপাথর এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে জীবন হারানো শহিদদের মরদেহ সংগ্রহ করে তিনি পৈতৃক ভিটায় দাফন করেন এবং সমাধিস্থল তৈরি করেন। এরপর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজীবন শহিদদের সমাধিস্থল (কুল্লাপাথর শহিদ স্মৃতিসৌধ) তত্ত্বাবধান ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে কসবা তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মহান ব্যক্তিত্বের শূন্যতা তৈরি হলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী তাঁকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে। মন্ত্রী শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
মরহুম আব্দুল করিম মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি পুত্র, কন্যা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক
মাল্টার কারাগারে ১৮ মাস ধরে বন্দি ১৬৫ বাংলাদেশি
অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মাল্টায় যাওয়া ১শ ৬৫ বাংলাদেশি দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে বন্দি দেশটির কারাগারে। তাদের মুক্ত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন-আয়েবার নেতারা।
মানবিক কারণে তাদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানানোর পাশাপাশি এ নিয়ে তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালায় অভিবাসন প্রত্যাশীরা। কিন্তু অবৈধপথে প্রবেশ করায় তাদের বিভিন্ন দেশ গ্রহণ তো করেই না বরং শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গা হয় কারাগারে। দ্বীপ রাষ্ট্র মাল্টায় আটক ১৬৫ জন বাংলাদেশির ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে কারাগারে বন্দি তারা।

এ অবস্থায় তাদের মুক্ত করতে এগিয়ে এসেছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন-আয়েবা। সংগঠনের মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাল্টা যান। দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।
মাল্টা সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব কেভিন মাহোনে, নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তা রায়ান এসপানিয়ল, ডিটেনশন সেন্টারের মহাপরিচালক রবার্ট ব্রিংকাউ। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ।
আয়েবা মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন,’সবার সহযোগীতা প্রয়োজন। এই প্রবাসীদের ব্যাপারে সবার দায়িত্ব আছে। তাদের জন্য আমরা কাজ করবো। আপনারাওসঙ্গে থাকবেন।’
মানবিক কারণে আটক বাংলাদেশীদের মুক্তির দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। আয়েবা নেতা আ ক ম সেলিম বলেন,’আমরা অথোরিটিকে বলেছি। আশাকরছি আগামীতে একটি সুইটেবল জায়গাতে কাজ করতে পারবো।’
আয়েবা নেতা আহমেদ ফিরোজ বলেন,’বাংলাদেশি যে ১৬৫ জন চরম মানবেতন জীবন যাপন করছে তাদের ব্যাপারে আইনজীবি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি তাদের বিষয়ে কাজ করছেন।’
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইনের মধ্য দিয়েই তাদের মুক্তি সম্ভব বলে মনে করেন আয়েবা নিযুক্ত আইনজীবী এতিয়েন কালেয়া।
আটক বাংলাদেশিদের মুক্ত করতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার এবং প্রয়োজনে আবারও মাল্টায় যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংগঠনের কর্মকর্তারা।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে অপপ্রচার, ফ্রান্সে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করায় রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ দিয়েছেন ফরাসি আইনজীবী মাদৌ কোনে।
গত ২ জুলাই আরএসএফ প্রকাশিত ‘ওল্ড টাইর্যান্টস, টু উইমেন এন্ড আ ইউরোপিয়ান: আরএসএফ আনভেইলস ইটস ২০২১ এডিশন অভ প্রিডেটরস অভ প্রেস ফ্রিডম’ নিবন্ধে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ নিয়ে অসত্য বিবরণ দেয়ায় কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না ১৫ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে এ নোটিশে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার ফরাসি নাগরিক আবুল কাশেম, মজিবুর রহমান, মনজুরুল হাসান চৌধুরী এবং কয়েস দিলওয়ার হুসাইনের পক্ষে প্যারিসের আইনজীবী গত সোমবার (২৬ জুলাই) এই নোটিশ জারি করেন।
ফ্রান্সে অবস্থিত সংস্থা আরএসএফের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশের ত্রুটিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত নানাদিক উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, ‘খোদ ফ্রান্সের আইন অনুযায়ীই এটি অপরাধ। কারণ সেদেশে ১৮৮১ সালের ২৯ জুলাই প্রণীত গণমাধ্যম স্বাধীনতা বিষয়ক আইন অনুসারে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অসৌজন্যমূলক কোনো মন্তব্য জনসম্মুখে প্রকাশ নিষিদ্ধ।’
একই আইনের ২৯ ধারায় এ ধরনের কোনো বিবরণ বিবৃতি, হাতে লেখা, ছাপা, পোস্টার-প্ল্যাকার্ড বা অন্য কোনো আকারে প্রকাশ করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে।
প্যারিসে ইস্যু করা এই লিগ্যাল নোটিশে দেশের সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) থেকে ঐ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে দেয়া প্রতিবাদলিপিরও উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (ফরাসিতে রিপোর্টার্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ারস- আরএসএফ) এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নির্দেশে গত ৯ জুলাই তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার আরএসএফ বরাবর প্রতিবাদলিপি পাঠান। সেখানে বাংলাদেশ নিয়ে অসত্য প্রতিবেদনটি অবলেপন করা অন্যথায় আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল।
ইন্টারনেট গতিতে উগান্ডা, সোমালিয়ার চেয়েও পেছনে বাংলাদেশ
মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গড় গতিতে বাংলাদেশ উগান্ডা ,সোমালিয়ার চেয়েও পেছনে। পৃথিবীতে বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু দুটি দেশ। তার একটি হলো আফগানিস্তান এবং আরেকটি দেশ হলো ভেনেজুয়েলা। মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম।
ইন্টারনেট অ্যাকসেস ও পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস কম্পানি ওকলার সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ওকলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স, টেস্টিং অ্যাপ্লিকেশন্স এবং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে।
এই বছরের মে মাসের তুলনায় জুনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে দেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়েছে। আর একই সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ আরও একধাপ পিছিয়ে প্রায় তলানিতে নেমেছে। বাংলাদেশের নিচে মাত্র দুটি দেশ রয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই বাজে। দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশই মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। তবে ব্রডব্যান্ডে তুলনামূলক একটু ভালো অবস্থা রয়েছে। যদিও আগের মাসের তুলনায় জুনে ব্রডব্যান্ড গতির দিক দিয়ে বাংলাদেশ দুই ধাপ পিছিয়েছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়।
স্পিডটেস্ট ডটনেটে ১৩৭টি দেশের মোবাইল ইন্টারনেট গতির হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫তম। বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোড স্পিড ১২ দশমিক ৪৮ মেগাবিট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস)। আর আপলোড স্পিড ৭ দশমিক ৯৮ এমবিপিএস।
মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে সুদান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও উগান্ডার মতো দেশও এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের চেয়ে। আর বাংলাদেশের পেছনে কেবল আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। সর্বশেষ অবস্থানে থাকা আফগানিস্তানের ডাউনলোড স্পিড ৭ দশমিক ৩৭ এমবিপিএস।
চলতি জুন মাসে বৈশ্বিক গড় ডাউনলোড গতি হচ্ছে ৫৫ দশমিক ৩৪ এমবিপিএস। আর আপলোড স্পিড হচ্ছে ১২ দশমিক ৬৯ এমবিপিএস।
২০১৮ সালের জুনে মোবাইল ইন্টারনেটের গতির হিসাবে ১২৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১২তম। সে সময় বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি ছিল ৮ দশমিক ৯৭ এমবিপিএস। এ ছাড়া আপলোড স্পিড ৫ দশমিক ৪৬ এমবিপিএস। তিন বছরের ব্যবধানে দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়লেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় তা অনেক কম।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান খারাপ হওয়ার উল্লেখযোগ্য একটি বড় কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত তরঙ্গ না থাকা। দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যার তুলনায় তরঙ্গ খুবই নগণ্য। এতে করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন ইন্টারনেট গ্রাহকরা। সেবার মান বাড়াতেই গত ৮ মার্চ অব্যবহৃত তরঙ্গের নিলাম হয়। নিলামে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির তরঙ্গ আগের তুলনায় বাড়লেও ইন্টারনেটের গতিতে এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। যদিও এসব অপারেটরের অধিকাংশ টাওয়ার ফোরজির আওতায় আনা হয়েছে।
অনলাইনে ইন্টারনেটের গতি জরিপকারী প্রতিষ্ঠান স্পিডটেস্টের চলতি বছরের জুনে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লিবিয়া, সিরিয়া, উগান্ডা ও সোমালিয়ার মোবাইল ইন্টারনেট ডাউনলোড স্পিড হচ্ছে ১৬ দশমিক ৬ থেকে ২২ দশমিক ২ এমবিপিএস পর্যন্ত। মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে জুন মাসে ছয় ধাপ এগিয়ে পাশের দেশ ভারতের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০৯তম আর তাদের মোবাইল ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ১৭ দশমিক ৮৪ এমবিপিএস। মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ১২৯, পাকিস্তান ১১৪ ও নেপাল ১০৫তম অবস্থানে রয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যাদের ডাউনলোড ও আপলোড গতি যথাক্রমে ১৯৩ দশমিক ৫১ এমবিপিএস ও ২৮ দশমিক শূন্য ৫ এমবিপিএস। এর পরের অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, নরওয়ে, সাইপ্রাস ও চীন।
এদিকে মোবাইল ইন্টারনেটের তুলনায় ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো। চলতি বছরের মে মাসের তুলনায় জুনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি সামান্য বাড়লেও বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। স্পিডটেস্টের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস শেষে ১৮১টি দেশের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৮তম, যা মে মাসে ছিল ৯৬তম। জুনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ডাউনলোড স্পিড দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ২৭ এমবিপিএস, যা আগের মাসে ছিল ৩৮ দশমিক ১৩ এমবিপিএস। জুনে আপলোড গতিও কিছুটা বেড়ে ৩৭ দশমিক ২২ এমবিপিএসে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারত ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বৈশ্বিক ব্যাংকিয়ে ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৭০তম। শীর্ষে রয়েছে মোনাকো, যে দেশটির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ডাউনলোড গতি হচ্ছে ২৬০ দশমিক ৭৪ এমবিপিএস। এর পরের অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: অ্যামনেস্টির বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বললেন ড. হাছান মাহমুদ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মন্ত্রী ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ বিষয়ে সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ এবং এদেশের সরকারের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সময়ে সময়ে সরব, আবার অনেক সময় প্রচণ্ড নীরব থাকে।’সংস্থাটির গ্রহণযোগ্যতা হারানোর বিষয়ে ড. হাছান বলেন, ‘এদেশে শত শত মানুষকে পেট্রোলবোমায় পুড়িয়ে হত্যা-দগ্ধ করার সময় যখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কোনো বিবৃতি দেয় না, ফিলিস্তিনে যখন পাখি শিকারের মতো মানুষ হত্যার সময় যখন এক সপ্তাহ চুপ থাকে, আবার যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিবৃতি দেয়- তখন এই সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আসলে হারিয়ে গেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয় ব্যাখ্যা করে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই এ আইন। একজন গৃহিণী, সাংবাদিক, রিকশাচালক বা কর্মকর্তা, সবার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্যই এই আইন। আগে যখন ডিজিটাল বিষয়টি ছিল না, তখন আইনেরও প্রয়োজন ছিল না। এখন যখন বিষয়টি এসে গেছে, মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইনেরও প্রয়োজন আছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কারো চরিত্রহনন করা হলে, অসত্য অপপ্রচার হলে, তাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এ আইন এবং সাধারণ মানুষই এ আইনের আশ্রয় নেয়।’ বিশ্বব্যাপী এধরনের আইনের উদাহরণ তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুরসহ অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ আইন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। সুতরাং এনিয়ে বার বার কথা বলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদের করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘এটা শুভবুদ্ধির উদয়। এবং এতে তিনি স্বীকার করে নিলেন যে, ভ্যাকসিন নিয়ে তার আগের কথাগুলো মিথ্যা ছিল।’ সূত্র- সারাবাংলা।
সব মামলায় জামিনের মেয়াদ এক মাস বাড়ল
করোনা (কোভিড-১৯) মহামারির ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মাঝে চলমান কঠোর বিধিনিষেধে বিভিন্ন মামলায় আসামিদের জামিনের মেয়াদ ও আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের কার্যকারিতা আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে। সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যেসব মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হয়েছে- সেসব মামলার জামিন এবং সব ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কার্যকারিতা আগামী এক মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।’এর আগে চলতি বছর ৫ ও ১৮ এপ্রিল, ২ ও ২৭ মে এবং ২৭ জুন পাঁচ দফায় পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে সব আসামির জামিন যথাক্রমে ২, ৪, ১ ও ১ মাস করে বাড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
মুনিয়ার ভিসেরা রিপোর্ট নিয়ে রহস্য, আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বাদি
কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশের ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন মামলার বাদি। নিহত মুনিয়ার বোন মামলার বাদি নুসরাত জাহান তানিয়া জানিয়েছেন, তিনি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করবেন। এ জন্য আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামি ২৯ জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়ার আদালতে পুলিশ রিপোর্ট গ্রহণ করা হবে কী না এর শুনানি রয়েছে। সে দিনই তিনি নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছেন।

(মামলার বাদি নুসরাত জাহান তানিয়া)
নুসরাত জাহান তানিয়া বলেন, মূল আসামিকেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, এটা তো অন্যায়। আমি আদালতে নারাজি দেবো। আনভীরকে যদি অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে দেশে অন্যায়ের বিচার হবে কী করে?
তানিয়া বলেন, পুলিশ শুরুতেই বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। কিন্তু আনভীর জড়িত থাকার পরও তাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো, সেটা তো আমি জানি না। তানিয়া প্রশ্ন করেন মুনিয়ার ময়না তদন্ত কবে হয়েছে, কী তার রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্টে কি এসেছে কিছুই তারা জানতে পারেন নি। পুলিশ তাদের কিছুই জানায়নি। সবকিছুই যেনো গোপন করে রাখার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য কোনো মামলায় পুলিশ রিপোর্ট বাদির পছন্দ না হলে তিনি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ি নারাজি আবেদন দাখিল করতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিষ্ট্রেট মামলাটি পুন:তদন্ত এবং তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন। আর নারাজি খারিজ হলে এর বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে পারেন বাদি। হাইকোর্টে রিভিশন করার সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে আইনগত ভাবে আসামির নারাজি আবেদনের সুযোগ নেই।

(আনভীর ও মুনিয়া-ছবি সংগৃহীত)।
উল্লেখ্য, কলেজছাত্রী মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় বসুন্ধরা শিল্প গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। তাই মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১৯ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
তবে আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরণের একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় যেখানে সুনির্দিষ্ট আসামি রয়েছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করেই মামলা ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ায় তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হবেই।
কেউ আসামী হলেই তাকে অপরাধী বলা যাবে না। কিন্তু এটা প্রমাণ করার জন্য বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হতে হবে। আলোচিত মামলাটি শুরু থেকেই কেমন যেনো “ঢাক ঢাক গুড় গুড়” আচরণ করছে পুলিশ।
গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার রাতেই মুনিয়ার বোন নুসরাত বাদি হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ করা হয়, এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের পর ২০১৯ সালে আনভীর মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনভীরের পরিবার মুনিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। তখন আমার বোনকে (মুনিয়াকে) আনভীরের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন তার মা।
এ ঘটনার পর আনভীর মুনিয়াকে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। গত মাসের (মার্চ) ১ তারিখে গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার বি/৩ ফ্যাটটি ভাড়া নেন আনভীর। ১ মার্চ থেকে মুনিয়া সেই ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং আনভীর মাঝে মাঝে ওই ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করতেন।

গত ২৩ এপ্রিল ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় ইফতার পার্টিতে গিয়ে মুনিয়া ছবি তোলেন। ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করলে সেটি আনভীরের পরিবারের একজন দেখে ফেলেন এবং আনভীরকে জানান। বিষয়টি নিয়ে আনভীর মুনিয়াকে বকাঝকা করেন এবং হুমকি দেন। ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মুনিয়া তার মোবাইল নম্বর থেকে নুসরাতকে ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করেন।
তিনি বলেন, ‘আনভীর আমাকে বিয়ে করবে না, সে শুধু আমাকে ভোগ করেছে। এছাড়া আমাকে সে ‘মনে রাখিস তোকে আমি ছাড়ব না’ বলে হুমকি দিয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, মুনিয়া নুসরাতের কাছে চিৎকার করে বলেন, ‘যেকোনো সময় আমার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তোমরা তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো।’
মোসারাত জাহান মুনিয়া মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, মুনিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিক, মালিকের মেয়ের জামাইসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলা সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তারা। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে পুলিশ।
মুনিয়া যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন সেই ভবনের বেশকিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করে পুলিশ। সেসব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই ফ্ল্যাটে সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতের প্রমাণ পায় তারা। তবে ঘটনার দিন বা এর আগের দিন মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে এই দুই দিন সন্দেহজনক কারও যাতায়াত ওই বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটের আশপাশে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মুনিয়ার সঙ্গে আনভীরের যে ফোনকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাতে দেখা যায়,আনভীর মুনিয়াকে টাকা চুরির দায়ে অভিযুক্ত করে টাকা ফেরত দেয়ার হুমকি দেন। এই ফোন রেকর্ড পুলিশ সংগ্রহ করেছে কী না এবং এর কোনো রাসায়নিক বা ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে কী না তা জানায়নি পুলিশ। এ ছাড়া মুনিয়ার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কি আছে তাও জানা যায় নি। মুনিয়ার বাসা থেকে পাওয়া তার ডায়রিসহ বিভিন্ন আলামত থেকে কি পাওয়ার গেছে এসব কিছুই জানায়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য মুনিয়াকে বিষ প্রয়োগ কিংবা ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা এমন বেশ কয়েকটি বিষয় পরীক্ষার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল। এ জন্য ভিসেরা, ডিএনএ ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করতে মহাখালি সিআইডির ল্যাবরটরিতে আলামত পাঠানো হয়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সেলিম রেজা এই রিপোর্ট পাঠানোর কথা জানালেও রিপোর্টের বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি। রিপোর্ট এসেছে কী না তাও বলতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসেরা রিপোর্ট,ডিএনএ প্রোফাইলিং, মাইক্রো বায়োলজিক্যালসহ সব মিলিয়ে দুমাসের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব। তবে মুনিয়ার মৃতদেহের রিপোর্টে কি আছে তার সবকিছুই যেনো রহস্যঘেরা।
মামলার বাদি এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলেছেন, পুলিশ তাদের অভিযোগ আমলেই নেয়নি। মুনিয়ার বোন ও মামলার বাদি জানান তিনি বিভিন্নভাবে হুমকির সম্মুখিন হচ্ছেন। নিররাপত্তা চেয়ে গত মে মাসেই তিনি কুমিল্লা সদর থানায় জিডি করেন। তিনি যে ব্যাংকে চাকরি করতেন কানো কারণ ছাড়াই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানান ।
দেশে আরও নতুন তিন উপজেলা
দেশে আরও তিনটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। নতুন তিনটিসহ মোট উপজেলা হল ৪৯৫টি।
সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন তিন উপজেলাগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সোমবারের বৈঠকে কক্সবাজারের সদরের ঈদগাঁও, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার উপজেলার মধ্যনগর থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
“এছাড়া এলাকবাসীর দাবিতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাকে শান্তিগঞ্জ নামকরণ করা হয়েছে।”
নতুন তিনটি নিয়ে দেশে উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫টিতে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এলাকার লোকজনের অসুবিধা হচ্ছিল মূল উপজেলা থেকে দুর্গম এলাকায় এসব থানা হওয়াতে। এসব থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।”
“এই তিনটি আগে থেকে থানা ছিল। উপজেলা হতে যে ক্রাইটেরিয়া রয়েছে এগুলো তা পুরোপুরি পূরণ করে না, কিন্তু তিনটিই রিমোট এরিয়া, এজন্য নিকার এগ্রি করেছে। একই সঙ্গে নিকার নির্দেশনা দিয়েছে এরপর থেকে ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল না করলে যাতে প্রস্তাব না আনা হয়।” বিডি নিউজ।
পাচারের সময় শাহজালালে আড়াইকোটি টাকার বিদেশী মুদ্রাসহ ১ জন গ্রেফতার
বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা শরীরে পেঁচিয়ে পাচারের সময় ইস্তাম্বুলগামী তার্কিশ এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশি এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার আগে জাহাঙ্গীর গাজী (৩৬) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জব্দ বিদেশি মুদ্রা প্রায় ‘আড়াই কোটি’ টাকার সমপরিমাণ বলে এপিবিএন জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাহাঙ্গীরের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রথমে তার কাছে কিছু নেই বলে জানান।
“পরে শরীর তল্লাশী করে বাংলাদেশি আড়াই কোটি টাকার আটটি দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়। যার মধ্যে ১১ লাখ ৬৫ হাজার সৌদি রিয়াল রয়েছে। শরীরে বিশেষ পদ্ধতিতে এসব মুদ্রা পেঁচানো ছিল।”
জাহাঙ্গীর এসব মুদ্রা বহনের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি জানিয়ে এপিবিএন কর্মকর্তা জিয়াউল বলেন, “তিনি ‘কমার্শিয়াল পার্সন’ হিসেবে যাতায়াতের সুযোগ নিয়ে এসব মুদ্রা পাচার করছিলেন।”
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “গত দুই বছর ধরে তিনি সেই ব্যবসা করছেন না। তার পাসপোর্টে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যে তিনি ১২৮ থেকে ১৩০ বার দেশের বাইরে গেছেন।”
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জিয়াউল হক।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের আহবান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের
অনলাইনে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বন্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান ও মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন অথবা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার ‘ভিন্নমতের স্থান নেই’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির এই আহ্বান এসেছে।
বাংলাদেশের ১০ জন নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা পর্যালোচনা করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল ‘ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সমালোচনা’ করার কারণে তাদের ‘বিনা বিচারে আটক ও নির্যাতনের মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার’ হতে হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অন্তত ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের বেশিরভাগকেই অনলাইনে ‘ভুয়া ও আক্রমাণাত্মক’ বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বলে এ মানবাধিকার সংগঠনের ভাষ্য।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, গায়ক, অধিকারকর্মী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, এমনকি একজন কৃষকও রয়েছেন, যিনি লিখতে বা পড়তে জানেন না।
এর মধ্যে একটি মামলায় গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ ১০ মাস কারাগারে থেকে সেখানেই মারা গেছেন। কারাগারে তিনি ‘নির্যাতনের শিকার’ হয়েছিলেন বলে কারাবন্দি একজনের বরাতে অভিযোগ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এ সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ক্যাম্পেইনার সাদ হামাদি বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় কর্তৃপক্ষ যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতেই স্পষ্ট, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করা বা ভিন্নমত প্রকাশ করা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।”
“মতপ্রকাশে এমন অন্যায্য বিধিনিষেধ বাংলাদেশের সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও সুশীল সমাজের কাজের পরিসর সঙ্কুচিত করেছে।”
‘শুধুমাত্র মতপ্রকাশের অধিকারের চর্চা করায়’ যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাদ হামাদি।
২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অনলাইনে কোনো মন্তব্য শেয়ার করার কারণেও বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা এবং গ্রেপ্তারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এ বিষয়গুলো ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসে (আইসিসিপিআর) বর্ণিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ‘লঙ্ঘন’, যে সনদে বাংলাদেশও স্বাক্ষর করেছে।
সাদ হামাদি বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল আইনকে আইসিসিপিআর এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পদক্ষেপ নিতে ২০১৮ সালের মে মাসে ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ চলাকালে জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য দেশের যেসব সুপারিশ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছিল, সেগুলোর কথা আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করার আগেই জাতিসংঘের বিশেষ দূতরা এর খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র সে সময় বাংলাদেশ সরকারকে ওই আইন সংশোধনেরও আহ্বান জানিয়েছিল।
“এসব সুপারিশ গ্রহণ করার পরও সরকার এখন পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।”
যাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মুশতাক আহমেদ ছাড়াও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রুহুল আমিন, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের কৃষক আবু জামান, বাউল শিল্পী রিতা দেওয়ান, আলোকচিত্র সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল, ব্যবসায়ী এমদাদুল হক মিলন, সুনামগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিক মাহতাব উদ্দিন তালুকদার এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের নেতা দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটার কথা এসেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ডিজিটাল নিরপাত্তা আইনে মানহানির অপরাধকে যেভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাতে ‘মারাত্মক ত্রুটি’ রয়েছে। এর মাধ্যমে আইনটিকে ‘ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারে’ পরিণত করা হয়েছে।
মানহানির অভিযোগকে ফৌজদারি আইনের বদলে দেওয়ানি আইনে বিচারের জন্যও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বিডি নিউজ।











