ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 103

চট্টগ্রামে গৃহকমী নির্যাতন, নারী চিকিৎসক গ্রেফতার

0

চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁওয়ে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে নাহিদা আক্তার রেনু নামে এক নারী চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কিশোরী গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
নির্যাতনের শিকার তসলিমা আক্তারেরর (১৫) বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। তার বাবার নাম আব্দুল গণি।
ভিকটিম কিশোরীর পুরো শরীরেই নিযাতনের চিহ্ন রয়েছে। চোখ মুখ থেকে শুরু করে গলা, হাত-পিঠ শরীরের কোনও অংশেই বাদ যায়নি নির্যাতন থেকে। কোনও কারণ ছাড়াই লাঠি দিয়ে পেটানো হতো তাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত চিকিৎসক নাহিদা আক্তার রেনু (৩৪) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
নির্যাতিতার এক আত্মীয় বলেন, কাজল দেওয়ায় চোখে মেরেছে আর গলায়ও আঘাত করেছে। গলায় দাগও রয়েছে।
নাহিদা আকতার রেনু নামের ওই নারী চিকিৎসকের শিশু সন্তান গৃহপরিচারিকা কিশোরীর মাথায় হাত লাগিয়ে সেই হাত পুনরায় মুখে দেয় বলে জোরপূর্বক তার চুলও কেটে দেওয়া হয়। সবশেষ কাজল দেওয়ার অপরাধে আঘাত করা হয় ওই কিশোরীর চোখে। পরে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধারের পাশাপাশি নারী চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নির্যাতনে অসুস্থ কিশোরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় রাতে গৃহকর্মী তাসলিমার বাবা আব্দুল গণি একটি মামলা দায়ের করেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা গৃহঋণ পাবেন এক কোটি টাকা পর্যন্ত,অর্থমন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারি

0

প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা এখন থেকে ৪ শতাংশ সুদ দিয়ে গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বলতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের বোঝানো হয়েছে। ঋণ পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা’। ১ জুলাই ২০২১ সাল থেকে এটি কার্যকর। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা এখন থেকে ৪ শতাংশ সুদ দিয়ে গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন
পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার। এই পরিপত্রের মাধ্যমে ৪ শতাংশ সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগ মোট চারটি আলাদা পরিপত্র জারি করল। প্রথমটি হচ্ছে সরকারি কর্মচারী, এরপর অধস্তন আদালতের বিচারক ও তৃতীয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছাড়া সবারই ঋণ পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। এতে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণ বাবদ ঋণ প্রদানের সুবিধা রাখা হয়। সরকারি কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালার আওতায় অধস্তন আদালতের বিচারকেরাও গৃহ নির্মাণ ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি আপিল বিভাগে বর্তমানে ৫ জন বিচারক রয়েছেন, আর হাইকোর্ট বিভাগে আছেন ৯২ জন বিচারক।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিচারকের মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য এই সিদ্ধান্ত খুবই সময়োপযোগী হয়েছে।’
প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি আপিল বিভাগে বর্তমানে ৫ জন বিচারক রয়েছেন, আর হাইকোর্ট বিভাগে আছেন ৯২ জন বিচারক
নীতিমালা অনুযায়ী গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ সরল সুদ। সুদের ওপর সুদ আদায় করা যাবে না। ঋণগ্রহীতা দেবেন ৪ শতাংশ সুদ আর বাকি ৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে বহন করবে সরকার।
ঋণ দেবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন তফসিলি ব্যাংকগুলো, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও পাঁচটি বেসরকারি বাণিজ্যিক—ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। সরকার চাইলে অন্য যেকোনো বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার কাজে নিয়োগ দিতে পারবে।
গৃহ নির্মাণ ঋণ বলতে বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য একক ঋণ, জমিসহ বাড়ি কেনার জন্য একক ঋণ, জমি কেনাসহ বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণ, বাড়ি (আবাসিক) নির্মাণের জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণ ও ফ্ল্যাট কেনার ঋণকে বোঝাবে।
বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে হবে। আবেদনের সর্বশেষ সময়সীমা হবে তাঁদের অবসরে যাওয়ার এক বছর আগপর্যন্ত। কেউ ঋণ নিয়ে অবসরে চলে গেলে তাঁকে ৯ শতাংশ হারেই সুদ পরিশোধ করতে হবে। একজন আবেদনকারী কেবল একবারই এ নীতিমালার আওতায় গৃহ নির্মাণ ঋণ পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, একজন আবেদনকারী দেশের যেকোনো এলাকায় গৃহ নির্মাণের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। ঋণ পাওয়ার জন্য প্রস্তাবিত ভূমি ও বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে হবে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কেবল সম্পূর্ণ তৈরি ফ্ল্যাটের জন্য ঋণ নেওয়া যাবে। তবে ফ্ল্যাট যদি কোনো সরকারি সংস্থা তৈরি করে, সে ক্ষেত্রে ‘সম্পূর্ণ তৈরি ফ্ল্যাট’ এর শর্ত শিথিলযোগ্য।
বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২০ বছর। ঋণের কিস্তি গ্রহীতার বেতন হিসাব থেকে ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত মাসিক ভিত্তিতে কেটে নেওয়া হবে। ঋণগ্রহীতা অবসরে যাওয়ার পর সরকার সুদ ভর্তুকি দেবে না।
ঋণগ্রহীতা মারা গেলে ঋণের অপরিশোধিত কিস্তি তাঁর প্রাপ্য আনুতোষিক হতে জমা হবে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যদি আনুতোষিকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ঋণ আদায় নিশ্চিত না হয়, তাহলে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে তাঁর উত্তরাধিকারীর কাছ থেকে ঋণের অপরিশোধিত অংশ আদায়যোগ্য হবে। সূত্র -প্রথম আলো।

মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচণার মামলা থেকে বসুন্ধরার এমডি আনভীরকে অব্যাহতি দিলো পুলিশ

0

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের কোনো ‘দোষ পায়নি।
মুনিয়ার বোনের করা এ মামলার অভিযোগ থেকে আনভীরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে গুলশান থানা পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেছেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৯ জুলাই আদালতে ওই ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করেন।
“মুনিয়ার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
গত ১৯ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সেই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন ওই তরুণীর বোন নুসরাত।
সেখানে বলা হয়, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে সায়েম সোবহান আনভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মুনিয়ার সঙ্গে। ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মুনিয়াকে।
মামলা হওয়ার পর পুলিশের আবেদনে আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। তবে তার স্ত্রী- সন্তানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য লকডাউনের মধ্যে বিমান ভাড়া করে দুবাই চলে যান।
অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। এপ্রিলের শেষ দিকে তার আগাম জামিনের জন্য হাই কোর্টে একটি আবেদন করা হলেও মহামারীর মধ্যে লকডাউনে সে আবেদনের শুনানি তখন আর হয়নি।
মুনিয়া ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে; পরিবার সেখানেই থাকেন। মৃত্যুর মাস দুয়েক আগে এক লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন তিনি।
মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ, যার মধ্যে ছয়টি ডায়েরি ছিল। সিসিটিভির ভিডিও পরীক্ষা করে মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথাও সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।

বড় বোন তানিয়া সে সময় বলেছিলেন, “মুনিয়া ডায়রি লিখত। সেখান থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”
তিনি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সে সময় বলেছিলেন, তদন্তে প্রমাণ পেলে তখনই তারা ব্যবস্থা নেবেন।
তানিয়া তার মামলায় আনভীরকে আসামি করলেও মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ দাবি করেন, তার বোন মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী তাতে ‘জড়িত’।
মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর তিনি ঢাকার আদালতে হত্যা মামলার আবেদন নিয়ে গেলেও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্ত চলায় আপাতত নতুন মামলার কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আদেশ দেন বিচারক।
আশিকুরের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় শারুন সে সময় বলেছিলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ ইস্যুটাকে ভিন্ন খাতে নিতে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনায় সম্পৃক্ত নই। আইন এবং বিচারের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা আছে।” বিডি নিউজ।

পেগাসাস কাণ্ড তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করেছে ইসরায়েল, তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে কিছু বলা যাবে না

0

পেগাসাস কাণ্ডে তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে ইসরায়েল। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছে ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বিশেষজ্ঞদের বিষয়টি সম্পর্কে জবাবদিহি করাই তাদের কাজ। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইসরায়েলি সংস্থা এনএসও গ্রুপের মুখপাত্র জানিয়েছে, ‘আশা করছি, আমাদের সংস্থার কাজকর্ম আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।’ তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে বিষয়টি নিয়ে কিছুই বলতে পারবে না এই নবগঠিত কমিটি। অথচ, এনএসও গ্রুপের পেগাসাস স্পাইওয়্যারের রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তারাই দেখভাল করে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলা হয়নি। যদিও বিশ্বজুড়ে পেগাসাস বিতকর্র পর মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গাৎজ বলেছিলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ এবং অপরাধ দমনের জন্যই সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করবে বলে আমরা আশা করি।’ কিন্তু এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই বিশ্বের তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের তৈরি ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, এমনকি কোনো দেশের ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের ওপরও ফোনে আড়িপাতা হয়েছে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। যা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিশ্বজুড়ে। ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের একটি তালিকা ফাঁস হয়েছে যাদের স্মার্টফোনে আড়িপাতা হয়েছে ।
দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’সহ ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি সম্মিলিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল।
ইজরায়েলের ‘এনএসও গ্রুপ’ নামে একটি সংস্থা ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার তৈরী করেছে। এই সফটওয়ার মোবাইলে আড়িপাতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

যৌন মিলন দেখানো না হলে তা পর্ন নয়, আদালতে সাফাই রাজ কুন্দ্রার আইনজীবীর, নজরে অভিনেত্রী শিল্পা শেঠিও

0

পর্ন ছবি তৈরি করে ‘হটশটস’ নামের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ভিডিও ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতার ভারতীয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রা। আসল সত্য উদঘাটনে তাকে দফায় দফায় জেরাও করা হচ্ছে। তবে অভিনেত্রীর স্বামীকে গ্রেফতারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতার সরব তাঁর আইনজীবী আবেদ পোণ্ডা। সে প্রসঙ্গে যুক্তিও খাড়া করেছেন তিনি।
এদিকে পুলিশের নজর এখন অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির দিকেও। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান রাজের এই পর্ন ছবি তৈরির ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিল্পা শেঠির। তবে শিল্পার বিরুদ্ধে এই নিয়ে কোনও জোরাল প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তে নেমে মুম্বাই পুলিশের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছে যার ফলে নাম জড়িয়ে যেতে পারে শিল্পারও। এমন খবর দিচ্ছে ভারতীয় পত্রপত্রিকা।
আইনজীবী আদালতে জানান, দর্শকরা যদি সরাসরি যৌন মিলন বা সঙ্গমরত অবস্থায় পর্দায় কোনও যুগলকে দেখতে পান তবেই সেটাকে পর্ন বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। না হলে অন্য ভিডিও ‘ভালগার’ বা অশ্লীল ভিডিও বলে গণ্য হবে। পুলিশ কি খতিয়ে দেখছে আজকাল ওয়েব সিরিজে কী ধরণের কনটেন্ট দেখানো হয়, সেগুলো কতটা অশ্লীল, কিন্তু অবশ্যই পর্ন নয়। এখানে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে দু’জন মানুষ সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে। সেটা না হলে কখনই তা পর্ন নয়। এছাড়া পুলিশ ঠিক বৈধভাবে রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেফতার করেনি বলেও অভিযোগ তাঁর আইনজীবীর। তাঁর দাবি, ভারতীয় দণ্ডবিধি ৪১ নম্বর নোটিসে সাক্ষর করানো হয়েছিল রাজ কুন্দ্রা। ভারতীয় দণ্ডবিধি ৪১ নম্বর নোটিসে সাক্ষর করার অর্থ তদন্ত প্রক্রিয়ায় যোগদানের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হচ্ছে। তবে তা সত্ত্বেও কেন রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করা হল, তার যৌক্তিকতাই খুঁজে পাচ্ছেন না আইনজীবী।

এদিকে মুম্বইয়ের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ মাস আগে ব্যবসা শুরু করেন রাজ। লন্ডনে বসবাসকারী ভগ্নিপতি প্রদীপ বক্সির সঙ্গে মিলে এই ব্যবসা করেন তিনি। গত বছর লকডাউনের পর থেকে রাজ কুন্দ্রার ব্যবসা কার্যত ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। সেই সময় ঘরবন্দি বহু মানুষ ওই ভিডিও দেখেই সময় কাটিয়েছিলেন। তাই এই ব্যবসা থেকে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছিলেন শিল্পার স্বামী। অন্যদিকে, পর্ন ছবির রমরমা বেড়ে যেতেই গত বছরই গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল সংস্থা ‘হটশট’কে নিষিদ্ধ বলে জানায়। এরপর ‘প্ল্যান বি, বলিফেম’ নামে নতুন পর্ন অ্যাপ তৈরি করে রাজ। ভারত থেকে সব ভিডিও ‘হটশট’ অ্যাপে আপলোড করতে পারতেন না রাজ। ভগ্নিপতি প্রদীপের সংস্থা কেনরিন লিমিটেডকে ‘উইট্রান্সফার’-এর মাধ্যমে প্রদীপকে পাঠাতেন রাজ। তারপর তা আপলোড করা হত। অন্যদিকে, পর্ন তারকা পুনম পাণ্ডে এবং মডেল সাগরিকার পর বুধবার ফের এক মহিলা রাজ ও উমেশের বিরুদ্ধে তাঁকে নগ্ন হয়ে অডিশন দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলেই অভিযোগ।

পর্ন ভিডিও থেকে রাজ কুন্দ্রার দৈনিক আয় ৮ লাখ

0

পর্ন ভিডিও তৈরি ও তা অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা এ ব্যবসা থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা উপার্জন করতেন। মুম্বাইয়ের যুগ্ম নগরপাল মিলিন্দ ভারাম্বে জানান যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা আত্মীয় প্রদীপ বক্সীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, হাজার হাজার কোটিতে এই ব্যবসার লেনদেন হয়েছে, সেই সব আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। আমরা এসব আয় খতিয়ে দেখছি। এইগুলো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে, এখন পর্যন্ত আমরা রাজ কুন্দ্রার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ৭.৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছি।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ কুন্দ্রা আর্মস প্রাইম মিডিয়া নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছয় মাস পর সেই কোম্পানির আওতায় তৈরি হয় হটশট নামের ভিডিও অ্যাপ। যে অ্যাপটিকে মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে পর্ন স্ট্রিমিং অ্যাপ বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে লন্ডনের ব্যবসায়ী প্রদীপ বক্সীকে ২৫ হাজার ডলারে এই অ্যাপ বিক্রি করে দেন রাজ কুন্দ্রা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আর্মস প্রাইম মিডিয়া থেকে পদত্যাগ করেন রাজ কুন্দ্রা। কিন্তু হটশটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড চলত রাজের নেতৃত্বেই। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে উঠে এসেছে সেই তথ্য-প্রমাণ। শালীনতার মাত্রা ছাড়ানোর জেরে ২০২০ সালের জুন মাসেই গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর থেকে বাতিল করা হয় এই অ্যাডাল্ট অ্যাপ।
ভরাম্বে জানান, ভারতে বসে ভিডিও তৈরি করেও সেটা আপলোড করতে পারবেন সরকারি প্রতিবন্ধকতার ছাড়াই, সে কারণে মুম্বাই থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফরেন প্ল্যাটফর্মে ওই পর্ন ভিডিও পাচার করতেন রাজ কুন্দ্রা। অভিযুক্তর অফিস থেকেই লন্ডনের কোম্পানি কেনরিন লিমিটেডে সেসব ভিডিও পাঠাতেন তিনি। এরই মধ্যে সার্ভারের ডেটা খতিয়ে দেখছে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

0

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ১৭ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে আট শতাধিক অভিবাসীর মৃত্যু হয়।
তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট বুধবার জানায়, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড ভূমধ্যসাগর থেকে ৩৮০ জনের বেশি অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মোঙ্গি স্লিম বলেন, ‘১৭ জন বাঙালি মারা গেছেন। ৩৮০ জনের বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিবাসীরা নৌকায় করে লিবিয়ার জুয়ারা থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।’
রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, জুয়ারা লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। সেখান থেকে নৌকা অভিবাসীদের নিয়ে ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করে। তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
নৌকায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যে সিরিয়া, মিসর, সুদান, মালি ও বাংলাদেশের নাগরিকেরা ছিলেন বলে জানায় রেড ক্রিসেন্ট।
গত ২৪ জুন ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশি, মিসরীয়সহ মোট ২৬৭ জনকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। তাঁদের মধ্যে ২৬৪ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। বাকি তিনজন মিসরের নাগরিক। তাঁরা লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির পথে রওনা হয়েছিলেন। ভূমধ্যসাগরে তাঁদের ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড।
২৪ জুনের আগে ১০ জুন ১৬৪ বাংলাদেশিকে তিউনিসিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার করে দেশটির কোস্টগার্ড। তাঁরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় গত ১৮ মে ৩৬ জন এবং ২৭ ও ২৮ মে উপকূল থেকে ২৪৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড।
এ ছাড়া মে মাসে লিবিয়ার অবৈধ অভিবাসন দমন বিভাগের (ডিসিআইএম) কর্মকর্তারা আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী মরু এলাকা দারাসে অপহরণকারীদের কবল থেকে ৮৬ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। তাঁরা বেনগাজি হয়ে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়েছিলেন।
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এক হাজারের বেশি অভিবাসী তিউনেসিয়ায় আটক হয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার জন ইতালিতে পৌঁছেছেন। এ তালিকার শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তি ইউরোপে পৌঁছেছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যানুসারে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে আট শতাধিক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীতে ৫ হাজার পিস ইয়াবা, ২০ লাখ জাল টাকাসহ ৩ জন গ্রেফতার

0

রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকা থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন এবং যাত্রাবাড়ি থেকে ২০ লাখ টাকার জাল নোটসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কদমতলী থানার সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ সাত্তার নামে এক মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ২০ লাখ জাল টাকাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো মিনারা বেগম ও রাসেল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আজহারুল ইসলাম মুকুল জানান, গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য আসে যে, কাজলার একতা ফলের মার্কেটে কিছু লোক জাল টাকাসহ অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় ওই মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে ডিবির ডেমরা জোনাল টিম। অভিযানে ২০ লাখ মূল্যমানের জাল টাকাসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সাবেক কূটনীতিকের মেয়েকে গুলি করে হত্যা

0

পাকিস্তানের এক সাবেক কূটনীতিকের মেয়েকে রাজধানী ইসলামাবাদে হত্যা করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূতের মেয়েকে ইসলামাবাদ থেকে অপহরণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি অভিজাত এলাকা থেকে শওকত মুকাদামের মেয়ে নুর মুকাদামের (২৭) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে। শওকত দক্ষিণ কোরিয়া ও কাজাখস্তানে পাকিস্তানি কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন।
নুরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নুরের এক বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূতের মেয়েকে রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে অপহরণের পর নির্যাতনের ঘটনায় দেশটিতে নিযুক্ত কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই নিয়ে শোরগোলের মাঝেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিতে মনস্থির করে রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান, সামরিক আদালতের বিচার ছিল অবৈধ; তদন্ত কমিটি করতে বলেছিল হাইকোর্ট,বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও

0

১৯৭৬ সালে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালে গোপন বিচার করে রায় ঘোষণার ৩ দিনের মধ্যে ফাঁসি দেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল এম এ তাহের বীর উত্তমকে। সামরিক আদালতে কোনো আইনজীবীর সহায়তা পাননি কর্নেল তাহের। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতেও যেতে দেয়া হয়নি। মনে হয়েছিল, জেনারেল জিয়াউর রহমান তার জীবন রক্ষাকারী কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড দেবেন এটা আগেই মনস্থির করে রেখেছিলেন । দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন ২১ জুলাই(১৯৭৬) ভোর রাতে তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের এই বিচারকে ৩৫ বছর পর অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। তাহেরের বিচারের ৩৪ বছর পর তাঁর পরিবারের পক্ষে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে ২০১১ সালে দেয়া হাইকোর্টের রায়ে তাহেরকে শহীদের মর্যাদা, তাহেরসহ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, সামরিক আদালতে বিচারের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার জন্য সরকারকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। রায়ে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঠাণ্ডা মাথার খুনী উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। ফলে বিচার ছিল একটি প্রহসন মাত্র।
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১১ সালের ২২ মার্চ এ রায় দিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার ১০ বছর পার হয়ে গেলেও এই রায় অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হয় নি। সবচেয়ে বড় বিষয় কর্নেল তাহেরের বিচারসহ সেসময় সামরিক আদালতে বিচারের ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিলো রায়ে। কিন্তু ১০ বছরেও তা করা সম্ভব হয় নি।

হাইকোর্টের রায়ে তাহেরের মৃত্যুদণ্ড ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ বলে চিত্রিত করতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল। এ ছাড়া দণ্ডিত ব্যক্তিদের তালিকা থেকে রিট আবেদনকারীদের নাম মুছে ফেলারও নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদণ্ড একটি হত্যাকাণ্ড। কারণ, ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনেক আগেই জেনারেল জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানে মনস্থির করেন। যেহেতু জেনারেল জিয়া জীবিত নেই, আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার সম্ভব নয়। এর পরও সরকারের উচিত হবে এই হত্যার জন্য দায়ী কেউ জীবিত থাকলে, তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা। কর্নেল তাহেরকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের গৌরব উল্লেখ করে আদালত বলেন, তাঁর হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় অধ্যায়। কর্নেল তাহেরের ফাঁসিকে ‘নিরঙ্কুশ খুন’ বলে অভিহিত করেছেন আদালত। রায়ে বলা হয়, যে অপরাধের জন্য তাহেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, সেই অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান ছিল না। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তথাকথিত বিচারকে কোনো অবস্থাতেই বিচার বলে বিবেচনা করা যায় না। বিচারকেরা যে রায় দিয়েছেন, তা ছিল নেহাতই প্রভুদের কণ্ঠস্বর।
রায়ে বলা হয়, এখানে আসামিদের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ। এমনকি সাক্ষীদের জেরা করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।
রায়ে আদালত আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা-ও শোনানো হয়নি। তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হয়নি, তাঁরা দোষ স্বীকার করেন কি না। তাঁদের সাফাই সাক্ষীরও সুযোগ দেওয়া হয়নি। আত্মীয়-পরিজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি এফআইআর ও অভিযোগপত্রের কপি। ফৌজদারি মামলায় যেসব প্রক্রিয়ার অনুসরণ করার কথা ছিল, তার কোনোটাই অনুসরণ করা হয়নি।
কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পঁয়ত্রিশ বছর পর চারটি রিট মামলা করা হয়েছিল। রিট মামলাগুলো করেছিলেন কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের এবং তার ভাই ড. আনোয়ার হোসেনসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের পাশাপাশি জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুসহ পাঁচজন রিট মামলা করেছিলেন, তাদেরও ওই সামরিক আদালতে বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল।
সবগুলোর রিটের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়। চূড়ান্ত শুনানিতে আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ড.এম জহির, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আক্তার ইমাম, এ এফ এম মেসবাউদ্দিন, আবদুল মতিন খসরু, জেড আই খান পান্না ও এম আই ফারুকীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য শুনেন। রিট আবেদনকারিদের পক্ষে শুনানি করেন ড.শাহদীন মালিক।
রিটের শুনানিকালে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ, ঘটনার সময় ঢাকার জেলা প্রশাসক এম এম শওকত আলী, কর্মরত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মহিবুল হক, হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফজলুর রহমানও আদালতে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নূরুল ইসলাম। তাহেরের সঙ্গে সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি কয়েকজনও আদালতে বক্তব্য দেন।
শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২২ মার্চ আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাহেরের গোপন বিচার অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, তাহেরসহ অন্যদের বিচার ছিল লোক দেখানো ও প্রহসনের নাটক। এটা কোনো বিচার হয়নি। তাই বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিচার-প্রক্রিয়া ও সাজা ছিল অবৈধ। বিচার ও সাজা বাতিল করা হলো। আদালত অভিমতে বলেন, ওই বিচার প্রথম থেকেই অবৈধ, আর পুরো বিচারটি ছিল একটি বিয়োগান্ত নাটক ও বানানো বিচার।
বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, তাহেরের তথাকথিত বিচার ও ফাঁসি দেওয়ার ঘটনা ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। ওই বিচার ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। একই সঙ্গে তাহেরকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি কথিত ওই সামরিক আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনা করে রায়ে বলা হয়, ১৯৭৬ সালের ১৪ জুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ১৭ জুলাই তাহেরকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু তাহেরকে যে আইনে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সেই আইনে ওই সময় মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান ছিল না। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ’৭৬-এর ৩১ জুলাই মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়। তাই আইনগতভাবে ওই দণ্ড ছিল অবৈধ। তথাকথিত ওই আদালতের বিচারক আবদুল আলী ও অন্যরা বলেছেন, বিচারের সময় তাঁদের সামনে কোনো কাগজ বা নথিপত্র ছিল না। এ ছাড়া আসামিরা জানতেন না যে তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ। তাঁদের পক্ষে বক্তব্য দিতে কোনো আইনজীবীও দেওয়া হয়নি। এসব বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল ও এর কার্যক্রম ছিল অবৈধ। তথাকথিত ওই বিচার সংবিধানের ২৭, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ ও সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার পরিপন্থী।
জিয়া জড়িত: রায়ে লিফশুলজ ও অন্যদের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, জেনারেল জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ এসেছে, যদিও বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনা এ মামলার বিচার্য বিষয় নয়। ওই সময় হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। সঠিক ইতিহাস ও সত্যের খাতিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এটা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হলো। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আইনজ্ঞ, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তার সমন্বয়ে ওই কমিটি গঠন করতে বলা হয়।
তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের জয় বাংলা স্লোগান মুছে ফেলেন। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের স্থান রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিণত করেন এবং সেখানে শিশুপার্ক স্থাপন করেন।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ দেন জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতাবিরোধী কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমানকে দেন মন্ত্রীর পদ। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সেনা কর্মকর্তাদের উচ্চপদে আসীন করেন তিনি।
তাহেরকে শহীদের মর্যাদা: ইতিহাস ও বিভিন্ন নথিপত্র থেকে ওই প্রহসনের বিচার এবং দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত তাহেরসহ অন্যদের নাম বাদ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, তাহেরসহ অন্যরা সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের ক্ষোভের শিকার ছিলেন বলেই মৃত্যুবরণ ও কারাবরণ করেছিলেন। তাঁরা জিয়ার স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠায় পাশে না থেকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাহেরকে দেশদ্রোহের অভিযোগ মুছে দিয়ে মহান দেশপ্রেমিক হিসেবে চিহ্নিত করে শহীদের মর্যাদা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। কথিত বিচারের মুখোমুখি হাসানুল হক ইনু, মাহমুদুর রহমান মান্না, মেজর জিয়াউদ্দিনসহ অন্যদের দেশপ্রেমিক হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার কথাও রায়ে বলা হয়।
আর্থিক ক্ষতিপূরণ বিবেচনা: রায়ে আদালত তাহেরের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেন, ওই সময় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনেকেই সেনা কর্মকর্তা এবং সরকারি চাকরিতে ছিলেন। কিন্তু গোপন বিচারের কারণে তাঁদের সাজা হয় এবং অনেকে চাকরিচ্যুত হন। যাঁদের সাজা হয়েছিল, তাঁদের পেনশনসহ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছিল।