ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 116

আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম আর নেই

0

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ মালুম আর নেই। শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান তিনি।
গত ২৫ মে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেয়াদ আল মালুমকে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২ জুন তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।
বাম রাজনীতিতে সক্রিয় এই আইনজীবীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য জেয়াদ আল মালুম প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। সেই থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আজম ও মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে করা মামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষে ভূমিকা রাখেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জেয়াদ আল মালুম ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
টাঙ্গাইল সদরের করোটিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই আইনজীবী গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি পদে ছিলেন।

‘কঠোর লকডাউন’ ১ জুলাই থেকে, সোমবার থেকে সীমিত

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে সাত দিন সারাদেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করছে সরকার।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার শনিবার রাতে জানান, সোমবার থেকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা আগামী ১ জুলাই থেকে ৭ দিন ঘোষণা করা হবে।
“সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে লকডাউন ঘোষণা করা হবে।“
শনিবার সন্ধ্যায় লকডাউন বিষয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই বিষয়ে বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।“
এর আগে কোভিড বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির দেশজুড়ে পুরোপুরি ‘শাটডাউনের’ সুপারিশের পর শুক্রবার সরকারি ঘোষণায় সোমবার থেকে কঠোর লকডাউনের কথা বলা হয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, “সোমবার থেকে ৭ দিন এই কঠোর লকডাউন চলবে। এরপর প্রয়োজন মনে করলে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হবে।”
এবারের লকডাউনের মধ্যে জরুরি কারণ ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, “মানুষ যাতে বিধিনিষেধ মানে, সেজন্য কাজ করবে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।”
বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
তবে বাজেটের কাজে সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক শাখা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ কয়েকটি অফিস আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
লকডাউনের সময়ে জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই সারাদেশে ধাপে ধাপে মেয়াদ বাড়িয়ে লকডাউনের বিধিনিষেধ চালু রাখা হয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিথিল করা হয়েছে বেশ কিছু নিয়ম।
এর মধ্যে করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় জুনের শুরু থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে বাড়তে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শনিবার ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, শনাক্ত হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৩৪ জন নতুন রোগী।
গত কয়েকদিন থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধির এমন পরিসংখ্যানের মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দেশে একটানা ১৪ দিন ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ ঘোষণার সুপারিশ করে কোভিড ১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি।
জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় তাদের সুপারিশে।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর গত বছর মার্চের শেষ দিকে সরকার সাধারণ ছুটির আদলে লকডাউন জারি করে, যা মে মাস পর্যন্ত ছিল।
এর মধ্যে সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় বিধি-নিষেধও শিথিলতা আসে।
২০২১ সালের শুরুতে সংক্রমণের নিম্নগতিতে বিধি-নিষেধ ছিল না বললেও চলে। এই সময় স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া পরিকল্পনাও সরকার করেছিল।
কিন্তু মার্চ মাসের শেষে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি নাজুক করে তুললে এপ্রিলে সারাদেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা ছিল আগের বছরের তুলনায় শিথিল।
পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতিতে সেই বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলেও করোনাভাইরাসের ভারতে উদ্ভুত ডেল্টা ধরনের সংক্রমণে সীমান্ত জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় কমিটি শাটডাউনের সুপারিশ করলে সরকার ওই পরামর্শ সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নেবে বলে জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

নতুন প্রজাতির মানবের সন্ধান, দেড় লাখ বছর আগে বাস করতো পূর্ব এশিয়ায়

0

চীনা গবেষকরা অত্যন্ত প্রাচীন একটি মাথার খুলির সন্ধান পেয়েছেন যা সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির মানবের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের এই দলটি দাবি করছে মানব বিবর্তন প্রক্রিয়ায় নিয়েন্ডারথাল এবং হোমো ইরেকটাসের মতো এই প্রজাতির মানব আমাদের সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয়।
এই মানব প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ড্রাগন ম্যান।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নমুনাটি এমন এক মানব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে যা অন্তত এক লাখ ৪৬ হাজার বছর আগে পূর্ব এশিয়ায় বসবাস করতো।
উত্তর-পূর্ব চীনের হারবিন শহরে এই খুলি পাওয়া গেছে ১৯৩৩ সালে, তবে খুব সম্প্রতি এটি বিজ্ঞানীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
মাথার এই খুলির একটি বিশ্লেষণ সম্প্রতি ‘দ্য ইনোভেশন’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

বলা হচ্ছে, নতুন এই আবিষ্কার – হোমো স্যাপিয়েন্সের কোথা থেকে ও কিভাবে উদ্ভব হয়েছিল সে সম্পর্কে বর্তমান ধারণা বদলে দিতে পারে।
মানব বিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন বিজ্ঞানী ও গবেষক, লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রফেসর ক্রিস স্ট্রিঙ্গার এই গবেষণা দলের একজন সদস্য ছিলেন।
বিবিসিকে তিনি বলেন, “বিগত সহস্রাব্দগুলোতে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার।”
“এটি মানবতার ভিন্ন একটি শাখা যা হোমো স্যাপিয়েন্স (আমাদের প্রজাতি) হওয়ার পথে ছিল না। তবে এটি এই অঞ্চলে কয়েক লাখ বছর ধরে বিবর্তিত হওয়া এক প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে যা পরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কারের ফলে মানব বিবর্তনের ইতিহাস নতুন করে লিখতে হতে পারে।
তাদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই প্রজাতির মানব নিয়েন্ডারথালের চেয়েও হোমো স্যাপিয়েন্সের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।
গবেষকরা বলছেন, এই নতুন প্রজাতির মানব হচ্ছে হোমো লোঙ্গি। এই লোঙ্গি শব্দটি এসেছে চীনা শব্দ “লং” থেকে যার অর্থ ড্রাগন।
চায়নিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস এবং শিজিয়াঝুয়াঙ প্রদেশে হেবেই জিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিজুন নি বলেন, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে “আমরা বহু আগে হারিয়ে যাওয়া এক বংশধরকে আমরা খুঁজে পেয়েছি।
বিবিসিকে তিনি বলেন, “এটা যে এতো ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে সেটা আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। এই খুলির সবকিছু দেখা যাচ্ছে। এটা সত্যিই দারুণ এক আবিষ্কার!”
আমাদেরসহ অন্যান্য মানব প্রজাতির মাথার খুলির সঙ্গে তুলনা করলে এই খুলিটি আকারে বেশ বড়। তবে মস্তিষ্কের আকার প্রায় একই ধরনের।
বলা হচ্ছে, এই খুলিটি প্রাপ্তবয়স্ক এক পুরুষের।

খুলি দেখে বোঝা যায় ড্রাগন ম্যানের চোখের কোটর বিশাল ও চতুর্ভুজ আকৃতির, ভ্রুর খাঁজ বিশাল আকারের, প্রশস্ত মুখ এবং বড় আকারের দাঁত।
হেবেই জিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কিয়াং জি বলেন, এখনও পর্যন্ত মানুষের মাথার খুলির যতো জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে সম্পূর্ণ।
“অন্যান্য সব মানব প্রজাতির চেয়ে এটি একেবারেই আলাদা,” বলেন তিনি।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ড্রাগন ম্যান ছিল খুব শক্ত সামর্থ্য মানুষ এবং কর্কশ। তবে তারা কিভাবে ও কেমন করে বসবাস করতো সে বিষয়ে খুব কমই জানা গেছে। কারণ যে এলাকায় এই খুলিটি পাওয়া গিয়েছিল সেখান থেকে এটিকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
এর অর্থ এই খুলি যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি। যেমন- সেখানে পাথরের তৈরি কী ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করা হতো এবং ওই এলাকায় সাংস্কৃতিক আরো কী ধরনের উপাদান ছিল সেসব বিষয় অজ্ঞাত রয়ে গেছে।
নতুন প্রজাতির মানবের এই খুলিটি পাওয়া গেছে ১৯৩৩ সালে। হারবিনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সঙ্গুয়া নদীর উপর একটি সেতু তৈরির সময় একজন নির্মাণ শ্রমিক এর সন্ধান পান।
যে সময় এই খুলিটি পাওয়া যায় সে সময়ে এই শহরটি ছিল জাপানের অধীনে।
চীনা শ্রমিকটি মনে করেছিলেন, এই খুলির সাংস্কৃতিক মূল্য অনেক এবং একারণে তিনি এটিকে লুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান যাতে খুলিটি জাপানিদের হাতে চলে না যায়।

নিজের বাড়ির কূপের একেবারে তলায় তিনি খুলিটি লুকিয়ে রাখেন। সেখানে এটি ছিল প্রায় ৮০ বছর। লোকটি মারা যাওয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের এই খুলির কথা বলে যান এবং পরে তাদের মাধ্যমেই এটি বিজ্ঞানীদের হাতে এসে পৌঁছায়।
এর আগেও চীনে প্রাচীন কালের আরো কিছু মানব দেহাবশেষের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। ড্রাগন ম্যান এরকমই সবশেষ আবিষ্কার।
আগে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলোকে আলাদা করে শ্রেণীভূক্ত করা কঠিন ছিল।
এর আগে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলি দালি, জিন্নিওশান, হুয়ালংডং এবং তিব্বতীয় অঞ্চলের।
এসব দেহাবশেষ হোমো স্যাপিয়েন্স, নিয়েন্ডারথালস কিম্বা ডেনিসোভান্স অথবা একেবারেই ভিন্ন কোন প্রজাতির মানবের কীনা সে বিষয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছে।
রাশিয়ার ডেনিসোভা গুহায় ৩০/৫০ হাজার বছর পুরনো একটি আঙ্গুল পাওয়া গিয়েছিল। সেই আঙ্গুলের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই ডেনিসোভান্স প্রজাতি সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মার্তা মিরাজন লাহর বিশ্বাস করেন এই ড্রাগন ম্যানই আসলে ডেনিসোভান।
“অতীতের সবচেয়ে রহস্যময় জনগোষ্ঠী এই ডেনিসোভান্স। তিব্বতীয় মালভূমিতে যে চোয়ালের হাড় পাওয়া গেছে তার ডিএনএ থেকে মনে হয় সেটিও ছিল একজন ডেনিসোভানের,” বলেন তিনি।
“আর এখন চোয়ালের হাড় যেহেতু তিব্বতের এবং ড্রাগন ম্যানকে একই রকমের বলে মনে হচ্ছে- আমরা হয়তো এই প্রথমবারের মতো ডেনিসোভানের মুখ পেয়ে গেলাম।”

সম্প্রতি ইসরায়েলেও নিয়েন্ডারথালের সম্ভাব্য পূর্বসূরির কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। ওই জীবাশ্মটি নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তারা বলছেন, লেভান্ত অঞ্চলের প্রথম মানবগোষ্ঠী থেকে এই ড্রাগন ম্যানের আবির্ভাব ঘটতে পারে।
তবে চীনা গবেষকরা বলছেন, পূর্ব এশিয়ায় যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলো শ্রেণীভুক্ত করা কঠিন, কিন্তু এসব জীবাশ্ম থেকে নতুন প্রজাতির মানবের ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
প্রফেসর নি বলেন, “এই ফলাফল প্রচুর বিতর্কের জন্ম দিবে এবং আমি নিশ্চিত যে অনেকেই আমাদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করবেন। তবেই এটাই বিজ্ঞান এবং এই মত-বিভেদের কারণেই বিজ্ঞান সামনের দিকে অগ্রসর হয়।” বিবিসি বাংলা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নতুন সেনাপ্রধানের শ্রদ্ধা

0

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নতুন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন
শনিবার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন সেনাবাহিনী প্রধান।
আইএসপিআর শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
পরে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দেন।
এরপর তিনি বীর শহীদদের সম্মানে সালাম প্রদান করেন। বিউগলের সুরে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ দেয়। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সেনাপ্রধান এরপরেই টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাকে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সেনাবাহিনী প্রধান বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শাহাদাতবরণকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। মোনাজাত শেষে তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।”
গত বৃহস্পতিবার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

ঢাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান

0

তিন দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় এসেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভদৌরিয়া।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধানের আমন্ত্রণে তার এই সফর বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন।
ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
সফরকালে তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিএএফ বিমান ঘাঁটিগুলোও পরিদর্শন করবেন।
ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধান ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন।
হাই কমিশন বলছে, ভদৌরিয়ার বর্তমান সফরের প্রধান দিক হলো- ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান যশোরে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি প্যারেড-২০২১ উপলক্ষে কমিশন প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন।
”এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমিতে কোনও ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান প্যারেড পর্যালোচনা করার অনন্য সম্মান অর্জন করবেন, যা দুই বিমানবাহিনীর পারস্পরিক দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন করে।”
ভদৌরিয়ার এই সফর দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করছে ভারতীয় হাই কমিশন।

এএসপি পরিচয়ে প্রেম, বিয়ে; পরে জানা গেলো প্রতারক বাদাম বিক্রেতা, গ্রেপ্তারের পর স্থান হয়েছে শ্রীঘরে

0

সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে এক তরুণীকে বিয়ে করেন এক তরুণ। শ্বশুর বাড়িতেই শুরু করেন ঘর সংসার। কিন্তু সপ্তাহ যেতে না যেতেই বের হয় থলের বেড়াল। জানা যায় তিনি এএসপিতো ননই,কনস্টেবলও নন। তিনি এক জন প্রতারক এবং বাদাম বিক্রেতা। পরে আসল পরিচয় বেরিয়ে আসতেই তরুণীর পরিবারের মামলায় জেল হাজতে ওই বাদামওয়ালা। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ায়।
জানা যায়, মুঠোফোনে যোগাযোগ। এরপর নিজেকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দিয়ে কলেজছাত্রীর (১৭) সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এক যুবক। টানা দেড় বছর ধরে মুঠোফোনে যোগাযোগ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় জানা যায় তিনি ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রাম থেকে আবদুল আলিম (৩২) নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশ। তিনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ঢাকিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে। প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ছাত্রীর সঙ্গে আলিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়। ওই সময়ে তিনি নিজেকে পুলিশের এএসপি পরিচয় দেন এবং রংপুর রেঞ্জে কর্মরত বলেন। নিজের নাম বলেন রাসেল (৩২) এবং বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। এরপর মুঠোফোনে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলেন। ওই ছাত্রী তাকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাড়িতে আসতে বলেন। এরপর ১৮ জুন সকালে হঠাৎ করে ছাত্রীর বাড়িতে এসে হাজির হন ওই যুবক। তার সঙ্গে ছিল পুলিশের মনোগ্রামসংবলিত একটি ব্যাগও। এ সময় তরুণীর পরিবারকে বলেন, পুলিশে নতুন চাকরি, বাহিনী থেকে এখনো বিয়ের অনুমতি মিলেনি। এ কারণে গোপনে বিয়ে করতে হবে। ওই যুবকের কথা বিশ্বাস করে ১৮ জুন রাতে মৌলভি ডেকে ঘরোয়াভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ছাত্রীর পরিবার।
এরপর কলেজছাত্রীর সঙ্গে স্বামী–স্ত্রী হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতে থাকেন ওই যুবক। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে ওই যুবকের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশীরাও ওই যুবককে চ্যালেঞ্জ করে। চাপে পড়ে স্বীকার করেন তিনি ‘ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা’। পরে খবর দেওয়া হয় বগুড়া সদর মডেল থানায়।
সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক বেদার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের পলাশবাড়ি গ্রাম থেকে ওই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার নাম, ঠিকানা, পরিচয় সবই ভুয়া। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক আরও স্বীকার করেন, তিনি পেশাদার প্রতারক। মাঝেমধ্যে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেন। প্রতারণা করে কিশোরী ও তরুণীদের বিয়ে করা তার নেশা। এ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে তিনি পাঁচটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর পক্ষে দুটি সন্তানও রয়েছে তার। তবে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বিয়ে করে ধর্ষণ এবং পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে তরুণীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ছাড়াও প্রতারণার অভিযোগে শুক্রবার সদর থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে বাসে গণধর্ষণের শিকার তরুণী, আটক ৬

0

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত আরও দু’জন পলাতক রয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৩ জুন) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ভোর পর্যন্ত এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, ‘ভিকটিম ওই তরুণীকে মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর আটক হওয়া ৬ জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার শিকার তরুণীর বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত অধিকাংশ সময় বাসে এবং পরবর্তীতে আরও বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রানা নামে বাসের একজন স্টাফ ছিল ওই তরুণীর পূর্ব পরিচিত। সে সম্পর্কের সুবাদে রানা তাকে ফুসলিয়ে মীরসরাইয়ে নিয়ে যায়। এরপর ছয়জন মিলে প্রথমে একটি বাসের ভেতর এবং পরে মীরসরাইয়ে আরও বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে জিম্মি করে ধর্ষণ করে। তাদের আরও দু’জন সহযোগী আছে। মোট আটজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিমকে মাঠে নামানো হয়। একে একে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।’

বান্দরবানে ‘ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মুসলিম’ ওমর ফারুক হত্যা নিয়ে বিতর্কে পাহাড়ি ও বাঙালি

0

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মুসলিম মোহাম্মদ ওমর ফারুককে হত্যার এক সপ্তাহ পরেও এ বিষয়ে দায়ের করা মামলার কোন অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ।
গত ১৮ই জুন রাতে মি. ফারুককে রোয়াংছড়িতে নিজের বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর সেখানকার বাঙালি সংগঠনগুলো ঘটনার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করলেও জনসংহতি সমিতি বলছে পার্বত্য এলাকায় ধর্মকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রাখতে একটি ”বিশেষ গোষ্ঠী” এটি করতে পারে বলে মনে করেন তারা।

জনসংহতি সমিতির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কে এস মং মারমা বিবিসি বাংলাকে বলেন জনসংহতি সমিতি কারও ব্যক্তিগত ধর্ম পালন নিয়ে কৌতূহল দেখায় না, কারণ এখানে সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব আছে এবং সংগঠনটি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে।
“বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কারা তৈরি করে এটা এ অঞ্চলের সবাই জানে। এবার তারা ধর্মকে ব্যবহার করে সেটি করতে চাইছে। কিন্তু যতটুকু জানি ওমর ফারুক তো নতুন করে মুসলিম হননি। পুলিশের উচিত খুঁজে বের করা যে কারা এগুলো ঘটিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে পাহাড়িদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করে,” বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন।
তবে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের নেতা কাজী মুজিবুর রহমান ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতিকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “মুসলিম হওয়ার কারণেই ওমর ফারুককে হত্যা করেছে কারণ তিনি তার এলাকায় একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করছিলেন।”
তবে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদ কবীর বলছেন কেন ওমর ফারুক খুন হয়েছেন সেটি এখনো তাদের অজানা এবং এ নিয়ে তদন্তে কোন অগ্রগতি এখনো হয়নি।
যদিও স্থানীয় কয়েকজন পেশাজীবী বলছেন পার্বত্য অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার পরপরই বাঙালি কিছু সংগঠন সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনকে দায়ী করা হয়। কিন্তু এসব ঘটনার তদন্তে পুলিশকে খুব একটা উৎসাহ দেখাতে দেখা যায় না।
ওমর ফারুক কে , কীভাবে খুন হলেন
রোয়াংছড়ির ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুককে ১৮ই জুন শুক্রবার রাত আটটার দিকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বাইরে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা করে একদল লোক। ওই মসজিদটি তিনিই প্রতিষ্ঠা করছিলেন।
একসময় খ্রিস্টান ধর্ম পালন করা ওমর ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় সাত বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
রোয়াংছড়ির স্থানীয় একজন ওয়ার্ড মেম্বার গান্ধীলাল তঞ্চংগা বলছেন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বেরণ চন্দ্র ত্রিপুরা ২০১৪ সালে থানচি থানার আলীকদমে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাখেন। পরে তার পরিবারের সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করে সেখানেই বসবাস করেন।
“কিন্তু সম্প্রতি কয়েক বছর আগে তিনি আবার রোয়াংছড়িতে ফিরে আসেন। তার শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া জায়গায় তিনি মসজিদ তৈরি করছিলেন। কিন্তু তাকে নিয়ে কোন ধরনের কোন সমস্যার কথা তিনিও কখনো আমাদের জানাননি বা ওই সম্প্রদায়ের আরও অনেকেই যারা মুসলিম হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে তারাও জানাননি,” জানান গান্ধীলাল তঞ্চংগা।
মি. তঞ্চংগা বলছেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ে ওমর ফারুকই একমাত্র মুসলিম নন এবং তিনি নতুন করেও মুসলিম হননি।
তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী এখন ওই সম্প্রদায়ে মোট ৩৩টি পরিবার আছে যার মধ্যে ৫টি পরিবার মুসলিম।
এছাড়া গত এক দশকেরও বেশি সময়ে আরও এগারোটি পরিবার মুসলিম হয়েছিলো কিন্তু তারমধ্যে ৫/৬টি পরিবার আবার খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে।
“এলাকাটি আসলে খুবই দরিদ্র মানুষের। নানা কারণে এখানে ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রবণতা কম নয়। কিন্তু সেসব কারণে কেউ আক্রোশের শিকার হননি । ওমর ফারুকের ঘটনায় তাই আমরা বিব্রত। বুঝতে পারছি না যে কি হলো,” বলছিলেন তিনি।
রোয়াংছড়ি বাজারে রোয়াংছড়ি জামে মসজিদেও নামাজ পড়তেন ওমর ফারুক। তাছাড়া তুলাছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় তিনি যে মসজিদ নির্মাণ করছিলেন সেখানেও ইমামতি করতেন মিস্টার ফারুক। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মুসলিমদের জন্য স্থানীয় যাদুমনি পাড়াতেও আরেকটি মসজিদ আছে।
কিন্তু এসব মসজিদ নিয়ে বা ধর্মকর্ম পালন নিয়েও ওমর ফারুক কোন দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন বা কোন সমস্যায় পড়েছেন এমনটি কখনো তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পুলিশ প্রশাসনকে জানাননি।
আবার তিনি যেখানে থাকতেন তার থেকে সেনা ক্যাম্পও খুব বেশি দূরে নয়।
এমন একটি জায়গাতেই ১৮ই জুন শুক্রবার রাতে একদল লোক তার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
এর পর বাঙালি কিছু সংগঠন ঘটনার জন্য মোহাম্মদ ওমর ফারুককে ‘নওমুসলিম’ আখ্যা দিয়ে তাকে হত্যার জন্য জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে নানা কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে।
তবে সমিতির দিক থেকে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোন মন্তব্য এতোদিন করা হয়নি।বিবিসি বাংলা।

সাগর-রুনি হত্যা: ৮০ বারের মতো পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

0

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ৮০ বারের মতো পিছিয়েছে। এবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ৬ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম পরবর্তী এই দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে ৮০ বার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো।
এর আগে গত বছর ২ মার্চ আলোচিত এ হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয় র‌্যাব। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হত্যাকাণ্ডে দু’জন অপরিচিত পুরুষ জড়িত ছিল। সাগর-রুনি ব্যবহূত কাপড়ের সঙ্গে তাদের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। দু’জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানার মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। এর পর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে এর তদন্তভার মহানগর ডিবি পুলিশকে দেওয়া হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে হত্যা মামলার তদন্তভার র‌্যাবের ওপর ন্যস্ত করা হয়। মামলায় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন।

দুদকের আবেদনে বিমানের ১০ কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

0

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০ কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ ওই আদেশ দেন।
বিদেশযাত্রায় যাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, পরিচালক (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) আশরাফুল আলম, বিমানের জিএম (কার্গো) আরিফ উল্লাহ, কার্গো শাখার সাবেক মহাব্যবস্থাপক আলী আহসান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) শামসুল করিম, নীলফামারী জেলা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আসলাম পারভেজ, কমার্শিয়াল সুপারভাইজার প্রমিতোষ তালুকদার, কমার্শিয়াল অফিসার রিয়াদ সোলেমান, কমার্শিয়াল সুপারভাইজার (কপবাজার) জিয়া উদ্দীন খান ঠাকুর, যুক্তরাজ্যের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম ও সিলেটের জেলা ব্যবস্থাপক এনায়েত হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুদকের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা আগে থেকেই বলবৎ রয়েছে। আদালতের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় এখন তা সম্পন্ন করা হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে ওই ১০ জন অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এই সময়ে তারা দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন বলেও দুদক জানতে পেরেছে। এ কারণে আদালতের মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।