করোনা পরীক্ষার জাল সনদ দেওয়ার অভিযোগে ডা. সাবরিনাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম বৃহস্পতিবার এ তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলায় সবশেষ ৩১ মার্চ উজ্জল সরকার নামে এক প্রকৌশলী সাক্ষ্য দেন। এরপর গত ২৭ এপ্রিল মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় লকডাউনের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় আর সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি।
গত বছর মহামারির শুরুতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা ছাড়াই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় জেকেজি হেলথ কেয়ার। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে ওই বছরের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।
একই বছর ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। আসামিরা সবাই এখন কারাগারে।
করোনার রিপোর্ট কেলেঙ্কারি; সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ৪ জুলাই
করোনার টিকা সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট
করোনার টিকা সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে সকল তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে জেনে আদালতকে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া করোনার টিকা প্রদানে আইনজীবীদেরকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে জারি করা রুলের ওপর আগামী ২৭ জুন শুনানির দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জেড আই খান পান্না ও সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
করোনার টিকা প্রদানে অগ্রাধিকার তালিকায় ১৯ ধরনের পেশার ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি চেয়ে গত ১১ এপ্রিল রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মো. আবু তালেব। একই বিষয়ে গত ৩১ মার্চ তিনি সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেন। কিন্তু সেই নোটিশের জবাব না পেয়ে তিনি রিট দায়ের করেন। এই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
রুট পারমিট ছাড়া রাজধানীতে কোনো বাস চলবে না, ১ জুলাই থেকে অভিযান
রাজধানীতে দেড় হাজারের বেশী গাড়ি রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করছে। ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে এই গাড়িগুলো চলছে এবং এসব গাড়ির মালিকরাও অনৈতিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। নির্ধারিত রুটের গাড়ি অন্য রুটে যাতায়াতের ফলে যানজট বাড়াচ্ছে, দূর্ঘটনাও হচ্ছে।
এসব দিক বিবেচনা করে সিটি করপোরেশন এলাকায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো যানবাহন চলতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ১৭তম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা রিপোর্ট পেয়েছি ১ হাজার ৬৪৬টি গাড়ি রুট পারমিশন ছাড়া ঢাকায় চলাচল করে। যাদের কোনো রুট পারমিশন নেই। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিআরটিএ মিলে আমরা যৌথ অভিযান চালাবো। এই অভিযানে যাদের রুট পারমিট নেই তারা কেউ ঢাকা শহরে ঢুকতে এবং ঢাকার ওপর দিয়ে যেতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি বাসগুলো প্রথমে রেজিস্ট্রেশন নেয়, এরপর রুট পারমিশন গ্রহণ করে। কিন্তু সেটা আর হবে না। আগে রুট পারমিট গ্রহণ করতে হবে। তারপরে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হবে। আমরা আজকে দুই সিটি করপোরেশন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঢাকা শহরে যেসব গাড়ি চলাচল করবে তাদের রুট পারমিশন থাকতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র তাপস বলেন, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঘাটারচর থেকে মতিঝিল হয়ে সাইনবোর্ড পর্যন্ত বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছি। এটা আমাদের আজকের সভার মূল সিদ্ধান্ত। ঘাটারচরে একটি বাস ডিপো নির্মাণের জন্য আমরা দুই মেয়র একটি জায়গা শনাক্ত করেছি। এই রুটে চলাচলকারী বাসের মালিক পক্ষের সঙ্গে আমাদের চুক্তির খসড়া প্রণয়ন হয়েছে। সেই চুক্তি ৮ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা আশা করছি, আগামী ২৯ জুলাই এই চুক্তি সম্পাদন করা হবে।
পণ্য ডেলিভারির পর টাকা পাবে ইভ্যালিসহ অন্যান্য ই-কমার্স, লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিসহ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ক্রেতাদের কাছে পণ্য ডেলিভারির পরই টাকা পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এসব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক, ডাব্লিউটিও সেল) হাফিজুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা’ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি এসওপি সার্ভিস ডেভেলপ করা হবে। যাতে পণ্য ডেলিভারির আগে পেমেন্ট নেয়া না হয়। ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড যাদের আছে, তারা পেমেন্ট কন্ট্রোল করবে।’ অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পেমেন্ট দেয়ার পর পণ্য ডেলিভারি হলে তারা যদি মেসেজ পায়, তারপর সেই পেমেন্ট কনফার্ম করবে। এটাই মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই এসওপি ডেভেলপ করা হবে। ইমিডিয়েট বিষয় হলো- পেমেন্ট সিস্টেম কন্ট্রোল করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য তাদের কাছ থেকে জামানত রাখার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনাও হয়নি।’
এমএলএম কোম্পানির মতো ঝুঁকিতে থাকা ই-কমার্সের কোনো প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যেতে পারে কি-না এমন প্রশ্নে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা হয়নি, এটি দেখা হবে। তবে ঝুঁকি আছে।’
ট্যাক্স-ভ্যাট ফাঁকির কোনো অভিযোগ আছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ট্যাক্স সংক্রান্ত কিছু ছিল না, এটি দেখিনি। তাদের সম্পদের চেয়ে দায় বেশি, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
ক্রেতাদের পণ্য কেনা নিয়ে কোনো বার্তা আছে কি-না প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘ক্রেতাদের সতর্ক থাকতে হবে। যারা অস্বাভাবিক অফার দেয়, তারা সন্দেহজনক আচরণ করতে পারে। তারপরও আমরা আশা করি- তারা যেন অনলাইনে কার্ড বা বিকাশ-নগদের মতো সিস্টেমে পেমেন্ট করে, তাহলে পেমেন্ট কন্ট্রোল করা যাবে। এর বাইরে ভিন্ন পন্থায় যদি তারা অ্যাডভান্স দিয়ে দেয়, তাহলে কিন্তু সমস্যা হতে পারে।’
আইনিভাবে তাদের ব্যবসাকে কোনো সিস্টেমে আনা যাবে কি-না জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি এসওপি ডেভেলপ করছি, সেটি ফলো করার জন্য বলা হবে। এছাড়া অনেকগুলো আইন আছে, প্যানাল কোর্ট আছে, ভোক্ত অধিকার সংরক্ষণ আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তো বহাল আছেই। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিনিধি, রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বিটিআরসির প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধি, ই-ক্যাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মিন্টু ও হাসেম, ভোট হবে সিলেটে
ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী।
দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা শুক্রবার গণবিজ্ঞপ্তি করে এবিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
তবে বৃহস্পতিবার শেষ দিন পর্যন্ত কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন চার প্রার্থী।
ঢাকা-১৪ উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার জানান, আওয়ামী লীগের আগা খান মিন্টু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কুমিল্লা-৫ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেটের আবুল হাসেম খানও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বলে রিটার্নিং অফিসারকে উদ্ধৃত করে কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন।
সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ২৮ জুলাই ইভিএমে এ ভোট হবে; প্রচার শুরু ৬ জুলাই।
সিলেট-৩ উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার শেষ দিনে কেউ মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করেননি। তাই চার প্রার্থীই রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দ পেলেও ৬ জুলাই থেকে প্রচারণা করতে পারবেন তারা।
আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া, স্বতন্ত্র শফি আহমদ চৌধুরী রয়েছেন লড়াইয়ে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, বৃহস্পতিবার (২৪-০৬-২০২১) দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন । তিনি পূর্বতন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এর কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে “গার্ড অব অনার’ প্রদান করে এবং সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপন করেন।এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধানকে ”জেনারেল” র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ০১ ডিসেম্বর ১৯৬৩ সালে খুলনা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতা-পূর্বকালে একনাগারে দুই যুগ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হতে ৯ম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সাথে কমিশন লাভ করেন। কমিশন পরবর্তী তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানপূর্বক তার সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এ্যান্ড ষ্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাষ্টারস্ ইন ডিফেন্স ষ্টাডিজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) হতে ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড সিকিউরিটি ষ্টাডিজ -এ প্রথম বিভাগে অসামান্য ফলাফলসহ এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বিইউপি এর অধীনে পিএইচডি সম্পন্নের উদ্দেশ্যে অধ্যয়নরত আছেন ।জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ প্রথম স্থান অধিকার এবং এমআইএসটি গোল্ড মেডেল অর্জনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি ২০১০ সালে সফলতার সাথে চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি (এনডিইউ) হতে ডিফেন্স এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ষ্টাডিজ কোর্স এবং মিরপুরে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এ্যান্ড স্টাফ কলেজ হতে আর্মি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি এনডিইউ, ওয়াশিংটন হতেও গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।তাঁর বর্ণাঢ্য চাকুরি জীবনে তিনি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে আর্মি ট্রেনিং এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র লজিষ্টিকস্ ফরমেশন এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশন কমান্ড করেন। এছাড়াও তিনি একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কমান্ড নিযুক্তিতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ষ্টাডিজ (বিআইআইএস) এর মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন পাইওনিয়ার ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ২০১৪-২০১৬ পর্যন্ত ইউনাইটেড ন্যাশনস্ মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্যা সেন্ট্রাল আফ্রিকা (মিনুস্কা)তে বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং অসামান্য কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের জন্য এসআরএসজি কর্তৃক সাইটেশন প্রাপ্ত হন। তিনি বিভিন্ন ফরমেশন সদর দপ্তরে সিনিয়র অপারেশনাল এবং প্রশাসনিক ষ্টাফ অফিসারসহ সিনিয়র ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যাডেট কলেজ ও প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) এর চিফ অব ডকট্রিন ডিভিশন এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি সেনাসদরে কোয়ার্টার মাষ্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও দুই কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা। আইএসপিআর।
মানবপাচার মামলার আসামি মোশাররফের জামিন স্থগিত
লিবিয়ায় মানবপাচার এবং পাচারের শিকার ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার মামলার আসামি মোশাররফ হোসেনের জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.বশির উল্লাহ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ পরে সাংবাদিকদের বলেন, “১৭ জুন মোশাররফ হোসেনকে জামিন দিয়েছিল হাই কোর্ট। সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। চেম্বার আদালত হাই কোর্টের এই আদেশটি ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন।”
হুইপ সামশুল হক, এমপি রতনসহ ৬ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতির অভিযোগ
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় সংসদের হুইপ, আরো দুই সংসদ সদস্যসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তরা হলেন- চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান সাজ্জাদুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই এবং ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ।
গত ৭ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। যেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারী কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জনপূর্বক বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন যে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন, ল্যান্ড অ্যান্ড সি পোর্ট) স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ, মালিবাগ বরাবর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা একটি পত্র প্রেরণ করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা প্রদানে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ৮২৪/২০২১ সংক্রান্তে গত ১৬/৩/২১ ইং তারিখে রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ মোতাবেক আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে।
দুদকের পক্ষে আবেদনের ওপর শুনানি করেন কৌঁসুলী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।
শুনানি শেষে আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত দরখাস্ত ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দরখাস্তটি মঞ্জুরযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়। সেই সাথে বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), ল্যান্ড অ্যান্ড সি পোর্ট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ, মালিবাগ এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ঢাকাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হলো।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জনপূর্বক বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তার আবেদনে উল্লেখ করেন।
গত কয়েক বছরে ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানে হুইপ সামশুল হকের নাম উঠে এসেছে। তার সম্পদের পরিমাণ এক হাজার ৫৪৬ শতাংশ বেড়েছে বলে অভিযোগ আছে। এর আগে অনুসন্ধান শুরুর পর ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সামশুল হকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছিল দুদক।
কদমতলীতে তিন খুন: বড় মেয়ে ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীর কদমতলীতে মা, বাবা ও বোনকে হত্যার ঘটনায় মেহজাবিন ইসলাম ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
কদমতলী থানায় মেহজাবিনের চাচা সাখাওয়াত হোসেন শনিবার ভোররাতে মামলাটি দায়ের করেন।
মেহজাবিনকে ইতোমধ্যে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, “তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চাওয়া হয়েছে। আর তার স্বামী শফিকুল ইসলাম পুলিশ হেফাজতে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায়, তাকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব সম্ভব সহচ্ছে না।”
শনিবার জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ এ একটি ফোন পেয়ে ঢাকার জুরাইনের মুরাদপুরে গিয়ে গৃহকর্তা মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪২) ও মেয়ে জান্নাতুল ইসলামের (২০) লাশ পায় কদমতলী থানা পুলিশ।
মাসুদ রানার বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম নিজেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ৯৯৯ এ ফোন করেন। লাশ উদ্ধারের সময়ই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ৯৯৯ এ ফোন করে মেহজাবিন বলেছিলেন, “তিনজনকে খুন করেছি, তাড়াতাড়ি আসেন, তা না হলে আরও দুইজনকে খুন করব।”
এছাড়া ওই বাড়ি থেকে মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং তাদের ৪ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবারের সবার প্রতি ‘ক্ষোভ থেকে’ সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ‘শ্বাসরোধে হত্যা করেন’ ২৪ বছর বয়সী মেহজাবিন।
তার স্বামী শফিকুল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাতে তার স্ত্রী তাকে চা দিয়েছিলেন। সেই চা পান করার পর আর কিছু তার মনে নেই।
, মাসুদ রানা প্রবাসে থাকতেন। তিন মাস আগে ওমান থেকে দেশে ফেরেন তিনি।
“মেহজাবিনের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাবা না থাকায় তার মা তাকে এবং তার ছোট বোনকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। এসব নিয়ে প্রতিবাদও করেছিল সে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।
“তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছোট বোনকে দিয়ে ব্যবসা চলছিল। এর মধ্যে তার স্বামী ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এছাড়া মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছেন।”
এসব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকে পরিবারের ‘সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন’ বলে মেহজাবিন পুলিশকে জানিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক আইনি কাঠামো অপরিহার্য– আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যে কোনো দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক আইনি কাঠামো অপরিহার্য। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যান্য গোলের (Goal) সঙ্গে বৈষম্যহীন আইন ও নীতি প্রয়োগ বিষয়ক গোল ১৬(বি) বাস্তবায়নে বৈষম্য বিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ আয়োজিত লেজিসলেটিভ রিসার্চ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এসডিজির গোল- ১৬(বি) বাস্তবায়নে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। এর অংশ হিসেবে “আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহ্নিতকরণপূর্বক উহা সংস্কার বিষয়ক প্রকল্প’’ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৭৯৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রণীত ১২৮৬টি আইনে কোনো বৈষম্যমূলক বিধান রয়েছে কিনা তা গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিতকরণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ/বিভাগকে গবেষণার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল।বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেছেন। গবেষণার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন আইনের বৈষম্যমূলক বিধান, বৈষম্যের বিভিন্নরূপ, যেমন- লিঙ্গ ভিত্তিক বৈষম্য, ভাষার ব্যবহারের মাধ্যমে বৈষম্য, প্রয়োগের মাধ্যমে বৈষম্য ইত্যাদির স্বরূপ উৎঘাটনপূর্বক বেশ কিছু সুপারিশ প্রদান করেছেন।আইন মন্ত্রণালয় এসব সুপারিশ বিশ্লেষণ করবে যাতে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনয়ন করা যায়।এ ছাড়া সরকার বৈষম্য বিরোধী আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে সেখানে এসব সুপারিশ বিবেচনা করা হবে।
অন্যান্য সরকারের সময়ে বাংলাদেশে আইন প্রণয়নের বিষয়ে গবেষণার জন্য বিশেষ কোন অর্থ বরাদ্দ না থাকার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তিনি গবেষণার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা কখনো কখনো দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করি যে, কেউ কেউ আইন বিষয়ে গবেষণা এবং ভালোভাবে পড়াশুনা ছাড়াই আইন সম্বন্ধে কথা বলে থাকেন, আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। আইন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে বিষয়ে ভালোভাবে পড়াশুনা ও গবেষণা না করে ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। দিলে জনগণ বিভ্রান্ত হন।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া কর্মশালায় বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক আইনি গবেষণাকর্ম প্যাকেজ-১, ২, ৩ ও ৪ এর টিম লিডার যথাক্রমে প্রফেসর ড. এম. আহসান কবির (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), প্রফেসর কে.শামসুদ্দিন মাহমুদ (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়) ও প্রফেসর ড. মো. রহমত উল্লাহ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) নিজ দলের গবেষণাকর্মের ফলাফল উপস্থাপন করেন।
এ সময় আইন মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের কর্মকর্তাগণ ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।











