ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 118

রোববার থেকে অধস্তন আদালতে শারীরিক উপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চলবে

0

করোনা ভাইরাসের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পরে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। রোববার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। তবে দেশের কোথাও স্থানীয় প্রশাসনের বিধি-নিষেধ জারি থাকলে সেখানে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন ও জরুরি দরখাস্ত শুনানি করা যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুন) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধস্তন সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে রবিবার (২০ জুন) থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক দেশের কোনও জেলা সদর বা মহানগরে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোডিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে সার্বিক কার্যাবলি বা চলাচলে বিধি-নিষেধ জারি করা হলে সংশ্লিষ্ট জেলার বা মহানগরের দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন ও জরুরি দরখাস্ত শুনানি করা যাবে।

‘দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় যে ক্ষেত্রে আদালতে পক্ষগণের উপস্থিতির আবশ্যকতা নেই সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আদালতে হাজিরা দাখিল করবেন। জামিন শুনানি এবং আমলি আদালতে ধার্য তারিখে হাজিরার জন্য কারাগারে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালত প্রাঙ্গণে বা এজলাস কক্ষে হাজির করার আবশ্যকতা নেই। আদালতের বিচারিক কর্মঘণ্টার প্রথম ভাগে (সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত) সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক বা আপিল বা রিভিশন কিংবা রিভিউ শুনানি এবং দ্বিতীয় ভাগে (দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত) জামিন সংক্রান্ত বিবিধ মামলা, জামিনের দরখাস্ত ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তসহ অন্যান্য দরখাস্ত শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।‘
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আদালত প্রাঙ্গণ এবং এজলাস কক্ষে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্তে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১১ এপ্রিল থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অধস্তন আদালতে শুধুমাত্র জামিনের শুনানির চলে আসছিলো।

পরীমণি কেলেঙ্কারী; নাসির উদ্দিনের ৩ নারী সহযোগী কারাগারে

0

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা মামলার আসামি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাহমুদের (৬৫) তিন নারী সহযোগীকে মাদক মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, একই মামলার আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমির দুই সহযোগী বাছির মিয়া ও মশিউর রহমানের প্রতারণার মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া তিন নারী হলেন লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪)। তাদের তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক উদয় কুমার মন্ডল।
আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী মুহাম্মদ জুয়েল জামিন আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে রোববার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
গত ১৫ জুন আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন নাসির উদ্দিন এবং তুহিন সিদ্দিকী অমির (৩৩) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তারা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুন তুহিন সিদ্দিকী অমির দুটি রিক্রুটিং অ্যাজেন্সিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে দুই শতাধিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পাসপোর্ট জব্দের পর অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়ের করেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন। ওই মামলায় গত ১৬ জুন জামিন হওয়া দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
শনিবার রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে ঢাকা বারের সভাপতি আবদুল বাতেন তাদের জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৪ জুন দুপুরে সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। মামলা দায়েরের পর অভিযানে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিনই নাসির উদ্দিন আহমেদসহ পাঁচজনকে উত্তরার একটি বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
অভিযানে ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরের দিনগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

সিলেট- ৩ আসনে উপনির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিএনপি থেকে শফি আহমেদ চৌধুরী বহিস্কার

0

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরীকে বহিস্কার করেছে দলটি। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা হয়েছে। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা মোতাবেক জনাব শফি আহমেদ চৌধুরীকে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা অমান্য করার প্রেক্ষিতে গত ১৫ই জুন শফি আহমেদ চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। উক্ত নোটিশের জবাবে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক হয় নি বিধায় তাকে বহিস্কারের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য সিলেট ৩ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সেখানে নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভাবে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।

দুদকের মামলায় জামিন পেলেন বরখাস্ত ডিআইজি (প্রিজনস) পার্থ গোপাল

0

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিক জামিন পেয়েছেন।
ভার্চ্যুয়াল শুনানি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫–এর বিচারক ইকবাল হোসেন ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল।
মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে তিনি ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিকের জামিন আবেদনের আপত্তি জানিয়ে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন। আদালত আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি নিয়ে পার্থ গোপাল বণিকের জামিন মঞ্জুর করেন।
দুদক ও আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুদকের এই মামলায় পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এর আগে গত বছরের ৪ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন আদালতকে বলেছিলেন, ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তখন তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৮০ লাখ টাকা অর্জন করেন। সেই টাকা পার্থ গোপাল বণিক তাঁর নিজ বাসার ক্যাবিনেটে লুকিয়ে রাখেন। অনুসন্ধানকালে অভিযান পরিচালনা করে তাঁর বাসা থেকে ওই টাকা জব্দ করা হয়।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগে পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৯ জুলাই মামলা করে দুদক। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ২৩ আগস্ট পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি পার্থ গোপাল বণিক গত বছরের ২৮ জুলাই দুদকে হাজির হয়ে অনুসন্ধান টিমের কাছে বক্তব্য দেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পার্থ গোপাল বণিক জানান, তাঁর বাসায় ৩০ লাখ টাকা নগদ আছে। এই টাকার বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁর বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।সূত্র- প্রথম আলো।

উত্তরায় মাদকের কারখানায় র‍্যাবের অভিযান, অস্ত্র,মাদকসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

0

রাজধানীর উত্তরায় বায়িং হাউসের নামে অফিস ভাড়া নিয়ে রীতিমত মাদকের গবেষণাগার খুলে বসেছিল একটি চক্র। ওই গবেষণাগারে বিভিন্ন ধরণের মাদক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হতো। সেখানে মাদক আইসের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে পরিমাণ বাড়ানো, ইয়াবার রং পরিবর্তন কিংবা ইয়াবা-আইস-ঘুমের ওষুধের সমন্বয়ে ঝাক্কি বা ককটেল বানানো হতো। শুধু মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণই নয়; কথিত ওই ল্যাবে নিয়মিত আনাগোনা ছিল মাদকসেবী তরুণ-তরুণীদের। তারা সেখানে মাদক সেবন এবং পরবর্তিতে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। চক্রটি কৌশলে সেসব কার্যকলাপ ভিডিও করে রাখত। যা দিয়ে পরবর্তিতে তাদের করা হতো ব্ল্যাকমেইলিং। এ চক্রে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। তারা মাদক আইস ও ঝাক্কি সেবন-কেনাবেচায় জড়িত। এর বাইরেও ৪০ থেকে ৫০ জন রয়েছেন, যারা নিয়মিত এই চক্রের মাদকের ক্রেতা। র‍্যাব এই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ‘বিপুল’ পরিমাণ আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ১৩টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, মাদক তৈরি উপাদান এবং ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটি সেখানে মাদকের কারখানা খুলে বসেছিল। সেই কারখানায় মেথামফিটামিন মাদক ‘আইস’ বা ‘ক্রিস্টাল মেথ’ ছাড়াও ‘ইয়াবা’ মোড়কজাত করা হত, তৈরি করা হত ‘ঝাক্কি’ নামের এক ধরনের ককটেল মাদক।
কমান্ডার মঈন বলেন, ওই কারখানা ঘিরে ১০-১২ জন ব্যবসায়ীসহ ৪০-৫০ জনের একটি সিন্ডিকেটকে র‌্যাব চিহ্নিত করেছে, যাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
“উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এসব মাদকের নিয়মিত গ্রাহক এবং তাদের অনেকে এই সিন্ডিকেটের সদস্য।”
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী তৌফিক হোসাইন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেছেন, যাকে এই চক্রের ‘অন্যতম হোতা’ বলছে র‌্যব।

বাকিদের মধ্যে জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭) লন্ডনে বিবিএ পড়েছেন, খালেদ ইকবাল (৩৫) ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। রাকিব বাসার খান (৩০) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। আর আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র (৩৫) এবং সাইফুল ইসলাম সবুজ (২৭) এসএসসি পাস করে আর পড়ালেখা করেননি। এদের মধ্যে রুদ্র ওই সিন্ডিকেটে ‘কেমিস্ট রুদ্র’ নামে পরিচিত। তিনিই ইয়াবার রং বদল করার এবং ‘ঝাক্কি’ নামে ককটেল মাদক তৈরির মূল কারিগর।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে এই ঝাক্কি তৈরি করত রুদ্র। তিনিই ল্যাবটি পরিচালনা করতেন। সেজন্য ওই সিন্ডিকেট থেকে তাকে একটি বাসাও ভাড়া করে দেওয়া হয়েছিল।
কমান্ডার মঈন বলেন, “গ্রেপ্তার জুবেইন ও খালেদ উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা অর্থ বিনিয়োগ করত, বাকিরা ব্যবসা চালাত। তৌফিক হলেন তাদের সমন্বয়কারী। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা তাদের টার্গেট। এরকম ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রাহক আছে এই সিন্ডিকেটের।”
উত্তরায় জুবেইনের বাসায় এবং বায়িং হাউজ নাম দিয়ে তৌফিকের ভাড়া করা অফিসে এরা নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ওই চক্রের সদস্যরাও সবাই ইয়াবা ও আইসে আসক্ত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
‘আইস’ মেথামফিটামিন জাতীয় মাদক। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনে এর ব্যবহার বেশি। ১০ গ্রাম আইস লাখ টাকাতেও বিক্রি হয় চোরা বাজারে।
সেবু, ক্রিস্টাল মেথ কিংবা ডি মেথ নামেও এ মাদক পরিচিত। এ নেশায় আসক্ত হলে অনিদ্রা, অতি উত্তেজনা, স্মৃতিভ্রম, মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে, বাড়তে পারে স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি ও লিভার জটিলতার ঝুঁকি।
দেশে প্রায় দুই দশক হল ফেনসিডিলের জায়গা দখল করেছে ইয়াবা। ফেনসিডিল মূলত আসত ভারত থেকে, আর ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকে। গত তিন বছরে আইসসহ বেশ কয়েকজন ধরা পড়ার পর এ মাদকের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, ইয়াবার মত আইসও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের এসব সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছায় বলে তারা জানতে পেরেছেন। উত্তরার ওই চক্রটি অন্তত পাঁচ বছর ধরে আইস এবং দুই বছর ধরে ঝাক্কির ব্যবসা চালিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে।

প্রথম স্ত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার আবু ত্ব-হাকে আদালতে জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

0

আদালতে জবানবন্দির পর আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার দুই সঙ্গীকে নিজ নিজ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাদের মহানগর আমলি আদালতে (কোতোয়ালি) নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমান এ নির্দেশ দেন।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আবু ত্ব-হা নিখোঁজের ঘটনায় দুটি জিডি হয়েছিল। তার মা একটি জিডি করেন এবং তার সঙ্গে নিখোঁজ থাকা আমিরুদ্দিনের ভাই ফয়সাল আরেকটি জিডি করেন। শুক্রবার আমরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, ত্ব-হা তার প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে আছেন। সেখান থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান আবু ত্ব-হা। পরে তার সঙ্গীরাও বিষয়টি স্বীকার করেন। প্রাথমিক এই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাদেরকে ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের আত্মগোপন উদ্দেশ্যমূলক এবং সরকারকে বা দেশের মানুষকে বিব্রত করতে নয় বলে জানায় রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বিকেল ৫টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন।
মারুফ হোসেন বলেন, এটা উদ্দেশ্যমূলক না। সরকারকে বা দেশের মানুষকে বিব্রত করতে এটা করেনি। এখন পর্যন্ত এটা মনে হয়নি। এত কিছু ভেবে তারা করেনি। আবু ত্ব-হা শিক্ষিত ছেলে। তাই সে ফোন বন্ধ করে রেখেছিল। সে জানে তার ফোন যদি অন করা হয় তাহলে তাকে শনাক্ত করা যাবে। তাই সে ফোন সুইচড অফ করে রেখেছিল। তারা সবাই একসঙ্গে ছিলেন। একই বাড়িতে ছিলেন। ড্রাইভার আমিন উদ্দিনকে মডিফাইয়েড করে বলেছিল, আমাকে একটু সহায়তা করো। তাহলে আমার জন্য ভালো হবে। আমাকে এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে আমাকে একটু হেল্প করো। আমারা একটু গোপনে থাকি। সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি থেকে বাঁচতেই আত্মগোপন করেন ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনের পর শুক্রবার ভোরে ত্ব-হাকে তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গীদেরও উদ্ধার করে পুলিশ। বিকেল পৌনে পাঁচটার সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি ক্রাইম ডিভিশনের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন আরও বলেন, মা ও ভাইয়ের জিডির সূত্রে আমরা (ত্ব-হার) অনুসন্ধান করতে থাকি। আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি ত্ব-হা তার (রংপুর নগরের) চারতলার মসজিদে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সেই সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে নিয়ে আসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমরা অপর সঙ্গীদেরও সন্ধান পাই। গাইবান্ধায় বন্ধু সিয়ামের বাসায় ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন চারজনই। বন্ধু বাসায় না থাকলেও তার মায়ের কাছে ছিলেন এরা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ত্ব-হা আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সফরসঙ্গীরাও তাদের ফোন বন্ধ করে ত্ব-হার কাছে রেখে দেন। তাকে রংপুরে তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয় আবু ত্ব-হাকে। খোকন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি নগরীর মাস্টারপাড়ায় আবু ত্ব-হাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সে সময় কোনো কথা বলেননি। বরং, মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন। পরে তাকে রংপুর নগরের আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এসব বিষয়ে কথা বলতে ত্ব–হার শ্বশুরবাড়িতে গেলে তার শ্বশুর আজহারুল মণ্ডল এ বিষয়ে কোনো কথা না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ত্ব–হার নানাবাড়িতে গেলেও কেউ এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।
গত ১০ জুন দিবাগত রাত থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের। নিখোঁজের সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার দুই সঙ্গী আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে ওই তিনজনসহ আবু ত্ব-হা রংপুর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকার পথে রওনা দেন। রাতে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা হলে তিনি সাভারে যাচ্ছেন বলে তার মাকে জানান। এরপর রাত ২টা ৩৬ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় আদনানের। তাকেও সাভার যাচ্ছেন বলেন জানান ত্ব-হা। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত ১১ জুন বিকেলে ছেলের সন্ধানে রংপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম।

আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

0

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। রাষ্ট্রদূত নিজেই একথা নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার এক টুইটে দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের দুটি ছবি সংযুক্ত করে রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি লিখেছেনঃ

এই সপ্তাহে আমাদের অংশীদারিত্বের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। একটি ছিল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে। আর অন্যটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে। আমরা করুণ হোলি আর্টিজান হামলা নিয়ে কথা বলেছি। পহেলা জুলাই যার পঞ্চম বার্ষিকী।

রোববার থেকে ভার্চুয়ালি বসছে হাইকোর্টের সব বেঞ্চ

0

আগামী রবিবার ২০ জুন থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চ বসছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৩৪টি দ্বৈত বেঞ্চ আর ১৯টি একক বেঞ্চ বসছে। তবে সব কটি বেঞ্চই ভার্চুয়ালি বসবেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে প্রধান বিচারপতি এসব বেঞ্চ গঠন এবং এসব বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণ করেছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্বাভাবিক বিচার কাজ বন্ধ থাকায় জরুরী মামলার শুনানির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চের সংখ্যা ২১টি থেকে বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়। গত এক সপ্তাহ হাইকোর্ট বিভাগে ৩০টি বেঞ্চ বসে। আর বুধবার আরো ২৩টি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৩টি। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টে আগাম জামিন শুনানি বন্ধ থাকছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে সারা দেশে আদালতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে জরুরী বিষয় শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র চারটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। তবে এসব আদালতে ভার্চুয়ালি শুনানির সুযোগ রাখা হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ৪টি বেঞ্চ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর থেকে আইনজীবীরা বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বার বার দাবি জানিয়ে আসছিলেন আইনজীবীরা।
দাবি জানালেও প্রধান বিচারপতি একবারে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়াননি। পর্যায়ক্রমে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ বুধবার ২৩টি বেঞ্চ বাড়ানোর কারণে এখন বেঞ্চের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৩টি। ফলে হাইকোর্ট বিভাগের সব কটি বেঞ্চই খুলে দেওয়া হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও খাবার নিয়ে সমালোচনা করলে আইনি পদক্ষেপ

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলে আইনি পদক্ষেপ নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটারিয়ার স্বল্পমূল্যের খাবার নিয়ে উপাচার্যের মন্তব্য ও কোভিড-১৯ টেস্ট কার্যক্রমে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা নিয়ে ফেইসবুকে তুমুল সমালোচনা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের জেরে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাবি।
বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেজন্য আলোচ্য বিষয়টির স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন হয়েছে।
খাবার ও কোভিড টেস্ট কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যঙ্গবিদ্রুপ সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
ঢাবি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে, সম্প্রতি দায়িত্বশীল মহল বিভিন্নভাবে সেসব যথেচ্ছাভবে ব্যবহার করছেন, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।বস্তুত কিছু অসাধু চক্র কোনো অপতথ্য বারবার ব্যবহার করে সেটিকে তথ্যে পরিণত করতে চায়, যা জনমনে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, ‘গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধাশীল। একইসঙ্গে, কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনার রীতিনীতি ও মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের মানহানি ঘটায় তাহলে দেশের আইন যে তার প্রতিকার দেয় সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ন ওয়াকিবহাল।’
বিভ্রান্তিকর ও খণ্ডিত তথ্য ব্যবহার করে কোনো বিশেষ মহল যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এবং মানহানি না ঘটাতে পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।
অতি সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্পমূল্যের খাবার নিয়ে উপাচার্যের বক্তব্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা টেস্টের জন্য স্থাপিত পিসিআর ল্যাব নিয়ে ‘খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পত্রিকায় প্রকাশিত ‘খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের স্পষ্টীকরণ’ করে এতে বলা হয়, সম্প্রতি দুটি বিষয় বিশেষভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো ইতোপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ ‘ব্যঙ্গ বিদ্রূপ’ রূপে উপস্থাপন করেছেন। তখন সেটিকে বৃহত্তর সমাজের কিছু মানুষের ভিন্ন রুচি ও ভিন্ন মূল্যবোধ হিসেবে ধরে আমলে নেওয়া হয়নি।
স্বল্পমূল্যের খাবারের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে টিএসসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানস্থল টিএসসির গৌরবময় ভূমিকাও প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে।
তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটেরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবা কার্যক্রমের কথাগুলোও বলেন। পরে জানা গেল, যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাবিহীন এক সাংবাদিক অনাহূতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অংশ কাটছাট করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাক্য ও শব্দ অবলোপন করে ক্যাফেটেরিয়ার বিভিন্ন খাবার আইটেমের মূল্যমান সংক্রান্ত বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ১৫-২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল করে।
সেই সাংবাদিক অবশ্য পরে সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে উপাচার্য বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবার মেন্যুর নজিরবিহীন স্বল্পমূল্য বিষয়ে উপাচার্যের মন্তব্য ‘বিবিসি বাংলা’ পরিচালিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সত্য প্রমাণিত হয়।
পিসিআর ল্যাবের বিষয়ে বলা হয়, ‘দ্বিতীয় বিভ্রান্তিকর তথ্য’টি হলো – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়নি।
কোভিড-১৯ টেস্টিং কার্যক্রম শুরু করে বেশ বিলম্বে; কিছুদিন পর আবার ল্যাব বন্ধ করে দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ডজনেরও অধিক আরটি-পিসিআর মেশিন থাকা সত্ত্বেও সেসব দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা না করে বসে আছে। এ বক্তব্যটি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল।
প্রকৃত ঘটনা হলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই গত বছরের ১৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণরসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম ‘কোভিড-১৯ (প্যানডেমিক) রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি; গঠন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে কোভিড মহামারি প্রতিরোধে কতিপয় সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার প্রস্তাবনা দেয়।
কোভিড-১৯ টেস্ট এর জন্য হাসপাতাল বা ডেডিকেটেড ল্যাবের ন্যায় কোনো ল্যাব ও প্রশিক্ষিত জনবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না।
তিনটি বিভাগের ল্যাবে পঠন-পাঠন ও নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি করে মোট তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যগুলো কনভেনশনাল পিসিআর মেশিন; সেগুলো কোভিড টেস্ট করার উপযোগী নয়।
উল্লেখিত কমিটির মাধ্যমে বিভাগগুলো থেকে তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন এনে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে বায়োসেফ্‌টি নিশ্চিত করে তিন সপ্তাহে তৈরি করা হয় কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর তা ৫ মে উদ্বোধন করা হয়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন শিক্ষক দ্বারা এটি পরিচালিত হতে থাকে।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদের ছুটির সময়ে ল্যাব পরিচালনায় লোকবলের ঘাটতি পড়ে গেল; কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক করোনা সংক্রমিত হলেন এবং আরএনএ কনটামিনেশন নিরসনে ল্যাব জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন হলো।
এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে টেস্টিং কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল; ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। দশ দিন পর যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে, জনবল সংগ্রহ করে পুনরায় টেস্টিং সেবা কার্যক্রম শুরু হয়; যা এখনো চলমান।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঘটনাক্রমে, টেস্টিং কার্যক্রমের সাময়িক স্থগিতের কারণ হিসেবে ল্যাব পরিচালনায় স্বেচ্ছাসেবক-লোকবল ঘাটতি ও আরএনএ কনটামিনেশন নিরসন সংক্রান্ত মূল কারণ চাপা পড়ে যায়; অর্থ সংশ্লেষণের বিষয়টি শীর্ষে উঠে আসে।
বর্তমানে এ ল্যাবটিকে ভাইরোলজি বিষয়ে উচ্চতর গবেষণনার জন্য বায়োলজিক্যাল হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস এ্যান্ড হেল্থ রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামে একটি স্বতন্ত্র ল্যাবে রূপান্তর করা হয়েছে। এ ল্যাবে টেস্টিং এর পাশাপাশি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংও করা হয়েছিল।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে সুপারিশ, ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা পরিবারের ১০ সদস্যকে পাসপোর্ট দেওয়ার সুপারিশ করায় তিন পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
ওই রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ায় ও স্মার্ট কার্ড পাওয়ায় সাবেক জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাশাপাশি পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট ও স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করায় রোহিঙ্গা পরিবারটির ১৩ সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এ মামলাটি করেন সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক পরিদর্শক এসএম মিজানুর রহমান, রুহুল আমিন, প্রভাষ চন্দ্র ধর ও কক্সবাজার জেলার সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেনকে।
তারা বর্তমানে কেউ কক্সবাজারে নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা বর্তমানে কর্মরত আছেন।
আসামি রোহিঙ্গা নাগরিকরা হলেন- মো. তৈয়ব, তার তিন ভাই মোহাম্মদ ওয়াসেস, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ রহিম, স্ত্রী নূর হামিদা, সন্তান আব্দুর রহমান, আব্দুস শাকুর, নূর হাবিবা, বোন আমাতুর রহিম, ভগ্নিপতি নুরুল আলম ও বোনের তিন ছেলে মেয়ে আসমাউল হুসনা, আমাতুর রহমান ও মো. ওসামা।
মামলার বাদী শরীফ উদ্দিন জানান, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এ পরিবারটি রোহিঙ্গা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
“তাদের পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট, স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করে অনেকেই প্রবাস জীবন যাপনও করছেন। তারা মায়ানমার থেকে পরিচিত লোকজনদের নিয়ে এসে পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতেও সহায়তা করেন বলে আমাদের তদন্তে এসেছে।”
এই পরিবারের অনেক সদস্য বাংলাদেশে অবস্থান করে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
দুদক কর্মকর্তা শরীফ বলেন, পরিবারটির সদস্যদের পাসপোর্ট পেতে পুলিশ জনপ্রতনিধিসহ অনেকেই সহায়তা করেছেন। তারা নির্বাচন কমিশনের অনিবন্ধিত ল্যাপটপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৈয়বের পরিবারের আট সদস্যের পাসপোর্ট আবেদনে পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের পাসপোর্ট প্রাপ্তির সপক্ষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। আর সেটি যাচাই বাছাই না করে একমত পোষণ করে অন্য পরিদর্শক প্রভাষ চন্দ্র ধর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন।
অপরদিকে তৈয়ব ও আমাতুর রহিমের পাসাপোর্ট আবেদনে পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন পাসপোর্ট প্রাপ্তির সপক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় তারাও পাসপোর্ট পেয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের রোহিঙ্গা জন্মনিবন্ধন বইয়ের চারটি পৃষ্টা এবং জাতীয়তা সনদের বালাম বই ‘গায়েব’ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা সেগুলো যাচাই বাছাই করলে সহজেই তা ধরতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেননি।
মামলার এক পর্যায়ে বলা হয়, নূর মোহাম্মদ আনছারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসামিদের রোহিঙ্গা উল্লেখ করে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিলের আবেদন করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে তা যাচাই করতে বলা হলে তৎকালীন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন অভিযুক্তদের পক্ষে ‘শক্তিশালী নথিপত্র’ আছে বলে মতামত দেন।
এছাড়াও আসামিদের ভোটর তালিকা নিবন্ধন ফরম-২ নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত না নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে দুদকের মামলায়।
শরীফ উদ্দিন বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুদক রোহিঙ্গাদের হাতে পাসপোর্টের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তখনই পুলিশ অভিযুক্ত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বাতিলের জন্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, আসামিদের পাসপোর্ট পেতে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর সিদ্দিক ও কক্সবাজার আদালতের এক আইনজীবী তাদের পাসপোর্ট আবেদনে প্রত্যয়ন করেছিলেন।
এ মামলার তদন্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আরও আনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে বলেও জানান দুদক কর্মকর্তা শরীফ। সূত্র-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।