ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 119

প্রজেক্ট হিলসায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, মিললো নানা গুরুতর অনিয়ম

0

প্রজেক্ট হিলসা। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে আলোচিত রেস্টুরেন্ট। চালু করার মাসখানেক যেতে না যেতেই স্যোসাল মিডিয়ার কল্যাণে পেয়ে যায় ব্যাপক পরিচিতি। রাজধানী থেকে দলে দলে লোকজন পদ্মাপাড়ে বেড়াতে এসে হিলসায় ঢু মারেন। আর এ সুযোগেই তারা জড়িয়ে পড়ে অনাচারে।অনেকটা ‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’এর মতো অবস্থাটা। আকাশচুম্বি দাম নিলেও মান আর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠেছে প্রশ্ন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লোকজন অভিযান চালিয়ে রেঁস্তোরাটিতে পেয়েছে নানা অনিয়মের চিত্র। রান্নার বাবুর্চিদের নোংরা অবস্থান, ফ্রিজে কাঁচামাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা, বিএসটিআইর অনুমোদনহীন বিভিন্ন খাদ্যপণ্যও পাওয়া গেছে।

ব্যতিক্রমী স্থাপত্য নকশার কারণে সবার নজরে আসলেও শুরুতেই খাবারের মানের চেয়ে দাম বেশি, সার্ভিস চার্জ নিয়ে অসন্তোষসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ‘প্রজেক্ট হিলসা’ রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার শিমুলিয়াঘাটের অদূরে ইলিশ মাছের আদলে নির্মিত এই রেঁস্তোরায় অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের অভিযানে উঠে এসেছে রেঁস্তোরাটির গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। কিচেন পরিষ্কার থাকলেও ফ্রিজে কাঁচামাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবারও মজুত রাখা হয়েছিল।’
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ জানান ‘রেঁস্তোরাটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণের সস ও নুডলসও পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগবে। এক-দেড় হাজার মানুষের জন্য রান্না করার মতো খাবার মজুত ছিল। অর্থাৎ, এসব খাবারের মধ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন সস, নুডলস ছিল।’এ ছাড়া, রেস্তোরাঁটির বাবুর্চি ও কর্মচারীদের টয়লেটের পর সাবান ব্যবহার না করার প্রমাণসহ বেশকিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে।
আসিফ আল আজাদ বলেন, ‘অভিযানে রেঁস্তোরাটিতে অতিথিদের টয়লেটে সাবানের ব্যবস্থা থাকলেও বাবুর্চি ও স্টাফদের টয়লেটে কোনো সাবান পাওয়া যায়নি। টয়লেটের পর বাবুর্চিরা সাবান ব্যবহার করছিলেন না। শুধু পানি দিয়েই হাত পরিষ্কার করছিলেন। এ ছাড়া যে স্যান্ডেল পরে টয়লেটে যাওয়া হয় সেই স্যান্ডেল কিচেনেও ব্যবহার করা হয়। কিচেন পরিষ্কার থাকলেও ফ্রিজে কাঁচামাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবারও মজুত রাখা হয়েছিল, যা ঠিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেস্তোরাঁটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণের সস ও নুডলসও পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগবে। এক-দেড় হাজার মানুষের জন্য রান্না করার মতো খাবার মজুত ছিল। অর্থাৎ, এসব খাবারের মধ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন সস, নুডলস ছিল।’
রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আসিফ আল আজাদ বলেন, ‘যেহেতু রেস্তোরাঁটি অল্প কিছু দিন আগে চালু হয়েছে, তাই আইনকানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জানে না। তাদেরকে নিয়ম-কানুন জানানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো তাদের সতর্ক করা হয়েছে। মূলত ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ সম্পর্কে অবহিত করা ও কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে সেই নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশোধন হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়ম অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সুপ্রিমকোর্ট পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিলই রাখলো, লক্ষীপুরে উপনির্বাচনে বাধা নেই

0

অর্থ ও মানব পাচারের মামলায় কুয়েতের আদালতে দণ্ডিত লক্ষীপুর-২ আসনের সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখার রিট আবেদন খারিজ করে দেয়া হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।
এছাড়া সংসদ সদস্য পদ বাতিলের পর লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপ নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের রিট আবেদন খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনটিতে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখতে পাপুলের পক্ষে করা রিট আবেদন গত ৮ জুন সরাসরি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।
ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডের কারণে পাপুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বৈধতা, লক্ষ্মীপুর-২ নির্বাচনী আসন শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেছিলেন তার বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং পাপুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন।
হাই কোর্টে প্রাথমিক শুনানি শেষে আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেয়া হয়। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আসে। সেখানে প্রধানবিচারপতির নেতৃত্বে বেঞ্চে শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেয়া হয়।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া। শুনানি নিয়ে গত ১৪ জুন হাই কোর্ট এই রিট আবেদন খারিজ করে দেয়।
এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আবুল খায়ের। এর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ ‘নো অর্ডার’ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যার্টনি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
আবুল খায়েরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, অ্যার্টনি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “দুটি আবেদনের একটি আবেদন খারিজ করেছে, আরেকটিতে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচনের তফসিল বৈধ এবং বহাল থাকল। ধার্য তারিখে নির্বাচন হতে বাধা নেই।”
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পাপুল। পরে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করিয়ে আনেন।
অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছর জুনে কুয়েতে গ্রেপ্তার হন পাপুল। ওই মামলার বিচার শেষে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের একটি আদালত।
সেদিন থেকেই পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে পরে গেজেট জারি করে সংসদ সচিবালয়। ওই আসনে উপনির্বাচনের জন্য ২১ জুন তারিখ ঘোষণা করে তফসিলও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়া এবং সাজার কারণে পদ বাতিলের এটাই প্রথম ঘটনা।

পরীমণি, মদ ও ক্লাব নিয়ে আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ

0

ক্লাব ও মদ নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠলো সংসদ। সরকারি ও বিরোধিদলীয় সদস্যরা এ নিয়ে পডরস্পরকে ঘায়েলের চেষ্টাও করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও তরিকত ফেডারেশনের পাঁচ সাংসদের বক্তব্যর পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে একজন চিত্রনায়িকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা বোট ক্লাব। কে করল এই ক্লাব? এই ক্লাবের সদস্য কারা হয়? শুনেছি, ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে এ ক্লাবের সদস্য হতে হয়। এত টাকা দিয়ে কারা ক্লাবের সদস্য হন? আমরা তো ভাবতেই পারি না।’
রাজধানীর কয়েকটি ক্লাবের নাম উল্লেখ করে মুজিবুল হক বলেন, `এসব ক্লাবে মদ খাওয়া হয়। জুয়া খেলা হয়। বাংলাদেশে মদ খেতে হলে লাইসেন্স লাগে। সেখানে গ্যালন–গ্যালন মদ বিক্রি হয়। লাইসেন্স নিয়ে খেতে হলে এত মদ তো বিক্রি হওয়ার কথা নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে এসব ক্লাবের সদস্য হন? এত টাকা কোথা থেকে আসে?’ এসময় মুজিবুল হক আরও বলেন, ‘গুলশান-বারিধারা এলাকায় ডিজে পার্টি হয়। সেখানে ড্যান্স হয়। নেশা করা হয়। মদ খাওয়া হয়। এসব আমাদের আইনে নেই, সংস্কৃতিতে নেই, ধর্মে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন, কেন এসব হচ্ছে? কেন এগুলো বন্ধ করা হবে না? ওইসব ক্লাবের সদস্য কারা হয়?’
মুজিবুল হকের বক্তব্যের পর সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘এ তো বোট ক্লাব। জিয়াউর রহমান স্টিমার ক্লাব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়ার লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান আবার দিয়েছিলেন। হিজবুল বাহার করেছিলেন। যারা অপরাধের শুরু করেছেন, তাদের আগে বিচার করা উচিত। ওখান থেকে ধরতে হবে।’
শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের বিরোধীদলের এক সংসদ সদস্য (মুজিবুল হক) একটা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সিনিয়র এক সদস্য (শেখ সেলিম) কোথায় চলে গেলেন?’
হারুন আরও বলেন, ‘বিদেশি কূটনীতিক, ডোম ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য জিয়াউর রহমান মদের বৈধতা দিয়েছিলেন। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে জিয়াউর রহমান মুসলমানদের জন্য মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।’
হারুনের বক্তব্যের জবাবে আবার সংসদে শেখ সেলিম বলেন, ‘লাকী খানের নাচের কথা কি ভুলে গেলেন? হিজবুল বাহার? জিয়াউর রহমান এগুলো করেছিলেন। এসবের জন্য বিএনপি দায়ী। সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে।’
এরপর তরিকত ফেডারেশনের সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘হারুন সাহেবের সদস্যপদ আজই ছেড়ে দেওয়া উচিত। উনি বললেন, জিয়াউর রহমান মুসলমানদের মদ খাওয়ার পারমিশন দেননি। উনি দেখাক, আইনে কোথায় বলা আছে, মুসলমানরা মদ খেতে পারবেন না। আইন এখানে এনে দেখাক। পদ ছেড়ে দিক।’
এরপর জাতীয় পার্টির সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু লাইসেন্স দেননি। তারপর আইনটার অপব্যবহার হচ্ছে। একজন চিকিৎসক দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়, জীবন বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন মদ খেতে হবে। তারপর লাইসেন্স নেওয়া হয়। বিএনপি এই লাইসেন্স দিয়েছিল।’ এসময় ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানান মশিউর রহমান।

পরীমণির বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে গুলশানে ক্লাবে উশৃঙ্খলতা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

0

বোট ক্লাব থেকে অল কমিউনিটি ক্লাব। বিতর্ক যেনো পিছুই ছাড়ছেনা নায়িকা পরীমণির । মধ্যরাতে বোটক্লাবে গিয়ে যৌন হয়রানীর শিকার হন। এ নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। আর বুধবার জানা গেলো আরেক ঘটনা। বলা হচ্ছে বোটক্লাব কেলঙ্কারির আগের রাতে পরীমণি তার দলবলসহ মধ্যরাতে হাজির হন গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে। সেখানে তিনি উশৃঙ্খল আচরণ করেন। ভাংচুর পর্যন্ত করেন। বিষয়টি এতোদিন চাপাই ছিলো। কিন্তু বোটক্লাব কেলঙ্কারির ঘটনায় পরীমণিরও বিভিন্ন অঘটনের খবর প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে পরীমণি বিভিন্ন বারে গিয়ে মাদক গ্রহণ করেন এবং উশৃঙ্খল আচরণ করেন। তিনি একাই নন সঙ্গে নিয়ে যান দলবল।

তবে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমণির ওপর হামলা ও যৌন নির্যাতন ,এ ঘটনায় মামলা, ক্লাবের প্রভাবশালীসদস্যসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ফলে মনে হচ্ছে এখানে পক্ষ থেকে নানা প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হচ্ছে।
পরীমণির বিরুদ্ধে ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগে গুলশান থানায় একটি জিডি দায়ের করেছে অল কমিউনিটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে ঢাকা বোট ক্লাবকাণ্ডের পর আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে তারা। বিশেষ করে নিয়ম ভেঙে কয়েকটি ক্লাবে মধ্যরাতে এই নায়িকার যাতায়াত ও মদ্যপানের খোঁজ-খবর করছে পুলিশ।

ইতিমধ্যে গুলশান ও বনানী থানার পুলিশ বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি ক্লাবের কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, হঠাৎ করে মধ্যরাতে পরীমণি এসে হাজির হন। অনেক সময় নিয়ম ভেঙে পরীমণির জন্য বার খোলা রাখতে হয়। তিনি কিছু শুনতেও চান না। উশৃঙ্খল আচরণ করেন।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ৭ জুন গভীর রাতে ৯৯৯–এর একটি কলে গুলশান থানা-পুলিশের একটি দল অল কমিউনিটি ক্লাবে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কথা-কাটাকাটির জেরে ক্লাবে গ্লাস ভাঙচুর করেছেন পরীমণি। পরে আর এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা (পুলিশ) ক্লাবে আবারও পরিদর্শনে যাব।’

এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে অল কমিউনিটি ক্লাবের সভাপতি কে এম আলমগীর ইকবাল বেসরকারি‘সময় টেলিভিশন’কে বলেছেন, ঘটনার দিন পরীমণি একজন সদস্যের মাধ্যমে কয়েকজনকে নিয়ে ক্লাবে আসেন। তার পোশাক দেখে ক্লাবের একজন সদস্য আপত্তি তোলেন। তাঁকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু পরীমণি তার কথা না শোনায়, তিনি নিজেই চলে যান। পরীমণি যে সদস্যের মাধ্যমে এসেছিলেন তিনিও পরীমণিকে চলে যেতে বলেন। পরিমণি কথা না শোনায় এক পর্যায়ে ওই সদস্যও চলে যান।

আলমগীর ইকবাল বলেন, পরীমণি তখন চিৎকার চেচামেচি শুরু করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে গ্লাস, ছাইদানী ছুড়ে মারতে থাকেন। এ সময় ক্লাবের লোকজন ৯৯৯ –এ কল করেন। পুলিশ আসার পরও তিনি এগুলো ছুড়তে থাকেন। তখন ক্লাবের দুজন ওয়েটার ছিল। এ সময় পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিযোগ শোনেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশের অনুরোধে পরীমণি ও অন্যরা চলে যান। এরপর আর কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, পরীমণি যে সদস্যের সঙ্গে ক্লাবে এসেছিলেন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৮ জুন বুধবার রাতে বোট ক্লাব কাণ্ডের তদন্তে নেমে কেচো খুঁড়তে সাপ বেরুচ্ছে। তার ব্যাপারে জানাতে ঢাকার একাধিক ক্লাবের কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

তারা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, পরীমণি তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমিসহ কয়েকজন যুবক-যুবতী নিয়ে প্রায়রাতেই অভিজাত ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে মদ পান করতেন মধ্যরাত পর্যন্ত। এক্ষেত্রে প্রায় রাতেই তার কারণে ক্লাবের আইন ভাঙা হতো। বিশেষ করে হাফপ্যান্ট পরে তার সঙ্গী হওয়া জিমি ড্রেসকোডের তোয়াক্কা করতেন না কখনোই। এক ক্লাবে সময় কাটিয়ে তিনি যেতেন আরেক ক্লাবে।
গুলশান পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ৩ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি, তার সাবেক প্রেমিক তামিম হাসান ও দু’টি বেসরকারি টেলিভিশনের দু’জন কর্মকর্তা পরিচয়ধারীকে নিয়ে গুলশানের একটি অভিজাত ক্লাবে যান। তখন তারা মদ্যপ ছিলেন। ক্লাবে ঢুকে পরীমণি ও অন্যরা বার ব্যবহার করতে চান। বার বয় জালাল এতে অসম্মতি জানালে পরীমণি তার গালে চড় মারেন। ক্লাব কর্মকর্তারা বেসামাল আচারণের প্রতিবাদ করলে তিনি নিজেই পুলিশে কল করেন। গুলশান থানা পুলিশের দু’টি পিকআপ ভ্যান সেখানে যায়।
পরে তারা বুঝিয়ে পরীমণিকে বাসায় পাঠান। এ খবর পুলিশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পর বনানী থানা পুলিশ ওই ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বার বয় জালালের কাছ থেকে সেই রাতের ঘটনা জানতে চায়। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এজন্য পুলিশের কাছে সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায়

0

নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর হাজারীবাগ ও যাত্রাবাড়ী থানার দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৬ জুন) বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন অর রশিদ।
গত ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালের দিন রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকা থেকে নিপুণ রায়কে আটক করে সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন— সে সময় এমন একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তাকে আটক করা হয়। এরপর নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মামলা হয়।
এছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দায়ের করা বেআইনি সমাবেশ, গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা অপর মামলায় নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নিপুণ রায়। তার মুক্তির দাবি জানিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সভা-সমাবেশ করে আসছে বিএনপি।

আবুধাবিতে হয়রানি: দুই বাংলাদেশি যাত্রিকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে হাইকোর্টের নির্দেশ

0

আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি ও মেয়ে তানজিন বৃষ্টিকে হয়রানির অভিযোগে ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী মাস থেকে ২০ কিস্তিতে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। নারী যাত্রীদের সঙ্গে অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে রায়ে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের বেঞ্চ বুধবার ১৯২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশিত হয়। রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল আংশিক মঞ্জুর করে হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত বলেন, দুজন নারীকে আবুধাবি এয়ারপোর্টে যে ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে, তা অর্থদণ্ড দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। আদালত ‘নেগলিজেন্স গেস টর্ট’ আইনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের রায় প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আদালত ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেন, যেন জেন্ডার বা শরীরের রং বিবেচনায় ভবিষ্যতে কোনো যাত্রীর সঙ্গে এ রকম আচরণ করা না হয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। ইতিহাদের কান্ট্রি ম্যানেজারের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আজমালুল হোসেন কিউসি ও মো. আজিজ উল্লাহ ইমন।
২০১১ সালের ২৮ জুন আবুধাবি এয়ারপোর্টে এ দুই নারীকে হয়রানি/নির্যাতন/আটকের ঘটনা ঘটে। এরপর একই বছর ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন বাংলাদেশি যাত্রী তানজিন বৃষ্টি। রিটে বিবাদীরা হলেন পররাষ্ট্র সচিব, সিভিল এভিয়েশন সচিব ও চেয়ারম্যান, এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ইতিহাদের অপারেশন ম্যানেজার, কান্ট্রি ম্যানেজারসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৪ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সহধর্মিণী।

পরীমনির ঘটনা; মাদকের মামলায় নাসির-অমিসহ তিন নারী রিমান্ডে

0

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৬৫) ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে (৩৩) রাজধানীর বিমানবন্দরে দায়ের হওয়া মামলায় ৭ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি নাসিরের তিন নারীকে ৩ দিন করে রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আসামিদের রিমান্ডে নিতে আদালতে তুলে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক উদয় কুমার মন্ডল আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড আবেদনের পক্ষে এবং আসামি পক্ষে ঢাকা বার সভাপতি আব্দুল বাতেন, সেক্রেটারি খোন্দকার হযরত আলী, এ এইচ এম ইমরুল কায়সারসহ আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার অন্য আসামিরা হলেন লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪)। তারা নাসিরের রক্ষিতা হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে তোলা হয়।
গত সোমবার দুপুরে ওই পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ওইদিন সকালে ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদসহ ছয়জনকে আসামি করে সাভার থানায় মামলা দায়ের করেন পরীমনি।
অভিযান শেষে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের জানান, এটা পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার অমির বাসা। পরীমনির সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে ওই তিন নারীকে নিয়ে এ বাসায় পালিয়ে ছিলেন নাসির। মাদক রাখার অভিযোগে সেই তিন নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, রোববার (১৩ জুন) রাত পৌনে ১১টার দিকে বনানীর নিজ বাসায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন পরীমনি। তার আগে পরীমনির একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে মুহূর্তেই তোলপাড় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে তিনি তাকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন।

পরীমণির মামলায় প্রধান আসামি নাসির, অমিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধার

0

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির করা মামলার প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ, অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা তিনটার দিকে তাঁদের উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাকি তিনজন হলেন লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধা।
আসামিদের গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মশিউর রহমান।

পরীমণির করা মামলায় মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিরা অজ্ঞাতনামা।
চিত্রনায়িকা পরীমনি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ, অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরীমণির মামলার ঘটনাটি ঢাকা জেলা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) ছায়া তদন্ত করছে।
পরীমণি রোববার রাতে বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, গত ৮ জুন রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে বাইরে বের হন। বন্ধুটি তাঁদের নিয়ে যান আশুলিয়ার একটি ক্লাবে। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজনের সঙ্গে পরীমণির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। ওই ব্যক্তিদেরই একজন হঠাৎ জোর করে তাঁর মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় মারধর করা হয় পরীর সঙ্গে থাকা জিমিকেও।

চিত্রনায়িকা পরীমণির অভিযোগ, ঘটনার পরপরই বনানী থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা তাঁর অভিযোগ রেকর্ড করেননি। বরং সকালে এসে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। এ সময় পুলিশের সাহায্যে পরীমণি হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়েও আতঙ্কবশত চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। এ ঘটনায় মারাত্মক ভেঙে পড়েছেন পরীমনি। ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
রোববার সন্ধ্যার সময় ফেসবুক পোস্টে পরীমণি অভিযোগ করেন, তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন তিনি।

ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদসহ ৬ জনকে আসামি করে সাভার থানায় নায়িকা পরীমণির মামলা

0

চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সাভার থানায় মামলা হয়েছে।
মামলায় ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও আবাসন ব্যবসায়ী নাসির ইউ. মাহমুদ ও অমির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার জনকে আসামি করা হয়েছে। 
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মোট ছয় জনের নামে এই মামলাটি হয়েছে।

পরীমণি জানিয়েছেন, তিনি লিখিত একটি অভিযোগ রুপনগর ও সাভার থানায় দিয়েছিলেন।রূপনগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বলেন, পরীমণি রুপনগর থানা ও সাভার থানায় গতকাল রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি যেহেতু সাভার থানার অন্তর্গত তাই আমরা রুপনগরের অভিযোগটিও সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি।
রোববার রাতে পরীমণি বনানীতে নিজ বাসায় শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। রাত ১১টায় তিনি দুজনের নাম উল্লেখসহ ঘটনার কিছু বিবরণ দেন।
পরীমণি বলেন, ‘আমাকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টাকারীদের একজন রাজধানীর উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির ইউ. মাহমুদ এবং অন্যজন অমি নামের এক ব্যবসায়ী।’
তবে, তাদের বিস্তারিত পরিচয় দেননি তিনি।
পরীমণি বলেন, ‘গত বুধবার রাত ১২টার দিকে আমাকে বিরুলিয়ার একটি ক্লাবে নিয়ে যায় । সেসময় নাসির ইউ. মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।’
‘সেখানে নাসির ইউ. মাহমুদ আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত,’ বলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাসির ইউ. মাহমুদের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রোববার প্রথমে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগ তোলার পর রাতে সাংবাদিকদের বনানীর বাসায় ডেকে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি দুজনের নাম প্রকাশ করে জানান, একজনের নাম নাসির ইউ. মাহমুদ এবং অন্যজন তার (পরীমণি) কস্টিউম ডিজাইনার জেমীর স্কুলবন্ধু অমি নামের এক ব্যবসায়ী। এসময় পরীমণি আরও জানান, নাসির ইউ. মাহমুদ নিজেকে উত্তরা বোট ক্লাবের (ঢাকা বোট ক্লাব) সাবেক সভাপতি বলে নিজেকে দাবি করেন। পরীমণি বলেন, ‘গত বুধবার (৯ জুন) রাত ১২টায় আমাকে বিরুলিয়ায় নাসির ইউ. মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। সেখানে নাসির ইউ. মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করেন। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তারপর আমাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’

এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে বনানী থানায় গিয়েছিলেন দাবি করে পরীমণি বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার অভিযোগ শুনলেও লিখিত কোনো কাগজপত্র নেয়নি। থানা থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে চলে আসি।’

তবে পরীমণির এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া। তিনি জানান, ‘বুধবার (৯ জুন) মধ্যরাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পরীমণি বনানী থানায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি বেসামাল ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় কারও অভিযোগ নেওয়া যায় না।’
ওসি আরও বলেন, সেদিন মধ্যরাতে থানার দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, ‘পরীমণি মদ্যপ অবস্থায় বলেছিল যে তাকে জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছে। তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছে। তবে পরীমণির কথায় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই ডিউটি অফিসার পরীমণিকে প্রথমে চিকিৎসা নিতে বলেন। চিকিৎসার পর অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।’
ওসি জানান, ‘এরপর পুলিশের একটি দল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে পরীমণি আর অভিযোগ করেননি।’ তিনি বলেন, ‘বেসামাল অবস্থায় অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা রবিবার রাত পর্যন্ত তাকে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি।’
বিচার চেয়ে শিল্পী সমিতির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন জানিয়ে পরীমণি দাবি করেন, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (অভিনেতা) জায়েদ খান তাকে আশ্বস্ত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।

দেশের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। ২০১৫ সালে ভালোবাসা সীমাহীন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এরপর দাপিয়ে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী। সেই সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় হরদম পোস্ট করে যাচ্ছেন তিনি।

মডেলিং এর মাধ্যমে তার কর্ম জীবন শুরু করেন পরীমণি। তিনি বিভিন্ন নৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং টিভি নাটকে অভিনয় করেন। মডেলিং থেকে ছোটপর্দায় এবং তারপর রূপালী পর্দায় অভিনয় শুরু করেন পরীমণি। অভিনয় জীবন শুরু করেন টিভি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। সেকেন্ড ইনিংস, এক্সক্লুসিভ, এক্সট্রা ব্যাচেলর, নারী ও নবনীতা তোমার জন্য এ চারটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন। এর মধ্যে জাকারিয়া শৌখিন রচিত নারী ও নবনীতা তোমার জন্য নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন পরীমণি। এতে চিত্রনায়ক আমিন খান, চিত্রনায়িকা পপি এবং ঈশানাও অভিনয় করেছিলেন। প্রথম অভিনীত নাটকেই তিনি ইলিয়াস কাঞ্চন এবং চম্পার সঙ্গে অভিনয় করেন।

 

খালেদা জিয়ার জন্মদিন বিতর্ক গড়ালো আদালতে; সব নথি চেয়েছে হাই কোর্ট

0

খালেদা জিয়ার জন্মদিন বিতর্ক গড়ালো আদালতে; সব নথি চেয়েছে হাই কোর্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে যে বিতর্ক আর সন্দেহ রয়েছে তা নিস্পত্তির জন্য শেষ পর্যন্ত আদালতেই যেতে হলো। খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মতারিখ জানতে এক রিট আবেদন গ্রহণ করে এ সংক্রান্ত সকল নথি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, পররাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শোক দিবসের ভাব-গাম্ভীর্যকে ‘বিকৃত ও ক্ষুন্ন করায়’ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে বিভিন্ন তারিখের উল্লেখ থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। এ ছাড়া বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানিতে অংশ নেন।
আদেশের সময় বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রিট আবেদনটি করা হয়েছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম তখন বলেন, “এটা রুল শুনানির সময় আমরা দেখব।”
গত আড়াই দশক ধরে খালেদা জিয়া ১৫ অগাস্ট তার জন্মদিন পালন করে আসছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে।
বিভিন্ন নথিতে তার আরো জন্মদিনের হদিস পাওয়ায় কোনটি খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিন তা নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। তার জন্মসাল নিয়েও দুই রকম তথ্য মিলেছে এর আগে।
হাই কোর্টে শুনানি শেষে ডিএজি বিপুল বাগমার সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে পাঁচটি তারিখ ব্যবহার করার কথা রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, তার এসএসসির নম্বরপত্রে জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬। বিবাহ নিবন্ধনে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ৯ অগাস্ট ১৯৪৪। ২০০১ সালে নেওয়া তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে জন্ম তারিখ ৫ অগাস্ট ১৯৪৬। চলতি বছরের মে মাসে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদনে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ৮ মে ১৯৪৬। আর তিনি জন্মদিন পালন করেন ১৫ অগাস্ট, জাতীয় শোক দিবসে।
“ফলে আদালত খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত সব রেকর্ড চেয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তা দাখিল করতে বলা হয়েছে বিবাদীদের,”
খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জন্মতারিখ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩১ মে হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মামুনুর রশিদ।
উল্লেখ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন ১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করছেন গত ২৫ বছর ধরে। এর আগে তিনি এ দিনে জন্মদিন পালন করতেন না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই জাতির শোকের দিন বিএনপি ও সমমনারা জন্মদিন পালন করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।