ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 120

ধর্ষণ মামলায় শিশু আসামি; জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ হাইকোর্টের

0

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে গ্রেফতার পরে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ওসিসহ ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও দুই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই চার শিশুকে প্রিজনভ্যানে তোলার অপরাধে আরও চার পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত মামলার রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (১৩ জনু) এ রায় দেন। আদালতের এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম।
রায়ে চার শিশুকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েতউল্লাহর ফৌজদারি মামলার বিচারিক এখতিয়ার প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জিএ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তাকে দেওয়ানি মামলা পরিচালনার এখতিয়ার প্রদান করতে বলা হয়েছে।
আদালত বলেছে, শিশু আইনে পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচারকদের শিশুর অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য যে নির্দেশনা রয়েছে তারা তা পালন করেননি। যদি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে। তাই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তিন পুলিশ সদস্যের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নাকচ করে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।
রায়ে হাইকোর্ট শিশুদের গ্রেফতার ও তাদের আটকাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ে হাইকোর্ট দেশের সকল থানায় শিশুবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, শিশু ডেস্ক স্থাপন এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় যে ধরণের নির্দেশনা রয়েছে তা সকল থানায় টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: কার্টুনিস্ট কিশোর-সামিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সামিউল ইসলাম খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি এবং কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার মো. দিদারুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আফসার আহমেদ গত ১০ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছেন। আদালতের রমনা জেনারেল রেকডিং (জিআর) শাখা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটের অপর আসামিরা হলেন সুইডিশ-বাংলাদেশের সাংবাদিক নেত্র নিউজ সম্পাদক তাসনীম খলিল, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্লগার আশিক মোহাম্মাদ ইমরান ও মো. ওয়াহিদুন-নবী।
অন্যদিকে কারাগারে থাকা অবস্থায় লেখক মোস্তাক আহম্মেদ মৃত্যুবরণ করায় এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলম, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় ও ফেসবুক আইডি ফিলিপ শুমাখার নাম ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটির আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানা পুলিশের এসআই মহসীন সর্দার প্রথম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সেখানে কার্টুনিস্ট কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল এবং লেখক মোস্তাককে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি ও মিনহাজ মান্নান, আশিক মোহাম্মাদ ইমরান, তাসনীম খলিল ও মো. ওয়াহিদুন-নবীসহ আটজনকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছিল।
চার্জশিটে আল-জাজিরা টেলিভিশনে সরকারপ্রধান এবং সেনাপ্রধানকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনে প্রধান চরিত্র হিসেবে সামিউল ইসলাম খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি অব্যাহতি পাওয়া নিয়ে সংবাদপত্রে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় মামলাটি পরে অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। অধিকতর তদন্ত শেষে এবার সাতজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হলো।
আসামিদের মধ্যে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি অবসর প্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল বাসেত খানের ছেলে। ২০০৬ সালের ২০ জুলাই র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এ জে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভুয়া চেক দেন সামিউল। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ল্যাপটপ কেনা নিয়েও প্রতারণা করেন। চেক ডিজঅনারের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনার পর অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য সামিউলকে ত্যাজ্য করেন তার বাবা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল বাসেত। ঠিক এর পরদিন কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসার পথে ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন বাসেত। সামির প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান। তবে তথ্য গোপন করে সামিউল তার নামে যে পাসপোর্ট করেন, সেখানে তার নাম দেওয়া হয় জুলকার সায়ের খান। এমনকি পাসপোর্টে বাবার নামও বদলে কর্নেল ওয়াসিত খান করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৫ মে র‌্যাব-৩-এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক রমনা থানায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মোস্তাক আহমেদ, দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, মিনহাজ মান্নানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তারা রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন মর্মে অভিযোগ আনা হয়।
কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুস্তাক আহমেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে I AM BANGLADESHI নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ আনা হয়। মামলার পর গ্রেপ্তার হয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মোস্তাক কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২৫ মে মোস্তাক কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।

সিরিয়ায় ‘যুদ্ধ করে’ দেশে ফিরে গ্রেপ্তার, জঙ্গি সাখাওয়াত রিমান্ডে, মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

সিরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় ‘জিহাদী কার্যক্রম’ চালিয়ে ফিরে আসা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন লালুকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
শনিবার বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে মহানগর হাকিম হোসেন মোহাম্মদ রেজা ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুক্রবার নগরীর দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার আহলে হাদিস জামে মসজিদ এলাকা থেকে নগরীর দামপাড়া এম এম আলী রোড এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াতকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া যান সাখাওয়াত হোসনে। সেখানে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ শেষে ইন্দোনেশিয়া গিয়ে ‘জিহাদী’ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। ২২ মার্চ ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন।
গত ২২ মার্চ ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফেরার তিন মাস পর শুক্রবার নগরীর খুলশী এলাকা থেকে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪০ বছর বয়সী সাখাওয়াতের বাসা নগরীর দামপাড়া এমএম আলী রোড এলাকায়।
১৯৯৭ সালে মাধ্যমিক পাস করা সাখাওয়াত উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ভারতের ব্যাঙ্গালুরের জহরলাল নেহেরু প্রি ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে।
২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার বিষয়ক বিভিন্ন কোর্স করেন এবং ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখান থেকে ২০১১ সালে দেশে ফিরে আসেন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই রাসিব খান বলেন, ২০১২ সালে ভায়রা মো. আরিফ ও মামুনদের অনুপ্রেরণায় নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামে যুক্ত হন সাখাওয়াত। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ ও প্রচারের কাজ করতেন তিনি।
“সাখাওয়াত ইন্টারনেটে বিভিন্ন জিহাদী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংগঠনটির আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।”
আনসার আল ইসলামের পলাতক নেতা, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জিয়াউল হকের সঙ্গেও সাখাওয়াতের দেখা হয়েছিল বলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান।
রাসিব খান জানায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক গিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে সিরিয়া ঢুকেছিলেন সাখাওয়াত। সেখানে ‘হায়াত তাহরীর আরশাম’ নামে একটি সংগঠনে থেকে ভারী অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে সিরিয়ার ইদলিব শহরে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, সিরিয়া থেকে পুনরায় তুরস্ক ফিরতে ১০ বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাখাওয়াত। একাদশ বার তিনি সফল হন।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কর্মকর্তা রাসিব বলেন, তুরস্কে কিছু দিন থেকে সাখাওয়াত ২০১৯ ইন্দোনেশিয়াতে চলে যান। সেখানে স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি, সন্তানদের নিয়ে যান।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় আহলে হাদিস জামে মসজিদ এলাকা থেকে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ট্যাব, নোটবুক, জিহাদী কাগজপত্র ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বাবুল আক্তারের সন্তানদের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির করার নির্দেশ, মা’ হত্যার গরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তারা

0

স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার আসামি পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের দুই সন্তানকে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমান এই আদেশ দেন। কারাগারে আটক বাবুলের বাবা ও ভাইকে ১৫ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার মিতুর দুই সন্তানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী’ উল্লেখ করে আদালতে করা আবেদনে বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। কিন্তু বারবার উদ্যোগ নিয়েও তা সম্ভব হয়নি।
বাবুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার ১২ বছরের ছেলে এবং আট বছরের মেয়েটি তার পরিবারের কাছে রয়েছে।
মাতৃহীনা শিশু দুটিকে নিজেদের কাছে নিতে গত মাসে ঢাকার আদালতে আবেদন করেন মিতুর বাবা ও হত্যা মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন। তবে তিনিও এখনও পর্যন্ত নাতি-নাতনীর দেখা পান নি।
পিবিআই কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, “মাহমুদা আক্তার মিতুর বড় ছেলে হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ছোট মেয়ে পরিবারের সদস্য হিসেবে এ মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সঙ্গত কারণে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। “চেষ্টা করেও তাদের হাজির করতে না পেরে আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি। আদালত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাক্ষীদের হাজির করতে তাদের দাদা ও চাচাকে নির্দেশ দিয়েছেন।”
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে।
পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। তার ঠিক আগেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন বাবুল। পরে নানা গুঞ্জনের মধ্যে পুলিশের চাকরি ছাড়তে হয় তাকে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর পিবিআই স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে বাবুলের জড়িত থাকার কথা জানালে ১২ মে নতুন মামলা করেন মিতুর বাবা। ওই মামলায় এখন বাবুল কারাগারে আছেন।
আদালতে করা পিবিআই’র আবেদনে বলা হয়, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করতে বাবুল আক্তারের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া এবং চাচা হাবিবুর রহমান লাবুকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা সাড়া দিচ্ছেন না।
নাতি-নাতনীদের ‘খোঁজ না পেয়ে’ মিতুর বাবার আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, “এতে প্রতীয়মান যে, সাক্ষীদের দাদা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ও চাচা হাবিবুর রহমান লাবু সাক্ষীরা যাতে তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিতে না পারে সেজন্য অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।”
এদিকে বাবুল আক্তারের আইনজীবী আরিফুর রহমান বলেন, “আদালতে তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমরা মামলার পক্ষভুক্ত। আদালত কোনো আদেশ দিয়ে থাকলে সে বিষয়ে জেনে পদক্ষেপ নেব।”
তিনি বলেন, “এর আগেও ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বাবুল আক্তারের সন্তানদের বিষয়ে জানতে চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। ওই বিষয়ে ৩১ মে উপস্থিতির দিন ধার্য থাকলেও আমরা জানতে পেরেছিলাম পরের দিন। সেখানে আমরা আইনগতভাবে অগ্রসর হয়েছি। এখানেও হব।”
মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন জানান, “নাতি-নাতনীর কোনো খোঁজ আজ পর্যন্ত আমরা পাইনি। তাই গত মাসে ঢাকার আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেখানে ৩১ মে এবং ৮ জুন ধার্য দিন থাকলেও আমার নাতি-নাতনীদের হাজির করা হয়নি। আগামী ১৫ জুন পরবর্তী দিন আছে।”
“আমরা নাতি-নাতনীদের কাছে রাখতে চাই,” বলেন তিনি।
মিতুর বাবা মোশাররফ যেমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক, তেমনি বাবুলের বাবা ওয়াদুদও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক। বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম।

নায়িকা পরীমণিকে ‘ধর্ষণ ও হত্যা’ চেষ্টা’র অভিযোগ; বিচার চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে

0

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। আর এ ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে চলচ্চিত্র অঙ্গণে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে কে বা কারা কেনো এ হুমকি দিয়েছে তা প্রকাশ করেন নি পরীমণি।
রোববার সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড পেজে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন পরীমণি। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেদনও করেছেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়েছেন।
ফেসবুকে কি পোস্ট করেছেন পরীমণি ?

বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র।
আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।
আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আমি এর বিচার চাই।
এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু, আমি কাউকে পাই না মা।
যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনা বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!
আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কি বলবে এই গেলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মত (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পড়ে গেল) তাদের মত আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো।
আফসোস ছাড়া কারোর কি করবার থাকবে তখন!
আমি তাদের মত চুপ কি করে থাকতে পারি মা?
আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে!
আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন,
মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে , ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্যে দরকার।
আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্যে আপনাকে দরকার মা।
মা আমি বাচঁতে চাই।
আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।

উল্লেখ্য ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা বেশ কয়েকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেও কোনো সংসারই টিকে নি। সর্বশেষ মিডিয়া অঙ্গণের যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিলো সেটিও কয়েকমাসের মধ্যে ভেঙ্গে যায়। ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। সে বছর ‘রানা প্লাজা’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি, যদিও এখনো মুক্তি পায়নি ছবিটি। পরীমনি অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসব তোমায়’, ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘রক্ত’ ও ‘স্বপ্নজ

বিমানবন্দরের সীমানার ভেতর রেস্টুরেন্টে, জবাই করার সময় ১২০টি মরা মুরগিসহ ৭ জন আটক

0

অখ্যাত কোনো রেস্টুরেন্ট নয়, গোপনীয় কোনো স্থানেও নয়, খোদ রাজধানীতে, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমান ভেতরে খাবার হোটেলে মরা মুরগি জবাই করার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী।
পুলিশ জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে অবস্থিত ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’। এখানেই শনিবার বিকেলে মরা মুরগি জবাই করার সময় ৭ জনকে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আফরোজের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ১২০টি মরা মুরগি উদ্ধার করা হয়। যেগুলো জবাই করার জন্য রাখা হয়েছিলো।
বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কাস্টমস হাউসের পার্শ্ববর্তী এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট-এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেল থেকে ২০০টি মুরগি উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে ৮০টি মুরগি জীবিত ছিল, বাকি ১২০টি মৃত। মুরগি জবাই করার সময় হোটেলটির ম্যানেজার, স্টাফ ও মরা মুরগি বহন করা গাড়ির চালকসহ ৭ জনকে আটক করে এপিবিএন সদস্যরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মুরগি ভাইরাসজনিত কারণে মারা যায়। সেই মুরগি রান্না করে খেলে অন্ত্রে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। আর কেমিকেল যুক্ত মরা মুরগি খেলে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৯৫ ভাগ। ওই খাবার অন্ত্রে গিয়ে ক্যানসার কিংবা কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিনই শত শত মরা মুরগি ঢুকছে রাজধানীতে। একাধিক সিন্ডিকেট জীবিত মুরগির চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম দামে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এবং পথের পাশে ভ্রাম্যমাণ ভাজা-পোড়া দোকানে এসব মুরগি বিক্রি করছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে প্রতিরাতে যেসব মরা মুরগি আসে সেসব একটি সিন্ডিকেটের কাছে ঠিকা হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে ওইসব মুরগি ক্রেতাদের কাছে বস্তা বন্দী করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আবার ক্রেতারাও এসে নিয়ে যায় মরা মুরগি। সব কিছুই হয় ভোর রাতের দিকে।
এদিকে ঢাকার বিভিন্ন বাজারেও প্রকাশ্যে ভাগা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে মরা মুরগি। অসাধু দোকানিরা রাতভর বিভিন্ন মুরগির দোকান থেকে মরা মুরগি সংগ্রহ করে। পরে এসব মুরগি কেটে নাড়িভুড়ি পরিষ্কার করে তা কেজি দরে বিক্রি করে। রেস্টেুরেন্টে জীবিত মুরগির দামে মরা মুরগি বিক্রি করা গেলেও রাস্তার পাশের দোকানগুলো থেকে মরা মুরগি বিক্রি হয় তুলনামূলক কম দামেই। আর এসব মুরগির বেশিরভাগ ক্রেতাই হলো দরিদ্র পেশাজীবী মানুষ।

ভারতে নারী পাচার: দেশে ফিরে স্বামীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আরেক নারীর মামলা

0

ভারতে পাচার হওয়ার পর সেখান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসা আরও এক নারী তার স্বামীসহ পাচারকারী চক্রের নয় জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় বৃহস্পতিবার এই নারী মানবপাচার ও বিদেশে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগ এনেছেন মামলায়।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী গত ৩ মে পালিয়ে দেশে ফিরেন। তার স্বামী জাহিদুল ইসলাম রনি (২৭) তাকে ৪০ হাজার টাকায় পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে তার অভিযোগ।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ভালো বেতনে চাকরির কথা বলে রনি এ বছরের ৭ জানুয়ারি ওই তরুণীকে ‘নদী ম্যাডামের’ পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেন। নদী তাকে ভারতের পাচারকারী চক্রের সদস্যদের কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সীমান্ত পার করে ওই তরুণীকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চার মাস আটকে রেখে তার ওপর যৌন নির্যাতন করেন চক্রের সদস্যরা। গত ৩ মে তিনি পালিয়ে ফিরতে সক্ষম হন।
পুলিশ জানায়, ‘তরুণীর স্বামীসহ দেশে অবস্থানকারী মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
এর আগে, ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে দেশে পালিয়ে আসা আরেক তরুণী গত ১ জুন রাতে হাতিরঝিল থানায় রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে হৃদয় বাবুসহ (২৬) পাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৭ মে দেশে ফিরেছেন তিনি।
৩ মে ফিরে আসা তরুণীকে পাচারের সঙ্গেও টিকটক হৃদয়ের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক তরুণীকে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গত ২৭ মে ভারতের পুলিশ হৃদয়সহ আর পাঁচ বাংলাদেশিকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ৫০ সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের সন্ধান পায়।

হবিগঞ্জের ‘জঙ্গি নেতা’ বাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেপ্তার

0

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামের’ এক নেতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মুফতি জসিমউদ্দীন তানভীরকে জঙ্গি সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলার শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলে জিনিয়েছে র‌্যাব।
তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ঘনশ্যামপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাব-৪ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, তানভীর হবিগঞ্জের স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চরমপন্থার উসকানি দেওয়ার প্লাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল।
তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের ৮০ ভাগ ইঞ্জিনের আয়ুশেষ, ৬৫ বছরের পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে গতি পাচ্ছে না ট্রেন, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

0

রেলের ৮০ ভাগ ইঞ্জিনেরই আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। মেকানিক্যাল কোড অনুযায়ী রেলের একটি ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের বেশিরভাগ ইঞ্জিনের বয়স ৬০ থেকে ৬৬ বছর। এসব ইঞ্জিন দিয়ে ঠেলিয়ে ধাক্কিয়ে চলছে রেল। এতে করে রেল চলাচলের যেমন গতি পাচ্ছে না তেমনি এসব ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে রেলকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকে টেনে তোলা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন রেল সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন ৬৫ বছরের পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাবে না।
রেল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে অন্তত ৪শ অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করা হয়েছে, যেগুলো ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চালানো সম্ভব ছিল। অথচ কেবল নতুন ইঞ্জিনের অভাবে অত্যাধুনিক এসব কোচ দিয়ে দ্রুতগতিতে ট্রেন চালানো যাচ্ছে না। পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে নতুন অত্যাধুনিক কোচের ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশী গতি তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রেল চালকরা। এতে অত্যাধুনিক কোচগুলোও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৬৫ বছর আগে ১৯৫৩ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের বহরে জিএমবি-১২ মডেলের ৪০টি ইঞ্জিন আসে। এর পর ৬৬ বছর ধরে এসব ইঞ্জিন এখনো দেশের রেলপথে চলছে। নিয়ম অনুযায়ি এসব ইঞ্জিনের মেয়াদ ১৯৭৩ সালেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এর পর থেকে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। সূত্রটি জানিয়েছে ২৭৩টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১৯৫টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। মেয়াদ আছে মাত্র ৭৮ টি ইঞ্জিনের। অনুসন্ধানে জানা যায়, রেলকে গতিশীল করতে সরকার ৩২৩ কোটি টাকা খরচ করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০টি ইঞ্জিন কিনলেও এগুলো কেনায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ইঞ্জিন না দিয়ে নিম্নমানের ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে দক্ষিণকোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানী। এর সঙ্গে রেলওয়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত।এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, লোকোমোটিভগুলোর দরপত্রের কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (ক্যাপিটাল কম্পোনেন্ট) ইঞ্জিন, অলটারনেটর ও ট্রাকশন মোটর সংযোজিত হয়নি। এছাড়া লোড বক্স টেস্টিং প্ল্যান্টের আওতায় ১১ ধরনের যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি থাকলেও তা দেয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, রেলওয়ের একটি অসাধু চক্রের অদৃশ্য সহযোগিতায় চুক্তি ভঙ্গ করে ইঞ্জিনগুলো দেশে আনা হয়েছে। এসব ইঞ্জিন ব্যবহারের জন্য রেলের ভেতর থেকেই আপত্তি ওঠে। আবার আরেকটি গ্রুপ, সংযোজন-বিয়োজন করে ইঞ্জিনগুলো কাজে লাগানো যায় কিনা এ প্রস্তাব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হয়। নিম্নমানের ইঞ্জিনগুলোই চালানো শুরু করেছে রেলকর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবি’র অর্থায়নে প্রায় ৩২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি রেল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) কেনার জন্য ২০১৮ সালের ১৭ মে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তি অনুযায়ী ১০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তির পর অগ্রিম পরিশোধ করা হয় ২৫ শতাংশ অর্থ। ইঞ্জিনগুলো দেশে আনার পর ৬৫ শতাংশ এবং গুণগত মান যাচাই শেষে বাকি ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের কথা। কিন্তু দেশে আসার পর ইঞ্জিনগুলো নিম্নমানের বলে ধরা পড়ে। এ অবস্থায় সাবেক প্রকল্প পরিচালক নূর আহমেদ হোসেন চুক্তিমূল্যের ৬৫ শতাংশ অর্থ আটকে দেন। ওই অর্থ ছাড় না দেওয়ার জন্য সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ও এডিবিকে চিঠি দেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিতভাবেও উপস্থাপন করেন তিনি। কিন্তু এসব অভিযোগ নিস্পত্তি না করেই ত্রুটিযুক্ত ইঞ্জিন দিয়ে রেল চলাচলের কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ খাতে বড় ধরণের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেল কর্তৃপক্ষ ‘বৈদ্যুতিক’, ‘বুলেট’সহ বিভিন্ন দ্রুতগতির ট্রেন চালুর ‘মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করলেও বাস্তবতা হচ্ছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের কারণে ট্রেনচলাচলে অচলাবস্থায় পড়ছে। গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছে,লাইনচ্যুত হচ্ছে ট্রেন। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে গত দেড়বছর ধরে লকডাউনের কারণে রেল চলাচল অনেক ক্ষেত্রেই বন্ধ থাকছে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রেল চলাচলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০টি ইঞ্জিন কেনায় গুরুতর আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রেলের সাধারণ কর্মচারীরা। একই সঙ্গে দ্রুত মান সম্পন্ন ইঞ্জিন আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রেলে বিরাজমান দুর্নীতি রোধ করে ‘প্রায় অচল’ রেলে গতিসঞ্চারে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সচল হবে না রেল, এমনটাই মনে করছেন তারা।

বিদেশগামী যাত্রীদের করোনার ভূয়া সনদ দেয়ায় রাজধানীতে ৪ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৮ দফা নির্দেশনা

0

বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড- ১৯ পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো রাজধানীর চারটি প্রতিষ্ঠানকে। কিছুদিন তারা ভালো চালিয়েছিলো। কিন্তু এর পরই জড়িয়ে পড়ে দুর্নীতি ও অনিয়মে। তারা দিতে থাকে ভূয়া সনদ। বিদেশগামী যাত্রীরা এ নিয়ে পড়েন বিপদে। টাকা দিয়ে অনেকেই কিনে নেন নেগেটিভ রিপোর্ট। এমন ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদেশগামী যাত্রীদের আরটি-পিসিআর টেস্ট ও নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান চারটি হলো- রাজধানীর পুরানা পল্টনের আল জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাংলামোটরের রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত স্টিমজ হেলথ কেয়ার (বিডি), বিজয় স্মরণীর সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার এবং মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারের মিরপুর ব্রাঞ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, সম্প্রতি এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশগামী করোনা পজিটিভ যাত্রীকে নেগেটিভ সনদ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে।
এছাড়া নমুনা সংগ্রহের নামে বুথে দালাল নিয়োগের মতো অনৈতিক কর্মে যুক্ত হয়েছে এ চার প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিএইচআইএস-২ এর ডাটাবেজ যাচাইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ চার প্রতিষ্ঠানের এসব অপকর্মের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বৈশ্বিক মহামারিতে তাদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। যা দেশের ভাবমূর্তি ভয়ঙ্কররূপে ক্ষুন্ন করেছে। ফলে এ চার প্রতিষ্ঠানের ও তাদের আওতাধীন সব বুথের নমুনা সংগ্রহসহ বিদেশগামী যাত্রীদের আরটি–পিসিআর টেস্ট কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হলো।
বিদেশগামী যাত্রীদের অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে ভুয়া করোনা সনদ সংগ্রহ করছেন। এতে করে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। বিদেশগামীদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে করোনা টেস্ট করার ক্ষেত্রে আটটি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আরটি-পিসিআর পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়া দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবগুলোকে আটটি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এসব নির্দেশনার অমান্য করলে বা এর ব্যত্যয় ঘটলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবসমূহের নিজস্ব ভবনের বাইরে স্থাপিত সব ধরনের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
২. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না।
৩. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করে পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখপূর্বক নমুনা সংগ্রহ ফর্ম পূরণ করতে হবে। কোনোক্রমেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪. বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ, পাসপোর্ট নাম্বার দ্বারা যাচাই করা হবে। শুধু টেলিফোন/মোবাইল নাম্বার প্রমাণক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
৫. সাত দিনের মধ্যে কোনো পজিটিভ রিপোর্ট থাকলে ওই যাত্রীকে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাবে না।
৬. কোনো বিদেশগামী যাত্রী কোভিড-১৯ পজিটিভি হলে, সে কমপক্ষে সাত দিন পর শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করাবেন এবং পরবর্তী সময় যদি নেগেটিভ সনদপ্রাপ্ত হন, সে ক্ষেত্রে দেশত্যাগ করতে পারবেন।
৭. কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে ল্যাবটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
৮. কোনো বিদেশগামী যাত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় স্থানে প্রথমে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে যে, সে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোথাও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করেছে কিনা। করে থাকলে এবং পজিটিভ হলে তাকে সাত দিন পর্যন্ত পুনরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।