রাজধানী ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আবুল কালাম আজাদ, রুবেল, সাগর মিয়া ওরফে ভাষানী, বাবু,আফজাল হোসেন,রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসেল, ফারুক হোসেন ও হেলাল হোসেন। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ১৭ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনার মধুসূদন দাস জানান, হাতিরঝিল মধুবাগ এলাকায় গাড়ি চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার জন্যে অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (৮ জুন) বিকেলে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম, রুবেল, সাগর, বাবু, আফজাল ও রাশেদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য মতে ধারাবাহিক অভিযানে কুমিল্লা জেলার মুজাফফরগঞ্জ এলাকা হতে ফারুক ও হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ১২ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃতরা জানায় তারা চোরাই মোটর সাইকেল কেনাবেচার সিন্ডিকেড চক্রের সদস্য। তারা চোরাই গাড়ি নিজেরা ড্রাইভিং করে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তী এলাকায় দিয়ে আসে। এরপর এ চক্রের দলনেতা গ্রেফতারকৃত ফারুক চোরাই মোটরসাইকেলের আকৃতি প্রকৃতি পরিবর্তন করে চাঁদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় বিক্রি করে।
উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর হলো:
(১) লাল রংয়ের একটি এপাচি আরটি আর ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD624HC10G2N44263,
(২) লাল রংয়ের একটি পালসার ১৫০ সিসি মোটর সাইকেল। যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেটে বগুড়া-ল-১২-১২৫২ এবং চেসিস নং- MD2A11CZ0FWE94588,
(৩) নীল রংয়ের একটি পালসার এনএস রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং-MD2A820Z2GCK02990,
(৪) নীল রংয়ের একটি পালসার ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল। যার চেসিস নং-MD2A11CY5HWA89112,
(৫) কালো রংয়ের একটি সুজকি ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল। যার চেসিস নং- NG4BW-110426, যা ঝালাই এর কারণে অস্পষ্ট। ইঞ্জিন নং- BGA1-662080
(৭) লাল রংয়ের একটি হিরো গ্লামার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MBLJA06EZCGK00162,
(৮) নীল ও কালো রংয়ের একটি বাজাজ ডিসকভার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD2A14AZ8EWK05490
(৯) নীল রংয়ের একটি হিরো হোন্ডা গ্লামার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MBLJA06ANGGM10575
(১০) কালো রংয়ের একটি সুজকি জিক্সার ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MB8NG4BAAF8130356,
(১১) লাল ও কালো রংয়ের একটি বাজাজ ভিসকভার ১২৫ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- PSUB44BY3LTM58623,
(১২) সাদা রংয়ের একটি ইয়ামাহা ফেজার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং-2CL31404889,
(১৩) কালো রংয়ের একটি বাজাজ প্লাটিনা রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD2A18AZ4FWK78896,
(১৪) কালো রংয়ের একটি ইয়ামাহা ভারসন-৩ আর-ওয়ান-১৫ (R-15) রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MH3RG4710LK142730 ,
(১৫) কালো ও সাদা রংয়ের একটি আরটিআর টিভিএস এপ্যাচি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD634KE47F2F52838,
(১৬) কালো ও লাল রংয়ের একটি বাজাজ পালসার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- PSUA11CY8MTA88687,
(১৭) একটি টিভিএস এপ্যাচি আরটিআর রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পাঞ্চিং।
গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১৭ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার , গ্রেফতার ৮
বিয়ে করলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, কনে দিনাজপুরের শাম্মী আকতার মনি
রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বিয়ে করেছেন। কনে দিনাজপুরের বিরামপুরের মেয়ে শাম্মী আকতার মনি। গত শনিবার (০৫ জুন) ঢাকার উত্তরায় কনের বাসায় তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পারিবারিক ছোট পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। কনে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসন বিভাগে চাকরি করেন। এ ছাড়া ‘ল’ পাস করে হাইকোর্টে এক সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে প্র্যাকটিস করছেন। এসব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাম্মী আকতার মনির বড় ভাই মো. মিলন হোসেন।
তবে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেন, সবকিছু চূড়ান্ত হলে তিনিই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাবেন। ইতিমধ্যে বিয়ের ব্যাপারটি কিছু দূর এগিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

অবশ্য মন্ত্রী সরাসরি স্বীকার না করলেও তাঁর ঘনিষ্ট লোকজন বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর বিয়ে করলেন নুরুল ইসলাম সুজন। প্রথম স্ত্রী নিলুফার জাহান ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে এবং তিন সন্তানেরই বিয়ে হয়েছে।
রেল মন্ত্রীর নতুন স্ত্রীর বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর নতুন বাজারে। তাঁর বাবা মৃত আব্দুর রহিম। তিনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) লাইনম্যান পদে চাকরি করতেন। তাদের মূল বাড়ি পাবনা। চাকরির সুবাদে তিনি বিরামপুর আসেন এবং নতুন বাজার এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করে স্থায়ী হন। রেলমন্ত্রীর স্ত্রীরা দুই ভাই এক বোন। দুই ভাই বর্তমানে বিরামপুরের বাড়িতে থাকেন এবং তারা ব্যবসা করেন।
মিলন হোসেন বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ঘরোয়াভাবে গত শনিবার আমার বোনের সঙ্গে রেলমন্ত্রীর বিয়ে হয়েছে। বিয়েতে বরপক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুরের বাসিন্দা হাইকোর্টের বিচারপতি ইজারুল হক ও তার স্ত্রী। কনেপক্ষে আমি ও আমার ভাই উপস্থিত ছিলাম।
মিলন হোসেন বলেন, আমার বোন বর্তমানে উত্তরার বাসায় আছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্বামী রেলমন্ত্রী সুজনের বাড়িতে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং মন্ত্রীকে ফোনে বলেছেন, দেখেন আপনার বিয়েতে উপস্থিত থাকতাম। কিন্তু করোনার কারণে থাকতে পারলাম না। আপনি বিয়ে করে ফেলেন। আমি পরবর্তী সময়ে বউকে বরণ করবো। এজন্য আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীকে বাসায় নেবেন রেলমন্ত্রী। এখন প্রায়ই বোনের উত্তরার বাসায় যান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজুন।
তিনি আরও বলেন, আমার বোনের এর আগে কুষ্টিয়ায় বিয়ে হয়েছিলো। পারিবারিক সমস্যার কারণে ২০১১ সালে ডিভোর্স হয়ে যায়। ওই ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। এরপর থেকে মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকে আমার বোন। ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিরামপুরের বাড়িতে বেড়াতে আসতো; মাঝেমধ্যে আমরাও যাই।
বিয়ের বিষয়ে জানতে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার ফোন দিলেও ধরেননি। তবে রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের বলেছেন, বিয়ের বিষয়টি আমরা শুনেছি। যা বলার মন্ত্রী নিজেই বলবেন। আমাদের কাছে এখনও ধোঁয়াশা। পরিষ্কার করে কিছুই বলতে পারছি না।
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, রেলমন্ত্রী বিয়ে করেছেন এটি সঠিক। বিষয়টি আমি তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে শুনেছি। তবে তার পরিবারের অনেকেই এখনও বিষয়টি জানেন না। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরাও বিষয়টি জানেন না। বিয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী নিজেই জানাবেন। ৬৫ বছর বয়সী নূরুল ইসলাম ১৯৫৬ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে জন্মগ্রহণ করেন।
পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে নবম, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর রেলমন্ত্রী হন সুজন।
নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন শফিউদ্দিন আহমেদ
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদকে জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী ২৪ জুন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন।
বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ওয়াহিদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিএ -২৪৯৬ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল-কে আগামী ২৪ জুন অপরাহ্ন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক প্রতিরক্ষা বাহিনী-সমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, ভাতা, এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন ২০১৮ অনুসারে উক্ত তারিখ অপরাহ্ন থেকে তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
সৌদিতে যৌন নিপীড়ন, ৬ মাসের সন্তান নিয়ে দেশে ফিরলেন আরও এক নারী শ্রমিক
যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে ছয় মাসের সন্তান নিয়ে দেশে ফিরেছেন ৩২ বছরের প্রবাসী আরও এক নারী শ্রমিক। মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ওই নারীর অভিযোগ, সৌদি আরবে যে বাড়িতে তিনি কাজ করতেন, সেই গৃহকর্তা তার ছেলের বাবা। তিনি জানান, নিয়োগকর্তার দ্বারা তিনি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সন্তানসহ বাড়িতে ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওই নারী এখন আশকোনার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছেন।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত তিনি নির্যাতনের শিকার হতেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই জন্ম হয় এই শিশুটির।
ওই নারীর বরাতে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তার পরিবারের কেউ বিষয়টি জানে না। সন্তানকে নিয়ে তিনি পরিবারের কাছে ফিরতে পারছেন না। এটা সমাজের লোকেরা ভালোভাবে নেবে না।’শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর কোনো উপায় না পেয়ে ওই নারী বিমানবন্দর আর্মড পুলিশকে তার দুর্দশার কথা জানান। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ওই নারীকে পরে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক। এটি সৌদিতে আমাদের নারী কর্মীদের উপর চরম নির্যাতনের আরেকটি উদাহরণ।’
এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের কোন বাড়িতে ওই নারী কাজ করতে গিয়েছিলেন, তার নিয়োগকর্তা কে, এগুলো তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করে সন্তানের পিতৃপরিচয় বের করা উচিত।’
তিনি আরও জানান, এখন তাদের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাচ্চাটিকে সুস্থ রাখা এবং ওই নারীকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া। এরপর আমরা তাকে তার বাড়িতে দিয়ে আসার চেষ্টা করব।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২৬ মার্চ সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সন্তান নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার এক নারী। তিনি সৌদি আরবের মক্কায় কেন্দ্রীয় কারাগারে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছেলে সন্তান জন্ম দেন।
গত ২ এপ্রিল নিজের আট মাসের সন্তানকে বিমানবন্দরে ফেলে চলে যান সৌদি আরব ফেরত আরেক মা। ২৪ ফেব্রুয়ারি চার মাসের মেয়েকে নিয়ে ওমান থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হন আরেক নারী গৃহকর্মী। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ অফিসে গিয়ে জানান, তার সন্তানের বাবা একজন ওমানি নাগরিক। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে ওমান পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওমান থেকে হবিগঞ্জের এক নারী তিন মাসের সন্তানসহ দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
শরিফুল হাসান বলেন, ‘এর আগে আমরা এ ধরনের ১২টি ঘটনা দেখেছি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমাদের সোচ্চার ও নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।’ সূত্র- ডেইলি স্টার।
ছাগলকে জরিমানা করা বগুড়ার সেই ইউএনও সীমা শারমিন বদলি
ফুলগাছের পাতা খাওয়ায় ছাগলের মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও ছাগল আটক রাখার ঘটনায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আলোচিত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিনকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মঙ্গলবার তিনি পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
গত ১৭ মে উপজেলা চত্বরে ফুলগাছ খাওয়ার অভিযোগে ইউএনও সীমা শারমিন ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ছাগলকে আটক করে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা করার ৯ দিন পর মালিক সাহারা বেগমকে না জানিয়ে সেটি বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ২৭ মে জরিমানার টাকা ইউএনও নিজে পরিশোধ করেন এবং ছাগল সাহারা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেন।

ছাগল ফেরত দেওয়ার সময় তখন ইউএনও বলেছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে জরিমানার টাকা আমি দিয়েছি। তাকে সংশোধনের জন্য জরিমানা করেছিলাম, শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়। আর সেই নারীর ছাগল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো বিষয়ে বদলির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিষয় ঠিক নয়। স্বাভাবিক নিয়মে তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মঙ্গলবার এসেছে। এটা নিয়মিত বদলি।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা চত্বরে ফুল গাছের পাতা খাওয়ার অভিযোগে একটি ছাগলের দরিদ্র মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন ইউএনও সীমা শারমিন। ছাগলের মালিক সাহারা বেগম জানিয়েছিলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত তার সামনে পরিচালিত হয়নি। এই জরিমানার কথা তিনি জানতে পেরেছেন ইউএনও’র বাড়ির কাজের লোকের মাধ্যমে, সেটিও ছাগলটি আটকের তিন দিন পরে।
ছাগলের মালিক যেহেতু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, সুতরাং তিনি কোনো দোষও স্বীকার করেননি। ফলে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের যে বিধি, সেটা ভঙ্গ হয়েছে এবং এই জরিমানাটা ছাগলের মালিককে নয় বরং সেই ছাগলকেই করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা মতামত দেন। সমালোচনার মুখে ২৭ মে স্থানীয় সাংবাদিক এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ইউএনও সেই ছাগলটিকে তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করেন।
ইউএনও’র বদলির বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সীমা শারমিনের এই বদলি আসলে রেগুলার (সাধারণ) বদলি। এটা কোনো শাস্তিমূলক বদলি নয়। ছাগলকাণ্ড বা ছাগলের জরিমানার ঘটনার সঙ্গে তার এই বদলির কোনো সম্পর্ক নেই। এখন প্রশ্ন হলো, এই বদলি কি তার শাস্তি না দায়মুক্তি?
ইউএনও সীমা শারমিন আদমদীঘি উপজেলায় যোগ দিয়েছিলেন ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। কেন তার এক বছর না হতেই বদলি করা হলো? ডিসি সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন যে, এটা স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। এটা মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। অর্থাৎ সীমা শারমিনকে কী কারণে এত তাড়াতাড়ি বদলি করার হলো, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা হলো না।
বগুড়ার ছাগলকাণ্ডের জন্য সীমা শারমিনকে বদলি করে তাকে এক ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারণ, এখানকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে যে, কোনো ছাগল যদি ফুল গাছের পাতা খায়, তবে তাকেও কঠিন শাস্তি দিতে পারেন প্রবল ক্ষমতাধর ইউএনও। সীমা শারমিন যতদিন বগুড়ায় থাকতেন, ততদিন এই ঘটনাটি তার মর্মপীড়ার কারণ হয়ে থাকত। এখন অন্য জায়গায় বদলি হয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে মানসিকভাবেও দায়মুক্তি পেলেন।
জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট, ইলন মাস্কের মতো আমেরিকার অতি-ধনীরা ‘কোন আয়করই প্রায় দেন না’ চাঞ্চল্যকর তথ্য
আমেরিকার ধনকুবেররা যে কত সামান্য আয়কর দিয়েছেন সে বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে একটি সংবাদ ওয়েবসাইট। তারা দাবি করছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবা ব্যবস্থার নথি থেকে তারা এই তথ্য পেয়েছে।
প্রোপাবলিকা সংবাদ ওয়েবসাইটটি বলছে বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ ধনীর আয়কর রিটার্ন তারা দেখেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট এবং ইলন মাস্ক।

এই ওয়েবসাইটে অভিযোগ করা হয়েছে অ্যামাজনের জেফ বেজোস ২০০৭ এবং ২০১১ সালে কোনই আয়কর দেননি। আর টেসলার মালিক ধনকুবের ইলন মাস্ক কোন আয়কর দেননি ২০১৮ সালে।
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই তথ্য ফাঁস করাকে “অবৈধ” বলে বর্ণনা করেছেন এবং এফবিআই ও কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
প্রোপাবলিকা বলছে কোটিপতি ধনকুবেরদের দেয়া আয়কর বিষয়ে তাদের বর্ণনায় “রাজস্ব বিষয়ক অভ্যন্তরীণ বিপুল তথ্য ভাণ্ডার” তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করবে।
বিবিসি এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এই অভিযোগ ফাঁস করা হয়েছে এমন একটা সময়ে যখন বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কর দেবার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে এবং বিশ্বে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রোপাবলিকা বলেছে আমেরিকার ২৫জন সবচেয়ে বিত্তশালী কর দেন খুবই কম- গড় হিসাবে তাদের মোট আয়ের মাত্র প্রায় ১৫.৮%। আমেরিকায় মূলধারার বেশির ভাগ কর্মীর থেকে তাদের দেয়া করের পরিমাণ অনেক কম।
ওয়েবসাইটের সিনিয়র রিপোর্টার এবং সম্পাদক জেস আইসিঙ্গার বিবিসির টুডে প্রোগ্রামকে বলেছেন: “আমরা বিস্মিত হয়েছি দেখে যে, আপনি যদি কোটিপতি হন, তাহলে আপনার করের অঙ্ক কীভাবে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। সত্যি বলতে কী, একজনের দেয় করের অঙ্ক ‘শূন্য’ হতে পারে এটাতে আমরা হতবুদ্ধি হয়ে গেছি। যারা অতিশয় ধনী ব্যক্তি, তারা পদ্ধতিকে কীভাবে পুরোপুরি আইনি পথে পাশ কাটিয়ে যেতে পারেন।”
জো বাইডেনের পরিকল্পনা
প্রোপাবলিক ওয়েবসাইট বলেছে যে, “পুরো আইনি কর কৌশল ব্যবহার করে বহু বিপুল বিত্তশালীরা তাদের কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয় ট্যাক্সের পরিমাণ হয় একেবারে নগণ্য পরিমাণে নামিয়ে আনছেন অথবা শূন্যের কোঠায় নিয়ে যাচ্ছেন”। অথচ গত কয়েক বছরে তাদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে বিপুল পরিমাণে।
বহু সাধারণ জনগণের মতই বিত্তশালীরাও দাতব্য কাজে অর্থ দান করার মাধ্যমে করে ছাড় পাচ্ছেন এবং তারা দেখাচ্ছেন তাদের উপার্জনের অর্থ বেতন থেকে আসছে না, আসছে বিনিয়োগ থেকে।
প্রোপাবলিকা ফোর্বস সাময়িকীর সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে বলেছে এই ২৫জন শীর্ষ ধনকুবের আমেরিকানের সম্মিলিত সম্পদের মূল্য ২০১৪ থেকে ২০১৮র মধ্যে বেড়েছে ৪০১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু একই সময় তাদের দেয়া সম্মিলিত করের পরিমাণ মাত্র ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে বৈষম্য দূর করতে এবং তার বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগের জন্য দেশটির শীর্ষ ধনীদের কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ।
তিনি সর্বোচ্চ করের মাত্রা বাড়াতে চান, বিনিয়োগের অর্থ থেকে যাদের আয় খুব বেশি তাদের ওপর দ্বিগুণ হারে করারোপ করতে চান এবং যারা সম্পদের উত্তরাধিকারী হবেন তাদের জন্য করের নিয়ম বদলাতে চান।
তবে প্রোপাবলিকা তাদের বিশ্লেষণের উপসংহার টেনে বলছে: “যদিও বাইডেন প্রশাসনের প্রস্তাবের অধীনে আমেরিকার কিছু ধনী, যেমন হেজ ফান্ড বা বিনিয়োগ তহবিলের ম্যানেজারদের বেশি কর দিতে হবে, কিন্তু শীর্ষ ২৫জন ধনকুবেরের গায়ে এর কোন আঁচ লাগবে না।”
বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় আছেন আরেক ধনী জর্জ সোরোস, যিনি অর্থ দান করেন, তিনিও ন্যূনতম ট্যাক্স দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবিসি তার সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার অফিস থেকে সে বিষয়ে কোন উত্তর দেয়া হয়নি। তবে প্রোপাবলিকাকে দেয়া তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে মি. সোরোসের কয়েক বছর কোন কর দেয় ছিল না, কারণ তিনি বিনিয়োগ থেকে লাভ করেননি, বরং তার লোকসান হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে জর্জ সোরোস যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনীদের উঁচু হারে ট্যাক্স দেবার বিষয়টি অনেক বছর ধরেই সমর্থন করে আসছেন।
‘অবৈধ’
আমেরিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হচ্ছে নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ, যার ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্যাদি এই নথিতে রয়েছে, তিনি বলেছেন এই তথ্য প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং এই তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে তিনি “আইনি পদক্ষেপ” নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থায় বাজেট হ্রাসের কারণে বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত বিধান প্রয়োগ করতে তাদের কীধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে তা নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ ওয়েবসাইট প্রোপাবলিকা বেশ কিছু নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এই সংবাদ প্রতিষ্ঠান বলছে সেইসব নিবন্ধের জবাবেই ফাঁস হওয়া নথিগুলো তাদের হাতে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য সচিব জেন সাকি বলেছেন যে “গোপন সরকারি তথ্য অননুমোদিত ভাবে প্রকাশ করা” অবৈধ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিলি অ্যাডামস্ রয়টার্স সংবাদ সংস্থার কাছে পাঠানো এক ইমেলে বলেছেন যে বিষয়টি এফবিআই, কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
“তাদের প্রত্যেকের নিরপেক্ষ তদন্ত চালানোর জন্য সংস্থা রয়েছে,” ইমেলে বলা হয়েছে।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব কমিশনার চালর্স রেটিগ বলেছেন: “নির্দিষ্ট করদাতা সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে তদন্ত চলছে। এই নিবন্ধের তথ্যের যে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থার সূত্রে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।” সূত্র-বিবিসি বাংলা।
সিলেটের তারাপুর চা বাগান, দখলদার রাগীব আলী সুপ্রিমকোর্টের রায় মানছেন না, ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন না, স্থাপনাও সরাচ্ছেন না
গভীর সংকটে পড়েছে সিলেটের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান। আদালতের নির্দেশে ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর আলোচিত এ চা বাগান পরিচালনা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ মিলছে না, সাবেক দখলদার রাগীব আলীও আদালত নির্দেশিত ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন না। ফলে অর্থ সংকটে পড়েছে ব্যবস্থাপনা কমিটি। অর্থের অভাবে শ্রমিকদের বেতন দেয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সপ্তাহখানেক বন্ধ ছিল বাগানের উৎপাদন। এখন আবার উৎপাদন শুরু হলেও তা অব্যাহত রাখা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শঙ্কা বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

সিলেট নগরের তারাপুর এলাকার এ চা বাগান প্রতারণার মাধ্যমে দখল করে নিয়েছিলেন বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলী। ২০১৬ সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাগীব আলীর দখল থেকে চা বাগানের ভূমি উদ্ধার করা হয়। সে সময় আদালত নির্ধারিত সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বাগান বুঝিয়ে দেয়া হয়।
তবে গত বছর উচ্চ আদালতের রিভিউ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচিত এ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার কর্তৃত্ব হারান পঙ্কজ গুপ্ত। রিভিউ রায়ে এ সম্পত্তি সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেন। এরপর চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্যবস্থাপনা কমিটি তারাপুর চা বাগানের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই অর্থ সংকটে পড়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি। এতদিন কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাগানের কার্যক্রম চললেও ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয় কৃষি ব্যাংক। ঋণ না পেয়ে গত মাসে শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারেনি কমিটি। আর মজুরি না পাওয়ায় গত ২০ মে থেকে চা পাতা উত্তোলন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। ফলে বন্ধ হয়ে পড়ে উৎপাদন। ব্যবস্থাপনা কমিটির আশ্বাসে চলতি মাস থেকে আবার কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। তবে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরাই বলছেন, ব্যাংকঋণ বা রাগীব আলীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ না পেলে বাগান পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা জানান, রিভিউ রায়ে চা বাগান ধ্বংসের জন্য শিল্পপতি রাগীব আলীকে সোয়া ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ও বাগানের ভেতর থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত রাগীব আলী কোনো ক্ষতিপূরণ তো দেননি, স্থাপনাও সরিয়ে নেননি।
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে গত ২০ মে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারাপুর চা বাগানের শ্রমিকরা। সেদিন থেকে তারা পাতা উত্তোলন বন্ধ করে দেন। এরপর গত ২৬ মে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাস থেকে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা।
তারাপুর চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি চৈতন্য মোদী বলেন, তারাপুর চা-বাগানের মালিকানা-সংক্রান্ত নানা জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা থাকায় ঘন ঘন মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে যারা বাগান পরিচালনা করছেন, তারা ঠিকমতো বেতন-ভাতা পরিশোধ করছেন না। শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন, মাত্র ১২০ টাকা মজুরিতে আমাদের সংসার চলে। এখন এ টাকাও যদি না পাই তবে না খেয়ে মরতে হবে।
চৈতন্য মোদী জানান, গত ২৬ মে বৈঠকের পর ব্যবস্থাপনা কমিটি এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দিয়েছে। তবে এখনো এক সপ্তাহের মজুরি ও ভাতা বকেয়া রয়েছে। এগুলো না পেলে শ্রমিকরা আবার আন্দোলনে যাবেন।
বর্তমানে তারাপুর চা বাগানে ১৪১ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন তারাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক অপু চক্রবর্তী।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তারাপুর চা বাগান নিয়ে উচ্চ আদালতের রিভিউর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এতে বাগান পরিচালনার লক্ষ্যে পাঁচ বছরের জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে চা বাগানের সম্পত্তি পরিচালনার পাশাপাশি বাগান দখল করে রাগীব আলী ও তার স্ত্রীর নামে গড়ে তোলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া বাগান ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মাণের জন্য রাগীব আলীকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিরল শান্তনু দত্ত সন্তু। তিনি বলেন, আমরা গত জানুয়ারিতে বাগানের দায়িত্ব নিই। এর আগে থেকেই কৃষি ব্যংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাগানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। চা পাতা বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করা হতো।
সন্তু বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাগানের কার্যক্রম চালিয়ে যাই। ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ায় পর ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু গত ৬ মে কৃষি ব্যাংক থেকে জানানো হয়, যেহেতু এটি দেবোত্তর সম্পত্তি তাই তারা আর ঋণ দিতে পারবে না। ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত জানার পর আমরা বিপাকে পড়েছি।
তিনি আরো বলেন, এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দেয়ার পর শ্রমিকরা চলতি মাসে আবার কাজ শুরু করেছেন। আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এ টাকা দিয়েছি। কিন্তু বাগান পরিচালনার জন্য দ্রুত অর্থের সংস্থান না হলে আমাদের পক্ষ থেকে এভাবে টাকা দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। কারণ নিজেদের টাকা দিয়ে বাগান চালানোর সংগতি আমাদের নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আদালতে গিয়ে নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করব।
দেবোত্তর সম্পত্তি জেনেও এতদিন ব্যাংকঋণ দিয়েছে, অথচ আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর কেন অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এমন প্রশ্ন রেখে শান্তনু দত্ত বলেন, আমার মনে হচ্ছে এটি আমাদের ব্যর্থ প্রমাণ করে আবার তারাপুর চা বাগান দখল করার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাগানের ভেতর থেকে রাগীব আলীর স্থাপনা সরানো ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশনা প্রসঙ্গে শান্তনু দত্ত বলেন, এগুলো তো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা কোনো সহায়তা পাচ্ছি না।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বলেন, আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমি তা করে দিয়েছি। এখন বাগান পরিচালনার বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কমিটি দেখবে।
রাগীব আলীর স্থাপনা অপসারণ ও ক্ষতিপূরণ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা কমিটি উদ্যোগ নেবে। তারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করব।
সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার প্রায় ৪২৩ একরের তারাপুর চা বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার এ সম্পত্তি ১৯৯০ সালে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে দখল করে নেন শিল্পপতি রাগীব আলী। এরপর ১৯৯৫ সালে বাগানের ৮দশমিক ২২ একর জায়গার চা গাছ ধ্বংস করে নির্মাণ করেন প্রায় এক হাজার শয্যার জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। মেডিকেল কলেজের পাশে আরো অনেক জায়গাজুড়ে নিজের স্ত্রীর নামে রাবেয়া খাতুন নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের জন্য ছাত্রাবাসসহ বেশকিছু স্থাপনা গড়ে তোলেন রাগীব আলী। এছাড়া বাগান ধ্বংস করে গড়ে উঠেছে আরো অসংখ্য স্থাপনা।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে জানা গেছে, চা বাগানের ভেতরে অবৈধভাবে মোট ৩৩৭টি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এর বেশির ভাগই বহুতল আবাসিক স্থাপনা।
তারাপুর চা বাগানের মালিক বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত ১৯১৫ সালের ২ জুলাই তারাপুর চা বাগানসহ তার সব সম্পত্তি শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউর দেবতার নামে রেজিস্ট্রি দানপত্র করে দলিলপত্র করে দেন। বৈকুণ্ঠ গুপ্তের ছেলে রাজেন্দ্র গুপ্ত ও তার তিন ছেলে মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হন। তার তিন মেয়েকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে পাক সেনারা। ১৯৮২ সালে রাজেন্দ্র গুপ্তের ছেলে পঙ্কজ গুপ্ত ভারতে চলে যান। এ সময় পার্শ্ববর্তী মালনীছড়া চা বাগানের স্বত্বাধিকারী রাগীব আলীকে তারাপুর চা বাগান দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। এরপর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে দেবোত্তর সম্পত্তিটির সেবায়েত বনে যান দেওয়ান মেস্তাক মজিদ, যিনি রাগীব আলীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তিনি রাগীব আলীকে ৯৯ বছরের জন্য বাগানটি লিজ দেন। ১৯৯০ সালে বাগানটির দখল নেন শিল্পপতি রাগীব আলী।
২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তত্কালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে হাইকোর্টের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান রাগীব আলীর দখল করাকে প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে পুরো বাগান সেবায়েত পঙ্কজ গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
এ নির্দেশনার পর ওই বছরের ১৫ মে জেলা প্রশাসন রাগীব আলীর দখল থেকে চা বাগানের ভূমি উদ্ধার করে সেবায়েত পঙ্কজ গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয়। বাগানের ৪২২ দশমিক ৯৬ একর ভূমির মধ্যে ৩২৩ একর ভূমি সেদিন সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তবে বাগানের ভেতরে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজসহ রাগীব আলীর নির্মিত সব স্থাপনা বহাল থাকে। মেডিকেল কলেজসহ স্থাপনাগুলো না সরাতে উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন রাগীব আলী। এ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। তবে রিভিউ রায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসাইনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ পংকজ গুপ্তের সেবায়েত দাবিও খারিজ করে দেন। (দেবাশীষ দেবু ,বণিক বার্তা।)
১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবি ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ব্যাংকটির সাবেক বর্তমানসহ ১৬ জন ব্যাংকারকেও আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ দুদকের ঢাকা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতিবিরোধী আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এরশাদ আলীসহ আরো ১৬ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলী, এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার সাবেক ম্যানেজার এবিএম আব্দুস সাত্তার, কাকরাইল শাখার সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুর রহিম, কাকরাইল শাখার এসভিপি মো. আনিসুর রহমান, সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম, এভিপি মো. রুহুল আমিন, ইভিপি ওয়াসিকা আফরোজ, সাবেক ইভিপি মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এসইভিপি সালমা আক্তার, এভিপি মো. এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম, এমভিপি শামীম এ মোরশেদ, কাকরাইল শাখার ভিপি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ভিপি মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম, কাকরাইল শাখার ডিএমডি মশিউর রহমান চৌধুরী ও সাবেক এমডি শামীম আহমেদ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এরশাদ আলী এবি ব্যাংকের কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ছয়টি ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ নেন। কাকরাইলের এবি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে ২০১৫-১৭ সাল পর্যন্ত ছয় ধাপে এ ঋণ নেয় এরশাদ আলীর প্রতিষ্ঠান।
প্রত্যেক সংসদের জন্য গাড়ির নতুন স্টিকার চায় সংসদীয় কমিটি
সাবেক সংসদ সদস্যদের গাড়িতে এখনও স্টিকার থাকায় বর্তমান সংসদের আইনপ্রণেতাদের গাড়ির জন্য নতুন স্টিকারের নকশা করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা মনে করি প্রত্যেক সংসদের জন্য স্টিকারের পরিবর্তন হওয়া দরকার। নতুন সংসদের জন্য একটি নতুন ডিজাইনের স্টিকার থাকবে।
“কারণ দেখা যাচ্ছে অনেকে পূর্বের সংসদে সদস্য ছিলেন, এখন তারা এমপি নন। কিন্তু গাড়িতে তাদের স্টিকার থেকে যাচ্ছে। বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা নতুন স্টিকার করার কথা বলেছি।”
ডিজাইনটি দেখে এরপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান তিনি।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ সচিবালয়ের সরবরাহ করা গাড়ির স্টিকার নতুন করে ডিজাইন করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
সংসদ সদস্যদের আবাসন, নিরাপত্তা, অফিস বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয় তদারক করে এই কমিটি।
এর আগে ২০১৫ সালে সংসদ সদস্যদের গাড়িতে ব্যবহারের জন্য স্টিকার পাল্টে ফেলে সংসদ সচিবালয়। সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য আলাদা স্টিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই সময়।
এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের গাড়ির জন্যও ওই সময় আলাদা স্টিকার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংসদ অধিবেশনেও আলোচনা হয়।
২০১৯ সালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ফেনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর গাড়িতে ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো থাকা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর বের হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সময় আইনপ্রণেতাদের জন্য তৈরি স্টিকার অন্য গাড়িতে ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।
স্টিকারের অপব্যবহার হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, “এটি অপব্যবহার হয় কিনা, সেটা তো আমরা বলতে পারব না। এটা দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, তারা বলতে পারবে।”
এদিকে বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এর আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন সেবার কাজের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করে একটি প্রতিবেদন পরের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়।
কমিটি জাতীয় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্য ভবনের আশেপাশের সাইনবোর্ড ও ব্যানার এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের জন্যও সিটি করপোরেশনকে সুপারিশ করেছে।
এছাড়া বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যভিনিউতে যাতে কোনো দোকানপাট বসতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে সংসদ সদস্য ভবন এলাকায় অননুমোদিতভাবে বিভিন্ন কক্ষে ও স্থানে বসবাসরতদের দ্রুত উচ্ছেদের সুপারিশ করে।
প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ব্ঠৈকে কমিটির সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম, হুইপ ইকবালুর রহিম, ফজলে হোসেন বাদশা, কাজী ফিরোজ রশীদ, মাহবুব আরা বেগম গিনি, মনজুর হোসেন, আশেক উল্লাহ রফিক, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), মো. হারুনুর রশীদ, সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক সাইফুজ্জামান, সংসদ সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক নাহিদ ইজহার খান ও নার্গিস রহমান অংশ নেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কুয়েতে দণ্ডিত পাপুলের এমপি পদ রাখার রিট সরাসরি খারিজ করলো হাইকোর্ট
সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখতে কুয়েতের আদালতে দণ্ডিত কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের পক্ষে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে রিট আবেদনটির কোনো সারবত্তা নেই উল্লেখ করে মঙ্গলবার এ খারিজের আদেশ দেয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডের কারণে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বৈধতা, লক্ষ্মীপুর-২ নির্বাচনী আসন শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেছিলেন তার বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং পাপুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন।
গত মার্চে ওই রিট আবেদনটি করলেও সোমবার এর ওপর শুনানির পর আদেশের জন্য রাখে আদালত।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, আমাদের রিট আবেদনটি ‘সামারালি (সরাসরি) খারিজ করা হয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে এখন পর্যন্ত মক্কেলদের কাছ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা পাইনি।”
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পাপুল। পরে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করিয়ে আনেন।
অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছর জুনে কুয়েতে গ্রেপ্তার হন পাপুল। ওই মামলার বিচার শেষে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের একটি আদালত।
সেদিন থেকেই পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে পরে গেজেট জারি করে সংসদ সচিবালয়। ওই আসনে উপনির্বাচনের জন্য ২১ জুন তারিখ ঘোষণা করে তফসিলও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়া এবং সাজার কারণে পদ বাতিলের এটাই প্রথম ঘটনা।
পাপুলের পক্ষে রিট আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, বাংলাদেশের আদালতে দণ্ড না হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধানের বিধি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ)অনুচ্ছদে দেশ বা বিদেশের আদালতের কথা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই। সেখানে ‘নৈতিক স্খলনজনিত’ কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্তের কথা বলা হয়েছে। ফলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট এই অনুচ্ছেদ পাপুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এছাড়া পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে দুদকে মামলার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে বলেছিল, কোনো পলাতক বা ফেরারী আসামি আইনি প্রতিকার পেতে পারে না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।











