ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 122

প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যা: মিউটিনির বিচার প্রশ্নবিদ্ধ, হত্যা মামলার বিচার হয়নি, রায় বাতিল করে রিভিউ চেয়েছিলেন এডভোকেট সিরাজুল হক

0

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যার মূল রহস্য যেমন উদঘাটিত হয়নি, তেমনি জিয়া হত্যার বিচারও হয়নি। সামরিক আদালতে যে বিচার হয়েছিলো তা ছিলো সেনা অভ্যুত্থান তথা মিউটিনির। সেই বিচার নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কিন্তু বেসামরিক আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কে বা কারা ছিলো তা রহস্যঘেরাই রয়ে গেছে।

জিয়া হত্যার মূল রহস্য কী ছিল, সেই হত্যার বিচার নিয়ে কেনো কোনো উদ্যোগই নেয়নি বিএনপি? অথচ দলটি ক্ষমতায় ছিলো কয়েকবার। বিএনপির এই অনীহা কেন? এ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন নানা রহস্য। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় ছিলো বিএনপিই। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়ার বিশ্বস্থ। কিন্তু তিনিও উদ্যোগ নেননি দেশের রাষ্ট্রপতি হত্যার। বরং সেনাপ্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে সামরিক আদালত গঠন করে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে মিউটিনির অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমান যখন নিহত হন তখন তিনি সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন না।
১৩ সেনাকর্মকর্তাকে সামরিক আদালতে বিচারের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এই রিটের শুনানিতে আসামী পক্ষে ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হক, ড.কামাল হোসেন, এডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহম্মদ, ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড.এম জহির, এডভোকেট আমিনুল হক প্রমুখ। শুনানিতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে তাদের সব যুক্তি খারিজ করে দিয়ে সামরিক আদালতের রায় বহাল রাখে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং ১৩ সেনাকর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডের পর এ নিয়ে কথা বলছিলেন আইনজীবীরা। তাদেরই একজন প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হক। যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। লেখক গবেষক আনোয়ার কবির লিখিত “ফাঁসির মঞ্চে তেরজন” গ্রন্থে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মিউটিনির চার্জ গঠন করা ঠিক হয়নি। তৎকালিন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হত্যাকাণ্ডের আইনেই সাধারণ আদালতে এঁদের বিচার করা উচিত ছিলো। “আইন আদালত” পত্রিকার পাঠকদের জন্য বিশিষ্ট আইনজীবীরা সেদিন কি বলেছিলেন তা তুলে ধরা হবে। এ পর্বে রয়েছে প্রখ্যাত আইনজীবী প্রয়াত সিরাজুল হক যা বলেছিলেন তার বিস্তারিত।


এডভোকেট সিরাজুল হক স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মিউটিনির চার্জ গঠন করা ঠিক হয়নি। তৎকালিন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হত্যাকাণ্ডের আইনেই সাধারণ আদালতে এঁদের বিচার করা উচিত ছিলো।
আদালতে তাঁর মতামত ছিলো ,চট্টগ্রাম সেনাবিদ্রোহ মামলার নামে ১৩ জনের ব্যাপারে সামরিক আদালতে যে বিচার হয়েছে সেটি আর্মি আ্যক্ট অনুযায়ী ঠিক হয়নি। এঁদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে মিউটিনির চার্জে বিচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় What is mutiny?
মিলিটারি অ্যাক্টে বলা হয়েছে-
The term mutiny implies collective insubordination, or a combination of two or more persons to resist, or to induce other to resist, military authority.
দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো-Is murder as such mutiny?
তৃতীয় প্রশ্ন হলো-Is murder of a President of a country mutiny?
এ ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডটি মিউটিনির পর্যায়ে পড়ে কি নি? এখানে বলা যায় রাষ্ট্রপতির হত্যাকাণ্ডটি একটি হত্যাকাণ্ডই। মিউটিনি নয়। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মিউটিনির চার্জ গঠন করা ঠিক হয়নি। তৎকালীন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হত্যাকাণ্ডের আইনেই সাধারণ আদালতে এঁদের বিচার করা উচিত ছিলো।
এডভোকেট সিরাজুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে তৎকালিন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সঠিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কার করে সাধারণ আদালতের কাছে সোপর্দ করা উচত ছিলো। আমার মতে আইনত এটিই ছিলো শুদ্ধ পদ্ধতি। তা না করে কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডটিকে মিউটিনির পর্যায়ে ফেলে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচার করেছেন ।এটি আইনত শুদ্ধ বলে আমি মনে করি না।
এ ছাড়াও জিয়া হত্যাকাণ্ডের সামরিক আদালতের চার্জ গঠন সম্পর্কে বলা যায় ,আর্মি আ্যক্টের ৫৯(২) ধারাতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি খুন হয়েছেন তিনি যদি মিলিটারী আ্যক্টের আওতায় না পড়েন তা হলে তার বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল করা যায় না। Army act 59(2)-A Person subject to this Act (Army act) who commits an offence of murder against a Person not subject to this Act or to the Indian Air force Act 1932,or to the Pakistan Navy ordinance ,1961 and Pakistan Air force act 1953 or of Culpable homicide not amounting to murder against such a Person or of rape in relation to such a Person, shall not be deemed to be guilty of an offence against this Act and shall not be dealt with under this Act unless he commits any of the said offences while on active service).
এখন বিবেচ্য বিষয় যে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন তিনি আর্মি আ্যক্টের আওতাভূক্ত কি না। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি একজন সিভিল ব্যক্তি ছিলেন। তার কর্তব্য আর্মি আ্যক্টের দ্বারা পরিচালিত নয়। তিনি সংবিধান কর্তৃক গঠিত ও পরিচালিত ব্যক্তি। তিনি কমান্ডার ইন চীফ হলেও আর্মির আ্যক্টিভ সার্ভিসে পড়েন না। সুতরাং মার্ডার অব এ প্রেসিডেন্ট ইজ নট এ মিউটিনি এন্ড সাচ মার্ডার কেননট বি ট্রায়াল্ড বাই কোর্ট মার্শাল আন্ডার দি আর্মি আ্যক্ট।
সিরাজুল হক বলেন, সেদিন ১৯৮১ সালে আমরা যখন উচ্চ আদালতে তেরজনের মামলার ব্যাপারে যে বক্তব্য পেশ করেছিলাম এবং আমি যে আর্গুমেন্ট করেছিলাম সেখানে বলেছিলাম, It was Contended that this was no trial because there was no mutiny and the murder of the President being a civil offence as opposed to military offence was not Cognizable by Court Martial.- সেদিন আদালত আমার বক্তব্যটি শুধু রেকর্ডই করেছেন কিন্তু সুচিন্তিতভাবে বিবেচনায় আনেন নি। তবে আদালত তার প্রদত্ত রায়ের ফাইন্ডিং এ বলেছিলেন যদি মামলাটি কোরাম নন জুডিশ হয় কিংবা মেলাফাইডি হয় তবেই কোর্ট মার্শালের ওপর হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করতে পারে,নতুবা পারে না। এ মন্তব্যের উপরই আদালত আসামিদের আবেদন খারিজ করে দেন। সেদিন আমার বক্তব্যে এটিও ছিলো মার্শাল ‘ল’ কোর্টের এই বিচারটিতে কোরাম নন জুডিস এবং মেলাফাইডি ছিলো।

বর্তমানে যদি আবারো এই বিচারটির সঠিক ট্রায়াল করতে হয় তবে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের দেয়া আগের রায়টি রিভিউ করতে পারে। রিভিউর এই প্রক্রিয়ায় আমাদের সকল আইনজীবীর বক্তব্য গ্রহণ করলে ওই রায়টি বাতিল হতে পারে। রায়টি বাতিল হলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামিদের আত্মীয় স্বজনদের জন্য সরকার ইচ্ছে করলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াতেই সত্যিকারের খুনীদেরকে তদন্তপূর্বক বিচার করা যেতে পারে। আমার মতে এটিই হবে প্রকৃত ন্যায় বিচার। এ প্রক্রিয়ায় দেশের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন সমুন্নত থাকবে। এতে দেশ একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনকে পূরণ করবে।

মানবপাচারের অপরাধে কুয়েতে দণ্ডিত সাবেক এমপি পাপুলের পক্ষে হাইকোর্টে রিট, মঙ্গলবার আদেশ

0

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষীপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেট জারি ও উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। পরে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট সাংসদের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসন শূন্য ঘোষণা করা যায় না। সংসদের কার্যবিধি অনুসারে সংশ্লিষ্ট আদালত হতে দণ্ড সম্পর্কে অবহিত হয়ে স্পিকার আসন শূন্য ঘোষণার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
তবে শহিদ ইসলাম পাপুলের ক্ষেত্রে কুয়েতের আদালত থেকে এমন কোনো চিঠি বা তথ্য স্পিকারের কাছে আসেনি বলে রিট আবেদনকারীরা জানিয়েছেন। তাই আসনটি শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আইনসম্মত হয়নি। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।
রিটে ওই আসন শূন্য ঘোষণার প্রজ্ঞাপন এবং আসনটিতে উপনির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল অবৈধ ঘোষণার আরজি জানানো হয়েছে বলে জানান মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সংসদ বিষয়ক সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। অপরদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, আসন শূন্য ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন রেখেছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে এই আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচন তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শহিদ ইসলামের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং ওই আসনের বাসিন্দা শহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন ওই রিট করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সংসদ বিষয়ক সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে রিটে বিবাদী করা হয়।
গত ২২শে ফেব্রুয়ারি শহিদ ইসলাম পাপুলর আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ৪ঠা মার্চ। ঘোষিত তফসিল অনুসারে ১১ই এপ্রিল ওই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে আগামী ২১শে জুন নির্ধারণ করা হয়। গেজেটে বলা হয়, কুয়েতের ফৌজদারি আদালতে ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন শহিদ ইসলাম। এ কারণে বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সাংসদ থাকার যোগ্য নন তিনি। সে কারণে সংবিধানের ৬৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ (গত ২৮ জানুয়ারি) থেকে তার আসন শূন্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘুষ লেনদেনের মামলায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ শহিদ ইসলামকে গত ২৮শে জানুয়ারি সাজা দেন কুয়েতের ফৌজদারি আদালত। বিচারক রায়ে এই সাংসদকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার বা ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাংসদের বিদেশের মাটিতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। গত বছরের ৬ই জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে আটক করা হয় শহিদকে। আটকের সাড়ে ৭ মাস আর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে ৩ মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি।

কাশিমপুর কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

0

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ আব্দুল আহাদ (৪০) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কারাগারের জেলার মো. আবু সায়েম।
আব্দুল আহাদ সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলার নদার মালপাড়া গ্রামের জমির আলীর ছেলে। তার কয়েদি নম্বর ১২৪/১৭।
জেলার আবু সায়েম জানান, রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৭ সাল থেকে এ কারাগারে বন্দি ছিলেন আহাদ। সোমবার ভোরে হঠাৎ কারাগারের ভেতর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় প্রথমে তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েদি আহাদ স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সেই ওমর ফারুক গ্রেফতার

0

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দুই বছরে দেড়হাজার গ্রাহকের গ্যাস ও পানির বিল সংগ্রহ করে তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন ওমর ফারুক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পালিয়ে যান ফারুক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে ধরা পড়তেই হলো র‍্যাবের গোয়েন্দা জালে। রোববার তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো.মোজাম্মেল হক জানান, মিরপুরে তিতাসের দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের মূলহোতা মো. ওমর ফারুককে (৩২) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, র‌্যাব-৪ এর একটি দল র‌্যাব-৭ এর সহযোগিতায় গতকাল রোববার মো. ওমর ফারুককে (৩২) চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ফারুক ২০১৮ সালে রাজধানীর মিরপুর-২’র ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এবং এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলের টাকা সংগ্রহ করতেন।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে ফারুক গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। গত জানুয়ারিতে মিরপুর এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে বকেয়া বিলের জন্য প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রচারণা চালায়। মাইকিংয়ের পরপরই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ফারুক ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাস্তায় আন্দোলনে নামেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে গত ২৩ জানুয়ারি ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’সহ তিনটি অফিস তালাবদ্ধ করে ফারুক ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান।
র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী মিরপুর মডেল থানায় গত ২ ফেব্রয়ারি ফারুকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরপরই র‌্যাব-৪’র গোয়েন্দা দল ওই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জালিয়াতির মূলহোতা ফারুকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
র‌্যাব জানায়, ওমর ফারুকে বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার সাগরপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি পাশ করে ২০১৪ সালে ঢাকায় মগবাজার এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে মিরপুরের আহম্মেদনগর এলাকায় নিজে বিকাশের ব্যবসা শুরু করেন। প্রতারণার উদ্দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে পাঁচটির বেশি অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে তিনি ২০১৮ সালে মিরপুর-২’র ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন। ওমর ফারুক তার এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতেন।
র‌্যাব আরও জানায়, ফারুক ২০১৮ সাল থেকে তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে বিলের টাকা আত্মসাৎ করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি বিল সংগ্রহের সময় গ্রাহককে ব্যাংকের সিলসহ সংশ্লিষ্ট বিলের রশিদ সরবরাহ করায় ধীরে ধীরে গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এভাবে দেড় হাজার গ্রাহকের তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ছাড়াও, তিনি ‘অটুট বন্ধন’ নামে একটি এমএলএম সমিতি প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ জনগণকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ফারুক এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। ফারুকের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সরকারি চাকুরেদের ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি নয়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

0

কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখার বিধান অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করে রাখা যাবে না। এছাড়াও ওএসডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত কাজ অবশ্যই ১৫০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের স্বাক্ষরের পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ওই রায়ের ২১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করা রাখা যাবে না, এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আর রায়ে সহমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার।
হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে পদায়ন করা হলে অকারণে দেরি না করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিরুপণের জন্য সরকারকে অবশ্যই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিটি যদি অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পায় তাহলে সরকারের উচিত হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত কাজ অবশ্যই নির্ধারিত ১৫০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, এই বিষয়টি আদালতের সামনে আরও অনেকে আগেই উত্থাপন করা আবশ্যক ছিল।
এ প্রসঙ্গে আদালত একটি প্রাচীন প্রবাদের কথা উল্লেখ করেন, ‘একেবারে না হওয়ার চেয়ে দেরি করে হওয়া ভাল।’
পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এর আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনীক আর হক। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
যারা ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি আছেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত আট সপ্তাহের জন্য রায়টি স্থগিত করে আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।
২০১২ সালের জুন মাসে ওএসডি-সংক্রান্ত জনস্বার্থে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের জুনে হাইকোর্টের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত বছরের ৮ জানুয়ারি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়। রায়ে সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করে রাখা যাবে না বলা হয়।
একইসঙ্গে যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করে রাখা হয়েছে তাদের স্ব স্ব পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
ওএসডির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না— এমন যুক্তিতে ২০১২ সালের ৩১ মে সাবেক সচিব আসাফ উদ-দৌলা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কী কী কারণে ওএসডি করে রাখা যায়, সে বিষয় ও সময়সীমার কথা বলা রয়েছে। ওএসডি ও সুপারনিউমারি পদ সংক্রান্ত ওই প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়।
‘এখন থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ (ওএসডি) শুধুমাত্র নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সৃষ্টি করা হবে।
ক. দু’মাসের বেশি ছুটি ভোগকারী। প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তা।
খ. পুরাতন পদ/বৈদেশিক চাকরি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত/বৈদেশিক প্রশিক্ষণ থেকে প্রত্যাগত এবং নতুন পদে যোগদানের জন্য অপেক্ষমান কর্মকর্তা (অনুর্ধ্ব ১ মাস ১৫ দিন)।
গ. বৈদেশিক চাকরিতে যোগদানের জন্য/বৈদেশিক প্রশিক্ষণে যোগদানের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক ভাষা শিক্ষা লাভের জন্য অপেক্ষমান কর্মকর্তা (অনুর্ধ্ব ৩ মাস)।
ঘ. দুর্নীতি, শৃঙ্খলাজনিত কারণ, অসদচারণ ও অযোগ্যতার জন্য প্রাত্যহিক কর্মকর্তা (অনুর্ধ্ব ১৫০ দিন)।
ঙ. প্রশাসনিক/অনিবার্য কারণে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের কর্মকর্তাগণকে (আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় ছাড়া) সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত করা যাবে। তবে এ ধরনের কর্মকর্তাদের তালিকা মাসিক প্রতিবেদন হিসাবে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে প্রেরণ করতে হবে।’
কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য ওএসডি করে রাখা হচ্ছে, যা বেআইনি ও অসাংবিধানিক। সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে অনুপার্জিত আয় কোনো ব্যক্তি ভোগ করতে পারবে না। কিন্তু যাদের ওএসডি করে রাখা হচ্ছে, তারা কোনো দায়িত্ব ছাড়াই সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। জনগণের ট্যাক্সের অর্থ থেকে তাদের বেতন দেওয়া জনস্বার্থ ও সংবিধান পরিপন্থি।
ওই রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ জুন মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেছিল।
রুলে নির্ধারিত কারণ ও সময়ের বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করে রাখা এবং তাদের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা দেওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
পাশাপাশি ওএসডি করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কেন করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া । সৌজন্যে-সারাবাংলা ডটকম।

অর্থপাচার নিয়ে সংসদে সরকার দলের সদস্যের ক্ষোভ

0

বিদেশে অর্থ পাচার হওয়ায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আশরাফ। রোববার সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বাজেট তো দিচ্ছি আমরা। কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচার কিছু কিছু লোক এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যাদের সামনে রেখে বলতে পারি। জীবনের মায়া নিয়ে আমরা যুদ্ধ করি নাই। কিছু পাবার, খাবার বা প্রত্যাশার জন্য যুদ্ধ করিনি। লড়াই করেছিলাম বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সেই দেশে আজকে ঘৃণা, লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়।
এত বড় বড় কিছু চোর, যাদের নাম ওঠে। অথচ প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’। অথচ অর্থপাচারকারী আমার মনে হয় এসবরে বিরুদ্ধে যথেষ্ঠ শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, কর প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমাদের মুহিত সাহেব যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, ২০১০ সালে তিনি বলেছিলেন উপজেলা পর্যায়ে কর প্রশাসন। ২৫ লাখ লোক কর দেয়। এটা গৌরবের কথা। ট্যাক্সের নেট আরও বাড়াতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। কর প্রশাসনের সামর্থ্য আছে। কর প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা যদি আমরা না বাড়াতে পারি তাহলে বাজেটে ইপ্সিত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব না।
তিনি বলেন, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ যদি আসে, আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন। কোভিড-১৯ এর প্রথম ধাপ, দ্বিতীয় ধাপ এখন তৃতীয় ধাপ উঁকি দিচ্ছে। এর মধ্যে এই জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হয়েছে। এটা ভালো বাজেট। সম্ভাবনার বাজেট। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাজেটের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই অর্থবছরে সিপিডি-বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়ার কারণ অন্য। মেগা প্রজেক্টগুলো শেষ হয়ে এসেছে। তা দেখে তারা আবোল-তাবোল বকছে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ সব বিক্রি করে স্থায়ী হয়েছেন আমেরিকায়, পাচার করে নিয়েছেন ৩০০ কোটি টাকা

0

তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড: ফখরুদ্দিন আহমদ, দেশে থাকা স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে নিয়ে গেছেন। মুন্সিগঞ্জে পৈত্রিক বাড়ি, জমি, গুলশানের বাড়ি বিক্রি করে তিনি স্থিতু হয়েছেন আমেরিকায়। ড.আহমদ দেশ থেকে সবকিছু বিক্রি করে অন্তত ৩শ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এই টাকা তিনি বৈধ পথে অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে পারেন নি। অবৈধ ভাবে নিয়েছেন যা অর্থপাচারের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে ড.ফখরুদ্দিন বৈধভাবে কোনো টাকা বিদেশে নেন নি এবং এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশে বহুল আলোচিত নাম। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারীর ওয়ান ইলেভেনের সরকার বললেই চোখের সামনে ভেসে আসে ড: ফখরুদ্দিন আহমদের চেহারা, জেনারেল মঈন ইউ আহমদের চেহারা। বিএনপি জামাতের চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসনে অতিষ্ট হয়ে দেশের রাজনীতি যখন টালমাটাল অবস্থা ঠিক সেই সময়ে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব নেন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমদ। কিন্তু আওয়ামীলীগসহ বিরোধি রাজনৈতিক দলগুলো ড.ইয়াজউদ্দিনের ক্ষমতা গ্রহণ মেনে নেয়নি। দেশজুড়ে চলতে থাকে আন্দোলন। একপর্যায়ে ক্ষমতার দৃশ্যপটে আসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড.ফখরুদ্দিন আহমদ। সেনাবাহিনীর সমর্থনে প্রধান উপেদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান ড.ফখরুদ্দিন। প্রধান উপদেষ্টা ড.ফখরুদ্দিন আহমদ আর সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের যৌথ শাসনে দেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। আধা সিভিল আধা সামরিক শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগে সব দলের শীর্ষ নেতাই কারাগারে নিক্ষেপ হন। বাদ যাননি আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও। শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় দুর্নীতির মামলা। এসব মামলায় ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে অনেকের বিচার সম্পন্ন হয়, জেল জরিমানা হয়। মোটকথা দেশের রাজনীতি নবরূপ লাভ করে। দুই বছর দৌর্দণ্ড প্রতাপে রাষ্ট্রক্ষমতা চালিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয়লাভ করে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। আর এর মাধ্যমে অবসান হয় ফখরুদ্দিন -মঈনউদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকারের শাসন।
আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর পরই অনেকটা নিরবে দেশ ছেড়ে চলে যান ফখরুদ্দিন আহমেদ ও মঈনউদ্দিন আহমেদ। দুজনের গন্তব্যই হয় আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকায় এখন কি করছেন তারা? দেশের দৌর্দণ্ড প্রতাপশালী এই দুই ব্যাক্তি কেনো একবারেই চুপ হয়ে গেলেন? এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, নানা জিজ্ঞাসা।‘ আইন-আদালত’ পাঠকদের জন্য এ পর্বে ড.ফখরুদ্দিন আহমদের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।
আইন আদালতের অনুসন্ধানে একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে ড.ফখরুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ থেকে তার স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছেন। দেশে তার এখন আর কিছুই নেই।

অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ড.ফখরুদ্দিন আহমদের নাড়ির টান ছিন্ন করেন ১৯৭৮ সালে। এর আগ পর্যন্ত তিনি সরকারি কর্মকমিশনে চাকরি করতেন। ১৯৭৮ সালে বিশ্বব্যাংকে চাকরি নিয়ে চলে যান আমেরিকায়। বিশ্বব্যাংকে চাকরীর সূত্রে অবস্থান করেন ওয়াশিংটনে। ২০০০ সালে তিনি প্রথম বাড়ী কেনেন কানাডার টরন্টোতে। বিশ্বব্যাংকের চাকরী শেষ করে তার কানাডায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের কথা ছিলো।
কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় এলে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হয়। উড়ে আসেন বাংলাদেশে। ২৯ নভেম্বর ২০০১ সালে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে, ওয়াশিংটনে স্ত্রীর নামে একটি এপার্টমেন্ট কেনেন ড: ফখরুদ্দিন আহমেদ। গভর্নরের দায়িত্ব শেষ করেই, তিনি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফে) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু আমেরিকা ফেরার আগেই ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুদ্দিন আহমেদ সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দুবছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৯ সালে তিনি আবার চলে আসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । সর্বশেষ সেখানেই স্থায়ী ভাবে অবস্থান করছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে দীর্ঘদিন দেশে সরকারি চাকরী করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। কিন্তু দেশে কোনো সম্পদ তিনি করেন নি। মুন্সীগঞ্জে তার যে পৈত্রিক সম্পত্তি ছিলো সেই জায়গা জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। অবসরের পর পেনশনের টাকা একসঙ্গে তুলে নিয়ে গেছেন। সেটা করেছেন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালেই। সূত্রগুলো জানিয়েছে তার গুলশানের বাসভবন, মুন্সীগঞ্জের পৈত্রিক বাড়ী এবং জমি, পুরান ঢাকায় একটি বাড়ী বিক্রি করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে গেছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে ফখরুদ্দিন আহমদের ম্যারিল্যান্ডে দুটি বাড়ী আছে। কানাডায়ও তার বাড়ী আছে। বছরে একবার কানাডায় গিয়ে থাকেন। তবে তিনি আর দেশে আসবেন না এবং দেশের কথা ভাবেনও না। যে ব্যক্তি উড়ে এসে জুড়ে বসে দেশের শাসনভার গ্রহন করেছিলেন,দৌর্দণ্ড প্রতাপে দেশ চালিয়েছেন সেই ব্যক্তি এখন বিদেশবিভূইয়ে আত্মগোপনের মতো জীবন যাপন করছেন।

টঙ্গির আতঙ্ক কিশোর গ্যাং ‘ডি কোম্পানির’ নেতা লন্ডন বাপ্পী দলবলসহ গ্রেফতার

0

পাঁচ দিন আগে (১ জুন) রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গির আরিচপুর এলাকায় একটি ফুচকার দোকানে খেতে আসেন টঙ্গির আতঙ্ক কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানির কয়েকজন সদস্য। সে সময় ওই ফুচকা দোকানের সব কটি চেয়ারে অন্য লোকজন বসা ছিলেন। তখন ডি কোম্পানির সদস্যরা চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন। চেয়ার ছেড়ে না দেওয়ায় অতর্কিত তুহিন আহম্মেদ ও তুষার আহম্মেদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তারা। এ ঘটনায় তুহিন আহম্মেদ টঙ্গী পূর্ব থানায় ডি কোম্পানির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলা করার পরদিন ৩ জুন ডি কোম্পানির সদস্যরা আরিচপুর এলাকার একটি দর্জি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। আরজু মিয়া নামের এক ব্যক্তিসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এই খবর আসার পর র‍্যাব–১ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
র‍্যাব গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসে, গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার মুর্তিমান আতঙ্ক ডি কোম্পানির কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে দিচ্ছেন রাজিব চৌধুরী। পাঁচ বছর আগে ফেসবুকে এই ডি কোম্পানি নামের গ্যাংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এই গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা ৫০। তাদের বয়স ১৮ বছর থেকে ২৫ বছর। এলাকার মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন ডি কোম্পানির সদস্যরা। গ্রেপ্তার ডি কোম্পানির ১২ জন হলেন রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পী (৩৫), মইন আহমেদ নীরব ওরফে ডন নীরব (২৪), তানভীর হোসেন ওরফে ব্যাটারি তানভীর (২৪), পারভেজ ওরফে ছোট পারভেজ (১৯), তুহিন ওরফে তারকাঁটা তুহিন (২১), রাজিব আহমেদ নীরব (৩০), সাইফুল ইসলাম ওরফে শাওন (২৩), রবিউল হাসান (২০), শাকিল ওরফে বাঘা শাকিল (২৮), ইয়াছিন আরাফাত ওরফে বিস্কুট ইয়াছিন (১৮), মাহফুজুর রহমান ফাহিম (২২) ও ইয়াছিন মিয়া (১৯)।
টঙ্গী পূর্ব থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় শনিবার রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তারা সকলেই টঙ্গীর কিশোর গ্যাং ‘ডেয়ারিং কোম্পানি’ বা ‘ডি কোম্পানির’ সদস্য। এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল তারা। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলত না। রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায় কিশোরগ্যাং ‘ডি কোম্পানির’ প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন লন্ডনে লেখাপড়া করা রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পী।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, চার বছর আগে অস্ত্রসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন টঙ্গীর রাজিব চৌধুরী বাপ্পী। ছয় মাসের মাথায় জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন রাজিব। পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া টঙ্গীর কিশোর গ্যাং ‘ডেয়ারিং কোম্পানি’ বা ‘ডি কোম্পানির’ প্রধান পৃষ্ঠপোষক তিনি। প্রতি মাসে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আসত রাজিবের হাতে। প্রতি সপ্তাহে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ৩০০-৫০০ টাকা করে দিতেন তিনি।
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১২ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রধান আসামি রাজিব চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী।
র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, বর্তমানে উঠতি বয়সের ছেলেদের ক্ষমতার দাপট দেখানো নিয়ে বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে মারামারি আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার জন্য উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়ে খুনোখুনিও করে।
র‍্যাব আগে থেকে কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে কিশোর গ্যাং সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট র‍্যাব কোম্পানি এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালাবে। বাংলাদেশে কোনো কিশোর গ্যাং থাকবে না। যেসব ব্যক্তি কিশোর গ্যাংকে প্রশ্রয় দেবে এবং যারা সদস্য হবে, তাদের প্রত্যেককে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবদুল মোত্তাকিম, র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

0

হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ওই নারীকে ‘শরিয়ত মতো বিয়ে করার বিষয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি দিতে পারেননি মামুনুল হক। কোন কাজি তাঁর বিয়ে পড়িয়েছেন, সেটি তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি। তিনি যেগুলো বলেছেন, সেগুলো বাস্তবিক অর্থে কোনো বিয়ে নয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যেটা আছে, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক করা ধর্ষণের আইনের মধ্যে পড়ে।
রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৬ মামলায় ১৮ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।
তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আসছেন মামুনুল। ধর্ষণের যে অভিযোগ ওই নারী করেছেন, সেটির প্রাথমিকভাবে প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমরা আশা করছি, ওই নারী সুবিচার পাবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের যে সময় আছে, ওই সময়ের মধ্যে আমরা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব বলে আশা করছি।’
এ ছাড়া দেশি-বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।

পাকিস্তানকেন্দ্রিক জঙ্গি সংগঠন ও দেশীয় জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলই ছিল মামুনুল হকের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, আমির খসরু, শফিউল ইসলাম, জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রমুখ।
পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, মামুনুল হক একাধিক মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। এসব মাদ্রাসার নামে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। কিন্তু সংগ্রহ করা বেশির ভাগ অর্থই মাদ্রাসার ছাত্রদের পেছনে ব্যয় না করে তিনি নিজেই ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের কাজে অর্থ ব্যয় করতেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উচ্চাভিলাষ থেকে ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তিনি বলেন, তাঁর অর্থনৈতিক লেনদেনের বেশির ভাগ আইনসিদ্ধ নয়, আইনগত বৈধতা নেই।

পিবিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, মামুনুল হক হরতালের তিন দিন গত ২৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জে এসে নেতা–কর্মীদের উজ্জীবিত করে যান। হরতালের নাশকতার তিন দিন পর ৩১ মার্চ তিনি আবার নারায়ণগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নারায়ণগঞ্জের আসার কথা স্বীকার করেছেন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমেও বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তিনি বলেন, হরতালের সহিংসতার পেছনে উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি।
মামুনুল হক এখন কাশিমপুর কারাগারে।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল,জিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

0

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনি শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন খান, এ এম রাশেদ চৌধুরী ও এসএইচএমএইচএমবি নূর চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব বাতিল করেছে সরকার।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ওই চারজনের খেতাব বাতিল করে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, রাশেদ চৌধুরী ‘বীর প্রতীক’ এবং মোসলেহ উদ্দিন খান ‘বীর প্রতীক’ খেতাবধারী ছিলেন।
খেতাব বাতিল হওয়ায় তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য আর কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এর আগে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় ওই চারজনের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত চার পলাতক খুনির খেতাব স্থগিতের জন্য হাই কোর্ট একটি আদেশ দিয়েছিল গতবছরের শেষ দিকে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে জামুকার বৈঠকে চারজনের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।
‘সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের’ কারণে সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ‘বীর উত্তম’ খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছিল জামুকার ওই সভায়।
তবে জিয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা, যদিও এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবরই বলে আসছেন।
বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার দশ দিনের মাথায় সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া জিয়াও ওই হত্যাকাণ্ডে ‘পুরোপুরি’ জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির পিতার খুনিদের রক্ষায় সে সময় একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন তখনকার ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে খুনিদের রক্ষার পথটি স্থায়ী করার প্রয়াস চালান। হত্যাকারীদের নানা পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ইতিহাসে চিহ্নিত কালো ওই অধ্যাদেশ বাতিলের পর জাতির পিতার খুনের বিচারের পথ খোলে।
এরপর বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালতের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী ছয় খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে পাঁচজন এখনও রয়েছেন পলাতক।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ওই চারজনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি রুল জারি করে হাই কোর্ট।
সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠকে খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয় বলে কর্মকর্তারা জানান।