বাংলাদেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি টিকা করোনাভ্যাকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাওয়া করোনাভাইরাসের পঞ্চম টিকা।
রোববার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, চীনের সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্স কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত এই টিকা জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদনের জন্য আবেদন করে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশে সিনোভ্যাকের স্থানীয় এজেন্ট।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ওষুধ প্রশাসন সিনোভ্যাকের টিকাটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
ওষুধ প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চীনে ফেব্রুয়ারির নয় তারিখে ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সিনোভ্যাকের তৈরি এই টিকা বাংলাদেশ ছাড়া আরো ২২টি দেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে।
সিনোভ্যাকের এই টিকা দিতে পারবেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কোন ব্যক্তি।
প্রত্যেককে এই টিকার দুই ডোজ নিতে হবে, দুই বা চার সপ্তাহ পর এই দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে হবে।
ওষুধ প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিনোভ্যাকের টিকা সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত তাপমাত্রা দুই থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাংলাদেশে এর আগে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া টিকা গুলো হচ্ছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার উৎপাদিত স্পুটনিক ভি, চীনের সিনোফার্ম এবং ফাইজারের টিকা।
এর আগে ১২ই মে বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছিল চীন।
৫টি ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকাই প্রয়োগ করা হয়েছে, যেটির স্থানীয় এজেন্ট বেক্সিমকো।
এই টিকাটি তৈরি করা হয় ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটে। ভারত এই টিকা রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কারণে বাংলাদেশের আর এই টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে।
চীনের সিনোভ্যাকের টিকা প্রয়োগের জরুরি অনুমোদন দিল সরকার, স্থানীয় এজেন্ট ইনসেপ্টা
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর জামিন আপিল বিভাগে স্থগিত
নাশকতা ও গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি ও শাহবাগ থানার দুই মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়েরের নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানি ২০ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগ রোববার এই আদেশ দেন। ওই দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়।
গত ৩০ মে হাইকোর্ট ওই দুই মামলায় আসলাম চৌধুরীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে, যা চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান।
আসলাম চৌধুরীর আইনজীবীর তথ্যমতে, অন্য মামলায় ২০১৬ সাল থেকে আসলাম চৌধুরী কারাগারে আছেন। নাশকতার অভিযোগে ২০১৩ সালে করা ওই দুই মামলায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির (সন্দেহজনক) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর একই বছরের ২৬ মে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। মামলায় আসলামের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘বাংলাদেশের সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ’ আনা হয়। এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন। সূত্র -প্রথম আলো।
সাতক্ষীরার সীমান্তে অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা নারী-শিশুসহ পাঁচজন আটক
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে অবৈধপথে ভারত থেকে আসা শিশু-নারীসহ পাঁচজনকে আটক করে সীমান্তের হিজলদী বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। পরে বিজিবির তত্ত্বাবধায়নে তাদের সোনাবাড়িয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের বাড়ি বরিশাল ও চট্টগ্রামে। শনিবার সকালে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন বরিশালের আগলঝাড়া থানার বাশাইলের গোয়াইন গ্রামের বিনয় হালদার (৩৫), তার স্ত্রী পারুল হালদার (৩০), তাদের দুই ছেলে বিজন (৭) ও বিক্রম (৫) এবং চট্টগ্রামের পুটিয়া থানার সুমননন্দীর লাউয়ারবিল গ্রামের ফুল মাহমুদের স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (৩০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি জানান, সকাল ৮টার দিকে হিজলদী বাজারে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। একপর্যায়ে তারা অবৈধপথে ভারত থেকে এসেছেন বলে স্বীকার করে জানান, ভারতের মুম্বাই শহর থেকে চোরাকারবারীদের সহায়তায় গভীর রাতে অবৈধপথে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে (বাংলাদেশ) প্রবেশ করেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, তিনি ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদেরকে পার্শ্ববর্তী হিজলদী বিওপির ক্যাম্প কমান্ডারকে অবহিত করেন। এরপর তাদেরকে বিজিবির নিকট সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে হিজলদী বিজিবি ক্যাম্পের এক সদস্য জানান, আটকদের পাশের সোনাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষে করোনা পরীক্ষাও করা হবে। করোনামুক্ত থাকলে ১৪ দিন পর তাদের থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হবে।
আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতে জঙ্গিদের হামলায় নিহত ১৩২
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর উত্তরাঞ্চলীয় একটি গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গী হামলায় ১৩২ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এই হামলাকে ভয়াবহতম বলছে দেশটির সরকার। হামলার পর সে দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে । খবর বিবিসি।
এরই মধ্যে জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এক বিবৃতিতে বুরকিনা ফাসো সরকার জানিয়েছে, জঙ্গিরা হঠাৎ করেই নাইজার দেশসংলগ্ন ইয়াগহা প্রদেশের সোলহান গ্রামে হামলা চালায়। রাতের অন্ধকারে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই হামলা চলে। এরপর গ্রামের বাড়িঘর ও বাজার জ্বালিয়ে দেয় জঙ্গিরা। যার ফলে ঘুমন্ত অবস্থাতেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পালানোর সুযোগ পায়নি কেউ। এ ঘটনায় বুরকিনা ফাসো সরকার তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। অর্ধনমিত রয়েছে সে দেশের পতাকা।
আলজাজিরার জানায় একটা সময় পশ্চিম আফ্রিকার এসব অঞ্চলে বোকো হারামের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর ক্ষমতা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু একাধিক দেশের সঙ্গে জোট বেঁধে লাগাতার বোকো হারামের ওপর চলে হামলা। তাতে কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে বোকো হারাম। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে আফ্রিকার বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজার এলাকায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী—আল কায়েদা ও আইএস নতুন করে শক্তি বাড়িয়েছে। তাতে যোগ দিয়েছে বোকো হারামের মতো সংগঠন। তাতে শক্তি বেড়েছে। আর সেই শক্তির জানান দিতেই বুরকিনার ফাসোর এই হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুরকিনা ফাসো পশ্চিম আফ্রিকার একটি ল্যান্ডলকড (চারপাশে স্থলভূমি) দেশ। অত্যন্ত দরিদ্র এবং নিরক্ষতায় সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া দেশের মধ্যে বুরকিনা ফাসো অন্যতম।
বার বার জঙ্গিদের নিশানা হয়েছে দেশটি। তথ্য বলছে, গত দুই বছরে একের পর এক জঙ্গি হামলার জেরে দেশটির ১৪ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে কয়েক লাখ মানুষের। বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে দেশে পাঠানো হয়েছে শান্তিরক্ষা বাহিনী। কিন্তু তাতেও থামেনি সহিংসতার ঘটনা।
রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারের বিরোধী দলগুলোর ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ হঠাৎ কেন রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিল
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে অনেক চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারের যে রাজনীতিকরা রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি দিতে রাজী হয়নি, হঠাৎ করে তাদের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন বেশ বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো অং সান সুচির দল এনএলডি-সহ বিরোধী দলগুলোর একটি জাতীয় মোর্চা থেকে গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এই নাটকীয় ঘোষণাটি দেয়া হয়। এতে রোহিঙ্গাদের অধিকারের স্বীকৃতি শুধু নয়, ১৯৮২ সালের যে নাগরিকত্ব আইনের বলে তাদের অধিকার হরণ করা হয়, সেটি বিলোপের অঙ্গীকারও রয়েছে।

গণতন্ত্রের দাবিতে রক্তাক্ত সংগ্রামে লিপ্ত মিয়ানমারের বিরোধী দলগুলো এখন গড়ে তুলেছে একটি সমান্তরাল সরকার, যেটি ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের জন্য এই এনইউজি এখন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ঘোষণাটি দেয়া হয়েছে এই এনইউজির তরফ থেকে। ঘোষণাটিকে বেশ ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠনও এটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের অবস্থান কতটা আন্তরিক অথবা রোহিঙ্গাদের অধিকারের পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি এই ঘোষণায় আছে কিনা- তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এনইউজি’র ঘোষণায় কী আছে
গত ৩রা জুন এনইউজি রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে যে নীতি ঘোষণা করেছে, তাতে বেশ কয়েকটি অঙ্গীকার করেছে তারা।
প্রথমত, এতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গারা যে হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তার স্বীকৃতির পাশাপাশি যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিচারের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের বিচারের এখতিয়ার দেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এতে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন/বিলোপের অঙ্গীকার করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব হরণের ক্ষেত্রে এই আইনটিকে ব্যবহার করে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
তৃতীয়ত: এই ঘোষণায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি মেনে চলার অঙ্গীকার আছে।
২০১৭ সালে সর্বশেষ রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট শুরু হওয়ার পর এতটা খোলাখুলি মিয়ানমারের রাজনীতিকদের এভাবে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়নি।

এই ঘোষণার গুরুত্ব কতটা?
“এটি আসলে মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্যের সরকারের তরফ হতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়ের স্বীকৃতি,” বলছেন মিয়ানমার বিষয়ক বিশ্লেষক ল্যারি জ্যাগান।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে এনইউজি স্পষ্টতই মিয়ানমারের সামরিক সরকারের চাইতে একটা পরিষ্কার ভিন্ন অবস্থান নিতে চেয়েছে। কারণ সামরিক বাহিনী এখনো পর্যন্ত বলে যাচ্ছে ‘রোহিঙ্গা’ বলে কিছু নেই।
তিনি বলেন, “মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী দলগুলোর অবস্থানে যে একটা পরিবর্তন ঘটেছে এটা তারই ইঙ্গিত। কারণ আমরা দেখেছি অং সান সুচি এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এর আগে ‘রোহিঙ্গা’ কথাটির উল্লেখ পর্যন্ত এড়িয়ে গেছে, তারা এদেরকে ‘আরাকানি মুসলিম’ বলে বর্ণনা করতো।
ল্যারি জ্যাগানের মতে, এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক দুটি। প্রথমত, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বিলোপের অঙ্গীকার। কারণ এই আইনটাই অনেক সমস্যার মূলে।
আর দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের স্বীকৃতি এবং তাদের ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার।
এনইউজি’র এই ঘোষণা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় গ্রুপগুলোর মধ্যেও আশাবাদ তৈরি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও একে স্বাগত জানিয়েছে।
তবে রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকে মনে করেন, এই ঘোষণায় কিছু অস্পষ্টতা এখনো রয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একটি সংগঠন বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট টুন খিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তারা একদম পুরোপুরি সঠিক নীতি এবং অবস্থান নিয়েছে এটা আমি বলবো না। তাদের দিক থেকে আরও অনেক কিছু পরিষ্কার করে বলার দরকার আছে। তবে একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা একে স্বাগত জানাই।”
টুন খিনের মতে, এই ঘোষণায় অনেক কিছু বলা হলেও রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারেরই এথনিক গোষ্ঠী এবং অন্যান্য এথনিক গোষ্ঠীর মতো তাদেরও যে সমান অধিকার আছে- সেটা স্পষ্ট করে বলা নেই।
“এর প্রকাশ্য স্বীকৃতি আমরা চাই। আমরা আগের মতো আচরণ চাই না। তাই আমরা এনইউজির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে একটি প্রকাশ্য নীতি ঘোষণা করতে।”
কিন্তু একটি বিদ্রোহী সরকারের স্বীকৃতির মূল্য কী?
মিয়ানমারের প্রায় সব প্রধান বিরোধী দলগুলোর রাজনীতিকদের নিয়ে এনইউজি গঠিত হয় গত ১৬ই এপ্রিল। ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানো এনএলডির নির্বাচিত পার্লামেন্টারিয়ানরা আছেন এই সরকারে। আছেন আরও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং দলের রাজনীতিকরা।
ল্যারি জ্যাগানের মতে, এনইউজি যে মিয়ানমারের মূলধারার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সেদিক থেকে এই স্বীকৃতির একটা মূল্য অবশ্যই আছে।
“এনইউজি তাদের মোর্চাটা অনেক বড় এবং ব্যাপক রাখতে চায়। এখানে অন্য দলগুলোকেও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব আছে, সিভিল সোসাইটি এর সঙ্গে আছে। এটি মিয়ানমারের মূল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু এটি যতটা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিৎ, ততটা নয়। যেমন রোহিঙ্গাদের কাউকে রাখা হয়নি এই সরকারে।”
ল্যারি জ্যাগান বলেন, “কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটা একটা সমান্তরাল সরকার, এরা ক্ষমতায় নেই। কাজেই এসব নীতি বাস্তবায়নের কোন ক্ষমতা তাদের নেই। আর এটাও বোঝা কষ্টকর, এই সিদ্ধান্তে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নীতির প্রতিফলন কতটা আছে। বিশেষ করে অং সান সুচি এবং অন্যান্যরা এই নীতি কতটা অনুমোদন করেন। যদিও এনইউজির সঙ্গে এনএলডির অনেকে যুক্ত।”
অং সান সুচি যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন, ততদিন শুধু রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিপক্ষে একটি অনমনীয় কঠোর অবস্থানই শুধু নেননি, আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে মিয়ানমারের জেনারেলদের রক্ষা করতে সশরীরে সেখানে গিয়েছিলেন তাদের পক্ষে কথা বলতে। হঠাৎ করে রোহিঙ্গা প্রশ্নে এভাবে ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদলানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার সায় কতটা আছে?
বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট টুন খিন বলেন, “অং সান সুচি যেহেতু এখনো গৃহবন্দী, সেটা বলা খুব মুশকিল। তবে এনইউজি তো তার দলের লোকজনেরই সরকার। সেটা স্পষ্ট।”
ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর যখন নির্বাচিত পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া হয়, তারপর হতেই অং সান সুচি এবং এনএলডির শীর্ষ নেতাদের বন্দী করা হয়। তখন এনএলডির নির্বাচিত এমপিরা অন্যান্য দলের এমপিদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সিআরপি নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠন হতেই পরে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি’র জন্ম হয়।
ল্যারি জাগান বলেন, “অং সান সুচি এবং এনএলডির কারাবন্দী নেতারা তাদের দলের প্রতিনিধিদের কাছে কী বার্তা পাঠিয়েছেন, তা জানা দুষ্কর। কিন্তু আমার ধারণা, অং সা সুচি চেয়েছেন এরকম একটা কিছু হোক। ১৯৯০ সালেও তারা এটা করেছিলেন, তখন বৃহত্তর জোট গড়েছিলেন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে।”
কিন্তু হঠাৎ কেন মিয়ানমারের রাজনীতিকদের অবস্থানে এই পরিবর্তন
মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্যের সরকার এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতির জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রশ্নে তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করে সেটা পাওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ফরেন এফেয়ার্স কমিটির এক শুনানিতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই শুনানিতে এনইউজির এক দূতকে কংগ্রেসম্যান ব্রাড শেরম্যান প্রশ্ন করেছিলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান কী, যার কোন সদুত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হন।
এনইউজি যে রোহিঙ্গা প্রশ্ন তাদের অবস্থান বদলেছে, আন্তর্জাতিক চাপ সেখানে বড় ভূমিকা রাখছে বলে অনেকে মনে করছেন।
ল্যারি জ্যাগান বলেন, “তারা নিজেরা যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি চায়, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে হলে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অবস্থান বদল করতে হবে। নইলে তারা সহানুভূতি পাবে না।”
তবে ল্যারি জ্যাগান বলেন, শুধু আন্তর্জাতিক চাপ নয়, সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের রাজনীতিকদের চিন্তা-ভাবনায়ও একটা নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।
“সামরিক অভ্যুত্থান জনগণকে এটা উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে, সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন যেটা রাখাইনে ঘটেছিল, সেটাই এখন অন্য সব জায়গায় ঘটছে। কাজেই দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা মৌলিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আমার মতে এটা একটা আন্তরিক পরিবর্তন।
ল্যারি জ্যাগানের মতে আরেকটি বিষয়ও এখানে কাজ করছে, সেটি হচ্ছে, মিয়ানমারের জেনারেলদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা।
“এনইউজি চায়, সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যে মামলা, তাতে সাহায্য করতে, যাতে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সংগঠিত অপরাধের বিচার করা যায়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তারা নিজেদের নীতি পরিবর্তন না করে তো এটা করতে পারবে না। সেজন্যেই হয়তো তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে।”
মিয়ানমারের রাজনীতিকরা এবার যে তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করবেন সে ভরসা কোথায়?
বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট টুন খিন অতটা নৈরাশ্যবাদী হতে চান না।
“আগের তুলনায় এবার তারা অনেক বেশি ইতিবাচক, এটাই আমি বিশ্বাস করতে চাই। এর আগেরবার আমরা কেবলমাত্র অং সান সুচির ওপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু এবার আমরা একটা পুরো জাতীয় ঐক্যের সরকারের ওপর এই আস্থা রাখছি। বার্মার মানুষের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু সমর্থন এবং সহানুভূতি আমরা দেখছি। কাজেই আমি আশাবাদী।”(সৌজন্যে- মোয়াজ্জেম হোসেন ,বিবিসি বাংলা, লন্ডন।)
আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ভবনের বাথরুম থেকে ইসরাত জাহান তুষ্টি (২১) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (৬ জুন) সকাল সোয়া ৭টার দিকে তাকে উদ্ধার করে পরে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে গেলে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। পরে মৃতদেহটি মর্গে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ব্যারাক ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সকাল সোয়া ৭টার দিকে খবর পেয়ে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার ইউনিট ২-এর ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলায় একটি রুমের বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইসরাত জাহানকে। এরপর দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুজন শিক্ষার্থীর মিলে স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় একটি বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকতেন। সকালে তার রুমমেট ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখতে পায়। তবে ভেতরে কলের পানি পড়ছিল। এরপর ওই রুমমেট ৯৯৯-এর মাধ্যমে আমাদের খবর দিলে পরে ওই বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থতাজনিত কারণে সে বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেয়েছি। সে গতকাল বৃষ্টিতে ভিজেছিল, এ ছাড়া তার ঠান্ডার সমস্যা ছিল বলে জানতে পেরেছি।
এদিকে মৃতের সহপাঠী শাফায়েত আহমেদ জানান, ইসরাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। থাকতেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে। তবে হল বন্ধ থাকায় সে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেট থাকতেন। আর তার বাড়ি নেত্রকোনা আটপাড়া উপজেলার। তার বাবার নাম আলতু মিয়া
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২০ জন নিহত
মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মিয়ানমারের এইয়ারওয়াদি নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে অস্ত্র উদ্ধারের নামে অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয়দের ওপর নির্যাতন চালানো হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের এই সংঘর্ষ হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির প্রধান শহর ইয়াংগুন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হালায়াসওয়ে এলাকায় শনিবার ভোরে সংঘর্ষ শুরু হয়। অঞ্চলটির একজন বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, গ্রামবাসীরা শুধুমাত্র তীর হাতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সংঘর্ষে অনেক গ্রামবাসী হতাহত হয়েছেন।
স্থানীয় খিত থিত মিডিয়া ও বার্তা সংস্থা ডেল্টা জানিয়েছে, সংঘর্ষে ২০ জন নিহত ও আরও বহু লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দবি, কথিত অস্ত্র উদ্ধারের নামে সৈন্যরা গ্রামবাসীদের লাঞ্ছিত করলে তারা গুলতি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ সহিংসতার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোও যাচাই করতে পারেনি।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারপর চার মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো জান্তাবাহিনী দেশটির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।
সেনা অভ্যুত্থানের পরপর বাণিজ্যিক নগরী ইয়াংগুন এবং রাজধানী নেপিডোতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই বিক্ষোভ এখন ছোট ছোট শহর এবং গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। টানা বিক্ষোভে মিয়ানমার অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে।
উপ-রাষ্ট্রদূত বলছেন টিকা নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তিই হয় নি, রহস্য কি ?
টিকা আমদানী নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তিই হয় নি, এমন কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান। শনিবার তার ফেসবুক আ্যকউন্ডে দেয়া পোস্টে এই তথ্য জানান। ফলে চীনের সঙ্গে টিকার চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিলো।
উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান পোস্ট দিয়ে বলেছেন, ‘আবাক হচ্ছি কেন সব সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য ,যদি মিডিয়ার প্রতিবেদন সঠিক হয়।
প্রথমত সিনোফার্ম ও বাংলাদেশী পক্ষের মধ্যে কোন ডিল করা হয় নি আজ পর্যন্ত।
দ্বিতীয়ত এটি ছিল চীন সরকারের সাথে না বরং বাংলাদেশ সরকার এবং সিনোফার্মের মধ্যে আলোচনা।
আন্তরিকভাবে আশা করছি আমাদের বাংলাদেশী ভাই ও বোনেরা আগের দিনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনপাবেন।“
উল্লেখ্য চীনের সিনোফার্মের টিকার দাম প্রকাশ করা নিয়ে বাংলাদেশকে দোষারূপ করছে চীন এমন একটি খবর প্রকাশের পর এ নিয়েও নানামুখি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের ভেতরের একটি অংশের দাবি অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি শর্ত লঙ্ঘন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার জানিয়ে দেন,প্রতিডোজ ১০ মার্কিন ডলারে বাংলাদেশকে দেড় কোটি করোনা টিকা দেওয়ার চুক্তি করেছে চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ- সিনোফার্ম।
এতে চীনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় । পরে চীনের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে হয় বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেন বলেন, চীন বাংলাদেশকে জানিয়েছে বিষয়টি। আর আমরা বলেছি, ভবিষ্যতে এ রকম আর হবে না।
কিন্তু বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জানান, চীন সরকার তো দূরের কথা, সিনোফার্মের সঙ্গেই এখনো টিকা কেনার কোনো চুক্তি হয়নি বাংলাদেশের।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশ চুক্তি করলো কার সঙ্গে আর টিকার ডোজের মূল্য প্রকাশ করায় চীনের পক্ষে প্রতিক্রিয়াই বা জানালো কে? চুক্তিই যেখানে হয় নি সেখানে প্রতিক্রিয়াই জানানোর কথা না। তাহলে এখানে কী অন্য কোনো মধ্যসত্বভোগি আছে? যারা বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় টিকা আমদানিতে বারবার হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনা সংকট মোকাবিলায় চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের সঙ্গে টিকা আনার আলোচনা শুরু হয় বেশ কয়েক মাস আগে। বাংলাদেশ-চীনের টিকা কূটনীতির প্রক্রিয়ার মাঝেই বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দাবি করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ও সময়ক্ষেপণের কারণে টিকা কিনতে দেরি হয়েছে বাংলাদেশের। এরপরে টিকা নেয়ার প্রক্রিয়ায় আলোচনায় আসে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি। যার জন্য চীনা ভাষায় লেখার জায়গায় সই করে ফেলা একধরনের চাহিদাপত্র দিয়ে পরে তা কমানোসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক নানা দুর্বলতার কথাও উঠে আসে জনসম্মুখে।
এ অবস্থায় আবারও টিকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আর এ পরিস্থিতির জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চীনকে মোকাবেলা করতে বঙ্গোপসাগরে সামরিক ঘাঁটি বসাতে চায় আমেরিকা ?
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। চীনের উত্থান ঠেকাতে অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে চীনকে মোকাবেলা করা নিয়ে এরই মধ্যে উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাইডেন প্রশাসন। এছাড়াও এ অঞ্চলে নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পাশাপাশি পুরনো ঘাঁটি নতুন জায়গায় সরিয়ে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ বহরের (সারফেস শিপ) ৬০ শতাংশই ইন্দো-প্যাসিফিকে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে বিশালায়তনের এ নৌবহর পরিচালনার জন্য ঘাঁটি স্থাপনের পাশাপাশি রিফুয়েলিং ও লজিস্টিক সহায়তারও প্রয়োজন হবে। এজন্য সংলগ্ন আরব সাগর, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরে নিরাপদ স্থানের খোঁজে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইউরেশিয়া টাইমস জানাচ্ছে, ২০০৪ সালে গ্লোবাল ডিফেন্স পোসচার রিভিউ (জিডিপিআর) পরিকল্পনা গ্রহণের পর থেকেই ইন্দো-প্যাসিফিকে ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ খুঁজছে পেন্টাগন। জিডিপিআরে স্নায়ুযুদ্ধকালে জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপিত ঘাঁটিগুলোকে আরো শক্তিশালী করা বা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে এ পরিকল্পনায় নতুন নতুন ঘাঁটি স্থাপনেরও কথা বলা হয়।
জিডিপিআরে পুরনো সামরিক ঘাঁটিগুলো প্রতিস্থাপন বা শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের ফ্যাসিলিটি ব্যবহারের কথা বলা হয়। এর মধ্যে একটি হলো এফওএস। এগুলো হলো ছোট ও দ্রুত নির্মাণযোগ্য সামরিক স্থাপনা। আরেকটি হলো কোঅপারেটিভ সিকিউরিটি লোকেশনস (সিএসএল)। এসব ফ্যাসিলিটি মূলত ঘাঁটি স্থাপন করতে দেয়া স্বাগতিক দেশই স্থাপন করে। তবে তাতে কিছুসংখ্যক মার্কিন সামরিক সদস্য নিয়োজিত থাকে। এসব সিএসএলে প্রধানত ভারী যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিক সুবিধার দিকেই বেশি নজর দেয়া হয়। পরিকল্পনায় প্রয়োজনের ভিত্তিতে দুই ধরনের ফ্যাসিলিটিই সক্রিয় করে তোলার কথা বলা হয়। জিডিপিআরে বলা হয়, ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার’ উৎস মোকাবেলা করতে প্রধানত এ দুই ধরনের ফ্যাসিলিটিই ব্যবহার করা হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের ভাণ্ডার এখন অনেক সমৃদ্ধ। আওতা ও নির্ভুলতার দিক থেকেও এসব মিসাইল বেশ উন্নত। ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিদ্যমান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও এক ধরনের শঙ্কা তৈরির অবকাশ রয়েছে। পেন্টাগনের ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চাওয়ার পেছনে এ শঙ্কাও কাজ করতে পারে। এ কারণে বর্তমানে চীনের কাছাকাছি এলাকাগুলোয় একাধিক নতুন ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদকেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা সম্ভব হবে। একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা চীনের জন্যও বেশ কঠিন হবে।
সামগ্রিকভাবে ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনকে সামরিকভাবে মোকাবেলা করতে যাওয়ার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। জটিল ভৌগোলিক গঠনের ইন্দো-প্যাসিফিকে উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব একটা সহজ নয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অধিকাংশই নিজ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি স্থাপন করতে দিতে নারাজ। এক্ষেত্রে সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রবণতা যেমন ক্রিয়াশীল, তেমনি রয়েছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির জটিল হিসাব-নিকাশও। এছাড়া রসদ-সংক্রান্ত জটিলতাও এক্ষেত্রে বড় একটি বিষয়। সামরিক ও ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিকে দক্ষিণ এশীয় পরিমণ্ডলে নৌঘাঁটি স্থাপনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থান হলো বঙ্গোপসাগর বা সংলগ্ন এলাকা। গত বছর এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বড় একটি সুযোগও তৈরি হয়। চীনের সঙ্গে ভারতের সামরিক সংঘাত নয়াদিল্লিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি ঠেলে দেয়। ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কোয়াড জোটকে সক্রিয় করে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বেশকিছু সামরিক মহড়াও আয়োজন করে।
কিন্তু এর পরও কোনো কোনো পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এ অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি নয়াদিল্লির জন্য অনেক বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে উষ্ণতা পেলেও এক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থহানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এর মধ্য দিয়ে ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্যে ভাগ বসাবে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যত জোরালো হবে, ভারতের আধিপত্য ততটাই খর্ব হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও ঘাঁটি স্থাপন নিয়ে সমস্যায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইন্দো-প্যাসিফিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো তাইওয়ান। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে মোকাবেলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন থিংকট্যাংক আরএএনডি জানিয়েছে, চীন তাইওয়ানে হামলা চালালে তা মোকাবেলার জন্য তাইপের আনরিফুয়েলড কমব্যাট রেডিয়াসের (যেটুকু এলাকার মধ্যে হামলা চালিয়ে ফিরে আসতে যুদ্ধবিমানের পুনরায় জ্বালানি গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না, এক হাজার কিলোমিটারের কিছু কম এলাকা) মধ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটি রয়েছে মোটে দুটি। অন্যদিকে তাইপে থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে চীনা বিমানঘাঁটি রয়েছে ৩৯টি। ফলে এ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চীনের আক্রমণ মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এসব দিক বিবেচনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঘাঁটি করতে দেয়ার মতো সহযোগী দেশ খুঁজছে পেন্টাগন। এক্ষেত্রে সামরিক ও কূটনৈতিক সব চ্যানেলকেই কাজে লাগানো হচ্ছে বলে ইউরেশিয়া টাইমসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইন্দো-প্যাসিফিকে বিদ্যমান ঘাঁটিগুলো নিয়েও সমস্যায় রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ঘাঁটির অবস্থানস্থলের স্থানীয় বাসিন্দারাই সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র টোকিও। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে বড় একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই জনবহুল ওকিনাওয়া দ্বীপ থেকে মেরিন সৈন্যদের এয়ার স্টেশন সরিয়ে নেয়ার দাবি রয়েছে। দ্বীপটির স্থানীয় সরকারও সেখান থেকে ঘাঁটি সরিয়ে অন্যত্র প্রতিস্থাপনের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন ও টোকিও এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু সে ঐকমত্যের পর আড়াই দশকেও ঘাঁটিটি সরিয়ে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি অনেক সময়সাপেক্ষ ও কঠিন। সূত্র -ইউরেশিয়া টাইমস,বণিক বার্তা।
রিমান্ড শেষে মামুনুল কারাগারে
৬ মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড শেষে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে পৃথক ছয় মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড ভোগ শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ছয় মামলার মধ্যে তিনটি করেছে জেলা পুলিশ, দুটি করেছে সিআইডি এবং একটি করেছে পিবিআই। পিবিআইয়ের করা মামলায় গত বুধবার সর্বশেষ মামুনুল হককে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ই এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।











