ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 124

দুই বছরের জন্য ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে নিষিদ্ধ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

0

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না।
এই সময় পর্যন্ত এই দুইটি মাধ্যমে তাকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়ার কারণে গত জানুয়ারি মাসে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফেসবুক। সংস্থাটির ওভারসাইট বোর্ড সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলেও ‘চিরতরে নিষিদ্ধের’ শাস্তির সমালোচনা করে। তারা বলেন, এমন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যা সাধারণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।
যৌক্তিক শাস্তি নির্ধারণ করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে ছয় মাস সময় দিয়েছিল ওভারসাইট বোর্ড, কিন্তু একমাসের মধ্যেই ফেসবুক তাদের সিদ্ধান্ত জানাল।
ফেসবুকের বক্তব্য, মি. ট্রাম্পের আচরণ ছিল সংস্থাটির নিয়মকানুনের চরম লঙ্ঘন।
তবে মি. ট্রাম্প দাবি করেন, ফেসবুকের এই পদক্ষেপ সেই কোটি কোটি মানুষকে অপমান করা, যারা তাকে গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
এরই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের এই বিশাল প্রতিষ্ঠানটিতে মন্তব্য যাচাই বাছাইয়ে রাজনীতিবিদরা যে ছাড় পেতেন, সেই নীতি থেকেও সরে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘সংবাদ মূল্য রয়েছে,’ এই যুক্তিতে উস্কানিমূলক বা আপত্তিজনক বক্তব্য দিয়ে রাজনীতিবিদরা যে ছাড় পেতেন, সেটি আর দেয়া হবে না।
ফেসবুকের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ একটি পোস্টে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের এই নিষেধাজ্ঞা সাতই জানুয়ারি থেকে কার্যকর বলে ধরে নেয়া হবে, যেদিন তার একাউন্ট স্থগিত করা হয়েছিল।
”যেসব ঘটনাপ্রবাহের কারণে মি. ট্রাম্পের একাউন্ট স্থগিত করা হয়েছিল, সেগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা মনে করছি, তিনি আমাদের নিয়মনীতির গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন, যা সর্বোচ্চ শাস্তির প্রাপ্য।”
”যদি আমরা দেখতে পাই যে, এখনো জননিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি আছে, তাহলে আমরা আরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াবো এবং ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত এভাবে পর্যালোচনা করে যাবো।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প কি জবাব দিয়েছেন?
ফেসবুকের এই নিষেধাজ্ঞার পর সেভ আমেরিকা পলিটিকাল অ্যাকশন কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে মি. ট্রাম্প বলেছেন, ”ফেসবুকের এই আদেশ আমাদের দেশের সাড়ে সাতকোটি মানুষ, অন্য আরও যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদের সবার জন্য অপমান….”
”এভাবে সেন্সর করে আর চুপ করিয়ে দেয়ার কর্মকাণ্ড করে তাদের পার পেতে দেয়া ঠিক হবে না। শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতবো। আমাদের দেশ আর কোন নিপীড়ন সহ্য করবে না।” তিনি বলেছেন।
দ্বিতীয় আরেকটি বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাকে আক্রমণ করেন।
”এরপর আবার যখন আমি হোয়াইট হাউজে থাকবো, মার্ক জুকারবার্গ এবং তার স্ত্রীর অনুরোধে আর কোন ডিনার হবে না।” বলছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
ফেসবুকের এই সিদ্ধান্তে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আবার ফেসবুকে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জানুয়ারি মাসের দাঙ্গায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগে ফেসবুকের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটার, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, টুইচ এবং আরও কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমে নিষিদ্ধ রয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে নিষিদ্ধ থাকার কারণে নিজস্ব যে সামাজিক মাধ্যম তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মি. ট্রাম্প, এই সপ্তাহের শুরুতে জানা গেছে যে, সেই প্রকল্প স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিবিসি বাংলা।

পরকিয়া: আইনজীবী স্বামীকে হত্যার ১০ দিনের মাথায় খালাতো ভাইকে বিয়ে

0

পরকিয়ার টানে আইনজীবী স্বামীকে হত্যা করে ১০ দিন যেতে না যেতেই প্রেমিক খালাতো ভাইকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন শিপা বেগম (৩৫)। কিন্তু তার এই সুখ বেশিদিন টিকলো না। পুলিশ তদন্ত করে ঠিকই বের করে ফেলেছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা রহস্য। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটে।
জানা যায়, সিলেট জেলা বারের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন (৪২) সঙ্গে বিয়ে হয় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামের আজমল আলীর মেয়ে শিপা বেগমের (৩৫)। বিয়ের পর খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরী মাহির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান শিপা। এই সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে স্বামীকে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনার ১০ দিন পর মাহির সঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসেন শিপা। স্বামী হত্যার অভিযোগে তাকে গত বুধবার রাত ৩টার দিকে নগরের তালতলা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায়। বাবার নাম রেসালত হোসেন (মৃত)। আনোয়ারের ছোট ভাই মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বুধবার সিলেটের আদালতে তার ভাবির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় শিপা বেগম ও বর্তমান স্বামী শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে আসামি করা হয়েছে। মাহিকে প্রথম ও শিপাকে দ্বিতীয় আসামিসহ আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর শিপা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন আলী। অপর এক আবেদনে নিহতের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের অনুমতিও চেয়েছেন তিনি। এ দুটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহত আনোয়ার হোসেন সিলেট নগরের তালতলা এলাকায় নিজ বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। গত ৩০ এপ্রিল সেহেরি খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন। এদিন অভিযুক্ত নাইমারসহ কয়েকজন বাসায় আসে। পরদিন বিকেল ৩টার দিকে স্ত্রী শিপা বেগম নিহতের স্বজনদের জানান, আনোয়ার হোসেন ডায়াবেটিক কমে গিয়ে মারা গেছেন। পরে তাকে নিজ গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারের দীঘিরপার গ্রামে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেনের পরিবার জানতে পারে, পরকীয়ার জেরে আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করেন স্ত্রীসহ কয়েকজন মিলে। এ ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হত্যার অভিযোগে দরখাস্ত মামলা করলে শুনানি শেষে কোতোয়ালি থানার ওসিকে ৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন আলী জানান, আনোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় শিপা বেগম তার খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে বিয়ে করেন। তার বাড়ি কানাইঘাট এবং বর্তমানে নগরের উপশহর এলাকায় বসবাস করেন। বিয়ের পর থেকে আনোয়ারের পরিবারের সঙ্গেও শিপা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ থেকে তাকে সন্দেহ করছে অ্যাডভোকেট আনোয়ারের পরিবার।
মামলার বরাত দিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহান বলেন, খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে শিপা বেগমের পরকীয়া ছিল। এরই জেরে গত ৩০ এপ্রিল স্বামীকে হত্যার পর স্বজনদের জানায় ডায়বেটিস কমে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দাফনের ১০ দিনের মাথায় ওই নারী তার খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরীকে বিয়ে করে নগরের তালতলায় সংসার করছিলেন। এতে স্বজনদের সন্দেহ হয় আইনজীবী আনোয়ার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেটে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের সমালোচনা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়, জানালো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

0

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়ে দিলো যে, সরকারের সমালোচনা করা মানেই দেশদ্রোহীতা নয়। সরকারের সমালোচনা করার জন্যে সাংবাদিকদের রক্ষাকবচের দরকার আছে।
দেশের নামী সাংবাদিক, পদ্মশ্রী বিনোদ দুয়াকে হিমাচল প্রদেশের একটি মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইউ ললিতের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। দিল্লির দাঙ্গার সময় মোদি সরকারের সমালোচনা করে ইউ টিউব চ্যানেলে একটি সম্প্রচারের জন্যে হিমাচল প্রদেশে একটি মামলায় বিনোদ দুয়াকে সোপর্দ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট হিমাচল প্রদেশের পুলিশকে এক আদেশবলে বিনোদ দুয়াকে গ্রেপ্তারে নিরস্ত করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ১৯৬২ সালে একটি মামলায় তদানীন্তন বিচারপতি কেদার নাথ সিং এর একটি রুলিং এর উল্লেখ করেন। সেই রুলিংটিতে বিচারপতি সিং বলেছিলেন, দেশ এবং সরকার সমার্থক নয়। দেশ চালানোর জন্যে সরকার নিযুক্ত হয়।
তাই, সরকারের সমালোচনা কখনোই দেশ বিরোধিতা হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতিরা রাজনীতিবিদদের আর একটু সাহিষ্ণু হতে বলেছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ এ ধারাটি বিভিন্ন রাজ্যের সরকার অপপ্রয়োগ করছেন। উল্লেখ্য, সাংবাদিক বিনোদ দুয়া সংবিধানের ১৯ ধারা অনুযায়ী তার স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কাঠামোর মূল দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে :আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আধুনিক দুর্নীতি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি দমন কাঠামোর মূল দুর্বলতা এবং ফাঁক-ফোকরগুলোকে অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে নতুন ও উদ্ভাবনী পন্থা অবলম্বন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সিস্টেমের মধ্যে একটি বিস্তৃত সমন্বিত পদ্ধতির দরকার বলেও মনে করেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে দুর্নীতি বিরোধী সাধারণ আলোচনায় সম্প্রচারিত প্রি-রেকর্ডেড ভিডিও বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ।
জাতিসংঘের সদরদপ্তর নিউইয়র্কে তিনদিনব্যাপী (২-৪ জুন) দুর্নীতি বিরোধী এ আলোচনা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং আমাদের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নারী ও যুবক-যুবতীসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে পুরো সমাজে একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।তিনি বলেন, অবৈধ আর্থিক প্রবাহসমূহ রোধ এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদগুলো পুনরুদ্ধার ও ফিরিয়ে আনা গেলে তা কার্যকর সম্পদ সংস্থান এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু অতীতে হতাশার সাথে পর্যবেক্ষণ করা গেছে যে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএসি) এর সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াগুলোতে বাড়তি কিছু বাধা রয়েছে। এসব বাধা দূর হওয়া উচিত। প্রয়োজনে, এই কনভেনশনের অধীনে সম্পদ পুনরুদ্ধার বিষয়ক একটি অতিরিক্ত প্রোটোকলের সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।
ইউএনসিএসি-র কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ফৌজদারি আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য অধিকার, হুইসেল ব্লোয়ার সুরক্ষা, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিষয়গুলোতে পারস্পরিক আইনি সহায়তা, বহিঃসমর্পন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ও ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধ প্রতিরোধ সহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সরকার জাতীয়ভাবে আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ দুর্নীতি প্রতিরোধে সুশাসন ও জনসচেতনতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্প্রদায় ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বর্ধিতকরণ, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উন্নততর নিয়ন্ত্রণমূলক ও তদারকি কাঠামো, বিভিন্ন স্তরে জাতীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা ও স্বচ্ছতা ইউনিট, স্কুলে সততা স্টোর, সরকারি কর্মকর্তাদের গণ শুনানির ব্যবস্থা ইত্যাদি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মচারী এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে দুর্নীতি সম্পর্কিত তদন্ত এবং বিচারের মুখোমুখি করে সমাজে দুর্নীতি দমনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিভিন্ন স্তরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আলোকপাত করতে সরকার সুশীল সমাজ ও মিডিয়াকে অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করছে।

বাজেটে আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১৮১৩ কোটি আর সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২২৫ কোটি টাকা; ডিজিটালাইজড হবে বিচার ব্যবস্থা

0

বিচার কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি ও দরকারি অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইন এ বিচার মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিমকোর্টের জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০২০-২১ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন অর্থবছরে সর্বোচ্চ আদালতের জন্য বরাদ্দ থাকছে ৩৮ কোটি টাকারও বেশি। আর বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে এক হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় এই প্রস্তাব পেশ করেন। মহামারির বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অর্থনীতির ক্ষত সারানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে নতুন অর্থবছরের জন্য ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে এক হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে এক হাজার ৪৬৪ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৩৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে মোট এক হাজার ৭১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ছিল এক হাজার ৩১৩ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৪০৩ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বিচার কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের আওতায় এটি ডিজিটালাইজড হবে। দেশের প্রতিটি আদালতকে ই-কোর্টে পরিণত করা হবে। আটককৃত দুধর্ষ আসামিদের আদালতে হাজির না করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টসহ অধস্তন আদালতের কার্যক্রম অটোম্যাশন এবং নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার তথ্য নিয়মিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রার্থীরা শিগগির এর সুফল পাবেন।
গত তিন বছরের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল একহাজার ৬শ ৩২ কোটি টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল এক হাজার ৭শ ৩৯ কোটি টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮১৩ কোটি টাকা।
২০২০-২০২১ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২২২ কোটি টাকা। পক্ষান্তরে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা।

সুপ্রিম কোর্ট বার ক্যান্টিনে ‘গরুর মাংস’ বিতর্ক; পেছনে রয়েছে রাজনীতি ও করোনা ভাইরাসের প্রভাব,বিব্রত সাধারণ আইনজীবীরা

0

বিষয়টা অনেকটা ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’ এর মতো অবস্থা। মহামারি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত পৃথিবী। হাজারে হাজারে মানুষ মরে যাচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে। অফিস, আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে মানুষ। দেশের অর্থনীতি পর্যুদস্ত। জীবনের নিশ্চয়তা নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কে কখন মারা যাবেন তারও ঠিক ঠিকানা নেই। দিনের পর দিন লকডাউন চলছে। আদালত পাড়া বন্ধ। মামলা মোকদ্দমার শুনানি হচ্ছে না। উচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল বেঞ্চ বসে। তাতে সীমিত সংখ্যক মামলার শুনানি হলেও, নিম্ন আদালত একেবারেই বন্ধ। বেশিরভাগ আইনজীবীই আর্থিক টানাপড়েনে আছেন। অনেককে কাটাতে হচ্ছে অলস সময়। এই যখন সার্বিক অবস্থা তখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের একটি অংশ এক ‘অদ্ভুত ইস্যু’ নিয়ে সরগরম করতে মাঠে নেমেছেন। আর এই ইস্যুটি হলো, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ক্যান্টিনে ‘গরুর মাংস’ রান্না হবে কি হবে না সে প্রশ্ন। কিছু আইনজীবীর ‘অদ্ভুত’ এ ইস্যু ও আচরণ নিয়ে বিব্রত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা। তারা বলছেন, মামলা মোকদ্দমা না থাকায় অলস সময়ে কিছু আইনজীবী অযথাই সর্বোচ্চ আদালত অঙ্গনটিকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছেন, হেয় করতে চাচ্ছেন। এতে সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত,আইনজীবী সমিতির চারজন সনাতন ধর্মাবলম্বী সদস্য আইনজীবী ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠনের পক্ষে ৩০ মে সমিতির সম্পাদকের কাছে এক আবেদন দিয়ে জানান, গত ২৯ মে রাতে সুপ্রিম কোর্ট বার ক্যান্টিনে গো মাংস রান্না করা হয়, রাতে তা খাবারের জন্য পরিবেশন করা হয়। পরদিন ৩০ মে সকালেও গোমাংস রান্না করা হয় এবং তা খাবারের জন্য পরিবেশন করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ঐতিহ্যগতভাবেই এর সৃষ্টিলগ্ন হতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় কখনোই গো মাংস রান্না ও পরিবেশন করা হয় নাই। তাই সুপ্রিম কোর্ট ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চান তারা। যে চারজন আইনজীবী এ আবেদন জানান তারা হলেন, আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি বিভাস চন্দ্র বিশ্বাস,পরিষদের সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা, আইনজীবী সমিতির বিজয়া পুনর্মিলনী ও বাণী অর্চনা পরিষদের আহবায়ক জয়া ভট্টাচার্য্য এবং সদস্য সচিব মিন্টু চন্দ্র দাস ।
এ ঘটনায় বিব্রত সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা। নেটিজনদের মধ্যেও চলছে এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা। একপক্ষ বলছেন, সুপ্রিমকোর্ট বারে ৭৩ বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী গরুর মাংস রান্না বা পরিবেশন করা হয় না। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এটা করা হয়। কিন্তু এখন এমন কি হলো যে এ শ্রদ্ধাবোধ ওঠে যাবে? এ ছাড়া বারের ক্যান্টিন ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধিন ক্যান্টিন রয়েছে, সেগুলোতে গরুর মাংস পরিবেশনে কোনো বাধা নেই। কেউ গরুর মাংস খেতে চাইলে সেখানে গিয়েও খেতে পারেন। বার পরিচালিত ক্যান্টিনেই কেনো রীতি ভাংতে হবে? বিষয়টি সহজ নয় এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হীনমন্যতা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। আবার অনেকেই বলছেন, যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট আইনজীবীই মুসলমান এবং তারা গরুর মাংস খেতে পছন্দ করেন ফলে, গরুর মাংস রান্না হতেই পারে। যার পছন্দ হয় খাবে যার পছন্দ হয়না খাবে না। কিন্তু আরেকজনের খাবার তো বন্ধ করার কথা বলতে পারেন না।পাল্টাপাল্টি এমন যুক্তিতে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও।

এদিকে সমিতির ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না বন্ধ করার আবেদন জানানোর এই বিতর্কের মধ্যেই মাহমুদুল হাসান নামে এক আইনজীবী গরুর মাংস রান্নার নির্দেশনা চেয়ে পাল্টা আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বরাবর আবেদন করেন ওই আইনজীবী। এতে তিনি বলেন, গরুর মাংস বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বৈধ একটি খাবার। বাংলাদেশের কোনো আইনে এই গরুর মাংসকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়েও এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। গরুর মাংসে পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে এবং দেশের জনগণের প্রোটিন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ৪কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে “আধুনিক পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করণ” প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আবেদনে আইনজীবী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, কোনো খাবার খাওয়া বা না-খাওয়া মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও রুচির বিষয়। স্বাস্থ্যগত কারণে বা বিশ্বাসজনিত কারণে কেউ গরুর মাংস অপছন্দ বা নাও খেতে পারেন। তাই বলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ক্যান্টিনগুলোতে গরুর মাংস রান্না বা বিক্রি হবে না, এ বিষয়গুলো অত্যন্ত অমানবিক। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক পরিশ্রম করেন। তাই আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিতে বার অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে সব ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না ও বিক্রি হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত কারণে বা বিশ্বাসজনিত কারণে যারা গরুর মাংস খেতে চান না, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত।

অবশ্য আইনজীবীদের অনেকেই বলছেন, যুক্তি তর্ক যে দিকেই যাক, আসল কথা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় সর্বোচ্চ আদালতে এখন আইনজীবীদের ব্যস্ততা নেই। যে কয়েকজন আইনজীবী বারে যান তারা গল্পগুজব করে সময় কাটান। জরুরী দরকার ছাড়া কেউ সেখানে যাচ্ছেনও না। আইনজীবী ভবন থাকে সুনশান নীরবতা। ক্যান্টিনেও ভীড় নেই। তারপরও কেনো হঠাৎ করে গরুর মাংস রান্নার ইস্যুটি আসলো তা নিয়ে সন্দিহান অনেক আইনজীবী। তারা বলছেন, এটার পেছনে বারের রাজনীতিও কাজ করছে হয়তো। নবনির্বাচত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু করোনাভাইরাসে মারা যাওয়ার পর সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্যরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতির সদ্যসাবেক সভাপতি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এটি মানতে পারছেন না বিএনপি ও জামাতপন্থী আইনজীবীদের একাংশ। যার নেতৃত্বে রয়েছেন বারের সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপলাভ করেছে। মঙ্গলবারও এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।
ক্যান্টিনের গরুর মাংস রান্না ও পরিবেশনের পেছনে কোনো উকালাতি প্যাচ কিংবা এমন রাজনীতি্ কাজ করছে কী না তা নিয়ে সন্দেহমুক্ত নন অনেক আইনজীবী। কারণ এ নিয়ে নানাভাবেই বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে, যা থেকে সুযোগ নিতে চায় হয়তো কেউ কেউ।

এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরকে সংবিধান লংঘন বলছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

0

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুবিভাগ জনবলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনের কফিনে সর্বশেষ পেরেক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বুধবার সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুবিভাগ জনবলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনের কফিনে সর্বশেষ পেরেক। কী উদ্দেশ্যে এই আত্মঘাতি ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এটি সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমি তাদের সঙ্গে একাত্মাতা ঘোষণা করছি।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের যুগ্মসচিব স্মাক্ষরিত ২৪ মের পত্রে এনআইডি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় “নির্বাচন কমিশন”র বদলে “সরকার” শব্দটি প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এনআইডির বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের নির্দেশ প্রদান কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচ্য। ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এর ফলে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ নির্ভর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে জটিলতার সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ভূলণ্ঠিত হবে। এটি করা হলে সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন সম্ভব হবে না বলে মনে করি।’
মাহবুব তালুকদার আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এনআইডি স্থানান্তরের নির্দেশ কমিশনের অঙ্গচ্ছেদের নামান্তর। এ বিষয়ে কমিশনকে না জানানো নির্বাচন কমিশনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের সামিল। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এ যাবৎকালে এমন ঘোরতর দুর্দিন আর আসেনি। সংবিধানের ১০৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন”। এটি কমিশনের জন্য রক্ষাকবচ হলেও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এখন কোথায়? আমি আশঙ্কা করি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ অন্যত্র স্থানান্তর সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার অন্তিমযাত্রার আয়োজন।’

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

0

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনি শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও এবিএমএইচ নূর চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার।
আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ওই সিদ্ধান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বুধবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের এক সভায় খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, “নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন আমরা গেজেট আকারে প্রকাশ করব, প্রকাশ করলে আপনারা পাবেন। এর আগে দয়া করে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
কতদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা হয়ত দুই-চার-পাঁচ দিন লাগতে পারে।”
খেতাব বাতিল হলে তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য আর কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত চার পলাতক খুনির খেতাব স্থগিতের জন্য হাই কোর্ট একটি আদেশ দিয়েছিল গতবছরের শেষ দিকে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে জামুকার বৈঠকে চারজনের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।
‘সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের’ কারণে সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ‘বীর উত্তম’ খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছিল জামুকার ওই সভায়।
তবে জিয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা, যদিও এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবরই বলে আসছেন।
বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার দশ দিনের মাথায় সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া জিয়াও ওই হত্যাকাণ্ডে ‘পুরোপুরি’ জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির পিতার খুনিদের রক্ষায় সে সময় একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন তখনকার ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে খুনিদের রক্ষার পথটি স্থায়ী করার প্রয়াস চালান। হত্যাকারীদের নানা পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ইতিহাসে চিহ্নিত কালো ওই অধ্যাদেশ বাতিলের পর জাতির পিতার খুনের বিচারের পথ খোলে।
এরপর বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালতের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী ছয় খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে পাঁচজন এখনও রয়েছেন পলাতক।
তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, রাশেদ চৌধুরী ‘বীর প্রতীক’ এবং মোসলেহ উদ্দিন খান‘বীর প্রতীক’ খেতাবধারী।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ওই চারজনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি রুল জারি করে হাই কোর্ট।
সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠকে খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয় বলে কর্মকর্তারা জানান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এমসি কলেজে ধর্ষণ: অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাই কোর্টের নির্দেশ

0

স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ ও ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক জীবন কৃষ্ণ আচার্যের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
আইন সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্ত বা আইন অনুসারে যেটি প্রযোজ্য, সেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে এর আগে জারি করা রুল আংশিকভাবে যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আর রুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের দায় পেয়েছে আদালতের গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটি। যে কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা বা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে রায়ে আদালত বলেছে, “সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের পেছনে হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে ওই কলেজের অধ্যক্ষও কোনোভাবে ওই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।”
গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী।
পরদিন সকালে ওই নারীর স্বামী শাহ পরান থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আর ধর্ষণের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ-প্রতিবেদন নজরে এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন হাই কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় আদেশের আরজি জানান।
পরে গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত এ ঘটনা অনুসন্ধানে কমিটি করে দেয়। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, মুখ্য মহানগর হাকিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সাধারণ) কমিটিতে রাখা হয়।
কলেজের ছাত্রাবাসে ওই তরুণীকে ধর্ষণ থেকে রক্ষায় অবহেলা ও কলেজ ক্যাম্পাসে অছাত্রদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের নীরবতায় তাদের বিরুদ্ধে যথযথ আইগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সেদিন রুল জারি করে হাই কোর্ট।
শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, এমসি কলেজের হোস্টেল সুপারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

৫ বছরে ৫’শ তরুণী ভারতে পাচার, ‘মূল হোতা’ ‘বস রাফি’সহ ৪জন গ্রেফতার

0

গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে আন্তর্জাতিক নারী পাচারচক্র। এই চক্রে দুই দেশের প্রায় ৫০ জন সদস্য রয়েছে। পাচার করে তাদের পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া হয় এবং জোরপূর্বক যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়। এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব জানায়, চক্রের অন্যতম ‘মূল হোতা’ ঝিনাইদহের আশরাফুল মণ্ডল ওরফে ‘বস রাফি’ (৩০)।
রাফি গত পাঁচ বছর ধরে নারীপাচারের সঙ্গে জড়িত। দুই বছর আগে তার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের পরিচয় হয়। রাফি টিকটক হৃদয়ের মাধ্যমে অন্তত অর্ধশতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
সম্প্রতি ২২ বছরের এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ২৭ মে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে টিকটক হৃদয়সহ ছয় জনকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ।
এ ঘটনার পর গত দুই দিনে অভিযান চালিয়ে রাফিসহ চার জনকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। অন্য তিন জন হলেন, যশোরের সাহিদা বেগম ওরফে ম্যাডাম সাহিদা (৪৬), ইসমাইল সরদার (৩৮) ও আবদুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ (২৬)। ঝিনাইদহ ও যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, ভারতে গ্রেপ্তারকৃত টিকটক হৃদয় রাফির অন্যতম সরবরাহকারী বা এজেন্ট। টিকটক হৃদয় অনলাইনে টিকটক ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের তরুণীদের টিকটক মডেল বানানো ও অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে উশৃঙ্খল জীবনে আকৃষ্ট ও অভ্যস্ত করতেন। পরবর্তীতে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশ বা উন্নত দেশে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাফির মাধ্যমে ভারতে পাচার করতো। মূলত যৌনবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে তাদের পাচার করা হতো বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, রাফির শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। আট বছর আগে থেকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে তার যাতায়াত আছে। তিনি সেখানে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। রাফি তামিল ভাষা রপ্ত করেছিলেন, এক্ষেত্রে তার ভাষাগত দক্ষতা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। একপর্যায়ে তিনি রিং লিডার হয়ে যান। সেখানকার এজেন্ট তাকে খদ্দের প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা কমিশন দিতেন বলেও জানায় র‌্যাব। র‌্যাব আরও জানায়, বেঙ্গালুরুতে রাফির বেশ কয়েকটি সেফ হাউস আছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তার সেফ হাউস রয়েছে।