ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 125

প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা; এস আলম গ্রুপ ও বাঁশখালীর ওসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ

0

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করায় এস আলম গ্রুপ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ছয়টি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে এস আলম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও বাঁশখালী থানার ওসি মো. শফিকুল কবীরকে আগামী ৩ জুনের মধ্যে প্রকোশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, ৩ জুনের মধ্যে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে না নিলে, মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও মো. শফিকুল কবীরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।
সংগঠনগুলো হলো–বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি, অ্যাসোসিয়েশন ফরা ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংগঠনগুলোর এক রিট আবেদনের পর গত ৪ মে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং এস আলম গ্রুপকে হাইকোর্ট ওই এলাকার কোনো শ্রমিক অথবা কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে নির্দেশ দেন।
কিন্তু, এস আলম গ্রুপ হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে গত ২৭ মে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে, যা স্পষ্টত আদালত অবমাননার শামিল।
নোটিশে হাইকোর্টের আদেশ মেনে এস আলম গ্রুপ ও পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন ওই এলাকার কোনো ব্যক্তি ও শ্রমিককে কোনোভাবে হয়রানি না করা হয়।
বেলার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবির জানান, ওই এলাকার অবস্থা নিয়ে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে এস আলম গ্রুপের সমন্বয়ক ফারুক আহমেদ গত ২৭ মে বাঁশখালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল এস আলম গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হওয়া এসএস পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি ছুঁড়লে অন্তত সাত জন নিহত ও ১৯ জন আহত হন। তথ্য সূত্র-দ্য ডেইলি স্টার।

তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালু করতে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা

0

তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে সকল প্রকার দেওয়ানী ও ফৌজদারী আপিল রিভিশন শুনানি ও নিস্পত্তি এবং দেওয়ানী মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি ও রায় প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।
প্রধান বিচারপতির আদেশে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিস্তারিত মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহ “আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০” এবং এ সংক্রান্ত জারীকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে সকল প্রকার দেওয়ানী ও ফৌজদারী আপিল, ডিভিশন মামলা শুনানি ও নিস্পত্তি করবেন। এবং পক্ষগ্রহণের উপস্থিতি বা সাক্ষ্যগ্রহণের আবশ্যকতা নেই এরূপ দেওয়ানী আপিল, রিভিশন, রিভিউ এবং দেওয়ানী মোকদ্দমা, বিবিধ মামলা নিস্পত্তি করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ইতিমধ্যে যে সকল দেওয়ানী মোকদ্দমায় যুক্তিতর্ক শুনানি বা রায় প্রচারের জন্য ধার্য তারিখ অতিক্রান্ত হয়েছে সে সকল মামলায় পুনরায় তারিখ ধার্য করে দ্রুত নিস্পত্তি করবেন। সংশ্লিষ্ট আদালত পুনঃধার্যকৃত তারিখ সংবলিত মামলাসমূহের তালিকার কপি আদালত ও আইনজীবী সমিতির নোটিশ বোর্ডে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বীমার ফাঁদে ফেলে প্রতারণা; স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

0

শত শত গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করায় সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বোন অধ্যাপক রুবিনা হামিদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার আদালতে একাধিক প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ৯ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩০ কোটি টাকার বেশি পাওনা হয়েছে গ্রাহকদের। কুষ্টিয়া ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নড়াইলসহ আরো কয়েকটি জেলায় কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেসব মামলার কয়েকটিতে ওয়ারেন্টও জারি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকে তাদের বীমা দাবি টাকা পরিশোধ না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়ের হলেও বীমা কোম্পানিটির মালিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগ উঠেছে, বছরের পর বছর ধর্না দিয়েও গ্রাহকরা বীমার টাকা আদায় করতে পারছেন না। উল্টো গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে।
সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ১০ বছর মেয়াদি জীবনবীমা পলিসি করেছেন এমন একজন হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মনিরুজ্জামান ডাবলু। মেয়াদপূর্তির পর এক টাকাও পাননি তিনি। আদালত ও বীমা কোম্পানিতে ঘুরতে ঘুরতে চার বছর পার হয়েছে। তার মতো আরেক ভুক্তভোগী দৌলতপুর উপজেলারই মুক্তার হোসেন।
তিনি জানান, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১০ বছর মেয়াদি জীবনবীমা পলিসি করেছিলাম। মেয়াদপূর্তির পর তারা টাকা দিচ্ছে না। কথা ছিল মেয়াদপূর্তি হলে একবারে ডাবল (দ্বিগুণ) টাকা দেবে। কিন্তু এখনো কোনো টাকা দেয়নি, উল্টো হয়রানি করছে। তাদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে যখন কোনো কাজ হলো না তখন বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’
অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় সাত বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো এক টাকাও পাইনি। ডাবল টাকা তো দূরের কথা, আসল টাকাই ফিরে পাচ্ছি না’।
‘বাংলাদেশের অনেক বীমা কোম্পানি ভুয়া। ভেবেছিলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবারের সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স হয়তো নিরাপদ হবে। কারণ, তিনি সরকারের মন্ত্রী। এজন্য কোম্পানির অফিসারদের সাথে কথা বলে বীমা করেছিলাম। কোম্পানির কর্মীরাও আমাদের বুঝিয়েছিল যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এখানে কোনো সমস্যা হবে না। পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলেই পাওয়া যাবে ডাবল টাকা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলে এখন টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক সময় হুমকির সম্মুখীনও হতে হচ্ছে,’ যোগ করেন ওই ভুক্তভোগী।
এ নিয়ে কুষ্টিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দৌলতপুর) আদালতে দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের হাকিম জোয়ার্দ্দারের ছেলে বশির আহমেদ, একই ইউনিয়নের মো: শামসুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ও মনিরুজ্জামান ডাবলু বিভিন্ন সময় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলার আসামিরা হচ্ছেন- সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুবিনা হামিদ (স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোন), প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো: নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আসলাম রেজা, অডিট অফিসার মো: সাইদুর রহমান খান ও কোম্পানি সচিব মো: রবিউল ইসলামসহ আরো দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের অফিস রাজধানীর বনানীতে। কুষ্টিয়া থেকে বনানী থানায় ওয়ারেন্ট গেলেও একটিরও তামিল হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মতিন খন্দকার।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মতিন খন্দকার বলেন, ‘গ্রাহক প্রতারণায় কোম্পানির চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোন অধ্যাপক রুবিনা হামিদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ সংক্রান্ত মোট ১১টি মামলা আছে। মোট গ্রাহক ৪৯৭ জন। মোট অর্থের পরিমাণ ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৯২৬ টাকা। ৯টি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। দুটি মামলা লকডাউনের জন্য স্থগিত আছে। এরমধ্যে ছয়টি মামলার ওয়ারেন্ট সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়ার মামলার বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। করোনার কারণে কিছু ল্যাকিং (ঘাটতি) তৈরি হয়েছিল। আশা করি আগামী (জুন) মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করে ফেলব।’
তিনি দাবি করেন, ‘কোম্পানির আগের কিছু কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে বেশকিছু বীমা দাবি আটকে ছিল। আমরা ইতোমধ্যে ৩-৪টি মামলার দাবিগুলো পরিশোধ করেছি। লকডাউনের কারণে কিছু মামলার দাবি পরিশোধ করতে পারিনি। শুনেছি, আমাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমরা দ্রুত এ বীমা দাবিগুলো পরিশোধ করব।’
এদিকে, শত শত গ্রাহকের দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করায় চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বীমা কোম্পানিটির মাঠকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানিটির কয়েকজন কর্মী বলেন, এ এলাকায় শত শত গ্রাহক বছরের পর বছর টাকা পাচ্ছেন না। গ্রাহকরা দলবেঁধে কখনো অফিস ঘেরাও করছেন, কখনো আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন। কখনোবা টাকা আদায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালীদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। অবস্থা এমন, পাওনাদার গ্রাহকদের সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ব্রাঞ্চ ইনচার্জ ও সার্ভিস সেল ইনচার্জরা। প্রতিদিনই অফিসে ভিড় করছেন শত শত গ্রাহক।
‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বললে তারা বলেন, সামলান। নতুন প্রিমিয়াম নেন, গ্রাহকদের টাকা দেন। প্রধান কার্যালয়ে গ্রাহকদের তালিকা নিয়ে দিনের পর দিন ধর্না দিয়েও কোনো কাজ হয় না। আমরা তো মালিকদের কাছে যেতে পারি না। কী করব, আমরা এর কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না,’ যোগ করেন তারা।

বুধবার শুরু সংসদের বাজেট অধিবেশন, সদস্যদের মানতে হবে কড়া স্বাস্থ্যবিধি

0

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে বুধবার। বিকেল ৫টায় এই অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ি এ অধিবেশন আহবান করেছেন।
এ অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্য দিবস ৩ জুন বৃহস্পতিবার ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। ওই দিন বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তাফা কামাল তার দায়িত্বকালের তৃতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম এবং বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট।
গত বছর ১০ জুন করোনা মহামারীর মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ১১ জুন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করা হয়।
এদিকে সংসদ সচিবালয় থেকে বাজেট অধিবেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। করোনা মহামারীর এসময়ে এবারো এ অধিবেশনের মেয়াদ স্বল্প সময়ের হওয়ার কথা রয়েছে। ২জুন শুরু হয়ে মুলতবি দিয়ে দিয়ে ৩ জুলাই অধিবেশন শেষ হতে পারে। আর সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বাজেট নিয়ম অনুযায়ি ৩০ জুনের মধ্যে পাস করা হবে। এবার বাজেটের আকার হতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকার উপরে।
চলতি (২০২০-২০২১) অর্থ বছরের বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। দেশের প্রথম বাজেট উত্থাপন করেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
এদিকে চলতি অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা হয়েছিল গত বছরের ১১ জুন। এর পর মাত্র ৯ দিনের বাজেট আলোচনা শেষে তা পাস করা হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন। এবারো করোনা পরিস্থিতির কারণে অল্প দিনে আলোচনা শেষ করে বাজেট পাস হবে।
করোনা মহামারীর মধ্যে এবারো কঠোর স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাজেট অধিবেশন চালানো হবে।
অধিবেশনের প্রথম দিন প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষে অধিবেশনের মুলতবি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এছাড়া বাজেট পেশের পর ৪ ও ৫ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৬ জুন রোববারের কার্য দিবসে সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস করার কথা রয়েছে। এরপর বিরতি দিয়ে প্রস্তাবিত ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের ওপর আলোচনা শুরু করা হবে। আর তা ৩০ জুন বুধবার পাস হতে পারে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবারো কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রতি ৭২ ঘণ্টা পর পুনরায় নেগেটিভ সনদ মিললেই সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে যোগদান করতে পারবেন। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদেরও কোভিড নেগেটিভ সনদ লাগবে।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানা গেছে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন সংসদ সদস্যকে অধিবেশনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্বে বসে সংসদ অধিবেশন চলবে।
এবারো গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার থেকে সংসদ অধিবেশন কাভার করতে হবে। তবে বাজেট পেশের দিন এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার দিন সংসদে সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে। এজন্য মঙ্গলবার থেকে সংসদ মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালনায় কোভিড টেস্ট শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ফোন ছিনতাই, দুদিনেও উদ্ধার করা যায় নি

0

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া ফোনটি দুদিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। উল্লেখ্য গত রোববার সন্ধ্যায় নিজ দফতর থেকে বাসায় ফেরার পথে ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা অবস্থায় রাজধানীর বিজয় সরণি সিগন্যালে মন্ত্রীর হাত থেকে ছুঁ মেরে ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এক ছিনতাইকারী। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী নিজেই বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মন্ত্রী জানান, আইফোন মোবাইলটি তার ছেলের দেওয়া উপহার ছিলো। তিনি নতুন সিম উঠিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে গানম্যানকে বিষয়টি জানান। কিন্তু গানম্যান বের হয়ে আর ছিনতাইকারীকে ধরতে পারেননি। কাফরুল থানায় এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তা উদ্ধারে নামে। তবে শেষ খবর(মঙ্গলবার রাত ১০টা) পাওয়া পর্যন্ত ফোনটি উদ্ধারকরা সম্ভব হয় নি। কাফরুল থানার ওসি (তদন্ত) আজিজ জানান, ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, এখনো পাওয়া যায়নি।

চীনে এবার মানুষের শরীরে মিলল বার্ড ফ্লুর এইচটেনএনথ্রি

0

চীনে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লুর এইচ১০এন৩ এর ধরন শনাক্ত হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জিয়াংসুতে এই ধরন শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স থেকে এ খবর জানা গেছে।
রয়টার্স জানায়, বার্ড ফ্লুর এইচ১০এন৩ এ যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন তার বয়স ৪১ বছর। তিনি জিনজিয়াং শহরের বাসিন্দা। গত ২৮ এপ্রিল তিনি জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ২৮ মে তার শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচ১০এন৩ স্ট্রেইন শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তবে কীভাবে তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হন, সে সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের (এনএইচসি) বিবৃতিতে বলা হয়, আক্রান্তের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারবেন। তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে আর কারও শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে এনএইচসি।
এইচ১০এন৩ একটি লো প্যাথোজেনিক বা তুলনামূলকভাবে কম মারাত্মক ধরন। এনএইচসি জানায়, ভাইরাসের এই ধরনটি মূলত পোল্ট্রিতে সংক্রমিত হয়। এটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ইমার্জেন্সি সেন্টার ফর ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজের আঞ্চলিক গবেষণাগার সমন্বয়ক ফিলিপ ক্লেস জানান, এই স্ট্রেইনটি তেমন পরিচিত না। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর ধরে ভাইরাসটির মাত্র ১৬০টি সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কিছু সীমিত অংশে মূলত বন্য বা জলচর পাখির মধ্যে এটি শনাক্ত হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মুরগির মধ্যেও এটি শনাক্ত হয়নি।
বর্তমানে চীনে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বিভিন্ন স্ট্রেইন আছে। এর মধ্যে কয়েকটি কখনো কখনো মানুষকে সংক্রমিত করে। বিশেষত সাধারণত যারা পোলট্রি খাতে কাজ করেন। তাদের শরীরে শনাক্ত হয়। ২০১৬-২০১৭ সালে ৩০০ মানুষ এইচ৭এন৯ স্ট্রেইনে মারা যাওয়ার পর মানবদেহে আর কোনো বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা যায়নি।

নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে, তদন্তে কমিটি

0

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের প্রকাশিত নিবন্ধে (আর্টিকেল) চৌর্যবৃত্তির (প্ল্যাজিয়ারিজম) অভিযোগ উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাঁদের প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে চৌর্যবৃত্তি করেছেন এই দুই শিক্ষক।
অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আওয়াল কবির এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইয়াহিয়া বেপারী। অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলী গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক আওয়াল কবির ও ইয়াহিয়া বেপারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালে সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন। এরপর মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রকিব চৌধুরী ও মাহবুব রহমান অভিযোগ করেন, শিক্ষা বিষয়ে তাঁদের লেখা একটি নিবন্ধ থেকে বেশির ভাগ অংশই চৌর্যবৃত্তি করা হয়েছে। এরপর তাঁরা বিষয়টি নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের প্রকাশিত নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির শিক্ষক এম শামীম কায়সার। এই কমিটি অভিযোগের বিষয়ে যাচাই করবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে সুপারিশ করবেন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের একজন মো. ইয়াহিয়া বেপারী গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি ওই নিবন্ধের সহলেখক। মূল লেখক আওয়াল কবির। তিনি শুধু নিবন্ধের গ্রামাটিক্যাল ও মেথডোলজি বিষয়টি দেখেছেন। তারপরও অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁদের প্রকাশিত নিবন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন,ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে ইউজিসিকে জানাতে বলেছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে অ্যান্টি-প্ল্যাজিয়ারিজম সফটওয়্যার ‘টার্নিটিন’ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত রোববার ইউজিসির এক সভায় গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তি মোকাবিলায় শিগগির টার্নিটিন সফটওয়্যার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই সফটওয়্যারের সেবা সরবরাহ করা হবে।
পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে গবেষণার স্বত্ব সংরক্ষণ ও মৌলিকত্ব নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে ইউজিসি। সম্প্রতি একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে ইউজিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অভিনেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী গ্রেফ্তার

0

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ। কয়েকবার করানো হয়েছে গর্ভপাত। কিন্তু বিয়ে করতে রাজি হননি প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এই নারী শেষ পর্যন্ত মামলা ঠুকলেন থানায়। আর এই মামলায় গ্রেফতার করা হলো সাবেক মন্ত্রীকে। ঘটনাটি ভারতের তামিলনাড়ুতে। সাবেক মন্ত্রীর নাম এম মাণিকনন্দন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তামিল চলচ্চিত্র জগতের এক অভিনেত্রী সাবেক মন্ত্রী এম মাণিকন্দনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। পাশাপাশি জোর করে গর্ভপাত করানো, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগপত্রে ওই অভিনেত্রী উল্লেখ করেন, পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক ছিলো তাদের।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন মাণিকন্দন। এরপর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জোর করে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এভাবে পাঁচ বছরে তিনবার জোর করে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী। তামিলনাড়ুর সাবেক এই মন্ত্রী তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিয়ের পর তাদের সন্তান পৃথিবীর আলো দেখবে।
অভিনেত্রীর আরও অভিযোগ, এম মাণিকন্দনের সহকারীরা তার পরিবারকে হেনস্তা করেছে। এমনকি তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। দেশ না ছাড়লে তার ব্যক্তিগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ভাড়া করা খুনির সাহায্যে অভিনেত্রীকে খুন করার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তামিলনাড়ুর সাবেক মন্ত্রী গোটা বিষয়টিই অস্বীকার করে বলেছেন, ওই অভিনেত্রীকে তিনি চেনেন না।

রাজধানীতে নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

0

রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার কলাবাগানের ৫০/১ ফার্স্ট লেনের নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের চিকিৎসকের নাম কাজী সাবিরা রহমান লিপি (৪৭)। তিনি গ্রীন লাইফ হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন। কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ওই বাড়িতে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ উপস্থিত হয়েছেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসকের পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত সাবিরার গলায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পিঠেও দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে না।’
ডিসি আজিমুল আরও বলেন, ‘ডা. সাবিরা কলাবাগানের ৫০/১ ফার্স্ট লেনের বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি ফ্ল্যাটের দুটি রুম দুই তরুণীকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দেন। সকালে সাবলেটে থাকা এক তরুণী হাঁটতে বের হয়েছিলেন। হেঁটে আসার পর তিনি বাসায় ফিরে দেখেন চিকিৎসক সাবিরার রুম বন্ধ। রুমের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে তিনি দারোয়ানকে ডেকে চাবি এনে রুমের তালা খুলে দেখতে পান চিকিৎসক সাবিরা ফ্লোরে পড়ে আছেন।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি দ্রুত রহস্য উদঘাটন হবে।’
স্বজনেরা জানিয়েছেন, সাবিরা চট্টগ্রামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসটিসি) থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তাঁর প্রথম স্বামী ২০০৩ সালে দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর ২০০৫ সালে বর্তমান স্বামী শামসুদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিয়ে হয়। সাবেক এই ব্যাংকারের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি আলাদা থাকছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলাবাগানের এ বাসায় ওঠেন তিনি। পাশেই তাঁর মা–বাবার বাসা। সাবিরার ২১ বছর বয়সী ছেলে নানা-নানির সঙ্গে থাকেন। আর ১৩ বছরের মেয়ে কখনো তাঁর সঙ্গে, কখনো নানা-নানির সঙ্গে থাকে। রোববার রাতে সাবিরা বাসায় নিজের কক্ষে একাই ছিলেন।
সাবিরার ফ্ল্যাটে তিনটি কক্ষ। একটি কক্ষে তিনি থাকতেন। বাকি দুটি কক্ষে দুই তরুণী থাকতেন। তাঁর ঠিক পাশের কক্ষে থাকা কানিজ ফাতেমা মডেলিং করেন। আরেকটি কক্ষে যে তরুণী থাকেন, তিনি ঈদের পর বাড়ি থেকে ফেরেননি। ওই তরুণী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়েন। পুলিশের কাছে সাবিরার বাসার সাবলেট থাকা তরুণী দাবি করেছেন, সকাল ছয়টায় তিনি হাঁটতে বেরিয়ে যান। তখন সাবিরার কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। সাড়ে নয়টায় ফিরে এসে তিনি ওই কক্ষ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন। তখন তিনি দারোয়ানকে ডেকে আনেন। দারোয়ান ডেকে আনেন আরেক নারীকে। এরপর মিস্ত্রি ডেকে এনে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। তখন কক্ষটিতে আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর পর সাবিরার দেহ বিছানার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। আগুন নিভিয়ে একটি চাদর দিয়ে দেহটি তারা ঢেকে যায়। এরপর কানিজ ফাতেমা কলাবাগান থানা–পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে সাবিরার লাশ উল্টে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়।
সিআইডির পরিদর্শক শেখ রাসেল কবির ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, সাবিরার গলার বাঁ পাশের নিচে দুটি গভীর কাটা রয়েছে। এতে তাঁর শ্বাসনালি কেটে গেছে। দুটি কাটা চিহ্ন রয়েছে পিঠের দিকে। আগুনে সাবিরার শরীরের পিঠের দিক পুড়ে গেছে। মারার পর তাঁকে পুড়িয়ে ফেলার একটা চেষ্টা ছিল। এটা ‘ক্লিয়ার মার্ডার’। মধ্যরাতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার কোনো উৎস তাঁরা পাননি।
দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সাবিরা সবার ছোট। তাঁর এক ভাইয়ের স্ত্রী সুমনা হক ঘটনাস্থলে জানান,রোববার বিকেলে সাবিরা তাঁর মায়ের বাসায় গিয়েছিলেন। মেয়ের জন্য রান্নাবান্না করে সন্ধ্যায় তিনি বেরিয়ে আসেন। কাউকে তিনি অস্বাভাবিক কিছু বলেননি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক বলেন, ‘সবাই ভেবেছিলেন সাবিরা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। পরে ডিবি পুলিশ এসে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পায়। আমরা তদন্ত করছি। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারব।

ফেনীতে পুলিশ কর্মকর্তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

0

ফেনীতে শফিকুল আজম (৪৩) নামে এক ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বাসার দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, শফিকুল আজমের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার আউটপাড়ায়। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরে কর্মস্থল হলেও তিনি ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর পাগলা মিয়া সড়ক (হাজারী রোড) লাগোয়া মনির আহম্মদের আশিক মঞ্জিলে ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন।
পুলিশ জানায়, শফিকুল আজম গত বৃহস্পতিবার পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেনী শহরের বাসায় ফেরেন। তারপর তাকে আর দেখা যায়নি। তিনি বাসাতেই ছিলেন। দুই-তিন দিন বাসা থেকে বের না হওয়ায় এবং বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় বাড়ির মালিক মনির আহম্মদ সোমবার বিকেলে বাইরে থেকে অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু বাসার ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের উপর তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনীর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-ডিএসবি) খালেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শফিকুল আজম হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।