দেশে এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডায়েথিলামাইড) মাদকের চালান আসে ইউরোপ থেকে। অনলাইনে কুরিয়ার ও লাগেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে এলএসডি আসে। আর বিকিকিনিও হয় অনলাইনে। দেশে অন্তত ১৫টি গ্রুপ ভয়ঙ্কর এ মাদক বিক্রিতে সক্রিয় রয়েছে।
রোববার রাতে পল্টন থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল আহাদ।

রাজধানীর শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গ্রুপের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের কাছ থেকে ভয়ংকর মাদক ২ হাজার মাইক্রোগ্রাম এলসডি, আইস ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
তারা হলেন, সাইফুল ইসলাম সাইফ (২০), এসএম মনওয়ার আকিব (২০), নাজমুস সাকিব (২০), নাজমুল ইসলাম (২৪) ও বিএম সিরাজুস সালেকীন (২৪)।
ডিসি আহাদ বলেন, গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, তারা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত এক বছর ধরে এলএসডি সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত তারা। অনলাইনে ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা আসক্ত হয়ে এলএসডি সেবন শুরু করে। মূলত বিদেশ থেকে এলএসডি মাদক সংগ্রহ করে তারা। রাজধানীতে ১৫টি গ্রুপ রয়েছে যারা এলএসডি বিক্রি করে আসছে। গ্রুপগুলো গত এক বছর ধরেই এই এলএসডি বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত।
১৫টি গ্রুপকে শনাক্ত করা গেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা সরাসরি ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। অনলাইনের মাধ্যমে এলএসডি মাদক নিয়ে আসতো। তবে তাদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারে কাজ চলছে।
তারা কোন দেশ থেকে এলএসডি নিয়ে আসতো—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, মূলত ইউরোপ থেকে এলএসডি নিয়ে আসতো। ১৯৩৮ সালে সুইজারল্যান্ডের একজন বিজ্ঞানী ওষুধ হিসেবে এলএসডি আবিষ্কার করে। পরে এটি অপব্যবহার হয়ে মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দেশে এলএসডি কীভাবে আসে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুরিয়ার ও লাগেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে এলএসডি আসে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ১৪ থেকে ১৫টি গ্রুপ দেশে এলএসডি আনার সঙ্গে জিড়িত।
এর আগে রাজধানী থেকে এলএসডি নামক মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।
তিন শিক্ষার্থী হলেন সাদমান সাকিব ওরফে রুপল (২৫), অসহাব ওয়াদুদ ওরফে তূর্য (২২) ও আদিব আশরাফ (২৩)। তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে (বিবিএ) পড়েন।
এলএসডি বেচাকেনায় জড়িত অভিযোগে গত বুধবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ও লালমাটিয়া থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাদের হেফাজত থেকে ২০০ ব্লট এলএসডি উদ্ধার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুরকে কার্জন হল এলাকায় তার তিন বন্ধু এলএসডি সেবন করান। এর প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক ডাব বিক্রেতার ভ্যানে রাখা দা নিয়ে তিনি নিজের গলায় আঘাত করেন। তিনি পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর আট দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে তার লাশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে পড়ে ছিল। পরে তার ভাই লাশ শনাক্ত করেন। এরপর থেকেই এলএসডির বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি আসে ইউরোপ থেকে: বিকিকিনি অনলাইনে, জড়িত ১৫টি গ্রুপ
দানের টাকা মেরে হেফাজত নেতাদের ভোগ বিলাসিতা, গাড়ী বাড়ির মালিক,তদন্তে নেমে বিষ্মিত পুলিশ
মাদ্রাসা, এতিমখানা কিংবা রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশ থেকে পাঠানো দানের টাকা হেফাজত নেতারা কীভাবে ‘আত্মসাৎ করে নিজেদের বিলাসিতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ ব্যবহার করেছেন, সেসব তথ্য এখন মিলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেছেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই গত এক বছরে ‘৬ কোটি টাকা’ লেনদেন হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতি তাণ্ডবের পর থেকে সম্প্রতিক বিভিন্ন নাশকতার মামলায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
এর মধ্যে মামুনুল হকসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতকর্মীদের নাশকতার ঘটনার পর।
তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে বেশ ‘অগ্রগতি’ হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, বিদেশ থেকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাঠানো টাকা, যা পাঠানো হয়েছে মাদ্রাসা, এতিমখানা তৈরিতে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য, কিন্তু হেফাজত নেতারা তা নিজস্ব ভোগ বিলাসে, বাড়ি-গাড়ি তৈরিতে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছেন, সেসব প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”
তিনি জানান, হেফাজতের অর্থ সম্পাদক মনির হোসেন কাশেমীকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে দেখা যায়, এ সংগঠনে যে অর্থায়ন আসে, তার একটি বড় অংশ আসে বিদেশ থেকে।

“মূলত রোহিঙ্গা, মাদ্রাসা, এতিমদের জন্য আসে। তাছাড়া কিছু টাকা আসে যা শুধু হেফাজতের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। তবে এই টাকাগুলো তাদের হিসেবে সঠিকভাবে রাখা হয় না। হিসেবে আমরা স্বচ্ছতা পাইনি। ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা হেফাজতের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ওই টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে।”
যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, “মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে ৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, আরও বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট আমরা পেয়েছি। আমরা গভীরভাবে মামলাগুলো তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ করছি।”
তদন্তে ‘বিপুল পরিমাণ টাকা তসরুফের’ তথ্য মিলেছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ওই টাকা তারা শান-শওকত বাড়ি-গাড়িসহ আভিজাত্য বাড়াতে ব্যবহার করেছেন। যারা এইসব অর্থ ব্যবহার ও তসরুফ করছেন, তারা কিন্তু নিজেরা যেমন টাকার মালিক হচ্ছে, তেমনি সিন্ডিকেট গড়ে অন্যদের কোনঠাসা করেছেন।”
রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো দানের টাকা হেফাজত নেতারা কীভাবে ‘তসরুফ’ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে আসা টাকার হিসেবে নেই গ্রেপ্তার হওয়া হেফাজত নেতাদের কাছে। আমরা বিদেশি অর্থের হিসাবেরও স্বচ্ছতা পাইনি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেশি টাকা এসেছে। টাকাগুলো কীভাবে এসেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।
“রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের পরও ফান্ড কালেকশন করা হয়েছে। অনেকে টাকা দিয়েছেন। কী পরিমাণ টাকা এসেছে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না, তবে সেটা বিপুল পরিমাণ টাকা।”

নারী উন্নয়ন নীতি ও শিক্ষা নীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে গড়ে উঠেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। তবে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ আন্দোলনের পাল্টায় আট বছর আগে রাজপথে নেমে সংগঠনটি বেশি পরিচিতি পায়।
শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় সংগঠনটি। পরে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরাতে হয়।
ওই ঘটনায় কেবল ঢাকাতেই ৫৩টি মামলা হয়েছিল সে সময়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন থানায় হয়েছিল আরও অন্তত ৩০টি মামলা।
হেফাজতের অর্থ সম্পাদক মনির হোসেন কাশেমীকে গ্রেপ্তারের পর এ সংগঠনে অর্থায়ন নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছে পুলিশ
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২৯টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আসামি না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে চারটির।
বেশ কয়েক বছর নিষ্ক্রিয় থাকা হেফাজতের নেতারা গত বছরের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতায় সরব হতে থাকে। এরপর গত মার্চ মাসের শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতায় কর্মসূচি নিয়ে নামে রাজপথে।
তাদের বিক্ষোভ ও হরতালের কর্মসূচি থেকে কয়েকদিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে সংঘাত-সহিংসতায় ডজন খানেক প্রাণহানি ঘটে। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, পুলিশ ফাঁড়ি, রেল স্টেশন ভাংচুর ও আগুন ধরানো হয়।
এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫১টি মামলা হয়েছে, তাতে ৩ হাজার ২৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, শাপলা চত্বরে তাণ্ডবের ঘটনার ১৪টি মামলার তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। পাশাপাশি নতুন মামলার তদন্তভারও পেয়েছে। পুলিশের অন্য কয়েকটি সংস্থাও বিভিন্ন মামলার তদন্ত করছে।“আমরা তথ্য শেয়ার করে কাজ করছি। সুনির্দিষ্টভাবে সময় বলা না গেলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাগুলো চার্জশিট দাখিল করা হবে।” সূত্র -বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
জিয়া হত্যার বিচার বিএনপি করেও নি চায়ও নি; তদন্তই হয়নি হত্যা মামলার; কোর্ট মার্শালে বিচারের নামে ফাঁসি দেয়া হয়েছে ১৩ মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাকে
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যার মূল রহস্য যেমন উদঘাটিত হয়নি, তেমনি জিয়া হত্যার বিচারও হয়নি। সামরিক আদালতে যে বিচার হয়েছিলো তা ছিলো সেনা অভ্যুত্থান তথা মিউটিনির। সেই বিচার নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কিন্তু বেসামরিক আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কে বা কারা ছিলো তা রহস্যঘেরাই রয়ে গেলো।
জিয়া হত্যার মূল রহস্য কী ছিল, সেই হত্যার বিচার নিয়ে কেনো কোনো উদ্যোগই নেয়নি বিএনপি? অথচ দলটি ক্ষমতায় ছিলো কয়েকবার। বিএনপির এই অনীহা কেন? এ নিয়ে রয়েছে নানা রহস্য।

(ছবি-সংগৃহীত)
১৯৮১ সালে ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সময় সেনাপ্রধান ছিলেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। জেনারেল এরশাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। এরশাদের নির্দেশে জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সেনাবিদ্রোহ বা মিউটিনির অভিযোগ এনে বিচারের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় ত্বরিৎ গতিতে সামরিক আদালত গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগেই তৎকালীন চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে আটক করে সেনাহেফাজতে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
জিয়াউর রহমানের হত্যার পর তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন,জিয়াউর রহমানের হত্যার সুষ্টু তদন্ত করতে হবে এবং বেসামরিক আদালতে হত্যার বিচার করতে হবে। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি ৪০ বছরেও। এমন কি বেগম খালেদা জিয়া তিন তিনবার ক্ষমতায় থেকেও তাঁর স্বামী হত্যার বিচার করেন নি। বরং খালেদা জিয়ার শাসনামলেই হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিয়াউর রহমান যখন নিহত হন তখন তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না। তার সঙ্গে বেসামরিক লোকও নিহত হন। দেশের প্রেসিডেন্টসহ বেসামরিক লোকদের হত্যার জন্য অবশ্যই প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়া দরকার ছিলো। কিন্তু বিএনপি কয়েকবার ক্ষমতায় থেকেও কেনো তা করলো না তা রহস্যঘেরাই থাকলো।

(ছবি-জিয়া হত্যার ঘটনায় সামরিক আদালতে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণকারী ১৩ মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তা)
জিয়াউর রহমান যখন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন, সেসময় সার্কিট হাউজে বিএনপির হেভিওয়েট নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, তাদের গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত লাগেনি কেন? তা হলে এই হত্যাকাণ্ডটি কি শুধুই কিছু সংক্ষুব্ধ সামরিক কর্মকর্তার হঠকারিতা ছিল? নাকি এর পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল?
বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিয়া হত্যার পর বিএনপির যে রাজনৈতিক ধারা, সেই রাজনৈতিক ধারায় হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত তারা বিভিন্নভাবে সুবিধা পেয়েছেন। আর এ কারণেই এই হত্যাকাণ্ডে কার কি ভূমিকা ছিল তা জানা দরকার। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডে কেবল ফায়দা লুটতে চেয়েছে তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে চায়নি। এমন কি জিয়ার পরিবারও এ হত্যাকাণ্ডের বিচায় চায় নি।
বিএনপির আমলেই শেষ হত্যা মামলা:
সামরিক আদালতে বিদ্রোহের বিতর্কিত বিচার হলেও বিএনপি নেতাদের অবহেলায় আলোর মুখ দেখেনি জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফৌজদারি আইনে থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি। বিএনপি কয়েকদফায় ক্ষমতায় এলেও নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতার হত্যা মামলাটির কোন কুলকিনারা করেনি তারা।
বছরের পর বছর ধরে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের পর ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে সেটিকে পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে দেয়া হয়।
ফলে জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের নেপথ্যের ইন্ধনদাতা, পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উন্মোচিত হয়নি।
প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য হত্যাকান্ডের নেপথ্যের সব রহস্য উন্মোচনে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বিএনপির বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা দাবি করলেও দলের নীতিনির্ধারকরা তা আমলে নেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় দেশে সামরিক আইন ছিলোনা। তিনি ছিলেন সিভিল রাষ্ট্রপতি। আর হত্যাকাণ্ডটিও হয়েছে সিভিলিয়ান এরিয়া বা বেসামরিক এলাকা সার্কিট হাউজে। বেসামরিক এলাকায় দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হলে সেই হত্যার বিচার বেসামরিক আদালতে না হয়ে কেনো সামরিক আইনে ও আদালতে হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সেনা আইনের এ বিচার ছিলো সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ছাড়া জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কয়েকজন বেসামরিক লোকও নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন দু’জন দু’জন পুলিশ সদস্য ও গাড়ী চালক। তাদের হত্যার বিচার হলো না কেনো?
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জিয়া হত্যার ঘটনায় তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোকাররম হোসেন বাদি হয়ে ১৯৮১ সালের ১ জুন নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। (কোতোয়ালি থানার মামলা নং-২(৬)৮১,ধারা- ১২০ বি/১৩১/১৩২/১৪৮/১৪৯/১২১এ/১২৪/(এ)/৩০২/৩৩৩/৩০৭/২০১/১০৯/৩৪ দ:বি: )।
মামলায় চট্টগ্রামের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরসহ ১০ জনকে আসামী করা হয়। বাকি আসামিরা হলেন, কর্ণেল দেলোয়ার হোসেন, লে.কর্ণেল ফজলে হোসেন, মেজর মনির, মেজর দোস্ত মোহাম্মদ, মেজর মোজাফফর, মেজর রেজাউল করিম, ক্যাপ্টেন রফিক, ক্যাপ্টেন ইলিয়াছ এবং ক্যাপ্টেন জামিউল হক।
মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন নগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আব্দুল হাকিম খান। এরপর কয়েকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ছিলোনা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১০ এপ্রিল মামলাটি বিচারিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই দিন থেকে ১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য ১৪৩ বার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এসময় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিলো চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারকে। কিন্তু প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম খান কোনো নথিপত্র রেখে যাননি উল্লেখ করে ১৯৯৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে জবাব পাঠানো হয়।
১৯৯৭ সালের ৩১ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মামলাটি স্থগিত রাখার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সেনা কর্তৃপক্ষ যেহেতু মামলাটির তদন্ত করেছে, তাই পুলিশের আর তদন্তের দরকার নেই।
কিন্তু আদালত ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে শোকজ করেন। এতে বলা হয়,জিয়া হত্যার ঘটনার সময় সেনা সদস্য ছাড়া পুলিশ ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার সময় বেসামরিক লোক উপস্থিত ছিল। তাই সামরিক কর্তৃপক্ষ এককভাবে তদন্ত ও বিচার করা আইনবহির্ভূত বিধায় পুলিশ দিয়ে কেনো মামলার তদন্ত পরিচালনা করা যাবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
আদালতের এ আদেশের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ১৮/০২/ ১৯৯৯ তারিখে সিআইডির মাধ্যমে মামলাটি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের খান তদন্তের দায়িত্ব নেন। তিনি কয়েক দফা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যারা জিয়ার সফরসঙ্গী ছিলেন এবং সেই রাতে একসঙ্গে সার্কিট হাউজে ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি ইস্যু করেন। কিন্তু বিএনপির কোনো নেতা এবং দলের পক্ষে কেউ এতে সাড়া দেননি। এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকায় গিয়েও বিএনপি নেতাদের সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় আব্দুল কাদের খান ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ সময় দেশে ছিলো বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্বাধায়ক সরকার।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়। চট্টগ্রাম মূখ্য মহানগর হাকিম মো:আব্দুল মালেক চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মত চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা কখনোই চাননি জিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচিত হোক কিংবা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকদের মধ্যে কারা জড়িত ছিল, তাদের নাম তদন্তে বেরিয়ে আসুক। বিএনপি যদি জিয়া হত্যা মামলার বিচার করতে আন্তরিক হতো তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি দিলো না কেনো এমন প্রশ্ন রাখছেন অনেকেই।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,যদিও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা অনুযায়ী একই ঘটনার দু’বার বিচার হতে পারেনা। কিন্তু এ মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তদন্তই হয় নি। আর সামরিক আইনে যে বিচার হয়েছে সেটি ছিলো ভিন্ন। সেখানে হত্যা মামলার বিচার হয়নি, হয়েছে সেনা অভ্যুত্থানের জন্য মিউটিনির অপরাধে। যা ফৌজদারি আইনে গণ্য হবেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ চাইলে জিয়া হত্যার মামলাটি আবারও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।
জেনারেল ইব্রাহীম যা বললেন:
জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক আদালতে সেনা অফিসাররা ন্যায় বিচার পাননি এমন কথা বলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইব্রাহীম। যিনি জিয়া হত্যার পর গঠিত সামরিক আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। জেনারেল ইব্রাহীম ২০১৮ সালের ৩০ মে বিবিসি বাংলায় এক সাক্ষাতকার দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন। বিবিসিকে সেদিন কি বলেছিলেন জেনারেল ইব্রাহীম?
তিনি বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর যে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছিল, সেখানে শুধু অভ্যুত্থানের বিচার হয়েছিল।
সেই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সামরিক আদালতে ১৩ জন সেনা অফিসারকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি: ইব্রাহীম দাবি করেছেন যে, তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ওই সেনা আদালতকে যথাযথভাবে কাজ করতে দেয়নি, ফলে অভিযুক্তরা ন্যায় বিচার পাননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনের ৩১ ধারায় সে বিচার হয়েছিল। সেখানে বিদ্রোহের বিচার হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি।
সে বিচারে যেসব সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি হয়েছিল তাদের পরিবারের অনেক সদস্য অভিযোগ করেন যে সেখানে ন্যায় বিচার হয়নি।
বিবিসির প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ইব্রাহিম বলেন, “আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে তাঁরা ন্যায় বিচার পায় নাই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে যতদিন কোর্ট মার্শাল চলা উচিত ছিল, সেটা চলতে দেয়া হয় নাই।যেসব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করার জন্য আমরা চেয়েছি, সেগুলো হাজির করতে আমাদের দেওয়া হয় নাই।”
যদি সব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হতো তাহলে আরো অনেক ব্যক্তি খালাস পেতো বলে মনে করেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা।
সেনা বিদ্রোহের মূল চালিকাশক্তি এবং নেপথ্যের নায়ককে চিহ্নিত না করে কিছু লোককে বাধ্যতামূলক ফাঁসি দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সে সামরিক আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি বলে মনে করেন মি: ইব্রাহীম।
যারা সেসময় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের পরিবার চাইলে এখন কোন প্রতিকার আশা করতে পারেন ?
এমন প্রশ্নে মি: ইব্রাহীম বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন আইন নেই যার মাধ্যমে কোর্ট মার্শালের রায় রিভিউ বা পুনরায় পর্যালোচনা করা যায়।
মি: ইব্রাহীম বলেন, জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য ১৯৮১ সালের রাজনৈতিক সরকার কোনো চেষ্টা করেনি।
গুলিস্তানে ২৬ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন গ্রেফতার
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে গাঁজাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ মাসুদ রানা (২৫), মোঃ মেহেদী হাসান (২৩) ও মোঃ ইউনুছ আলী (৪২)। এসময় তাদের হেফাজত হতে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
২৯ মে, (শনিবার) বিকেলে পল্টন মডেল থানার গোলাপশাহ্ মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শামসুল ইসলাম জানান,কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী গুলিস্তান এলাকায় মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে গোপনসূত্রে খবর পেয় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ : ৫ আসামি রিমান্ডে
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে তরুণীকে (২২) গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
শনিবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ছয় আসামিকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। এ সময় আসামিদের মধ্যে সুমন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালত বাকি আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন- আরিয়ান, সাজু, সাইফুল, সোহাগ ও মনোয়ার।
আশুলিয়া থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর বোন মানিকগঞ্জে থাকেন। শুক্রবার তিনি বোনের বাসায় যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জে নিজের বাসায় ফেরার জন্য তিনি বাসে ওঠেন। রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে তাকে নামিয়ে দেয়া হয়। এ সময় বাসের জন্য তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন।
রাত ৯টার দিকে নিউ গ্রামবাংলা পরিবহনের একটি মিনিবাসের চালকের সহকারী মনোয়ার ও সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম এসে টঙ্গী স্টেশন রোডের কথা বলে তার কাছে ৩৫ টাকা ভাড়া চান। তিনি মিনিবাসে উঠলে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়। চালক বাসটি নিয়ে আবার নবীনগরের দিকে রওনা হন। এ সময় বাসের জানালা ও দরজা আটকে বাসের চালক, সহকারীসহ ছয়জন ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
এ সময় ওই নারীর চিৎকারে টহল পুলিশ বাসটি থামিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের মো: আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনা এলাকার সাজু (২০), বগুড়ার ধুনট উপজেলার খাটিয়ামারি এলাকার সুমন (২৪) ও একই এলাকার সোহাগ (২৫), বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার মনোয়ার (২৪)।
গ্রেফতারকৃতরা সবাই তুরাগ থানার কামারপাড়া ভাসমান এলাকায় ভাড়া থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে মিনিবাস চালাতেন।
এদিকে নির্যাতিতা ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী নারী স্বামী-সন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জে থাকেন। তিনি সেখানে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তার স্বামীর বাড়ি লালমনিরহাট।
বাবুল আক্তারকে ফেনী কারাগারে স্থানান্তর
স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রাম কারাগারে থেকে ফেনী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফেনী কারাগারের জেলার শাহাদাত হোসেন জানান, শনিবার দুপুর দেড়টায় ফেনী কারাগারে পৌঁছান।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাবুল আক্তারকে ফেনী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুনের মামলায় গ্রেফতারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ১৭ মে থেকে বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম কারাগারে ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর খুনের সাথে বাবুল আক্তার জড়িত, এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে ১২ মে ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।
গত ১২ মে দুপুরে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মোশাররফ হোসেনের মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
১৭ মে বাবুল আক্তারকে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় বসে থেকেও শেষ পর্যন্ত জবানবন্দি দিতে সম্মত হননি বাবুল আক্তার। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সূত্র : ইউএনবি
মানসম্মত ওষুধ উৎপাদনে নামছে সেনাবাহিনী; আর্মি ফার্মা লিমিটেডের যাত্রা শুরু
মানসম্মত ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল ‘আর্মি ফার্মা লিমিটেড’।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বৃহস্পতিবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের শিমুলতলীতে এ ওষুধ তৈরির কারখানার উদ্বোধন করেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, শত বিঘা জমির ওপর ‘অত্যাধুনিক’ প্রযুক্তি সম্বলিত এই কারখানায় ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইনজেকশন, সিরাপ, সাসপেনশন, ক্রিম, অয়েনমেন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক, সাপোজিটরি, ইনহেলার উৎপাদনের পাশাপাশি ভ্যাকসিন, বায়োটেক, হরমোন, অ্যান্টি- ক্যান্সার ওষুধ এবং হারবাল ও অ্যাগ্রোভেট সামগ্রী উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
আর্মি ফার্মা লিমিটেডে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির এই সময়ে আর্মি ফার্মার যাত্রা শুরুর বিষয়টিকে একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান।
“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আর্মি ফার্মা আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে তিনি মত প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ প্রতিষ্ঠানটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের অন্যতম শীর্ষ ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
সেনাপ্রধান আর্মি ফার্মাকে তার ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, পেপটিক আলসারের মতো অসুখে সর্বসাধারণ ভুগে থাকেন। আর্মি ফার্মা লিমিটেড থেকে উৎপাদিত উক্ত রোগসমূহের ঔষধ যাতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ নিম্ন আয়ের প্রান্তিক জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং সকলের জন্য সহজপ্রাপ্য হয়, সেজন্য আমি আর্মি ফার্মার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।”
আইএসপিআর জানিয়েছে, মহামারীর এই সময়ে ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে জার্মনিল ব্র্যান্ডের হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ফেইস মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ ও এন্টিসেপটিক সলিউশন উৎপাদন ও বিপণন করে আসছে আর্মি ফার্মা।
চট্টগ্রামে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
হেফজখানায় ৯ বছরের ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার। গ্রেপ্তারকৃত মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আব্দুল্লাহ মোজাহিদ (২১)কে বুধবার রাতে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের দুর্লভের পাড়ার একটি হেফজখানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোজাহিদ ওই এলাকার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকের হোসাইন মাহমুদ জানান, মোজাহিদ গত রমজান থেকে এক ছাত্রকে বলাৎকার করে আসছিলেন। গত বুধবার সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রকে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বললে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। কান্নার কারণ জানতে চাইলে এক পর্যায়ে ছাত্রটি বলাৎকারের ঘটনা খুলে বলে তার পরিবারকে।
বিষয়টি ছাত্রের পরিবার প্রথমে স্থানীয় বড়হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জুনাঈদ চৌধুরীকে অবহিত করেন। এরপর চেয়ারম্যান বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করার পর বুধবার রাত ১০টার দিকে ওই হেফজখানার শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ছাত্রটিকে জোরপূর্বক বলৎকারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে ছাত্রটির নানা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিক্ষক আবদুল্লাহ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
শিশুটির নানা জানান, গত রমজান থেকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার নাতিকে হেফজখানার শিক্ষক আব্দুল্লাহ বলাৎকার করে আসছিলেন। হুজুরের ভয়-ভীতির কারণে এতোদিন সে কাউকে বিষয়টি জানায়নি। বুধবার সকালে মাদ্রাসায় যেতে বললে সে কান্নাকাটি করে। আর মাদ্রাসায় যাবে না বলে জানায়। কারণ জানতে চাইলে সে বলাৎকারের বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।
স্থানীয় বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জুনাইদ চৌধুরী জানান, শিশুটির ওপর মাদ্রাসার শিক্ষক যে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে তা সত্যিই দুঃখজনক। বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাৎক্ষণিক লোহাগাড়া থানার ওসিকে অবহিত করেছি। তিনি ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছেন।
তরুণীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, ভারতে গ্রেপ্তার ৫, এরা ঢাকার মগবাজারের
বাংলাদেশি এক তরুণীকে ভারতে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া পর অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভাইরাল হওয়া ভারতে নারী নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশি আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এর আগে পুলিশ জানায়, কিছুদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় ২০-২২ বছর বয়সী একটি মেয়েকে বিবস্ত্র করে ৩-৪ জন যুবক অমানবিক নির্যাতন করছে। সাইবার পেট্রোলিং এর অংশ হিসেবে ভিডিওটি নজরে আসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের।
এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তা ভারতে সংঘটিত হয়েছে। তবে, ভিকটিম বাংলাদেশি। আর যে ৩-৪ জন যুবক ভিকটিমকে নির্যাতন করেছে তার একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রিফাতুল ইসলাম হৃদয় যিনি স্থানীয়ভাবে ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ নামে পরিচিত। নির্যাতনকারী হৃদয় হাতিরঝিলের মগবাজার এলাকায় বসবাস করত। হৃদয়ের মা ও মামার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে গত চার মাস আগে তারা তাকে বাসা থেকে বের করে দেন।
তিনি আরও বলেন, কৌশলে হৃদয়ের মামার হোয়াটস অ্যাপ নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হলে হৃদয় জানায় সে তিন মাস আগে ভারতে চলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ১৫-১৬ দিন আগের এবং ভুক্তভোগী বাংলাদেশি। ভুক্তভোগীর বাসাও হাতিরঝিল এলাকায়। হৃদয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আমরা নির্যাতিতার পরিবারের খোঁজ পাই। তার পরিবার নির্যাতিত মেয়েকে চিনতে পারে।
মো. শহীদুল্লাহ বলেন, হৃদয় বর্তমানে ভারতের পুনেতে অবস্থান করছে জানালেও তার প্রকৃত অবস্থান সনাক্তের পাশাপাশি সে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হবে। তার সহযোগী হিসেবে নির্যাতনে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের পরিচয়ও শনাক্ত হওয়ায় কাজ চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র হিসেবে মনে হচ্ছে। যারা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অসহায় ও বিদেশ গমনে ইচ্ছুক নারীদের প্রলুব্ধ করে বিদেশে পাচার করে থাকে। তদন্তের প্রয়োজনে আমরা ভারতের পুলিশ ও ইন্টারপোলের সহায়তায় এই নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করব
ফুলগাছ খাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ছাগল আটক ও জরিমানা; সমালোচনার মুখে ছাগল ফেরত দিলেন ইউএনও
বগুড়ার আদমদীঘিতে ছাগলের ফুলগাছ খাওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের করা জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের মুখে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ছাগলের মালিক সাহারা বেগমকে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ডেকে ছাগল ফেরত দেওয়া হয়।
আদমদীঘি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছাগল ফুলগাছ খাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইউএনও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছিলেন। তবে জরিমানার অর্থ মালিক দিতে না পারায় একজনের জিম্মায় ছাগলটি রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মধ্যস্থতা করে মালিকের কাছে ছাগলটি আজ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
জরিমানা অর্থ কে শোধ দিয়েছেন, জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, জরিমানা অর্থ শোধ দেওয়ার সামর্থ্য মালিকের নেই। ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতে কাগজে-কলমে দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেই ফেলেছেন। আপাতত জরিমানার অর্থ ইউএনওই দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওই টাকা পরে তিনি তাঁকে দিতে চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ছাগলের মালিক সাহারা বেগম বলেন, ১০ দিন আটকে রাখার পর আজ বিকেলে তাঁকে ডেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের মধ্যস্থতায় ছাগলটি ফেরত দেওয়া হয়। তাঁর কাছ থেকে জরিমানার কোনো অর্থ আদায় করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার ছাগলটি ১০ দিনে না খেয়ে শুকে (শুকিয়ে) গেছে।’
ইউএনও সীমা শারমিন বলেন, ছাগল ফুলবাগানের ক্ষতি করায় জন-উপদ্রব সৃষ্টির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মালিককে সতর্ক করতে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছিল। জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে বারবার ডাকা হলেও তিনি আসেননি। বাধ্য হয়ে সংশোধনের জন্য অর্থদণ্ড করেছিলেন, তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়।
জরিমানার অর্থ শোধ না দেওয়ায় ছাগলটি একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল, বিক্রি করা হয়নি উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, ‘পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ছাগলের মালিক অসহায়, জরিমানার অর্থ শোধ দেওয়ার মতো তাঁর সামর্থ্য নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করে জরিমানার অর্থ আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ওই নারীকে তাঁর ছাগলটিই ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিক্রি করার অভিযোগ সত্যি হলে প্রকৃত ছাগলটিই তিনি ফেরত পেতেন না।’
ইউএনও বলেন, সামান্য ভুল-বোঝাবুঝি থেকে বিষয়টি নিয়ে ‘লঙ্কাকাণ্ড’ হয়েছে। ছাগল ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির অবসান হয়েছে। খবরের সূত্র -প্রথম আলো।











