ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 132

যথা সময়ে টিকা না দেওয়ায় ভারতের সেরামের বিরুদ্ধে মামলার কথা ভাবা হচ্ছে

0

নির্ধারিত সময়ে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ করতে না পারায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই পরামর্শ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এখন দেওয়া হচ্ছে তা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে এই টিকা কিনে নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে মার্চ থেকে সেরামের টিকা রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশকে নির্ধারিত সময়ে সেরাম সব টিকা দেয়নি। এতে দেশের ১৪ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। রোববার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে টিকা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, ‘সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, অনেক দেশকেই তারা যথাসময়ে টিকা সরবরাহ করতে ফেল করেছে। যে কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মত দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে। আমাদেরও চিন্তা করা উচিত, যেহেতু আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যথাসময়ে সরবরাহ করেনি, আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব কি না।’ ফারুক খান বলেন, চার মাস আগে সংসদীয় কমিটি একাধিক উৎস থেকে টিকা আনার চেষ্টা চালাতে বলেছিল। তা কেন হয়নি, কমিটি জানতে চেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিভিন্ন কারণে তা হয়নি। এখন একাধিক উৎস থেকে টিকা আনার চেষ্টা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই টিকা আসবে। ভারত থেকেও টিকা আসবে। বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে টিকা পেতে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। চীনের টিকার জন্যও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে বলেছে কমিটি। বৈঠকে কোভিড-১৯–এর বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বন্ধ রাখার সুপারিশ করে কমিটি। ফারুক খানের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুল মজিদ খান, হাবিবে মিল্লাত এবং কাজী নাবিল আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।

দুইদিনে ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার

0

রাজধানীর গাবতলী মিরপুর আর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে দুইদিনে ৩৫ কেজি গাঁজা উদ্ধারের খবর জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়েব পোর্টাল ডিএমপি নিউজের প্রকাশিত খবরে এমন তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয় রবিবার বিকেলে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় বউ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আশিকুর রহমান ও নাজমা বেগম ।


বউ বাজার গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার কায়সার রিজভী কোরায়েশী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গাঁজা নিয়ে শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে ডিবির একটি টিম শেরেবাংলা নগর থানার বউ বাজার গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ এদের গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে তারা ঢাকা ও আশাপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো।
এর আগে শুক্রবার গাবতলি এলাকায় একটি পিকআপ গড়িতে তল্লাশী করে ৯ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে দারুস সালাম থানা পুলিশ। এসময় গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ গাড়িটি জব্দ করে। গ্রেপ্তারকৃত আক্তার হোসেন রাছেল (২২) কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে পিকআপে করে মানিকগঞ্জে দিকে যাচ্ছিল।
এছাড়া শনিবার রূপনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো রুবেল মোল্লা (৩৫), মোঃ সিয়াম (৩১) ও মোঃ রাকিব (২৩)।
পুলিশ জানায় রাত ৯টার দিকে রূপনগর থানার আরিফাবাদ আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে শনিবার রাজধানীর পল্টন এলাকায় ৫শ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। আব্দুল হালিম ও হাসি আক্তার এই দুজনকে আটক করা হয় বিজয়নগর এলাকা থেকে। তারা স্থানীয়ভাবে ইয়াবা বিক্রি করে বলে জানায় পুলিশ।

বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই, খালেদা জিয়ার- আইনমন্ত্রণালয়, বে-আইনী সিদ্ধান্ত বলেছেন তাঁর আইনজীবী

0

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্যে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে যে আবেদন তার পরিবার করেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করে যে শর্তে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তা শিথিল করে এখন তাকে বিদেশে যেতে দেওয়ার ‘সুযোগ নেই’।
আইনমন্ত্রীর এ মতামত পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, “খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে তার ভাই শামীম এস্কান্দারের আবেদনটি গ্রহণ করতে পারলাম না।”
শামীম এস্কান্দার ওই আবেদন করার পর গত চার দিন ধরে পর্যালোচনা ও দাপ্তরিক বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে রোববার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হল।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এ মতামত বেআইনি। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে কোনো অঘটন ঘটে গেলে তার দায় সরকারের।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, চিকিৎসা শেষে ফিরে আসতে হবে-সরকার এই শর্ত দিতে পারত। খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত জটিল। সরকার মানবিকভাবে দেখতে পারত। এই আইনজীবী বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারের নিজেরই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অনুমতি না দিয়ে সরকারের এত বড় দায়ভার নেওয়া উচিত হয়নি। যদি কোনো অঘটন ঘটে যায় তখন সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের ঘাড়ে পড়বে। আইনকে তো মানবিকভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।’
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এপ্রিলের ২৮ তারিখ থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

ইতোমধ্যে তিনি করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাকে বিদেশে নেওয়ার জন্য পাসপোর্ট নবায়নসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছিল তার পরিবার।

দুই মন্ত্রী সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার পর বিএনপি বা খালেদার পরিবারের তরফ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যেতে হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। গত বছর মহামারীর ‍শুরুতে পরিবারের আবেদনে সরকার তার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে সাময়িক মুক্তি দেয়।

সে সময় শর্ত দেওয়া হয়, মুক্ত থাকার সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

এরপর থেকে গুলশানের ভাড়া বাসাতেই থাকছিলেন ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ২৭ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।    

তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ওই আবেদন নিয়ে ৫ মে রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। সেই রাতেই তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিষয়টি ‘ইতিবাচক দৃষ্টিতে’ বিবেচনা করা হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই বাছাই শেষে পরদিন বিকালে ওই আবেদনের ফাইল আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের হাতে যায়। সে সময় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির শর্ত শিথিলের সুযোগ আছে কিনা, তা দেখে তিনি দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবেন। তিনিও বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে’ দেখার কথা বলেছিলেন।

এ নিয়ে দিনভর আলোচনার মধ্যেই ৬ মে খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদন যেহেতু হয়েছে, নবায়নও ‘হয়ে যাবে’ বলে সেদিন জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি পেরিয়ে খালেদার পরিবারের করা আবেদনের ফাইল আইনমন্ত্রীর ‘মতামতসহ’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায় রোববার সকালে। দুপুরে জানিয়ে দেওয়া হয়, খালেদা জিয়া অনুমতি পাচ্ছেন না।

কেন ‘না’

খালেদা জিয়া কেন অনুমতি পাচ্ছেন না, সেই ব্যাখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় ইতোমধ্যে (খালেদার সাময়িক মুক্তির) সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই শর্তগুলো শিথিল করে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার আবেদনে অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

ওই মতামতই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে জানাবেন। একবার যখন একটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, ৪০১ ধারার কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে, সেজন্য এটাকে আরেকবার ওপেন করার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার আবেদনে অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই।”
আইনমন্ত্রী তার শেষ কথা জানিয়ে দেওয়ার পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি বলেন, “আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার অভিমতসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠিয়েছেন। আইনগত দিক বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই।”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘মানবিক দিক’ বিবেচনা করে তাদের নেত্রীকে অনুমতি দেওয়ার আহ্বান রেখেছিলেন সরকারের কাছে।
সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এমন প্রশ্ন আসে কেন? মানবিক দিক বিবেচনায় ছিল বলেই তো আবেদনটি গ্রহণ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দিয়েছে, আইনের কারণে…।”

আইন মন্ত্রণালয় অনুমতির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সার সংক্ষেপ পাঠানো হত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় ‘না’ বলে দেওয়ায় এখন আর সেই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না বলে এক প্রশ্নের উত্তরে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বোরকা হিজাব পরে সন্তান কোলে নিয়ে অভিনব কৌশল, কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো ৬ হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক

0
নারায়ণগঞ্জে ইয়াবাসহ আটককৃত নারী।

ঘড়িতে তখন বেলা আড়াইটা।নারায়ণগঞ্জ শহরের ডন চেম্বার এলাকার এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে এক নারী তাঁর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে বোরকা ও হিজাব পরা অবস্থায় এসে পার্সেল শাখার গুদাম থেকে আচারের প্যাকেটের বুঝে নেন। আর তখনই ওৎ পেতে র‌্যাবের সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন। আচারের প্যাকেটটি খুলতে বলেন। কিন্তু রাজি হননি ওই নারী। পরে আশপাশের লোকজনের উপস্থিতিতে এই আচারের প্যাকেটের ভেতরে পাওয়া যায় ছয় হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট।
এই নারীকে আটক করা হয়েছে । তার নাম অরুণা আক্তার । বয়স ২৮। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কক্সবাজর থেকে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা এনে বিক্রি করতেন। তার কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা ইয়াবা নিয়ে যেতো।
আটক হওয়া অরুণা আক্তারের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা এলাকায়। র‍্যাব জানিয়েছে, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের কাজে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
র‍্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর হাসান শাহরিয়ার জানান, কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি চালান কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এসএ পরিবহনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাবের গোয়েন্দা দল নজরদারি শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা দলটি নারায়ণগঞ্জে এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। বেলা আড়াইটার দিকে অরুণা আক্তার নামে ওই নারী তাঁর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে বোরকা ও হিজাব পরা অবস্থায় এসে পার্সেল শাখার গুদাম থেকে আচারের প্যাকেটের আড়ালে কৌশলে ইয়াবার চালানটি বুঝে নেন। এ সময় র‍্যাব তাঁকে হাতেনাতে আটক করে। এ মহিলার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। মাদক পাচারকারিরা নিত্যনতুন কৌশল নিচ্ছে । দিন কয়েক আগে বেদে নৌকার আড়ালে কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন পথে নিয়ে আসা বড় একটি ইয়াবার চালান আটক করেছে র‍্যাব।

হেফাজত নেতা নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে এক নারীর ধর্ষণ মামলা

0

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় এক নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন এক নারী।
পুলিশ সূত্র জানায়, মামলায় বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর পরিচয় হয়। মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ চ‍্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং তাঁকে হাটহাজারীতে আসতে বলেন।
মামলায় বলা হয়, ওই নারী পরে হাটহাজারী আসেন। তাঁকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ফয়েজী বাসা ভাড়া করে দেন। এক বছর ধরে ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে নারীকে ধর্ষণ করেন ফয়েজী।
মামলায় আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ওই নারী হাটহাজারী থেকে চট্টগ্রাম শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় চলে আসেন। এরপর ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন বাসা ও হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
গত বুধবার কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ফয়েজীকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে হাটহাজারী থানায় হওয়া সহিংসতার এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত বৃহস্পতিবার তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর দুই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া তিনি হাটহাজারীর সহিংসতার ‘মাস্টারমাইন্ড’।
এসএম রশিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, হেফাজত নেতা ফয়েজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রাজধানী ছেঁয়ে গেছে মাদকে; করোনা আর লকডাউনেও বাঁধা মানছে না, প্রতিদিন উদ্ধার হচ্ছে বস্তা বস্তা গাঁজা, ইয়াবা

0

করোনা, লকডাউন কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না মাদকপাচারকারিদের। খোদ রাজধানীতেই বস্তায় বস্তায় গাঁজা আর লাখ লাখ পিস ইয়াবা ঢুকছে প্রতিদিন। পুলিশ কিছু উদ্ধার করছে কিন্তু বেশীরভাগই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাত্র এক সপ্তাহে রাজধানীতেই উদ্ধার হয়েছে অন্তত ৫শ কেজি গাঁজা আর এক লাখ পিস ইয়াবা। উদ্ধার হয়েছে ফেনসিডিল,হেরোইনসহ নানা ধরণের মাদক। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করছে। তবে বেশিরভাগই ধরতে পারে না পুলিশ। রাজধানীর কয়েকটি স্পটে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় ইয়াবা,গাঁজা,ফেনসিডিল।করোনার মহামারীর কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীর যান চলাচল বন্ধ। কিন্তু তাতেও ঠেকছে না মাদক আসা। এতো পথ ডিঙ্গিয়ে রাজধানীতে এসব মাদক কিভাবে ঢুকছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সীমান্তরক্ষীর চোখ এড়িয়ে, বিভিন্ন থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ, গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাজধানীতে এসব মাদক কি ভাবে পৌঁছে তাও রহস্যজনক। শুধু পৌঁছাই নয়,রাজধানীর অলিগলিতে তা বিলিবন্টন হয় বিক্রির জন্য। রয়েছে নির্ধারিত বাজার। যেখানে কখনো প্রকাশ্যে কখনো গোপনে বিক্রি হচ্ছে এসব মাদক। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান চললেও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নামক সংস্থাটির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা চোখে পড়ছে না। জীবন ধংসকারি ইয়াবা, হেরোইন,গাঁজা,ফেনসিডিল উদ্ধারে তাদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। “আইন আদালত”এর পাঠকদের জন্য শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের অনলাউন নিউজ পোর্টাল ‘ডিএমপি নিউজ’এ গত এক সপ্তাহের ইয়াবা আর গাঁজা উদ্ধারের খবরগুলো জানাচ্ছি ,যা পড়লেই বোঝা যাবে মাদক দ্রব্যের সার্বিক চিত্র।
**সাড়ে ১৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
ডিএমপি নিউজ সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ।এ সময় ১৯,৪৪৭ পিস ইয়াবা, ৩২ গ্রাম ৬০ হেরোইন ও ২ কেজি ৬শ৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে মঙ্গলবার (৪ মে) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

**১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকায় ৩ মে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- বায়েজিদ হোসেন শুভ (২৬) ও মোঃ মিজানুর হোসেন (৩০)। এসময় তাদের হেফাজত হতে গাঁজা বহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
**১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ,ডিএমপি, গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-নুরুল ইসলাম ওরফে রিগান (৩৩), জামাল হোসেন (৩৬), জাবের হোসেন নিলয় (১৮) আলী হোসেন তন্ময় (২১) ও রাজীব সূত্রধর (২৫)। আদাবর থানার শেখেরটেক প্রবাল হাউজিং রিং রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ মে পুলিশ এসব ইয়াবা উদ্ধার করে।

**৪৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে রবিবার (২ মে) হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মোঃ আলমগীর (৪৩) ও মোঃ সোহেল (২৯)। হাতিরঝিল থানার শিশু পার্কের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম হাতিরঝিল থানার শিশু পার্কের সামনে দুটি পাটের বস্তা ও একটি প্লাষ্টিকের বাজারের ব্যাগ তল্লাশী করে ৪৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে, সীমান্তবর্তী কুমিল্লা জেলা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে তারা ঢাকা ও আশাপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো।
**১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে ২ মে রবিবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে ইয়াবাসহ সেলিম উদ্দিন (১৯) ও সৈয়দ আলম (২৬) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

**সাড়ে ৯ হাজার পিস ইয়াবা,পিকআপভ্যানসহ ২ জন গ্রেপ্তার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ও পিকআপ ভ্যানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সফিকুল ইসলাম ওরফে মনা (৩৫) ও মোঃ আলমগীর মিয়া (২৮)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ৯৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
**১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা হতে ১০ কেজি গাঁজাসহ দু’জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ সাগর (২২) ও মোঃ মনিরুল ইসলাম মানিক (২৫)। উত্তরা পূর্ব থানার ৬ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
**৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকা হতে ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ৮ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ হোসেন আলী (৫২), আমেনা বেগম (৪০) ও মোঃ ফুল মিয়া (৫৫)। এসময় তাদের হেফাজত হতে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায় মিরপুর মডেল থানার উত্তর পীরের বাগ, ৬০ ফিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

**৫শ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে ২৮ এপ্রিল বুধবার ৫শ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম-মোহাম্মদ তাকবির হোসাইন(২৬)। এসময় তার হেফাজত হতে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
**৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর বংশাল থানা এলাকা থেকে গত ২৮ এপ্রিল বুধবার ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বাপ্পি (৩৮) ও মনির হোসেন (৪২)। এ সময় তাদের হেফাজত হতে গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয় । পুলিশ জানায় বংশাল থানার ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ডের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
**১২২ কেজি গাঁজা, ইয়াবা উদ্ধার:
পুলিশ জানিয়েছে ২৮ এপ্রিল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের দায়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১২৮৯ পিস ইয়াবা, ৩০ গ্রাম হেরোইন, ১২২ কেজি ২৮০ গ্রাম গাঁজা ও ৪৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২১ টি মামলা রুজু হয়েছে।

**৭০ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
রাজধানীর রমনা থানা এলাকায় ২৭ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো কাশেম (৩০) ও মনির হোসেন (২৫)। মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন রহমান হোমিও হলের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার জাবেদ ইকবাল জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা হবিগঞ্জ থেকে পিকআপে করে গাঁজা নিয়ে আসছে এমন খবর পেয়ে ডিবির একটি টিম মালিবাগ রেলগেট এলাকায় অবস্থানকালে দেখতে পায় রহমান হোমিও হলের সামনে দুইজন ব্যক্তি পিকআপ থেকে ৩ টি চটের বস্তা নামাচ্ছে। বিষয়টা সন্দেহ হলে ডিবি পুলিশ পিকআপের দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপ চালক ৩ টি চটের বস্তা রেখে দ্রুত পিকআপ চালিয়ে রামপুরার দিকে পালিয়ে যায়। এসময় বস্তা তল্লাশী করে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা জানায়, সীমান্তবর্তী হবিগঞ্জ জেলা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে পিকআপে করে ঢাকায় এনে তারা ঢাকা ও আশাপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো।
**২০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ২৭ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ২০০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- তোফায়েল আহম্মদ (৬০) ও মোঃ আপন মিয়া (২৮)।
**৩০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে গত ২৭ এপ্রিল ৩০০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গুলশান জোনের গোয়েন্দা ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- রুবেল খন্দকার (২১) ও মোঃ জিয়া (২২)। গ্রেপ্তারকৃতরা দেশের সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকা মহানগর এলাকায় বিক্রি করতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
** ৫ হাজার ৮শ পিস ইয়াবা,হেরোইন উদ্ধার:
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮১৪ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম হেরোইন, ৪ লিটার দেশী মদ ও ৮৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২৭ এপ্রিল এ অভিযান চালানো হয়। ।এ সময় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৯ টি মামলা রুজু হয়েছে।
** ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার:
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ২৬ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো তকি ওসমান (২১) ও প্রভাষ মন্ডল (৩৪)। পুলিশ জানায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, হকি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
**৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার:
ডিএমপি’র কদমতলী থানা পুলিশ ৩০ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মোঃ আবুল কাশেম ও মোঃ সোহেল মিয়া। কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দীন মীর জানান, সন্ধ্যায় কদমতলী থানার শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত হতে ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিকেলে অপর এক অভিযানে কদমতলী থানার মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইউনিষ্টিটিউট এর সামনে থেকে এক কেজি গাঁজাসহ মোঃ সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
**৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার:
পুলিশ জানায় কদমতলী থানা এলাকায় ৫০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩০ এপ্রিল এক অভিযান চালিয়ে এগুলো উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মিজান সরকার (৩০)।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা বন্ধে আইনি নোটিস, আনা হবে আদালত অবমাননার অভিযোগ

0

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সৌন্দর্য বাড়ানোর নামে গাছ কাটা বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বৃহস্পতিবার এই নোটিস পাঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংরক্ষণে আদালতের এক আদেশ স্মরণ করিয়ে দিয়ে নোটিসে বলা হয়েছে, গাছ কেটে রেস্তোরাঁ নির্মাণ বন্ধ না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামিম আকতার ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মীর মঞ্জুরুর রহমানকে ই মেইলে নোটিসটি পাঠানো হয়েছে বলে মনজিল মোরসেদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে উদ্যান সংক্রান্ত হাই কোর্টের একটি রায় দিয়েছিল। সে রায়ে বলা হয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিছক একটি এলাকা নয়। এই এলাকাটি ঢাকা শহর পত্তনের সময় থেকে একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই এলাকার ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্য আছে। শুধু তাই নয়, দেশের সকল গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্র এই এলাকা। ফলে সম্পূর্ণ এলাকাটি একটি বিশেষ এলাকা হিসাবে সংরক্ষণের দাবি রাখে।
এ আইনজীবী বলেন, “গত ১১ বছর হাই কোর্টের ওই রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়,পূর্ত মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। যখনই যোগাযোগ করেছি তখনই বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
“কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসলে কী হচ্ছে গত ১১ বছরেও আমরা জানতে পারিনি। এমনকি সংবাদ মাধ্যমেও এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কিছু আসেনি। ফলে মনে হচ্ছে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা হচ্ছে বা পাশ কাটানো হচ্ছে।”
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের (৩য় পর্যায়) মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রেস্তোরাঁ, হাঁটার পথ, গাড়ি রাখার স্থান নির্মাণে শতাধিক গাছ কাটা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
তার প্রতিবাদে বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মানববন্ধন হলে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘কিছু গাছ’ কাটা হলেও সেখানে আরও এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রায় বাস্তবায়ন নিয়েও উষ্মা ছিল উচ্চ আদালতের
এ দিকে বিডিনিউজ জানিয়েছে, রেসকোর্স ময়দানে একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান ও একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জনস্বার্থে ২০০৯ বছরের ২৫ জুন হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন।
এর এক বছর পরে দেওয়া রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাত্তর-পরবর্তী স্থাপনা, যেমন- শিশু পার্ক, মহানগর পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ফুলের মার্কেট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত রায়ে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাতটি স্থান চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিয়েছিল।
এগুলো হল- ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দেওয়া ভাষণের স্থান; ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান; একাত্তর সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথের স্থান; ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্থান; পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান; ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান এবং ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্থান।
এই সাতটি স্থান ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সব ধরনের স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হয়েছিল রায়ে।
গত বছর এ সংক্রান্ত আরেকটি রিট আবেদনে শুনানিতে এ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে এ রায়ের আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল।
পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দেয় আদালতে।
সেসব প্রতিবেদন দেখে গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিল, গত ১০ বছরে অন্য কোথাও শিশু পার্ক সরাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ঢাকায় বাচ্চাদের খেলার জায়গা নেই।
“আদেশ বাস্তবায়ন না করলে কোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হোক। শুধু বঙ্গবন্ধু ভাষণের স্থানটি চিহ্নিত করার উদ্যোগ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।”
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৬১০ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সুবেদার ইসলাম খাঁর সময়ে ঢাকা নগরী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যে উদ্যান গড়ে ওঠে তাই আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিতি পায়, পাকিস্তান আমলেও ছিল তাই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়, আরেক অংশ হয় রমনা পার্ক।
প্রায় দুই কোটি মানুষের ঢাকা নগরে ‘ফুসফুস’ হিসেবে বিবেচিত এই দুই উদ্যান।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ মানুষের পাশে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জানালেন আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এম.পি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই সুযোগ পেয়েছেন তখনই মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ও ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন। যে কারণে বাংলাদেশ এখন মর্যাদার আসনে অবস্থান করছে। আজকে যেভাবে একজন প্রধানমন্ত্রী দুস্থ মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছেন তা ১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশে আর দেখা যায় নি।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এরপর আখাউড়ার এক হাজার মানুষের প্রত্যেকের মাঝে ১০ কেজি চাল, এক কেজি সয়াবিন তেল, এক কেজি পিঁয়াজ, অাধা কেজি মসুর ডাল ও এক প্যাকেট সেমাই বিতরণ করা হয়।
সুবিধাভোগিরা খাদ্য সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর-এ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. জয়নাল আবেদীন, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এই রোজায় কেউ যেন কষ্ট না পান সে কারণে প্রধানমন্ত্রী উপহার পাঠিয়েছেন। আপনারা আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করবেন তিনি যেন আমাদেরকে এ মহামারী থেকে রক্ষা করেন।

ভার্চুয়াল আদালতে জামিনে কারামুক্ত ২৯ হাজার ২৯১ হাজতি,তথ্য আদালত প্রশাসনের

0

করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে দ্বিতীয় দফার লকডাউনে সারাদেশের অধস্তন আদালতসমূহে ৩ হাজার ৮৭টি আবেদনের ভার্চুয়াল শুনানি ও নিষ্পত্তি করে এক হাজার ৪৪৭ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সর্বমোট ১৭ কার্যদিবসে ৫৪ হাজার ৯৬৯টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ২৯ হাজার ২৯১ জন হাজতি জামিনে কারামুক্ত হলেন। বৃহস্পতিবার (৬ মে) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মুহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ‘করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে দ্বিতীয় দফায় সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন এবং অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তের ওপর শুনানি হয়েছে। ৫ মে সারাদেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে ৩ হাজার ৮৭ টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং এক হাজার ৪৪৭ জন হাজতি অভিযুক্ত আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল আদালতের প্রথম দিনে সারাদেশে অধস্তন আদালতসমূহে এক হাজার ৬০৪ জন, দ্বিতীয় দিনে ৩ হাজার ২৪০ জন, তৃতীয় দিনে ২ হাজার ৩৬০ জন, চতুর্থ দিনে এক হাজার ৮৪২ জন, পঞ্চম দিনে এক হাজার ৬৩৫ জন, ষষ্ঠ দিনে এক হাজার ৫৭৬ জন, সপ্তম দিনে এক হাজার ৩৪৯ জন, অষ্টম দিনে এক হাজার ৫৯২ জন, নবম দিনে এক হাজার ৮৩৯ জন, দশম দিনে এক হাজার ৫৯৩ জন, ১১তম দিনে এক হাজার ৩৯৫ জন, ১২তম দিনে এক হাজার ৪২২ জন, ১৩তম দিনে এক হাজার ৪১২ জন, ১৪তম দিনে এক হাজার ৭২১ জন, ১৫তম দিনে এক হাজার ৭১৪ জন এবং ১৬তম দিনে এক হাজার ৫৩৬ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়।
১৭ কার্যদিবসে সবমিলিয়ে ৫৪ হাজার ৯৬৯টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ২৯ হাজার ২৯১ জন হাজতি কারামুক্ত হয়েছেন। এ সময়ে জামিনপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩৮৮ জন।
এর আগে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হওয়ার পর প্রথম দফায় ২০২০ সালের ১১ মে থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৮ কার্যদিবসে সারাদেশে অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ফৌজদারি মামলায় জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয় এবং ৭২ হাজার ২২৯ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির (শিশুসহ) জামিন মঞ্জুর করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, প্রাদুর্ভূত মহামারি (কোভিড-১৯) এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে ১২ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তসমূহ নিষ্পত্তি করার উদ্দেশে আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
এছাড়াও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্বপালন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তলোয়ার নিয়ে সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ২ জঙ্গি রিমান্ডে

0

সংসদ ভবনে তলোয়ার নিয়ে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য আল আমিন এবং ‘উগ্রবাদী’ বক্তা আলী হাসান ওসামার পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

‘তলোয়ার নিয়ে’ জাতীয় সংসদ ভবনে হামলার ‘পরিকল্পনা এবং তাতে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে সংসদ ভবনের সামনে থেকে একজনকে এবং রাজবাড়ি থেকে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে ২২ বছর বয়সী আবু সাকিব নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। আর আলী হাসান ওসামা নামে অন্যজন একজন উগ্রবাদী বক্তা। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (ইভেস্টিগেশন) উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর সংসদ ভবনের সামনে থেকে ‘তলোয়ার এবং কালো পতাকাসহ’ সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। “সে জানায় উগ্রবাদী বক্তা আলী হাসান ওসামার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সে শহীদ হতে সংসদ ভবনে হামলার জন্য এসেছিল।” এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ী থেকে ওসামা নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাকিব সিরাজগঞ্জের একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্র জানিয়ে উপ কমিশনার সাইফুল বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব বলেছে, ফেইসবুকে একটি গ্রুপ খুলে সংসদ ভবনে হামলার জন্য তলোয়ার এবং কলেমা লেখা পতাকা নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলে সে। “পরে কাল সন্ধ্যায় সে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে দেখে, তার ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ আসেনি।” সাইফুল বলেন, আলী হাসান ওসামার বক্তব্যে ‘উদ্বুদ্ধ হয়েই’ সংসদ ভবনে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ওই ফেইসবুক গ্রুপ খোলার কথা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন সাকিব।এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আর কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করা হবে।