বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন না মর্মে নির্দেশনা দেওয়া হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়েছে রোববার।
এই রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন এটা নারীকে আরও পেছনে টেনে ধরবে। উচ্চ আদালতের কাছে নারী ন্যায় বিচার পায়নি। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
প্রসঙ্গত দিনাজপুরের এক নারীকে নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী নিয়োগ না করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই প্রার্থী রিট করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রিট খারিজ করে দেন। রবিবার বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর ওই রায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত রায়টির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ফিজিক্যাল ডিসকোয়ালিফেশনে থাকেন। সেক্ষেত্রে মুসলিম বিবাহ হচ্ছে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং আমাদের দেশে বেশিরভাগ বিয়ে মসজিদে পড়ানো হয়। ওই সময়ে নারীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না এবং তারা নামাজও পড়তে পারেন না। সুতরাং বিয়ে যেহেতু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সেহেতু এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নারীদের দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ সংক্রান্ত জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন না।’
রিটকারীর আইনজীবী ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী। নারীরা বিমানের পাইলট হচ্ছেন, সশস্ত্র বাহিনীতেও কাজ করছেন। তাহলে কেন নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবেন না? তাই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করবো।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িয়ার পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে তিনজন মহিলার নাম প্রস্তাব করেন উপদেষ্টা কমিটি। তিন সদস্যের ওই প্যানেলের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই বছর ১৬ জুন আইন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’ মর্মে চিঠি দিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল বাতিল করে।
পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন নিকাহ রেজিস্ট্রারের প্যানেলের এক নম্বর ক্রমিকে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের চিঠি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
শুনানি শেষে জারি করা রুলটি খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
কাজী হতে পারবেন না নারীরা, হাইকোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ নারী অধিকারকর্মীরা, আপিল হবে
পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় ও জনবল বাড়াতে নির্দেশ কেন নয়, জানতে চায় হাইকোর্ট
পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ যথাযথভাবে পালনে সংস্থাটির জনবল বৃদ্ধি এবং জেলা-উপজেলায় কার্যালয় স্থাপন ও গবেষণার ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
সংস্থাটির জনবল ও কার্যালয়ের সংখ্যা বাড়াতে নির্দেশনা চেয়ে করা এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে গত সপ্তাহে সম্পূরক আবেদনটি করা হয়েছিল। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী আমাতুল করীম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ছিলেন।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় না থাকাসহ জনবল স্বল্পতার কারণে সময়মতো আদালতের নির্দেশনা পালন করা যাচ্ছে না বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অথচ বিভিন্ন আইনে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেওয়া আছে। লোকবল ও কার্যালয়ের স্বল্পতার কারণে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধানগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করা যাচ্ছে না। তাই সংস্থাটির কার্যালয়ের সংখ্যা ও জনবল বাড়াতে নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক ওই আবেদন করা হলে হাইকোর্ট রুল দেন। সংশ্লিষ্টদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ আনলেন সাঈদ খোকন; উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন।
তিনি বলেন, “মেয়র তাপস সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯, ২য় ভাগের ২য় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৯ (২) (জ) অনুযায়ী (স্বার্থের দ্বন্দ্ব) মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।”
শনিবার ফুলবাড়িয়া মার্কেটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ‘অবৈধ’ দোকান উচ্ছেদের বিরোধিতা করে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন এ অভিযোগ করেন ।
সুপ্রিম কোর্টের সামনে কদম ফোয়ারা এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।

উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের উদ্যোগে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে এই মানববন্ধন হয়।
নকশাবহির্ভূত দোকান উচ্ছেদে গত ডিসেম্বর মাসে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এ অভিযান চালায় ডিএসসিসি।
গত কয়েক বছরে সেখানে নকশাবহির্ভূতভাবে ৯১১টি দোকান তৈরি করা হয়েছিল বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তখন মেয়র ছিলেন সাঈদ খোকন ।
উচ্ছেদ অভিযানের পর সাঈদ খোকনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মামলাও হয়েছে।
মানববন্ধনে যোগ দিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ফুলবাড়িয়া মার্কেটে ‘বৈধ’ দোকান ‘অবৈধভাবে’ উচ্ছেদ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ফুলবাড়িয়া মার্কেটে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, আমি আগেও বলেছি এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।
“কারণ, মহামান্য আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে ব্যবসায়ীদের বৈধ করণের আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমরা কর্পোরেশনের বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আলোচিত মার্কেটগুলোর নকশা সংশোধন, বকেয়া ভাড়া আদায় সাপেক্ষে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
“বোর্ডসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ নকশা সংশোধন করে এবং রাজস্ব বিভাগ ৭/৮ বছরের বকেয়া ভাড়া আদায় করে ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি প্রদান করে।”
উচ্ছেদের নিন্দা জানিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, “আমরা আশ্চর্যের সাথে লক্ষ্য করলাম, বিনা নোটিসে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অবৈধ উচ্ছেদের মাধ্যমে বুলডোজার দিয়ে এ সমস্ত হাজার হাজার বৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দিল এবং ফলশ্রুতিতে হাজার হাজার দোকান মালিক ও কর্মচারী সপরিবারে পথে বসে গেল।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খোকন।
উপজেলা পরিষদে ইউএনও’র ক্ষমতা সংক্রান্ত বিধান নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারি
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং তিনি পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন— আইনের এমন বিধান নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
ইউএনও’র এমন ক্ষমতা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানদের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। বাংলা নিউজ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১৬ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
আইনের ৩৩ (১) ধারায় বলা হয়েছে, “উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবেন।
(২) পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিপালন এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলী পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সম্পাদন করিবেন। ”
পরে আইনজীবী হাসান এম এস আজিম বলেন, উপজেলা পরিষদে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও একজন নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এটা সাংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান উপদেষ্টা থাকবেন বলে বিভিন্ন সময়ে জারি করা পরিপত্র কেন অবৈধ হবে না সেসব বিষয়েও রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিনা পারভীন, কালিয়াকৈর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আক্তার গত বছরের ৭ ডিসেম্বর এ রিট করেন।
চট্টগ্রামের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ভবন ভাঙার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ভবন ভাঙার ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছে হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশনা দেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আলম চৌধুরী এ রিট দায়ের করেন।

সংস্কৃতি সচিব, প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ও কোতোয়ালি থানার ওসিকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকার শিশুবাগ স্কুলের ভবন ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ৪ জানুয়ারি দুপুরে ভবন ভাঙাকালীন দুই পক্ষকে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী রানা দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন জনের হস্তক্ষেপে ভবন ভাঙা স্থগিত রাখা হয়। যদিও এর আগেই স্কুলের বেঞ্চ-টেবিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বের করে ভবনের উপরের একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি- ভবনটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি। যা ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্ত এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। চট্টগ্রামের এই আইনজীবীর ছেলে হলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। ব্যারিস্টার যতীন্দ্রমোহনও ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা। তিনি কলকাতার মেয়রও হয়েছিলেন। ইংরেজ স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তাকে নিয়ে কিছু দিন ভবনটিতে ছিলেন তিনি। মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎ বসু, মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় এই বাড়িতে এসেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীরাও এই বাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তীর হয়ে মামলা লড়েছিলেন যতীন্দ্রমোহন। এতে ব্রিটিশ শাসকদের রোষানলে পড়ে ১৯৩৩ সালে কারাগারে মৃত্যু হয়েছিল যতীন্দ্রমোহনের। এরপর নেলী সেনগুপ্তা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত রহমতগঞ্জের বাড়িটিতে ছিলেন। ১৯ গণ্ডা এক কড়া পরিমাণ জমিটি পরে শত্রু সম্পত্তি ঘোষিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে শামসুদ্দিন মো. ইছহাক নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি লিজ বা ইজারা নিয়ে ‘বাংলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন সেখানে। পরে নাম বদলে সেই ভবনে ‘শিশুবাগ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইছহাকের সন্তানরা স্কুলটি পরিচালনা করছেন।
বাসে অগ্নিসংযোগ মামলা; ১৭৮ বিএনপি নেতাকর্মীর আগাম জামিন
বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানী উত্তরা, কলাবাগান, শাহবাগ মতিঝিল, ও পল্টন থানায় দায়ের মামলায় ১৭৮ বিএনপি নেতাকর্মীর আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।
বুধবার ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে করা ৩৬টি আবেদনের শুনানী করে বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ জামিনের মেয়াদ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে তাদেরকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পন করতে হবে।
আদালতের আদেশের বিষয়টি জানান আসামীদের আেইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন গাজী কামরুল ইসলাম সজল।
১৭৮ জনের মধ্যে যুবদলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন শামীম রবিউল আলম অন্যতম।
প্রয়াত সাহারা খাতুনের মৃত্যুর পর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১২ নভেম্বর। ভোট চলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে মামলা করা হয়।
সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত: পিকে হালদারের ২৫ সহযোগির দেশত্যাগে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের প্রতারণায় সহায়তাকারী ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। তাদেরকে দরকার হলে দুর্নীতি দমন কমিশন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলেও আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের সহায়তাকারী ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ভূক্তভোগী বিনিয়োগকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয় হাইকোর্ট ।
এই ২৫ জন হলেন :১. হারুনুর রশিদ( ফার্স ফাইনান্স),২.উজ্জ্বল কুমার নন্দী ৩. সামি হুদা ৪. অমিতাভ অধিকারী ৫. অবন্তিকা বড়াল ৬. শামীমা( ইন্টারন্যাশনাল লিজিং)৭. মিস রুনাই ( ইন্টারন্যাশনাল লিজিং)৮. এন আই খান ( ইন্টারন্যাশনাল লিজিং) ৯. সুকুমার মৃধা(ইনকাম ট্রাক্স আইনজীবী) ১০. মিস অনিন্দিতা মৃধা, ১১. তপন দে ১২. স্বপন কুমার মিস্ত্রি ১৩. অভিজিৎ চৌধুরী ১৪. রাজিব সোম ১৫. ইরফান উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী( সাবেক এমডি ব্যাংক এশিয়া),১৬. অঙ্গন মোহন রায় ১৭. নঙ্গ চৌ মং ১৮. নিজামুল আহসান ১৯.মানিক লাল সমাদ্দার ২০. সোহেল সামস ২১. বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর এস কে সুর ২২. মাহবুব মুসা ২৩ এ কিও সিদ্দিকী ২৪. মোয়াজ্জেম হোসেন ও ২৫ লিলাবতী হালদার।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি পিকে হালদারের প্রতারণার শিকার সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের মেয়েসহ ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা রুল শুনানিতে পক্ষভূক্ত হন।
ওইদিন পিকে হালদারের প্রতারণার শিকার সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের মেয়েসহ ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা আত্মসাতকৃত টাকা ফিরিয়ে দিতে আদালতের কাছে আকুতি জানান।
তারা উচ্চ আদালতকে বলছেন, ‘আর্থিক ও মানসিক কষ্টে আমরা মারা যাচ্ছি আমাদের বাঁচান।’
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পিকে হালদার জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেন। যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হতে বসেছে এবং গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এসবের মাঝেই পিকে হালদার গোপনে দেশ ছাড়েন।
একপর্যায়ে পি কে হালদারের বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তার গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান উচ্চ আদালত।
ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশ গ্রহণ বাড়বে, বললেন আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকারের প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি হ্রাস করে দ্রুত সময়ে সঠিক আইটেম, সঠিক মূল্যে পাওয়ার ক্ষেত্রে ই-প্রকিউরমেন্ট এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিচার বিভাগসহ দেশের সকল সেক্টরে ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশ গ্রহণ বাড়বে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। মঙ্গলবার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত ই-প্রকিউরমেন্ট বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। অধস্তন আদালত শক্তিশালীকরণে আইন ও বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩৩ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অংশগ্রহণে তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ চলবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এনালগ পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির সুযোগ থাকে। দুর্নীতি দূর করে সকল সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে অধিক স্বচ্ছ ও জনমুখী করার লক্ষ্যে গত ১০ বছরে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নানা সংস্কার আনা হয়েছে। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করেই দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সময়মতো সরকারি ক্রয় কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারলে দুর্নীতি কমবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করেন তিনি ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ই-প্রকিউরমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে দক্ষতা, স্বচ্ছতার পাশাপাশি বেড়েছে প্রতিযোগিতা।
মন্ত্রী বলেন, বিচারকগণের বিচার কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকৃতির সরকারি ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকতে হয়। সেজন্য তাদেরকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত আইনি কাঠামো, আধুনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সাইকেলের বিভিন্ন ধাপ, প্রকিউরমেন্ট প্রসেস ও প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান সহ বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক ধারণা অর্জন করতে হবে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) বিকাশ কুমার সাহা এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।
তামাক ব্যবহারে কঠোরতা আরোপে আইন সংশোধনের আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে তামাকের ব্যবহার কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কিছু দুর্বলতা থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং এবিষয়ে করণীয় সম্পর্কে তুলে ধরতে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র একটি প্রতিনিধি দল সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে। এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে কঠোরতা আরোপ করা হবে। ইতিপূর্বে তামাকপণ্যের প্যাকেটে ছবি ব্যবহার ছিলনা, সেটি করা হয়েছে। পাশাপাশি একসময় বিমানসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ধূমপানের সুযোগ ছিল। আইন করে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনটি আরো যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। এসময় তিনি প্রজ্ঞা এবং আত্মা’র প্রস্তাবসমূহ আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বসহকারে বিবেচনার করবেন বলে আশ্বাস দেন।
বৈঠকে প্রজ্ঞা এবং আত্মা’র পক্ষ থেকে ১. ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ বিলুপ্ত সহ সকল পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা; ২. বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; ৩. তামাক কোম্পানির ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি’ বা সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা; ৪. বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা এবং প্যাকেটবিহীন জর্দা-গুল বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; ৫. ই-সিগারেট এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি) এর মতো ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টসমূহ আমদানি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; এবং ৬. সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার বৃদ্ধিসহ তামাকপণ্য মোড়কজাতকরণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ প্রভৃতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হয়। উল্লেখ্য, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) এর আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী, বাংলা ট্রিবিউন এর বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এবং প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
বিআইএফসির দুর্নীতি; দুর্বৃত্তরা প্রশ্রয় পাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে: হাই কোর্ট
দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাজে ক্ষোভ জানিয়েছে উচ্চ আদালত।
হাই কোর্ট বলেছে, “দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি-উন্নয়নের জন্য সরকার প্রধান যেখানে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিশেষ করে ডিজিএম, জিএম, নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নররা ঠগবাজ, প্রতারক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।”
ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আর্থিক খাতের এই বিপর্যয়ের জন্য তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছে আদালত।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) পরিচালনা পর্ষদ অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে একটি বিদেশি অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের করা আবেদনে এই পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওমর ফারুখ। বিআইএফসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসান আজিম, মাহফুজুর রহমান মিলন ও মো.সাইফুল ইসলাম সাইফ।
বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৭ ডিসেম্বর এ আদেশ দেয়। সোমবার পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপিতে এই পর্যবেক্ষণ দেখা যায়।
ওমর ফারুখ বলেন, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) ১০ শতাংশের বিদেশি অংশীদার ‘টিজ মার্ট ইনকরপোরেটেড’ গত বছর মার্চে আবেদনটি করেছিল।
বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা বিআইএফসি থেকে কী পরিমাণ টাকা নিয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য একটি স্বতন্ত্র নিরীক্ষক কোম্পানি নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল আবেদনে।
ব্যারিস্টার ওমর ফারুখ বলেন, “আদালত পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দেয়। আদেশে বিআইএফসির নতুন চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ এবং নিরীক্ষক কোম্পানি নিয়োগ দিয়েছে।”
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীকে বিআইএফসির চেয়ারম্যান ও স্বাধীন-স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগের আদেশ দিয়েছে আদালত। তিনি পরিচালনা পর্ষদ এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
পাশাপাশি আদালত আরও চারজনকে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তারা হলেন, সাবেক সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জামিল শরিফ, আইসিএবির সাবেক সহ-সভাপতি মো. মাহামুদ হোসেন ও মো. শাহাদাত হুসাইন।
এছাড়ও এই আর্থিক সংস্থার নিরীক্ষা পরিচালনার জন্য নিরীক্ষক কোম্পানি নূরুল ফারুখ হাসান অ্যান্ড কো. চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই নিরীক্ষক কোম্পানি বিআইএফসির সম্পদ, বিআইএফসির দায়, এর মূলধন, বিআইএফসিতে পৃষ্ঠপোষক অংশীদারদের বিনিয়োগের পরিমাণ এবং পৃষ্ঠপোষক অংশীদারদের বিনিয়োগের পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবে বলে জানান ওমর ফারুখ।
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছে, ২০০২ সাল থেকে আজ অবধি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
আদালত মনে করে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো।
পর্যবেক্ষণে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছে, “বাংলাদেশ ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঠগবাজ ব্যবসায়ী, প্রতারকরা যাতে জনসাধারণের অর্থ আত্মসাত করতে না পারে, বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকবেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এদের গোপন আঁতাত, পরিকল্পনা ভেঙে দিতে হবে “
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
গত বছর এই প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি পৃষ্ঠপোষক অংশীদার ‘টিজ মার্ট ইনকরপোরেটেড’ অর্থ আত্মসাত, অব্যবস্থাপনাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল বিআইএফসি পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগে বিআইএফসি চেয়ারম্যানের অপসারণ, নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের নির্দেশনা চেয়ে গত বছর হাই কোর্টে আবেদন করা হয়।
সেই সঙ্গে পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট ‘সুকুজা ভেনচার লিমিটেড’ ও ‘কাঞ্চি ভেনচার লিমিটেড’ কীভাবে বিআইএফসির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়েছে, সেজন্য এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।
এছাড়া ২০১৫ থেকে গত পাঁচ বছর পি কে হালদার ও তার সহযোগীরা বিআইএফসির কত টাকা আত্মসাত করেছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন-স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ এবং পি কে হালদারসহ তার আত্মীয়-স্বজন, সুকুজা ভেনচার লিমিটেড ও কাঞ্চি ভেনচার লিমিটেডের পরিচালক, বিআইএফসির সব পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
আদালত এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়। সে আদেশে বিআইএফসির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি, স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল আদালত।
সে আবেদনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দিল উচ্চ আদালত।
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে এ আদেশ প্রতিপালনের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের।









