ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 148

সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মানবপাচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মত মারাত্মক সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আধুনিক প্রযুক্তির যুগ এবং সাইবার ক্রাইম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটাকে আমাদের দমন করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মানবপাচার ইত্যাদি বৈশ্বিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা-নির্যাতনসহ নিত্য নতুন সামাজিক অপরাধ। এসব অপরাধকে আরো দক্ষতার সঙ্গে দমন করতে হবে। বাসস।
প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও লিংকের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, কেবল দেশে নয়, বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এটা অব্যাহত রাখা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিলে তারা যতক্ষণ কাজে থাকবেন তাতে তাদের কর্মদক্ষতা আরো বৃদ্ধি পাবে। সে ব্যবস্থাও করতে হবে।’
ফেসবুক, অ্যাপস বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়নো বা মিথা তথ্য প্রদানসহ কিশোর ও উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তাদের বের করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণভাবে গুজব রটানো বা এ ধরনের কাজ যেন করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করার জন্যও শেখ হাসিনা আহ্বান জানান।
এসব কাজে পুলিশের শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্য পালনকালে মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি ও সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের সেবা দেয়া, তাদের জীবন মান উন্নত করা-এটাই হচ্ছে আমাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পুলিশের আইজি ড. বেনজির আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন ।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল খন্দকার গোলাম ফারুক, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপারদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সকল বিষয়ে কৃত্বিপূর্ণ অবদানের জন্য সহকারি পুলিশ সুপার স্নেহাশিষ কুমার দাস ‘বেস্ট প্রবেশনার’ পুরস্কার লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপারদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয় এবং তিনি মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বাংলাদেশকে সকলে মিলে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি উন্নত হয়, তবে, গ্রাম, গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা আপনাদের আত্বীয়-স্বজন এবং পরিবারের সদস্যরাই উপকৃত হবে। তাদের জীবন সুন্দর হবে, তারাই নিরাপদে বাঁচতে পারবেন বা ভবিষ্যত বংশধরদের জীবনটা সুন্দর হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত অসাম্প্রদায়িক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সরকারেরও সেটাই দায়িত্ব, বলেন তিনি।
নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী সব সময় সরকারের পাশে রয়েছে, উল্লেখ করে সরকার প্রধান নবীন কর্মকর্তাদের ‘আগামীর কর্ণধার’ আখ্যায়িত করে দায়িত্ব পালনে আরো আন্তরিক হবার পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনা এ সময় ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘একটা কথা ভুললে চলবে না তোমাদের। তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ, তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্তানি শোষকদের পুলিশ নও, তোমরা জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা।’
জাতির পিতার এই বক্তব্যকে প্রতিটি নবীন পুলিশ সদস্যকে চলার পথের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে সেভাবেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতির পিতার ‘আপনাদের মানুষ যেন ভয় না করে। আপনাদের যেন মানুষ ভালোবাসে। অনেক দেশে পুলিশকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। আপনারা শ্রদ্ধা অর্জন করতে শিখুন’ উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের জনগণের আস্থা ও ভালবাসা অর্জনে ব্রতী হওয়ারও আহ্বান জানান।
পুলিশের বাজেট ২০০৯ সালের ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, উল্লেখ করে সরকার প্রধান অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠাতেও তাঁর সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্ট আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও কক্সবাজার এলাকার নিরাপত্তার জন্য দু’টি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করার তথ্যও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পুলিশ এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং তদন্তে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টার, ডিএনএ ল্যাব, অটোমেটেড ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এবং আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে, বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে সংযোজিত হতে যাচ্ছে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’ যাতে অপারেশনাল ডিউটিতে অফিসার এবং ফোর্সগণ হ্যান্ডফ্রি রেখে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
পুলিশের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক, আটটি বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ সমূহও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
করোনার কারণে ‘মুজিববর্ষে পুলিশের জন্য গৃহীত ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর না হওয়ায় সেখানকার বাজেট গৃহহীনদের জন্য তাঁর সরকারের গৃহ নির্মাণ কর্মসূচিতে ব্যয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী সকল পুলিশ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
‘মুজিববর্ষে দেশের একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না’ এবং ‘দেশের সকল ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে সমগ্র দেশকে আলোকিত করায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথাও এ সময় পুণর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ^ব্যাপী একটি স্থবির অবস্থার সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।’
মৃতের সৎকার বা রোগাক্রান্তকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া বা ঘরে ঘরে রিলিফ পৌঁছে দেয়ায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্য পালনকালে মৃত্যু বরণকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আত্বীয়-স্বজন লাশ ফেলে চলে গেছে কিন্তু আমার পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।’
সে কারণে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের পাশাপাশি তিনি একটি হাসপাতাল ভাড়া করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশে পৃথক একটি মেডিকেল ইউনিট গঠন করাটা একান্তভাবে দরকার বলে আমি মনে করি। তাদের নিজস্ব একটি মেডিকেল ইউনিট থাকুক যারা এই চিকিৎসা সেবা দেখবে।’
তাছাড়া, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলাগুলোতে পুলিশ হাসপাতালগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের সেবা বিস্তৃত করার প্রয়াস হিসেবে ‘বিট পুলিশিং’ চালু করেন। যার মাধ্যমে আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’র মাধ্যমে কেউ ফোন করলে তাৎক্ষণিক ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ এবং তাদের সেবা প্রদান করছে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা গত ১৯ ডিসেম্বর হিমছড়ির পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলা চার শিক্ষার্থীর ’৯৯৯’ এ ফোন করে পুলিশের চাহিদার প্রেক্ষিতে বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ’ অপারেশনের মাধ্যমে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার পাবার ঘটনাটির পুনরুল্লেখ করেন এবং সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য তাঁর আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করেন।

বুড়িগঙ্গায় দূষণ : ৩০ ওয়াশিং প্লান্টের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ হাইকোর্টের

0

বুড়িগঙ্গার পানি দূষণের জন্য কেরানীগঞ্জ এলাকার ৩০টি ওয়াশিং প্লান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে বুড়িগঙ্গার পানিতে বা নদী তীরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা করতে ঢাকার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কেরানীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যদি কেউ দূষণ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিমাসের প্রথম রোববার এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
আদেশের বিষয়টি আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৪ সালের করা এক রিট মামলার আদেশের ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেয়া হয়।
ওয়াশিং প্লান্টগুলো হচ্ছে- আহামদ হোসেন ওয়াশিং, আমেনা ওয়াশিং, সানমুন ওয়াশিং, ইডেন ওয়াশিং, বিসমিল্লাহ ওয়াশিং, লোটাস ওয়াশিং, গ্লোবাল ওয়াশিং, রুবেল ওয়াশিং, আনুস্কা ওয়াশিং, সততা ওয়াশিং, চঞ্জল ওয়াশিং, আব্দুর রব ওয়াশিং, ঢাকা ওয়াশিং, আজান ওয়াশিং, নিউ সাহারা ওয়াশিং, দোহার ওয়াশিং, রিলেটিভ ওয়াশিং, নিউনাশা ওয়াশিং, ইউনিক ওয়াশিং, মৌ ওয়াশিং, সেতু ওয়াশিং, কোয়ালিটি ওয়াশিং, জোয়েনা ওয়াশিং, কালাম ওয়াশিং, ওয়াটার কালার ওয়াশিং, পারজোয়ার ওয়াশিং, জিএম ওয়াশিং, কুমিল্লা ওয়াশিং, আছিয়া ওয়াশিং ও লিলি ওয়াশিং।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

0

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্য ও যথাযথ মর্যাদার সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি’র সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বছরব্যাপী নানান আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। বাসস।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে এবং তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একটি থিম সং, লোগো এবং পৃথক ওয়েসাইট করা হবে। থিমসং এর জন্য তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ , লোগোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এবং ওয়েবসাইটের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আহ্বায়ক করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে ।
বছরব্যাপী আয়োজনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ। বিস্তারিত কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর চুড়ান্ত অনুমোদনের পর জানানো হবে বলে মন্ত্রী জানান। সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে আব্দুল মোমেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, ভার্চুয়ালভাবে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, জন প্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুনসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বছরের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সঙ্গে আইনমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

0

২০২১ এর প্রথম কর্মদিবসে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আইনমন্ত্রী ।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন তিনি।
এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নতুন বছরের কেক কাটেন আইনমন্ত্রী।
শেষে আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দপ্তরে মিষ্টির প্যাকেট পাঠানো হয়।

পিকে হালদারসহ পলাতকদের বক্তব্য প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

0

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারসহ যে কোনো দণ্ডিত ও পলাতক আসামির বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার-সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট।
পরবর্তী আদেশ অথবা পি কে হালদার সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ধরনের প্রচার মাধ্যমের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়।
সোমবার রাত ১০টার খবরে পালাতক পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচারের পর এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তাকে সরাসরি সংযুক্ত করে একাত্তর টিভি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নজরে এনে লিখিত আবেদন করলে বুধবার কোর্ট বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা জারির ওই আদেশ দেয়।

একাত্তর টিভির খবরে পি কে হালদারের প্রচারিত বক্তব্য এবং ‘টকশোর’ ভিডিও ক্লিপও তলব করেছে হাই কোর্ট।
আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে তা হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে এদিন দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডেরও (আইএলএফএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ৩০০ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে।
বিদেশে থাকা পিকে হালদার গত ২৮ জুন আইএলএফএসএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তার দেশে ফেরার জন্য ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন।
আদালত তাতে অনুমতি দিলেও পিকে হালদার না ফেরায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ঢাকার জজ আদালত ইতোমধ্যে পি কে হালদারের সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও আদেশ দিয়েছে।
সোমবার রাতে একাত্তর টিভিতে পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচার ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তার যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার আদালতের নজরে আনেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
তিনি আদালতে বলেন, “সোমবার রাত ১০টায় একাত্তর টিভিতে পলাতক পি কে হালদারের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়েছে। এরপর আবার টক শোতেও ওই আসামিকে লাইভে এনেছে। আমাকেও সংযুক্ত করেছিল। আমি তার (পি কে হালদার) কথা শুনে লাইভ থেকে বেরিয়ে আসি।
“আমি তো কোনো পলাতক আসামির সঙ্গে টক-শো করতে পারি না। প্রথম কথা হল, পি কে হালদার পলাতক। দ্বিতীয় কথা হল তার বিষয়ে এই আদালতে একটা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা বিচারাধীন।
“তাই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন পি কে হালদারের প্রচারিত সাক্ষাৎকারে কী আছে। এই আদালত সেই ভিডিও, সাক্ষাৎকার তলব করে দেখতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন।”
দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে আদালত লিখিত আবেদন করতে বললে বুধবার সেই আবেদন জমা দেয় দুদক।
আবেদনে সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যে কোনো প্রচার মাধ্যমে পলাতক পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার ও সম্প্রচার বন্ধে তথ্য সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
সেই সঙ্গে পি কে হালদারসহ যে কোনো পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচার, বিতরণ ও সম্প্রচার বন্ধেরও নির্দেশনা চায় দুদক। এ আবেদনের শুনানির পরই আদেশ দেয় হাই কোর্ট। 

নকশাবহির্ভূত দোকান বরাদ্দ, সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

0

প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ফুলবাড়িয়া সিটি মার্কেট ২, ব্লক- এ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের করা আগের দিনের মামলা গ্রহণ করে বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম আশেক ইমাম এ আদেশ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
আদালতের পেশকার আতিকুর রহমান জানান বিচারক মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইকে ৩১ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
খোকন ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মাজেদ, কামরুল হাসান, হেলেনা আক্তার, আতিকুর রহমান স্বপন ও ওয়ালিদকে আসামি করা হয়।
মামলার আর্জিতে বলা হয়, রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর এ ব্লকে নির্মিত নকশাবহির্ভূত স্থাপনাগুলো বৈধতা দেওয়ার কথা বলে আসামিরা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৩৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৫ টাকা নিয়েছেন। পরে তাদের সেসব দোকান উচ্ছেদ করা হলেও তারা টাকা ফেরত পাননি।

হেফাজতের বিবৃতিই প্রমাণ করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, নিষিদ্ধের দাবি

0

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দায়িত্বশীল বক্তব্যের বিরুদ্ধে হেফাজত ইসলামের উস্কানীমূলক বিবৃতিই প্রমাণ করে হেফাজতের নেতারা মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক এবং রাষ্ট্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের বক্তব্যকে ইস্যু করে হেফাজতে ইসলামের উস্কানীমূলক বিবৃতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। আজও পর্যন্ত হেফাজতের ইসলামের কোনো নেতা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাননি। কারণ তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনকে মেনে নিতে পারেননি। তাদের মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়না এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়না। তারা বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতার মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম নিজেদের প্রকৃত চরিত্র জাতির কাছে উন্মোচিত করেছে। এরা শান্তির ধর্ম ইসলামকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। গত এক মাসে ৪০ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী বলাৎকার ও তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বিষয়ে নীরবতাই প্রমাণ করে হেফাজতের নেতারা বলাৎকারের সমর্থনদাতা। এরা কখনোই ইসলামের আদর্শ ধারণ করে না। এদের কাছে ইসলাম কখনোই নিরাপদ নয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগকে পুঁজি করে এরা প্রতিনিয়ত অপরাজনীতির চর্চা করছে। সম্প্রতি মামুনুল হক কর্তৃক প্রকাশ্য দিবালোকে নবীজীকে অবমাননা ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী বলাৎকারকে সমর্থন করাই প্রমাণ করে যে, এরা ধর্ম ব্যবসায়ী এবং ইসলামের প্রকৃত শত্রু। ওয়াজ মাহফিলে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী অপশক্তিদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এদের মূল উদ্দেশ্যে। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের দায়িত্বশীল বক্তব্য শতভাগ যথার্থ ও সময়োপযোগী। কারণ একটি দেশের জাতির পিতার সম্মান রক্ষা করা প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাংবিধানিক দায়িত্ব। পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত জাতির পিতার সম্মান ও সংবিধান রক্ষার্থে অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের দায়িত্বশীল বক্তব্যকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানানোর পাশাপাশি উক্ত দায়িত্বশীল ও সাহসী বক্তব্যের জন্য তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম যে, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী অপশক্তি হেফাজত এই বক্তব্যকে ইস্যু করে আবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এরা আবার রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে হেফাজত প্রমাণ করেছে যে, এরা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, এরা এখনো বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি। পুলিশ সুপারের দায়িত্বশীল বক্তব্যের বিরুদ্ধে হেফাজতের উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বিবৃতিই প্রমাণ করে যে, বাবুনগরী গংরা সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ও মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক। এরা একাত্তরে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষরা। বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করাই হেফাজতের মূল উদ্দেশ্যে। সরকারের নিকট আহবান, মহানবী (সা:) কে অবমাননা, সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে হেফাজতকে দ্রুত নিষিদ্ধ করতে হবে। সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে মামুনুল-বাবুনগরী গংদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

কারাগারে মাদক সরবরাহ বন্ধে হাইকোর্টের ৮ দফা নির্দেশনা, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

0

কারাগারে সব ধরনের মাদকদ্রব্যের সরবরাহ বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে আট দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।
এক আসামির ওকালতনামায় ডেপুটি জেলারের সই না থাকা নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রবিবার প্রকাশিত হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন
নির্দেশনাগুলো হচ্ছে—

১. বিচারাধীন মামলায় বা দণ্ডিত কারাবন্দিদের নাম, ঠিকানা, মামলার নম্বর, মামলার ধারা, কোন আদালতে মামলা বিচারাধীন বা কোন আদালতের রায়ে কী দণ্ড হয়েছে, কারা মহাপরিদর্শক, জেলার, সহকারী জেলারকে সেসব তথ্য রেজিস্ট্রারে রাখতে হবে।

২. কারা কর্তৃপক্ষকে দণ্ডিত বা বিচারাধীন মামলায় বন্দির কারাগারে আসা এবং বের হওয়ার তারিখ রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৩. যথাযথভাবে যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হয়ে কারাকর্তৃপক্ষ বা কারা কর্মকর্তাকে দণ্ডিত ব্যক্তি বা বিচারাধীন মামলায় কারাবন্দির ওকালতনামায় সই করতে হবে, বা সিল দিতে হবে।

৪. সংশ্লিষ্ট কারাকর্তৃপক্ষ অথবা কারা কর্মকর্তা ওকালতনামার যেখানে সই ও সিল দেবেন, তার পাশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পুরো নাম, কারাগারের ল্যান্ডফোন ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করবেন।  

৫. কোনও অশোভন, অযাচিত পরিবেশ-পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কারাগার ও কারা প্রাঙ্গণের শান্তি, নিরাপত্তা বজায় রাখতে কারাকর্তৃপক্ষকে সবসময় সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে।

৬. কারাগারের ভেতরে সব ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্যের সরবরাহ বন্ধে কারা কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. দর্শনার্থীদের কঠোরভাবে তল্লাশি করতে হবে এবং দর্শণার্থী কারও কাছে কোনও মাদকদ্রব্য,অবৈধ কিছু পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

৮. কারা আইন, ১৮৯৪, কারাবন্দি আইন, ১৯০০ এবং বাংলাদেশ জেলকোডসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনের বিধান কারা কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে।
এসব নির্দেশনা দিয়ে আদালত বলেছেন, প্রতি তিন মাস পর পর এ রায় বাস্তবায়নের প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবরে দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, আইজি প্রিজনস,সব জেলার ও ডেপুটি জেলারের কাছে আদেশটি পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর আদেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে জামিন পেয়ে বের হওয়ায় আসামিকে চার সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ  করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এমপি পাপুল পরিবারের ৬১৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, সম্পত্তি ক্রোক, স্ত্রী কন্যার জামিন

0

মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার পরিবারের সদস্যদের ৬১৭টি বাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছে আদালত।
সেইসঙ্গে পাপুলদের ৯২টি তফসিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় দুদকের করা আবেদনের শুনানি করে রোববার বিচারক এই আদেশ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এছাড়া পল্টন থানায় পুলিশের পরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা অর্থ পাচার মামলাতেও পাপলু, তার প্রতিষ্ঠানসহ আটজনের ৫৩টি হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন একই বিচারক।
দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস পাল।
দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে গত ১১ নভেম্বর পাপুলসহ চার জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনের মামলাটি দায়ের করেন।
এ মামলার অপর আসামিরা হলেন পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম।
আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয় সেখানে।
আর সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন হোসেন ২২ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ‘মানিলন্ডারিং’ প্রতিরোধ আইনে অন্য মামলা করেন।
পাপুল ছাড়াও তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির, জেসমিন প্রধানের কোম্পানি জে ডব্লিউ লীলাবালী, কাজী বদরুল আল লিটনের মালিনাধীন কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল এবং এই কোম্পানির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬জনকে সেখানে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, “এ মামলার আসামিরা “সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের মাধ্যমে অন্যূন ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা অবৈধ আয় করেন। এই আয়ের প্রকৃত উৎস গোপনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর, ভোগবিলাসে ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন মর্মে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।”
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ।
মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেখানে যে মামলা হয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি তার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।

জামিন পেলেন পাপুলের স্ত্রী-মেয়ে ঃ

এদিকে সংসদ সদস্য কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় জামিন পেয়েছেন।
রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিকালে তাদের জামিন দেন বিচারক।
এই দুই আসামি উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন। উচ্চ আদালত তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল।
তাদের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসামিদের নামে সুনিদিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই, আর তারা পালাবেন না।
সেলিনা সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। তার মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়েন।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুল অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর তার এবং তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
তাতে অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধান দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠানের’ আড়ালে জেসমিন পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
এসব কাজে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেন উল্লেখ করে তাদেরও আসামি করা হয়।
মামলায় জেসমিনের বিষয়ে বলা হয়, তিনি শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় বোন সেলিনা ও দুলাভাই পাপুলের অবৈধ অর্জিত অর্থ মানি লন্ডারিং করে বৈধতায় রূপ দিতে ‘লিলাবালি’ নাসের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
“বিভিন্ন ব্যাংকে তার প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। যেখানে শুধুমাত্র এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই রয়েছে ৩৪টি এফডিআর হিসাব। আসামি শহিদ ইসলাম পাপুল এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন বিধায় এই সুবিধা গ্রহণ করতে তার কোনো বেগ পেতে হয়নি।”
পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
এরপর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে গত ১১ নভেম্বর মামলাটি করেন।

পাকিস্তানী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে হত্যার নিন্দায় ঢাকায় বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ

0

কানাডায় নির্বাসিত পাকিস্তানের নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আরোও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ভাস্কর শিল্পী রাশা, কবি সরদার ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মিলন ঢালী, সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বাপ্পীসহ নেতারা।
সমাবেশে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “কানাডায় নির্বাসিত নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে পাকিস্তানি আইএসআই হত্যা করে প্রমাণ করেছে যে, পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক। বেলুচিস্তানের গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী মানুষদের প্রতি আমরা সংহতি জানাচ্ছি। কারিমা বালুচ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কানাডায় নির্বাসিত পাকিস্তানের নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। উক্ত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। পাশাপাশি বেলুচিস্তান মুসলিমদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি আমরা সংহতি জানাচ্ছি। বেলুচিস্তানের মানুষের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অত্যন্ত যৌক্তিক। পাকিস্তান সরকারের উচিত অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করে বেলুচিস্তানকে তাদের স্বাধীনতা প্রদান করা।

সম্প্রতি কানাডায় নির্বাসিত নারী মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে হত্যার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান নিজেদেরকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বেলুচিস্তানে মুসলিম গণহত্যা ও মানবাধিকার কর্মী কারিমা বালুচকে হত্যার অপরাধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্যাতন কতটা নিষ্ঠুর কতটা বর্বর কতটা অমানবিক ও নির্মম হতে পারে, বাঙালি জাতিই সম্ভবত: তা সর্বাপেক্ষা বেশী জানে। সেই ১৯৪৭ এর আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর তাদের রাজত্বের শেষ দিনটি শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত আমরা তা দেখেছি। তার উপযুক্ত জবাবও বাঙালি জাতি দিয়েছে ২৩ বছর ব্যাপী ওই শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে নিয়মতান্ত্রিক পথে জনজীবনের নানা দাবীতে, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি ন্যায় সঙ্গত দাবীতে তীব্র গণ আন্দোলন চালানোর ফলে হাজার হাজার বাঙালী তরুণ-তরুণীদের বিনাবিচারে অনির্দিষ্টকাল ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে-তাদের অনেকের পরিবার পরিজনের আর্থিক জীবন ধ্বংস করে অনাহারে মৃত্যু বরণ করতে বাধ্য করেছে, একের পর এক সংবাদপত্রকে স্বাধীন মত প্রকাশের দায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাদের ছাপাখানা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর দীর্ঘদিন পাকিস্তান সরকার দমন-নিপীড়ন চালিয়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছিল এবং দুই লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর দাবি, অবিলম্বে কানাডায় নির্বাসিত নারী মান
ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, “১৯৪৮ এ ভাষা আন্দোলনের পর (শুধুমাত্র মাতৃভাষার উপযুক্ত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংঘটিত ঐ আন্দোলন) শত শত ছাত্র যুব কর্মীকে বিনাবিচারে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল -১৯৫২ সালে ঐ আন্দোলন অধিকতর তীব্রতা অর্জন করলে ঢাকার রাজপথে মিছিলরত শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল আন্দোলন কারীদেরকে নির্মমভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করার মর্মান্তিক ঘটনাও তারা ঘটিয়েছিল। ১৯৭১ এর নয় মাস ব্যাপী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী ও তাদের বাংলাদেশী দোসর রাজাকার আলবদর আলশামসরা মিলে যে ভয়াবহ গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অপহরণ, লুটপাট চালিয়েছিল তা এক নজির বিহীন ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। তাই পাকিস্তানী সরকার ও সেনাবাহিনীর হাত রক্তরঞ্জিত, তাদের মন ও আচরণ নিষ্ঠুর। সেদিন জানতাম, বাঙালিদেরকেই শুধুমাত্র তারা তাদের শত্রু মনে করে। আজ আমরা জানতে পারছি-না, তা নয়। পাকিস্তানের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সকল জাতিসত্তাকেই সেখানকার পাঞ্জাবী শাসক ও শোষকগোষ্ঠী একই দৃষ্টিতে দেখে এবং তাদের প্রতি তাদের ব্যবহারও সমপরিমাণ নিষ্ঠুর। পাকিস্তানের অন্যতম ক্ষুদ্র প্রদেশ বেলুচিস্তানের মানুষেরা যাদের মাতৃভাষা বালুচ- দীর্ঘ দিন যাবত পাকিস্তানের পাঞ্জাবী বাহিনীর হাতে অনুরূপ নিষ্ঠুরতার যন্ত্রণায় ভুগছেন।

বেলুচিস্তানের মানুষ অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন, প্রগতিশীল এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী। তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকেও নানাভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। বেলুচিস্তান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল-তাই পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন তাদের ওপর অনেক বেশী।
সিন্ধু ও পাখতুনিস্তান ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিল তখন বেলুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশে পাখতুনিস্তান। বেলুচিস্তানের অল্প কিছু লোককে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জঙ্গীপনায় উদ্বুদ্ধ করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়ে সশস্ত্র করেছে এবং সেখানকার সকল প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। ফারজানা মজিদ ও মামা কাদির কোয়েটার শহর থেকে ইসলামাবাদের জাতিসংঘ কার্যালয় পর্যন্ত এক লংমার্চে নেতৃত্ব দেন। তাঁদের দাবী গুম হয়ে যাওয়া বেলুচদের উদ্ধারে পাকিস্তান সরকারকে বাধ্য করতে জাতিসংঘের নজরে দাবিটি উত্থাপন করা। ফায়জানার ভাই স্বয়ং কয়েক বছর যাবত গুম হয়ে আছে এবং অন্তত: আরও ২০,০০০ বেলুচির জীবনে একই অত্যাচার নেমে এসেছে। তাঁরাও গুম। এদের মধ্যে ৬,০০০ বেলুচকে পরবর্তীতে হত্যা করা হয়েছে নিষ্ঠুরভাবে এবং তাদের দেহ হেলিকপ্টার যোগে নিয়ে অজানা স্থানে পুঁতে রাখা হয়েছে। খনন করা হয়েছে গণকবর। এমন কি এব্যাপারে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য প্রকাশ হলে জানা গেল যে, বিচারপতিরা এই “ঘটনাকে বাধ্যতামূলক নিরুদ্দেশ বা অপহরণ” বলে উল্লেখ করলেও সরকার তাদের উদ্ধারে বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাদের লংমার্চ ছিল সুবিচার, স্বাধীনতা ও প্রিয়জনদের উদ্ধারের দাবি সম্বলিত এবং যাদেরকে গুম করা হয়েছে তাদের পরিবার-পরিজনরাই ছিলেন ঐ লংমার্চের আয়োজক। আক্ষরিক অর্থেই হাজার হাজার বেলুচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী মানবাধিকার কর্মী বেলুচ বেসামরিক জনগণ ও সাধারণ সচেতনর নাগরিককে নিরাপত্তা কর্মীরা, জঙ্গিরা এবং জিহাদ পন্থীরা যারা পাকিস্তান-অধিকৃত বেলুচিস্তানের অধিবাসী তাদের বিরুদ্ধে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
এই জাতীয় অপহরণ প্রক্রিয়া বেলুচিস্তানে চালানো হচ্ছে ১৯৪৮ সাল থেকে যখন শাসকগোষ্ঠী নিষ্ঠুরভাবে বেলুচিস্তান দখল করে নেয়।”
কবি সরদার ফারুক বলেন, “বেলুচ জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করতে ধর্মীয় উগ্রবাদী পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং সন্ত্রাসীরা সম্মিলিত ভাবে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তাদেরকে যেন লাইন্সে দেওয়া হয়েছে যখন খুশী যে কোন বালুচকে মারতে, মারতে, খুন করতে, ধর্ষণ করতে কোন বাধা নেই। বেলুচিস্তান গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা দিন দিন প্রকাশিত হচ্ছে। সেখানে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এখন সে দেশের সংবাদ মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী গত ছয় বছরে বেলুচিস্তান থেকেই প্রায় ১,০০০ মানুষের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি অধিকাংশই ছিন্নভিন্ন। তার মধ্যে ৫১% বেলুচ, ২২% পাখতুন। পাঞ্জাবী আফগান শরণার্থীদের দেহও মিলেছে । অনেক মৃত দেহই শনাক্ত করা যায় নি। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রুখতে গত বছর একটি জাতীয় কর্মসূচী গ্রহণ করে ইসলামাবাদ। সেই কাজে নিযুক্ত জনৈক আধিকারীকই সমীক্ষাটি সামনে এনেছেন। দেখা গিয়েছে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৯৪০ টির বেশী মৃত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকটা জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৪৬ টি দেহ – নিখোঁজ ১১২ জন। ২০১১ সালে এলাকা নিয়ে অশান্তির জেরে পরিকল্পনা মাফিক ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। তাতে এখন পর্যন্ত১৮৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে – গত কয়েক বছরের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে আহত হন প্রায় ৪,০০০।বেলুচিস্তান থেকে গত কয়েক বছরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহত ৪৯ টি দেহ উদ্ধার হয়েছে – পাখতুন ১৫৯ – কালটি থেকে ২৬৮ টি দেহ উদ্ধার করা গেছে। ১৭৫ টি দেহ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এমন ভয়াবহ নির্মমতা চালাচ্ছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবী সেনা ও মৌলবাদীরা। বেলুচরা বলছেন ১৯৭১ এ পাক বাহিনী বাঙালীদের উপর যেমন অত্যাচার চালিয়েছিল আজ পাঞ্জাবীরা তাঁদের উপর তেমনই অত্যাচার চালাচ্ছেন। তারা ছাত্র, আইনজীবী, শিক্ষক এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন নেতা-কর্মীরাই মূলত: এই হত্যালীলার শিকার কয়েকটি দশক যাবত।
ফলে প্রতিবাদ স্বরূপ ফারজানা অন্যান্য হাজার হাজার মানুষ ইতিহাসের লং মার্চ অভিযান চালান কোয়ের্টার শাল এলাকা থেকে শুরু করে বেলুচিস্তানের রাজধানী । যেখান থেকে সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচী এবং করাচী থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ পর্যন্ত দীর্ঘতম পথ তাঁরা পদযাত্রায় অতিক্রম করেন শুধুমাত্র ঐ অত্যাচারের অবসানের দাবীতে। পাকিস্তানী মিডিয়ায় তা তেমন একটা প্রকাশ করতে দেওয়া হয় নি। এমনকি, পাকিস্তানের যে সকল বুদ্ধিজীবীরা ঐ আন্দোলন কারীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তাঁদেরকেও রেহাই দেয়া হয়নি। অত্যাচার আজ নির্মমতার ভয়াবহতম পর্যায়ে পৌঁছেছে।”