ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 149

আট মাস পর জামিনে মুক্তি পেলেন ফটো সাংবাদিক কাজল

0

আট মাসেরও বেশী সময় কারাভোগের পর শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, জামিনের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর তারা কাজলকে মুক্তি দেন।
বাইরে অপেক্ষায় থাকা ছেলে মনোরম পলককে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি।
আর মনোরম পলক জানান তার বাবা শারীরিক অসুস্থ ও দুর্বল।
যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িতদের’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গত ৯ মার্চ ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর।
একই ঘটনায় পরে আরও দুটি মামলা হয় ঢাকার হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানায়। সবগুলো মামলাই আসামির তালিকায় কাজলের নাম ছিল।
এক সময় দৈনিক সমকাল ও বণিক বার্তায় ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা কাজল ‘পক্ষকাল’ নামের একটি পাক্ষিক পত্রিকা সম্পাদনা করছিলেন। মামলা হওয়ার পরদিন ১০ মার্চ বকশিবাজারের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
পরদিন কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী চকবাজার থানায় জিডি করেন। ১৮ মার্চ কাজলের সন্ধান চেয়ে চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন মনোরম পলক।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লেখালেখির কারণে অজ্ঞাতনামা কেউ তাকে ‘অপহরণ’ করেছে।

এক সময়ের জাসদ ছাত্রলীগ নেতা কাজলের সন্ধান দাবিতে তার পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও সাংবাদিকদের আন্দোলনের মধ্যে সম্প্রতি কাজলের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
ওই ফুটেজে কাজলকে একটি জায়গায় রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে পাশের কোথাও যেতে দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ ফিরে এসে মোটরসাইকেল চালিয়ে যান তিনি। এর মধ্যে তার ওই মোটরসাইকেল ঘিরে কয়েকজনকে তৎপরতা চালাতে দেখা যায়।

প্রায় দুই মাস পর গত ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে কাজলকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় বিজিবি। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়।

যশোর থেকে ঢাকায় আনার পর গত ২৩ জুন কাজলকে শেরেবাংলা নগর থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকের মুখোমুখি করা হয়। হাকিম আদালত সেদিন কাজলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।
এরপর গত ২৪ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতও কাজলের জামিন আবেদন নাকচ করলে তিনি ৮ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে আবেদন করেন।
সেই আবেদনে গত ২৪ নভেম্বর এবং এরপর ১২ ডিসেম্বর অন্য দুই মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান কাজল। সেই জামিনের কাগজ নিম্ন আদালত হয়ে কারাগারে পৌঁছালে শুক্রবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এমপি পাপুল ও স্ত্রী মেয়ে শ্যালিকার ৬১৩ কোটি টাকা, জমি, ফ্ল্যাট জব্দ করবে দুদক

0

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নামে মোট ৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬১৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। গত বুধবার দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন তা মঞ্জুর করে। বিষয়টি এখন আদালতকে অবহিত করা হবে।
এদিকে তাদের ৪ জনের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০.২৭ একর জমি ও গুলশানের একাধিক ফ্ল্যাট জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। গত মঙ্গলবার পাপুলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ এনে মামলা করে সিআইডি। এ ছাড়া পাপুলের ভাই ও শ্যালিকার দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও এই মামলা করা হয়েছে। পল্টন থানায় মানিলন্ডারিং আইনে এই মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। মামলায় ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা পাচার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমপি পাপুল ছাড়াও মামলার অপর আসামিরা হলেন-পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম (২৬), শ্যালিকা জেসমিন প্রধান (২৩), ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির (৩৫) এবং জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা (৫৬)। এছাড়াও পাপুলের ভাই কাজী বদরুল আলম লিটনের প্রতিষ্ঠান জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের প্রতিষ্ঠান জে. ডব্লিউ লীলাবালীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের এই মামলা করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় এমপি পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে আগাম জামিন না দিয়ে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন তাকে রাখা হয়েছে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে।
কুয়েতি কর্মকর্তাদের কীভাবে কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন, সে বিষয়ে রিমান্ডে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন পাপুল। যা প্রসিকিউটরদের বরাতে প্রকাশ করছে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সেখানে নাম আসায় কুয়েতের দুই এমপির বিরুদ্ধেও পাপুলকে বেআইনি কাজে সহযোগিতা এবং অর্থপাচারে জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। মামলার তদন্তের সময় অভিযুক্ত হিসেবে ১৩ জনের নাম উঠে আসে। এর মধ্য থেকে চারজনকে তদন্তকালে বাদ দেয়া হয়। সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেয়ার কাজ করলেও কুয়েতে অন্য ব্যবসার কাজও বাগিয়েছিলেন পাপুল।
এর আগে গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছিল, জেনারেল ট্রেডিং অ্যান্ড কনট্রাক্টিং নামক লাইসেন্স ছিল পাপুলের। যার মাধ্যমে শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে অ্যানটিক কার্পেটের ব্যবসাও তিনি করতে পারেন। পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত শহিদ ইসলাম পাপুল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাক লাগিয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সমর্থন আদায় করে। মহাজোটের প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছিলেন পাপুলকে কেন্দ্রীয়ভাবে তার জোট সমর্থন দেয়ায়। নির্বাচনের পর আরেক চমক ছিল পাপুলের স্ত্রীর সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া। এরপর দেশের রাজনীতির চমক এই সংসদ সদস্য আবারো আলোচনায় আসেন গত ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতের একটি সংবাদপত্রে বাংলাদেশি মানবপাচারকারীদের নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর। সূত্র – দৈনিক জনতা।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় দণ্ডিত আসামি রাজশাহী কারাগারের চিফ রাইটার!

0

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাব্বিশ বছর আগে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগিতে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাজা হয় আনোয়ার হোসেন জনির।
সম্প্রতি ওই ব্যক্তিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের চিফ রাইটারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাধারণত কারাগারের পুরনো বিশ্বস্ত কয়েদিদের গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে নিয়োজিত করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দণ্ডিত কয়েদিকে এ দায়িত্ব দেওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারা কর্মকর্তা বলেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারাগারের প্রধান রাইটারের দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ পরীক্ষিত কয়েদি ছাড়া কাউকে এই পদে দেয়ার নিয়ম নেই।
প্রধান রাইটার কারাগারে আসামি ও কয়েদিদের অপরাধের অভ্যন্তরীণ বিচার, তাদের শৃঙ্খলা ও সুযোগ-সুবিধা দেখাশোনা ছাড়াও বাড়তি আয় উপার্জনের বেশ সুযোগ আছে। পাশাপাশি এটি কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদ বলেও মনে করা হয়।
জানতে চাইলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. তারেক কামাল বলেন, কয়েকদিন আগে আনোয়ার হোসেন জনিকে প্রধান রাইটার করা হয়েছে। সে কেস টেবিলে (আসামি-কয়েদিদের বিচার) কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে।
তবে বিষয়টি আলাদা করে ভেবে করা হয়নি। সে কয়েদি বলেই এই দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠলে তাকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তারেক কামাল।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার খুলনা থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত ট্রেন মার্চ কর্মসূচি ছিল। শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার বগি লক্ষ্য করে উপর্যুপরি বোমা নিক্ষেপ করে ও গুলিবর্ষণ করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়।
ওইদিন রাতে ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওসি নজরুল ইসলাম শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রোস্তুম আলী ২০১৯ সালের ৩ জুলাই স্পর্শকাতর এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫২ আসামির মধ্যে ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
আনোয়ার হোসেন জনির এই মামলায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। রায় ঘোষণার কয়েকদিন পরেই জনিসহ দণ্ডপ্রাপ্তদের পাবনা জেলা কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি এই জনিকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান রাইটার নিয়োগ করা হয়েছে।

সিগারেট কারখানা স্থাপনে অনুমতি দিল বেপজা, উদ্বিগ্ন তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো

0

 

২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের বিপরীতে একটি নতুন সিগারেট উৎপাদন কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এশিয়ান টোব্যাকো লিমিটেড। ২৩ ডিসেম্বর তামাক কোম্পানিটি এ বিষয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এর সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করে। ঈশ্বরদী রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় তারা এই কারখানাটি স্থাপন করবে। জনস্বাস্থ্যের বিপরীতে একটি মৃত্যুবিপণনকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ প্রদান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে অকালে মারা যায় এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে আরো কয়েক লাখ মানুষ। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সুতরাং রাষ্ট্র কোনোভাবেই এই মৃত্যুবিপণনকে উৎসাহিত করতে পারেনা। তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তামাক ব্যবহারের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তামাক কোম্পানিকে উৎসাহিত করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব নয়।” তিনি আরো বলেন, কেবল রপ্তানির উদ্দেশ্যে সিগারেট কারখানা স্থাপন করা হলেও দেশে তামাক চাষ এবং উৎপাদন দুটোই বেড়ে যাবে। তামাক নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল- এফসিটিসি’র প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে বহুল সমাদৃত। তামাকপণ্য রপ্তানি বিশ্বকে নেতিবাচক বার্তা প্রদান করবে।
তামাকের ভয়াবহতা থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ সুগম করতে অবিলম্বে এ ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাহার করতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

ভুমি অধিগ্রহণ না করে টেকনাফ পৌর এলাকায়  উচ্ছেদ কার্যক্রমের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

0

ভুমি অধিগ্রহণ ছাড়া টেকনাফ বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কের ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় উচ্ছেদ কার্যক্রমমের ওপর  নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট। এর ফলে, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং টেকনাফ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
একই সঙ্গে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় ভুমি অধিগ্রহন ব্যতীত বিনা নোটিশে উচ্ছেদ কার্যক্রমমের প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা  জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব,কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ,টেকনাফ পৌরসভার মেয়র, টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যন্ডকে) এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত পৃথক পৃথক ছয়টি আবেদন শুনানি নিয়ে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মুজিবর রহমান মিয়া বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীম এর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার সাথে ছিলেনএস এম জুলফিকার আলী জুনু। অন্যাদিকে, রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্নি জেনারেটর ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু আরো জানান, টেকনাফ পৌরসভায় সড়ক বর্ধিত করার জন্য সড়ক ও জনপদ এবং টেকনাফ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি টেকনাফ বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কের ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় বিনা নোটিশে উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য প্রশাসন কর্তৃক লাল দাগ দেয়। এর পরে উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য মাইকিং করা হলে তারা ৮ ডিসেম্বরের পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সময় দিয়ে এবং নিয়মতান্ত্রিক উচ্ছেদের জন্যে আর্জি জানান। তাতে সাড়া না দেয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন ভুমির মালিকরা।

বিনা নোটিশে এবং ক্ষতিপুরণ না দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধে ওই সব স্থাপনার ৬জন মালিক যথাক্রমে হাজী হামিদ হোসেন, হাজী আব্দুল হাফেজ, মো.সিদ্দিক, বশির আহমেদ, হাজী আব্দুল কাদের ও মো: আলম বাদী হয়ে রিট করেন। ওই রিটের শুনানী করে হাইকোর্ট উচ্ছেদের উপর নিষেধাজ্ঞা ও রুল জারি করেন। 

আইনজীবীকে আটক রাখার জের; ঢাকার সিএমএম আদালতে বিচারকের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ, আদালতে তালা

0

এক আইনজীবীকে ‘দুই ঘণ্টা আটকে রাখার’ অভিযোগে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের ‘অপসারণ’ চেয়ে আদালতে বিক্ষোভ করছেন আইনজীবীরা।
বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা বুধবার সকালে মিছিল করে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরসহ কয়েকজন বিচারকের এজলাসে ঢুকে পড়েন এবং বিচার চেয়ে শ্লোগান দিতে শুরু করেন।
এ সময় হৈ চৈয়ের মধ্যে আদালতপাড়ার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
আইনজীবীরা ওই বিচারকের এজলাসে তালা লাগিয়ে দেন এবং পুরানো মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনের কলাপসিবল গেইটেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদশীরা জানান।
আইনজীবীরা জানান, মঙ্গলবার ‘এজলাসে উঠে বিচারকের আসন গ্রহণ করতে দেরি হওয়ায়’ প্রতিবাদ করেছিলেন রুবেল আহমেদ ভূইয়া নামের একজন আইনজীবী। এর জেরে ওই আইনজীবীকে ‘দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন’ হাকিম আসাদুজ্জামান নূর।
এর প্রতিবাদে বুধবার সকালে বিক্ষোভ শুরু করেন আইনজীবীরা। খবর পেয়ে বারের আইনজীবী নেতারা বিষয়টি সুরাহা করতে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনে আসেন।
আইনজীবীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বারের সাধারণ সভা আহ্বান করবেন।
ওই বিচারকের বিষয়ে ‘যথাযথ আইনি ব্যবস্থা’ নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের ঘটনা সম্পর্কে আইনজীবী মাহবুবুল হক ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান , আইনজীবী রুবেল আহমেদ ভূইয়া মঙ্গলবার বেলা ১১টায় একটি মামলার শুনানি করতে বিচারক আসাদুজ্জামান নূরের এজলাসে যান।
“অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর ওই আদালতের পেশকার জানান, দুপুর ১২টায় বিচারক এজলাসে উঠবেন। তখন আইনজীবী বলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট সময় বলা হোক, তা না হলে আমাদের সমস্যা হয়। সকালে অন্য আদালতেও মামলা থাকে। এক মামলার শুনানি করতে গেলে অন্যটিতে করা যায় না।’
“পরে বিচারক এজলাসে উঠে ওই আইনজীবীকে অন্য মামলা সেরে আসতে বলেন। অন্য মামলা সেরে আসার পর আইনজীবী রুবেল তার কনিষ্ঠ সহযোগী আইনজীবীকে পাঠান এ মামলা শুনানি করতে। তখন বিচারক বলেন, ‘সেই আইনজীবীকে আসতে হবে, যিনি সময় বিভ্রাটে পড়েছেন’।
“আইনজীবী রুবেল এজলাসে এলে কোনো কথা না শুনেই বিচারক এজলাসে থাকা পুলিশকে নির্দেশ দেন ওই আইনজীবকে আটক করার জন্য। পরে অন্য আইনজীবীরা বিচারককে অনুরোধ করে তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।”
এর আগে মঙ্গলবার লক আপে আটকে রাখার অভিযোগে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন দিয়েছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী। আবেদনে তিনি বলেন, মঙ্গলবার আমি ওই আদালতে মামলা পরিচালনা করতে যাই। এ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারক এজলাসে উঠবেন বলে জানান। কিন্তু ১১টার দিকেও বিচারক না ওঠায় বিষয়টি পেশকারের কাছে জানতে চাই। পরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক আমার মামলা না শুনে পরে আসতে বলেন। পরে গেলে আমাকে দুই ঘণ্টা লক আপে আটকে রাখেন এবং বলেন, আমার সনদ বাতিল করে দেবেন এবং সব ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দেবেন, আমার মামলা না শোনার জন্য। আমি বিষয়টিতে চরম অপমান বোধ করছি এবং উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

নানির মামলায় মা-বাবা কারাগারে; অবুঝ দুই শিশুর মাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ হাই কোর্টের

0

চুরি ও মারধরের অভিযোগে নানির করা মামলায় পুরান ঢাকার অবুঝ দুই শিশুর মাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সেই সাথে তাদের বাবাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত।
গণমাধ্যমে আসা একটি খবর নজরে আনা হলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়।
‘আদালতের বারান্দায় দুই শিশুর কান্না, বিচারের বাণী কাঁদল নিভৃতে’ শিরোনামে মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদন প্রচার করে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ, শিশির মনির ও কুমার দেবুল দে প্রতিবেদনটি হাই কোর্টের নজরে আনেন।
পরে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, আদালত শুনানি নিয়ে শিশু দুটির মাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি শিশু দুটির বাবার জামিনের বিষয়টি বিচারিক আদালতকে বিবেচনা করতে বলেছে।
“হাই কোর্টের আদেশের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঢাকার সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে দুই শিশুর মাকে মুক্তি দিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু দুটির নানি মোমেনা বেগম পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মেয়ে ওয়াসিমা বেগম ও জামাতা তোফায়েলের বিরুদ্ধে চুরি ও মারধরের অভিযোগে বংশাল থানায় মামলা করেন। এই মামলায় তারা গ্রেপ্তার হয়ে গত শুক্রবার থেকে কারাগারে আছেন।
এ অবস্তায় আড়াই বছরের শিশু ইয়াছিন ও সাড়ে তিন বছরের টুম্পাকে দেখার কেউ নেই। মঙ্গলবার শিশু দুটিকে নিয়ে জামিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন প্রতিবেশীরা। কিন্তু আদালত শিশুদের বাবা-মাকে জামিন দেয়নি বলে জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে। সূত্র- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সুসংহত আইনি কাঠামো অপরিহার্য – আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য সুসংহত আইনি কাঠামোসহ আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, সেকারণেই সরকার বিষয়ভিত্তিক নতুন নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এক্ষেত্রে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে বনানীর বাসা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠনের পর লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং উইং প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠন করলে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর উক্ত উইংকে তিনি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে উন্নীত করেন। আইনি পরিকাঠামো বিনির্মাণে এ বিভাগ সরকারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য, পুষ্টি, মাতৃত্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া, পরিবেশ, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে । সরকারের এ সকল কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন, অধ্যাদেশ ও আইনি মর্যাদা সম্পন্ন দলিল, চুক্তি ইত্যাদি প্রণয়নে এ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মন্ত্রী জানান, এ বিভাগের সহায়তায় ২০০৯ সাল হতে অদ্যাবধি গুরুত্বপূর্ণ ৫১০টি আইনের খসড়া প্রণয়ন ও ভেটিং, ৪৪টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন, ৪৪১৫টি বিধিমালা, প্রবিধানমালা, আদেশ, নীতিমালা ইত্যাদির খসড়া প্রণয়ন ও ভেটিং, প্রায় ৪৫০টি চুক্তি ভেটিং এবং আইনি ব্যবস্থায় জনগণের অভিগম্যতা এবং সকলের কাছে আইনের সহজবোধ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৬৮টি আইন, বিধিমালা ও চুক্তির নির্ভরযোগ্য অনূদিত পাঠ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, “ল’জ অব বাংলাদেশ” (http://bdlaws.minlaw.gov.bd) website টি বাংলাদেশের প্রচলিত ১৭৯৯ হতে অদ্যাবধি সকল আইনের একটা বিশাল অনলাইন ভাণ্ডার। যার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী তার চাহিদামত সর্বশেষ প্রকাশিত আইন ও অধ্যাদেশ এবং উহার সফট্‌কপি ডাউনলোডসহ প্রয়োজনে প্রিন্ট করতে পারেন। বর্তমানে এটাই বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের একমাত্র ওয়েব পোর্টাল যা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার বার অনুসন্ধান হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, রূপকল্প বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি মধ্য-আয়ের, জ্ঞানভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যাদুকরি নেতৃত্বে দেশ আজ বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন করে চলছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানবাধিকারের সংগ্রামের ফসল হিসেবে। আর এই ফসল ফলিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমান সরকারই ১৯৯৬ সনে তাদের যুগান্তকারী রাজনৈতিক উত্থানের পর দেশে একটি মানবাধিকারের পরিবেশ সৃষ্টি এবং পূর্বসূরিদের অনুসৃত বিচারহীনতার সংস্কৃতি তিরোহিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা প্রথম অনুভব করতে পেরেছিলেন।
বক্তৃতায় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে লেজিসলেটিভ ক্যাডার সার্ভিস গঠনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার সহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথমে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

কোটি কোটি টাকা পাচার; লক্ষীপুরের এমপি পাপুল ও পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলা সিআইডির

0

মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন হোসেন মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন থানায় ‘মানিলন্ডারিং’ প্রতিরোধ আইনে এ মামলা করেন।
পাপুল ছাড়াও তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির, জেসমিন প্রধানের কোম্পানি জে ডব্লিউ লীলাবালী, কাজী বদরুল আল লিটনের মালিনাধীন কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল এবং এই কোম্পানির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬জনকে আসামি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ।
মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেখানে যে মামলা হয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি তার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।
পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর তার এবং তার স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক।
সেই মামলায় আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সিআইডির করা মামলার এজাহারে বলা হয়, পাপুল এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মানবপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু হয়।
“অনুসন্ধানকালে জানা যায়, কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল সংঘবদ্ধভাবে তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও সত্তার সহযোগিতায় মানব পাচারের মাধ্যমে প্রচুর অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।”
প্রকৃত উৎস গোপনের’ জন্য সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ও স্থানান্তর করে ‘নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
এজাহারে বলা হয়, পাপুলের প্রতিষ্ঠান ‘মারাফিয়া কুয়েতিয়া’ কে অবৈধ ঘোষণা করে কুয়েত সরকার পাচারের শিকার ১১ জন ভিকটিমকে এ বছরের জুনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। তারা জানান, কুয়েতে যাওয়ার জন্য পাপুলের কর্মচারী সাদিকুর রহমান মনির এবং মগবাজারের জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ব্যাংক হিসাবে তারা প্রত্যেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।
এরপর আব্দুল আলীম নামের একজন ভিকটিম গত ৭ জুলাই মতিঝিল থানায় পাপুল ও মনিরসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
অনুসন্ধানে নেমে সিআইডি জানতে পারে, পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মচারী মনির দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কুয়েতে পাঠানোর জন্য লোক সংগ্রহ করতেন এবং জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নিতেন।
এজাহারে বলা হয়, রূপালী ব্যাংকের রাজারবাগ শাখায় মনিরের একটি হিসাবে ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে কুয়েত যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের দেওয়া ৩৮ কোটি ২২ লাখ টাকা জমা করা হয়েছে, যা পরে পাপুল, জেসমিন এবং ওয়াফার নামে পরিচালিত ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও তোলা হয়েছে।
এর মধ্যে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হাতিরপুল শাখায় জেসমিন প্রধানের অ্যাকাউন্টে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
একই শাখার জেসমিনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জেডাব্লিউ লীলাবালীর অ্যাকাউন্টে আরও ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। অথচ জেসমিন প্রধানের সঙ্গে সাদিকুর রহমান মনিরের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলায় বলা হয়, “জেসমিন প্রধানের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবসমূহে জমা ও উত্তোলনকৃত সম্পূর্ণ অর্থ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল নিয়ন্ত্রণ, ভোগ ও অন্যান্য অজ্ঞাত স্থানে স্থানান্তর করেছেন মর্মে অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।”
মনিরের হিসাব থেকে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের গুলশান শাখায় পাপুল এবং তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘ফোর পয়েন্ট হাউজিং’ এর হিসাবে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা স্থানান্তরের কথাও মামলায় বলা হয়েছে।
আর মনিরের অ্যাকাউন্ট থেকে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হাতিরপুল, শাখায় পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম এবং গুলশান শাখায় তার মালিকানাধীন কোম্পানি সাফা জেনারেলের হিসাবে মোট ১৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
এজাহারে বলা হয়, মতিঝিল থানার মানব পাচার মামলায় পাপুলের ভাই লিটনের কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের মালিক কাজী বদরুল আলম লিটনের ‘নির্দেশে’ মানব পাচারের বিভিন্ন ভিকটিমের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়ার কথা ‘স্বীকার করেন’।
“এই টাকা জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের মালিক কাজী বদরুল আলম লিটন ও কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলকে প্রদানের কথাও তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।”
তবে সিআইডির অনুসন্ধানে ‘মানব পাচারের আয়’ সরাসরি পাপুলের স্ত্রী সাংসদ সেলিনা ইসলামের হিসাবে স্থানান্তরিত হওয়ার কোনো তথ্য মেলেনি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডি বলছে, এ মামলার আসামিরা “সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের মাধ্যমে অন্যূন ৩৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা অবৈধ আয় করেন। এই আয়ের প্রকৃত উৎস গোপনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদে রূপান্তর, ভোগবিলাসে ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন মর্মে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।” সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

২৯৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ; জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগপত্র অনুমোদন

0

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তার,
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিতর্কিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২৯৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মঙ্গলবার কমিশন এই অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “শিগগিরই এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
গত বছরের ২১ অক্টোবর শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। বাদী নিজেই মামলাটি তদন্ত করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, জি কে শামীম ২০১৮-২০১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ করলেও মোট টাকার বৈধ উৎস পায়নি দুদক।

এছাড়া শামীমের বাসা থেকে উদ্ধার করা নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও সাত লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মূদ্রা, শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরও ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদার এবং জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস দুদক পায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত বছর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‌্যাব।

ওই ভবন থেকে নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার ১০টি এফডিআর, ৩২টি ব্যাংক হিসাবের চেক বই, আটটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয় অভিযান শেষে।
জি কে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জি কে বিল্ডার্সের হাতে সরকারি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ২২টি নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ ছিল। পরে সেগুলোর কার্যাদেশ বাতিল হয়।
শামীমের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ছাড়াও অস্ত্র ও মাদক আইনে আরও দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থপাচার ও অস্ত্র মামলায় বিচার শুরু হয়েছে।