ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 151

হাসিনা-মোদী ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন, বাংলাদেশ- ভারত সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

0

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, তার সরকার ‘প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার’ নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই নীতির ‘এক নম্বর স্তম্ভ’ হচ্ছে বাংলাদেশ।

“বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার এই নীতি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই আমার অগ্রাধিকারে রয়েছে।”

আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সহযোগিতামূলক ঐকমত্য রয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে দুই দেশই নিজ নিজ অর্থনীতিকে আরও সংহত করতে পারে।

“বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতাকে আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠকে যোগ দেন।

তাদের এ বৈঠকের আগে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিসহ সাতটি বিষয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে সাতটি কাঠামো চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

আর ভার্চুয়াল বৈঠকে ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হল‌দিবাড়ীর মধ্যে রেল ক‌রি‌ডোরেরও উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ওই রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

সে প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐকমত্যের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরও সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আমাদের চলমান যোগাযোগের উদ্যোগগুলি এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর অন্যতম উদাহরণ হল ‘চিলাহাটি-হলদিবাড়ী’ রেল সংযোগ পুনরায় চালু করা।”

এ অনুষ্ঠানেই মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

সে প্রসঙ্গ ধরে মোদী বলেন, “এটা গর্বের যে, আমি মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে পারছি। তারা আমাদের তরুণদের সবসময়ই উদ্বুদ্ধ করে যাবেন।”

চলতি বছরের মার্চে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। তবে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে মূল আয়োজন বাতিল হওয়ায় তার আর আসা হয়নি।

আগামী বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদী।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবেল করতে হচ্ছে। সঙ্কটের এই সময়ে স্বাস্থ্য, কোভিড-১৯, টিকার মত বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্ব মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন এবং মানবজাতি কীভাবে এই অজানা শত্রুর মোকাবিলা করে তার পরীক্ষার মুখোমুখি।

“সম্ভবত কোভিড-১৯ মহামারীর সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ হল মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। এ বছরের গোড়ার দিকে ঢাকায় আপনাকে স্বাগত জানানোর ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে। তবুও, আমাদের গত শীর্ষ সম্মেলনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ক্রান্তিকালীন সময়ে উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে- তা প্রশংসাযোগ্য।”

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের মাসে এ বৈঠকে করতে পেরে তিনি আনন্দিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।

২০১৯ সালের অক্টোবরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করে তার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এ বছর মহামারীর মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ বছর জুড়ে রেলরুট দিয়ে বাণিজ্য, উচ্চ-পর্যায়ের পরিদর্শন ও সভা, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় পণ্যসামগ্রীর প্রথম পরীক্ষামূলক চালান প্রেরণ এবং অবশ্যই, কোভিড-১৯ বিষয়ে সহযোগিতার ন্যায় বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।”

বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ও জনবহুল অঞ্চলে ভারত সরকার যেভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করেছে, সেজন্য নরেন্দ্র মোদীর সরকারের প্রশংসা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজগুলি ছাড়াও, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর উদ্যোগে প্রবর্তিত অর্থনৈতিক প্যাকেজগুলি প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার গৃহীত নীতিমালার মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

ভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশেও আমরা এই মহামারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব উপশম করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। মার্চের গোড়ার দিকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরে আমরা আড়াই কোটির বেশি মানুষকে সহায়তা প্রদানের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারিত করেছি।

“মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটা এবং ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি উর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।”

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ অতিক্রম করছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে।

“বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপন করছে। তার কয়েক মাস আগে, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশে উদযাপন করা হয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাক টিকিট অবমুক্ত করা হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করা হবে।”

এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদযাপনের জন্য আগ্রহী হওয়ায় ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র স্মরণে আমরা বিশ্বব্যাপী বাছাই করা কিছু শহরে আগামী বছর জুড়ে যৌথ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২১ সালের ২৬-এ মার্চ ঢাকায় আপনার উপস্থিতি আমাদের যৌথ উদযাপনের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখবে।”

হাইকোর্টে আরও দুই মামলায় জামিন, ফটো সাংবাদিক কাজলের মুক্তিতে ‘বাধা নেই’

0

সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের মামলার পর হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ডি‌জিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলাতেও হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল।
এ দুই মামলার নথি দেখে ও তদন্তের অগ্রগতি জেনে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার কাজলের জামিন মঞ্জুর করে।
এর আগে গত ২৪ নভেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের করা মামলায় হহাই কোর্টের একই বেঞ্চ কাজলকে জামিন দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার বাকি দুই মামলায় জামিন মেলায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
জামিন আবেদনের পক্ষে আদালতে তিনিই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরোয়ার হোসেন বাপ্পী।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া পরে সাংবাদিকদের বলেন, “সাংবাদিক শফিক ইসলাম কাজলকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। তার বিরুদ্ধে থাকা তিন মামলায়ই তিনি জামিন পেলেন। এখন তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।”
যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িতদের’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গত ৯ মার্চ ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর।
পরে একই ঘটনায় ১০ ও ১১ মার্চ হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীর চর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাকি মামলা দুটি হয়; যার মধ্যে একটির বাদী যুব মহিলা লীগের নেত্রী ইয়াসমিন আরা ওরফে বেলী।
মামলা হওয়ার পর আসামির তালিকায় থাকা শফিকুল ইসলাম কাজল প্রায় দুই মাস নিখোঁজ ছিলেন। পরে গত ২ মে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি।
যশোর থেকে ঢাকায় আনার পর গত ২৩ জুন কাজলকে শেরেবাংলা নগর থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকের মুখোমুখি করা হয়। হাকিম আদালত সেদিন কাজলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।
এরপর গত ২৪ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতও কাজলের জামিন আবেদন নাকচ করলে তিনি ৮ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট গত ১৯ অক্টোবর রুল জারি করে।
কেন কাজলকে জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয় সেই রুলে। দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সেই সঙ্গে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মামলার কেইস ডকেট (সিডি) নিয়ে আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা শোনার পর ২৪ নভেম্বর আদালত রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় কাজলকে জামিন দেয়।
সেদিন কামরাঙ্গীর চর ও হাজারীবাগের দুই মামলায় তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল ১৫ ডিসেম্বর শুনানির জন্য রাখে আদালত। দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কেস ডকেট (মামলার নথি) নিয়ে হাজির থাকতে বলা হয়।
কিন্তু মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাজির না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্ট। পরে বৃহস্পতিবার তাকে ফের তলব করা হয়।
সে অনুযায়ী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাসেল মোল্লা আদালতে হাজির হয়ে জানান, অসুস্থ থাকায় গত মঙ্গলবার তিনি হাজির হতে পারেননি। এরপর মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানান।
পরে রুল যথাযথ ঘোষণা করে সাংবাদিক কাজলকে জামিন দেয় হাই কোর্ট।

অর্থপাচারকারি ৮০ আমলা চিহ্নিত, অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক, তালিকায় রয়েছেন পোশাক ও মিডিয়া ব্যবসায়িও

0

বিদেশে অর্থ পাচারকারী এমন ৮০ সরকারি কর্মকর্তাকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক। কানাডার বেগমপাড়াসহ অস্ট্রেলিয়া,মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারকারী এসব আমলাদের তথ্য আগামী ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টকে জানাবে সংস্থাটি। পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ির নামও রয়েছে তালিকায়, যারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গ্রিণ সিগন্যাল পাওয়ার পরই জোরেশোরে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চেয়ে হাইকোর্টের আদেশের জবাব তৈরি করতে গত সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে দুদক এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যানসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, সবাই একসঙ্গে বসে ঠিক করা হয়েছে সবার বক্তব্যগুলো আমাদের দিলে, আমরা এটা এফিডেভিট করে আদালতে জমা দেবো । তথ্য যা আছে সেটাই দেওয়া হবে। সবাই আদালতের আদেশ মোতাবেক জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ২২ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চেয়ে রুল জারি করেন। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের প্রতি রুলের জবাব দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, টাকা পাচার সংক্রান্ত দুদক যা করেছে তার এ টু জেড তথ্য উপাত্ত আদালতে দাখিল করা হবে। সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নিয়ে ১৯ এবং ২১ নভেম্বর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওই রুল দিয়েছিলো হাইকোর্ট।
এর আগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)র এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, রাজনীতিবিদেরা নন, বিদেশে বেশি অর্থ পাচার করেন সরকারি চাকুরেরা। ’ গোপনে কানাডার টরেন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে, কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, যদিও এটি সামগ্রিক তথ্য নয়, সেটিতে আমি অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অনেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলে-মেয়েরা সেখানে থাকে। ’পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন চারজন। এছাড়া কিছু আছেন আমাদের তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ী। আমরা আরও তথ্য সংগ্রহ করছি। পাচারে শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা। তবে তথ্য পাওয়া খুব কঠিন। বিভিন্ন মিডিয়ায় যে তথ্য বের হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, আসলে সংখ্যাটি তত নয়। ’পাচারের দায় বিদেশি সরকারও এড়াতে পারে না উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যেমন সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে টাকা রাখলেন, সেই তথ্য আমাদের দেয় না। তারা ট্রান্সপারেন্সির কথা বলে, কিন্তু যদি বলি কার কার টাকা আছে, সেই তথ্য দাও, তখন তারা দেয় না। এটি একটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। ’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এসব বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে হাইকোর্টের নজরে আসে বিষয়টি। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলে টাকা পাচারকারী সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
চার সপ্তাহের মধ্যে দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিনানসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট, এনবিআর চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

এ রুল বিবেচনায় থাকা অবস্থায় বিদেশে টাকা পাচারকারীদের নাম-ঠিকানাসহ সব ধরনের তথ্য (মামলাসহ, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা) প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিনানসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট, এনবিআর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

টাকা পাচারকারি আমলা ব্যবসায়ি ঃ
কানাডার বেগমপাড়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর টনক নড়ে দুদকের। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গ্রিণ সিগন্যাল পাওয়ার পর মাঠে নামে দুদকের একটি চৌকস দল। একজন পরিচালকের নেতৃত্বে এই দলটি অনুসন্ধান শুরু করে। প্রথম পর্যায়ে বিদেশে অর্থ পাচারকারী এমন ৮০ সরকারি কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়। এদের বেশিরভাগই প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা। যাদের অনেকেই চলে গেছেন অবসরে। এসব কর্মকর্তা বিদেশে বিপুল সম্পদ পাচার করেছেন। তাদের স্ত্রী সন্তানরাও সেখানে থাকেন। দেশেও রয়েছে তাদের বিপুল সহায় সম্পদ। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রয়েছেন কিছু ব্যবসায়ি, রয়েছেন মিডিয়া ব্যবসায়িও। এরা বিপুল পরিমাণ ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছিন। দুদকের জালে এদেরও আটক করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে সবকিছুই স্পষ্ট হবে ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে কি জবাব দাখিল করা হয় তার ওপর।

প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীদের বিচার হবে: আইনমন্ত্রী

0

যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে, রাষ্ট্র তাদের ক্ষমা করবে না। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সে কথা। ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিষ্কার বলে দিতে চাই এসব অপপ্রচার বন্ধ করেন। তা না হলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তখন আপনাদের কেউ ক্ষমা করবে না
বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিজয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছিল, তারা ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। ১৯৭৫ থেকে ’৯৬ ও ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারাই চেষ্টা করেছিল কীভাবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করা যায়। বাংলাদেশের মাটি থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা হয়। তাদের সে অপচেষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এখনো ষড়যন্ত্র বন্ধ করেনি। সুতরাং তাদের সম্পর্কে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের পৈতৃক সম্পত্তি। তবে বিএনপির নয়। সেতু নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করেছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া, পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনির হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা সিদ্দিকী। পরে ৬০ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়। চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে।
এর আগে আখাউড়ায় বিজয় দিবসের আরেক আয়োজনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন আইনমন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর এ আলম। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

0

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সন্ধ্যা ৬টায় স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এসব কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন, সহ-সভাপতি শাহীন মাতব্বর, আনসার আলী, মাকসুদ হাওলাদার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদসহ নেতৃবৃন্দ।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, “১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙ্গালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় আনন্দের ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা। সেই জাতীয় পতাকা আবারও খামচে ধরতে চায় একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসররা। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য বিজয়ের মাসে শপথ হোক- স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির সকল ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দিবো। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার ধারা অব্যাহত রাখবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র দেশে তরুণ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিট মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উক্ত কর্মসূচিগুলো ধারাবাহিক ভাবে পালন করবে।”প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দৃঢ় থাকতে দেশবাসির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান,বললেন এ মাটিতে সকলের সমান অধিকার থাকবে

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দৃঢ় থাকার আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করে বলেছেন, এই দেশের মাটিতে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান অধিকার নিয়েই বসবাস করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে-সকলে এক হয়ে মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঢেলে দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছে। যার যা ধর্ম তা পালনের স্বাধীনতা সকলেরই থাকবে।’
আমরা সেই চেতনায় বিশ্বাস করি এবং ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে থাকে,’ বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভেনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথাই বলবো এই মাটিতে হিন্দু, মুসলমান, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ-সকল ধর্মের মানুষের বসবাস থাকবে অর্থাৎ আমরা মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ বলে অন্য ধর্মকে অবহেলার চোখে দেখবো তা নয়।’
তিনি বলেন, ‘হযরত মুহম্মদ (সা:) ও আমাদের সে শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলকে আমি এটুকুই বলবো সকলকে যেকোন পরিস্থিতি সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। কে কি বললো না বললো তা শোনার থেকে কতটুকু আমরা দেশের জন্য করতে পারলাম সেটাই আমাদের চিন্তায় থাকবে। তাহলেই আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। সঠিক কাজ করতে পারবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান বিজয়ের প্রাক্কালে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। যাতে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জ্ঞানী, গুণী কেউ না থাকে। ঠিক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশেষ করে ৮ ও ৯ ডিসেম্বর ব্যাপকভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা চলে এবং আমরা ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করি।
নিজে একজন স্বজনহারা তাই স্বজনহারার বেদনা তাঁকে স্পর করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময়ে অনেকে তাঁদের পরিজনের লাশও পাননি। আবার ’৭৫ এ জাতির পিতার সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগসহ সংগঠনের বহু নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, যাঁদের লাশ ও পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘এই নির্যাতন তো চলছে। অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে নানাভাবে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস-সবকিছু আমরা দেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কথা ওঠানোর চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে চলবে।’
তিনি এ সময় কোভিড-১৯ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করায় দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আমাদের সংগঠনটাকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতির পিতার আদর্শকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, যে নামটি ’৭৫ এর পরে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল সেখানে আজ ইউনেস্কো ঘোষণা দিয়েছে-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে অর্থনীতির ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রাখতে সমর্থ হবেন তাঁদের আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেয়া হবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এটা মুজিব শতবর্ষে সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য বড় একটি উপহার বলে আমি মনে করি।’
আলোচনা সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদও বক্তৃতা করেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে-সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান বক্তৃতা করেন।
এছাড়াও আরো বক্তৃতা করেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগ মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মান্নাফি এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম।
দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন। বাসস।

মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহতের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

0

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহতের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে বুধবার মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার অঙ্গিকার ব্যাক্ত করার মধ্য দিয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি উদযাপন করে অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে।
সকালে শীতের কুয়াশা ও ঠান্ডা উপেক্ষা করে সর্বস্তরের মানুষ সাভারে স্মৃতিসৌধের বাইরে ও আশপাশের মহাসড়ক এলাকা এবং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকে।
করোনা মহামারির মধ্যেও ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ফুল, মাথায় বিজয় দিবস লেখা ব্যান্ড, জাতীয় পতাকা নিয়ে স্মৃতিসৌধে নামে জনতার ঢল। বিনম্র চিত্তে সমগ্র জাতি ত্রিশ লাখ শহীদকে আরো একবার জানিয়ে দিল ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না।’
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদ মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।
অন্যবছর রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসে সাভারে গিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অন্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মতো এবারের বিজয় দিবসের কর্মসূচিও সীমিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষেও শহীদ বেদীতে ফুল দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক মমোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার পক্ষথেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানও তার সঙ্গে ছিলেন।
এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রধান বিচারপতি ও তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সামনে দাঁড়ানো বাংলাদেশে এবারের বিজয়ের উৎসব বড় পরিসরে উদযাপনের কথা থাকলেও করোনার কারনে সকল ধরনের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। তাই উৎসবের পরিসর হয়েছে সীমিত, আর যেসব কর্মসূচি রয়েছে, তাতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
আওয়ামী লীগ সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে। সকাল ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ওসেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা শ্রদ্ধা জানান বীর শহীদদের প্রতি।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান ও আব্দুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা.রোকেয়া সুলতানা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিজয় উল্লাসে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর মুখর ছিলো বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ধ্বংসাত্মক, নৈরাজ্যকর কর্মকান্ড প্রতিহত করতে নানা স্লোগান, দেশাত্মবোধক গান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বেজে চলছিল বিরামহীনভাবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনতার এই ঢল অব্যাহত থাকে বেলা ১ টা পর্যন্ত।
একে একে বেদীতে শ্রদ্ধা জানায় কেন্দ্রীয় ১৪ দল, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। বিএনপি, গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়।
এ ছাড়া আওয়ামী যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতিলীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ-’৭১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাকের পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি প্রদ্ধা জানায়।
পরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিন্থ ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলীয়নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষথেকে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধীতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগেরকেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করাহয়। আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাংবাদিক ফোরাম, ইয়োথ জার্নালিস্ট ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।
দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙ-বেরঙের পতাকায় সাজানো হয়।
শহীদদের আত্মার শান্তি, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মের উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বাসস।

মহান বিজয় দিবস আজ : একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন

0

১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস এদিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশসহ পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন।
১৯৭১ সালের এদিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। ২৪ বছরের নাগ পাশ ছিন্ন করে জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক নতুন সূর্যোদয়। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। সমস্বরে একটি ধ্বনি যেন নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেয় ‘জয়বাংলা’ বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল।
যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে,। তবে কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। খবর বাসস।
দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্র সমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াালি ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে ।
মহামুক্তির আনন্দ ঘোর এই দিনে এক নতুন উল্লাস জাতিকে প্রাণ সঞ্চার করে সজিবতা এনে দেয়। যুগ যুগ ধরে শোষিত বঞ্চিত বাঙালি চোখে আনন্দ অশ্রু আর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় সামনে। বিন্দু বিন্দু স্বপ্নের অবশেষে মিলিত হয় জীবনের মোহনায়। বিশ্ব কবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রূপের তাহার নেইকো শেষ, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ। বাঙালি যেন খুঁজে পায় তার আপন সত্তাকে।
আদি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবন এবং ক্রমবিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বাঙালির শীর্য-বীর্য যেন আর একবার ধপ করে জ্বলে উঠে। প্রথম আগুন জ্বলে ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি। ফাগুণের আগুনে ভাষা আন্দোলনের দাবি আর উন্মাতাল গণমানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত একাকার হয়ে যায় সেদিন। ভাষার জন্য প্রথম বলীদান বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় বাঙালির শেকল ভাঙার লড়াই। পাকিস্তানিদের সাথে হিসেব-নিকেশের হালখাতার শুরুতেই রক্তের আঁচড় দিয়ে বাঙালি শুরু করে তার অস্তিত্বের লড়াই। পলাশীর আ¤্রকাননে হারিয়ে যাওয়া সেই সিরাজদ্দৌলা আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপে এ লড়াইয়ে সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। ’৫২ সালে যে আগুন জ্বলেছিল রাজধানী ঢাকা শহরে সে আগুন যেন ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশের আনাচে-কানাচে সবখানে। রবীন্দ্র নাথের গানেরমত ‘যে আগুন জ্বলেছিল মোর প্রাণে, সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে সবখানে সবখানে।
বাষট্টি, ঊনসত্তর এবং সত্তর শেষ করে একাত্তরে বাঙালি জাতি হিসাব করতে বসে। হিসেব-নিকেশ আর দেনা-পাওনায় পাকিস্তানিরাও বসে নেই। তারাও অংক কষতে থাকে কিভাবে বাঙালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শেকল পরিয়ে রাখা যায়। তাদের কাছে এই অলংকারই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ জানিয়ে যায় সময় আসছে হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দেয়ার পালা।
অবশেষে গভীর কালো নিকষ আঁধার থেকে জেগে উঠে হিরন্ময় হাতিয়ার। ৭ মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে এক যুগের কবি, মহাকাব্যের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি তখন আরো দেব, তবুও এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।’
এই একটি মাত্র উচ্চারণে যেন বাঙালি সত্যিকার দিক-নির্দেশনা পেয়ে যায়। চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি। বাঙালি বুঝে যায় শেষ কামড় দেয়ার সময় আসন্ন। পাকিস্তানিরাও আর বসে নেই। পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে মারাত্মক মারণাস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ একাত্তর ঘুমন্ত জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বাঙালি নিধন যজ্ঞ। বাতাসে লাশের গন্ধ বারুদে বারুদে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ। এ যেন এক প্রেতপুরী। আকাশে শকুনের উদ্যত থাবা, নিচে বিপন্ন মানুষের বিলাপ। হায় বাংলাদেশ।একি বাংলাদেশ। এ যেন এক জ্বলন্ত শশ্মান। কিন্তু ঠিকই হাড়ের খুলী একদিন পাললিক হয়।
মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্ত সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নেয়। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সবাই শরিক হয়ে থাকে এ লড়াইয়ে। যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকে আরো শাণিত হয় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র। লক্ষ্য স্থির রেখে শত্রু হননে দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। ইতোমধ্যেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট হয়ে উঠে। প্রতিবেশী ভারতও জড়িয়ে পড়ে বাঙালির ভাগ্য যুদ্ধে। ডিসেম্বর শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত রূপ নেয় এই যুদ্ধের।
অবশেষে ন’মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এ বিজয়ের মধ্যে এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূচিত হলো মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বিজয়। বাঙালি জাতি এদিন অর্জন করে তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর লাখ লাখ ধর্ষিতা মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিজয়ের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা ধরা দেয় বাঙালির জীবনে।

বলাৎকারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীতে মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

0

গত এক মাসে দেশে প্রায় ৪০ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বলৎকার করা হয়েছে যার মধ্যে ২ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। একজন শিশু আত্মহত্যা করেছে। বলাৎকার নিয়ে দেশের আলেমদের কোন মন্তব্য বা প্রতিবাদ আমাদের চোখে পড়েনি। নিজেদেরকে ইসলামিক দল হিসেবে দাবি করা হেফাজতে ইসলামের নেতারাও বলাৎকারের ঘটনাগুলো নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় এই বলৎকারের সাথে তারাও জড়িত বা সমর্থনদাতা।

মঙ্গলবার দুপুরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থী বলাৎকারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বক্তব্য রাখেন শামসুল উলুম দাউদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম ক্বারী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আহাদ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ ও ভাস্কর শিল্পী রাশাসহ নেতারা।
ক্বারী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আহাদ বলেন, “বলাৎকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আজ আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। বলাৎকার ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। বলাৎকারকারী ও এদের সমর্থনদাতারা ইসলামের শত্রু। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট আমরা আলেম সমাজ দাবি জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন, “ইসলামের প্রকৃত আদর্শ চর্চাকারী আলেম-ওলামাদের কে আমরা সবসময় সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ধর্মীয় লেবাসধারী কতিপয় ভণ্ড আলেম যারা মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বলৎকার করে যাচ্ছে এবং বলৎকারের সমর্থন দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করে আসছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আমরা মনে করি, বলাৎকারকারীরা প্রকৃতপক্ষে এজিদের বংশধর। এরা ইসলামের শত্রু। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরা দেশের সংবিধান ও আইন মানে না। ইবাদতের জন্য পবিত্র মসজিদ। অথচ সেই মসজিদেও এরা রাজনীতি করার চেষ্টা করছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। বাইতুল মোকাররম মসজিদসহ দেশের সকল মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সাত দফা দাবি জানায়৷ এগুলো হলো ঃ

১। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ও বলৎকারের সমর্থনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

২। মহানবী (সা:) কে অবমাননাকারী ও বলৎকারের সমর্থনদাতা মামুনুল হক গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।

৪। বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৫। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননাকারীদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে।

৬। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে।

৭। সকল মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত গাওয়া , জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।

ফেইসবুক ডটকমডটবিডি ডোমেইন ব্যবহারে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা

0

ফেইসবুক ডটকমডটবিডি নামের ডোমেইনটি ব্যবহারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা একটি মামলার গ্রহণযোগ্যতার শুনানি নিয়ে ঢাকার জেলা জজ শওকত আলী চৌধুরী সোমবার এই আদেশ দেন।
মামলার পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে আগামী ৯ মার্চ। সে পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ওই ডোমেইন ব্যবহারের ওপর কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিবাদীদের সেই ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন বিচারক।

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম গত ২৩ নভেম্বর এ-ওয়ান সফটওয়্যার লিমিটেড এবং এসকে শামসুল আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। বিবাদীদের কাছ থেকে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয় সেখানে।

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর থেকে ফেইসবুক ডটকম নামটি নিবন্ধন করানো হয়।

ওই বছরই ফেইসবুক ডটকমডটবিডি নামে একটি ডোমেইন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর কাছ থেকে বরাদ্দ নেন এস কে শামসুল ইসলাম।

বিটিসিএলের ওয়েবসাইটে ডোমেইন সার্চ করে দেখা গেছে, ফেইসবুক ডটকমডটবিডি ডোমেইনটি ২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর সক্রিয় করা হয়। এর মেয়াদ আছে আগামী বছরের ৪ ডিসেম্বর নাগাদ।

সম্প্রতি ‘ফেইসবুক ডটকমডটবিডি’ ডোমেইনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলে তা ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ডোমেইনটির দাম ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হাঁকা হয়েছে।

এরপর ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ ডোমেইনটি বন্ধ করার জন্য উকিল নোটিস পাঠালেও তা বন্ধ না করায় মামলা দায়ের করা হয়।

ফেইসবুক ডটকমডটবিডি নামের এই ডোমেইন যাতে বিবাদীরা হস্তান্তর করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়েছে এ মামলার আর্জিতে।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “প্রথমত বিষয় হচ্ছে, এই ডোমেইনটি ২০০৮ সালে বরাদ্দ দেওয়া, অর্থাৎ এক যুগ আগে। ওই সময়ের কাগজপত্র দেখতে হবে। এটি আমার মেয়াদে দেওয়া হয়নি।

“তবে আমি ফেইসবুক থেকে কোনো নোটিস পেয়েছি বলে মনে করতে পারছি না। পেলে অবশ্যই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতাম, অবশ্যই নিতাম।”

ফেইসবুক বা বিখ্যাত কোনো ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে এখন কেউ ডোমেইন বরাদ্দ নিতে চাইলে বিটিসিএল বরাদ্দ দেবে কি না- প্রশ্নে রফিকুল মতিন বলেন, “অবশ্যই কেউ বরাদ্দ পাবেন না। এখন চেষ্টা করলে কোনোভাবেই কেউ পাবেন না। সুপরিচিত যে কোনো ব্র্যান্ডের নামে কোনো ডোমেইন এখন আমরা দিই না।”