ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 157

বঙ্গবন্ধুর কর্ম, চিন্তা, আদর্শ ও দর্শন বাংলাদেশসহ বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

0

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম, চিন্তা, আদর্শ ও দর্শন বাংলাদেশসহ বিশ্বের তরুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে দেশের রাজনীতিক, ঐতহিাসিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, এবং সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র, দেশ ও জীবন গড়তে বঙ্গবন্ধুর জীবন,কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মর জন্য বড় অনুপ্রেরনা হয়ে আছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের ভাষণে তিনি সোমবার এ আহবান জানান। এর আগে রাষ্ট্রপতি সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে প্রবশে করলে নিয়ম অনুযায়ি জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শণ করেন। এ সময় ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানো হয়। এর পর সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে, বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্তাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছেন তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে জাতি এগিয়ে যাক ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে, নোঙ্গর ফেলুক বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলায়’।’
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়। বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতোই অন্তরালের বঙ্গবন্ধু শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এদেশের জনগণ থাকবে, ততদিনই বঙ্গবন্ধু সকলের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি বিশ্বকে আলোকময় করেছেন । তাই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে সকলকে উদ্যোগী হতে হবে।
করোনা ভাইরাস সংক্রমনের এ সময় সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের এ বিশেষ (দশম) অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সরকার এবং বিরোধী দলীয় সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল হামিদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মানবসভ্যতাকে ইতিহাসের এক চরম বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর অপার সম্ভাবনাময় বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে। করোনার প্রভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি, কর্মহীন হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। উন্নত বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায়। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। ইতোমধ্যে করোনায় দেশ অনেককে হারিয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বরেণ্য রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্সসহ নানা পেশা ও বয়সের মানুষ।
তিনি বলেন, করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ অর্থনীতির সকল সেক্টরে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। জীবনযাত্রায় নেমে আসে অচলাবস্থা। এ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান এবং প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণের সঙ্গে মতবিনিময় ও দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁর এই সময়োচিত সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য রাষ্ট্রপতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস বৈশ্বিক সমস্যা। একক বা আঞ্চলিক ভিত্তিতে এর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আজ কেউই সুরক্ষিত নই, যতক্ষণ না পর্যন্ত সুরক্ষার জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে। অতীতে মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্লেগ, স্প্যানিশ ফ্লু, কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষা, হাম, ম্যানিনজাইটিস, পোলিও ইত্যাদি মহামারী ও সংক্রামক ব্যাধিতে কোটি কোটি লোক প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান থেমে থাকেনি। সময়ের অগ্নিপরীক্ষায় মানুষ এসবের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছে। তাই একসময় যা মহামারী ছিল আজ তা বিশ্ব থেকে নির্মূল হয়েছে।
তিনি বলেন,‘গোটা বিশ্ববাসীর মতো আমরাও আশাবাদী অচিরেই করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কৃত হবে, যা গোটা মানবজাতিকে এক চরম অনিশ্চয়তা, হতাশা, উৎকন্ঠা থেকে মুক্তি দেবে। স্বস্তি ফিরে আসবে ঘরে ঘরে। তবে এ ভ্যাকসিন বিশ্বের সকল দেশ ও অঞ্চল যাতে একইসময়ে ও সমভাবে পায় তা নিশ্চিত করতে বিশ্বসম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি জাতিসংঘসহ বহুজাতিক সংস্থা ও উন্নত বিশ্বকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশবাসী এ জেনে আশাবাদী যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যথাসময়ে ভ্যাকসিন পাওয়ার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, “৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না”। করোনা মহামারী দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও থামিয়ে দিতে পারেনি। তিনি আশা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে করোনাসহ সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বাঙালি জাতি কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে এবং গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত, দুর্নীতি ও শোষণহীন সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশ। জাতির পিতার দর্শন ছিল ‘বাংলার মানুষের মুক্তি’। সেই মুক্তি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি। তিনি কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে ভবিষ্যত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধু আধুনিক রাষ্ট্রের রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন, যা দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (১৯৭৩-১৯৭৮) প্রতিফলিত হয়েছিল। তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০১৫ সালে এমডিজির অধিকাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ নিম্ন মধ্যআয়ের দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথমবারের মত স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ উত্তীর্ণ হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কিছু কিছু সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ আজ এশিয়ার সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ।
তিনি বলেন, পরপর তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক এক-পাঁচ শতাংশে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক দুই-চার শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলেও প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল এশিয়া এমনকি বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের চেয়েও বেশি। দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দুই হাজার চৌষট্টি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও এখন ৪১ বিলিয়ন ডলারের উপরে। দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৭, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরের উপরে। প্রাথমিক স্কুলে যাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় শতভাগ। স্বাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে।
আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সরকার ‘রূপকল্প-২০৪১’ কে সামনে রেখে বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর প্রধান অভীষ্ট হলো ২০৩১ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের অবসান, উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদায় উত্তরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের অবলুপ্তিসহ উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদায় আসীন হওয়া যেখানে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫শ’ মার্কিন ডলারেরও বেশি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২১-২০৪১ মেয়াদে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। সেইসাথে নিশ্চিত করতে হবে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা, ব্যাপক শিল্পায়ন, অর্থনীতি সুসংহতকরণ, নগরায়ন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, জ্বালানি বহুমুখীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাসহ মেধাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে খাধ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষি, শিক্ষা, আবাসন, বিদুৎ-জ্বালানি, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, সুশাসন, নারী ও শিশুদের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত, নারীর ক্ষমতায়ন, তথ্য ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন, পল্লী উন্নয়নসহ সব খাতে অর্জিত ব্যাপক সাফল্যের খতিয়ান দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়নের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও বিকাশ, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন পুরস্কার এবং সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রদত্ত এ সকল আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং সম্মাননাসমূহ সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। এ বিরল সম্মান দেশ ও জাতির জন্য গৌরবজনক। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে সংসদে নবীন সদস্য হিসাবে তিনি সিনিয়র ও অভিজ্ঞ সদস্যদের কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং অনুসরণ করতেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন এবং বিরাধী দলের সদস্যদের মতামতকেও অধিক গুরুত্ব দিতেন। সেময় বিরোধী দলের স্বল্প সংখ্যক সদস্য থাকা সত্বেও তাদের সংসদে মতামত তুলে ধরার জন্য অনেক সময় দেয়া হতো ।
এর আগে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করনে । সাথে সাথে তিনি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অমর শহিদদের সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন, যাঁদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে সার্বভৌম দেশ ও স্বাধীন জাতিসত্তা, পবিত্র সংবিধান ও লাল-সবুজ পতাকা অর্জিত হয়েছে।
ভাষণ শেষে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীমূলক স্মারক গ্রন্থসমূহ উপহার দেয়া হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতির হাতে উপহার তুলে দেন। এর পর রাষ্ট্রপতি প্রস্থান করলে স্পিকার অধিবেশন ১৫ মিনিটের জন্য মুলতবি করেন। বাসস।

মামলার রায় বাংলায় লিখতে বিচারকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, দরকার হলে ট্রান্সলেটর নিয়োগ দিন

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদালতের রায় বাংলায় লেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে ট্রান্সলেটর নিয়োগ দানের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বিচারাধীন মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণে বিচারক এবং আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রায় যদি কেউ বাংলায় লিখতে না পারেন, ইংরেজীতে লেখেন কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সেই রায়টা বাংলায় ট্রান্সলেশন করে যেন প্রচার হয় সে ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আমাদের দেশে মামলার রায়গুলো ইংরেজীতে দেওয়া হয়। অনেকে সেই রায়টা বুঝতে না পারায় আইনজীবীরা যেভাবে বোঝান সেভাবে তাদের বুঝতে বা জানতে হয়।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন যাবত ইংরেজীতে লিখতে লিখতে অনেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তাই, বাংলাতেই রায় লিখতে হবে, এ ধরনের চাপ প্রয়োগ ঠিক নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে, আমি বলবো, এগুলো ট্রান্সলেশন করা এমন কোন কঠিন কাজ নয়, অনেক প্রফেশনাল ট্রান্সলেটর আছেন। তাদেরকেও আপনারা প্রশিক্ষণ দিয়ে নিতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সকালে ঢাকা জেলার নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর জনসন রোডস্থ আদালত পাড়ায় ঢাকা জেলার নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ভবনের মুল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সলেটরদের কাজ হবে যেটাই লেখা হোক সব ট্রান্সলেশন হয়ে যাবে এবং সেটাই প্রচার হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ জানতে পারবে। ফলে, বিচারের কি রায় হলো তারা সেটা নিজে দেখে বুঝতে পারবে, জানতে পারবে।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকেও আমি অনুরোধ করবো, আইনমন্ত্রীও এখানে আছেন, আপনারা কিছু ব্যবস্থা নেন। কারণ, এটা জুডিশিয়াল ব্যাপার, এর অনেক কথা, শব্দ, টার্মস যেগুলো আমাদের সাধারণক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না সেগুলোর অনুবাদ যদি সহজভাবে করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ ব্যাপারে যদি কোন ফান্ড লাগে সেটারও ব্যবস্থা করবো। কিন্তু, আমি চাই, এটা যেন হয়।’
মানুষের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যেকোন প্রকার সহযোগিতায় তাঁর সরকার সর্বদা প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিচারাধীন মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণেও বিচারক এবং আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুন ২০২০ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আদালতে ৩৭ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯০৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের উপায় বের করার জন্য সকল বিচারক এবং আইনজীবীগণের কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। ’
তিনি বলেন, ‘এই এত মামলা এভাবে জমে যেন না থাকে, কিভাবে এইসব মামলার বিচার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায় অবশ্যই এ ব্যাপারে একটু আন্তরিক হবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন।
‘এজন্য যে কোন ধরনের সহযোগিতা করতেও সরকার প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু এতগুলো মামলা এভাবে পড়ে থাকুক সেটা আমরা চাই না,’যোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে ভোগান্তি মুক্ত বিচার প্রাপ্তি মানুষের অধিকার। তাহলে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের যে আস্তা ও বিশ^াস রয়েছে তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
আইন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। আইন সচিব গোলাম সারোয়ার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়, বাংলাদেশের মানুষ যেন ভাল থাকে,স্বস্তিতে থাকে, শান্তিতে থাকে, নিরাপদে থাকে এবং উন্নত জীবন পায়। আর এভাবেই যেন আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারি, সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আইন সচিব গোলাম সারোয়ার মূল অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা জেলার নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের একটি রেপ্লিকাও উপহার দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ আবার ১৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবে।’
কিন্তু তিনি এবং তাঁর বোন (শেখ রেহনা) জাতির পিতার হত্যান্ডের বিচার চাইতে পারেননি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জিয়াউর রহমান সে বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠা করা হয় বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আমরা এ জঘন্য হত্যাকা-ের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি।
তাঁর সরকারের সময়ে চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকান্ডের বিচার, নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ৭ খুনের মামলা এবং হলি আর্টিজেন হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসহ সকল চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার সম্পন্ন করা উল্লেখ করে এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিচারকগণকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ কওে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ লক্ষ্যে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করা এবং বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও এজলাস সংকট নিরসনের পাশাপাশি মামলা ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে অধঃস্তন আদালতে ১১২৬ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, দরিদ্র-অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের সরকারিভাবে আইনি সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলা সদরে এবং সুপ্রীম কোর্টে লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন করা হয়েছে, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ থেকে জুলাই ২০২০ পর্যন্ত জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে সর্বমোট ৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৩০ জনকে বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদান করা হয়েছে।’
বাংলাদেশে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই আন্তরিক উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তাঁর সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পরই ‘দি কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর (সংশোধন) আইন, ২০০৯’ পাশের মাধ্যমে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কাজটিকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে।
অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুডিশিয়াল ভাতা প্রদানসহ বিচার বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪২টি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য ৮-১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২৯টি জেলায় নবনির্মিত আদালত ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব ভবনে স্থাপিত আদালতে এখন উন্নত পরিবেশে বিচারিক কাজ চলছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, আজ ঢাকা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের উদ্বোধন করা হলো। আমার প্রত্যাশা, এ ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে জনগণের বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।
সন্ত্রাস বিরোধী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৭টি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপন, ৭টি বিভাগীয় শহরে সাইবার ট্রাইবুন্যাল স্থাপন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের পর ২০২০ সালে আরও ৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭টি মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকার প্রধান আরো বলেন, ধর্ষণের মামলায় ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে তাঁর সরকার ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০’ প্রণয়ন করেছে এবং মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করেছে।
তিনি বিচারপতি এবং আইনজীবীদের কল্যাণ কামনা করে তারা যেভাবে মানুষের পাশে রয়েছেন সেভাবেই তাদেরকে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান ।
তাঁর সরকার দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে এবং শিক্ষার হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, সামাজিক খাতে নিরাপত্তা বিধান এবং দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার প্রদান অব্যাহত রাখতে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার, আইন ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের কারাগারে এ ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দাগী আসামীদের বিচারের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারেই ভার্চুয়াল কোর্টের ব্যবস্থা রাখতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
করোনাভাইরাসে সাবেক এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলমসহ দেশ বিদেশে যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
যতদিন পর্যন্ত এর ভ্যাকসিন না আবিস্কার হবে বা সহজলভ্য হবে সে পর্যন্ত এর সুরক্ষা অত্যন্ত কঠিন আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বাইরে বের হলে বা কর্মক্ষেত্রে গেলে মাস্ক ব্যবহারের আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, ‘এই করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে এবং অপরকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’বাসস।

দুদকের তলব: ডিএজি ফেরদৌসী রূপা করোনায় আক্রান্ত, সময় চাইতে বলেছে হাই কোর্ট

0

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়ার জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে সময় চাইতে বলেছে হাই কোর্ট।

দুদকের পাঠানো নোটিস চ্যালেঞ্জ করে রূপার রিটের শুনানি ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রেখে আদালত বলেছে, তিনি দুদকের কাছে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইতে পারবেন।

বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আদালতে রিটবারী রূপার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, জেডআই খান পান্না ও সালাহউদ্দিন দোলন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী জেড আই খান বলেন, “আদালত রিট মামলাটির শুনানি ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রেখেছেন। আর যেহেতু উনি (জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপা) এবং উনার পুরো পরিবার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত, তাই স্বাভাবিকভাবেই তিনি হাজির হতে পারবেন না। তাই উনাকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করতে বলেছেন।”

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ৩ ডিসেম্বর আবার শুনানির জন্য হাই কোর্টে আসবে রিট আবেদনটি।

“কাল যদি জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপা দুদকে যান, তাহলে তিনি আবেদন করে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেবেন। যদি না যান, তাহলে উনার পক্ষ থেকে কেউ আবেদন করবেন, উনি যেহেতু অসুস্থ।” 

‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপাকে ওই নোটিস পাঠায়। বুধবার সকাল ১০টায় তাকে সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয় সেখানে।

নোটিসে বলা হয়, রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা ‘বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহন করে জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সাথে আঁতাত করে জামিন করিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন রূপা। ওই নোটিসের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি রুল জারির আর্জি জানানো হয় সেখানে।

‘হয়রানি করার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে বিধি বিহির্ভূতভাবে জারি করা ওই নোটিস কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না’- তা জানতে রুল চেয়েছেন রূপা। 

তার আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশেনর চেয়ারম্যান, দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান এবং তদন্ত-২) এবং উপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান এবং তদন্ত-২) কে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনটি সোমবার বিচারপতি মো.নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলেও তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এরপর মঙ্গলবার সেটি বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হলে আদালত ডিএজি রূপাকে দুদকে সময় চেয়ে আবেদন করতে বললো।

রূপার আইনজীবী পান্না বলেন, “কোনো ডিএজি, এএজি কাউকে জামিন দিতে পারেন না। দুদকের নোটিসে যেহেতু জামিনের কথা বলা হয়েছে, তাই ধরে নিতে হবে এখানে আদালতও জড়িত। এটা তো আদালত অবমাননার শামিল।”

তিনি বলেন, রিট আবেদনকারী ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করে এ বিষয়ে তদন্ত চেয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলকেও এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

বৈবাহিক ধর্ষণ: আইন সংশোধন প্রশ্নে হাই কোর্টের রুল জারি

0

সংবিধান স্বীকৃত সমতা, আইন, অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করে নারী ও ১৩ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ অনুমোদন দেওয়ার আইনি বিধান বাতিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।

বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত চারটি মানবাধিকার সংস্থার করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মুজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল জারি করে।

আইন সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বারাষ্ট্র সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), ব্র্যাক, নারীপক্ষ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন গত রোববার এ রিট আবেদনটি করে।

রিটে দণ্ডবিধির ৩৭৫, ৩৭৬ ধারা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন, জেনিফা জব্বার ও শারমিন আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

শারমিন আক্তার বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২৭ শতাংশ নারী বিবাহিত জীবনে ধর্ষণের শিকার হন।

দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী, বিবাহিত একটি মেয়ের বয়স যদি ১৩ বছরের নিচে না হয় এবং তার স্বামী যদি জোরপূর্বক যৌনসঙ্গম করে তাহলে সেটা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না।

দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী, যদি বিবাহিত নারী বা মেয়ের বয়স ১২ বছরের নিচে না হয় তাহলে ধর্ষণের শাস্তি হবে না। আবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার ব্যাখ্যায় বৈবাহিক ধর্ষণকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

শারমিন বলেন, “বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত এই ব্যতিক্রমগুলো আমাদের সংবিধানের ২৭, ২৮ এবং ৩১ অনুচ্ছেদেরে সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ এই ধারাগুলোতে বিবাহিত নারী এবং অবিবাহিত নারীর মধ্যে বৈষম্য করা হয়েছে। স্বামী কর্তৃক ধর্ষণের বিচার প্রাপ্তির অধিকারকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে। তাই এই ধারাগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন। কোর্ট এই মর্মেই রূল জারি করেছেন।”

টাঙ্গাইলের এক বিবাহিত কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় এ রিট আবেদন করা হয়।

গত ২৫ অক্টোবর টাঙ্গাইলে ১৪ বছরের ওই কিশোরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) ভর্তি হওয়ার পরে যৌনাঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মারা যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ফেরত ৩৪ থেকে ৩৫ বৎসর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয়েছিল মেয়েটির।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের প্রথম রাত থেকেই ওই কিশোরীর যৌনাঙ্গে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

শোকাবহ জেল হত্যা দিবস,জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে জাতীয় চার নেতাকে

0

৩ নভেম্বর, শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয় এই দিনে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিচার কার্যক্রম : জেল হত্যার পরদিন তৎকালীন উপকারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এই বিচারের প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলার রায় দেন।
রায়ে আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আসামি সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। আর সাবেক মন্ত্রী কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট।
পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়ার রায় বাতিল করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বহিষ্কৃত দুই সেনা সদস্য দফাদার আবুল হাশেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন। ওই বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মো. ইমান আলী।
নেপথ্যের ষড়যন্ত্র ঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বঙ্গবন্ধুকে হতার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় এই চার নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়। আসলে হত্যাকারীরা ও তাদের দোসররা চেয়েছিল পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিকতার পথ থেকে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে বিচ্যুত করা এবং বাংলাদেশের মধ্যে থেকে একটি মিনি পাকিস্তান সৃষ্টি করা।
কর্মসূচি : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এক বিবৃতিতে জেল হত্যা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালনের জন্য দলের নেতাকর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জেল-হত্যা : ‘প্রেসিডেন্ট মোশতাক ফোনে আইজি প্রিজনসকে বললেন, আর্মি অফিসাররা যা চায় সেটা করতে দাও’

0

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে হত্যা করা হয় জতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ,ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। মূলত ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। আর নেপথ্যের ক্রীড়নক ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। মোশতাক ও জিয়া তাদের পথের কাঁটা সরানোর জন্যই শীর্ষ স্থানীয় ৪ নেতাকে বন্দী করে এবং কারাগারের ভেতর সেনাবাহিনী পাঠিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করান। মধ্যরাতে কারাকর্তৃপক্ষ সেনাসদস্যদের কারাগারে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে খন্দকার মোশতাক কারা মহাপরিদর্শককে টেলিফোনে নির্দেশ দেন, আর্মি অফিসারররা যা চায় তা যেনো করতে দেয়া হয়। প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশ পেয়ে কারা মহাপরিদর্শকের আর কিছুই করার ছিল না। খুলে দেয়া হয় কারাফটক। কুখ্যাত সেই সেনাসদস্যরা ঢুকে ব্রাসফায়ার করে হত্যা করে জাতীয় চার নেতাকে। সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সে সময়কার জেলার আমিনুর রহমান কয়েকবছর আগে বিবিসি বাংলাকে এ ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। পড়ুন বিস্তারিত-

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি পিকআপ এসে থামে।

তখন রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে দুইটা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সে গাড়িতে কয়েকজন সেনা সদস্য ছিল।

ঢাকা তখন এখন অস্থিরতার নগরী। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থান নিয়ে নানা রকম কথা শোনা যাচ্ছে তখন।

সে সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিনুর রহমান।

রাত দেড়টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক টেলিফোন করে জেলার মি: রহমানকে তাৎক্ষনিকভাবে আসতে বলেন।

দ্রুত কারাগারের মূল ফটকে গিয়ে মি: রহমান দেখলেন, একটি পিকআপে কয়েকজন সেনা সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় আছে।

মূল ফটকের সামনে সেনা সদস্যরা কারা মহাপরিদর্শককে একটি কাগজ দিলেন।

সেখানে কী লেখা ছিল সেটি অবশ্য জানতে পারেননি মি: রহমান।

(খন্দকার মোশতাক,যার নির্দেশে হত্যা করা হয়)

মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাম দিকেই ছিল জেলার আমিনুর রহমানের কক্ষ। তখন সেখানকার টেলিফোনটি বেজে উঠে।

মি: রহমান যখন টেলিফোনের রিসিভারটি তুললেন, তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো প্রেসিডেন্ট কথা বলবেন।

২০১০ সালে বিবিসি বাংলার কাছে সে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মি: রহমান বলেন, “টেলিফোনে বলা হলো প্রেসিডেন্ট কথা বলবে আইজি সাহেবের সাথে। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে আইজি সাহেবকে খবর দিলাম। কথা শেষে আইজি সাহেব বললেন যে প্রেসিডেন্ট সাহেব ফোনে বলছে আর্মি অফিসাররা যা চায়, সেটা তোমরা কর।”

মূল ফটকের সামনে কথাবার্তার চলতে থাকে। এক সময় রাত তিনটা বেজে যায়।

আমিনুর রহমান বলেন, এক পর্যায়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের চার নেতাকে একত্রিত করার আদেশ আসে।

কারা মহাপরিদর্শক একটি কাগজে চার ব্যক্তির নাম লিখে জেলার আমিনুর রহমানকে দিলেন।

সে চারজন হলেন – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান।

আমিনুর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমদ কারাগারের একটি কক্ষে ছিলেন।

ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে অপর কক্ষ থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়।

সেখানে আসার আগে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী কাপড় পাল্টে নিলেন।

মি: রহমানের বর্ণনা করেন, “তাজউদ্দীন সাহেব তখন কোরআন শরীফ পড়ছিলেন। ওনারা কেউ আমাদের জিজ্ঞেস করলেন না আমাদের কোথায় নেও ( নেয়া হচ্ছে)? সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেব হাত-মুখ ধুলেন। আমি বললাম আর্মি আসছে।”

চারজনকে যখন একটি কক্ষে একত্রিত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগার কারণে সেনাসদস্যরা কারা কর্মকর্তাদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করছিল, বলছিলেন মি: রহমান।

“মনসুর আলি সাহেব বসা ছিল সর্ব দক্ষিণে। যতদূর আমার মনে পড়ে। আমি মনসুর আলীর ‘ম’ কথাটা উচ্চারণ করতে পারি নাই, সঙ্গে সঙ্গে গুলি,” বলেন মি: রহমান।

( জেনারেল জিয়াউর রহমান, নেপথ্যের কুশীলব)

কারাগারের ভেতর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর চার নেতার পরিবার সেদিন জানতে পারেননি।

শেখ মুজিব হত্যার সাথে চার নেতা হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে মনে করা হয়।

তাজউদ্দীন আহমদের পরিবার কারাগারের খোঁজ নেবার জন্য সারাদিন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

পরের দিন অর্থাৎ ৪ নভেম্বর পুরনো ঢাকার এক বাসিন্দা তাজউদ্দীন আহমদের বাসায় এসে জানান যে তিনি আগের দিন ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গুলির শব্দ শুনেছেন।

প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি ২০১০ সালে বিবিসি বাংলাকে বলেন, ৪ নভেম্বর বিকেল চারটার দিকে খবর আসতে শুরু করলো তাজউদ্দীন আহমদসহ চারজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানকে প্রায় সপরিবারে হত্যার ঘটনার সাথে জেল হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে মনে করা হয়।

তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে লে. কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী, যিনি পরবর্তীতে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে ইন্তেকাল করেন মি: চৌধুরী।

২০১০ সালে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, তখন সেনাবাহিনীতে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের পরিণতি ছিল জেলখানার হত্যাকাণ্ড।

১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানের বিপরীতে পাল্টা আরেকটি অভ্যুত্থান হয়েছিল ৩ নভেম্বর।

সেটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ।

আমিন আহমেদ চৌধুরীর মতে, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি ছিল অনিবার্য।

কারণ শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছয়জন জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা তখন বঙ্গভবনে বসে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাককে পরিচালনা করছিলেন।

শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছয়জন জুনিয়র সামরিক কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনীর চেইন অব কম্যান্ড-এর আওতায় আনার জন্য ৩ নভেম্বর খালেদ মোশারফের নেতৃত্ব অভ্যুত্থান হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জেনারেল চৌধুরী।

তাছাড়া শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডকেও তাঁরা মেনে নিতে পারছিলেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কিন্তু খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে সে অভ্যুত্থান সেনাবাহিনীর ভেতরে আবারো চেইন অব কমান্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বলে মনে করেন জেনারেল চৌধুরী।

খালেদ মোশারফের অনুগত সৈন্যরা বন্দি করে সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে।

ঢাকা সেনানিবাসে যখন এ অবস্থা চলছিল সে সময় পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে জেলখানায় আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতাকে হত্যা করা হয়।

পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর থেকেই হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা পাল্টা আরেকটি অভ্যুত্থানের আশংকায় ছিল।

সেনাবাহিনীর মধ্যে ছিল এক ধরনের বিশৃঙ্খলা। সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব।

একদিকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং অন্যদিকে মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ।

তখন ঢাকা সেনানিবাসে মেজর পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন বর্তমানে বিগ্রেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি এসব ঘটনা প্রবাহ বেশ কাছ থেকে দেখেছেন। তার সে অভিজ্ঞতা নিয়ে মি: হোসেন একটি বই লিখেছেন ‘বাংলাদেশ রক্তাক্ত অধ্যায়: ১৯৭৫-৮১’ শিরোনামে।

শেখ মুজিবকে হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা তখন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদকে পরিচালনা করছিলেন।

মি: হোসেন বলেন বঙ্গভবনের থাকা সেনা কর্মকর্তাদের সাথে একটা সংঘাত চলছিল সেনানিবাসের উর্ধ্বতন কিছু সেনা কর্মকর্তাদের সাথে।

” খন্দকার মোশতাক যে বেশিদিন ওখানে টিকবেন না, এটাও ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছিল। তখন আবার সিনিয়র অফিসারদের মধ্যেও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল,” বলছিলেন মি: হোসেন।

শেখ মুজিবকে হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ধারনা করেছিলেন যে কোন পাল্টা অভ্যুত্থান হলে সেটি আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবে। সে ধরনের পরিস্থিতি হলে কী করতে হবে সে বিষয়ে মুজিব হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা কিছুটা ভেবেও রেখেছিলেন।

মি: হোসেন বলেন, “ঐ ধরনের ক্যু হলে তখনকার আওয়ামী লীগে যাতে কোন ধরনের লিডারশিপ না থাকে সেটাই তারা বোধ হয় নিশ্চিত করেছিল।”

হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ভেবেছিল যদি সে চারজন রাজনীতিবিদকে যদি হত্যা করা হয় তাহলে পাল্টা অভ্যুত্থান হলেও সেটি রাজনৈতিক সমর্থন পাবেনা।
(খবরটি ২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর বিবিসি বাংলায় প্রচার হয়)।

“স্যরি মি. মোশতাক আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করতে পারলাম না, তুমি অবৈধ” বঙ্গভবনে খুনিদের সামনে গর্জে ওঠে বলেছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক

0

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি হয়ে খন্দকার মোশতাক সংসদ ভেঙ্গে দেননি। তাঁর ইচ্ছে ছিল সংসদীয় দলের সভা ডেকে তিনি সংসদ নেতা হবেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করবেন। তাই বঙ্গভবনের সম্মেলন কক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা আহ্বান করেন। আওয়ামী লীগের ২৯৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের মত সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। বঙ্গভবনের সম্মেলন কক্ষে সভা শুরু হয়। মঞ্চে মোশতাক, আর তার দু পাশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে দাঁড়ানো মেজর ফারুক ও রশিদ। সভা শুরু করে মোশতাক বললেন, তাকে সংসদ নেতা নির্বাচন করার জন্য এবং বাকশাল বিলুপ্ত ঘোষণা করলেন। বলেন দেশ এখন সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় চলবে, এজন্যই তিনি সংসদ বহাল রেখেছেন।
মোশতাকের বক্তব্যের পর পিন পতন নীরবতা। কারো মুখে শব্দ নেই। তার বক্তব্যের জবাব যারা দিতে পারতেন, সেই জাতীয় চার নেতা জেলে। অত্যন্ত ভীতিকর পরিবেশে নিরবতাকে ভঙ্গ করে সদস্যদের মাঝামাঝি জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণ বাড়ীয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ।
প্রথমেই তিনি বললেন, ‘খন্দকার তোমার দুই পাশের ওদের সরে যেতে বল’। অস্ত্রধারী দুই মেজর হক সাহেবের কথা শুনে থতমত খেয়ে গেল। পরে মোশতাক ইঙ্গিত দিলে মেজররা রুমের বাইরে চলে যায়। তারপর অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক কোনো ভূমিকা না করে মোশতাককে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন ‘মুজিবকে কেন খুন করেছো?’ স্যরি মি. মোশতাক,আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করতে পারলাম না, তুমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবৈধ । ক্ষোভে গর্জে ওঠলেন সিরাজুল হক। হন হন করে বের হয়ে চলে আসলেন বঙ্গভবন থেকে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিচক্র যখন উল্লাসে মত্ত সেই বিপদসংকুল সময়ে খুনিদের চোখের ওপর চোখ রেখে গর্জে ওঠতে পেরেছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আইনজীবীর মৃত্যু বার্ষিকী ২৮ অক্টোবর। ২০০২ সালের এই দিনে পরলোকগমন করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিরাজুল হক ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। সিরাজুল হক ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে এমএনএ, ১৯৭৩ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কসবা-বুড়িচং নিয়ে গঠিত তৎকালীন কুমিল্লা-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সিরাজুল হক ১ আগস্ট ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) তৎকালীন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার পানিয়ারূপ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠী ছিলেন। ১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
সিরাজুল হক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠী। একই সঙ্গে পড়েছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল মধুর, সিরাজুল হকের ডাক নাম বাচ্চু। বঙ্গবন্ধুর ডাক নাম খোকা। দুজনের মধ্যে সম্বোধন ছিল ডাক নামেই। সিরাজুল হক হাজী মুহাম্মদ মহসিন বৃত্তি পেয়েছিলেন। তা দিয়েই তিনি লেখাপড়া করেছেন।
১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে গঠিত সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৭৯ সালে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল এমএজি ওসমানীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনে জেনারেল ওসমানী হেরে গেলে তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে নীরব ছিলেন এবং নিজের আইন ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।
অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক তার বন্ধু সহপাঠী শেখ মুজিবের রক্তের ঋণ শোধ করেছিলেন জীবন সায়াহ্নে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করে। ক্ষুরধার আইনী যুক্তি দিয়ে ২১ বছর পর প্রমাণ করতে পেরেছিলেন অপরাধীদের নৃশংসতা। হয়েছে তাদের মৃত্যুদণ্ড। শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাই নয়, জাতীয় চার নেতা, যারা ছিলেন এডভোকেট সিরাজুল হকের রাজনৈতিক সহচর তাদের হত্যার বিচারের জন্যও আইনী লড়াই নামেন। বিচার হয় জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের।
ব্যক্তিগত জীবনে সিরাজুল হক জাহানারা হককে বিয়ে করেন। তিনিও স্বামী সিরাজুল হকের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কিছুদিন আগে পরলোকগমন করেন জাহানারা হক। তারা ছিলেন দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক জননী । বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক তাঁদের সন্তান। ( তথ্যসূত্র – উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যম)।

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ‘অসত্য বক্তব্য’ দেওয়ায় সংসদের কর্মচারী আতর আলী বাধ্যতামূলক অবসরে

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত কর্মচারী মো. আতর আলীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
মঙ্গলবার তার বাধ্যতাধমূলক অবসর কার্যকর হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন। কোন ব্যক্তির পক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে কোন অসত্য বক্তব্য প্রদান সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থি। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অসভ্য বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে অনুচিত ও অনভিপ্রেত।”
আদেশে বলা হয়, “এহেন কার্যকলাপের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০০৫ এর ২ (চ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করে তাকে (মো. আতর আলীকে) অভিযোগনামা দেওয়া হয়। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আনীত অভিযোগ তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
“তার বিরূদ্ধে আনীত অভিযোগে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু, ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে (মো. আতর আলীকে) ‘বাধ্যতামূলক অবসর দান’ গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।”
গত ১৭ অগাস্ট সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আতর আলী সেখানে তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্পিকার থাকার সময় ‘এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়নি।’ গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ খালেদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় আতর আলীকে। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তার পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে সামিয়ক বরখাস্তও করা হয়। 
চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি আতর আলী সংসদ সচিবালয়ে সংসদ নেতার দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। আতর আলীর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর সংসদের উত্তর পশ্চিম ব্লকের ৭৩১ নম্বর কক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগনামার চিঠির জবাবে ব্যক্তিগত শুনানির আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। শাস্তির বিষয়ে বক্তব্যের জন্য আতর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, বিচারক-আইনজীবীদের প্রশিক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস

0

বাংলাদেশের বিচারিক আদালত ও উচ্চ আদালতের বিচারক এবং আইনজীবীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
মঙ্গলবার মন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি ।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকদিনই এই বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। এই বিশ্বাস এবং আস্থা নিয়েই আমাদের কথোপকথন। আমরা আরও যেটা নিয়ে আলাপ করেছি, সেটা হচ্ছে ভারত এবং বাংলাদেশের আইনের অবকাঠামো প্রায় একই। সেজন্য উভয় দেশের বিচারিক আদালত এবং উচ্চ আদালতের বিচারক ও বিচারপতিদের মধ্যে এবং আইনজীবীদের মধ্যে পরস্পর সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণের জন্য আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে- সেগুলো কিভাবে কাজ করবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি,আজ থেকে এই আলোচনা আরও চালিয়ে যাব। আজকে যেসব কথা বলেছি সেগুলো ভবিষ্যতে কাজে পরিণত করব।
এ সময় ভারতীয় হাই কমিশনার দোরাইস্বামী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের বিচার পদ্ধতিতে আইনমন্ত্রীর ভূমিকা ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সর্ব সাধারণের জন্য আমাদের সহযোগিতা থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের উভয় দেশের বিচারিক পদ্ধতি প্রায় এক। এর ফলে আমরা একে অপর থেকে শিখতে পারব এবং কাজ করতে পারব। কারণ দুই দেশের মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতার জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে সমৃদ্ধ আইনী কাঠামো – আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যে কোন রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে সমৃদ্ধ আইনী কাঠামো। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণ করে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং সুসংহত আইনী কাঠামো বিনির্মাণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন করা। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘‘পাবলিক ফিনানসিয়াল ম্যানেজমেন্ট ইন দি কনটেক্সট অব কনস্টিটিউশনাল ফ্রেমওয়ার্ক’’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বনানীর বাসা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন লেজিসলেটিভ রিসার্চ এন্ড রিফর্ম প্রজেক্ট এই সেমিনারের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের মধ্যে‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের মর্যাদালাভ এবং সর্বোপরি ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে আইনী কাঠামোর মধ্যে থেকে সরকার এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে।তাঁর সরকারের উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবন মানের উন্নতি ঘটেছে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোড মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। উন্নয়নের সূচক বা মানদণ্ডের অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে সমাদৃত ও অনুকরণীয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক শৃঙ্খলা আনা আইনের শাসনের আওতায় পড়ে।তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
সেমিনারে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির সভাপতিত্ব করেন, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন স্বাগত বক্তৃতা করেন।