প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই। ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যু হয়েছে তার।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে আলোচিত ছিলেন।
নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজে যুক্ত রেখেছিলেন ব্যারিস্টার রফিক।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ফুসফুসে সংক্রমণসহ নানা জটিলতা নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক। এর মধ্যে তার স্ট্রোকও হয়েছিল। গত মঙ্গলবার থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যু ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
তার অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, “মেইন সমস্যা যেটা ছিলো একুয়েস্টামিক স্ট্রোক, সিভিয়ার ইউরিন ইনফেকশন ও নিফিশিয়াল ডেফেসিন্সি। সর্বশেষ তিনি সেফটিক শক, মাল্টি অরগান ডিস ফাংশন সিমড্রোম-এই অবস্থায় স্যার সাড়ে ৮টায় আমাদের আইসিইউতে মৃত্যৃবরণ করেন।”
রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালে কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। বাবা মুমিন-উল হক পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। মা নূরজাহান বেগম। তার বাল্যকাল কেটেছে কলকাতায়। পড়াশোনা করেছেন চেতলা স্কুলে।
রফিক-উল হক ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ১৯৫১ সালে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৫৮ সালে এলএলবি করেন। এরপর কলকাতা হাই কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন রফিকুল হক।
১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তৎকালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়।
১৯৬৫ সালে হাই কোর্টের আইনজীবী তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন রফিক-উল হক।
১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল করা হয়েছিল তাকে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনীতিবিদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করে আলোচনায় ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক।
ব্যারিস্টার রফিক বিভিন্ন সময় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমাজ ও মানবতার সেবায় তার হাত ছিল সবসময়ই উদারহস্ত। যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সমাজ-মানবতার সেবায়।
১৯৯৫ সালে রফিক-উল হক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুবর্ণ ক্লিনিক; ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা ছিল তার।
আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ২৫টিরও বেশি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন।
প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই
উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে এবার চীনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কানাডা, গণহত্যার অভিযোগ, চাপের মুখে চীন
চীনের উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন নিয়ে এবার সোচ্চার হলো কানাডা। কানাডার সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনের নীতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উইঘুরদের ধরে শিবিরে আটকে রাখা হয়, তাঁদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো হয়, তাঁরা সবসময় রাষ্ট্রের নজরদারিতে থাকেন, তাঁদের জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণও করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীন গণহত্যার নীতি নিয়েছে। তারা উইঘুরদের সংস্কৃতি ও ধর্ম মুছে দিতে চায়।
এদিকে কানাডার এই রিপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। বৃহস্পতিবার চীনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই রিপোর্ট ভিত্তিহীন। কানাডা কখনোই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কানাডার সংসদীয় কমিটি ওই এলাকার রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, আর্থিক বৃদ্ধি, জাতিগত ঐক্য ও সামাজিক সৌহার্দ্যকে দেখেইনি।

ছবি- ইন্টারনেট।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, এই রিপোর্ট মিথ্যা ও ভুল তথ্যে ভরা। রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে, কমিটির সদস্যরা এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা ও চীনের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। ২০১৮-র ডিসেম্বরে চীনের এক বড় টেলিকম কোম্পানির প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে অামেরিকার হাতে তুলে দেয় কানাডা। চীনও কানাডার এক সাবেক কূটনীতিক ও একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। অক্টোবরের গোড়ায় কানাডার বিদেশমন্ত্রী বলেছিলেন, চীন ‘হোস্টেজ ডিপ্লোমেসি’ করছে। গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে। কানাডা চীনের মানবাধিকার ভঙ্গ, হংকং, এবং উইঘুরদের নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। চীন বলছে, কানাডা এই ভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নিয়ে সংসদীয় রিপোর্ট দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নতুন মাত্রা পেলো।
**শিনজিয়াং থেকে আমদানি বন্ধ আমেরিকায়
এদিকে দশ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে শ্রম শিবিরে জোর করে কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ। আর এ জন্য চীনের শিনজিয়াং প্রদেশ থেকে সবধরণের আমদানি বন্ধের আইনে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস।
ব্যবসায়ী মহলের চাপ সত্ত্বেও মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে শিনজিয়াং থেকে কোনো জিনিস আমদানি না করা সংক্রান্ত বিল। সদস্যদের মতে, উইঘুরদের দিয়ে জোর করে শ্রম শিবিরে রেখে কাজ করানো হয় শিনজিয়াং প্রদেশে। দশ লাখেরও বেশি মানুষকে এই অত্যাচারের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাই অত্যাচার বন্ধ করার জন্য শিনজিয়াং প্রদেশের জিনিস আমদানি নিষিদ্ধ করা হলো।
জাতিসংঘও বলছে, উইঘুর মুসলিমদের জোর করে শিবিরে রেখে এই কাজ করাচ্ছে চীন। অামেরিকা ও অন্য দেশগুলি এ নিয়ে অতীতে সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। এখন অ্যামেরিকা চাপ দিয়ে এই অত্যাচার বন্ধ করতে চাইছে।
স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ”দুঃখের কথা হলো, জোর করে কাজ করানো মানুষরা যে জিনিস তৈরি করছেন, সেগুলি অ্যামেরিকার দোকানে ও বাড়িতে ঠাঁই পাচ্ছে। বেইজিং-কে আমাদের সরাসরি বার্তা দিতে হবে। এই অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।’ ডয়েচে ভেলে/রয়টার্স /এপি।
জবাব চাই
ভারত যেদিন পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দিলো সে দিনই পেঁয়াজের দাম বাড়ানো শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত তা ১০০ টাকা কেজিতে ঠেকেছে।
ভারত কেনো পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলো এ জন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে একহাত নিয়েছি। তাদের সঙ্গে যে বন্ধুত্ব হবে না সেটাও বলেছি। অতি বিপ্লবীরা,বাঁশের কেল্লার সহযোগীরা ভারত বিরোধিতায় ফেসবুক, ইউটিউব ফাটিয়ে ফেলেছেন । দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হচ্ছে সীমান্ত হত্যা আর পেঁয়াজ নিয়ে।
ধরেই নিলাম ভারত খারাপ দেশ এবং তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হবে না। তারা পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ায় এখানে দাম বেড়ে গেছে।
কিন্তু আলুর কেজি ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকা হলো কেনো? ভারত কী আলু রপ্তানীও বন্ধ করে দিয়েছে? পেঁয়াজ নিয়ে যারা ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়েছেন আলু ঘটনায় তারা নীরব কেনো?
আলু চক্রে কারা জড়িত? কৃষকতো ৮ মাস আগে ৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করে দিয়েছে কোল্ড স্টোরেজের মালিকদের কাছে। সব আলু কোল্ড স্টোরেজে আছে। এমনতো নয় যে, গ্রামে গ্রামে বা প্রতি উপজেলায় কোল্ড স্টোরেজ আছে। দেশে হাতে গোনা কোল্ড স্টোরেজ। এদের তালিকা সরকারের কাছে আছে। এসবের মালিক কারা তা ১০ মিনিটের মধ্যে সরকার বের করতে পারে। এই ঠাণ্ডা গুদামঘরের মালিকদের চক্রইতো আলুর দাম বাড়িয়েছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের গলদঘর্ম হতে হয় কেনো? দাম বেঁধে দিলেও তা কার্যকর করতে পারে না কেনো? কারা এই সিন্ডিকেটে? কি সেই রহস্য? বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার একটা সীমা থাকা দরকার না? এটা কী চলতেই থাকবে?
পেঁয়াজের দাম বাড়ালেন, আলুর দাম বাড়ালেন কিন্তু সয়াবিন তেলের দাম বাড়ালেন কেনো? পনেরো দিন আগে ৫ লিটারের তেল কিনেছি ৪৮০ টাকা দিয়ে। আজ কিনলাম ৫৭০ টাকায়। দোকানদার বললো আরও বাড়বে। কারণ কি? ভারত কী সয়াবিন তেলও রপ্তানী করে? রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছে? দোকানিরা বলছেন কোম্পানি তাদের চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না।
এটা কোনো কথা হতে পারে? দিনেদুপুরে এমন ডাকাতি!
কোম্পানিগুলোকে সরকার জিজ্ঞেস করেছে তারা কেনো সয়াবিন তেলের দাম বাড়ালো? এটা কী বাণিজ্য,শিল্প,অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না?
শুধু পেঁয়াজ আলু আর তেলে মাসে সংসার খরচ ৫শ টাকা বাড়িয়ে দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। করোনার কারণে সংসার চালাতেই আমাদের মতো মানুষরা হিমসিম খাচ্ছি, সেখানে আরও খাঁড়ার ঘা দিলেন? বাণিজ্যমন্ত্রী,অর্থমন্ত্রীর সংসারে এই কষ্টের আঁচ পড়ে না। এই করোনাকালিন সময়েও তারা কয়েকদফা সিঙ্গাপুর গিয়ে চিকিৎসা, চেকআপ করে এসেছেন। অর্থকষ্ট তাদের নেই। ফলে আমাদের কষ্ট তাদের বোঝার কথা না। তাদের সংসারে এই সয়াবিন তেল দিয়ে রান্নাও হয় না। তারা অলিভওয়েল দিয়ে রান্না করে খান।
কিন্তু তাদের কি কোনো দায়িত্ববোধ থাকবে না দেশের প্রতি? জনগণের প্রতি কোনো ভালোবাসা থাকবে না?
আমি কোনো জবাব পাচ্ছি না।
কে দেবে আমাকে এর জবাব?
পদ্মা সেতু নিয়ে চীনা কোম্পানির কারসাজি! নানা ছুতোয় সময় সময়ক্ষেপণে বাড়ছে নির্মাণ ব্যয়, ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঠেকেছে ৪০ হাজার কোটিতে
বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে। নানান ছুতোয় সময় বাড়িয়ে এই ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে এমন সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠছে। সময়মতো কাজ না হওয়ার দায় ঠিকাদার নিচ্ছে না। পাইলিংসংক্রান্ত নকশা সংশোধন, নদীশাসন কাজে বিলম্ব এবং নদীভাঙন ও প্রবল স্রোতের কারণে কাজ পিছিয়েছে। বাড়তি সময়ের পুরো দায় বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। যেমন দেরির কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (প্রাইস এসকেলেশন) খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। এ সময়ে যে জনবল ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। এমনকি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বাড়তি সময়ে ব্যবহারের খরচও দিতে হচ্ছে।
এ নিয়ে পড়ুন “কিশোর সরকার” এর রিপোর্ট….

ছবি- ইন্টারনেট।
পদ্মা মূল সেতুর কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। আর জি টু জি’র ভিত্তিতে সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। নদীশাসনের কাজ করছে চীনা কোম্পানি সিনোহাইড্রো করপোরেশন।
২০০৭ সালে পাস হয় ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকার প্রকল্প। নকশা প্রণয়ন শুরু পর ২০১৩ সালে সেতু চালুর ঘোষণা। ২০১১ সালে প্রথম প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগের পর ২০১৮ সালের মধ্যে চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সেতু চালু হওয়ার কথা। ২০১৮ সালে প্রকল্প সংশোধন না করে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর খুঁটির (পিলার) সংখ্যা ৪২টি। এসব খুঁটির ওপর ৪১টি স্প্যান যুক্ত করা হবে। মূল সেতু হবে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। নকশা সংশোধন ও নদীশাসনে বিলম্বের কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ আগেই পিছিয়েছিল। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং বন্যার স্রোতের কারণে স্টিলের কাঠামো (স্প্যান) বসানো যায়নি বলে দাবি করেছে চীনা কোম্পানি। তার দায়ভারও নিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সংযোগ সমিক্ষার সময় এর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৬ হাজার ২শ ৪০ কোটি ৬ লাখ টাকা। অথচ ২০১৬ সালে চীনা কোম্পানির দাবির কারণে ঢাকা থেকে মাওয়া-ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এভাবে সময়মতো কাজ না হওয়ায় রেল সংযোগ প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয়ও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে সেতুতে ওঠা ও নামার সময় বড় বড় ট্রাক ও কভার্ডভ্যান উচ্চতা নিয়ে রেল সংযোগ পিলারে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আপত্তি জানিয়েছে সড়ক কর্তৃপক্ষ। এতে পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ মূল সেতু ও রেল সংযোগ নির্মাণকারী দুটি প্রতিষ্ঠানই চীনা সরকারি মালিকাধিন কোম্পানি।
তবে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, নকশা নিয়ে যে সামান্য ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে তা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। এতে সেতু বা রেল সংযোগ নির্মাণে বাড়তি সময় লাগবে না বলে তিনি দাবি করেন।
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সময়মতো কাজ না হওয়ার দায় ঠিকাদার নিচ্ছে না। পাইলিংসংক্রান্ত নকশা সংশোধন, নদীশাসন কাজে বিলম্ব এবং নদীভাঙন ও প্রবল স্রোতের কারণে কাজ পিছিয়েছে। বাড়তি সময়ের পুরো দায় বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। যেমন দেরির কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (প্রাইস এসকেলেশন) খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। এ সময়ে যেসব লোকবল ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। এমনকি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বাড়তি সময়ে ব্যবহারের খরচও দিতে হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

ছবি-ইন্টারনেট।
প্রকল্পের নথি থেকে জানা গেছে, পাইলিংসহ নানা জটিলতার কারণে ইতিমধ্যে মূল সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌনে তিন বছর বাড়তি সময় দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। নদীশাসনেও ঠিকাদারকে আড়াই বছর বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূল সেতুর পৌনে তিন বছর সময় বেড়েছে অতীতের সমস্যার কারণে। করোনা ও বন্যার তীব্র স্রোতের কারণে দেখিয়ে মূল সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। একইভাবে নদীশাসনেও সময় ও অর্থ উভয়ই বাড়ানো হয়েছে। অথচ নদীশাসনের কাজ শুরুর চিঠি দেওয়া হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। পরবর্তী চার বছরে ২০১৮ সালে কাজ শেষ করার কথা ছিল। অথচ কাজ শেষ না হলেও নদীশাসন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারকে নদীভাঙন মেরামতেরও খরচ দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে।
এ ব্যাপারে সাবেক সচিব ও বড় প্রকল্প বিষয়ে বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান বলেন, প্রকল্পের কাজে দেরি মানেই ব্যয় বৃদ্ধি। কাজ নেওয়ার পর সময়ক্ষেপণ, এরপর ক্ষতিপূরণ দাবি এগুলো ঠিকাদারদের পুরোনো কৌশল। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিষয়গুলো ঘটবে, তা আগেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন। এখন সেগুলোই ঘটছে।
অবকাঠামো নির্মাণ করাই বিচার বিভাগের শেষ দায়িত্ব নয়,ন্যায় বিচার জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে- আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিচার বিভাগের উন্নয়ন হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের চার মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা হবে। অবকাঠামো নির্মাণ করাই বিচার বিভাগের শেষ দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়বিচার জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আসল সম্মান কিন্তু আমরা পাবো না। তাই জনগণের কাছ থেকে আসল সম্মান পাওয়ার জন্য বিচার বিভাগের সকলকে একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।
পটুয়াখালীতে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন,আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা-যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে- এই সাংবিধানিক অঙ্গীকারের আলোকে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কারণ আইনের শাসনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আইনের প্রয়োগ ও কার্যকারিতা। যে সমাজে আইনের শাসন নেই, সেখানে আইনের মর্যাদা লুণ্ঠিত। আইন মানুষকে যেমন নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনই মর্যাদাবান ও পরিশীলিত করে। আইন যেখানে অচল, মানবাধিকার সেখানে ভূলুণ্ঠিত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত রয়েছে সমাজ-সভ্যতার ক্রমবিকাশ।
তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সাথে বিচার বিভাগের মানোন্নয়ন জড়িত। সেজন্য মানসম্পন্ন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথক হলে আদালতগুলোতে বিশেষ করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসের অপ্রতুলতা দেখা দেয়। ফলে বিচারকগণ এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারিক কাজ চালাতে থাকেন। কিন্তু তাতে করে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হতে থাকেন, তেমনি মামলার জট দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং পৃথকীকরণকে সুদৃঢ়, দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করার জন্য বাস্তবমূখী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। প্রথমেই এজলাজ ভাগাভাগি সমস্যা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যত প্রয়োজন মেটানোর জন্য আদালত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় এবং বলা যায় আজ তা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পটুয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন।
ভবনটি ১২ তলা ভিত্তির ওপর নির্মিত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আজ চার তলা ভবন উদ্বোধনের ফলে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। তিনি জানান, এটাকে আট তলা করা হবে এবং আগামী বছরই অবশিষ্ট ৪ তলার নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তখন দুর্ভোগ পুরোপুরি কেটে যাবে। মন্ত্রী বলেন, এই আদালত ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য তখনই সফল হবে যখন বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই স্ব-স্ব দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালন করে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন।
পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ রোখসানা পারভীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান মিয়া, আ.স.ম ফিরোজ, এস এম শাহজাদা ও মো. মহিববুর রহমান, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মইনুল হাসান বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা।
ফরিদপুরের সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের মামলা
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে গালি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন৷
চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে চরভদ্রাসন থানায় এ মামলা করেন৷ খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ইসির নির্দেশনায় তিনি বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন৷
ওই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া নিক্সন চৌধুরীকে নিয়ে৷
তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে গালি ও হুমকি দেওয়ার অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলেও তা ‘সুপার এডিটেড’ বলে দাবি করেছেন মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন৷
ভোটের দিন সকালে বুথে ঢুকে ভেতরে সিগারেট খাওয়া ও জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করায় নিক্সন চৌধুরীর এক অনুসারীকে আটক করেছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আসা ভাঙ্গা উপজেলার একজন সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড)৷
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংসদ নিক্সন চৌধুরী তাকে ফোন করেন বলে জানান ইউএনও জেসমিন সুলতানা৷ ওই অডিওতে তাকে উদ্দেশ্য করে নিক্সন চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘শুয়রের বাচ্চা, কুত্তার বাচ্চা…. আমার লোকদের গাড়িতে উঠায়ছে ক্যান; এখনই ছাড়তে বলেন৷ ওর কত বড় সাহস শুয়ারের বাচ্চা, আমি চরভদ্রাসন আসতেছি, ওরে আমি দেখতেছি৷”
সাংসদের এই ফোনের পর আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয় জানিয়ে ইউএনও বলেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে আটক ব্যক্তিকে না ছাড়লে লোকজন নিয়ে উপজেলা ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছিলেন নিক্সন চৌধুরী৷
তবে এই অডিও তিনি সোশাল মিডিয়ায় দেননি জানিয়ে এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘‘নির্বাচনের দিন দায়িত্বরত সব কর্মকর্তার ফোন নজরদারিতে থাকে৷”
এই ঘটনার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ যেমন তার বিচার দাবি করেছে, তেমনি বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও এই সাংসদকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে৷
করোনা ভাইরাসের টিকা পরীক্ষায় টাকা চায় চীনা কোম্পানি, না করে দিয়েছে সরকার
করোনা ভাইরাসের টিকা পরীক্ষায় টাকা চায় চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক কোম্পানি। কিন্তু সরকার এই টাকা দিতে রাজি নয়। ফলে চীনা টিকা বাংলাদেশে পরীক্ষার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। টিকা পরীক্ষার জন্য চীনের এই বেসরকারী প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কাছে সহ- অর্থায়ন চাইলে তা না করে দেওয়া হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এমন কথাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বলেছেন টিকা পরীক্ষার জন্য চীনের বেসরকারী এই প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থায়ন করবে না সরকার।
সিনোভ্যাক সরকারকে বাংলাদেশে টিকার পরীক্ষার জন্য অর্থায়নের অনুরোধ করার কয়েক সপ্তাহ পরেই তিনি এই মন্তব্য করেন। সূত্রের মতে এই পরীক্ষায় প্রায় সাত মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।
সিনোভ্যাক এক চিঠিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে অনুমোদন পেতে দেরী হওয়ার ফলে অন্যান্য দেশে টিকার পরীক্ষায় অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।
জাহিদ মালেক বলেন, “আমরা এই মামলায় সহ-অর্থায়ন করছি না। এটি চুক্তিতে ছিল না। তারা যখন আমাদের কাছে এসেছিল তখন টাকা চায়নি।”
“চুক্তি অনুসারে, তারা পরীক্ষার সমস্ত ব্যয় বহন করবে, আমাদের ১,১০,০০০ বিনামূল্যে টিকা দেবে এবং তারা উৎপাদনের প্রযুক্তিটি আমাদের সাথে ভাগ করে নেবে যাতে আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি টিকা তৈরি করতে পারে, এমনটাই কথা ছিল।”
সিনোভ্যাক, যা গত মাসে তুরস্কে “করোনাভ্যাক” নামক টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সরকারকে সেপ্টেম্বরে পাঠানো চিঠিতে সিনোভ্যাক আরও বলেছে যে, তারা দাতব্য সংস্থা কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই) এর কাছ থেকে টিকার পরীক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছিল – কিন্তু এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
“আমরা অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে তহবিলের পরিস্থিতি আংশিকভাবে সংশোধন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি,” চিঠিতে সিনোভ্যাক জানিয়েছে। তবে এটাও উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে পরীক্ষা শেষ করতে এখনও তাদের অর্থায়নের প্রয়োজন হবে।
সরকারের রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা গবেষণা সংস্থা জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার জন্য সম্মতি দেয় এবং একমাস পরে সরকারের অনুমোদন আসে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিনোভ্যাক এখনও তাদের নিজস্ব অর্থায়নে টিকার পরীক্ষা করতে পারে।
“তারা পরীক্ষা করতে পারে। তবে আমরা একটি বেসরকারী সংস্থার সাথে অর্থায়নের মাধ্যমে টিকার পরীক্ষা করতে পারি না। সহ-অর্থায়নের জন্য আমাদের সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে।”
মন্ত্রী বলেন, সরকার অ্যাস্ট্রাজেনেকাসহ কমপক্ষে পাঁচটি অগ্রণী সংস্থার সাথে টিকা নিয়ে আলোচনা করছে।
“আমরা আমাদের জনগণের জন্য সেরা টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করব। আমরা এর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছি এবং আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরাও আমাদের অর্থ সহায়তা দিতে আগ্রহী,” জাহিদ মালেক বলেন।
ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ঠেকাতে হাইকোর্টের যুগান্তকারী নির্দেশনা, বন্ধ হবে পুলিশের হয়রানি
ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ঠেকাতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে পরোয়ানা জারি ও কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট।
এক রিট আবেদনে রুলের শুনানির সময় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ বুধবার এসব নির্দেশনা দেন।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এমাদুল হক বসির জানান, এখতিয়ার পরিবর্তন হওয়ায় নির্দেশনা দিয়ে রুলটি রিট এখতিয়ারাধীন বেঞ্চে উপস্থাপন করে শুনানি করতে বলেছেন আদালত। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
হাই কোর্টের ৭ দফা নির্দেশনা –
১. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৭৫ এর বিধান অনুয়ায়ী নির্ধারিত ফরম সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে পূরণ করতে হবে-
১.১ যে ব্যক্তি বা যে সকল ব্যক্তি পরোয়ানা কার্যকর করবেন, তার বা তাদের নাম, পদবী ও ঠিকানা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
১.২ যার প্রতি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে তার নাম ও ঠিকানা মামলার নম্বর ও সুনির্দিষ্ট ধারাসহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
১.৩ সংশ্লিষ্ট জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরের নিচে নাম ও পদবীর সিলসহ সংশ্লিষ্ট আদালতের সুস্পষ্ট সিল ব্যবহার করতে হবে।
১.৪ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তির (অফিস স্টাফ) নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বরসহ সিল ও তার সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে; যাতে পরোয়ানা কার্যকরকারী ব্যক্তি পরোয়ানার সঠিকতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের উদ্বেগ হলে পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর সঙ্ড়ে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে পারেন।
২. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুত হলে স্থানীয় অধিক্ষেত্র কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট পিয়ন বহিতে তা এন্ট্রি করে বার্তাবাহকের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠাতে হবে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিয়ন বহিতে স্বাক্ষর করে তা বুঝে নিতে হবে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রেরণ ও কার্যকর করার জন্য পর্যায়ক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কাজে লাগানো যেতে পারে।
৩. স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাইরের জেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি করা কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সিলগালা করে এবং অফিসের সিলমোহরের ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।
৪. সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা সিলমোহরের ছাপ দেওয়া খাম খুলে প্রাপ্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
তবে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে সন্দেহ হলে পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
৫. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গ্রহণকারী কর্মকর্তা পরোয়ানা কার্যকর করার আগে পুনরায় পরীক্ষা করে যদি সন্দেহ পোষণ করেন, তবে পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে পরোয়ানা কার্যকর করবেন।
৬. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী আসামি বা আসামিদের গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ আদালতে পরোয়ানাসহ হাজির করতে হবে।
এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ গ্রেপ্তার করা আসামি বা আসামিদের জামিন না দিলে আদেশের অনুলিপিসহ জেল হাজতে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে সম্পূরক নথি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আদালতে পাঠাতে হবে।
৭. সংশ্লিষ্ট আসামি বা আসামিদের কোন থানার কোন মামলায়, কোন আদালতের আদেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট জেল সুপার কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকারী আদালতকে জানাবেন। পরবর্তীতে আর কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেলে তা নিশ্চিত হয়ে কার্যকর করবেন জেল সুপার।
আদেশ বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মহা-কারা পরিদর্শক ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বলা হয়েছে।
সেই সাথে আদেশটি প্রত্যেক দায়রা জজ ও মহানগর দায়রা জজসহ দেশের সব ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ জজ আদালতের বিচারক, মুখ্য বিচারিক হাকিম ও মুখ্য মহানগর হাকিমকে জানাতে বলা হয়েছে।
কোনো থানায় কোনো মামলা না থাকলেও গত বছর ৩০ অক্টোবর ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আশুলিয়ার মির্জা নগর এলাকার টাকসুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কৃষি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আওলাদ হোসেন।
প্রথমে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নামে ভুয়া পরোয়ানায় আওলাদকে আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর একের এক একই মামলার ভুয়া পরোয়ানায় রাজশাহী, বাগেরহাটের আদালত, কারাগার হয়ে এখন শেরপুর কারাগারে তিনি। কিন্তু কোনো আদালতেই মামলার কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
এর ফলে তাকে যে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিত হতেই আওলাদের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন গত বছর ৯ ডিসেম্বর রিট আবেদন করেন।
পরদিন সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ আদেশ দেয়। ১৫ জানুয়ারি হাই কোর্টে আওলাদকে হাজির হতে বা হাজির করতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
একই সঙ্গে তাকে ভুয়া পরোয়ানায় জড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলে, যাচাইসাপেক্ষে তার মুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
আওলাদের বিরুদ্ধে আর কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তাকে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
৬ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে আওলাদ নির্দেশমতো ১৫ জানুয়ারি আদালতে হাজির হন। আদালত ৯ মার্চ পরবর্তী আদেশের জন্য রাখে।
এর মধ্যে সিআইডি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সাথে জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করে। চার জনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।
আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ গত ৯ মার্চ ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আদালতে।
এরপর বুবধার রুল শুনানির জন্য উঠলে রুল শুনানি না করে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সাত দফা নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত।
হঠাৎ তারকা হয়ে যাওয়া রাণু মণ্ডল আবার ফিরলেন রেল স্টেশনেই, জুটছে না দুবেলা খাবার
পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট স্টেশেন থেকে উঠে এসে হিমেশ রেশমিয়ার ঝাঁ চকচকে বলিউডি স্টুডিয়োতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। নদিয়ার বোগোপাড়ার বাসিন্দা রানুর জীবনযুদ্ধ সাড়া জাগিয়েছিল গোটা দেশে। মুহূর্তের মধ্যে হয়ে গিয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন! রাতারাতি স্টার বনে গিয়েছিলেন রানাঘাট স্টেশনের ভবঘুরে রাণু মন্ডল। তবে কয়েক মাস যেতে না যেতেই তিনি চলে গেলেন আঁধারে। ফিরে গেলেন আবার সেই রানাঘাট স্টেশনেই।

ছবি- ইন্টারনেট
ঠিক যেন বাস্তবের মাটি থেকে আকাশে, আবার আকাশ থেকে বাস্তবের মাটিতে। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, সেই পুরনো দিনের মতোই এখন রোজ দুবেলা পেট ভরে দুমুঠো খেতেই কালঘাম ছুটছে তাঁর। কার্যত অনাহারেই দিন কাটছে তাঁর। সেই আগের মতোই পথচলতি মানুষ যা দিতেন, সেই খেয়েই যেমন দিন কাটত তাঁর, তেমনই চলছে রাণুর আজকালকার দিন। এখনও তাঁর সম্বল হয়ে দাঁড়িয়ছে পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্য।
যে সময় রাণুর উত্থান, সেই সময়ই জানা গিয়েছিল, দীর্ঘদিন আগে স্বামীর সঙ্গে কাজের সন্ধানে মুম্বই গিয়েছিলেন রাণু। অভিনেতা ফিরোজ খানের বাড়িতে তিনি কাজও করতেন। সেখানে থাকার সূত্রে হিন্দি বলা এবং শব্দ উচ্চারণে দক্ষতা অর্জন করেন। তার পর নদিয়াতে ফিরে আসার কিছুদিন পর স্বামী চলে যান। বিয়েও হয়ে যায় মেয়েদের। তবে আশার আলো ছিল, মাসি-মেসো একা হয়ে যাওয়া রানুকে নিজেদের বাড়িটি দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু খাবার সন্ধানে রাণু রোজ হাজির হতে শুরু করেছিলেন রানাঘাট স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। ওই প্ল্যাটফর্মে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অতীন্দ্র নামে এক যুবক নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন রানুর কণ্ঠে লতার গান ‘এক প্যায়ার কা নাগমা হ্যায়’। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা পোস্ট হতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিও। আর ফিরে তাকাতে হয়নি এই ফুটপাথের গায়িকাকে। সোজা মুম্বই। হিমশে রেশমিয়ার নজরে পড়ে যাওয়া। গান রেকর্ড, রিয়েলিটি শো, আরও কত কী…
রানাঘাট স্টেশনে লতা মঙ্গেশকরের গান গেয়ে রাতারাতি স্টার হয়ে উঠেছিলেন রাণু মন্ডল ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় রাণু হয়ে উঠেছিলেন ভাইরাল।রানাঘাট স্টেশন থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর যাত্রা৷ লতার গান গেয়ে রীতিমত তারকার সম্মান পেয়েছেন রাণু ৷হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে গান গেয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন ৷

ছবি- ইন্টারনেট।
রানাঘাট স্টেশনের রাণুর জীবন পাল্টে যায় ৷ সেই সময় তিনি যা করছিলেন, যেমন জামা কাপড় পরা থেকে গান গাওয়া বা কী কথা বলছিলেন সবকিছু তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ৷ গত বছর সমস্ত পুজো প্যান্ডেলে তাঁর গাওয়া গান ‘তেরি মেরি কাহানি’ বাজতে শোনা যায় ৷ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া সেনসেশন হয়ে উঠেছিলেন তিনি ৷ কিন্তু এখন কোথায় রাণু মন্ডল ?
এখন যেন আবার সবাই তাঁকে ভুলে গিয়েছে ৷ ২০১৯ সালে হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে তিনটি গান রেকর্ড করেছিলেন রাণু মন্ডল ৷ তবে বর্তমানে কেউ তাঁর বিষয়ে কিছুই জানে না ৷ সূত্রের খবর অনুযায়ী, কয়েকদিনের জনপ্রিয়তার পর রাণুর জীবনে ফের যেন নেমে এসেছে অন্ধকার ৷ করোনা ভাইরাসের জেরে এমনিতেই সকলকে আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে ৷ এই মুহূর্তে লতাকন্ঠী রাণুকে মুম্বইয়ে কেউ কাজ দিচ্ছেন না ৷ এর জেরে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁকে ৷
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি রাণুকে নিয়ে একাধিকবার বির্তকেরও সৃষ্টি হয়েছে ৷ প্রচারের আলোয় চলে এসে তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন অহংকারী কথাবার্তা বলেছেন। বাস্তব জীবনেও যখন লোক তাকে চিনতে পেরে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য এগিয়ে গিয়েছে তিনি তাদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছেন।
এই মুহূর্তে রানাঘাটের এই লতা কন্ঠীর অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। পুরনো বাড়ি ছেড়ে নতুন বাড়িতে সিফট করেছিলেন রানু ৷ কিন্তু হাতে কাজ না থাকায় ফের পুরনো জায়গায় ফিরে যেতে হয়েছে রাণুকে ৷ (ভারতীয় পত্রিকা অবলম্বনে)।
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি এখন মৃত্যুদণ্ড, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
একের পর এক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের মধ্যে ‘জরুরি’ বিবেচনায় আইনটি সংশোধন করে তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি তাতে সই করেন বলে তার প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সংসদ অধিবেশন না থাকায় সরকার অধ্যাদেশ আকারে আইনটি জারি করল। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এই অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে হবে। আইনটি বলবত্ রাখতে চাইলে পরে বিল আকারে তা আনবে সরকার।
২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি এতদিন ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। পাশাপাশি দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে অর্থ দণ্ডের বিধান।
এ আইনে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে বিচার ও রায় কার্যকর করার জন্য আইন সংশোধনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করা হচ্ছিল বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে।
সম্প্রতি নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে তুলে নিয়ে ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সেই দাবি আবারও জোরালো হয়ে ওঠে।
মন্ত্রিসভায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপ-ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। সেখানে এতদিন বলা ছিল- যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাহলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্ধদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আইন সংশোধনে ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ এর ১ (গ) ধারায় যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম করার ঘটনা আপসযোগ্য ছিল না। সংশোধনে সেটা আপসযোগ্য করা হয়েছে বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন।
এ আইনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাত দিন থেকে এক মাস এবং মামলা নিষ্পত্তির জন্য একশ আশি দিন (ছয় মাস) সময় বেঁধে দেওয়া থাকলেও বাস্তবে ওই সময়ের মধ্যে রায় দেওয়া সম্ভব হয় না।
তাছাড়া ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের এক একটি ঘটনা কিছু দিন পর পর সারা দেশকে নাড়া দিয়ে গেলেও এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তির নজির কম।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে ধর্ষণের ঘটনায় ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪১টি। এর মধ্যে আসামির শাস্তি হয়েছে মাত্র ৬০টি ঘটনায়।
ধর্ষণের বেশিরভাগ মামলা বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ধামাচাপা পড়ে যায়। তাছাড়া ঠিকমত ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়া, সামাজিক জড়তা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
এসব কারণে শাস্তি বাড়ালেই এ ধরনের অপরাধ কমবে কি না, সেই প্রশ্নও আছে অনেকের মধ্যে।
তাদের ভাষ্য, সাক্ষ্য আইনের জটিলতা দূর করে বিচার পাওয়ার পথ সহজ করতে হবে। সেই সঙ্গে সামাজিকভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা জরুরি।
তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিশ্বাস, ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড করায় এই অপরাধ কমে আসবে।
“আপনারা জানেন বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে অনেক বিতর্ক আছে। তারপরেও আমাদের দেশে এই ঘৃণ্য অপরাধটির যে চিত্র দেখতে পাচ্ছি, সে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এটা বাড়ানো উচিত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারটি সংশোধনীতে এনেছি।”











