ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 159

অবৈধ অস্ত্র রাখার মামালায় পাপিয়া ও তার স্বামীর ২৭ বছর কারাদণ্ড, তারা দেশের জন্য বিপজ্জনক: রায়ে পর্যবেক্ষণ

0

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দুই ধারায় ২০ বছর ও সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ।
সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও জনগণের কল্যাণে তারা নিয়োজিত ছিলেন না, বরং দেশের জন্য তারা ‘মারাত্মক বিপজ্জনক’ ছিলেন।
বিচারক বলেন, “শামিমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন সজ্জন রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তাদের বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়, যার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। এত টাকা থাকার কোনো যুক্তিও থাকতে পারে না।
“তারা তথাকথিত রাজনীতিবিদ। নিজেদের প্রাপ্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তারাতো নিয়োজিত ছিলেনই না বরং দেশের জন্য তারা মারাত্মক বিপজ্জনক ছিলেন। যে কোনো অন্যায় কাজে লাগানোর জন্য তারা তাদের খাটের তোষকের তলায় একটি বিদেশি পিস্তল দুটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি রেখেছিলেন। এ অবৈধ অস্ত্র ও গুলি তাদের নিয়ন্ত্রণ, দখল ও জ্ঞানের মধ্যে ছিল।”
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সে সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।
অস্ত্র আইনের মামলায় সোমবার ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে  রায় ঘোষণার পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পরে পাপিয়ার ফার্মগেইটের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেল ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটি টাকার উপরে।

গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব।

এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় গত ২৩ অগাস্ট অভিযোগ গঠন করে পাপিয়া ও তার স্বামী বিচার শুরু করে আদালত। শুনানি শুরুর আড়াই মাসের মাথায় সোমবার তার রায় হল।

রায়ে বিচারক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ও ১৯ (এফ) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে।
তবে আসামি পাপিয়া নারী হওয়ায় এ আইনের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তাকে দেওয়া হয়নি। তার স্বামীকে একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে পাপিয়াকে মোট ২০ বছেরের সাজাই খাটতে হবে।

আলোচিত এই দম্পতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যে চারটি মামলা হয়েছে, তার মধ্যে অস্ত্র আইনের এই মামলাতেই সবার আগে রায় এল।

দায়িত্ব নিলেন নতুন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন; বললেন, মামলা জট কমানোই হচ্ছে প্রধান চ্যালেঞ্জ

0

দেশের ১৬তম এটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন। রোববার সকালে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল আদালতে মামলা পরিচালনায় এটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন তিনি।
বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন। এ সময় তিনি বলেছেন, মামলাজট কমানোই এখন বিচার বিভাগের সবচেয়ে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’।
ধর্ষণের শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করা হলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রধান আইন কর্মকর্তা।
সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনাগুলোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “সরকার কিন্তু আগামীকালই (সোমবার) বিষয়টা কেবিনেট মিটিংয়ে তুলবে। শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হয়, যারা এ ধরনের অপরাধ করে, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার পরে তারা সাবধান হবে।
“এ অপরাধ করতে তখন অনেকবার ভাববে। আমার মনে হয় সরকারের এই উদ্যোগটা যখন আইনে পরিণত হবে, তখন কিন্তু এটা অনেকখানি কমে যাবে।”
আমিন উদ্দিন বলেন, “আমি তো আজকে কেবল বসলাম। আমি উনাদের (ডেপুটি ও সহকারী এটর্নি জেনারেলদের) সাথে বসব বিকালে। বসে আমি দেখব কোন কোন মামলা (নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা) পেন্ডিং আছে।

“সেখান থেকে কিছু মামলা হয়ত রিভিশনের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। সেগুলো খুঁজে বের করে সচল করার চেষ্টা করব। আর যেগুলো আপিলে আছে, সেগুলো শুনানি করে নিষ্পত্তির চেষ্টা করব।”

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি কী মনে করছেন- এই প্রশ্নে আমিন উদ্দিন বলেন, “সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মামলা জট কমানো। আমাদের দেশে অনেক মামলা রয়ে গেছে, অনেক মামলা জট হয়ে আছে। এই জট কমানো হচ্ছে বিচার বিভাগে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

তিনি বলেন, আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল কোর্ট প্রায় চার হাজার মামলার নিস্পাত্তি করে দিয়েছে। পুরনো মামলাগুলো সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোনা হচ্ছে।

“এটর্নি জেনারেল হিসেবে এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করব, হাই কোর্টেও যেসব পুরনো মামলা রয়েছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য বেঞ্চগুলোকে যেন বিশেষ নির্দেশনা দেন।

“তাছাড়া আমি চেষ্টা করব, বিভিন্ন জেলায় যারা পাবলিক প্রসিকিউটর আছেন, তাদের সাথে যোগাযোগ করতে। বিচারাধীন যেসব মামলা স্থগিত হয়ে আছে, সেগুলোর দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে।”
২০০৯ সাল থেকে এটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসা মাহবুবে আলম ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এরপর গত ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনকে দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
আমিন উদ্দিন তিন দশক ধরে সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করে আসছেন। এক সময় ডেপুটি এটর্নি জেনারেলের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি।
প্রয়াত এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমেকে স্মরণ করে আমিন উদ্দিন বলেন, “দক্ষতা ও সততায় মাহবুবে আলম এই অফিসটাকে, এই পদটাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, আমি চেষ্টা করব সেটা বজায় রাখার জন্য। আমি চেষ্টা করব তিনি যে উচ্চতা সৃষ্টি করে গেছেন, সেটা নিম্নগামী হতে না দিতে।”
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতাও চান এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
“অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে দুর্নীতি বন্ধ করা অনেক সহজ হবে। আমি এটর্নি জেনারেল হিসেবে এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে যে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব।”
আমিন উদ্দিন এটর্নি জেনারেল হিসেবে যোগ দেওয়ার দিনই অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকিরের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
জবাবে এটর্নি জেনারেল বলেন, “এই অফিসে সবসময় আসা-যাওয়া থাকেই। উনারা হয়ত অনেক দিন কাজ করেছেন, ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার কারণে উনারা হয়ত আর থাকছেন না। আমার সাথে উনাদের কথা হয়নি।
“এখন সরকার যদি তাদের পদত্যাপত্র গ্রহণ করেন, তাহলে সরকার অবশ্যই আরও দুজন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল দিবেন।”

অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজ উদ্দিন ফকিরের পদত্যাগ

0

মমতাজ উদ্দিন ফকির রোববার সকালে এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সলিসিটর অফিসে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর মুরাদ রেজা সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “দুজন পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। শিগগিরই এসব পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

মুরাদ রেজা ২০০৯ সালের ২৭ মার্চ থেকে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আর মোমতাজ উদ্দিন ওই পদে নিয়োগ পান ২০১০ সালের ৪ জুলাই।

মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, “ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। এর বাইরে কিছু নয়।”
২০০৯ সাল থেকে এটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসা মাহবুবে আলম ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এরপর গত ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনকে দেশের ষোড়শ এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
আমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এখন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল থাকলেন এম এম মুনীর। এছাড়া ৬৭ জন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এবং ১৫৫ জন সহকারী এটর্নি জেনারেল মিলিয়ে মোট ২২৪ জন আইন কর্মকর্তা রয়েছেন এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে।

ভালো নেই পাকিস্তানের করাচির ২০ লাখ বাঙালী, আনুগত্য দেখিয়েও তকমা জুটেছে মিরজাফরের, কাজে আসছে না ‘ধর্ম’

0

ভালো নেই পাকিস্তানের করাচিতে থাকা অন্তত ২০ লাখ বাঙালি। সেখানে তাদের থাকতে হচ্ছে অস্পৃশ্য,অবহেলায়। কাটাতে হচ্ছে মানবেতর জীবন। শুধু বাঙালী হওয়ার কারণে পাকিস্তানের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য দেখিয়েও তারা নাগরিকের মর্যাদা পাচ্ছেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র মেলেনা, ফলে উচ্চশিক্ষা এবং সরকারি চাকরিও তাদের কপালে জুটে না। জমি বাড়ি কিনতে পারেন না। বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হয়। ধর্মের কারণে যারা পাকিস্তানকে আপন ভেবে গিয়েছিলেন তাদের এখন ভুল ভাঙছে। শুধু ধর্ম তাদের বন্ধন সৃষ্টি করাতে পারে নি। ভিন দেশী তকমা আর বাঙালী হওয়ায় তারা পাকিস্তানে ‘মিরজাফর’ হিসেবে চিহ্নিত। পাকিস্তানে বাঙালিদের এই দুর্ভোগের চিত্র এসেছে বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
পাকিস্তানের বন্দর শহর করাচি। দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর। ২০১৭ সালে ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ পত্রিকার ইনটেলিজেন্স ইউনিট-এর করা এক সমীক্ষায় দাবী করা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক শহর হলো পাকিস্তানের করাচি। আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংওয়ারের জন্য যেখানে বিখ্যাত। প্রতিনিয়ত খুনোখুনি ধর্ষণ লেগেই থাকে।
এই করাচি শহরে বাস করেন প্রায় ২০ লাখ বাংলাভাষী মানুষ, যারা বাঙালী। বাংলা ভাষায় কথা বলেন। বোয়াল মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেয়ে জর্দা পান মুখে দেন। তাঁদের কলোনির রাস্তায় হাঁটলে শুনতে পাবেন বাংলাদেশের মমতাজের হিট গান, ‘খায়রুল লো তোর লম্বা মাথার কেশ’ বা ‘ তুমি দিও নাগো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া।‘ হ্যাঁ, পাকিস্তানের করাচির বাঙালিদের বাড়িতে বাড়িতে আজও চলে রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, মুমতাজ, অ্যান্ড্রু কিশোরের সঙ্গে কিশোর কুমার, আশা ভোঁসলের বাংলা গান।
(ছবি- ইন্টারনেট)।
করাচি ইউনিভার্সিটি থেকে বাংলায় মাস্টার্স করা যায়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়ানো হয় রবীন্দ্রনাথের গোরা, নজরুলের অগ্নিবীণা থেকে জসীমউদ্দীনের নকশী কাঁথার মাঠ। পড়ানো হয় হুমায়ুন আহমেদ, সুনীল, শক্তি, মাণিকও। একসময় কওমী-বন্ধন এবং মুক্তি নামে বাংলাভাষার দুটি দৈনিক সংবাদপত্রও প্রকাশিত হতো করাচি থেকে। তাই করাচিকে ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলে থাকেন পাকিস্তানের মানুষ। করাচির মাচ্ছি কলোনি, বাঙালী কলোনি, বাংলাবাজার কলোনি, চিটাগাং কলোনি, মুসা কলোনি, ইব্রাহিম হায়দারির মতো প্রায় ১৩২টি বাঙালি কলোনি আছে আশপাশে। এসব কলোনিতেই বাঙালিদের বসবাস। তাদের আত্মীয়দা, বিয়ে শাদি সবই সারতে হয় নিজেদের মধ্যে এসব কলোনিতে। বাইরে বরোবার জো নেই। অন্য কোনো সস্প্রদায়ের সঙ্গেও তাদের মেলামেশা হয় না।

কী ভাবে বাঙালিরা করাচি গেলেন ঃ
করাচিতে বাঙালিরা প্রথম আসেন ব্রিটিশ আমলেই। মাছ ধরার কাজে বাঙালির পারদর্শিতার জন্য বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে জেলেদের নিয়ে যান করাচির উর্দুভাষী ব্যবসায়ীরা। বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই ছিলেন সেই দলে। ব্যবসায়ীরা সমুদ্রের ধারে জেলেদের কলোনি গড়ে দেন। সময়টা ছিলো বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ। এই বাঙালী মৎসজীবীরা দ্রুত করাচির উর্দুভাষী বাসিন্দাদের সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেন।
দ্রুত শিখে নেন উর্দুভাষা, কিন্তু বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি ভোলেননি। পরবর্তীকালে, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর পুর্ব-পাকিস্তান (বাংলাদেশ) থেকে প্রচুর সংখ্যায় বাঙালি করাচিতে আসেন।  তবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পাকিস্তান থেকে বেশ কিছু বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু বেশিরভাগই রয়ে যান করাচিতে।
(ছবি- ইন্টারনেট)।
বিভিন্ন সূত্রের মতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর খুলনা অঞ্চল থেকে প্রচুর সংখ্যক রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী পালিয়ে এসে করাচিতে বসবাস শুরু করেছিলেন। ৮০ ও ৯০-এর দশকে জীবিকার সন্ধানে প্রচুর বাঙালি বাংলাদেশের নোয়াখালী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে করাচিতে এসেছিলেন। কারণ ঐ সময় বাংলাদেশি টাকার তুলনায় পাকিস্তানি টাকার দাম ছিল প্রায় দ্বিগুণ। আয় রোজগারও ছিল ভালো।
১৯৯৫ সালে পাকিস্তানে বাংলাভাষীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২৫ লাখ। এর মধ্যে করাচিতেই প্রায় ২০ লাখ।
এরমধ্যে ভারত থেকে করাচিতে স্থায়ীভাবে চলে আসে প্রায় এক কোটি হিন্দি ও উর্দুভাষী মুসলিম। তা ছাড়াও করাচিতে ছিলেন ছয় থেকে সাত লাখ আফগানি, হাজার পাঁচেক ইরানি, কয়েক হাজার নেপালি, শ্রীলঙ্কান এবং ফিলিপিনো। এ ছাড়াও বার্মিজ বৌদ্ধদের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে ৫ লাখ রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে করাচিতে এসে উঠেছিলেন। সুতরাং জীবিকার তাগিদে, অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে করাচিতে শুরু হয়ে গিয়েছিল জায়গা দখলের লড়াই।
কেমন আছেন করাচির বাঙালিরা?
ভালো নেই, করাচির বাঙালিরা। ১৯৭১ পাল্টে দেয় পাকিস্তানের ২৫ লাখ বাঙালির ললাটলিখন। পূর্ব-পাকিস্তানের বাঙালিরা গঠন করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ। কপাল পুড়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে থাকা বাঙালির। সেই থেকে তাঁরা পাকিস্তানে ‘মীরজাফর’। পাকিস্তানি সমাজের সর্বস্তরে ঘৃণা, বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়ে কোনও মতে বেঁচে রয়েছেন পাকিস্তানকে আপন ভাবা এই মানুষগুলি ।
ভারত থেকে আগত উর্দুভাষী মোহাজির জনগোষ্ঠীর পরেই জনসংখ্যার দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল বাংলাভাষী ‘বাঙ্গালী’ জনগোষ্ঠী। করাচি ক্রমশ বেরিয়ে যেতে শুরু করেছিল ভূমিপুত্রদের হাত থেকে। তাই বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানে ‘বাংলাদেশি হটাও‘ অভিযান শুরু করেন। বেনজির ভুট্টোর অতি সক্রিয়তার পিছনে আরেকটি কারণ খুঁজে পান সমালোচকেরা। সেটি হল ভোটাধিকার না থাকলেও, করাচির বাঙালিরা বেশিরভাগই পাকিস্তান মুসলিম লীগের সমর্থক। যেটি বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিরোধী দল।
বেনজির ভুট্টো সরকার বেনজিরভাবেই পাকিস্তান থেকে বিমানে করে বেশকিছু বাঙালিকে পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশে। যা নিয়ে বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের সম্পর্কের চুড়ান্ত অবনতি ঘটেছিল। খালেদা জিয়া, পাকিস্তানের পাঠিয়ে দেওয়া দুই বিমানভর্তি বাংলাভাষী শরণার্থীকে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। দুটি বিমানকেই পত্রপাঠ ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানে। ইতিমধ্যে পাকিস্তান মুসলিম লিগ ও ধর্মীয় সংস্থাগুলি বেনজির ভুট্টোর এই কাজকে ইসলামবিরোধী বলে আন্দোলনে নেমে পড়েছিল। ফলে বেনজির ভুট্টোকে ‘বাংলাদেশি হটাও‘ অভিযান পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। ২০ লাখ বাঙালি রয়ে গিয়েছিলেন করাচিতেই।
(ছবি- ইন্টারনেট)।
বংশপরম্পরায় পাকিস্তানে থেকেও আজও পাকিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র মেলে না বাংলাভাষীদের। নাগরিকত্ব দূরের কথা, আজও ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করতে হয়। তাও নিতে হয় ঘুরপথে, অনেক টাকা ঘুষ দিয়ে। করাচির মফস্বলে ‘পাকিস্তানি বেঙ্গলি অ্যাকশন কমিটি‘ নামে বাঙালিদের একটি সংগঠন সক্রিয়। তাঁদের কাছ থেকে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র মেলেনা বলে পাকিস্তানের বাঙালিরা উচ্চশিক্ষা এবং সরকারি চাকরি পান না। জমি বাড়ি কিনতে পারেন না। বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হয়।
বহুকাল আগে দেশ ছেড়েছেন, তবুও তৃতীয় প্রজন্মের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে পারেননি।
আজও করাচির বাঙালিদের বাস করতে হয় ঘিঞ্জি বস্তিতে চারদিকে নোংরা জল এবং আবর্জনার মধ্যে। যে বস্তিগুলিতে দিনের মধ্যে কুড়ি ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পানীয় জল আসে দিনে মাত্র একবার। উচ্চশিক্ষা না থাকার ফলে নবীন প্রজন্মের বাঙালিরা ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কেউ রাস্তার পাশে সবজি বেচেন, কেউ চায়ের দোকানে বা মুদি দোকানে কাজ করেন, কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান।
বেশির ভাগ বাঙালিই কলোনির বাইরে খুব একটা বের হন না। এলাকার বাইরে বের হলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ফলে কলোনির ভেতরেই ‘পাঠান’ আর আফগানিদের ছোটখাটো কারখানায় নামমাত্র পয়সায় দিনমজুরের কাজ করতে হয় অধিকাংশ বাঙালিকে। অথচ করাচির মৎস্যশিল্প দাঁড়িয়ে আছে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর। পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা সস্তা শ্রমিক পান। তাই তাঁরা চান না বাঙালিরা পাকিস্তান ছেড়ে চলে যান। কিন্তু বাঙালিদের নাগরিকত্ব বা তাঁদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের জন্য তাঁরা আদৌ চিন্তিত নন।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আসাদ ইকবাল বাট একবার বিবিসিকে বলেছিলেন বাঙালিদের মর্মান্তিক অবস্থার কথা। তিনি বলেছিলেন “একজন অবাঙালি পাকিস্তানি শ্রমিক যেখানে মাসে ১২-১৩ হাজার রুপি মজুরি পান, একজন বাঙালি শ্রমিক পান তার অর্ধেক। বাঙালি মেয়েরা কারখানা এবং লোকের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে শুধু যে পয়সা কম পান তা নয়, অনবরত যৌনশোষণের শিকারও হচ্ছেন তাঁরা।“
পাকিস্তানে বাঙালিদের জীবনযাত্রার মান একশো বছরেও উন্নত না হওয়ার বড় কারণ হলো, বাঙালিরা পাকিস্তানের নাগরিক নন। যেহেতু নাগরিক নন তাই তাঁদের ভোট নেই। যেহেতু ভোট নেই, পাকিস্তানের রাজনীতিকদের কাছে বাঙালিদের কোনও দাম নেই। সম্প্রতি অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, বাঙালিদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট দেবেন। কিন্তু পাকিস্তানের বাঙালি আর রাজনৈতিক নেতাদের স্তোতিবাক্যে ভুলতে রাজি নন। তাই করাচির বেশিরভাগ বাঙালি নেমেছেন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে।
অমানুষিক বৈষম্য ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে করাচির বেশ কিছু বাঙালি পরিবার বাংলাদেশে ফিরে যাবার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। ঠিক যেভাবে পাকিস্তানের হিন্দুরা চেষ্টা করছেন ভারতে ফেরার। প্রতিদিনই শয়ে শয়ে বাঙালি করাচির বাংলাদেশি কনস্যুলেটে গিয়ে বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করছেন। তাঁরা হয়ত বুঝেছেন এক গাছের ছাল কখনও অন্য গাছে লাগানো যায়না। তাঁরা বুঝেছেন ‘ খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি আমার দেশের মাটি’। কিন্তু বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেল।

ঢাকায় ভিসা সেন্টার নেই, যেতে হয় দিল্লিতে, ভারতের সঙ্গে এয়ার বাবল চালুতে দেরি হওয়ায় বিপাকে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা

0

ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উচ্চতর পড়াশুনার জন্য ভর্তি হওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন না, কারণ এস্তোনিয়া, বেলজিয়াম এবং লাটভিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঢাকায় ভিসা কনস্যুলার পরিষেবা দেয় না।
এসব শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য তাদের নয়াদিল্লী যেতে হবে, যা তারা করতে পারছেন না বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায়।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আগস্টের শেষের দিকে তার বাংলাদেশ সফরের সময় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসাসেবা প্রার্থীদের ভারতে যাবার অনুমতি দিতে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে একটি এয়ার বাবল স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন। বাংলাদেশ সরকার প্রথমদিকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ভারতের সাথে এয়ার বাবল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
২৯শে সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে দু’দেশের মধ্যে ৬ষ্ঠ যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের জন্য শুল্কবিহীন বাধা, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি, রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের সন্ধানসহ বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
তবে, দু’দেশের মধ্যে এয়ার বাবল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সামান্য অগ্রগতি হয়েছিল। যদিও উভয় দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ও স্থল যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু উচশিক্ষা, চিকিৎসা বা ব্যবসায়িক কারণে যারা ভারত ও বাংলাদেশে যাতায়াত করতে চান তারা এখনও সেটি করতে পারছেন না।
আরও লক্ষ্য করা গেছে যে ভারতীয় হাই কমিশনারের টুইটার পাতায় বিদেশে পড়াশোনা করার ভিসা আবেদন করতে ভারতে ভ্রমণের ভিসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য যে, ভারত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, মালদ্বীপ, কানাডা এবং জার্মানি সহ ১৫ টিরও বেশি দেশের সাথে এয়ার বাবল কার্যকর করেছে। এমনকি জাপান, যারা আন্তর্জাতিকভাবে এই জাতীয় দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত, তারাও ভারতের সাথে একটি এয়ার বাবল কার্যকর করেছে। এমন নয় যে, এই দেশগুলি যা এই জাতীয় ব্যবস্থা দ্বারা কোভিড-১৯ সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে চিন্তা করে না। কিন্তু কেবলমাত্র উড্ডয়নের আগে এবং অবতরণের পরে কঠোর পরীক্ষার কারণেই অনেক দেশ এই জাতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমান ভ্রমণ ব্যবস্থাগুলো উভয় দেশের জন্যই উপকারী। নাগরিকরা, বিশেষত শিক্ষার্থীরা যারা ভারতে পড়াশোনা এবং যারা চিকিৎসা নিতে যান তাদের বিমানের মাধ্যমে ভ্রমণ করার বিকল্প থাকা উচিত।

ধর্ষণ ,অনাচার বনাম মনুষ্যত্ব

0

নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমেই ভয়ানক আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই খুন ধর্ষণ নির্যাতন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন নারী। বাংলাদেশ যেনো এক অভিশপ্ত জনপদে পরিণত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে নারীর অধিকার, মর্যাদা কেমন? বাংলাদেশী সাংবাদিক মাহবুবুল আলম উচ্চশিক্ষার্থে রয়েছেন জার্মানি। সেখানকার বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তিনি। *****

ডিসেম্বর;২০১৯। অষ্ট‌্রিয়া থেকে জার্মানিতে ফিরছি। গভীর রাত আনুমানিক ২টা। চেক-রিপাব্লিকের রাজধানী প্রাগ। পারহা নামক এক জায়গায় ট্রানজিট। গন্তব্য আমার বাসস্থান ড্রেজডেন শহর। ৬ ঘন্টার দীর্ঘ ট্রানজিট । ভাবলাম যাত্রীদের বিশ্রামাগারে ঝিমিয়ে কাটিয়ে দেবো। প্রাগ আমার কাছে নতুন শহর, রাতে লোকজন কম, আমি ইউরোপে নতুন ,তখনও ইনকাম তেমন করি না । ইউরো সমান একশ টাকার চিন্তা মাথা থেকে যায় না। ইউরোপে, এক এক দেশে এক এক ভাষা। কারে কি বলবো। সহজে ইংরেজী বলতে চায়না কেউ। পরে এসব চিন্তায় আর ছয় ঘন্টার জন্য আর হোটেলে খুঁজিনি। সবাই আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে। ৩ টার দিকে দেখলাম মাইকে ঘোষণা আসল বিশ্রামাগার বন্ধ থাকবে ৫.৩০ পর্যন্ত। শীতের রাত ঠান্ডায় জমে যাওয়া অবস্থা। সবশেষ, আমি আর এক সুন্দরী তরুণী।অনেক কিছু বোঝালাম সিকিউরিটিরে কিছুই বুঝতে চাইলনা । কী আর করা, পাশের ট্রাম ষ্টেশন সারারাত খোলা থাকে। মাটির নিচে কিন্তু খুব ঠান্ডা। তার পরও উপায় নাই ওখানে গিয়ে বসলাম। জনমানব শুণ্য প্রাগের ওই ষ্টেশনে নিজেরে খুব অসহায় লাগছিলো। হঠাৎ ওই তরুণীর প্রবেশ।আরেকজন মানুষের উপস্থিতিতে কিছুটা উষ্ণতা বোধ করলাম। মাঝে মাঝে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঘন্টা খানেক কাটিয়ে দিলাম। কোনো কথা নাই। অনেকক্ষণ পর ভাঙ্গা জার্মান ভাষায় জিজ্ঞেস করলাম -Wohin gehst du(তুমি কই যাবা) ?বলল বার্লিন। জর্জিয়ান ওই তরুণী বার্লিনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, ভিয়েনা থেকে ফিরছে।আর ভাবছিলাম এত গভীর রাতে কী নিরাপদ বোধ করছে এই মেয়ে। আর আমার অভাগা দেশের কথা চিন্তা করলাম।এমন করে রাত তিনটায় এই মেয়ে একা কমলাপুর ষ্টেশনে থাকলে। বদমাইশ লোকজন ছাড়াও চরিত্রবান পুলিশ ভাইদের অনেকে তারে নিয়া টানাটানি করত বা ওরে চরিত্রহীন বানানোর চেষ্টা করত…। পরে আমরা একই ফ্লিক্সবাসে জার্মানি ফিরেছি।

সম্প্রতি আমি এক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। কেউ কাউকে তেমন চিনি না। নতুন কলিগ। দুই দিনের পরিচয়। লাইপজিশের এক গ্রাম থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ,ছয় ঘন্টার লং ড্রাইভ। ও ড্রাইভ করছিলl একা ওই মেয়ে আর আমি গভীর রাতে গিয়ে পৌঁছেছি অন্য আরেক রাজ্যে। চলার পথে সন্ধ্যায় জার্মানির অজানা এক গহীন বনে পথ হারিয়েছি। একই হোটেলে থেকেছি। তবে একবারের জন্যও আমার ওর আমার প্রতি খারাপ চিন্তা জাগেনি। আবার কেউ হয়ত কাউকে চিনি না এমন অনেকের সাথে রাতে একই রুমে পাশাপাশি থেকেছি। বিষয়টা হচ্ছে তাদের আমি মানুষ, ভেবেছি মেয়ে নয়।

আমাজনে কাজ করেছি মাস দেড়েক । ওখানেও রাতে অনেক মেয়েকে নিশ্চিন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেখেছি। রাতে এখানকার মেয়েরা গাড়ী চালায় ,পার্টি করে সব কিছু করে নিরাপদে নির্বিঘ্নে। আমার মনে হয় বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে পড়তে আসা একা অবিবাহিত অনেক- মেয়ে নিজেকে এখানে দেশের চেয়ে নিরাপদ ও স্বাধীন মনে করে।ষ্টুডেন্ট হল গুলোতে পাশাপাশি রুমে অনেক ছেলে মেয়ে টয়লেট,বাথরুম,ডাইনিং, কিচেন সবকিছু শেয়ার করে একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে। আর বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বউ নিয়ে ক্যাম্পাসে বেড়াতে এলে- ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। করবে না কেন? বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখেছি অনেক শিক্ষক মেয়েদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় নাম্বার বেশী দেবার টোপ দিয়ে। ওদের আদর্শ অনুসরণকারী ছাত্ররা আর কী করবে।দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্ষণের অভিযুক্ত অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্তাল আন্দোলনের পরও -শিক্ষক আছেন,পদোন্নতি পাচ্ছেন। কারণ ওরা কোন বিবেচনায় শিক্ষক হয়েছে তা সবার জানা।

সবশেষ,
জার্মান এক কোম্পানিতে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলাম। ওখানে ইন্টারভিউ এর পর চাকরি কনফার্ম করে ‌ম্যানেজার আপা একটা ব্যাগ গিফট করলেন। হলে এসে দেখলাম, একটা লাইটার, একটা কফি মগ ,আর একটা ছোট প্যাকেট– জার্মান আপা যখন ওটা ব্যাগে দিলেন আমি ভাবছিলাম চকলেট মনে হয়। পরে দেখি এটা একটা কনডম। এর মানে এখানে যৌনতাকে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। লজ্জার কিছু নেই। আমাদের দেশে ৮৫ পার্সেন্টের বেশী মুসলমান। ধর্মে অবাধ যৌনতা নিষিদ্ধ। মেয়েদের ছিলা কলা, তেঁতুল,রসগোল্লা নামে কাঠমোল্লারা ডাকে। অন্যধর্মের যাজকরাও কম যাননা। সবাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এদের হাত থেকে রেহাই পায়না বাচ্চা ছেলে থেকে শিশু কন্যারাও।
আসলে, ধর্ম চর্চা কিংবা ওয়াজ নসিহতে মেয়েদের নিয়ে রসের গল্প বন্ধ করে সামাজিক মূল্যবোধ, মেয়ে মানুষকে -মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য সামাজিক বিপ্লব দরকার।শুদ্ধাচার দরকার।সব ক্ষেত্রে। কারণ ইউরোপের বেশীর ভাগ দেশ বিশেষ করে জার্মানির ৫০ ভাগ মানুষের কোন ধর্ম নেই। তবে ধর্মহীনরা এখানে বকধার্মিকদের চেয়ে শতভাগ নিষ্ঠা আর সততা নিয়ে জীবন যাপন করে। এখানে মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষ বিপুল স্বাধীন । মনুষ্যত্বের মুক্তি কিংবা মনুষ্যত্বের উন্নতি ঘটলে ধর্মীয় জীবনে এমনিতেই শান্তি আসবে এজন্য উল্টা -পাল্টা ওয়াজ নসিহতের দরকার নেই।
দেশে অনেকেই মনে করে ইউরোপে মন যা চায় যা ইচ্ছে তাই করা যায়। আসলে তা নয়। এখানে খারাপ মানুষ নেই ধর্ষণ হয়না তেমনটা না। তবে অনেক কম। এখানে নারী পুরুষ আলাদা না সবাই মানুষ। আইনের শাসন আছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সবাই সবাই কে সম্মান করে। সুযোগ থাকলেও কারো সম্মতি ছাড়া জোর করে কিছু করা অন্যায় । এটা ওরা ছোট কাল থেকেই শিখেছে। আর আমাদের দেশে মাদ্রাসা,স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়,মিডিয়া হাউস,কর্পোরেট হাউস, সরকারি প্রতিষ্ঠান,পাহাড় ,সমতল ,গীর্জা ,মন্দির ,প্যাগোডা সবজায়গায় নারীর অসম্মান, মানুষের অসম্মান নিয়মিত ঘটনা। মানুষ মানুষ হয়ে উঠুক তাইলেই অনাচার কমবে।

মাহবুবুল আলম, ড্রেসডেন,জার্মানি।

ধর্ষণের মামলায় নুর-মামুনদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, ঢাবির সেই ছাত্রী অনশনে

0

ধর্ষণ মামলার আসামি হাসান আল মামুন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ সাধারণ ছাত্র পরিষদের ছয় নেতাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার আসামী ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু প্রকাশ্যে সভা সমাবেশে বক্তব্য করা এবং তাকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন ওই তরুণী। আসামিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী জানান, বর্তমানে ধর্ষণ একটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। আমিও একজন ভুক্তভোগী। এর আগে লালবাগ কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছি। কিন্তু ১৭ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি৷ লালবাগ কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর একাধিকবার আমি থানায় যোগাযোগ করেছি। থানা থেকে বলা হচ্ছে আমরা আসামিকে ধরার চেষ্টা করছি৷ আমরা ইতিমধ্যে নেটওয়ার্কের জাল বিছিয়ে দিয়েছি৷ আসামিরা টেকনলোজিতে এক্সপার্ট। তারা কোন ডিভাইস ইউস করছে না। তাই আমরা তাদের ধরতে পারছি না।

আসামিরা প্রভাবশালী তাই পুলিশ তাদের ধরছে না এমন দাবি করে ঢাবির এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার মামলা করার পর এমসি কলেজ, সাভারসহ দেশে বেশ কিছু ঘটনায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে। আমার মামলা করার আজকে ১৭ দিন। ১৭ দিন পরেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমার মনে হচ্ছে পুলিশ কারও দ্বারা প্রভাবিত।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সেখানে অবস্থান নেন কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জেরিন তাসনি পূর্ণি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারজানা নিপা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশিসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেত্রীরা।

ঢাবি ছাত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ডাকসুর সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ভুক্তভোগী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। সে অনশন করছে তাই সাহস যোগানোর জন্য আমরা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়া তার পাশে থাকব।

এছাড়া রাতেই ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন নেতাকর্মীও একাত্মতা জানিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। পরে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই শিক্ষার্থীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় মামুনকে প্রধান আসামি করে ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজধানীর লালবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা করেন ওই ছাত্রী। এই মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরকে ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর একই আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং হেয় প্রতিপন্ন করতে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ কোতোয়ালি থানায় অরেকটি মামলা করেন ওই ছাত্রী।

উভয় মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, একই সংগঠনের অব্যাহতিপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি নাজমুল হুদা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি।

শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি

0

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে রাজধানীর শাহবাগের মহাসমাবেশ থেকে।
বামধারার ছাত্রসংগঠনগুলোর উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশ হয়। ‘ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ থেকে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বন্ধে নয় দফা দাবি উত্থাপন করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

দাবিগুলো হলো-

১. সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ‘ব্যর্থ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

২. পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩. হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।

৫. তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।

৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।

৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

এ সময় প্রিন্স বলেন, আমরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করব সারা দেশে। ধর্ষণকে উচ্ছেদ করে ছাড়ব এ দেশ থেকে।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ অভিমুখে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ করবেন। দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিৎ করার দাবিতে ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেবে।
এছাড়া ১১ অক্টোবর ধর্ষণবিরোধী আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ১২ অক্টোবর সাংস্কৃতিক সমাবেশ, ১৩ অক্টোবর চলচ্চিত্র উৎসব, ১৪ অক্টোবর নারী সমাবেশ ও ১৫ অক্টোবর রাজধানীতে ধর্ষণবিরোধী সাইকেল র‍্যালির কর্মসূচি ঘোষণা করেন অনিক। পূর্বঘোষিত এই মহাসমাবেশের শুরুতে প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশনা করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।

নতুন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন

0

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন দেশের ১৬তম এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীকে ৮ অক্টোবর এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেন। খবর বাসস।
আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো: গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিনকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করিলেন।” এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
১৯৮৯ সালের ২৮ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এ এম আমিন উদ্দিন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি আমিন উদ্দিন এক সময় ডেপুটি এটর্নি জেনারেল পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ এম আমিন উদ্দিন ২০০৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত পরপর দুইবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯-২০২০ ইং সেশন এবং ২০২০-২০২১ সেশনেও পর পর দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তিনি বর্তমানে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি।
২০০৯ সাল থেকে রাষ্ট্রের ১৫ তম এটর্নি জেনারেলের হিসেবে দ্বায়িত্বপালনকারী মাহবুবে আলম (৭১) গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুজনিত কারণে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদটি শুন্য হয়।
নব নিযুক্ত এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন পেশাগত জীবনে এক সময় আইনজীবী হিসেবে সদ্য প্রয়াত এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের চেম্বারে জুনিয়র সহকর্মী হিসেবেও সম্পৃক্ত ছিলেন। সিনিয়রের শুন্য স্থানে দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তথা ১৬ তম এটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি নিয়োগ পেলেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সুনামের সঙ্গে আইনপেশা পরিচালনা করছেন এ এম আমিন উদ্দিন। এ এম আমিন উদ্দিন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনেক ঊর্ধ্বে: বিক্রম দোরাইস্বামী

0

পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক নিবিড় হলেও তারও পরিচর্যা দরকার বলে মনে করেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। আর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেই কাজটিই করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র উপস্থাপনের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে ইন্ডিয়া হাউজে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আসেন বিক্রম দোরাইস্বামী।
বাংলাদেশ-ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক তুলে ধরে নতুন হাইকমিশনার বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় ভারতের অত্যন্ত বিশেষ অংশীদার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
“আমাদের বন্ধুত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনেক ঊর্ধ্বে, কারণ এই বন্ধুত্ব রচিত হয়েছে অভিন্ন ত্যাগ, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি এবং আত্মীয়তার অনন্য সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে। আমি একটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই যে, বাংলাদেশকে ভারত সর্বোচ্চ স্তরের গুরুত্ব দেয় এবং এটি কখনোই হ্রাস পাবে না।”
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ মাত্রায় রয়েছে বলে দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
নিবিড় সেই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দোরাইস্বামী বলেন, “নিকটতম সম্পর্কেরও পরিচর্যা করা প্রয়োজন। আমার সরকার আমাকে ঠিক তাই করার নির্দেশ দিয়েছে।
“আমি এবং আমার সহকর্মীরা এই অংশীদারিত্বকে সর্বস্তরে প্রচার করতে কোনো সুযোগই ছাড়ব না। আমরা উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা মাধ্যমে এই অংশীদারিত্বের পক্ষে সর্বোচ্চ সমর্থন জানাব। এই নির্দেশ আমাদের সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে যে, বাংলাদেশের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
মতবিনিময় সভায় সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দোরাইস্বামী বলেন, “এটাকে (সীমান্ত হত্যা) পুরোপুরি বন্ধ করা আমাদের লক্ষ্য। যেভাবে আমাদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের মহাপরিচালক সম্প্রতি বলেছেন সর্বোচ্চ রকম সহনশীলতা দেখানো এবং সর্বোচ্চ মাত্রায় মারণঘাতি নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।

“মূলত এটা একটি আইনশৃঙ্খলা সমস্যা এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসাবে এটাকে দেখতে হবে। এটা নিয়ে আপনাদের মনোভাব কী আমি বুঝতে পারি।”
ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করে হাই কমিশনার দোরাইস্বামী বলেন, “এটার কোনো সহজ সমাধান নেই, তবে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে সমাধান আমাদের একসঙ্গে খুঁজতে হবে। আমি আপনাদের এখন এ বিষয়ে এ বেশি কিছু বলতে পারছি না, তবে সর্বোচ্চ রকম প্রচেষ্টা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “কানেকটিভিটি জোরদার করতে যৌথ প্রকল্পগুলোর সম্পন্ন হওয়া দেখতে চাই আমি, যাতে কানেকটিভিটির অংশদারিত্বে আমাদেরকে যে সেবা দেওয়া হচ্ছে তার ফিরতি পাওনা যাতে বাংলাদেশের মানুষ পেতে পারে।”
করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারে থাকবে জানিয়ে দোরাইস্বামী বলেন, “আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানির উৎপাদক হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ভ্যাকসিন নিয়েও কাজ করছি আমরা।
”আমরা যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব ভ্যাকসিন পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশদারিত্বে যাব। শিগগির ভারতীয় ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে যাবে, তখন বাংলাদেশ সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবে এখানেও পরীক্ষায় যাব।”
যৌথভাবে টিকা উৎপাদনে যেতে হলে এক্ষেত্রে ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে কেবল বাংলাদেশের সক্ষমতা আছে বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের অংশীদারিত্বের উৎস পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ঐতিহাসিক জনযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি জাতিকে রূপদানকারী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের চেতনার প্রতি আমরা গভীরভাবে প্রশংসা ও সম্মান জানাই। আপনারা অসংখ্য মৃত্যু ও মা-বোনেদের প্রতি বর্বর নির্যাতন উপেক্ষা করে অনন্য সাহস এবং বীরত্বের সাথে নিজেদের উপর হওয়া অত্যাচার ও কঠোরতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য বাংলাদেশ আজ সমানভাবে সম্মানিত। একইভাবে, দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম গতিতে আপনাদের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আমরা অভিনন্দন জানাই। সেই সাথে আমরা আপনাদের বিশ্বখ্যাত আন্তরিকতা এবং আতিথেয়তার চেতনার প্রশংসা করি।
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশঃ


এর আগে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। রাষ্ট্রপতি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী নয়, বিশ্বস্ত বন্ধুও। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। এ সম্পর্ক কূটনৈতিক পরিমন্ডল ছাড়িয়ে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাবনাময় প্রতিটি ক্ষেত্রকে কাজে লাগাতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন।
এ সময় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বলেন, ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়।তিনি জানান, ভারতে যে করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদিত হবে সেটা বাংলাদেশ সময়মত পাবে। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।