ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 168

মার্কিন সাংবাদিক লিফশুলজের চাঞ্চল্যকর তথ্যঃ জিয়াউর রহমান ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত, বঙ্গবন্ধু হত্যায় তার সমর্থন ছিল, বিনাবিচারে ৩ হাজার সেনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন

0

 

মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ মনে করেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান সম্পৃক্ত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের সমর্থন ছাড়া এ হত্যাকান্ড হয় নি। এই সাংবাদিক তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জিয়াউর রহমানকে ‘সাইকোপ্যাথ’ বা মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসেবে আখ্যা দেন। জানান জিয়াউর রহমান, তখন বাংলাদেশের যে সব সেনা সদস্য ১৫ আগস্টের ঘটনার জন্য জিয়াকে দায়ী করতেন তাদেরকে আটক করেন। ওই সময় প্রায় ৩ হাজার সেনা সদস্যের বিনাবিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
যে অল্প কয়জন বিদেশি সাংবাদিক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় রিপোর্ট করেছিলেন, লরেন্স লিফশুলজ ছিলেন তাদের অন্যতম। ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অজানা অধ্যায়ের নতুন দরোজা উন্মোচন করেছেন তিনি।

২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফর্মেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ১৯৭৫: সেটিং দ্য ক্লক ব্যাক’ শীর্ষক ওয়েবিনার-এ অংশ নিয়ে লিফশুলজ এই কথা বলেন৷

তিনি ১৯৭৫ সালে ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউয়ের দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি ছিলেন৷ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন তিনি৷ জিয়ার শাসনামলে সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান করার সময় তাকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়৷

ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনার-এ লিফশুলজ ছাড়াও অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার সলিল ত্রিপাঠি৷

লিফশুলজ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়, এটা ন্যায় বিচারের প্রশ্ন৷ বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র উদসীনতা দেখায়৷ যেটা সন্দেহের সৃষ্টি করে৷ পরে অনেক ডকুমেন্ট পাওয়া যায়৷ যারা সামনে থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের আমরা দেখেছি৷ কিন্তু যারা পিছনে ছিলেন তারা কারা৷ জিয়াউর রহমানের সমর্থন ছাড়া তারা মুভ করেননি৷ আর জিয়া মার্কিন সমর্থন ছাড়া কিছু করেননি৷ তাই আমার মত হলো, বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে আরো তদন্ত দরকার৷ এই সংযোগগুলোর তদন্ত দরকার৷ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মানুষের এটা নিয়ে কাজ করা উচিত, তাদের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে৷’’

আলোচনায় লিফশুলজ বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন৷ সেখানে মেজর জিয়াউর রহমান ও তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যোগাযোগের বিষয়ে তিনি কথা বলেন৷

বঙ্গবন্ধু হত্যার এক সপ্তাহ আগে মার্কিন দূতাবাসের এক সিনিয়র অফিসারের সাথে দেখা করেছিলেন জিয়াউর রহমান৷ ঢাকায় সিআইএর স্টেশন প্রধান ফিলিপ চেরির সঙ্গেও জিয়া একান্ত বৈঠক করেন৷

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা ছয়মাস আগে হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয় এক সপ্তাহ আগে৷ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় জিয়া অন্য সৈন্যদের ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে যেতে দেননি৷ সেনবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে তিনি হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা নেননি ৷ বরং এই ক্যু-র বিরুদ্ধে যাতে কেউ অবস্থান না নেয় তা তিনি নিশ্চিত করেন৷” লিফশুলজ আরো বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার এক সপ্তাহ আগে জিয়া ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় চেরির সঙ্গে বৈঠক করেন৷ জিয়া ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনার কেন্দ্রে৷’’
আগস্টের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং তৎপরবর্তী সংঘাতময় নভেম্বর মাসের ঘটনাবলি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এই মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। ১৯৭৪ ও ৭৫ সাল জুড়ে তার কর্মক্ষেত্র ছিল দক্ষিণ এশিয়া। ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ-এর সাবেক এই দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধি এবং গার্ডিয়ানের নিয়মিত লেখক বারবার ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অজানা অধ্যায়ের নতুন দরোজা উন্মোচন করেছেন।

লরেন্স লিফশুলজ বলেন, ১৯৭৫ সালে ভারত সরকারসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু কমিউনিস্ট পার্টি অভিযোগ করে যে মার্কিন সরকারের ইন্ধনে ১৫ আগস্টের ক্যু হয়েছে। মুজিব হত্যাকাণ্ডে বিশ্বের যে সব দেশ সংশ্লিষ্ট তাদের যুক্তরাষ্ট্রের জড়িতে থাকার অভিযোগ আনা হয়।

তখন আমি ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ ম্যাগাজিনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি। ওই ক্যু-এর ঘটনা সংশ্লিষ্ট অনেক অভিযোগই আমার কাছে আসছিল। তবে এই ঘটনায় মার্কিন সংশ্লিষ্টতা তখন আমার কাছে বিশ্বাস হচ্ছিল না । আমার মনে হচ্ছিল এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির থেকে অনেক দূরের একটি বিষয়।

১৯৭৪ সালে, ফ্র্যাঙ্ক চার্চের নেতৃত্বে চার্চ কমিটি ক্যু এবং অন্যান্য হস্তক্ষেপের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার ইতিহাস নিয়ে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করে। তখন সংস্থাটির কাজ এবং জবাবদিহিতার জন্য গুরুতর সংস্কার দাবিও করা হয়েছিল।

আমি ১৯৭৫ সালে ওই প্রতিবেদনে দেখি। সিআইএ নিয়ে ওই প্রতিবেদন এবং মার্কিন কংগ্রেসে এ নিয়ে তদন্ত অনুযায়ী আমার কাছে তখন এটি অসম্ভব মনে হয়েছিলো। ১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি আমি ঢাকায় আসি। তখন আমার এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে আমার কথা হয়। তবে ওই ব্যক্তির নাম আমি কখনো প্রকাশ করিনি। তিনি আমাকে জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার উত্তেজনা চলছিল। তবুও শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডে তাকে বিচলিত দেখা যায়।

সে আমাকে জানায়, পরিকল্পতিভাবে আগস্টে ক্যু করা হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন তিনি আমাকে বলেন যে তোমার জানতে হবে ১৯৭১ সালে খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে কলকাতায় কী হয়েছিলো।
সেই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমাকে জানায়, ১৯৭১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি কিসিঞ্জার তার বিশেষ দূত জর্জ গ্রিফিনকে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন। তখন গ্রিফিন মোশতাক, মাহবুবুল আলম চাষি, তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এটি তখন বাংলাদেশের তৎকালীন তাজউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সরকার জানতো না। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মোশতাক যুক্তরাষ্ট্রে যায়। মোশতাক গ্রুপের পরিকল্পনা ছিল যে জাতিসংঘের মাধ্যমে যুকরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামিয়ে বাংলাদেশকে আবারো পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ করা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করা।

তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে তৎকালীন তাজউদ্দিন সরকার কিছু জানতে পারলে রাষ্ট্রদোহিতার দায়ে খন্দকার মোশতাককে গৃহবন্দী রাখা হতো। এই কথোপকথনের মধ্যে আমাকে বলা হয়, যারা ১৯৭১ সালে ওই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারাই শেখ মুজিবুরকে হত্যা করেছে এবং মোশতাককে সেনা অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। এর পর থেকেই আমার মূলত সন্দেহ বাড়তে থাকে।
জানতে পারি যে ক্যু-এর ঘটনার কিছুদিন আগে মার্কিন দূতাবাসের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেখানে সিআই’র পক্ষ থেকে তাকে গোপন বার্তা দেওয়া হয়। তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূৎ ডেভিস ইউজেন বোস্টার এই ক্যু-এর পরিকল্পনায় খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। তখন তিনি মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের এই পরিকল্পনা না প্রকাশ করার নির্দেশ দেন। ক্যু-এর ঘটনার ছয় মাস আগে ওই পরিকল্পনা হয়।
ক্যু-এর আগে বাংলাদেশের একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডিনারের আয়োজনে জিয়া সিআইএ সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। জিয়াউর রহমান এই ক্যু-এর অন্যতম নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তার প্রমাণ পাওয়া যায় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লার লেখাতেও। শফিউল্লাহ লেখেন, সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ হিসেবে জিয়া সেনাদের ৩২ নম্বরে যাওয়া ঠেকাতে পারতেন।
এছাড়া ক্যু নিয়ে জিয়ার কর্নেল ফারুক এবং কর্নেল রশিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জিয়া তাদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের পরিকল্পনায় সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করবে না।
১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন ।তখন বাংলাদেশের যে সব সেনা সদস্যরা ১৫ আগস্টের ঘটনার জন্য জিয়াকে দায়ী করতেন তাদেরকে আটক করা হয়। ওই সময় প্রায় ৩ হাজার সেনা সদস্যের বিনাবিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জেনারেল শাখওয়াত আলী এবং মঈন চৌধুরী তাদের বইতে এমনটি বলেছেন।

আমার মতে জিয়াউর রহমান মানসিক বিকারগ্রস্ত একজন ব্যক্তি ছিলেন। কারণ সে অরাজকতার মাধ্যমে অনেকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।
লরেন্স লিফশুলজ বলেন, জিয়ার সমর্থন ছাড়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব না। আবার যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়াও জিয়াউর রহমান এমন কাজ করতে পারেননি।
ভারতীয় ইতিহাসবিদ সলিল ত্রিপাঠি ১৯৮৮ সালে তরুণ প্রতিবেদক হিসেবে এসেছিলেন বাংলাদেশ। তখন তিনি শেখ মুজিবের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুকের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন। তিনি জানান যে বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় তার মাত্র ৯ বছর বয়স ছিলো।
সলিল বলেন, ১৯৮৬ সালে আমি যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষ করে এবং ভারতে ফিরি। পরে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেই এটা জানার জন্য যে কি হয়েছিল সেখানে। যে দেশটি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং উদারপন্থার পথচলা শুরু করেছিল, কেন সেখানে শেখ মুজিবকে হত্যা, জেল হত্যা, অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থানের দিকে পর এক নায়কতন্ত্র শাসন চালু হলো। আমি ভারতেও এই ঘটনা শুনেই বড় হয়েছি ।
সলিল জানান, ঢাকায় এসে তিনি শেখ মুজিবের আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুকের সাক্ষাতকারের সুযোগ পান। তখন কর্নেল ফারুক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং আমি তার বিষয়ে কৌতূহলী ছিলাম এবং যখন আমি তাকে জানাই যে আমি ঢাকায় তখন সে আমাকে বলে যে সাক্ষাৎকার দিতে প্রস্তুত। কর্নেল ফারুক আমাকে জানায়, সে লিবিয়া ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে সে তখন অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
তখন আমি বুঝতে পেরেছি যে গুরুত্বপূর্ণ কেউ তাকে সমর্থন দিচ্ছে। কারণ সে যা করেছে তারপর কারো সমর্থন ছাড়া কেউ এমন আচরণ করতে পারেন না। তার বাড়িতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। আমি এখনো তারা গলার সেই স্বর স্পষ্টভাবে স্মরণ করতে পারি।
আমি যখন তাকে প্রশ্ন করি, কেন রাসেলকে হত্যা করা হলো। ১০ বছরের একটি শিশুকে হত্যা করা কি খুব প্রয়োজন ছিল?
তখন ফারুক আমাকে বলে যে তাকে এমনটি করতে হয়েছে কারণ সে বেঁচে থাকলে এই রাজবংশীয় ধারা চলতে থাকতো। আমরা এর শেষ করতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য আমরা সবকিছু করতে পারি। কারণ আমরাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখানে ভারতের শাসন চলতো।
কর্নেল ফারুক আরো বলেন, কিছু ব্যক্তি ছিলেন যারা রাজনীতির নাম করে কলকাতায় বসে ছিলেন। তারাও নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে। কিন্তু আসলে তারা কিছুই করেননি। আমরাই যুদ্ধ করেছিলাম। এমনভাবেই কর্নেল ফারুক নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন আমার সামনে।
শেখ মুজিব হত্যার পরে ইন্ডিমিনেটি অধ্যাদেশ জারি করে খুনিদের পুরস্কৃত করার সমালোচনা করেন সলিল ত্রিপাঠি। তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার হতেই হবে। সহিংসতার স্থান কোনো সমাজেই নেই।

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার ভারতীয় নাগরিক সলিল ত্রিপাঠি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক রহমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন৷ তিনি ১৯৮৬ সালের পর বাংলাদেশেও এসেছিলেন৷ তখন তিনি সাংবাদিকতা করতেন৷ সলিল ত্রিপাঠি বলেন, ‘‘ফারুক বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা অবলীলায় স্বীকার করেন৷ তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা আমি দেখিনি৷ ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল হত্যারও যুক্তি দেখায় সে৷’’

তখন ফারুক তার বাসায় গার্ড পরিবেষ্টিত থাকতেন, তার কোনো চিন্তা ছিলনা জানিয়ে ত্রিপাঠি বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে নিশ্চয়ই আরো উপরের সংযোগ ছিল৷ নয়তো ইনডেমনিটি করে তাদের বিচার বন্ধ করা হলো কেন? তাদের (হত্যাকারীদের) নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলো কেন?’’ ‘‘ফারুক আমাকে বেশ উৎসাহের সাথে সাক্ষাৎকার দেন,’’ বলেন তিনি৷

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ের মুকুটহীন সম্রাট৷ ১৫ আগস্ট ভোরে আমি আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ( সেকশন অফিসার, কনফিডেনশিয়াল) একটি টেলিফোন কল পাই৷ সে জানালো, স্যার, ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে৷ বঙ্গবন্ধু আর নেই৷ এরপর রেডিও অন করে শরিফুল হক ডালিমের জঘন্য ঘোষণা শুনলাম৷ সেনাবাহিনী খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করেছে৷ মোশতাককে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছে৷’’

১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের খলনায়ক জিয়া, আর ২১ আগস্টের হত্যাকারী খালেদা ও তারেক; অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর

0

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান যেমন খুনিদের ‘পুরস্কৃত’ করেছিলেন, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে ‘একই ঘটনা ঘটিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তার এ মন্তব্য আসে।
খবর বাসস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া যেমন জাতির পিতা হত্যার সঙ্গে জড়িত, জাতীয় চার নেতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত, একের পর এক ক্যু করে সেনাসদস্যদের হত্যা করেছে, মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করেছে… খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ঠিক একই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

“জিয়াউর রহমান যেমন সেই আবদুল আলিম থেকে শুরু করে মাওলানা মান্নান থেকে শুরু করে শাহ আজিজ থেকে শুরু করে তাদেরকে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা বানিয়েছিল, একইভাবে আমরা দেখেছি খালেদা জিয়া সেই নিজামী থেকে শুরু করে যারা যারা একেবারে সরাসরি বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরকে মন্ত্রী বানিয়েছিল, খুনি রশীদ এবং হুদা- তাদের ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে এনে বিরোধী দলের নেতার আসনে বসায়।”

স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার পরিবারের ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা নারীও সেদিন ঘাতকের গুলি থেকে রেহাই পায়নি।

সেই ঘটনা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “৪৫ বছর পার হয়ে গেছে। এটা ভাবতে আমাদের অবাক লাগে। যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিলেন, মুক্তি এনে দিলেন, আত্মপরিচয়ের সুযোগ দিলেন, একটা জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা এনে দিলেন, তাকেই হত্যা করা হয়েছিল এ দেশের মাটিতে।

“বারবার মৃত্যুর মুখে তিনি পড়েছেন। কিন্তু কখনো কোনো মতেই জাতির যে আকাঙ্ক্ষা, জাতির জন্য তিনি যে কিছু করতে চেয়েছেন, এই বাঙালি জাতির জন্য তিনি জীবনকে যে উৎসর্গ করেছিলেন, তার আদর্শ সামনে নিয়েই তিনি এগিয়ে গেছেন। কখনো পেছন ফিরে তাকাননি, মৃত্যুকে পরোয়া করেননি। জেল-জুলুম অত্যাচার কোনো কিছুর তিনি পরোয়া করেননি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই আদর্শ ও লক্ষ্যকে ধ্বংস করাই ছিল জাতির পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্য।

“মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছে বাঙালিরা, এটা তারা মানতে পারেনি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানের পাশে ছিল, তারাও বাংলাদেশের অভ্যুদয় বা বাংলাদেশের বিজয়কে মানতে পারেনি। কাজেই ষড়যন্ত্র চলছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, যে আমাদের দেশের ভেতরেই অনেকে বোধহয় সেটা বুঝতে পারেননি।”

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং প্রতিবেশী দেশটির জনগণ বাংলাদেশের পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

“তিনি (ইন্দিরা গান্ধী) বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য সারা বিশ্বে যেভাবে প্রচার করেছিলেন এবং আমাদের বন্ধুপ্রতিম যেসব দেশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়েছিল, তারাও সেই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মুক্তি চায় এবং এমনকি যারা আমাদের বৈরিতা করেছিল, সেসব দেশের মানুষও কিন্তু আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দেয় এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চায়। বিশ্বব্যাপী এই যে একটা জনমত সৃষ্টি হয়, সবকিছু মিলিয়ে কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।”

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপরিচালনা শুরু করার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেই সময় প্রয়োজন ছিল এদেশের সকল মানুষের একাত্ম হয়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতা করা।

“কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে তাকে হত্যা করার এই প্রক্রিয়াটা শুরু করার জন্য দেখা গেছে যে আমাদের দলের অভ্যন্তরে যেমন নানা ধরনের খেলা শুরু হয়, কিছু লোক সব সময়ই যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ও দালালি করতে সচেষ্টা ছিল, আর পাশাপাশি… কিছু লোক নানাভাবে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।

“যারা সেই সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের পর পর সমালোচনা করেছে বা লিখেছে… হ্যাঁ সমালোচনার প্রয়োজন আছে, কিন্তু এমনভাবে তাদের লেখা এবং তাদের কার্যকলাপ ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে সারা বাংলাদেশে অপবাদ ছড়ানো হয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যটাই ছিল যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে জনপ্রিয়তা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে, যে গ্রহণযোগ্যতা, সেটা নস্যাৎ করা। সেটা যখন একান্তভাবে তারা পারেইনি, তারপরই কিন্তু তারা এই হত্যার পথ বেছে নেয়।”

বিবিসিকে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুক ও কর্নেল রশীদের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেখানে তারা এই কথাই বলেছিল যে দীর্ঘদিন তারা চেষ্টা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে সরাতে। কিন্তু জনগণের মন থেকে মুছতে পারে নাই। তাই এই ধরনের হত্যাকাণ্ড তারা ঘটিয়েছে।

“এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান যে জড়িত এটা কর্নেল ফারুক, রশীদ তারা নিজেরাই বলেছে, জিয়া সব সময় তাদের সাথে ছিল। খন্দকার মোশতাক অবৈধভাবে যখন ক্ষমতা দখল করল, নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিল এই খুনিদের সাথে নিয়েই… এই খুনিরাই অস্ত্র হাতে তার পাশে, অর্থাৎ খুনি রশীদ, ফারুক, ডালিমসহ এই গং- তারাই তাদের সাথে ছিল। জিয়াউর রহমানকে তখন সেনাপ্রধান করা হল।”

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করে মোশতাক এটাই প্রমাণ করে দিল যে তারা একই সাথে ছিল এবং একই সাথে চক্রান্তে তারা সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু মোশতাক বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারে নাই, পারে নাই এটা খুব স্বাভাবিক।

“আমরা ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই, সিরাজউদ্দৌলার সাথে বেঈমানি করেছিল মীরজাফর। ব্রিটিশ বেনিয়ার দল তাকে ব্যবহার করেছিল। কিন্তু সেও কিন্তু তিন মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। দুই মাসের কিছু সময় পরে তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল। ঠিক মোশতাকও তাই। যাদের প্ররোচনায় সে বেঈমানিটা, মুনাফেকিটা করেছিল, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডে মদদ দিয়েছিল, তারা কিন্তু তাকে ক্ষমতায় রাখে নাই। ক্ষমতায়.. আসল যিনি নায়ক, খলনায়ক, সেই চলে আসলো সামনে। সে হল জিয়াউর রহমান।”

খন্দকার মোশতাকের পর জিয়াউর রহমান একাধারে রাষ্ট্রপতি এবং সেনাপ্রধান হন- সেই ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা প্রশ্ন রাখেন- “এ থেকে কী প্রমানিত হয়?”

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসায় পর দেশের সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে, সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের হত্যা করে, ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা ঘটে, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। যারা পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে, ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত, নারী নির্যাতন যারা করেছে, তাদের মন্ত্রী, উপদেষ্টা বানায়।”

সে সময় অনেকে কেন জিয়াউর রহমানকে সমর্থন দিয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর ‘কোনোদিন পাননি’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করে, তারা কি এটা পারে? আর এখনো দেখা যায় যে কিছু কিছু লোক, এরা সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করে। এই দেশে যত রক্তপাত, যত হত্যাকাণ্ড, যা কিছু- সবই তো সেই থেকে শুরু। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই গভীর চক্রান্ত কাজ করছিল।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা এবং এদেশের মানুষের হৃদয়ে তার প্রতি ভালবাসার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওই কয়েকটা খুনি, বেঈমান বা মুনাফেক ছাড়া অগণিত জনগণ জাতির পিতার জন্য কাঁদে। নামটা তারা মুছে ফেলার এত চেষ্টা করার পরও…। ২১ বছর চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেই নাম মুছতে পারে নাই। যতই চেষ্টা চালাক, আজকে শুধু বাংলাদেশে না, বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আজকে বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার নাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম আজকে উজ্জ্বল।”

সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই সভায় প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন সভায়।

হাসপাতালে অভিযানের বিষয়ে রিটের শুনানি শেষ, আদেশ মঙ্গলবার

0

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে পারবে না বলে জারিকৃত নির্দেশনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের আদেশ ২৫ আগস্ট দেবে হাইকোর্ট।

রবিবার (২৩ আগস্ট) রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক-উল-হাকিম ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ১৭ আগস্ট একজন আইনজীবী জনস্বার্থে এই রিটটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত।

রিট আবেদনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া দেশের কোনও সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে পারবে না বলে জারিকৃত নির্দেশনাটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তার নির্দেশনা এবং মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্তের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে হাসপাতালে অভিযানের বিষয়ে যে টার্স্ক ফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কারা আছেন তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া দেশের কোনও সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে পারবে না বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করে।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে এসব হাসপাতালে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।

‘গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল খালেদা ও তারেক রহমান’ -প্রধানমন্ত্রী

0

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট তাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তখনকার ক্ষমতাসীনরা ‘সরাসরি জড়িত ছিল’ বলেই সেদিন সংসদে ওই ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগকে কথা বলতেও ‘বাধা’ দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বর্বর সেই হামলায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সে সময় ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা। আর সেই সময়ের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত।

সেই হামলায় প্রাণ হারান আওয়ামী লীগের তখনকার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন, আহত হয়েছিলেন কয়েকশ মানুষ। সেদিন বেঁচে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে বর্বর সেই হামলার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলার পর তখনকার ক্ষমতাসীনরা কীভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছিল, সে কথাও বলেন।

“একটা দেশে এই রকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে, আমি বিরোধী দলের নেতা, আমার উপর এমন একটা গ্রেনেড হামলা… বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মত একটি দল, যে দল দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, সেই দলের একটা সভায় এমন একটা গ্রেনেড হামলা, আর পার্লামেন্টে যিনি সংসদ নেতা, লিডার অফ দ্য হাউস, প্রধানমন্ত্রী, সে দাঁড়িয়ে বলে দিল- ‘উনাকে আবার কে মারবে’।

“এখন তো বলতে হয় যে আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন, সেই জন্য আর পারছেন না। সেইদিন এই রকম তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে আমাদেরকে কোনো কথা বলতে দেয় নাই এই হামলা সম্পর্কে। অথচ আমাদের নেতাকর্মীরা, পার্লামেন্ট মেম্বাররা (তখন) আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।”

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমাদের সেই অধিকারটুকু পার্লামেন্টে ছিল না যে এর উপর আমরা আলাপ আলোচনা করতে পারি। আমাদের কাউকে মাইক দেয়নি, আলোচনা করতে দেয়নি। এর থেকে কী প্রমাণ হয়? তারা যদি সরাসরি জড়িত না থাকবে, তাহলে কি এই রকমভাবে বাধা দিত?”

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বিকালে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি শোভাযাত্রায় যোগ দিতে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। রাস্তায় ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় গ্রেনেড হামলা।

শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই যে সেদিনের ওই হামলা হয়েছিল, পরে তা তদন্তেও বেরিয়ে আসে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

বিএনপি-জামাত জোট সরকার পুরো দেশটাকেই ‘সন্ত্রাসের রাজত্বে’ পরিণত করেছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি না, আল্লাহ বোধহয় এ কারণেই বাঁচিয়ে রেখেছেন… বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু যাতে করতে পারি, সেই জন্যই বাঁচিয়ে রেখেছেন। নইলে এই রকম অবস্থা থেকে বেঁচে আসা, এটা অত্যন্ত কষ্টকর।”

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপসহ দলের কেন্দ্রীয়, মহানগরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: চট্টগ্রামে ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে ডিবি

0

 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির অভিযোগ মামলা হিসেবে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের আদালত।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আবু ছালেহ মো. নোমান এ আদেশ দেন বলে বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিথুন বিশ্বাস জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তিনি বলেন, আদালত মামলার তদন্ত করে ১৯ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দিতে ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে দুপুরে আদালতে অভিযোগটি করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পশ্চিম ধলই গ্রামের মানিক দের ছেলে বিপ্লব দে।

বাদীর আইনজীবী মিথুন বিশ্বাস বলেন, ঢাকায় ভাসানী পরিষদের এক সভায় রামায়ন ও মহাভারত সম্পর্কে যে মন্তব্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী করেছেন তাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানি হয়েছে।

“দণ্ডবিধির ২৯৫ (ক) ও ৫০০ ধারায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা সমন জারির আবেদন করেছি। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে বিকেলে আদেশের জন্য রেখেছেন।”

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৯ অগাস্ট বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে ‘ভাসানী অনুসারী পরিষদ’ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় ‘ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ সনাতন ধর্ম ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে মন্তব্য করেন ডা. জাফরুল্লাহ।

এতে বলা হয়, ‘হিন্দু ধর্মের গ্রন্থ মহাভারত, রামায়ন দুটোর মধ্যেই প্ররোচনা ও মিথ্যাচারের গল্পকাহিনী রয়েছে’ বলে জাফরুল্লাহ মন্তব্য করেন, যা দৈনিক পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

রামায়ন ও মহাভারত সনাতন ধর্মীয় দর্শনের ‘ভিত্তি’ উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ সম্পর্কে জনসম্মুখে দেয়া বক্তব্য মনগড়া, আপত্তিকর, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ও বেআইনি।

ওই বক্তব্যে ‘কুৎসা ও হিংসাত্মক নিন্দাবাদ’ প্রচারের মাধ্যমে সনাতন ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, “কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কুমানসে প্রকাশ্যে এরূপ ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন।”

এতে সনাতনী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করায় অভিযোগকারী ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত এবং সম্প্রদায়ের মানহানিতে নিজের মানহানি অনুভব করে অভিযোগটি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার চার মামলার কার্যক্রম সুপ্রিমকোর্টে স্থগিত

0

 

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দারুস সালাম ও যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা নাশকতার চার মামলার কার্যক্রম স্থগিতই রেখেছে আপিল বিভাগ।
এ চার মামলার অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশ বাতিল প্রশ্নে হাই কোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদেন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বদরুদ্দোজা বাদল।

আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন পরে সাংবাদিকদের বলেন, “২০১৪ সালের সহিংসতার ঘটনায় ২০১৫ সালে দারুসসালাম ও যাত্রাবাড়ী থানায় যখন এই মামলাগুলো হয়। তখন এফআইআরে তার নাম ছিল না। কারণ ঘটনার সময় তিনি গুলশানের কার্যালয়ে অন্তরীণ ছিলেন।

“কিন্তু অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় বেগম খালেদা জিয়ার নাম নাম যুক্ত করা হয়। ফলে আইন অনুযায়ী এই মামলাগুলো চলে না।”

২০১৭ সালে মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। হাই কোর্ট তখন মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে মামলা বাতিল প্রশ্নে রুল জারি করে।

এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যে আবেদন করেছিল, সোমবার তার নিষ্পত্তি করে দিয়ে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

এই চার মামলাসহ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১১ মামলার শুনানির জন্য ৬ অক্টোবর তারিখ রয়েছে ঢাকার জজ আদালতে।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ সোমবার এই তারিখ ঠিক করে দেন বলে এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল জানান।

এই ১১ মামলার মধ্যে দারুস সালাম থানার নাশকতার আট মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা রয়েছে। হাই কোর্টের আদেশে সবগুলো মামলার কার্যক্রমই স্থগিত রয়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এসব মামলার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বাকি দশটি মামলা রয়েছে অভিযোগ গঠনের শুননির অপেক্ষায়।

করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর আবারও আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সে কারণে নিয়ম অনুযায়ী অন্য সব মামলার মত খালেদার মামলাগুলোর শুননির জন্যও তারিখ রেখেছে জজ আদালত।

নির্ধারিত দিনে এসব মামলার নথি আদালতে তোলা হবে। তখন স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানানো হলে আদালত পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে সে পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখবে।

২০১৫ সালে বিএনপিসহ ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বাসে আগুন, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি ও দারুস সালাম থানায় আটটি মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

আর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয় ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয় সেখানে।

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হয় বিএনপি প্রধানকে। সাজা স্থগিতাদেশের সেই মেয়াদ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।

তার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে তিন ডজন মামলা রয়েছে, যার বেশিরভাগ এক যুগ আগে জরুরি অবস্থার সময় দায়ের করা।

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

0

 

বিনম্র শ্রদ্ধায় শোক ও ভালোবাসায় ঢাকাসহ সারাদেশে আজ পালিত হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। খবর বাসস।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকে এ দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে মহান আল্লাহর দরবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত তাঁর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

জাতীয় শোকদিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষদের একটাই ছিল চাওয়া, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সাজাপ্রাপ্ত পলাতক খুনিদের দ্রুত ফিরিয়ে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ত্যাগ করার পরপরই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া।
এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ(আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
এদিকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতার ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার পক্ষে সামরিক সচিব এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
দুপুরে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের।
গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, ইউএস-বাংলা গ্রুপের সিইও লে. জে. মো. মইনুল ইসলাম (অব:) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বক্তব্য রাখেন।
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন- বিএফডিসি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে যোগদান করেন।


বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক হোসনে আরা তালুকদার ও বিএফডিসি’র পরিচালক আইয়ুব আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের কুটনৈতিক মিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শোক দিবস পালন করে।
শোক দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর সমাধী ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
ভোরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।সকাল সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরীব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো।
এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
এছাড়াও আওয়ামী যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করে।

জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

0

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মোনাজাত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাসস।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার স্মরণে নির্মিত জাদুঘরের (পূর্বতন বাসভবন) সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রতিকৃতির বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের আর্কিটেক্ট ছিলেন জিয়াউর রহমান, ষড়যন্ত্র এখনও চলছে; ভার্চ্যুয়াল শোক সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পর চীফ অব আর্মি, তিনমাস পর ডেপুটি চীফ মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটর এবং ছয়মাস পর প্রেসিডেন্ট ও চীফ মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটর হন। তার এই অগ্রগতি দেখলেই বুঝা যায় তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের আর্কিটেক্ট।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল শোকসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আনিসুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চপেটাঘাত দেওয়ার জন্য শাহ আজিজুর রহমানের মত রাজাকারকে প্রধানমন্ত্রী ও শামসুল হককে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। রাজাকার আব্দুল আলিমকে মন্ত্রী করেছিলেন। এ সবের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা।

মন্ত্রী বলেন, নিজামী- মোজাহিদকে খালেদা জিয়া মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী না হলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হতো না। তিনি ২০০৯ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী না হলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শেষ হতো না। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতো না। বিগত একযুগে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা হতো না।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনকে আমরা ফাঁসি দিতে পেরেছি। বর্তমানে পাঁচজন পলাতক রয়েছেন। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থান জানা গেছে। বাকী তিনজনের অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। আমরা নিশ্চয়ই তাদেরকে ফিরিয়ে আনবো।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর সন্তান, যারা বঙ্গবন্ধুর কর্মী, যারা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশ সৃষ্টি করার জন্য সুফল লাভ করছি তারা কেউই বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনো চলছে। কারণ ষড়যন্ত্র করার মানুষ এখনো আছে। আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য তারা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় এই ভার্চ্যুয়াল শোকসভায় বাংলাদেশ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে সভায় বক্তব্য রাখেন।

সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা: নেপথ্য জানতে কমিশন চাই

0

 

পদ্মায় মেঘনায় অনেক জল গড়ায়। জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়। সময় লাগে প্রায় ১২ বছর। কিছু খুনির ফাঁসি হয়েছে। কিছু খুনি পালিয়ে আছে। কেউ কেউ এমন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের  বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি দায়মুক্ত হয়েছে। আমি বলি শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে  জাতি যে অপরাধ করেছে তা থেকে এই জাতির কোনোদিন মুক্তি নেই। 
,মুজিব হত্যার পাপের গ্লাণি এই জাতিকে বয়ে বেড়াতে হবে অনাদিকাল। তবুও, খুনের বিচারটাতো হয়েছে। কিন্তু সেই বিচারটাও কি পুরোপুরি হয়েছে? জবাব হচ্ছে: ‘না’। প্রকাশ্যে যাদের দেখি, সেই খুনিদের বিচার হয়েছে কিন্তু এই হত্যা ও যড়যন্ত্রের নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার আজও হয়নি। এমনকি প্রামাণিক সত্যি দিয়ে তাদের দায়ও নিরূপণ করা হয়নি।
এ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।  

দাবিটি অনেক দিনের। বিষয়টি জরুরি, ইতিহাসের স্বার্থেই।
কবিরা কি অন্তর্যামী হন? দেশের তখতো তখন লেবাস পাল্টে সেনা শাসক। জাতির জনকের খুনে রাঙ্গা বাংলায় ঘাতকদের উল্লাস। ১৬ জুলাই ১৯৭৮ এক তরুন ছড়াকার লিখেন: ’রক্তঝরার অভিষেকে বসেছিলে তখতো/তোমার মরণ হবেই বাবা/এমনি ধারার রক্তে’।

মাত্র তিন বছরের মাথায় ছড়ার ছন্দ সত্য প্রমাণিত হল। ১৯৮১ তে উল্টে গেল তখত। রক্তের অভিষেকে যিনি তখতে বসেছিলেন রক্তেই তার পরিসমাপ্তি। কিন্তু সুস্পষ্ঠভাবে জানা হয়না, এই ক্ষমতায় যাওয়ার রক্তের সিঁড়িটি তৈরির ক্ষেত্রে নেপথ্যে কার কি ভূমিকা ছিল।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মাননীয় বিচারপতিগণের পর্যবেক্ষণ: খেন্দকার মোশতাক আহমেদের কুমিল্লার দাউদকান্দির বাড়ি ও কুমিল্লার বার্ড থেকে ষড়যন্ত্রের শুরু। এরই ধারাবাহিকতায় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড। হত্যাকান্ডটি যথেষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের চেহারা স্পষ্ট হয়, সেনানিবাসের বালুর ঘাটে। পঁচাত্তরের মার্চে যে ষড়যন্ত্রের শুরু, তার চূড়ান্ত পরিণতি আগস্টে মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে।

রায়ে এক সন্মানিত বিচারপতি বলেছেন: ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই। বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকলেই হবে যে, কোনো ব্যক্তির কার্যক্রম, বিবৃতি ও লেখা অপরাধ সংগঠনে ষড়যন্ত্র করেছে। কোনো ব্যক্তি কথা বা কাজের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে পারে। সকল ষড়যন্ত্রকারীকে অভিন্ন উদ্দেশ্যে একমত হতে হবে। আরেক সন্মাণিত বিচারপতি বলেন, দন্ডবিধির ৩৪ ধারায় অভিন্ন ইচ্ছার উপাদান হলো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অপরাধমূলক কাজ করার জন্য কতিপয় ব্যক্তির মনের মিল। অভিমতে আরও বলা হয়,– আমরা কখনোই নিশ্চিতভাবে জানব না, দন্ডিতরা ছাড়া আর কে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। তাই এ মামলার সাক্ষ্য- প্রমাণ সতর্কতার সঙ্গে বিচার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এ সকল অভিমত অনুসরণ করেই কয়েকটি খন্ড চিত্রে খুঁজে দেখার চেষ্টা; দণ্ডিতরা ছাড়াও এই হত্যকাণ্ডের নেপথ্যে কারা, কিভাবে জড়িত। কাদের ’অভিন্ন ইচ্ছার মনের মিল’ অপরাধটি সংঘটনে ভূমিকা রেখেছে।

সাংবাদিক এ. এল. খতিব তার বিখ্যাত’ হু কিলড মুজিব’ বইয়ে লিখছেন: [১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সকালে] রেডিও স্টেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে মোশতাকের ভাষনের লিখিত কপি বিতরণ করা হয়। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ ভাষনের কপিটি পড়ে তার প্রশংসা করেন। জবাবে মোশতাক বলেন: ’আপনার কি মনে হয় এ ভাষনটি একদিনে লিখা হয়েছে’?

যে প্রশ্নের জবাব জানা জরুরি: কবে থেকে এই ভাষণের খসড়া প্রণয়ন শুরু হয়েছিল? কারা এই খসড়া প্রণয়ণের সাথে জড়িত? এই ভাষণের পরিকল্পনা আর ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা একই সূত্রে গাঁথা, সন্দেহ নেই।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে ধরা যাক। কি বলছেন তারা, কার বা কাদের নাম বলছেন, সেদিকে নজর দেয়া জরুরি।

লে. কর্নেল (অব.) আবদুল হামিদ (তখন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার ছিলেন): ১৪ আগস্ট বিকেলে জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল মামুন, কর্নেল খোরশেদ ও আমি টেনিস খেলছিলাম। তখন আমি চাকরিচ্যুত মেজর ডালিম ও মেজর নূরকে টেনিস কোর্টের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখি।.. জেনারেল সফিউল্লাহ আমাকে বলেন: এরা চাকরিচ্যুত জুনিয়র অফিসার, এরা কেন টেনিস খেলতে আসে? আমাকে তিনি বলেন, “এদের মানা করে দেবেন, এখানে যেন এরা না আসে।” খেলা শেষে আমি মেজর নূরকে জিজ্ঞাসা করলাম, “তোমরা কার অনুমতি নিয়ে এখানে খেলতে আসো?” জবাবে নূর জানায়, জেনারেল জিয়ার অনুমতি নিয়ে তারা এখানে খেলতে আসে।

প্রশ্ন: একজন ডেপুটি চীফ অব স্টাফ নিশ্চয়ই সেনানিবাসের সাধারণ নিয়ম জানেন। চাকুরীচ্যুতদের সাথে তার কিইবা সখ্য? কেন তিনি এদেরকে সেনানিবাসে খেলতে যাওয়ার অনুমতি দেন?

কর্নেল (অব.) শাফায়েত জামিল (৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার): [১৫ আগষ্ট সকালে] আমি দ্রুত ইউনিফরম পরে মেজর হাফেজসহ ব্রিগেড হেড কোয়ার্টারের দিকে রওনা দিই। পথে জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাসায় যাই। ঘটনা শোনার পর তিনি (জিয়া) বললেন, ‘সো হোয়াট, প্রেসিডেন্ট ইজ কিলড; ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার, আপ হোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন।’

জাতির জনকের হত্যার খবর শুনে, একজন নির্বিকার ডেপুটি চীফ অব স্টাফের সংবিধান রক্ষার এই নির্দেশনা কি এতটাই সহজভাবে নেয়ার বিষয়?

মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ (ডিজিএফআই ঢাকা ডিটাচমেন্টের ওসি ছিলেন): ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর একটি কর্মসূচি পাই। ডিজিএফআই থেকে আমাকে বঙ্গবন্ধুর পারসোনাল বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।— ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরি এলাকায় কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

কারা সেদিন এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল? তার সাথে ১৫ আগস্টের ঘটনার যোগসূত্রই বা কি?

জিয়াউদ্দিন বলছেন: আমি সেদিন [১৫ আগস্ট] সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যাই। দেখতে পাই রাষ্ট্রপতির রুমে বসে খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, জেনারেল সফিউল্লাহ, জেনারেল জিয়াউর রহমান, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, এয়ার এবং নেভি চিফদ্বয়, মেজর ডালিম, মেজর শাহরিয়ার, মেজর রশিদ, মেজর ফারুক, মেজর নূর, মেজর মহিউদ্দিন (ল্যান্সার), মেজর আজিজ পাশা আলোচনারত। এই সময় বিভিন্ন দেশের রেডিও মনিটরিং নিউজগুলি খন্দকার মোশতাকের কাছে এনে দেওয়া হয়। তিনি সবাইকে পড়ে শোনান যে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আধঘণ্টা হতে এক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান সরকার মোশতাক সরকারকে স্বীকৃতি জানিয়েছে। এ সংবাদ শোনার পর মেজর ফারুক, মেজর রশিদ ও মেজর ডালিমকে উল্লসিত ও গৌরবান্বিত মনে হচ্ছিল।
এই উল্লাসের সূত্র ধরেই দেশের বাইরের কুশীলবদের চেহারা উন্মোচন খুবই সহজ।

মেজর জেনারেল (অব.) সফিউল্লাহ (সেনাপ্রধান): ‘১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল আমাকে চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জিয়াউর রহমানকে টেলিফোনে আমার দায়িত্ব পাওয়া ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপের বিস্তারিত জানাই। জিয়া তখন বলেন, ‘ওকে সফিউল্লাহ। গুড বাই।’— ‘আমি যখনই কোনো অফিসারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে ব্যবস্থা নিয়েছি, তখন ওই সব অফিসার জেনারেল জিয়ার নিকট শেল্টার নিয়েছে।’

একজন চীফ অব স্টাফের সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে যাদেরকে ডেপুটি শেল্টার দিচ্ছেন, সেটিও কি কোন বড় চক্রান্তের আভাস নয়? চীফের কাছে শাস্তি পাওয়া কাউকে শেল্টার দেয়াতো সেনা শৃঙ্খলারও পরিপন্থী।

লে কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমানের জবানবন্দি: তৎকালীন ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান আমার বাসায় হেঁটে আসতেন। তিনি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেন এবং এক সময় বলছিলেন, “তোমরা ট্যাংকটুংক ছাড়া দেশের আর খবরাখবর রাখো কী?” আমি বলি, দেখতেছিতো দেশে অনেক উল্টা-সিধা কাজ চলছে। আলাপের মাধ্যমে আমাকে ইন্সটিগেট করে বলেছিলেন, “দেশ বাঁচানোর জন্য একটা কিছু করা দরকার।”— এ নিয়ে মেজর রশীদের সঙ্গে দেশের অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে আলাপ আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, একমাত্র শেখ মুজিবকে ক্যান্টনমেন্টে এনে তাঁকে দিয়ে পরিবর্তন করা ছাড়া দেশে পরিবর্তন ঘটানো যাবে না। এ ব্যাপারে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আলাপ করার সিদ্ধান্ত হয়। এপ্রিল মাসের এক রাত্রে তার বাসায় আমি যাই।– সাজেশন চাইলে তিনি [জিয়া] বলেন, “আমি কী করতে পারি, তোমরা করতে পারলে কিছু করো।”– রশীদ পরে জিয়া ও খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মেজর রশিদ, ডালিম ও খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে আলোচনা করে যে, বাকশালের পতন ঘটাতে হবে এবং প্রয়োজনে শেখ মুজিবকে হত্যা করতে হবে, নইলে দেশ ও জাতি বাঁচবে না। যৌক্তিকভাবে আমিও ধারণাকে সমর্থন করি। খন্দকার রশীদ জানায় যে, শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারলে জিয়াও আমাদের সমর্থন দেবে। ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাতে মিলিটারি ফার্মে নাইট ট্রেনিংয়ের সময় কো-অর্ডিনেশন মিটিং করে ১৫ আগস্ট ভোরে চূড়ান্ত অ্যাকশনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৫ আগস্ট ঘটনার পর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে চিফ অব আর্মি স্টাফ করার বিষয়ে সাইফুর রহমানের বাড়িতে মিটিং হয়। জিয়া, রশিদ ও সাইফুর রহমান মিটিং করেন। পরে জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হবে, সাইফুর ও রশীদ মন্ত্রী হবে, ওই উদ্দেশ্যে জিয়াউর রহমানকে চিফ অব আর্মি স্টাফ করা হয়।

এই সাক্ষ্য থেকে কি স্পষ্ট হয় না যে, মূল খুনিদের নেপথ্যে কে, কিভাবে কাজ করেছে? দেশ বাঁচানোর নামে একটা কিছু করা এবং তার কে কি পেতে চান সেই বাটোয়ারার চিত্রওতো স্পষ্ট।

লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদের স্ত্রী জোবায়দা রশীদের জবানবন্দি: মেজর ফারুক জেনারেল জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করত ছোটবেলা থেকেই। একদিন রাতে মেজর ফারুক জিয়ার বাসা থেকে ফিরে আমার স্বামীকে জানায় যে, সরকার পরিবর্তন হলে জিয়া প্রেসিডেন্ট হতে চায়। জিয়া নাকি বলে “ইফ ইট ইজ এ সাকসেস দেন কাম টু মি। ইফ ইট ইজ অ্যা ফেইলার দেন ডু নট ইনভলব মি। শেখ মুজিবকে জীবিত রেখে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়।” এর কদিন পর মেজর ফারুক আমার বাসায় এসে রশীদকে বলে যে, জিয়া বলেছে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খুঁজতে হবে যে দায়িত্ব নিতে পারবে। সে মোতাবেক রশীদ খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ১৫ আগস্ট বিকেলে বঙ্গভবনে জেনারেল জিয়াউর রহমান রশীদের কাছে ঘোরাঘুরি করছিল যাতে তাঁকে চিফ অব আর্মি করা হয়। ১৬ অথবা ১৭ তারিখ সাইফুর রহমানের গুলশানের বাসায় সাইফুর রহমান, আমার স্বামী ও জিয়ার উপস্থিতিতে জিয়াকে চিফ অব আর্মি স্টাফ করার বিষয় ঠিক হয়।

কুশীলবদের কার কি ভূমিকা সেটি বুঝতে আর কিছু কি বাকি থাকে?

তাহের উদ্দিন ঠাকুর (বঙ্গবন্ধুর সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালরে ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী): ১৯৭৫ সালের মে বা জুনের প্রথম দিকে ঢাকার গাজীপুর সালনা হাইস্কুলে ঢাকা বিভাগীয় স্বনির্ভর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয। সালনাতে মোশতাক সাহেব সেনা অফিসারদের জিজ্ঞাসা করেন, “তোমাদের আন্দোলনের অবস্থা কী?” জবাবে তারা জানায় যে, “বস সবকিছুর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরা তাঁর প্রতিনিধি।- ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট খন্দকার মোশতাক বলেন, এ সপ্তাহে ব্রিগেডিয়ার জিয়া দুইবার এসেছিলেন। সে এবং তার লোকেরা তাড়াতাড়ি কিছু একটা করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন।

জানা দরকার: ’বস’টি কে? একজন ব্রিগেডিয়ার কেন তার সাথে দুইবার দেখা করতে গিয়েছিলেন? তাড়াতাড়ি কিছু করার জন্য কার বা কাদের এত তাড়া?

সীমিত পরিসরে কয়েকটি খন্ডচিত্র বিশ্লেষনে যা’ বের হয়ে আসলো, তাতে পরিস্কার, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডটি একটি রাতের ঘটনামাত্র নয়, কয়েকজন ঘাতকের কাজমাত্র নয়। নেপথ্যে আছেন বহু কুশীলব। দেশে ও দেশের বাইরে। দেশি ও বিদেশি।

এতো গেল খুনিদের বিচারের সময়কার কথা। যদি দৃষ্টি দেই একটু আগে। ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে: ১৫ আগস্টের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের বিচার করা যাবেনা বলে খুনী মোশতাক একটি অধ্যাদেশ জারি করে ১৯৭৫ সালের ২৬ শে সেপ্টেম্বর। এটিই সেই কুখ্যাত’ ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ’। ১৯৭৯ সালের ৬ই এপ্রিল এই অধ্যাদেশটিকে সংবিধানের অংশ করে নেন সে সময়কার ’উর্দিখোলা’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এখানেই শেষ নয়: ১৯৯৬ সালের ১২ই নভেম্বর যখন জাতীয় সংসদে কুখ্যাত ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হলো তার বিরুদ্ধে রিট করেছিলো খুনী কর্ণেল সৈয়দ ফারুক রহমানের মা মাহমুদা রহমান ও আরেক খুনি কর্নেল শাহরিয়ার রশীদ খান। এই ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের সময় বিএনপি ও জামাত সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছিলো। জাতীয় পার্টির এমপি এন কে আলম চৌধুরী ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের আগে জনমত যাচাই করার প্রস্তাব করে।

দেখা যাচ্ছে: খুনি মোশতাকের সাথে হত্যা পূর্ববর্তী ষড়যন্ত্র, হত্যা পরবর্তী পদ-পদবী ও শেষে রাষ্ট্র ক্ষমতা প্রাপ্তি, খুনের বিচার না করাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তি, সংসদ থেকে ওয়াক আউট এবং বছরের পর বছর বিচার বিলম্বিত করার প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি বা দলের ভূমিকা সবই খুব স্পষ্ট।

১৯৮০ সনের ১লা আগস্ট সেই তরুন ছড়াকার আবার বলছেন: ‘পালাবে কোথায়? কি দিয়ে মোড়াবে, বসে থাকা অই তখতো/তোমার গায়ে, ছোপ ছোপ অই জনক খুনের রক্ত/থু থু দিই আজ, অভিশাপ দিই, তোর বংশের গায়ে/ জনম জনম ফাঁসি চাই তোর, জনক খুনের দায়ে’। এই থু থু বর্ষণ চলছেই।

১৫ আগস্টের ঘটনায় প্রত্যক্ষ কয়েকজন খুনির সাজা হয়েছো। কিন্তু দেশের ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ডের নেপথ্যের সব কুশীলবদের আনতে হবে প্রকাশ্যে। এমনকি তারা যদি মারাও গিয়ে থাকেন, ইতিহাসের সত্যির খাতিরে তাদের দায় ও অবস্থান নিরূপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন একটি জাতীয় কমিশন গঠন। আজ এটিই জরুরি দাবি।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক