ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 169

শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ, জাতির ইতিহাসে বেদনাবিধুর কালো দিন, জাতীয় শোক দিবস

0

 

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ ও মেয়ে বেবি, সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে মহান আল্লাহর দরবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার বনানীস্থ কবরস্থানে ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক ও ফুলের পাপড়ি অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পস্তবকক অর্পণ এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিশেষ দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনে কর্মসূচি পালনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সারা দেশের মসজিদসমূহে বাদ যোহর বিশেষে মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীগুলো ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/গ্রোথ সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার স্থাপন ও এলইডি বোর্ডের মাধ্যমে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এছাড়াও জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সকল মোবাইল ফোন গ্রাহককে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করবে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনর্মিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ।

সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। একই সময় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ও সুবিধা মতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অুষ্ঠিত হবে। দুপুরে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে।

সিনহা হত্যা মামলার আইও পরিবর্তন, ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে হেফাজতে

0

 

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। রেবের সহকারী পরিচালক সিনিয়র এএসপি খায়রুল ইসলামকে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে এই দায়িত্বে ছিলেন রেব -১৫ এর এএসপি জামিল বিল্লাহ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা কী কারণে পরিবর্তন করা হলো এ বিষয়ে রেবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্তের স্বার্থেই কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে।
নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম অত্যন্ত দক্ষ। এর আগে বেশকিছু স্পর্শকাতর মামলা অত্যন্ত সফলভাবে তিনি তদন্ত করেছেন। সিনহা হত্যা মামলাটিও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে এটার রহস্য উদঘাটন করতে পারবেন খায়রুল ইসলাম।
এদিকে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জনেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার কক্সবাজার কারাগার থেকে রেব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এরা হলেন পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নিজাম উদ্দিন, নুরুল আমিন, আয়াছ, পুলিশের এএসআই লিটন মিয়া,কনস্টেবল কামাল হোসেন ও ছাফানুর করিম।
ওসি প্রদীপ,ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলালকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় নি। তাদেরও ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা রয়েছে। তারাও রয়েছে কক্সবাজার জেলা কারাগারে।

হিন্দুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

0

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদসভায় ডা.জাফরুল্লাহকে একজন উগ্র সাম্প্রদায়িক লোক হিসেবে অাখ্যায়িত করা হয়।
উল্লেখ্য সম্প্রতি বিভিন্ন সময় ডা. জাফরুল্লাহ সনাতন ধর্মাবলম্বিদের ভগবান শ্রীরাম চন্দ্র, রামায়ণ ও মহাভারত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বক্তারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক ও হিংসা ছড়ানোর জন্য জাফরুল্লাহকে দায়ি করা হয়।


বক্তারা বলেন সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তির কাছে এমন বক্তব্য সত্যিই হতাশ করে। যে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে শেখ হাসিনার হাত ধরে, সেই বাংলাদেশে এমন সাম্প্রদায়িক ব্যাক্তি উন্নয়নের পথে অন্তরায়।
হিন্দু ধর্ম সুরক্ষা পরিষদ, জাগো হিন্দুসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. জাফরুল্লাহর বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে সমাবেশে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আগামী রবিবার ডা: জাফর উল্লাহ চৌধুরীর নামে উকিল নোটিশ পাঠানো হবে। ৩ দিনের মধ্যে যদি ক্ষমা না চান তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে ।

টার্গেট ছিল হযরত শাহজালালের মাজার ও ইসকন মন্দিরে জঙ্গি হামলা, নস্যাৎ করে দিয়েছে গোয়েন্দারা, সারাদেশে সতর্কতা

0

 

দেশে বড় ধরণের একটি জঙ্গি হামলার ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিলেট থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ জঙ্গিকে। এরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ, জেএমবি’র সদস্য।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের (সিটিটিসি) একটি টিম এই অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আদালতে মাধ্যমে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিরা স্বীকার করেছে তারা হযরত শাহজালালের মাজারে এবং সিলেটের যুগলটিলা ইসকন মন্দিরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। গত মাসখানেক ধরে তারা রেকি করছিল। মাজারে নিয়মিত যেতো এবং ইসকন মন্দিরেও খোঁজ খবর রাখা হচ্ছিল। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।
প্রসঙ্গত গত কোরবানির ঈদের আগে সারাদেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সব ইউনিটে সতর্কতা জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর যা এখনো প্রত্যাহার হয় নি।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, পুলিশের এই বিশেষ টিমটি অপারেশন “এলিগ্যান্ট বাইট ” নামক এক অভিযান চালিয়ে ১১ আগস্ট সিলেটের মিরাবাজার, টুকের বাজার, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থান হতে ৫ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জা (২৪)। এসময় তাদের হেফাজত হতে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে মনিরুল জানান, গ্রেফতারকৃতরা নব্য জেএমবি’র সামরিক শাখার সদস্য। তারা কথিত আইএস এর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঈদুল আযহার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে তারা ২৪ জুলাই ঢাকার পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে, গত ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকায় হিন্দু ধর্মালম্বিদের মন্দিরে বোমা হামলা করে। গত ২৩ জুলাই হযরত শাহজালাল (রহঃ) মাজার শরীফে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে তারা পল্টন ও সাপাহারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। কিন্তু সিলেটে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে ব্যর্থ হয়।
আটককৃতরা আরো জানায় নব্য জেএমবি’র শুরা সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান এর নেতৃত্বে তারা সিলেটের শাপলাবাগের একটি বাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলো। আটককৃতদের মধ্যে শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান কফি শপে (বারিস্তা) কপি মেকার হিসেবে কাজ করে, ২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করে। সে ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলো। সে সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষক এবং সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সিলেটের শাপলাবাগের বাসাটি ভাড়া নেয়। সানাউল ইসলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র। রুবেল আহমেদ ২০১৬ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ব্লু বার্ড সিলেট শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। সে সিলেটে টুকেরবাজারে সার, বীজ ও কিটনাশকের ব্যবসা করে। আব্দুর রহিম জুয়েল রেন্ট এ কারের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করত। তার গাড়ি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলো। সায়েম মির্জা সিলেটের মদন মোহন কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।

উল্লেখ্য যে, ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৯ টার সময় পল্টন মডেল থানার পুরানা পল্টন এলাকায় বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল হতে আইইডিতে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক টেপ, জিআই পাইপের কনটেইনার, সার্কিটের অংশ, তারের অংশ বিশেষ, লোহার তৈরি বিয়ারিং ও বল, নাইন ভোল্ট ব্যাটারির অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়। এ সংক্রান্ত মামলা তদন্ত করতে গিয়েই ওঠে আসে জঙ্গিদের পরিকল্পনার কথা।
এ দিকে গ্রেপ্তার ৫ জঙ্গিকে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের চেকপোস্টের পাশে গত ২৪ জুলাই বোমা বিস্ফোরণের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচ আসামিকে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক পাঁচজনকে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, হযরত শাহজালাল মাজারে জঙ্গিরা ১৫ বছর আগে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে খতম করা। তিনি মাজারে গিয়েছিলেন জিয়ারত করতে। গ্রেনেড বিষ্ফোরণে কয়েকজন মারা গেলেও আনোয়ার চৌধুরী আহত হয়েছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানা

0

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি) রাজধানী শান্তিনগর মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে।
বুধবার দুপুর ১২ টা হতে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শান্তিনগর মোড়ে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠান মো: সাইদুজ্জামান এর নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ  তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় মাস্ক ব্যাবহার না করার অপরাধে গাড়ীর চালক, হেলপার এবং পথচারীসহ মোট ৯ জনকে ৯ টি মামলায় ১০,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মহামারিতেও থেমে নেই নির্যাতন, এক মাসেই ২০৭ নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণের শিকার

0

 

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও থেমে নেই নারী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন। শুধু জুলাই মাসেই ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে ২০৭ জন নারী ও কন্যা শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেওয়া এক তথ্যে এ চিত্র ওঠে এসেছে।

তবে সম্প্রতি নারী ও শিশুদের সহিংসতার শিকার বেড়ে গেলেও মহামারীতে সংবাদ মাধ্যমে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না বলে মনে করেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

১৩টি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ পর্যালোচনার ভিত্তিতে মহিলা পরিষদ বলছে, জুলাইয়ে দেশে ২৩৫টি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশ হয়েছে। মার্চ থেকে পাঁচ মাসে মোট একহাজার ২২৮টি ঘটনার খবর এসেছে।
যেখানে ১৪টি দৈনিকের সংবাদ পর্যালোচনায় গত বছর জুলাই মাসে ৪৫০টি ও মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এক হাজার ৯৪৩ নারী ও শিশু নির্যাতনের খবর পেয়েছিল মহিলা পরিষদ।
মালেকা বানু বলেন, গণমাধ্যমে সব তথ্য উঠে আসছে না। তবে আমরা যারা এসব নিয়ে কাজ করছি, তারা দেখছি নির্যাতনের ঘটনা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
গণমাধ্যমে সব তথ্য না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এখন যে পরিস্থিতি, তাতে খুব আলোচিত ঘটনা না হলে গণমাধ্যমে আসছে না। সবারই সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, গণমাধ্যমেরও রয়েছে, আমাদেরও রয়েছে।”

মহিলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাইতে ২৩৫টি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৯০ জন, গণধর্ষণের শিকার ১৪ জন ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৯ জনকে এবং শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৩ জন।
জুলাইয়ে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। এছাড়া বিভিন্ন কারণে ৪৬ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। নির্যাতনের কারণে ১০ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
গত বছরের মার্চ থেকে জুলাই- এই পাঁচ মাসে মোট এক হাজার ৯৪৩ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের খবর প্রকাশ হয়। এর মধ্যে মার্চে ২৬৭, এপ্রিলে ৪০১, মেতে ৪০৫, জুনে ৪২০ ও জুলাইয়ে ৪৫০টি ঘটনার খবর এসেছে।
এর মধ্যে জুলাইয়ে মোট ৪৫০ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩৭ জন, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৩ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১০ জনকে এবং ধর্ষনের কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন ১ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছেন ৫ জন। সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়েছেন ৫ জন। ৬ জন গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
গত এক মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন।
সব মিলিয়ে করোনাকালেও দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন যে কমছে না এটা স্পষ্ট।

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৯৭ ব্যক্তিকে জরিমানা

0

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বেশ কিছু শর্তে যানবাহন ও দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপ্রশাসনের সাথে কাজ করছে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু অনেকেই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা। আর যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।
সরকার নির্দেশিত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানী জুড়ে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে।
শুধু একদিনেই রাজধানীতে ৯৭ ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। আদায় করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয় স্বাস্থ্য বিধি না মানায় তেজগাঁও বিভাগে ৩৪ জন ব্যক্তিকে ৮,২৫০ টাকা এবং রমনা বিভাগে ২৭ জন ব্যক্তিকে ৫,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ১১ জন ব্যক্তিকে ২,৭০০ টাকা এবং লালবাগ বিভাগে ১৭ জন ব্যক্তিকে ২,৬০০ টাকা জরিমানা করে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ছাড়াও মিরপুর বিভাগে ৭ জন ব্যক্তিকে ২,১০০ টাকা এবং গুলশান বিভাগে ১ জন ব্যক্তিকে ২০০ টাকা ও ২টি দোকানে ১০,০০০ টাকা জরিমানা করে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত।
২টি দোকান ও ৯৭ জন ব্যক্তিকে মোট ৩১ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা এবং ৯৯টি মামলা করে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অপ্রয়োজনে রাস্তায় নয়। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। মেনে চলুন সামাজিক দূরত্ব। আর হ্যাঁ, কোনও রকম উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

“আত্মনির্ভর ভারত” প্রকল্প উন্নয়নের গতি আনবে এ অঞ্চলে : দুদেশের শতাধিক ব্যবসায়ী-শিল্পপতির ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় অভিমত

0

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন “আত্মনির্ভর ভারত” প্রকল্প পাঁচটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে রচিত- অর্থনীতি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি-চালিত ব্যবস্থা, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং চাহিদা। ২১ ট্রিলিয়ন টাকার একটি উদ্দীপক প্যাকেজ অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি বাড়িয়ে দেবে, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কুটির শিল্পগুলোকে সহায়তা করবে, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে উৎসাহ দেবে, বিদেশী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভারতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করবে।
মঙ্গলবার ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন এবং ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব- কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বে অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ বিষয়ক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় শতাধিক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি অংশ নেন।
ভারতীয় হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রবর্তিত
আত্মনির্ভর ভারত এমন শিল্প ও খাতকে চিহ্নিত এবং প্রচার করবে যেগুলো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক আকার ধারণ করার মত সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এটি ভারতকে অংশীদার দেশগুলির সহযোগিতায় বৈশ্বিক মান শৃঙ্খলের অংশ হতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, এটি ভারতীয় ও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির বিশাল সুযোগ উন্মুক্ত করবে।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশ যেসব নতুন সুযোগ পেয়েছে তা কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের ফলে ভারত ও বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও তিনি শক্তিশালী বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে আরও বিনিয়োগ, সংহতি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
প্রাণ গ্রুপ, ইফাদ গ্রুপ, এসবিআই বাংলাদেশ, ইন্দোফিল এবং শর্থী এন্টারপ্রাইসের শিল্পপতিরা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন সুযোগ এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
হাই কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দুর্দান্ত পর্যায় এবং রেল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে উভয় দেশের৷ গৃহীত সাম্প্রতিক যোগাযোগ পদক্ষেপের ফলে বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস করতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, তাঁদের স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবেশের ফলে উভয় দেশই কেবল বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পাশাপাশি নতুন সুযোগগুলোও ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।
তিনি চমৎকার উৎপাদন পরিবেশ, তরুণ জনগোষ্ঠী ও অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ ইত্যাদি ব্যবহার করে তৃতীয় দেশগুলোতে রপ্তানির পাশাপাশি সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করার জন্যে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার থেকেই স্বাভাবিক হচ্ছে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম, দুই পদ্ধতিতেই বিচার চলবে, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা

0

 

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে হাইকোর্টের বিচার কার্যক্রম। শারীরিক ও ভার্চ্যুয়াল দুই পদ্ধতিতেই বিচার চলবে। বুধবার থেকেই পুরোদমে শুরু হবে কার্যক্রম। এ জন্য প্রধানবিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন পৃথক বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। তবে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার পরিচালনায় মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা।
প্রধানবিচারপতি ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে ৩৫টি বেঞ্চ এবং শারীরিক উপস্থিতিতে ১৮টি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। সেগুলোতেই বিচারকাজ চলবে।
হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে হাইকোর্ট বিভাগে বেশ কয়েকটি বেঞ্চে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ চলে আসছে। এ অবস্থায় ৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুল কোর্ট সভা হয়। সভায় শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া (ভার্চ্যুয়াল) ও শারীরিক উপস্থিতি—এই দুই পদ্ধতিতে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকাজ চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার সকাল সাড়ে দশটা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শারীরিক উপস্থিতিতে নিয়মিত ১৮টি বেঞ্চে ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে ৩৫টি বেঞ্চে বিচারকাজ চলবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে । এতে বলা হয় ৩৫টি ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চের মধ্যে ২৪টি দ্বৈত ও ১১টি একক বেঞ্চ রয়েছে। আর শারীরিক উপস্থিতিতে ১৮টি নিয়মিত বেঞ্চের মধ্যে ১৩টি দ্বৈত ও ৫টি একক বেঞ্চ রয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার-ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে গত ২৬ মার্চ থেকে আদালতেও ছুটি শুরু হয়। সাধারণ ছুটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। বাড়ে আদালতের ছুটিও।

সাধারণ ছুটি চলাকালে ৯ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার’ অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। ফলে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে বিচারকাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। এরপর ১১ মে থেকে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অধস্তন সব আদালতে ৫ আগস্ট থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয় ।

এ দিকে ১২ আগস্ট থেকে শারীরিক উপস্থিতিতে হাইকোর্ট বিভাগে বিচার কাজ শুরু হলেও আইনজীবীসহ সবাইকে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা ও দরখাস্ত ফাইলিং এবং নকল সরবরাহের ক্ষেত্রে নিম্ন লিখিত নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো—

১. করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সব প্রকারের মামলা ও দরখাস্ত ফাইলিং করা যাবে। ফাইলিং পরবর্তী এফিডেভিটকৃত মামলার নথি সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিলের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বের পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।
২. ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা ও দরখাস্ত শুনানির ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানির লিংক প্রেরণের জন্য ফাইলিংয়ের সময় সব মামলা ও দরখাস্তের ওপর নিয়োজিত আইনজীবীর ই-মেইল অ্যাডড্রেস উল্লেখ করতে হবে।
৩. ফাইলিং শাখায় ইতিমধ্যে দাখিলকৃত মামলা ও দরখাস্তের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বের প্রচলিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।

৪. শারীরিক উপস্থিতি ও ভার্চুয়াল উভয় পদ্ধতিতে মামলা ও দরখাস্ত শুনানির জন্য করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে দৈনিক কার্যতালিকা প্রস্তুত ও প্রচারিত হবে।
৫. নকল শাখার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান থাকায় শারীরিক উপস্থিতি ও ভার্চুয়াল উভয় পদ্ধতিতে পরিচালিত সব বেঞ্চ থেকে প্রদত্ত আদেশ এবং রায়ের নকল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বের প্রচলিত নিয়েমে সরবরাহ করা হবে।
আআ/শম

তালিকা হচ্ছে রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের; সংসদীয় কমিটি গঠন

0

 

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, জামাতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করতে সংসদীয় সাব–কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাব–কমিটিতে শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচজনকে সদস্য করা হয়। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আলবদর রাজাকারদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, এবি তাজুল ইসলাম এবং মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য এর আগে গতবছরের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করেছিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ের ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়টি। তবে এই তালিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় পরে তা বাতিল করা হয়।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই তালিকা প্রকাশ করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
মোজাম্মেল হক বলেন, “যারা ৭১ সালে রাজাকার, আলবদর, আল শামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরোনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল, সেটুকু প্রকাশ করা হয়েছে।”
পরে দেখা যায় যাচাই-বাছাই না করে দায়সারা গোছের একটা তালিকা প্রকাশ করে আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। কারণ তালিকা থেকে অনেক রাজাকারের নাম বাদ পড়ে যায় আবার অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকে যায় রাজাকারের তালিকায়।
এবার যাতে কোনো বিভ্রান্তি বা বিতর্কের সৃষ্টি না হয় সে জন্য সংসদীয় সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে যাচাইবাছাই করে তালিকা তৈরী করবে বলে জানান কমিটির সদস্যরা।
বাসস জানায়, সভার শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ তাঁর পরিবারের সদস্যসহ অন্য যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও সমবেদনা জানানো হয়।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর স্ত্রী সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় কমিটি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে।
কমিটির ১১তম বৈঠকে সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে কমিটির সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার ২৪টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানেরাসহ মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।