ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 170

রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন ১০ সেপ্টেম্বর, শেষ হয়নি সিআইডির তদন্ত

0

রিজার্ভ চুরিবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

আজ রোববার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ নতুন তারিখ ধার্য করেন। বাসস।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)–এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬–এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন।
মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।

কক্সবাজারে সিনহা হত্যাকাণ্ড; জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শিপ্রা, সিফাতের আদেশ সোমবার

0

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ কক্সবাজার কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। দুপুরে রামু থানার মাদক মামলায় কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম দেলোয়ার হোসেন তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেল ৫ টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

এদিকে নিহত সিনহার অপর সহকর্মী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের জামিন আবেদন শুনানি শেষ হয়েছে। সোমবার আদেশ দেবেন বিচারক। সিফাত কারাগারে আছেন। তবে সিনহা হত্যাকাণ্ডের সময় একই সঙ্গে সিফাত থাকায় তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবার।

ভ্রমণবিষয়ক তথ্যচিত্র বানাতে কক্সবাজারে ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত, শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা। তাঁর সঙ্গে সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলেন সিফাত। সিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরস্পর (সিনহা ও সিফাত) যোগসাজশে সরকারি কাজে বাধা, হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র তাক করা ও মৃত্যু ঘটানো। সিনহা-সিফাতরা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন, সেখান থেকে শিপ্রা ও তাহসিনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আজ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শিপ্রা।

আজ রোববার রামুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিপ্রার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
সিফাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তার নিকটাত্মীয় মাসুম বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামিন পেলে পরবর্তীতে কী হবে, সেটা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও জানান, সিফাত ভালোই আছে, তবে তাঁর পায়ে কিছুটা ব্যথা আছে।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ধরে ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন মেজর (অব.) সিনহা। ওই গাড়িতেই ছিলেন সিফাত। বাহারছড়া পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ি থামালে গাড়ি থেকে নেমে আসেন সিনহা ও সিফাত। সেখানে পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী সিনহাকে গুলি করেন। এতে মৃত্যু হয় সিনহার।

এ ঘটনায় পুলিশ টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা করে। সেখানে সিফাতকে আসামি করে মামলা করা হয়। এই মামলায় কারাগারে আছেন সিফাত।

ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য ; করোনা মহামারীতে ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহারের পরামর্শ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার

0

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পুষ্টি বিষয়ক এক নির্দেশনায় করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় শিল্প উৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বলছে এই ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি সাধারণত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, স্ন্যাক্স, তেলে ভাজা খাবার, হিমায়িত পিজ্জা, পাই, কুকি, মার্জারিন ও স্প্রেডস বা মাখিয়ে খাবার মিশ্রণে পাওয়া যায়।

খাবারে ট্রান্সফ্যাটের অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা, মোড়কে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখ এবং চিহ্নিতকরণের বাধ্যবাধকতা না থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। জাঙ্ক ফুড এবং বেকারি পণ্যের উপর মানুষের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা ট্রান্সফ্যাটের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে। সবমিলিয়ে, ট্রান্সফ্যাট এর কারণে দেশের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও তাদের সুরক্ষার জন্য কোনো নীতিমালা নেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট একটি নীরব ঘাতক। যার মূল উৎস পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও যা সাধারণত ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তের এলডিএল বা ”খারাপ কোলেস্টেরল” বৃদ্ধি করে, অপরদিকে এইচডিএল বা ”ভালো কোলেস্টেরল”-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল রক্তবাহী ধমনিতে জমা হয়ে রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লক্ষ ৭৭ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে হৃদরোগজনিত কারণে। ২০১০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে অন্তত ৮০০০ মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উচ্চ মাত্রার ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ দায়ি।


ট্রান্স ফ্যাটের স্বাস্থ্য ক্ষতি থেকে সকল মানুষকে সুরক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট মুক্ত বিশ্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সংস্থাটি ২০১৮ সালে অ্যাকশন প্যাকেজ ঘোষণা করে যেখানে খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে সরকার কিভাবে কাজ করবে তার নির্দেশনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, তুরস্কসহ পৃথিবীর ৩০টিরও বেশি দেশ খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর বাংলাদেশ এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, হৃদরোগসহ সকল অসংক্রামক ব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। উচ্চমাত্রায় ট্রান্স ফ্যাট গ্রহনের কারণে সার্বিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির দৈনিক ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ হওয়া উচিত মোট খাদ্যশক্তির ১ শতাংশের কম, অর্থাৎ দৈনিক ২০০০ ক্যালোরির ডায়েটে তা হতে হবে ২.২ গ্রামের চেয়েও কম। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করার একমাত্র পথ হলো সচেতনতা। তাই সচেতনতাই পারে আপনাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে গত জানুয়ারি মাসে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ বিষয়ে গঠিত ১০ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপে পিছিয়ে পড়েছে নীতিমালা চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু আহমেদ শামীম বলেন, ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণে আমাদের কাজ অনেক দূর এগোলেও করোনার কারণে নীতিমালা আটকে রয়েছে। আপাতত এই করোনা সময়ে আমাদেও কোনো মিটিং হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি হচ্ছে না বলে মনে করি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুব দ্রুত এটি হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এধরনের মহামারী থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি। এলক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে নীতিমালা চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

চারমাস পর স্বাভাবিক হলো নিম্নআদালতে বিচারকার্যক্রম, মানতে হচ্ছে কড়া স্বাস্থ্যবিধি, হাইকোর্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

0

চার মাসের বেশি সময় পর বুধবার দেশের সব নিম্ন আদালতে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আদালতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীর সংখ্যা ছিল কম। যারা এসেছেন তারাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছেন। মুখে পরেছেন মাস্ক। ঢাকা জজকোর্টেও ছিল একই অবস্থা।

এ দিকে হাইকোর্ট খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বৃহস্পতিবার। প্রধান বিচারপতি ওই দিন ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন, অর্থাৎ সব বিচারপতির সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। তবে ফুলকোর্ট সভা হবে ভার্চুয়াল। ধারণা করা হচ্ছে আগামি রবিবার থেকে সুপ্রিমকোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরু হতে পারে।
এদিকে নিম্নআদালতে স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরু হলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনা।
গত ৩০ জুলাই প্রধান বিচারপতির বরাতে এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এতে আদালতের বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচার প্রার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থার বিষয়েও বলা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গেল মার্চের শেষ সপ্তাহে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালত ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

পরবর্তিতে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে মামলার কার্যক্রম চালু করতে ৯ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ জারির পর ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অধস্তন আদালতে হাজতি আসামিদের জামিন শুনানি ও উচ্চ আদালতে সীমিত পরিসরে মামলার শুনানি শুরু হয়।

ঘোষিত ছুটি গত ৩০ মে শেষ হলেও নিয়মিত বিচার কার্যক্রম বন্ধই থাকে। তবে অধস্তন বিভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ ও নালিশি মামলাসহ দেওয়ানি এবং উত্তরাধিকার মামলার আবেদন গ্রহণ ও শুনানি চলে। এরই মধ্যে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম চালু করতে আইনজীবীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেন।তারা
প্রধান বিচারপতি বরাবর কয়েক দফায় চিঠির মাধ্যমে আবেদন জানান।

শেষ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচার কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয় আদালত সংশ্লিষ্ট সবাই শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি এজলাস, স্বাক্ষীর ডক (স্বাক্ষীর জন্য নির্ধারিত স্থান) এবং কাঠগড়ায় প্রয়োজনীয় অংশে গ্লাস দিয়ে পৃথক প্রতিরোধক প্রকোষ্ঠ প্রস্তুতের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিচারক ও আইনজীবীরা সাদা শার্ট বা সাদা শাড়ী/ সালোয়ার কামিজ ও সাদা নেক ব্যান্ড ও কালো টাই পরিধান করবেন।

জেলা জজ/ মহানগর দায়রা জজ/ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের প্রবেশ পথে এবং প্রকাশ্য স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা হিসেবে বেসিন ও সাবান পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

আদালতে উপস্থিত প্রত্যেকে যথাসম্ভব নিজ নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকাসহ আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাসকক্ষে প্রত্যেকে মুখাবরণ (ফেস মাস্ক) এবং হাতমোজা পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়, অত্যন্ত জরুরি কারণ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে আসা থেকে বিরত থাকতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণ ও আদালত ভবনে প্রবেশের সময় প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে। আদালত এলাকায় প্রবেশের সময় কেউ জ্বর বোধ করলে কিংবা কারো শরীরে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি থাকলে, কোভিডের লক্ষণ যেমন, কাশি, শাসকষ্ট, সর্দি, ঠান্ডাজনিত ঘন ঘন কাঁপুনি, পেশি ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, গলা ব্যাথা, স্বাদ বা গন্ধের অনুভূতি নষ্ট হওয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে আক্রান্ত কিংবা কোভিড- ১৯ রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন এমন কাউকে অবশ্যই আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

আদালতের সংশ্লিষ্ট বিচারক শুনানি কার্যক্রমের সময়সূচী ও পদ্ধতি এমনভাবে নির্ধারণ করবেন যাতে আদালত ভবন ও এজলাসে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ জনসমাগম না ঘটে। একটি মামলার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এজলাস কক্ষ ত্যাগ করার পর বিচারক পরবর্তী মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া একটি মামলার শুনানিতে সর্বোচ্চ দুজন আইনজীবী অংশ নিতে পারবেন। এজলাসকক্ষে ছয়জনের বেশি ব্যক্তির সমাগম না করাসহ প্রত্যেককে আরেকজনের থেকে কমপক্ষে ছয় ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আসন বিন্যাস করতে হবে।

এতে আরো বলা হয়, জামিন শুনানি এবং আমলি আদালতে ধার্য তারিখে হাজিরার জন্য কারাগারে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রিজন ভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত প্রাঙ্গণ বা এজলাসকক্ষে হাজির করার আবশ্যিকতা নেই।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক উদ্ভুত যে কোনো পরিস্থিতি বিচেনায় সংশ্লিষ্ট বিচারক প্রয়োজনবোধে আনুষাঙ্গিক যে কোনো সুরক্ষামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে বিচারক সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আদালতের কাজ শেষে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করতে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার/ উপ-পুলিশ কমিশনার কোর্ট পুলিশ পদায়ন/ বদলি করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা জজ/ মহানগর দায়রা জজ/ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আদালতে জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানসমূহ, সরঞ্জামাদি, এজলাসকক্ষ, আসবাবপত্র, জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে সব দোকান বন্ধ রাখার পাশাপাশি কোনো প্রকার ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসতে দেওয়া হবে না।

মাস্ক না পরে বের হলেই জরিমানা; সতর্ক থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনী, কঠোর হচ্ছে সরকার

0

মাস্ক না পরে রাস্তায় বের হলেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সেটা জরিমানা হতে পারে অন্য কোনো দণ্ডও হতে পারে। রাস্তায় সতর্ক দৃষ্টি রাখবে আইনশৃংখলা বাহিনী। করোনাভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে এমন কঠোর পদক্ষেপেই যাচ্ছে সরকার। সোমবার জনসাধারণের চলাচাল নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিনিষেধ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে অনেক বিধি-নিষেধের মধ্যে মাস্ক না পরলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,  রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসস্থানের বাইরে বের হওয়া যাবে না। অতি প্রয়োজন বলতে, ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা, ঔষধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মরদেহ দাফন/সৎকারকে বোঝানো হয়েছে।
বাসস্থানের বাইরে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরতে হবে। পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।
হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমলে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। শপিংমলের প্রবেশপথে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজার রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনকে অবশ্যই জীবনুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। হাটবাজার, দোকানপাট ও শপিংমল অবশ্যই রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। পণ্য ও খাদ্য ক্রয়ে জনগণকে ই-কমার্স সাইট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী ও সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে হবে।
এ সময়ে সব সভা-সমাবেশ, জমায়েত ও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি অনুষ্ঠান আয়োজনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ধর্মমন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে মসজিদে জামায়াত ও অন্যান্য উপাসনালয়সমূহে প্রার্থনা পরিচালনা করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত কোভিড-১৯ সংক্রমন জোন ভিত্তিক সংযমন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন কৌশল/ গাইড অনুসরন করে অধিকতর সংক্রমিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেখানে সর্বসাধারণের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ /প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে স্থানীয় সরকার বিভাগ,তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে ব্যাপক প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

১২ বছর পর ফেনীতে জয়নাল হাজারী, প্রতিপক্ষকে হুমকি, বললেন ফেনীর মানুষ সন্ত্রাসিদের টুকরো টুকরো করবে

0

 

প্রায় একযুগ পরে ফেনীতে গেলেন জয়নাল হাজারী। নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন। আর প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে বলেছেন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কারণে ফেনীর মানুষ আজ অতিষ্ট। যারা ফেনীকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছে ফেনীর মানুষ তাদের টুকরো টুকরো করবে।
ঈদুল আজহার দিনে ফেনীর মাষ্টারপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ফেনীর সন্ত্রাস-দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে আহ্বান জানান হাজারী। পাশাপাশি আগামীতে স্থানীয় রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হবেন বলে জানান। হাজারী আরও বলেন, ইতিমধ্যে মামলা হামলার শিকার দলের ত্যাগী নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আগামীতে সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে রক্ষা করবেন।


কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল হাজারী আরও বলেন, ‘ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ‘সোহেল্লা’ এবং সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র ‘খোকইন্না’ জানতে চাই আজকে ফেনী শহরের কোথায় তোরা, এখানে যারা আছে তারাই তোদেরকে টুকরো টুকরো করবে, বঙ্গবন্ধুকে ছাড়াই আমরা দেশ স্বাধীন করেছি।’
এক এগারোর পর ঢাকায় চলে আসেন ফেনী-২ আসনের সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন হাজারী। ঢাকায় অনেকটা নিভৃতেই কেটে যাচ্ছিল সময়। প্রায় নিস্ক্রিয় হয়ে যান এক সময়ের ফেনীর গডফাদার হিসেবে পরিচিত জয়নাল হাজারী। স্থানীয় ভাবে তার শক্ত প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে যায় এবং কমতে থাকে তার প্রভাব। দীর্ঘ নীরবতা ও নিস্ক্রিয়তার পর গতবছর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটিতে স্থান দেয়া হয় তাকে। বলা যায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় রাজনীতিতে পুনর্জন্ম লাভ হয় জয়নাল হাজারীর।
আশাতীত পদ লাভের পর ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘোষাণা দেন হাজারী। এই ঘোষণা দেওয়ার একবছর পর আর এলাকা ছাড়ার প্রায় ১২ বছর পর ১ আগস্ট ঈদের দিন তিনি যান তার প্রিয়ভূমি ফেনীতে।
তার আগমনে নেতাকর্মীসহ ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে নিজ বাড়ির মুজিব উদ্যান। তাকে নিরাপত্তা দিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা ছিল পুরো ফেনী শহর। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বসানো হয়েছিল চেকপোস্ট।

শনিবার বিকেল ৪টায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফেনী শহরের মাষ্টারপাড়াস্থ মা-বাবার কবর জেয়ারত করেন জয়নাল হাজারী। জেয়ারত শেষে বাড়ি প্রাঙ্গণ মুজিব উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মী ও ভক্তদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।
সন্ধ্যায় শহরের পাগলা মিঞার মাজার জেয়ারত শেষে যে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পরামর্শে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হকের কবর জেয়ারত করার কথা থাকলেও তা না করেই ঢাকা চলে আসেন।
এদিকে জয়নাল হাজারীর বক্তব্য নিয়ে চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীদের মধ্যে।
জয়নাল হাজারীর বিতর্কিত এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। যিনি জয়নাল হাজারীর প্রতিপক্ষ বর্তমান সাংসদ নিজাম হাজারীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সোহেল সাংবাদিকদের বলেন, জয়নাল হাজারীর অন্যায় অবিচারকে সমর্থন না করা এবং ছাত্ররাজনীতি করার সময় তার সাথে আপোষ না করায় আমাকে জয়নাল হাজারী দু-দফায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তার সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কারণে ফেনীবাসীর গায়ে সন্ত্রাসের তকমা লেগেছিল, তা পুরোপুরি এখনো পরিষ্কার হয়নি। বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এবং ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি ফেনীকে শান্তির জনপদে রুপান্তর করেছেন ।
তিনি বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায়, উন্নয়ন ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ফেনী। তার সময়ে অপরাজনীতির স্বীকার হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছিল। লাঞ্ছিত হয়েছে সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের লোকজন। তাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করেছেন। দীর্ঘ এক যুগ পর ফেনীর মাটিতে পা রেখেই তিনি আগের মতো শান্ত ফেনীকে অশান্ত ফেনী করার পায়তারা করছেন।
সোহেল বলেন, জয়নাল হাজারী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেও বঙ্গবন্ধুকে ছাড়াই দেশ স্বাধীন করার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ায় নেতাকর্মী ও দেশবাসী ক্ষুব্ধ। ফেনীকে অশান্ত করার তার দিবা-স্বপ্ন কখনো সফল হবে না।
ফেনীর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ একযুগ পর জয়নাল হাজারী এলাকায় ফিরে আসায় ফেনীর রাজনীতি ফের অস্থিতিশীল যেমন হতে পারে তেমনি বর্তমান সাংসদ নিজাম হাজারীর জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

জেগে উঠুক মানবিকতা, হউক প্রতিবাদ

0

 

সাতকানিয়ায় একটি হিন্দু মন্দিরে কোরবানির পশুর বর্জ্য, হাড়গোড় ছড়িয়ে রেখেছে কে বা কারা। ফেসবুকে এ খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আমি নিশ্চিত কোনো ধর্মপ্রাণ মুসলমান এটা করে নি। করার প্রশ্নই আসেনা। যে করেছে সে নিজেতো ধর্মবিশ্বাস করেই নি, তার মধ্যে পাপ পূণ্য, মানবিকতা, প্রেম ভালোবাসা কিছুই নেই। সে ধর্মগ্রন্থ পড়ে নি, ধর্ম জানেও না। সে নিছক দুবৃত্ত, সমাজের নিকৃষ্ট, অসভ্য।
সে সমাজের সাধারণ মানুষ নয়। দেখা যাবে সেও শিক্ষিত, তবে নোংরা কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসি। সে পবিত্র কোরআন শরীফ পড়ে নি, পড়লেও খন্ডিতভাবে ভুল ব্যাখ্যা জেনেছে, সে কোনো জেহাদী মাওলানার সংস্পর্শে এসে ইসলামী বিপ্লব করতে চাচ্ছে, কিংবা এলাকায় হিন্দু সম্পত্তি দখল করার জন্য কোনো প্রভাবশালীর ইন্দনে দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনা করছে। তবে সুখের কথা হলো এই দুবৃত্তদের সবাই ঘৃণা করছে। ফেসবুকে দেখলাম এই ঘৃণ্য কাজের সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করছেন মুসলমানরাই।
এবার আসি ভারতের প্রসঙ্গে। সেখানকার দিল্লি লাগোয়া গুরুগাঁও নামক স্থানে ঈদের দিন এক মুসলিম যুবককে গরুর মাংস পরিবহনের অভিযোগে ব্যাপক মারধর করেছে একদল হিন্দু দুবৃত্ত।
এটা কি ভাবা যায়? একজন মানুষ গরু খাবে না শুকর খাবে সেটা বলার এই হিন্দুরা কে? ধর্মের কোথায় লেখা আছে আরেকজনের খাবার নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা? এই হিন্দু দুবৃত্তদেরও নিশ্চিত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক আছে । এরা ধর্মের নামে দুবৃত্তপনা করছে। ধর্মের কোথাও এসব লেখা নেই। পবিত্র গীতা,বেদ, উপনিষদের কোথাও কোনো জাতপাত ধর্মের কথা লেখা নেই। গরু খাওয়া যাবে না, ছাগল খাওয়া যাবে না, শুকর খাওয়া যাবে না এসব কোথাও লেখা নেই। শুধু লেখা আছে মানুষের কথা। কোনো হিন্দুর কথাও বেদে লেখা নেই। লেখা আছে পাপ পূণ্যের কথা। মানুষকে ভালোবাসার কথা। প্রেমের কথা। কিন্তু এই হিন্দু মৌলবাদি দুবৃত্তরা কোথায় পায় গরুর মাংস রাখলে,খেলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? গোরক্ষার নামে এই বর্বরতা কোথায় পেয়েছে এই বর্বরগুলো? আশার কথা হচ্ছে সেখানেও দেখলাম এই বর্বরদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ, শুভবুদ্ধির মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছে, ঘৃণা জানাচ্ছে।
এবার আসি আরেকটি ঘটনায়। বরিশালের বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীকে নিয়ে দেখলাম হিন্দু মৌলবাদিদের একটি চক্র ফেসবুক গরম করে ফেলছে। তাদের অভিযোগ, মনীষা চক্রবর্ত্তি ঈদের দিন তার দল বাসদের পক্ষ থেকে দরিদ্র মানুষের মাঝে গরুর মাংস বিতরণ করেছেন।
এ জন্য তারা ছি! ছি করছে। মনীষা একে তো হিন্দু তার ওপর ব্রাহ্মণের মেয়ে। সে এটা কীভাবে করলো এটাই এই মুর্খদের বিষ্ময়।
বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখে ও পড়ে মনীষার জন্য গর্বে বুকটা আরো বড় হয়ে গেলো। মনীষা এ যুগে বাংলার অগ্নিকন্যা। বরিশালের মাটি তাকে পেয়ে ধন্য। এই বয়সে একটা মেয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করে যে ভাবে মানুষের সেবায় নেমেছে সেটা এক বিষ্ময়কর। দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, সমাজতন্ত্রের জন্য সে লড়াই করছে। দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করে আশাতীত সমর্থন পেয়েছে। অসাধারণ তার বাগ্মিতা, রাজনৈতিক জ্ঞান। অনেকদিন থেকে আমি মনিষার রাজনৈতিক কার্যক্রম ফলো করছি। আমি নিশ্চিত ঈশ্বর সহায় থাকলে মনীষা মানুষের অধিকার আদায়ে মহীয়সী নেত্রী হবেন ।
এমন মনীষা কোনো ধর্মের না কোনো জাতের না। তারা শুধু মানুষের। ঈদের দিন ব্যক্তি মনীষা দরিদ্রদের মাঝে গরুর মাংস বিতরণ করেননি, করেছেন বাসদ নেত্রী হিসেবে, জনমানুষের নেত্রী হিসেবে। সেই মনীষাকে নিয়ে যারা হিন্দুত্ববাদি,ব্রাহ্মন্যবাদের প্রশ্ন তুলেন তারা মুর্খ,বর্বর ও অসভ্য।
এই ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে ধর্মের নামে যে বর্বরতা চলে এটার বিরুদ্ধে শুধু ঘৃণা প্রকাশ করলেই হবে না। এর বিরুদ্ধে এখন প্রকাশ্যে রাস্তায় নামতে হবে। এটা সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। কে কোন ধর্ম পালন করবে, কি ভাবে করবে, আদৌ করবে কি না, কার কি বিশ্বাস, কি খাবে, কি খাবে না এ গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলবে কেনো এই বর্বররা? বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে এতো পড়াশোনা করে ওই মুর্খ ফাইভ পাস পুরোহিত ব্রাহ্মণ কিংবা কাঠমোল্লাদের কাছ থেকে ধর্মের জ্ঞান নিতে হবে? এদের কথায় আমাদের ধর্মপালন করতে হবে কেনো?
এখন গর্জে ওঠার সময়। গরুর মাংস রাখার জন্য পিটিয়ে মারা, কিংবা মন্দিরে গরুর মাংস রাখা সেটা যেখানেই ঘটুক এর প্রতিবাদ করুন। যুক্তি দিয়ে প্রজ্ঞা দিয়ে ধর্মিয় গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝান। এসব যারা করছে তাদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করুন। তথ্য প্রযুক্তির যুগে লক্ষ লক্ষ তরুণ এখন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। মিথ্যা ভুল তথ্য দিয়ে তাদের যেমন বিভ্রান্ত করা সহজ তেমনি সঠিক তথ্য, ধর্মের মূল বাণী, মানুষে মানুষে ভালোবাসা দিয়ে তাদের মানবিকতা জাগ্রত করাও সম্ভব। এই তরুণরা যাতে কোনো জেহাদি জঙ্গির কবলে না পড়ে কোনো গোরক্ষকের কবলে না পড়ে তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা আমাদের দায়িত্ব।

শুধু নিম্ন আদালত নয়, হাইকোর্টেও স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরুর দাবি আইনজীবীদের, সিদ্ধান্ত হবে ফুলকোর্ট সভায়

0

শুধু নিম্ন আদালত নয় হাইকোর্টেও স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিম্ন আদালতে বিচারকার্যক্রম শুরু হলে তা হাইকোর্টেও সম্ভব।

প্রসঙ্গত কোরবানির ঈদের ছুটি শেষে আগামী ৫ অগাস্ট বুধবার থেকে নিম্নআদালতে স্বাভাবিক বিচার কাজ চলবে বলে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান বিচারপতি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
তবে মহামারীকালে আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষের সুরক্ষা সংক্রান্ত হাই কোর্ট বিভাগের দেওয়া নির্দেশনা প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিম্ন আদালতের পাশাপাশি হাইকোর্টেও স্বাভাবিক বিচারকার্য শুরু করার দাবি জানিয়ে আইনজীবীরা বলছেন, স্বাস্খ্যবিধি মেনে কার্যক্রম চললে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না। হাইকোর্টের আইনজীবীরাও অর্থিক সমস্যায় আছেন। বিচারপ্রার্থীরাও দুর্ভোগে আছেন।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন জানান, বারের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রধানবিচারপতিকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানবিচারপতির নেতৃত্বে ফুলকোর্ট সভা হবে। আশা রাখি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানবিচারপতি। এবং সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হবে বলেই তিনিও মনে করেন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।


তার সঙ্গে মিল রেখে সর্বোচ্চ আদালতসহ দেশের সব আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। সরকারের সাধারণ ছুটির সঙ্গে আদালতের সাধারণ ছুটিও কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

এক মাসের বেশি সময় বিচারকাজ বন্ধ থাকার পর ‘ভার্চুয়াল আদালতে’ শুনানির জন্য গত ৯ মে সরকার ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার’ অধ্যাদেশ জারি করে।

পরদিন সর্বোচ্চ আদালতের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফুলকোর্ট’ সভা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

ফুলকোর্ট সভার পর ওইদিনই অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল জামিন শুনানির নির্দেশ আসে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে। তার জন্য তিনটি বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনাও জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

তার মধ্যে আপিল বিভাগ পরিচালনার জন্য ১৩ দফা, হাই কোর্ট পরিচালনার জন্য ১৫ দফা ও অধস্তন আদালত পরিচালনার জন্য ২১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’র আলোকে ১১ মে থেকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের অধস্তন এবং ১২ মে থেকে উচ্চ আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়।

এরপর প্রায় তিন মাস ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে চলছে দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকাজ। তাও সব মামলার বিচার চলছিল না। শুধু জামিন শুনানি এবং নতুন মামলার আবেদন গ্রহণের মধ্যেই এই আদালতের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে আর সব অফিস খুলে দেওয়ার পর আইনজীবীরাও স্বাভাবিক আদালত চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এর মধ্যেই শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরুর সিদ্ধান্ত দিলেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে,বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিগণের সাথে আলোচনাক্রমে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, অধস্তন সকল দেওয়ানী, ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে আগামী ৫ আগস্ট রোজ বুধবার হতে শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

ধর্ম অবমাননার দায়ে বর্বরতা, পাকিস্তানে আদালত কক্ষেই অভিযুক্তকে গুলি করে হত্যা

0

সব বর্বরতাকেই ছাড়িয়ে যায় পাকিস্তান। খুন সন্ত্রাসতো আছেই, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পুড়িয়ে মারা, পিটিয়ে মারার ঘটনাও দেশটিতে স্বাভাবিক। এবার প্রকাশ্য আদালতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একজনকে। নিজেকে নবী দাবি করে ধর্ম অবমাননা আইনে অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে একটি আদালত কক্ষে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারের আদালতে গত ২৯ জুলাই শুনানি চলাকালে গুলি করে তাহির আহমেদ নাসিম নামের ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর রয়টার্স,এএফপি।

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা আইন খুবই কঠোর। ব্লাসফেমি নামের এ আইনে দোষী প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটিতে এ আইনে অভিযুক্তদের প্রায়ই সহিংসতার শিকার হতে হয়। যার সর্বশেষ বলি হলেন তাহির আহমেদ নাসিম।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে গ্রেফতারের পর থেকেই পুলিশি হেফাজতে ছিলেন তাহির আহমেদ নাসিম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজেকে নবী দাবি করে ব্লাসফেমি আইন ভঙ্গ করেছেন তিনি। নাসিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ব্লাসফেমি আইনের ২৯৫-এ, ২৯৫-বি এবং ২৯৫-সি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, নিজেকে নবী দাবি করে ইসলাম ধর্মের মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) অবমাননা করেছেন তিনি। আইন অনুযায়ী এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আদালতে ওই মামলার শুনানি চলার মধ্যেই তাহির আহমেদ নাসিমকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী দায় স্বীকার করে বলেছে, ধর্ম অবমাননা করায় তাকে হত্যা করেছে। এই শাস্তিই নাসিমের প্রাপ্য ছিল বলে সে জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের কঠোর ধর্ম অবমাননা আইনে এখন পর্যন্ত একজন অভিযুক্তও সর্বোচ্চ দণ্ড পায়নি। তবে এসব মামলায় অভিযুক্তদের বিনা বিচারে হত্যা ও তাদের ওপর সংঘবদ্ধ সহিংসতার ঘটনা গত কয়েক বছরে নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে এই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্তত ৭৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও বিচারকেরাও ছিলেন।

রেল কন্টেইনারে পণ্য পরিবহন শুরু, বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাইলফলকে

0

বাংলাদেশ ভারতের অর্থনীতি এক নতুন দীগন্তের দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে রেল কন্টেইনারে পণ্য পরিবহন শুরু হওয়ায় দুদেশের বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছে ভারতের প্রভাশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস।

হিন্দুস্তান টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক শিশির গুপ্তের লেখা এই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে রেল কন্টেইনারে পণ্য পরিবহনের যে কর্যক্রম শুরু হয়েছে, তা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আরও গতি আনবে, অর্থনৈতিক সম্পর্কে আরও মজবুত ও টেকসই করতে কাজ করবে ‘গেইম চেইঞ্জার’ হিসেবে। ফলে একে সম্পর্কোন্নয়নের পথে এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারত থেকে গত রোববার প্রথম কন্টেইনারবাহী ট্রেন বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তে আসে। ‘ইলেট্রনিক্যালি সিলড’ এসব কন্টেইনার সাধারণ পণ্যবাহী ট্রেনের চেয়ে নিরাপদ এবং তা ট্রাকে পণ্য পরিবহনের চেয়ে সাশ্রয়ী ও দ্রুত গতির। প্রথম চালানে সাবান, শ্যাম্পু ও টেক্সটাইল ফেব্রিকের মতো ভোগ্যপণ্য বাংলাদেশে পৌঁছায়।

ঢাকা ও নয়া দিল্লির কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, কন্টেইনার ট্রেনে পণ্য পরিবহন কেবল বাংলাদেশে ভারতের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রপ্তানিতে সহায়তা করবে না, বাংলাদেশি পণ্যও কম খরচে ও স্বল্প সময়ে ভারতে রপ্তানিতে সহায়ক হবে। সীমান্তে ‘একটি চক্রের অনিয়ম-চাঁদাবাজির কারণে’ ভারত-বাংলাদেশে ট্রাক চলাচলে যে ক্ষতি হয়, তা এখানে এড়ানো যাবে।

“ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রোববারের এই অগ্রগতি এবং জুলাইয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় ভারতীয় পণ্যের প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রান্সশিপমেন্টের সফলতার গুরুত্বের জায়গাটা হল, এর মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশের মধ্যে নেই।”

শিশির গুপ্ত লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অগ্রগতি হচ্ছে। এরপর ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়ে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই সম্পর্ক নতুন গতি পায়।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঢাকা সফরে দুই নেতা ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়েন। এর মধ্য দিয়ে ৪১ বছরের সীমানা বিরোধের মীমাংসা হয়, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি কাঁটা হয়ে ছিল।

হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েও ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সহায়তা করেন।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘সোনালী অধ্যায়’ রচনার কথা বলেন।

গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কণ্ঠেও সেই মনোভাব প্রতিফলিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে ভারত বাংলাদেশকে ১০টি ব্রডগেজ রেলওয়ে লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) উপহার দেয়।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন একটি সরবরাহ লাইন তৈরির প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এসব রেল ইঞ্জিন বাংলাদেশকে দিয়েছে ভারত।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতায় আছেন গত এক দশক ধরে। টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী তিনি। তার নেতৃত্বে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবেচেয়ে বেশি ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ অতি দারিদ্র্যের হারও ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পেরেছে। তৈরি পোশাক উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাণিজ্য ও উন্নয়নে যে অগ্রগতি বাংলাদেশের হয়েছে, তাতে মাথাপিছু আয় পাকিস্তানকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর বাংলাদেশে মাথাপিছু ঋণও পাকিস্তানের অর্ধেক।

একজন ভারতীয় কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “শেখ হাসিনা এই অঞ্চল ও বিশ্বকে দেখিয়েছেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও শুধু লক্ষ্য ঠিক রেখে একটি দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়।”

১৯৭৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যায়িত করেছিলেন, সেই বাস্তবতা কীভাবে বাংলাদেশ পেছনে ফেলে এসেছে, সে কথাই ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন।

হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, ভারতীয় হাই কমিশনার কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করার ‘সুযোগ পাননি’ বলে যে খবর সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে, ওই ভারতীয় কর্মকর্তা তা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের বিবৃতি যথেষ্টই ‘স্পষ্ট’।

ওই খবরের সত্যতা নাকচ করে মোমেন গত বৃহস্পতিবার বলেন, ভারতীয় হাই কমিশনার ২২ জুলাই তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলেন এবং সেজন্য তিনি ‘পর্যাপ্ত সময় দিয়েছেন’। হাই কমিশনার হয়ত সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুর দিকে ঢাকা ছাড়বেন এবং তার আগে তিনি সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকার সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরের কাজের জন্য ভারতের বদলে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিবেচনা করছে বলে যে প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেছেন, ওই কাজের দরপত্র প্রক্রিয়ায় চীনা কোম্পানিই সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে।

“কিছু সংবাদপত্র বলেছে, আমরা চীনকে বেশি সুবিধা দিচ্ছি, যা পুরোপুরি অবাস্তব,” মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ঢাকা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদনের এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে।