ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 171

অনলইনকে নিবন্ধন দিতে নীতিমালা ঠিক করুন

0

 

গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে যেসব অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন দিয়ে ঘরে ঘরে সম্পাদক, সাংবাদিক বানাতে চাচ্ছে তথ্য মন্ত্রণালয়, তার মানদণ্ড কি?

অর্থাৎ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক হতে কোনো যোগ্যতা ঠিক করা হয়েছে কি না? কতো বছর, কোন স্তরে সাংবাদিকতা করলে একজন ব্যক্তি সম্পাদক হতে পারবেন তার নীতিমালা করা হয়েছে কি না? তা ঠিক না করে এ ভাবে নিবন্ধন দিয়ে সম্পাদক বানিয়ে ফেলায় ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার জন্য বিপদ হতে পারে।
আমরা মনে করি প্রতিষ্ঠানের মালিক যে কেউ হতে পারেন, কিন্তু যে কেউ সম্পাদক হয়ে যেতে পারেন না। সেটা অনলাইনই হউক আর পত্রিকাই হউক। সম্পাদক হতে হলে শুধু শিক্ষাই নয়, মূলধারায় সাংবাদিকতায় তার অভিজ্ঞতা বিবেচ্য হতে হবে। আশা করি চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময় নীতিমালা তৈরী করে তার ভিত্তিতেই নিবন্ধন দেয়ার প্রক্রিয়া করবে তথ্য মন্ত্রণালয়।
নিবন্ধিত হলে অনলাইনগুলোকে শ্রম আইন এবং সংবাদপত্রের আইনের আওতায় চলতে হবে এটাই স্বাভাবিক। তার মানে হলো তাদেরকে সরকারি বিধি ও ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী কর্মিদের বেতনভাতা ও সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। সরকারও তাদের সুযোগ সুবিধা দেবে। সাংবাদিকতার নীতিমালাও নিশ্চিত করতে হবে। শুরুতেই সরকার এ ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি না করলে সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা বাড়বে। সাংবাদিক ইউনিয়নকেও শুরুতেই কঠোর নজরদারি রাখতে হবে এসব অনলাইনের ওপর। তারা যে সব সাংবাদিক কর্মচারি নিয়োগ করবে তাদের আইন অনুযায়ী বেতন ভাতা দিচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে রাখতে হবে সাংবাদিক ইউনিয়নকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও।
না হলে অনলাইনের ক্ষেত্রেও আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মতো জুচ্চুরি শুরু হবে।
আমরা চাই মানসম্মত অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিকশিত হউক। আগামি দুনিয়া হবে অনলাইন ও ডিজিটালের। পৃথিবীর বড় বড় সংবাদ মাধ্যম অনলাইনের দিকে আগাচ্ছে। বাংলাদেশও সে দিকে যাচ্ছে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই আগাতে হবে। শ’য়ে শ’য়ে নিবন্ধনের দরকার নেই। দেশের চাহিদা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড যাদের থাকবে তাদেরকেই নিবন্ধন দেয়া হউক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ছায়ানটকে দুটি স্কুল বাস উপহার দিল ভারতীয় হাইকমিশন

0

বাংলাদেশের অন্যতম সংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট পরিচালিত নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়কে দুটি স্কুল বাস উপহার দিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। বুধবার (২৯ জুলাই) এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাস দুটি হস্তান্তর করেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। বাস দুটি স্কুলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং  ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিনের স্কুলে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


অনুষ্ঠানে রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মনিয়োগের মধ্য দিয়ে ছায়ানট গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বাঙালি ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিল্পীদের অনুশীলন, উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ দিয়ে ছায়ানট বাংলাদেশী সমাজ এবং এর মূল্যবোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে চলেছে। ছায়ানটের সাথে এই বন্ধুত্বকে আমরা সম্মান করি এবং তাদের সহযোগিতায় আসতে পেরে নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে মনে করি।
ছায়ানট এবং নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয় এই উপহারের জন্য ভারতীয় হাই কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হাই কমিশনের এই অবদান তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনায় অনেকখানি সহায়ক হবে।
ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী, সহ-সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল, সাধারণ সম্পাদক মিস লাইসা আহমেদ লিসা এবং নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিস সুমনা বিশ্বাস অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, সংস্কৃতি চর্চা ও শিশুশিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে—এমন উদ্দেশ্য নিয়েই ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নালন্দা বিদ্যালয়। এটি ছায়ানটের সংস্কৃতি সমন্বিত সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ। রাজধানী ঢাকার এই স্কুলটি ১৭ বছরের মধ্যে অনেক সুনাম অর্জন করেছে।

ওয়াসার এমডি তাকসিম খানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ১৫ মাসেও তদন্ত রিপোর্ট দেয়নি মন্ত্রণালয়, নিশ্চুপ দুদক,নেপথ্যে কি আছে?

0

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানসহ দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ মাসেও দিতে পারে নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অথচ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
দুদকের এই চিঠি মন্ত্রণালয়ে চাপা পড়ে গেছে । এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কেউ যেমন কথা বলতে চাচ্ছেন না, দুদকও নিশ্চুপ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন তাকসিম খানের কেরামতিতেই সবকিছু ধামাচাপা পড়ে গেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান, ওয়াসার পরিচালক ( উন্নয়ন) প্রকৌশলী আবুল কাশেম ও পরিচালক (টেকনিক্যাল) প্রকৌশলী এ কে এম সহিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। দুর্নীতি ও অনিয়মের এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয় দুদক। এ জন্য অভিযোগের অনুলিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হয়। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এসব তথ্য সরবরাহের জন্য অনুরোধ করে দুদক। গত বছরের ১২ মার্চ দুদক থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এই চিঠি দেওয়া হয়।
দুদকের সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য সরবারাহ না করে ওয়াসার এমডিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করার উদ্যেগ নেয়। এ জন্য গত বছরের ২৩ এপ্রিল পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির বাকি চার সদস্য হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মুহম্মদ ইব্রাহিম, পলিসি সাপোর্ট ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োজিত যুগ্মসচিব, নগর উন্নয়ন-২-এর দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব এবং পানি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা একজন উপসচিব। কিন্তু কমিটি কি তদন্ত করেছে তা কেউ জানতে পারে নি।
কিন্তু কমিটির কেউ এ নিয়ে কথা বলতে চান না। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত আর আগায় নি অদৃশ্য কারণে । কোনো প্রতিবেদনও জমা পড়েনি। সবকিছুই চাপা পড়ে যায়।
চিঠির জবাব না পেয়ে গত বছরের ২৭ অক্টোবর দুদক ফের মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় । কিন্তু সেই চিঠিরও কোনো উত্তর দেয়নি মন্ত্রণালয়।
২০০৯ সাল থেকে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাকসিম এ খান। গত ১১ বছর ধরে একই পদে বহাল আছেন। তার দায়িত্ব পালনকালে দুজন মন্ত্রী ৫ বছর করে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করে চলে গেছেন। এর মধ্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মারা গেছেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাকসিম খান ওয়াসার এমডি হিসেবেই রয়েই গেছেন। তার যেমন পদোন্নতিও হয় না তেমনি এ পদ থেকে যানও না। অথচ ওয়াসার এখন লেজেগোবরে অবস্থা। বিভিন্ন প্রকল্পের নামে হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় রাজধানী, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে অদৃশ্য এক প্রভাবে বহাল আছেন তাকসিম খান। প্রতিবারই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো এক অদৃশ্য প্রভাবে ফের নিয়োগ পান তিনি। তার নিয়োগ নিয়ে ওয়াসা বোর্ডে পর্যন্ত আপত্তিও ছিল। কিন্তু কোনো কিছুই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি তার জন্য। তার ক্ষমতার প্রভাব এতোই যে মন্ত্রণালয়কেও চুপ থাকতে হচ্ছে। দুদকও নিশ্চুপ।

যা বললেন জয়শঙ্কর

0

বাংলাদেশ-ভারত ‘কালোত্তীর্ণ’ সম্পর্কের গভীরতা বা ব্যাপ্তির বিষয়টি তুলে ধরলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। সোমবার বাংলাদেশকে ভারতের ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ইঞ্জিন প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে রচিত ভারত ও বাংলাদেশের  মধ্যকার কালোত্তীর্ণ সম্পর্কের গভীরতার কথা তুলে ধরেন। ভারতীয় হাই কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়াল ওই হস্তান্তর অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
।।যা বললেন ড. এস জয়শঙ্কর।।
আমি বাংলাদেশের কাছে ১০ টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। এর মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত অক্টোবরের ভারত সফরের সময় আমাদের পক্ষ থেকে দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হলাম।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের ‘সোনালী অধ্যায়’ রচনা চলমান রয়েছে।
বিশ্বের খুব কম দেশের মধ্যেই আমাদের মতো ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের
অংশীদারিত্ব আজ এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।
আমাদের ক্রমবর্ধমান বহুমুখী সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা, শক্তি, সংস্কৃতি এবং পরমাণু বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, মহাকাশ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং মানুষে মানুষে শক্তিশালী সম্পর্ক।
আপনাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রতিবেশী হিসেবে, আমরা আপনাদের প্রবৃদ্ধিতে আনন্দিত।

বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং সকল আর্থ-সামাজিক সূচকে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

মুজিববর্ষ উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে
গিয়ে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্লের সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে জনগণের আত্মনিয়োগ ও বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব বিশ্বকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে, বিশেষ করে আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথেও নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

ভারত এই জটিল সময় মোকাবেলায় বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
মহামারীর কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাগুলি দূর করার লক্ষ্যে আমাদের উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে হয়েছে। আমাদের সময়োপযোগী প্রচেষ্টার ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় উৎপাদন শিল্পের জন্য পণ্য ও কাঁচামাল পরিবহনের জন্য মালবাহী ট্রেন ব্যবহার শুরু করেছে। রেলপথে পণ্য পরিবহনের ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকা আরও বেশি নিশ্চিত হয়, বিশেষত পবিত্র রমজান মাসে, কারণ স্থল সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য এসময় নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হয়। আমি এটি লক্ষ্য করেও সমানভাবে আনন্দিত ষে, চলমান কোভিড মহামারী আমাদের সামগ্রিক সহযোগিতার গতি স্থিমিত করতে পারেনি। ২০২০ সালের মে মাসে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও বাণিজ্য সম্পর্কিত প্রোটোকলটিতে দ্বিতীয় সংযোজন স্বাক্ষরের ফলে প্রোটোকল রুটের সংখ্যা ৮ থেকে ১০ এ উন্নীত হয়েছে এবং দুটি সম্প্রসারিত বন্দরসহ ব্যবহারযোগ্য বন্দরের সংখ্যা ৬ থেকে ১১-এ উন্নীত হয়েছে।

চট্টগ্রাম হয়ে কলকাতা থেকে আগরতলা পর্যন্ত কনটেইনার কার্গো পরীক্ষামূলক
পরিচালনার সফল সমান্তি প্রকৃতপক্ষে একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন, কারণ এটি কেবল আমাদের ঐতিহ্যবাহী নৌপথ সংযোগকেই পুনরায় প্রাণবন্ত করে তোলেনি বরং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধাও বয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।সম্প্রতি পণ্য ও কন্টেইনার ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে জানতে পেরেও আমি আনন্দিত।
রেল, অভ্যন্তরীণ বা উপকূলীয় নৌপথ ইত্যাদি সাশ্রয়ী, সময় এবং পরিবেশবান্ধব সংযোগ ব্যবস্থাগুলি আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং ব্যবসায়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে -যা আগের বছরের তুলনায় ৪৩% বেশি এবং একটি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি; আমি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও বাড়ানোর জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
ভারত বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উন্নয়নের অংশীদার। ভারত বিশ্বের যেকোনো দেশের প্রতি যে ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে, তার মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে বাংলাদেশকে প্রদত্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি অনন্য হৃাসকৃত ঋণ সুবিধা। এই প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের
অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা করবে, যা পরবর্তীস্তরের অর্থনৈতিক উল্লম্ফনের জন্য অত্যাবশ্যক। চলমান এই প্রকল্পগুলিকে ত্বরান্বিত করতে আমাদের একসাথে কাজ করা দরকার।
সমৃদ্ধি ও বিকাশের বন্ধু হিসাবে, আমরা একত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতারও মুখোমুখি হয়েছি।
আমি তাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের অংশীদারিত্ব একটি সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া গড়ার মূল চাবিকাঠি হবে। এই ঐতিহাসিক মুজিববর্ষে এটি হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
আজ এই অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত প্রত্যেককে আমি অভিনন্দন জানাই এবং আমরা,
বিশেষত এই ঐতিহাসিক বছরে এই ধরণের আরও মাইলফলক অতিক্রম করতে চাই, যেমন আগামী বছর আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর উদযাপন করতে চলেছি। এই অংশীদারিত্ব প্রকৃতপক্ষেই অনুকরণীয় হয়ে উঠুক এবং আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও জোরদার করুক।

বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ভারতের দেয়া ১০টি ব্রডগেজ রেল ইঞ্জিন পৌঁছেছে

0

‘ঈদ উপহার’ হিসেবে দেয়া ভারতের ১০টি ব্রডগেজ রেল ইঞ্জিন বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। দুই দেশের রেলমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব রেল ইঞ্জিন হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সোমবার বিকেলে ভারতের গেদে রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর চেকপোস্ট এলাকা দিয়ে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায় ১০টি ব্রডগেজ রেল ইঞ্জিন। এ সময় এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন ইঞ্জিনগুলো গ্রহণ করেন।
ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শংকর এবং রেল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী শ্রী অঙ্গদি সুরেশ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, অব্যাহত যাত্রীবাহী ট্রেনের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নতুন অনেকগুলো কোচ আমদানী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় পণ্য পরিবহনের জন্য ভারত থেকে ইঞ্জিন আনার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হয়।

দেশে হামলার ছক কাটছে আইএস জঙ্গিরা, সারাদেশে সতর্কতা জারি পুলিশের

0

কোরবানির ঈদ ও অগাস্ট মাস সামনে রেখে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সকল ইউনিটকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই সারা দেশে পুলিশের ইউনিটপ্রধানদের চিঠি পাঠিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, আইএস মতাদর্শের দেশীয় অনুসারী ‘নব্য জেএমবির’ সদস্যরা যে কোনো সময় ‘আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা’ পরিচালনা করতে পারে।
“এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনসহ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো, “চিঠিতে পুলিশ স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
“জঙ্গিরা যে কোনো সময়, যে কোনোভাবে, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিশেষ করে পুলিশের উপর হামলা চালাতে পারে এমন ভাবনা থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা।
শনিবার রাতে রাজধানীর গুলিস্তানে স্টেডিয়ামের পাশে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের কাছে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক সার্জেন্টের দাঁড় করিয়ে রাখা মটরসাইকেলে কে বা কারা পলিথিন ব্যাগে বোমা রেখে যায়।


এর আগেও একই জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পেছনে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা সে সময় বলেছিলেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জঙ্গিরা সবসময়ই রোজা ও ঈদ সামনে রেখে তৎপর হওয়ার চেষ্টা চালায়। তারা চায়, গণমাধ্যমে তাদের কাজের প্রচার হোক। ঈদ ঘিরে ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগানোরও চেস্টা করে তারা। এ কারণে সব সময়ই আমরা সতর্ক থাকি।”
তাছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে অগাস্টে হত্যা-নাশকতার বেশ কিছু ঘটনা থাকায় প্রতি বছরই এ মাসে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয় বলে জানান পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি হায়দার আলী খান।
তিনি বলেন, “এই মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এই অগাস্টেই। বিভিন্ন দিক দিয়ে এই মাসটি গুরুত্বপূর্ণ।
“এই মাস ঘিরে কোনো নাশকতা ঘটতে পারে। আবার সামনে ঈদ, জঙ্গিরাও তাদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালাতে পারে। সে কারণে আমাদের সকল ইউনিটকে যে কোনো নশকতা বা হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
গত ১৯ জুলাই পুশিল সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, “বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবং প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ইসলামিক স্টেট ঈদুল আজহা সামনে রখে ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। সাধারণত কোনো সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমেই ‘কথিত উলায়াত’ ঘোষণা করা হয়।
এ অবস্থায় ‘যে কোনো সময়’ জঙ্গিরা বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড বা কোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা করতে পারে জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
সকাল ৬টা থেকে ৮টা এবং সন্ধ্যা ৭ থেকে ১০টা- এই সময়টিকে জঙ্গি হামলার জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চিঠিতে।
সেখানে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্য, পুলিশের স্থাপনা, পুলিশের যানবাহন; বিমানবন্দর; দূতাবাস, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও মায়নমারের মিশন এবং শিয়া, আহমাদিয়া মসজিদ, মাজার, মাজার কেন্দ্রীক মসজিদ, মন্দির, চার্চ ও প্যাগোডা হতে পারে জঙ্গি হামলার লক্ষ্যবস্তু।
পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, সম্ভাব্য হামলাকারী হতে পারে ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দাড়ি-গোঁফহীন কোনো তরুণ। তার পরনে থাকতে পারে প্যান্ট. শার্ট, টি শার্ট, কেডস এবং মাস্ক ও ক্যাপের পাশপাশি ব্যাকপ্যাকও থাকতে পারে তার সঙ্গে।
ঘরে তৈরি সময় বা দূর নিয়ন্ত্রিত গ্রেনেড- বোমা বা আইইডি এবং ছুরি বা চাপাতির মত অস্ত্রও জঙ্গিরা ব্যবহার করতে পারে।
হামলা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানো, মেস-ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করা, পুলিশের গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় না রাখা, অবাঞ্ছিত লোকজনকে পর্যবেক্ষণ করা, পুলিশের পোশাকে অপরিচিত কেউ প্রবেশ করছে কিনা, তা নিশ্চিত করা, কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে চিঠিতে।

ক্ষমা প্রার্থণা করুক পাকিস্তান

0

আমি বুঝিনা, ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী আরেকটা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ফোন নিয়ে বাংলাদেশের এক শ্রেণির লোক লাফাচ্ছে কেনো? এতো মাতামাতি কেনো? পাকিস্তানের সঙ্গে কি বাংলাদেশ কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ছিল ? শেখ হাসিনা কি বলেছেন বাংলাদেশের কেউ কথা বলবে না পাকিস্তানিদের সঙ্গে?
কারও ফোনে কি বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তন হয়ে যাবে? পাকিমনা ভাইয়েরাই বা এতো উল্লসিত কেনো?
বাংলাদেশ বিশেষ করে শেখ হাসিনার কুটনীতি সবার সঙ্গে সু সম্পর্ক রাখা। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় উদীয়মান তারকা। অনেক সূচকে ভারত পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার চেয়ে আমরা এগিয়ে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে অবশ্যই পারস্পরিক স্বার্থে। গিভ এন্ড টেকের সম্পর্ক। মুক্ত বাজার মুক্ত পৃথিবী। পাকিস্তানের সঙ্গেও আমরা সম্পর্ক ভালো রাখতে চাই। কিন্তু তার জন্যতো কিছু শর্ত মানতে হবে। আমাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করবেন, গ্রেনেড মারবেন আর আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবো তা হবে কেনো?
সবার আগে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের ক্ষমা চাইতে হবে, এই হত্যার সঙ্গে জড়িত সেনাকর্মকর্তাদের বিচার করতে হবে, আমাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সমর্থন জানাতে হবে, পাকিস্তানি পার্লামেন্টে যে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছে তা বাতিল করতে হবে, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নিতে হবে, একাত্তর পূর্ব একত্রে থাকা অবস্থায় আমাদের যেসব সম্পদ তারা নিয়ে গেছে তার পাওনা অর্থাৎ তৎকালীন সময়ের ৩২ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে।
এগুলো আমাদের ন্যায্য দাবি। ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাইলে পাকিস্তান এ শর্তগুলো মানুক। আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবো। কিন্তু তারা তা করলো না, আমাদের এখানে গণহত্যা করলো, নারী ধর্ষণ করলো আর তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে কেমনে? শুধু ধর্মের ভিত্তিতে? তার ফয়সালাতো ৭১’এ হয়ে গেছে। নতুন করে যারা ধর্মের জিগির তুলছেন তারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের বংশধররা। পাকিস্তানিদের রক্তের উত্তরাধিকার তারা। বীর বাঙালীর রক্ত যার শিরায় আছে তারা ভুলতে পারবে না একাত্তরের নৃশংসতার কথা, গণহত্যার কথা, নারী ধর্ষনের কথা। যারা ভুলে গেছে তারা জামাত আল বদর রাজাকারদের উত্তরসূরি।

ঈদের উপহার, বাংলাদেশকে ১০ টি রেলইঞ্জিন দিচ্ছে ভারত, কাল আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর

0

ঢাকাকে উপহার হিসেবে ১০ টি রেল ইঞ্জিন দিচ্ছে দিল্লি। ঈদ উল আজহা উপলক্ষে ১০টি ব্রডগজ লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন উপহার পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারতীয় রেলের দেওয়া এই ইঞ্জিনগুলো আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ রেলকে হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মূলত বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক আরও মজবুত করতেই বন্ধু ঢাকাকে ঈদের উপহার হিসেবে এই ১০টি রেল ইঞ্জিন দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
১০টি ব্রডগজ লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিন বাংলাদেশ রেলবহরে সংযুক্ত হলে রেলওয়ে আরো গতিশীল হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতীয় রেলের দেওয়া এই ইঞ্জিনগুলো সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ রেলকে হস্তান্তর করা হবে। রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগামী ২৭ জুলাই দুপুর তিনটা নাগাদ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতের রেলমন্ত্রী এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি নিজে ভিডিও কনরফারেন্সের মাধ্যমে এ ইঞ্জিন উপহার অনুষ্ঠানে অংশ নেব। তারা দিল্লি থেকে, আর আমরা ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্স করে এই ইঞ্জিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করব।” ইঞ্জিনগুলো হস্তান্তরে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ গেদে সীমান্তের ওপারে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত বিরোধী শক্তিরগুলির উপর লাগাম টেনেছেন। বাংলাদেশের ভূমিতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। একইভাবে, রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তবে সম্প্রতি সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা, এনআরসি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ অনেকটাই বিরক্ত। বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে চীন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে চীন। যা বাংলাদেশের জন্য এক নতুন দীগন্তের সূচনা করেছে। ভারতকে হটিয়ে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে বেইজিং। সেই চেষ্টায় সাড়াও মিলেছে । ফলে কপালে ভাজ পড়েছে দিল্লির। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি মাঠে নেমেছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে ভারতের নয়া রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হচ্ছেন জাদরেল কুটনীতিবিদ বিক্রম দরাইস্বামী। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন রিভা গাঙ্গুলী দাস। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশমন্ত্রকের সচিব (পূর্ব) হয়ে নয়াদিল্লি ফেরত যাবেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে ঈদের উপহার দিয়ে ঢাকাকে ফের বন্ধুত্বের কথা মনে করিয়ে দিলো নয়াদিল্লি। ঢাকার পাশে দিল্লি যে থাকবে এটার নিশ্চয়তাও দিলো মোদি সরকার।

দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে মরিয়া চীন, সাথে চায় বাংলাদেশকেও

0

দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে    মরিয়া চীন ।  মিয়ানমার, শ্রীলংকা নেপালের পর এবার লক্ষ্য বাংলাদেশ। আর পুরোনো বন্ধু পাকিস্তানতো আছেই।  লন্ডন থেকে প্রকাশিত “এশিয়ান লাইট ” পত্রিকা ২৩ জুলাই এ নিয়ে একটি পর্যালোচনামূলক খবর দিয়েছে। তাতে বাংলাদেশকে নিয়ে চীনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। 

পত্রিকাটি লিখেছে চীনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে ইতিমধ্যে দু’টি সাবমেরিন হস্তান্তর করেছে দেশটি। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আরও কাছে নিয়ে যেতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

পেশাদার কুটনৈতিক লি জিমিং-এর কাছে নতুন নতুন চীনা কোম্পানিকে ঢাকায় নিয়ে আসাই একমাত্র অগ্রাধিকার নয়। দৃশ্যত, তার লক্ষ্য হচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়ায় অত্যাধুনিক সাবমেরিন ঘাঁটি, বিএনএস শেখ হাসিনা’র মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা।
খবরে বলা হয়, গত বছর চীন ও বাংলাদেশের দেয়া যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর প্রতি শুধু সমর্থনই জানাননি, তিনি প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার চীনা পরিকল্পনার প্রতিও একমত পোষণ করেন। প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বঙ্গোপসাগরে নৌ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
যদিও শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক বেশ আন্তরিক, তবুও বেইজিং চায় উপমহাদেশে নিজের উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে। এই লক্ষে সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর বা কক্সবাজারে নির্মিতব্য সাবমেরিন ঘাঁটির মতো বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থছাড় করছে চীন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ সূত্রগুলো বার্তাসংস্থা আইএএনএস’কে বলেছে যে, ওই সাবমেরিন ঘাঁটি প্রকল্পে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পলি টেকনোলজিস ইনকর্পোরেশন (পিটিআই)-কে কাজ দেয়া হয়েছে। সামগ্রিক নির্মাণ কাজে ব্যয় হবে আনুমানিক ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই নির্ধারিত স্থাপনায় পুরোদমে কাজ আরম্ভ হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে ব্যারাক, গোলাবারুদের ডিপো, মেরামত ডক ও সাধারণ ঘাটসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে। ভারতীয় এজেন্সির সূত্রগুলো বলছে যে, বেইজিং-এর নির্দেশে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং কক্সবাজারের ওই প্রকল্পসহ বাংলাদেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। এর আগে চীনের ইউনান প্রদেশে সরকারের হয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে লি জিমিং-এর। তার সাথে চীনের নৌ বাহিনী অর্থাৎ পিপল’স লিবারেশন আর্মি নেভি (পিএলএএন)-এর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বর্তমানে সাবমেরিন প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে আছেন। এর আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে চীন-নির্মিত দু’টি ছোট যুদ্ধজাহাজের দ্রুত হস্তান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৬-১৭ সালে চীনের কাছ থেকে দু’টি সাবমেরিন গ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। এই দু’টি সাবমেরিন কক্সবাজারের একটি অস্থায়ী ঘাঁটি থেকে এখন পরিচালিত হচ্ছে। এই সাবমেরিন দু’টি কেনার পর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি আধুনিক সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণে সহায়তার জন্য চীনের দ্বারস্থ হয় ঢাকা। এছাড়া পটুয়াখালীতে একটি নতুন নৌ ঘাঁটি স্থাপন করছে ঢাকা। সেখানেও সাবমেরিন ভিড়ানোর ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় বাংলাদেশে নির্মিতব্য পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ওই ঘাঁটিতে আরও নানাবিধ সুবিধা থাকছে। নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনএস সংগ্রাম নামে চীন নির্মিত একটি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে প্রবেশের উদ্বোধন করেন। তবে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান খুবই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে নয়া-স্বাধীন দেশটির যাত্রা শুরু করেছিলেন।

কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে জলবায়ু শরণার্থীদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তসহ দেশের সকল জনগণের জন্য মুজিববর্ষে আবাসন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। তাঁর জন্ম শতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকটি মানুষকে যেভাবে পারি, গরিবানাহালে একটি চালা হলেও আমরা করে দেব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কানফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজারে ‘খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। খবর বাসস।
শেখ হাসিনা এ সময় বন্যা মোকাবেলায় তাঁর সরকারের সকল ধরণের প্রস্তুতি থাকার উল্লেখ করে বলেন, ‘এবারে বন্যার প্রকোপটা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা হচ্ছে শ্রাবণ মাস, হয়তো ভাদ্র মাসের দিকে আরো পানি আসবে অর্থাৎ আগষ্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরো বন্যার আশঙ্কা থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি আছে সেটা মোকাবেলা করার। সেইসাথে বন্যা এবং নদী ভাঙ্গণে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তাঁদেরকেও আমরা ঘর-বাড়ি তৈরীর জন্য জমির ব্যবস্থা করে দেব। সেটাও আমাদের লক্ষ্য রয়েছে এবং সেজন্য এবারের বাজেটে আমরা আলাদা করে টাকা বরাদ্দ রেখেছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকেও আমি বলবো কোন মানুষ গৃহহারা থাকবে না প্রত্যেকটি মানুষ সুন্দরভাবে বাস করবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা মুজিববর্ষে একদিকে যেমন বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নিয়েছি তেমনি গৃহহারাদের ঘর-বাড়ি করে দেব এবং যাতে দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জীবন-মান উন্নত হয় সেটাও আমরা দেখবো।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে উপকূলবাসীকে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতি প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বানও পুণর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজের গতি খুব ভাল ছিল । কিন্তু এই করোনাভাইরাস এসে সব জায়গাতেই একটা বাধার সৃষ্টি করেছে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি সকলকে অনুরোধ করবো আপনারা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে নির্দেশনাগুলো রয়েছে সেগুলো মেনে চলবেন। মাস্কটা পড়ে থাকবেন, যখন বাইরে যাবেন বা কারো সাথে কথা বলবেন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন।’
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ গণভবন থেকে এবং দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী কক্সবাজার প্রান্ত থেকে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রকল্পের একটি রেপ্লিকাও তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং প্রকল্পস্থানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিনজন উপকারভোগী তিনটি গাছের চারাও রোপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সে উপকারভোগী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
কক্সবাজারের খুরুসকুলে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠান স্থলে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফ্লাট প্রাপ্ত পরিবারগুলোর হাতে ফ্লাটের চাবি তুলে দেওয়া হয়।
এদিন কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীর তীর ঘেঁষা বৃহৎ এ প্রকল্পে নির্মিত ২০টি পাঁচ তলা বিশিষ্ট ভবনে ৬শ’টি পরিবার নতুন ফ্ল্যাট পেল। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট। পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার ৪০৯টি পরিবার এখানে ফ্ল্যাট পাবে।
প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বুধবার এই প্রকল্প সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘প্রতিটি পরিবার এখানে ১০০১ টাকার বিনিময়ে একটি প্রায় ৪৫৬ স্কয়ার ফিটের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ফ্লাট পাবে। যেখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক র‌্যাম্প, সোলার প্যানেল, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং গ্যাস সিলিন্ডার সম্বলিত চুলার ব্যবস্থা থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে ২৫৩ দশমিক ৫৯ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন ১৩৯টি ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনে ৪ হাজার ৪০৯টি পরিবার পুণর্বাসিত হবে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮শ’ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রকল্প এলাকায় ২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ৩৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য পরিশোধন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, তীর রক্ষা বাঁধ, ছোট সেতু, ১৪টি খেলার মাঠ, মসজিদ, মন্দির, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন, তিনটি পুকুর, নদীতে দু’টি জেটি এবং দু’টি বিদ্যুতের সাবস্টেশন থাকবে।’
প্রকল্পে আবাসন, পর্যটন ব্যবস্থা, শুটকি পল্লী বা ‘শুটকি মহল’ এবং সবুজ বনায়নসহ চার ধরনের সুবিধা থাকবে বলেও তিনি জানান।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘এটাই দেশের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য দেশের প্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প। জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর জন্য এখানে যে পুনর্বাসন, এটাকে আমরা বিশ্বের বৃহত্তম জলবায়ু পুনর্বাসন প্রকল্প বলতে পারি, এ ধরনের প্রকল্প পৃথিবীতে বিরল।’
আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা ফ্ল্যাট পাবেন তাদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বিক্রয় কেন্দ্র ও প্যাকেজিং শিল্পও গড়ে তুলবে সরকার, বলেন তিনি।
তিনি আরে বলেন, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছাসে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ এবং পরবর্তীতে কুতুবদিয়া পাড়া, নাজিরাটেক এবং সমিতি পাড়া এলাকায় বসতি স্থাপনকারি জনগণ যারা কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তাঁদের পুনর্বাসনের জন্যই মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগ।
প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী পৃথকভাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত নয়নাভিরাম একটি জায়গা। এ জায়গাটিকে সুরক্ষিত করার জন্য মাটিকে অনেক উঁচু করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনের নিচের তলায় কোনো ফ্ল্যাট রাখা হয়নি। ফলে, ঘূর্ণিঝড় হলে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢোকারও আশঙ্কা নেই।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেই গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প শুরু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পেয়েছে।
ঘুর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাস, মঙ্গাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে তাঁর দল এবং তিনি মানুষের সাহায্যে সর্বত্র ছুটে বেড়িয়েছেন এবং সাধ্যমত ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৭ সালের ঘুর্ণিঝড়ের পর সেন্ট মার্টিন দ্বীপে গিয়ে ৭০টি ঘর-বাড়ি হারা পরিবারকে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের শুরু।
তিনি বলেন, ‘সেই থেকে আমাদের যাত্রা শুরু এবং এর পরে আশ্রয়ণটাকে আমরা একটি প্রকল্প হিসেবে নেই এবং সশ¯্রবাহিনী তথা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরতদের এই ঘরগুলো করে দেওয়ার দায়িত্ব দেই। এগুলো ব্যারাক হিসেবে করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় যাতে এসব কেউ চাইলেই বিক্রী করতে না পারে।’
সে সময়কার অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তখন সামর্থ তেমন না থাকলেও আমরা উদ্যোগ নেই প্রত্যেক গৃহহীনকে গরিবানা হালে হলেও একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই বা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার।’
পরবর্তীতে আশ্রয় লাভকারীদের প্রশিক্ষণ, কাজের সুযোগ এবং ঋণ সুবিধা প্রদানের সুবিধা এসব প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কক্সবাজারকে ঘিরে থাকা ঝাউবনগুলো উপকূলীয় এই পর্যটন নগরীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষায় জাতির পিতার নির্দেশে লাগানো হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলায় তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়নে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সেখানকার মানুষের আগে চিংড়ি ও লবন চাষ ছাড়া কোস জীবন-জীবিকাই ছিল না। কিন্তু এখন আমরা বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। একদিকে যেমন পর্যটন কেন্দ্রগুলো হবে অন্যদিকে মানুষের সবরকম জীবন-জীবিকার ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলও সেখানে করে দেব।
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করতে গিয়ে দেখলাম জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪ হাজার পরিবার সেখানে উদ্বাস্তু হয়ে আছে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম এদের পুণর্বাসন করবো এবং এই খুরুশকুল জায়গাটাও আমিই খুঁজে বের করেছিলাম।’
তিনি কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এখন ২০টি ভবন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকী ভবনগুলো নির্মাণ হবে। যেখানে সবকিছুই থাকবে, একটি আধুনিক শহর হিসেবেই খুরুশকুলকে গড়ে তোলা হবে।’
তিনি জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সে সময়কার আবাসস্থল পরিদর্শনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আপনারা যেভাবে কষ্টের মধ্যে ছিলেন কারণ আমি নিজে গিয়েছি এবং দেখেছি সে অবস্থা। কাজেই এখন আপনারা সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনাদের ছেলে-মেযেরাও ভালভাবে বড় হবে, মানুষ হবে। সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই ব্যবস্থা নিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন ঘর করে দিচ্ছি। পাশাপাশি যাদের জমি আছে তাঁদের ঘর করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ তহবিল নামে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা তহবিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, যাদের ভিটা আছে কিন্তু ঘর নাই তাঁদেরও ঘর করে দিচ্ছি।
আজকে যে ঘর-বাড়ি করে দেওয়া হল সেটাকে ‘রিজেক’ আখ্যায়িত করে তিনি এ সবের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি আবাসস্থলের পরিবেশ উন্নত রাখার জন্যও সেখানে ফ্ল্যাট প্রাপ্ত সকলের প্রতি আহ্বান জানান।