জনগণকে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মামলার বিচার করতে দেরি হলে ন্যায়বিচার শব্দের ন্যায় কথাটি আস্তে আস্তে অনেক ঝাপসা হয়ে যায়।এই ঝাপসাটা হতে দিবেন না। যখন পরিষ্কার থাকে তখনই যাতে মামলাটা শেষ হয়, সেই কাজটা আপনারা করবেন। সেই সাথে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াবেন।আমি জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাছে এটুকু অনুরোধ করছি। আইনজীবীদের সাথে বিচারকদের সুসম্পর্ক থাকলে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়বে এবং বিচার বিভাগ শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের আয়োজনে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। মো. গোলাম সারওয়ারকে আইন ও বিচার বিভাগে পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে পদায়ন উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করার চেস্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম চাওয়া ছিল, জনগণকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেয়া। কারণ তিনি কখনও ন্যায়বিচার পাননি।এমনকি মৃত্যুর পরও ন্যায়বিচার পাননি। সেক্ষেত্রে আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, বিচার বিভাগকে এমনভাবে সাজানো, যাতে বাংলাদেশের জনগণের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার পূরণ হয়। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আনিসুল হক বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিচার বিভাগের স্বার্থে আপনারা সরকারের কাছে বা রাষ্ট্রের কাছে যেটাই চাইবেন, সেটা দিয়ে দেয়া হবে। বিনিময়ে দ্রুত ন্যায়বিচার চাই্। তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তান আমলে দেখেছি, ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার পর দেখেছি, কোন বিচার হয়নি। এইসব হত্যার বিচার না হওয়াটা আমাদের মনে ও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে। জনগণের এই রক্তক্ষরণ আপনারা বন্ধ করবেন। মি. হক বলেন, জনগণের টাকা-পয়সায় দেশ চলে, তাদের পরিশ্রমে, তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করার কারণে আমরা এই অবস্থানে আছি। তাই তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে নিশ্চিত করতে হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ হলো নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সেতু বন্ধন। এই সেতু বন্ধন যাতে আরও দৃঢ় হয়, বিচারকদের যাতে কোনো অসুবিধা না থাকে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে, বলেন আইনমন্ত্রী। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে সঠিকভাবে ন্যায়বিচার দিতে পারবে-একথা তিনি যেমন বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তেমনি বিশ্বাস করেন। এমনকি জাতির পিতাও এই বিশ্বাসকে ধারণ করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলেন, বলেন মি. হক। আইনমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে চলার জন্য নেতৃস্থানীয় এবং প্রত্যেকটা পদে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা থাকা উচিৎ। তাছাড়া যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন। মো. গোলাম সারওয়ার দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করার কারণেই আইন ও বিচার বিভাগের সচিব পদে আসীন হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসোসিয়েশনের সভাপতি এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, যুগ্ম সচিব ও এসোসিয়েশনের মহাসচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (আ্ইন) মাহাবুবার রহমান সরকার, আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব, কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্য- বিচার(জেলা জজ) মো. সোহেল আহমেদ, বান্দরবান জেলার জেলা ও দায়রা জজ ফজলে এলাহি ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি মশিউর রহমান, ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবর রহমান, মো. সোহেল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
জনগণকে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানে বিচারকদের প্রতি আইনমন্ত্রীর আহবান
ই-নামজারিতে স্বাক্ষরবিহীন কিউআর কোডযুক্ত ডিসিআর ও খতিয়ান চালু
ই-নামজারিতে স্বাক্ষরবিহীন কিউআর কোডযুক্ত ডিসিআর ও খতিয়ান চালু করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানিয়ে বলা হয়, ই-নামজারি প্রক্রিয়ায় প্রণীত খতিয়ান ও ডিসিআর-এর নতুন ফরমেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে। কিউআর কোডযুক্ত ডিসিআর ও খতিয়ানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা নাজিরের ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের দরকার হবে না।
ভূমিসেবাকে জনবান্ধব করতে ভূমির সকল সেবাকে ডিজিটাইজড করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে ই-মিউটেশন প্রক্রিয়ায় প্রণীত খতিয়ান ও ডিসিআরের নতুন ফরমেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে। কিউআর কোডযুক্ত ডিসিআর ও খতিয়ান ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে প্রদত্ত ডিসিআর ও খতিয়ানের সমতুল্য এবং আইনগতভবে বৈধ ও সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ও ব্যবহারোপযোগী।
কিউআর কোডযুক্ত ডিসিআর ও খতিয়ান প্রাপ্তির পর ভূমি অফিস থেকে ম্যানুয়াল ডিসিআর, খতিয়ান সংগ্রহ করার প্রয়োজ নেই।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা কাঠামো অথবা সরাসরি ই-নামজারি ওয়েবসাইটে গিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন ডিসিআর এবং কিউআর কোডযুক্ত অনলাইন খতিয়ানের বৈধতা সহজেই যাচাই করা যাবে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। বাসস।
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেয়ার পরামর্শ
ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইপিএবি) আয়োজনে নীতি সংলাপ এবং এর প্রভাব (তামাক এবং লিংকেজ সেক্টর)’ শীর্ষক একটি নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘এতে শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিল্প খাতের উর্ধতন কর্মকর্তা ও তামাক শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
আইপিএবি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সেক্টরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিয়মিত সংলাপ আয়োজন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশিত তামাক খাতে প্রযোজ্য আইনের সংশোধনী প্রস্তাবসমূহের উপর বিশ্লেষণ ও মতামত উপস্থাপন করেন।
বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ও সর্বশেষ ২০১৩ সালে সংশোধিত হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এই আইনের বিধি চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই আইনের অধিকতর সংশোধন আনয়নের লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে ধূমপান এলাকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিকরণ,তামাক কোম্পানিগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচী (সিএসআর) নিষিদ্ধকরণ, ই-সিগারেট নিষিদ্ধকরণ,তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য পৃথকভাবে লাইসেন্স গ্রহণ, ফেরি করে তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধকরণ, সিগারেটের একক শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধকরণ ইত্যাদিসহ বেশ কিছু প্রস্তাব আনা হয়েছে। বক্তারা অনেকে অভিযোগ করেন, তামাক সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন সভায় সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধি ও এসোসিয়েশনগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। তারা সব ধরনের অংশীজনদের মতামত গ্রহণের অনুরোধ করেন।
বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে তামাকখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ব্যবসায়ী জনগোষ্ঠী অসুবিধায় পড়বে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ কমে যাবে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে যা বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ্যকে হ্রাস করবে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. হারুনুর রাশিদ। আলোচক ছিলেন ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির,বহুজাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান রবি’র চিফ কর্পোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার ব্যারিস্টার সাহেদ আলম, এফবিসিসিআই পরিচালক আনোয়ার সাদাত, সিনিয়র সাংবাদিক তালাত মামুন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম রশিদুল ইসলাম প্রমূখ। আইপিএবির প্রেসিডেন্ট শামসুল আলম মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি পরিচালনা করেন আইপিএবির ডিরেক্টর জেনারেল মো. আজিজুর রহমান। (বাসস)|
বাংলাদেশি তরুণের সঙ্গে সমকামিতা: মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্টের ভাই গ্রেফতার
বাংলাদেশি এক তরুণের সঙ্গে সমকামিতায় জড়িত থাকার অভিযোগে মালদ্বীপে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম আহমেদ নাজিম আবদুল সাত্তার। যিনি মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদের ভাই।
সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে নাজিম রাজধানী মালেতে বসবাসরত ২৫ বছর বয়সী তরুণ বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ আলমগীরের সাথে যৌন ক্রিয়াকলাপে জড়িত থাকাবস্থায় ধরা পড়েছিলেন। আলমগীর সেখানে সমকামি হিসেবে কাজ করে থাকেন।
মালদ্বীপের গণমাধ্যম ‘আভাস’ এ খবর জানিয়ে বলেছে, ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর নাজিমকে প্রথমে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মামলা করা হলে তাকে গ্রেফতার ও পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পুলিশের আবেদনে আদালত তাকে ৭ দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মালদ্বীপে বেশ কয়েকটি ভিডিও ফাঁস হয়েছিল, যেগুলোতে আলমগীরকে মালদ্বীপের বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে দেখা গিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে। ওইসব পুরুষদের মধ্যে নাজিম, কর্নেল নাশিদ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল রহমান রাফিউ রয়েছেন।
এদিকে, গত ১২ জুলাই বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ আলমগীরকে মালদ্বীপের বেশ কয়েকজন পুরুষের সাথে সমকামী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার ভিডিও ফাঁস হওয়ার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে দেশটির গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছিল। তার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিং এবং পুরুষদের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্কের অভিযোগ ছিল। ভিডিওগুলো আলমগীর-ই রেকর্ড করেছিল। এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে মালদ্বীপে।
উজবেকিস্তানে যৌথ উদ্যোগে সার কারখানা করতে চায় বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারস্পরিক স্বার্থে উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে উজবেকিস্তানে সার কারখানা স্থাপন করতে আগ্রহী এবং উজবেকিস্তান বাংলাদেশে তার দূতাবাস স্থাপনের আশা করছে।
বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্র অন্বেষণ করতে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও প্রাণবন্ত জনশক্তিকে পুঁজি করে সারাদেশে ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৩ সালে উজবেকিস্তানের তাসখন্দ সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সফর দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং বছরের পর বছর তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, স্থানীয় বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পায়নের ওপর জোর দিচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ সব দেশের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং এর জন্য জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।
উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
খোদজায়েভ বলেন, ‘বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের সম্ভাবনাময় অংশীদার এবং আমরা এটিকে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে চাই।’ তিনি বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
উজবেক উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, উজবেকিস্তান সিআইএস (কমনওয়েলথ ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস) দেশগুলোর একটি ভাল কেন্দ্র কারণ, এখানে ব্যবসা বাণিজ্য বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইসিটি খাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।
সফররত উজবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা ঢাকায় উজবেক দূতাবাস স্থাপনের আশা করছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জামশিদ আবদুরাখিমোভিচ খোদজায়েভ শেখ হাসিনাকে উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিওয়েভের শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনা উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়েভকেও শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে তার সুবিধামত সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে, উভয় পক্ষ দ্বৈত কর পরিহারের জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
এ সময় উজবেকের বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী লাজিজ কুদ্রাতভ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন উপমন্ত্রী জাসুরবেক চোরিয়েভ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।বাসস।
প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার নিযুক্ত
বর্তমানে ভিয়েতনামে কর্মরত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস)-এর ১৯৯৪ ব্যাচের কর্মকর্তা ভার্মা বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
ভার্মা এর আগে এমইএ-তে পূর্ব এশিয়া ডিভিশনের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ডিপার্টমেন্ট অব এটমিক এনার্জি ডিপার্টমেন্টে এক্সটারনাল রিলেশনশিপ-এর ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী যুক্তরাজ্যে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হতে চলেছেন।
যুক্তরাজ্যে বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার গায়ত্রী ইসার কুমার ৩০ জুন চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
বর্তমানে এমইএ-তে অতিরিক্ত সচিব সন্দীপ আর্যকে ভিয়েতনামে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে। তিনি ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) এর ১৯৯৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আইন সচিবের শ্রদ্ধা
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। শুক্রবার (২৯ জুলাই)সড়ক পথে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। এসময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আইন সচিবের সঙ্গে ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে, জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব ড. শেখ গোলাম মাহবুব, শেখ হুমায়ুন কবীর, ড. একেএম এমদাদুল হক, এস. মোহাম্মদ আলী ও আবু সালেহ মো.সালাউদ্দিন খাঁ,উপসলিসিটর কাজী শহিদুল ইসলাম ও নুসরাত জাহান। এছাড়া সচিবের একান্ত সচিব এসএম মাসুদ পারভেজসহ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহিদ সদস্যদের রুহের মগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে রক্ষিত পরিদর্শন বইতেও স্বাক্ষর করেন তিনি।
২৮ জুলাই তিনি আইন ও বিচার বিভাগের সচিব পদে যোগদান করেন। এর আগে একই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না থেকে রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল নয়, রপ্তানী নির্ভর বিদেশি মুদ্রা অর্জনের দিকে আমাদের আরো বেশি মনযোগ দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দেশের রপ্তানী বাস্কেটকে আরো সমৃদ্ধ করতে এবং বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেন্টেনিয়াল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ সহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পণ্য যাতে বিদেশে রপ্তানী হয় সেজন্য পণ্যের বহুমুখীকরণ করা এবং পণ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। যেখানে যে পণ্যের চাহিদা সেই ধরনের পণ্য বাংলাদেশে উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানী করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পদক্ষেপ আমরা নেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা কথা সবসময় মাথায় রাখতে হবে, পরনির্ভরশীলতা আমাদের কমাতে হবে এবং নিজেদের পায়ে নিজেরা যেন দাঁড়াতে পারি সে ব্যবস্থাটাই করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিষয়ে নানা রকম মন্তব্য ও গুজবের বিষয়েও কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এটা একটু কম-বেশি হবেই। কিন্তু আমাদের নানা লোকজন রয়েছে যারা এটা নিয়ে নানারকম মন্তব্য এবং গুজব করে বেড়ায়।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের ৩ মাসের খাদ্য কেনার যে রিজার্ভ সেটা থাকলেই যথেষ্ট। তবে ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যপণ্যে পরনির্ভরশীলতা কমাতে হবে, নিজের দেশে উৎপাদন বাড়াতে হবে।’
সরকার প্রধান বলেন, আমাদের যে উর্বর জমি ও জনসংখ্যা রয়েছে তাতে উদ্যোগ নিলে আমরা সেটা করতে পারি। শুধু উৎপাদন নয় খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ আধুনিকীকরণ করতে হবে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পও ব্যাপকভাবে গড়ে তুলতে হবে। এতে করে দেশের মানুষের জন্য যেমন একটা বাজার তৈরী হবে আবার বিদেশেও আমরা রপ্তানী করতে পারবো।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে হয়েছে আমাদের, তারই সাথে শুরু হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ অর্থহীন। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এই যুদ্ধ শুধুমাত্র যারা অস্ত্র তৈরি করে তারাই লাভবান হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই যুদ্ধ, শুধু যুদ্ধই না তার সাথে আবার স্যাংশন। এই স্যাংশন, পাল্টা পাল্টি স্যাংশনের ফলে আজকে সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, উন্নত দেশগুলো হিমসিম খাচ্ছে এবং তারা এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়, জ্বালানি সাশ্রয়, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং সেকারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সেখানে আমাদের মতো দেশ, কেবল আমরা উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা একটা লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আপ্রাণভাবে, আর তখনই এই ধরনের বাঁধা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
আমাদেরকে থেমে থাকলে চলবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যাপারে সকল দেশই কিন্তু নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরাও সেটা অনুসরণ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের দরকার হচ্ছে একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। কেননা আমাদের যুব সমাজ রয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে এবং আমরা তা নিচ্ছি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং বিএমইটির মহাপরিচালক মো.শহিদুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে নবনির্মিত টিটিসিগুলোর ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে চলমান দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে গৃহীত ‘৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি ১ হাজার ৬৬৭ কোটি ৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৪০টির মধ্যে ইতোমধ্যে নির্মিত ২৪টি উপজেলায় ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। অবশিষ্ট ১৬টির নির্মাণ কাজও শিগগিরই সম্পন্ন হবে।
২৪টি টিটিসি যেসব উপজেলায় হচ্ছে সেগুলো হলো- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেন্টেনিয়াল টিটিসি, রংপুরে পীরগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পাবনার সুজানগর, নরসিংদীর মনোহরদী, সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ, মুন্সিগঞ্জ সদর, দিনাজপুরের খানসামা, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও নগরকান্দায়, খুলনার দিঘলিয়ায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে, যশোরের কেশবপুরে, চট্টগ্রামের রাউজান ও সন্দ্বীপে, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রামে, গাজীপুরের কাপাসিয়ায়, শেরপুর সদরে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও নাগরপুরে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এবং কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায়।
বিদেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরো স্কিল সংযোজনের পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যানবাহন চালক হিসেবে যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে তার সঙ্গে ভারি যানবাহন চালনার বিষয়টিও যুক্ত করতে হবে। এতে করে আরো ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলেও আমি মনে করি। তিনি গৃহকর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে বিদেশ গমনেচ্ছুরা যেন সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তা নিশ্চিত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সকল মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম বাজার খুঁজবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় সার্টিফিকেট দেবে আর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মানুষ প্রেরণ করবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়কে যৌথ ও মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব কাজের জন্য প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে একটি কমিটি করে স্ব উদ্যোগে কাজ করারও পরামর্শ দেন তিনি। তাহলে সব কাজগুলো এক জায়গায় বসে সহজেই করা সম্ভব হবে। তিনি এর সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়কেও সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।
সরকার প্রধান এ সময় দালালের খপ্পরে পড়ে সোনার হরিণ ধরতে ভিটে-মাটি বিক্রি করে কেউ যেন আর প্রবাসের পথে পাড়ি না জমান সে জন্য যুব সমাজকে সতর্ক করেন। কারণ, এভাবে গেলে তারা বিপদে পড়ে এবং সরকারের পক্ষ থেকেই তাদের উদ্ধার করতে হয় অথবা ভুমধ্যসাগরে তাদের সলিল সমাধি হয় (অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসন খুঁজতে গিয়ে)। এটা দুর্ভাগ্যজনক। প্রয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বিদেশে যাবার আহবান জানিয়ে বলেন, এখানে বিনা জামানতেও ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা রয়েছে।
তাঁর সরকার যে টিটিসি করে দিচ্ছে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিদেশ গমনেচ্ছুরা যেন যথাযথ প্রশিক্ষণ নেয় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি টিটিসি ও ১টি আইএমটি স্থাপিত হলে মোট ১০৪টি টিটিসি এবং ৭টি আইএমটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং মোট প্রশিক্ষণ প্রদানের সক্ষমতা বছরে ৯ লাখে উন্নীত হবে। তাছাড়া সরকারের প্রায় ২৩টি মন্ত্রণালয় থেকেই কোন না কোনভাবে জনশক্তি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তাছাড়া সশ¯্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে তারাও রেমিট্রান্স পাঠাচ্ছে। এটাকেও মূল রেমিট্যন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
তাঁর সরকার সবসময় বিদেশগামী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৩ বছরে ৫৫টি নতুন শ্রম বাজার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে হয়রানিসহ নানা অভিযোগে অনেক জায়গাতেই শ্রম বাজার কমে আসে। সে সময়কার সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করে তাঁর সরকার বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি অনেকটাই লাঘবে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে জোট সরকারের বিদেশে কর্মী প্রেরণের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭০২ জন, আর রেমিট্যান্সের পরিমান ছিল ৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ৫ গুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। এই সময়ে কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০৫ জন এবং ২১ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা এখন সমালোচনা করেন তাদেরকেই জবাবটা দিতে চাই কারণ, তাহলে আর বিভ্রান্তি ছড়াতে পারবেনা, তাদেরও হিসেবটা জানা উচিত তারা ক্ষমতায় থাকতে কি অবস্থা ছিল দেশে। বাসস।
বিচার বিভাগের সম্মান বাড়লে বাংলাদেশের সম্মান বাড়বে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিচার বিভাগের সম্মান বাড়লে বাংলাদেশের সম্মান বাড়বে। আর বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে জনগণ সম্মান দেবে যখন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের নিজের সম্মান স্থাপন করবে।এক্ষেত্রে তিনি শুধু সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ আয়োজিত এক অনারম্বর অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে পূর্ণ সচিব করায় বিভাগের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সাথে সচিব মো. গোলাম
সারওয়ারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
আইনমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, অনেক সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। অনেক মানুষ এই দেশের জন্য জীবন দান করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধের সময় দীর্ঘ নয় মাস মা-বাবা ও ভাইকে ছাড়া ছিলেন। তাই এই দেশকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালে যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর এ স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন ।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, সলিসিটর রুনা নাহিদ, উপসচিব ড. শেখ গোলাম মাহবুব আইনমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওসি শাহজাহানের কোটিপতি স্ত্রীর আয়ের বৈধ উৎস খুঁজে পায়নি দুদক, মামলা দায়ের
চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসী আকতার নিজেকে পোলট্রি ও মৎস্য ব্যবসায়ী দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) যে সম্পদ বিবরণী জমা দেন তার কোনো কিছুরই সত্যতা পায়নি দুর্নীতিদমন কমিশন,দুদক।। দুদক অনুসন্ধান করে তাঁর এসব ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব পায়নি। পরে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শাহজাহান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে বলা হয়, ফেরদৌসী কোটিপতি হয়েছেন স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায়। নিজের ঘুষের টাকা স্ত্রীকে দিয়ে সম্পদ স্থানান্তরের অভিযোগে আসামি হন শাহজাহান।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি শাহজাহানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছিল। এতে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৩৯ হাজার ১২৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন এবং আয়বহির্ভূত ৭৮ লাখ ১ হাজার ৫২০ টাকার স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন তিনি। এটি তদন্তাধীন।
শাহজাহান বর্তমানে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার কাতালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে নগরের খুলশী থানার লালখান বাজার হাই লেভেল রোডে স্ত্রীসহ শাহজাহান বসবাস করেন।
দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম জানান, শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসীর ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৪১৩ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যা তিনি মৎস্য ও পোলট্রি ব্যবসা করে আয় করেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু তাঁর এসব ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোনো রেকর্ডপত্র দেখাতে পারেননি। সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র, মৎস্য এবং পোলট্রি খামারে মিটার সংযোগ থেকে শুরু থেকে যাবতীয় কাগজ, পরিবেশ ছাড়পত্র, খামারের লেনদেন–সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব, মালামাল কেনাবেচার ভাউচার—কিছুই পাওয়া যায়নি। স্বামী শাহজাহানের ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে ভোগ দখলে রাখতে পোলট্রি ও মৎস্য ব্যবসায়ী বানিয়ে ভুয়া আয় দেখান।











